Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলার নজিরবিহীন উন্নয়নের কাণ্ডারী
মমতাকেই কি ভয় পাচ্ছে বিজেপি?

শুভা দত্ত

ভোটযুদ্ধের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। দেশের আসমুদ্রহিমাচল প্রচার-অপপ্রচারের ঢেউয়ে উত্তাল। যুযুধান পক্ষগুলির মন্ত্রী-সান্ত্রী-সেনাপতি থেকে ছোট-বড়-মাঝারি নেতানেত্রী নাওয়া-খাওয়া ভুলে চড়া রোদের তাপ উপেক্ষা করে দেশজনতার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। দলের প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছেন। সরকার গড়তে পারলে আগামী পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়নে কত কী করবেন, দেশকে অগ্রগতির কোন শিখরে তুলে ধরবেন—তার ফিরিস্তি দিচ্ছেন। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় খাড়া করে, নয়তো কটু ব্যঙ্গবিদ্রুপে সরগরম করে তুলছেন শহর-মহানগর থেকে গ্রাম-গ্রামান্ত। হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ ভিড় করে নেতা-মন্ত্রীদের ওইসব কথা শুনছেন, পুরনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জ্বালা বুকে করে নতুন প্রতিশ্রুতি গিলছেন! এবং পথেঘাটে, অফিস-কাছারিতে, বাজারে-বৈঠকখানায় তা নিয়ে তর্কবিতর্কে মশগুল হচ্ছেন। সব মিলিয়ে গোটা দেশ জুড়ে এখন একটা যেন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব—যুদ্ধং দেহি রাজনৈতিক শিবিরগুলোতে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ভোটযুদ্ধের মুখে এমন দৃশ্য অবশ্য নতুন নয়। ভোট, বিশেষত দেশের ক্ষমতা দখলের লোকসভা ভোট এলে আমাদের দেশে এই দৃশ্য চিরকালই দেখা গেছে, আজও যায়। সেই ট্র্যাডিশনে কোনও ব্যতিক্রমই ঘটেনি। তবে, একেবারে সাম্প্রতিকে মনে হচ্ছে ভোটযুদ্ধের পাত্রপাত্রীদের চড়া মেজাজ দৃশ্যের উত্তাপ কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্য, দূষণের ঠ্যালায় তো সারা বিশ্বই আজ উষ্ণায়নের কবলে—রাজনীতির রণাঙ্গন বাদ থাকে কী করে? নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়!
আসলে, ভোটযুদ্ধটা এখন রাজনীতির তত্ত্বকথা ছেড়ে মনে হয় একটা হাইটেক কৌশলী ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোট গোনায় বেশি সময় লাগার অছিলায় ব্যালটে ভোটে তাই হয়তো এত আপত্তি! এবং যত অপবাদই উঠুক ‘হাইটেক’ ভোটমেশিনে এত ভরসা! যুক্তিও অকাট্য— গোনার ক্ষেত্রে সময় অনেক কম লাগে। ঠিকই, আজ সময় একটা বড় ফ্যাক্টর। কারও যেন সেই অর্থে বাড়তি সময় নেই। সব কাজধান্দার শেকলে বাঁধা। আর সময় ধরতে জীবনে হোক, কি কাজে সর্বত্র বেড়েছে গতি। রাজনীতির ক্ষেত্রও তার ব্যতিক্রম নয়। চটজলদি কথাটা এখন কেবল কথার কথা নয়—জীবনে সমাজে বিনোদনে মায় রাজনীতিতেও চটজলদি রেজাল্ট চাইছি আমরা প্রায় সকলেই। কীভাবে কম খেটে বেশি পাওয়া যাবে কোন জায়গায় আঘাত করলে শত্রু ঘায়েল হবে জলদি—সেটাই আজ প্রধান ভাবনা, প্রথম লক্ষ্য। চলতি ভোটযুদ্ধের ময়দানে পক্ষ-প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক তরজা শুনলে অনেক ক্ষেত্রেই এই চটজলদি রেজাল্টের প্রতি একাগ্রতা টের পাওয়া যাচ্ছে! সভা-সমাবেশে উপস্থিত জনতার মন জয়ে তাই রাজনৈতিক নীতিতত্ত্ব বা বাস্তব সত্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চটকে চমকে মশালাদার মন্তব্য, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। এতে উপস্থিত জনতা সাময়িক একটা মনোরঞ্জনের আস্বাদ অবশ্যই পাচ্ছেন, তবে তা ভোটযুদ্ধে কতটা বক্তা বা তাঁর দলীয় রাজনীতিকে এগিয়ে দিচ্ছে বলা মুশকিল।
এই যেমন ধরুন না—দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ‘স্পিড ব্রেকারে’র সঙ্গে তুলনা করে গেলেন! রাস্তায় স্পিড ব্রেকার বসানো হয় দুর্ঘটনা এড়াতে—সেদিক থেকে দেখলে এর উপযোগিতা অনস্বীকার্য। কিন্তু, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মন্তব্যে এমন ইতিবাচক ভাবনা কি থাকতে পারে? পারে না। সেজন্যই মোদিজির ‘স্পিড ব্রেকার’ নিছক একটা নেতিবাচক অর্থ নিয়েই গত বুধবার শিলিগুড়ির জনসভায় উপস্থিত জনতার দরবারে হাজিরা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি ছিল গোটা দেশে তিনি এত উন্নয়ন করলেন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে পারলেন না—কারণ মমতা! মমতা নাকি ‘স্পিড ব্রেকারে’র মতো তাঁর উন্নয়নের পথে ‘প্রতিবন্ধক’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন! মোদিজির মুখে এমন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য শুনে হয়তো তাঁর দলের সমর্থক সাধারণ জনতার একটা অংশ আমোদ পেয়েছেন কিন্তু মাঠ ছাড়ার পর সেই আমোদজনক মন্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল কি তাঁরা পেয়েছেন? পাননি, পেতে পারেন না। তার কারণ, ওই জনতার ঘরে ঘরে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, কর্মশ্রী, সবুজসাথী, শিশুসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, জল ধরো জল ভরো, সবার ঘরে আলো মধুর স্নেহের মতো মমতার জনহিতকর প্রকল্পগুলির কোনও কোনওটার, এক বা একাধিকের সুযোগ-সুবিধা অনেকদিনই পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বিনামূল্যের চিকিৎসা, ওষুধ আজ প্রত্যন্ত গ্রামেও বাড়ি থেকে দু’পা বাড়ালেই মিলছে। তার ওপর নানারকম সরকারি আর্থিক অনুদান, সাহায্য, প্রকল্প, স্বাস্থ্য বা কৃষিক্ষেত্রে নিখরচায় বা অতি সামান্য খরচায় বিমা—তাও মিলতে শুরু করেছে বহুদিন। তাহলে!
বাংলার আজকের এই উজ্জ্বল উন্নত ছবিটার খোঁজ মোদিজি রাখেন না এমন তো নয়। হতেই পারে না। তিনি সব জানেন, জানে তাঁর দলের জাতীয় থেকে রাজ্য শাখার সকলে। তা সত্ত্বেও তবে কেন তিনি বুধবার ওইভাবে তীব্র আক্রমণ চালালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করে? বাংলার উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধক ‘স্পিড ব্রেকার’ বলে ব্যঙ্গ করলেন তাঁকে? এই ব্যঙ্গটুকু দিয়ে যে মমতার উন্নয়নকামী ভাবমূর্তিকে কিছুমাত্র বিচলিত করা যাবে না, পরন্তু বাংলায় বিজেপি সমর্থকমহলের মধ্যেই হয়তো কোথাও কোথাও কিঞ্চিৎ উষ্মা জাগার (মহানেতার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের সঙ্গতিহীনতার জন্য) সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে—এমন কথাও কি ভাবেননি? আমাদের জানা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার দিক থেকে অত্যন্ত
বিচক্ষণ এবং কূটকৌশলী তা তথ্যভিজ্ঞজনেদের কাছে বহুবার শুনেছি। সুতরাং, তিনি যখন তাঁর অন্যতম প্রতিপক্ষকে ‘স্পিড ব্রেকার’ বলে ব্যঙ্গ করেন তখন সেটাকে কেবল মাঠ মাতানোর চেষ্টা বলে ভাবা
কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ওই ব্যঙ্গটি যখন
রাজ্যের ‘উন্নয়ন’ প্রসঙ্গে উত্থাপিত হয় তখন
সন্দেহ হয়—তাহলে কি খোদ প্রধানমন্ত্রীও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তির প্রবল
প্রভাব প্রতিপত্তিতে চিন্তিত! বাংলার নজিরবিহীন উন্নয়নের কাণ্ডারী মমতাকেই কি ভয় পাচ্ছে বিজেপি?
ভয় কতটা পাচ্ছে আমাদের জানা নেই, তবে বাংলায় মমতার অভাবনীয় ‘উন্নয়ন’ যে দেশজনতার মনে তাঁর সম্পর্কে প্রত্যাশার পারদ অনেকটা চড়িয়ে দিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। জাতীয় স্তরের ভোট-রাজনীতিতে তো বটেই দেশজনতার মহলেও বাংলার উন্নয়ন এখন রীতিমতো চর্চার বিষয়। একথা আশা করি সকলেরই মনে আছে, ২০১৪ সালে মোদিজির জাতীয় রাজনীতিতে একচ্ছত্র হয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ‘ভাইব্রান্ট গুজরাত’—শিল্পোন্নয়নের আলোয় উদ্ভাসিত গুজরাত। সারা দেশজুড়ে তখন গুজরাতের ‘অভূতপূর্ব’ উন্নয়ন এবং সেই উন্নয়নের রূপকার বলে চিত্রিত নরেন্দ্র মোদিজিকে নিয়ে সে কী ব্যাপক চর্চা! উঠতে বসতে ঘরে বাইরে সর্বত্র উন্নয়নের দিশারী হিসেবে মোদিজি’র গুণগান চলছে গেরুয়া শিবিরের দশদিক জোড়া প্রচারে আর দেশজনতাও অভিভূত, আত্মহারা। যে মানুষ গোধরা দাঙ্গায় ক্ষতবিক্ষত বদনামী একটা রাজ্যকে মুখ্যমন্ত্রীর সীমিত ক্ষমতা দিয়ে এমন উন্নয়নের শিখরে তুলে নিয়ে যেতে পারেন তাঁর হাতে দেশের ভার তুলে দিলে ‘আচ্ছে দিন’ নিশ্চয়ই আসবে। আসবেই। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি ইত্যাদি ইস্যুতে পড়তি দশার কংগ্রেস তখন মোদিজির ওই উন্নয়নপন্থী ভাবমূর্তির প্রবল উত্থান আটকাতে দিশেহারা। এবং শেষপর্যন্ত পর্যুদস্ত। দেশের মানুষের অঢেল সমর্থনে কংগ্রেসিরাজকে নস্যাৎ করে মোদিজি ‘স্বচ্ছ ভারত’ ‘নতুন ভারতে’র রূপকার হয়ে অবতীর্ণ হলেন দিল্লি মসনদে। তারপর কী হয়েছে না হয়েছে, জনপ্রত্যাশা পূরণে মোজিদি কতটা কী সফল বিফল হয়েছেন তা নিয়ে তর্ক আলোচনা বহু হয়েছে! সেসব থাক।
কিন্তু, একথা অস্বীকার করা যাবে কি যে আজও এই ২০১৯ সালেও ২০১৪ সালের মতোই রাজ্যের নজিরবিহীন উন্নয়নকে হাতিয়ার করে জাতীয় রাজনীতিতে আর এক মুখ্যমন্ত্রীর বিরাট উত্থান ঘটছে? এবং বলা বাহুল্য তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর রাজ্যটা বাংলা। সুদূর পশ্চিমের গুজরাত যদি উন্নয়নের ধ্বজা উড়িয়ে তার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রিত্বের আসনে পৌঁছানোর পথ করে দিতে পারে, তবে বাংলা পারবে না কেন? উন্নয়নের গতি-প্রকৃতি ও সাফল্যের নিরিখে আমাদের বাংলা এই মুহূর্তে দেশের যে কোনও রাজ্যের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রেই যে অনেক এগিয়ে তা কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে চলেছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বমঞ্চে সম্মান, মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে কন্যাশ্রীর মতো সাফল্য আর কেউ কোনওদিন পেয়েছে কি? তো, এমন উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তি যাঁর জাতীয় ভোট-রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে সাধারণ জনতা নতুন করে স্বপ্ন দেখতেই পারেন, ভাবতেই পারেন মমতা বাংলার মতো দেশকেও বিশ্বমানে পৌঁছে দিতে পারেন। আর সেই প্রত্যাশাতে যদি ভোটবাক্সে ঢল নামে তবে...!
প্রশ্ন হল, এই সম্ভাবনার কথা ভেবেই কি বুধবারের নির্বাচনী সভায় ‘স্পিড ব্রেকার’ বলে মমতাকে ব্যঙ্গ করলেন মোদিজি, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর চেয়ে বেশি আক্রমণ শানালেন তাঁকে লক্ষ্য করে? কিন্তু, এভাবে কি পশ্চিমবঙ্গের ঝলমলে উন্নত বাস্তবকে উপেক্ষা করা যাবে? বাংলা সমেত গোটা দেশের জনমনে উন্নয়নের সফল সার্থক দিশারী হিসেবে মমতার যে ইমেজ গড়ে উঠেছে তাকে একটুও ম্লান করা যাবে? আমরা বলব না, বলবে সময়—লোকসভা যুদ্ধের শেষফল।
07th  April, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি ঠেকাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রিপল বিলি করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের বিডিও। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে খাবার বিলিতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শনিবার দুপুরে পাঁচলার গাববেড়িয়ায় টোটো ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক শিশুর। তার নাম আমিরুদ্দিন শাহ (৭)। বাড়ি সিদ্ধেশ্বরী সাহাপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, এদিন ওই শিশুটি মায়ের সঙ্গে একটি টোটোয় মাজারে যাচ্ছিল। তখন একটি লরি ওই টোটোয় ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: কাজ করার জন্য প্রয়োজন মতো পাইপ কিনতে হবে। তবে তা কিনে ফেলে রাখা যাবে না বলে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সব এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে প্রতি মাসে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে রিপোর্ট ...

কাবুল, ১৯ জুলাই (এএফপি): কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন প্রাণ হারালেন। ঘটনায় আরও বহু মানুষ জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। সরকারি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পাথরপ্রতিমায় পুকুরে কুমির
পাথরপ্রতিমা ব্লকের কুয়েমুড়ি গ্রামের একটি পুকুরে প্রমাণ সাইজের কুমির দেখা ...বিশদ

08:30:00 AM

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতার জন্য পরামর্শ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি 
স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী ...বিশদ

08:30:00 AM

আজকের রাশিফল 
মেষ: পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। বৃষ: মাতৃস্থানীয় ব্যক্তির স্বাস্থ্যোন্নতির ইঙ্গিত। মিথুন: সম্পত্তি লাভের ...বিশদ

08:11:47 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম১৮৯৯: লেখক বনফুল ...বিশদ

07:50:00 AM

২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

19-07-2019 - 08:37:08 PM

গড়িয়াহাট রোডে গাড়িতে আগুন, হতাহত নেই 

19-07-2019 - 06:58:00 PM