Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ইস্কুল স্ট্রাইক করা এক আশ্চর্য ষোড়শীর গল্প 
অতনু বিশ্বাস

এটা একটা স্কুলের মেয়ের গল্প। তার ভয়, অবসাদ, দৃঢ়তা আর সংগ্রামের গল্প, তার সংকল্পের কথকতা। কেবলমাত্র ইস্কুল পালিয়ে, থুড়ি, ইস্কুল স্ট্রাইক করে, মানে একেবারে বলে-কয়ে ইস্কুল না গিয়ে, পনের-ষোল বছরের মেয়েটি চলে এসেছে পৃথিবীর খবরের শিরোনামে। হয়ে উঠেছে বিশ্ব-জনতার নয়নের মণি। এমনটাও হয় বুঝি! ইস্কুল পালানোর মানসিকতা বা প্রচেষ্টা তো নতুন কিছু নয়। তবু, পার্থক্য কিছু আছে বইকি। টম সয়্যার পেটে ব্যাথা বলে ইস্কুল পালিয়ে বাড়িতে শুয়ে থাকত। আর এই মেয়েটি কিন্তু সটান গিয়ে হাজির সুইডেনের সংসদের সামনে।
একটু খোলসা করে বলা যাক। গ্রেটা থানবার্গ সুইডেনের মেয়ে। বড় হয়েছে স্টকহোমে। সম্প্রতি পরিবেশের উষ্ণায়ন রুখতে তার কর্মকাণ্ডে কিন্তু নড়েচড়ে বসেছে পৃথিবী। ২০১৮-র আগস্টে প্রথম পৃথিবীর নজরে আসে ক্লাস নাইনের ছাত্রীটি। সে বছরের গ্রীষ্মে গোটা ইউরোপ জুড়েই চলেছে তাপপ্রবাহ, আর তার ফলশ্রুতিতে নজির-বিহীন গরম, সুইডেন এবং ইউরোপের অন্যান্য জায়গায় বনে-জঙ্গলে ঘটেছে অগ্নিকাণ্ড। ২০ আগস্ট, গ্রেটা স্কুলের সময়কালেই বসে পড়ল রিকস্‌ড্যাগ বা সুইডেনের সংসদের সামনে। হাতে একটা প্ল্যাকার্ড, সুইডিশ ভাষায় যাতে লেখা ‘স্ললস্ট্রেক্‌জ ফর ক্লাইমাটেট’, অর্থ ‘জলবায়ুর জন্য ইস্কুল স্ট্রাইক’। সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে। জলবায়ু রক্ষায় প্যারিস পরিবেশ চুক্তি অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এমনি করে চলল সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ, অর্থাৎ সুইডেনের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত। জলবায়ুর সমস্যাকে ‘সংকট’ হিসেবে দেখার দাবিতে গ্রেটার একক প্রতিবাদ কর্মসূচি। ইস্কুল কেটে। নির্বাচনের পরেও গ্রেটা তার স্ট্রাইকটা চালিয়ে চলল, তবে সপ্তাহে একদিন, শুক্রবার।
গ্রেটা খুব সম্ভবত তার স্ট্রাইকের অনুপ্রেরণাটা পেয়েছে আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন মুলুকের ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ড স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে। বন্দুকবাজ গণহত্যা চালায় এই স্কুলে। স্কুলের রক্ষা পাওয়া ছাত্ররা তাই ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে মার্কিন দেশের ঢিলেঢালা বন্দুক আইনের প্রতিবাদে।
গ্রেটার ভাবনার মতই এ গ্রহের ক্ষেত্রে ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’ হয় কি না সেটা বলা এখনই সম্ভব নয়। তবে পৃথিবীজুড়েই একটা আলোড়ন যে উঠেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পরিবেশের জন্যে স্কুল স্ট্রাইকের এই আন্দোলনের তরঙ্গটা ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবী জুড়ে। বিশ্বের কয়েকশো শহরের হাজারে হাজারে স্কুলছাত্র শামিল হল এতে। কেবলমাত্র বার্লিন শহরেই ২৫,০০০ ছাত্র-ছাত্রী শামিল
হয়েছে স্কুল স্ট্রাইকে। পুরো জার্মানিতে সংখ্যাটা ৪০ হাজারের বেশি। বিশ্বজোড়া স্কুল স্ট্রাইকের তেত্রিশ সপ্তাহ এটা।
ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের বাইরে ‘রাইজ ফর ক্লাইমেট’ আন্দোলনে শরিক হয়েছে গ্রেটা। আর ইতিমধ্যেই বড় বড় মঞ্চে বেশ কিছু বক্তৃতা দিয়ে ফেলেছে ছোট্ট গ্রেটা। অক্টোবরে লন্ডনে, নভেম্বরে স্টকহোমে টেডএক্স কনফারেন্সে, ডিসেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বৈঠকে, এবং প্লেনারি অ্যাসেমব্লিতে, জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মিটিংয়ে, ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিটির কনফারেন্সে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বের নেতৃবর্গের কাছে তার আবেদন ছিল, ‘‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে। আপনারাও এটা নিয়ে ভাবুন, সাঙ্ঘাতিক ভয় পান, যে ভয়টা আমি পেয়ে চলেছি প্রতিনিয়ত।’’ সুকান্তর নাট্যকাব্য ‘অভিযান’-এর নায়িকা সংকলিতার মত গ্রেটাও যেন বলছে, “আমরা যে বড়ই বিপন্ন।’’
আসলে আট বছর বয়স থেকেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মাথাব্যাথা গ্রেটার। তার কাছে এটা একটা বিশ্বযুদ্ধ ঘটে চলার মতই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোটবেলায় আর পাঁচটা বাচ্চার মতই শিক্ষামূলক ছবি দেখেছে গ্রেটা—যেমন উত্তর সমুদ্রের বরফ গলছে, বিপন্ন মেরু ভাল্লুকের দল, কিংবা প্লাস্টিকের দূষণে সমুদ্রের স্তন্যপায়ীদের বিপন্নতা। কিন্তু গ্রেটার মাথায় তা যেন গেঁথে গিয়েছে একেবারে, অন্য বাচ্চাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে। গ্রিক উপকথায় রয়েছে ক্যাসান্দ্রা-র গল্প। ট্রয়ের রাজা প্রিয়ামের মেয়ে। ভবিষ্যদ্বাণী করায় তুখোড় ছিল সে। ট্রয়ের ধ্বংসের পূর্বাভাষ করেছিল ক্যাসান্দ্রা। গ্রেটা থানবার্গ যেন আধুনিক যুগের জলবায়ুর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্যাসান্দ্রার ভূমিকা পালন করতে এসেছে। যে এই প্রলয়-সন্ধ্যায় দুনিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতাসম্পন্নদের মনে করিয়ে দিচ্ছে দিনের অন্তিমকালের কথা।
ইস্কুল পালানো মেয়েটিকে স্বীকৃতি দিতে কিন্তু কার্পণ্য করেনি দুনিয়া। ২০১৮-র ডিসেম্বরে টাইম ম্যাগাজিন গ্রেটাকে বলল বছরের সেরা ২৫ প্রভাবশালী টিন-এজারের একজন। ইতিমধ্যেই অজস্র আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভেসে গিয়েছে গ্রেটা। এইতো সদ্য পেল জার্মান গোল্ডেন ক্যামেরা অ্যাওয়ার্ড। এ বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সুইডেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নারী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে গ্রেটা। আর নরওয়ের তিনজন সংসদ সদস্য গ্রেটার নাম সুপারিশ করেছেন শান্তির নোবেলের জন্য। অ্যাসপারজার সিন্ড্রোম, অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার, অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার, সিলেক্টিভ মিউটিজম্‌-এর মত অসুখে আক্রান্ত ষোল বয়সি একটা মেয়ের এই বিশ্বজয়ের রহস্য কিন্তু সহজ নয়।
গ্রেটার প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে এ গ্রহের কোনায় কোনায়। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ার্ল্যান্ড, উগান্ডা, থাইল্যান্ড, কলম্বিয়া, পোল্যান্ড। দাবিটা সহজ। এ বিশ্বকে নবজাতকের বাসযোগ্য করতেই হবে। দরকার হলে আইন বদলে। নিশ্চিন্ত থাকলে চলবে না। ‘ভয়’ পেতেই হবে। মর্ত্যলোকে মহাকালের নতুন খাতার পাতাজুড়ে একটা শূন্য নামার ‘ভয়’। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করাটাই উদ্দেশ্য। প্রয়োজনে পরিবেশ এবং জলবায়ুর জন্যে করতে হবে আরও কঠিন আইন। মার্চের ১৫ তারিখ ১১২টা দেশের হাজার হাজার স্কুল ছাত্র একসাথে স্ট্রাইক করল। পৃথিবীর ইতিহাসে পরিবেশের জন্য বৃহত্তম প্রতিবাদ। আর এসবের পিছনে ১৬ বছরের এক সুইডিশ মেয়ে। গ্রেটা।
গ্রেটার আন্দোলনের কিছু ফল দেখা যাচ্ছে এখনই। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঁ-ক্লডে জানকার ইতিমধ্যেই জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে এক লক্ষ কোটি ইউরো খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২০২১-২৭ সময়সীমায়। সুইডিশ সংসদের বাইরে গ্রেটার ফি শুক্রবারের স্ট্রাইক কিন্তু চলছেই। দেশে দেশে এই স্ট্রাইকে অবশ্যই খানিকটা ভিন্ন ভিন্ন দাবি-দাওয়া যোগ হয়েছে। কিছু প্রতিবাদী যেমন ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছে ভোট দেবার বয়সসীমা কমানোর, যাতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে সক্রিয় হতে পারে ছাত্ররা, খানিক কম বয়স থেকেই।
অবশ্য সবাই যে এই শুক্রবারের স্টাইকটাকে খুব ভালো চোখে দেখছে তেমনটাও নয়। যেমন সুইডেনের এক স্কুল তার ছাত্রদের পরিবেশের জন্যে স্ট্রাইক করতে দিতে নারাজ। তাই চাকরি ছেড়েছেন মনিকা নামে এক শিক্ষিকা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র অফিস ছাত্রদের স্কুল কেটে বেরিয়ে যাওয়াটাকে বর্ণনা করল ‘পড়ার সময় নষ্ট’ হিসেবে। আর গ্রেটা সঙ্গে সঙ্গেই ট্যুইট করল, “কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা তাদের নির্লিপ্ততায় নষ্ট করেছে ৩০ বছর। এটা তার থেকে কিছুটা কম খারাপ।’’ অস্ট্রেলিয়ার এক শিক্ষামন্ত্রী ১৫ মার্চের স্ট্রাইক করা ছাত্রদের শাস্তি দেবার হুমকি দিয়েছেন। এমন চিন্তাধারা আছে আরও অনেকেরই।
আমার মেয়ে মোটামুটি গ্রেটার বয়সি। তাই খুব উৎসাহ নিয়েও ওকে বলছিলাম গ্রেটার গল্প। অ্যাসপারজার-আক্রান্ত, অর্থাৎ সামাজিক সংযোগ স্থাপনেই যার সমস্যা—তেমন একটা লাজুক, অবসাদে ভোগা ওর বয়সি মেয়ে গোটা পৃথিবীর সাথেই সংযোগ স্থাপন করে ফেলেছে কোন এক জাদুমন্ত্রে! দেখা গেল, এই ইস্কুল স্ট্রাইক করার বিষয়টায় আমার মেয়ের কিন্তু বড্ড অস্বস্তি। আন্দোলন বা প্রতিবাদটা কি অন্যভাবে করা যায় না? জিজ্ঞেস করেই ফেলল, “আচ্ছা, শুক্রবারে কি ওর ইস্কুলে কোনও কঠিন বিষয়ের হোমওয়ার্ক থাকে?” জানি না আমিও। তবে নজর কাড়তে হলে বোধহয় সিস্টেমে কোনও ভাবে আঘাত করতে হয়। মেয়েকে নিয়ে আবার একদিন বসতে হবে। শুনতে হবে ওর যুক্তিও। তবে, সব রকমের স্কুল পালানো নিশ্চয়ই এক নয়। বলতে হবে সেটাও। আবার অরাজনৈতিক স্ট্রাইক করাটাও খুব সহজ নিশ্চয়ই নয়। আর একা একা স্ট্রাইক শুরু করাটাতো ভয়ানক কঠিন আর অবাস্তব বলেই মনে হয়। তবু, একটা ষোল বছরের অবসাদে ভোগা মেয়েও তেমনটা করে দেখাতে পারে বইকি! আর ক্রমে তার সঙ্গী হয় হাজার হাজার ছাত্র। পৃথিবীজুড়ে। তাই ইস্কুল পালিয়ে কেউ টম সয়্যার হয়, কেউ বা ‘মালগুডি ডেজ’-এর স্বামীনাথন হয়। কেউ হয় গ্রেটা থানবার্গ। তবু, কলেজে পড়া ছেড়ে দিলেই তো আর বিল গেটস্‌ হওয়া যায় না। তেমনি কিন্তু ইস্কুল কেটে গ্রেটা থানবার্গ হওয়াটাও সহজ নয়।
নোবেলটা পেয়ে গেলে গ্রেটাই হবে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সি শান্তির নোবেল বিজেতা। মালালার রেকর্ড ভেঙে। সেটা হোক আর নাই হোক, গ্রেটার স্কুল স্ট্রাইক কিন্তু লজ্জায় ফেলে দিয়েছে পৃথিবীকে। নির্লিপ্ত জনতাকে, রাজনীতিকদের। আমাদেরও। দেশে দেশে। আমরা যারা জড়তার শীতঘুমে থেকে সৌরমণ্ডলের তৃতীয় গ্রহটার পরিবেশ, আবহাওয়া আর জলবায়ুকে এক আসন্ন সর্বনাশের সামনে এনে ফেলেছি। আর তাই আশ্চর্য মেয়ে সংকলিতাই আজ দিশারি হয়েছে উদ্‌ভ্রান্ত বিভ্রান্ত বিশ্ব-জনতার।
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
06th  April, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি ঠেকাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রিপল বিলি করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের বিডিও। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে খাবার বিলিতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।  ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: কাজ করার জন্য প্রয়োজন মতো পাইপ কিনতে হবে। তবে তা কিনে ফেলে রাখা যাবে না বলে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সব এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে প্রতি মাসে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে রিপোর্ট ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

কাবুল, ১৯ জুলাই (এএফপি): কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন প্রাণ হারালেন। ঘটনায় আরও বহু মানুষ জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। সরকারি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উচ্চশিক্ষা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান (শিক্ষা) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি 
অবশেষে উচ্চশিক্ষা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান (শিক্ষা) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। ...বিশদ

09:00:56 AM

পাথরপ্রতিমায় পুকুরে কুমির
পাথরপ্রতিমা ব্লকের কুয়েমুড়ি গ্রামের একটি পুকুরে প্রমাণ সাইজের কুমির দেখা ...বিশদ

08:52:23 AM

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতার জন্য পরামর্শ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি 
স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী ...বিশদ

08:40:23 AM

আজকের রাশিফল 
মেষ: পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। বৃষ: মাতৃস্থানীয় ব্যক্তির স্বাস্থ্যোন্নতির ইঙ্গিত। মিথুন: সম্পত্তি লাভের ...বিশদ

08:11:47 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম১৮৯৯: লেখক বনফুল ...বিশদ

07:50:00 AM

২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

19-07-2019 - 08:37:08 PM