Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে। ২০০০ সালে ১ লিটার জল তারা বিক্রি করেছে ১২ টাকায়। নদী লিজে সরকারি ক্ষতি আনুমানিক ১৩০ লক্ষ টাকা। প্রায় ওই একইসময়ে তামিলনাড়ুতে ৩০ বছরের জন্য বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হল ‘ভবানী’ নদীকে। ভবানী-র জল বিক্রি হবে কোয়েম্বাটোরের কাছে তিরুপুরে, টি-শার্ট নগরীতে, অজস্র অসংগঠিত ছোটখাটো কারখানায়। ভবানী নদীরই অন্য একটি অংশ বেচে দেওয়া হল এক বেভারেজেস সংস্থাকে। ওই সংস্থা দৈনিক ১ লাখ লিটার জল বহুজাতিক একটি কোম্পানিকে সরবরাহ করত। সরকারের রোজগার ছিল বছরে মাত্র ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই হিসেবে প্রতি লিটার জল বিক্রি হল ১ পয়সায় আর বোতলবন্দি সেই জল বাজারে বিকিয়েছে ২০ টাকায়। তামিলনাড়ুর ‘তামিরাবরণী’ নদীটিও নিঃশব্দে বিক্রি হয়ে গিয়েছে!
সাল ২০০৩। ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম হরিদ্বারের হর-কি-পৌড়ির ঘাট জলশূন্য। গঙ্গার জল পৌঁছয়নি। অন্য একটি বহুজাতিক সংস্থার কাছে নাকি গঙ্গাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালের ২২ ডিসেম্বর বিহারে শুরু হয় একটি সংস্থার তরফে দৈনিক ৬৩৫০ লাখ লিটার জল শোধন পর্ব। যে-জল বিশাল দামে বিকোবে দক্ষিণ ও পূর্ব দিল্লির অভিজাত এলাকায়। ভয়ঙ্কর জলকষ্টে পড়বেন হরিদ্বার থেকে ভায়া মুরাদনগর হয়ে কানপুর পর্যন্ত বিস্তৃত আপার গঙ্গা ক্যানালের দু পাড়ের লাখ লাখ মানুষ। বিগত ১৩৯ বছরে, ২০১৫র সেপ্টেম্বর, মহারাষ্ট্রের গোদাবরী তীরের ‘রামকুণ্ড’ ঘাটে নেই পুণ্যস্নানের একফোঁটা জল। প্রতিদিন ৬০-৯০টি ট্যাঙ্কার পুণ্যসলিলা নদীর শূন্য বুকে জল ঢালছে। নাসিক কুম্ভমেলার ‘শাহি-স্নান’ উপলক্ষে ১.৩ টিএমসি (থাউজেন্ড মিলিয়ন কিউবিক ফিট) জল ছাড়া হয় গঙ্গাপুর বাঁধ থেকে। গোদাবরী ও তার দুই উপনদীর—গৌতমী ও কাশ্যপি-র জলেই জলাধার পূর্ণ হয়। গোটা নাসিকের ৬ মাসের জল তিনদিনের ‘শাহি-স্নানে’ উবে গেল। আঙুর খেত শুকনো, জলাভাবে একইভাবে নিঃস্ব-রিক্ত মহাবালেশ্বরের স্ট্রবেরি খেত। সব জল গোগ্রাসে শুষে নিচ্ছে আখের খেত। ১ একর আখ চাষে ১৮০ লাখ লিটার ভৌমজল প্রয়োজন, সাড়ে-সাতটি অলিম্পিক সুইমিং পুলের জলের সমান। অক্লেশে সম্ভব ১০ থেকে ১২ একর জোয়ার চাষ। ৬ শতাংশ মাত্র আখ চাষে বিপুল পরিমাণ জলের অপচয়! এখন শুরু হয়েছে আরও লাভজনক গোলাপ চাষ, ১ একর গোলাপ চাষে প্রয়োজন ২১২ লাখ লিটার জল। ভ্যালেন্টাইন ডে’তে গোলাপের বিপুল চাহিদা বিশ্বজুড়ে। মাটির তলা থেকে পাম্প চালিয়ে তোলা হচ্ছে যথেচ্ছ ভৌমজল। মেরঠওয়াড়া-ওসমানাবদ-লাতুর-বিড-ঔরঙ্গাবাদে পানের জলটুকুও মিলছে না। এক কলসি জলের জন্য সকাল থেকে সন্ধে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন দলিত এক মহিলা। মন্ত্রী, আমলা থেকে ঠিকাদার—সকলেই নিমগ্ন জলের ট্যাঙ্কার ব্যবসায়। পোশাকি নাম ‘এমএলএ ফ্যাক্টরি’, জল বেচে প্রতিদিন রোজগার নাকি ৬০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা।
২০০৮-০৯র সরকারি হিসেব: ১,৯১,৩৯৬টি বোরওয়েল মহারাষ্ট্রব্যাপী যদৃচ্ছ ভৌমজল আহরণ করছে। ফলে, শুখা ও ভুখা মরছে সাধারণ মানুষ। ‘ওয়াটার এক্সপ্রেস’ (ট্রেন) লাটুর থেকে মিরাজ যাচ্ছে ২৫ লাখ লিটার জল নিয়ে। হিরে-জহরতের মতো জলের বালতিও তালা-চাবি দিয়ে পাহারায় রাখতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের, নাহলে জল চুরি! মহারাষ্ট্রে ২৪টি জলকেলি করার পার্ক রয়েছে; প্রতিদিন যার খোরাকি ৫০০ কোটি লিটার জল। ভারতে সবচেয়ে বেশি, ১৮৪৫টি বাঁধও রয়েছে মহারাষ্ট্রেই। ২০০০-’১০, ৭০০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ০.১% কৃষিজমি মহারাষ্ট্রে সেচ-সেবিত। ক্যালিফোর্নিয়ার উপর্যুপরি খরা। কলোরাডো নদীর জল শুকিয়ে যাচ্ছে স্রেফ তুলো-চাষিদের সৌজন্যে। কাজাখস্থানের তুলো-চাষিরা ‘আরাল সাগর’কে মাঠ বানিয়ে ফেলেছে। অনুঘটক সর্বত্রই কৃষককুলের জোট ও নিরঙ্কুশ ভোট। ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা মায় কলকাতার কাছে সল্টলেক/নিউটাউনও। বোরওয়েল ক্রমশঃ মাটির গভীরে তার শিকড় ছড়াচ্ছে, জলস্তর নিম্নগামী, বাড়ছে জল-সঙ্কট ও আর্সেনিকের প্রাবল্য।
জল সন্ত্রাস ও জলের মৌলিক অধিকার: সংবিধানের ২১ নং ধারায় জলের অধিকার মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। সরকারের ক্ষমতা/অধিকার নেই জল বিক্রি বা ভোটের তাগিদে কৃষক-লবিকে ভৌমজল উজাড় করে দেওয়ার। লাখ লাখ লিটার বোতল-বন্দি জল যখন বহু মানুষকে তৃষ্ণার জল থেকে বঞ্চিত করছে, জলাভাবে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ—তখন তা কি বহুজাতিকের অবিসংবাদিত সন্ত্রাস নয়? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির। জনসাধারণের নিত্যপ্রয়োজনীয় জলের জোগানেই কেবল সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। স্মর্তব্য, নদী আর ড্রেন কখনওই সমার্থক নয়। যদিও নদীর ক্লিন্ন ভূমিকা বর্তমানে ড্রেনেরই। কারণ কলকারখানার যাবতীয় বর্জ্য থেকে নগর জীবনের দৈনন্দিন ক্লেদ—সবেরই শেষ গন্তব্য নদী। পণ্ডিতরা বলছেন—খাদ্য নিরাপত্তার কারণেই নাকি প্রয়োজন নদী সংযোজনের! হয়তো ভুল ধারণা। ১৯৭২-৭৩ সালে প্রতিটি মানুষের বার্ষিক ১৫৩ কেজি খাদ্যশস্যের প্রয়োজন ছিল (এনএসএস) অধুনা প্রয়োজন ১৫৪ কেজি বা তার বেশি। ১৯৮৪ সালে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান শুরু হলেও আজ পর্যন্ত কোনও একটি নদীর জলও নয় সুপেয়, নিরাপদ। শিল্পতালুকের ‘জিরো অ্যাফ্লুয়েন্ট’ কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। ‘ওয়েটল্যান্ড’ বা জলাভূমি ‘ওয়েস্টল্যান্ডে’ পরিণত। ‘মোর ক্রপ পার ড্রপ’ অসাড় প্রতিশ্রুতি মাত্র। অথচ চীন ভারতের অর্ধেক কর্ষণযোগ্য জমি নিয়ে ভারতের থেকে ১৩% বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করে। ‘সিস্টেম অফ রাইস ইনটেনসিফিকেশনের’ (SRI) মত পদ্ধতিকে তারা আত্তীকরণ করতে পেরেছে। সেচে জল ব্যবহার দক্ষতা চীনের ০.৪৩, ভারতের ০.৩৫। উদ্ভিদের সুষম বৃদ্ধির সময়টাতেই কেবল জলের নিরবচ্ছিন্ন জোগান প্রয়োজন, অন্য সময়ে নয়। গুলিয়ে যাচ্ছে আবহবিজ্ঞান (মেটিরিওলজিকাল) সৃজিত খরা ও কৃষিজ খরার সংজ্ঞা। ‘ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ ব্যর্থ জলসম্পদ ব্যবহারের সঠিক দিশা বাতলাতে। ১৯৮২তে তৈরি ‘ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’র (NWDA) ভূমিকাও অস্পষ্ট। প্রথম বিশ্বে জল ব্যবহারে নয়া স্লোগান : রিডিউস-রিসাইকেল অ্যান্ড রিইউজ। ‘লো কার্বন ইকনমি’র মত নয়া ভারতেরও স্বপ্ন হওয়া উচিত ‘লো ওয়াটার ইকনমি’।
জলনীতি ও নীতি আয়োগের কথা: ভারতে ৭০% দূষিত-সংক্রমিত জলে প্রতি বছর ২ লক্ষ মানুষ মারা পড়েন। জলের গুণগত মানে পৃথিবীর ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১২০। ৬০ কোটি মানুষ বা ৪৫% ভারতীয় চরম জলসঙ্কটের শিকার। নীতি আয়োগের ‘কম্পোজিট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনডেক্সে’ যাবতীয় হাড় হিম করা তথ্য উঠে এসেছে। পূর্বাভাস, অভূতপূর্ব জলসঙ্কটে মোট জাতীয় উৎপাদন ৬% কমে যেতে পারে। জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী নীতিন গাদকারির বক্তব্য : যে সব রাজ্য জল সংরক্ষণে অগ্রগণ্য তাদের কৃষির উন্নতিও নাকি আকাশছোঁয়া! মহারাষ্ট্র-তামিলনাড়ু-গুজরাত-কর্ণাটক-অন্ধ্রপ্রদেশ-কেরল যেন ঠিক উল্টো কথা বলে। অপরিকল্পিত ভৌমজলের অপরিণামদর্শী ব্যবহারে কৃষি ও মানুষ উভয়েই চরম সঙ্কটাপন্ন। মন্ত্রী জলের উৎস সংরক্ষণে উৎসাহী। ভোট বাৎসল্যে উৎসমুখেই যে জল নিঃশেষিত। প্রয়োজন নতুন বিজ্ঞানসম্মত জলনীতি। নদীর জল সংক্রান্ত বিবাদ সুপ্রিম কোর্ট ছাড়িয়ে আন্তঃরাজ্য যুদ্ধের পর্যায়ে উপনীত তথাপি সরকার প্রায় নিদ্রামগ্ন। কোনও একটি রাজ্য নদীর জলের একচেটিয়া অধিকারী কখনওই নয়। যে কটি রাজ্যের মধ্যে দিয়ে নদী প্রবাহিত তারা সকলেই সমানাধিকারী নদীর জলের। চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে নদীর জলের ভাগবাটোয়ারা চলে না। ১৯৫৬ সালের (২০০২তে সংশোধিত) সংবিধানের ২৬২নং ধারা মোতাবেক জল-বিবাদ মেটানোর চেষ্টা আহাম্মকি। ‘জল ধরো জল ভরো’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন আছে। কারণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোট ছোট ট্যাঙ্ক বা জলাধারে বৃষ্টির জল ধরলে বাষ্পায়ণের ফলে তার অপচয় হয় বহুলাংশে। সেই জল মাটিতে মিশে ভৌমজলের আকর বৃদ্ধি করলে তাতে স্থানীয় জনসমষ্টির সামগ্রিক উপকার হয়। বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়বহুল, সুতরাং মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা ন্যায্য মূল্যে জল কিনতেই পারেন! একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিস্রুত জল দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী ও অন্যান্যদের বিতরণ করা যেতেই পারে (দঃ আফ্রিকা)। চাষের কাজে অনুসৃত হওয়া উচিত ‘লো এনার্জি সাসটেনেবল এগ্রিকালচার’ (LESA) নীতি। নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন, মালা বা পুজোর ফুল ফেলা, প্রদীপ ভাসানো বা মৃতদেহের সৎকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। নাসা ও জার্মান মহাকাশ কেন্দ্রের যৌথ উপগ্রহ ভিত্তিক প্রকল্প GRACE বা ‘গ্রাভিটি রিকভারি অ্যান্ড ক্লাইমেট এক্সপেরিমেন্ট’র পর্যবেক্ষণে উত্তরভারতের রাজস্থান-পাঞ্জাব-হরিয়ানা ও দিল্লিতে ভৌমজল প্রায় নিঃশেষিত। প্রতি বছর ১৭.৭ গিগা টন হারে ভৌমজল উত্তোলিত হয় উত্তরভারতে। জলসম্পদ মন্ত্রকের বয়ানে যার ৯১% ব্যবহৃত হয় মুনাফাখোর আখ/গোলাপ/তুলো চাষে। হাস্যকর, জলসম্পদ মন্ত্রকের বিলম্বে বোধোদয়! 
16th  March, 2019
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

15th  March, 2019
অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
মিথ্যা‌ই সত্য
সমৃদ্ধ দত্ত

 এই যে কোনও আধুনিক সভ্যতার উপকরণ নির্মাণেই আমরা পশ্চিমি দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছি না এটাই কি শেষ কথা? ভারত কি সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং-এই এক নম্বর নয়? এটা ভুল ধারণা। আমরা এক নম্বর স্থান পেয়েছি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। সেটি হল ফেক নিউজ।
বিশদ

08th  March, 2019
একনজরে
সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: প্রায় সব কাজেই এখন নারী-পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ প্রায় মুছে গিয়েছে। তা কাজকর্মই হোক কিংবা খেলাধুলো। সবেতেই পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে পা মেলাচ্ছেন মহিলারা। তবে চাকরি পেতে বেশ মরিয়া তাঁরা। তাই দেশের মধ্যে কেন্দ্রীয় চাকরির পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের ক্ষেত্রে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্রেতাকে বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া লিমিটেড। দেশজুড়ে ৩৪৩টি শহরের মোট ৫৭৪টি এলাকায় ‘এক্সপেরিয়েন্স হুন্ডাই ক্যাযাম্প’ করে এই গাড়ি সংস্থা। শপিং মল, আবাসন, পেট্রল পাম্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে ওই ক্যাম্প ...

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: মহিলাদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে এবার লোকসভা ভোটে মালদহ জেলায় মোট ৫০টি মহিলা পরিচালিত বুথ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে মহিলা পরিচালিত বুথের তালিকা জেলা নির্বাচন দপ্তরে এসে জমা পড়েছে। ওই তালিকা ধরে জেলা নির্বাচন দপ্তরের ...

সেভিয়া, ১৮ মার্চ: দুই দলের শেষ সাক্ষাৎকারে জোড়া গোল করেও বার্সেলোনার হার বাঁচাতে পারেননি লায়োনেল মেসি। রবিবার যেন তারই মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প বুকে নিয়ে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে বাধার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। উচ্চতর বিদ্যার ক্ষেত্রে শুভ ফল পাবে। কর্মপ্রার্থীদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৭- প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের জন্ম
১৯০১- সাহিত্যিক ও পরিচালক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৩৯- প্রাক্তন ইংরেজ ফুটবলার রন অ্যাটকিনসনের জন্ম
১৯৭৪- কবি বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যু 

18th  March, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯০ টাকা ৬৯.৫৯ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬৩ টাকা ৯২.৯০ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৯ টাকা ৭৯.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,২৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৬৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,১০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ চৈত্র ১৪২৫, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ২১/২১ দিবা ২/১৯। মঘা ৩৩/১৬ রাত্রি ৭/৫। সূ উ ৫/৪৬/৭, অ ৫/৪৩/২১, অমৃতযোগ দিবা ৮/৯ গতে ১০/৩৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৬ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩১ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৪৫ গতে ৩/২১ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৬ গতে ৮/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/১৪ গতে ২/৪৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১৩ গতে ৮/৪৩ মধ্যে। 
৪ চৈত্র ১৪২৫, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ১২/২/২২। মঘানক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/২২/১৬, সূ উ ৫/৪৬/৩৩, অ ৫/৪২/২৫, অমৃতযোগ দিবা ৮/৯/৪৩ থেকে ১০/৩২/৫৫ মধ্যে ও ১২/৫৬/৪ থেকে ২/৩১/৩১ মধ্যে ও ৩/১৯/১৪ থেকে ৪/৫৪/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩০/৪২ মধ্যে ও ৮/৫৫/৩১ থেকে ১১/২০/২১ মধ্যে ও ১/৪৫/১১ থেকে ৩/২১/৪৬ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৬/২ থেকে ৮/৪৫/৩১ মধ্যে, কালবেলা ১/১৩/৫৮ থেকে ২/৪৩/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১২/৫৬ থেকে ৮/৪৩/২৭ মধ্যে। 
মোসলেম: ১১ রজব 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজকের রাশিফল  
মেষ: উচ্চতর বিদ্যার ক্ষেত্রে শুভ ফল পাবে। বৃষ: প্রেম-ভালোবাসায় নতুনত্ব আছে। ...বিশদ

07:50:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
 

১৮১৩: পর্যটক ডেভিড লিভিংস্টোনের জন্ম১৯৩৮: পরিচালক সাই পরাঞ্জপের জন্ম১৯৩৯: ক্রিকেটার ...বিশদ

07:45:00 AM

ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় আইইডি বিস্ফোরণ, জখম ৫ সিআরপিএফ জওয়ান 

18-03-2019 - 06:48:58 PM

কলকাতা বিমানবন্দরে ২ জন রোহিঙ্গা সহ গ্রেপ্তার ৩ 

18-03-2019 - 06:24:00 PM

অনুব্রতর মন্তব্য নিয়ে রিপোর্ট তলব কমিশনের  
অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্য নিয়ে বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোধারা বসুর কাছে ...বিশদ

18-03-2019 - 05:35:12 PM

সল্টলেকে গাড়ির ধাক্কায় জখম এক সাইকেল আরোহী  

18-03-2019 - 05:00:00 PM