Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে। ২০০০ সালে ১ লিটার জল তারা বিক্রি করেছে ১২ টাকায়। নদী লিজে সরকারি ক্ষতি আনুমানিক ১৩০ লক্ষ টাকা। প্রায় ওই একইসময়ে তামিলনাড়ুতে ৩০ বছরের জন্য বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হল ‘ভবানী’ নদীকে। ভবানী-র জল বিক্রি হবে কোয়েম্বাটোরের কাছে তিরুপুরে, টি-শার্ট নগরীতে, অজস্র অসংগঠিত ছোটখাটো কারখানায়। ভবানী নদীরই অন্য একটি অংশ বেচে দেওয়া হল এক বেভারেজেস সংস্থাকে। ওই সংস্থা দৈনিক ১ লাখ লিটার জল বহুজাতিক একটি কোম্পানিকে সরবরাহ করত। সরকারের রোজগার ছিল বছরে মাত্র ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই হিসেবে প্রতি লিটার জল বিক্রি হল ১ পয়সায় আর বোতলবন্দি সেই জল বাজারে বিকিয়েছে ২০ টাকায়। তামিলনাড়ুর ‘তামিরাবরণী’ নদীটিও নিঃশব্দে বিক্রি হয়ে গিয়েছে!
সাল ২০০৩। ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম হরিদ্বারের হর-কি-পৌড়ির ঘাট জলশূন্য। গঙ্গার জল পৌঁছয়নি। অন্য একটি বহুজাতিক সংস্থার কাছে নাকি গঙ্গাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালের ২২ ডিসেম্বর বিহারে শুরু হয় একটি সংস্থার তরফে দৈনিক ৬৩৫০ লাখ লিটার জল শোধন পর্ব। যে-জল বিশাল দামে বিকোবে দক্ষিণ ও পূর্ব দিল্লির অভিজাত এলাকায়। ভয়ঙ্কর জলকষ্টে পড়বেন হরিদ্বার থেকে ভায়া মুরাদনগর হয়ে কানপুর পর্যন্ত বিস্তৃত আপার গঙ্গা ক্যানালের দু পাড়ের লাখ লাখ মানুষ। বিগত ১৩৯ বছরে, ২০১৫র সেপ্টেম্বর, মহারাষ্ট্রের গোদাবরী তীরের ‘রামকুণ্ড’ ঘাটে নেই পুণ্যস্নানের একফোঁটা জল। প্রতিদিন ৬০-৯০টি ট্যাঙ্কার পুণ্যসলিলা নদীর শূন্য বুকে জল ঢালছে। নাসিক কুম্ভমেলার ‘শাহি-স্নান’ উপলক্ষে ১.৩ টিএমসি (থাউজেন্ড মিলিয়ন কিউবিক ফিট) জল ছাড়া হয় গঙ্গাপুর বাঁধ থেকে। গোদাবরী ও তার দুই উপনদীর—গৌতমী ও কাশ্যপি-র জলেই জলাধার পূর্ণ হয়। গোটা নাসিকের ৬ মাসের জল তিনদিনের ‘শাহি-স্নানে’ উবে গেল। আঙুর খেত শুকনো, জলাভাবে একইভাবে নিঃস্ব-রিক্ত মহাবালেশ্বরের স্ট্রবেরি খেত। সব জল গোগ্রাসে শুষে নিচ্ছে আখের খেত। ১ একর আখ চাষে ১৮০ লাখ লিটার ভৌমজল প্রয়োজন, সাড়ে-সাতটি অলিম্পিক সুইমিং পুলের জলের সমান। অক্লেশে সম্ভব ১০ থেকে ১২ একর জোয়ার চাষ। ৬ শতাংশ মাত্র আখ চাষে বিপুল পরিমাণ জলের অপচয়! এখন শুরু হয়েছে আরও লাভজনক গোলাপ চাষ, ১ একর গোলাপ চাষে প্রয়োজন ২১২ লাখ লিটার জল। ভ্যালেন্টাইন ডে’তে গোলাপের বিপুল চাহিদা বিশ্বজুড়ে। মাটির তলা থেকে পাম্প চালিয়ে তোলা হচ্ছে যথেচ্ছ ভৌমজল। মেরঠওয়াড়া-ওসমানাবদ-লাতুর-বিড-ঔরঙ্গাবাদে পানের জলটুকুও মিলছে না। এক কলসি জলের জন্য সকাল থেকে সন্ধে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন দলিত এক মহিলা। মন্ত্রী, আমলা থেকে ঠিকাদার—সকলেই নিমগ্ন জলের ট্যাঙ্কার ব্যবসায়। পোশাকি নাম ‘এমএলএ ফ্যাক্টরি’, জল বেচে প্রতিদিন রোজগার নাকি ৬০ থেকে ৭৫ লাখ টাকা।
২০০৮-০৯র সরকারি হিসেব: ১,৯১,৩৯৬টি বোরওয়েল মহারাষ্ট্রব্যাপী যদৃচ্ছ ভৌমজল আহরণ করছে। ফলে, শুখা ও ভুখা মরছে সাধারণ মানুষ। ‘ওয়াটার এক্সপ্রেস’ (ট্রেন) লাটুর থেকে মিরাজ যাচ্ছে ২৫ লাখ লিটার জল নিয়ে। হিরে-জহরতের মতো জলের বালতিও তালা-চাবি দিয়ে পাহারায় রাখতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের, নাহলে জল চুরি! মহারাষ্ট্রে ২৪টি জলকেলি করার পার্ক রয়েছে; প্রতিদিন যার খোরাকি ৫০০ কোটি লিটার জল। ভারতে সবচেয়ে বেশি, ১৮৪৫টি বাঁধও রয়েছে মহারাষ্ট্রেই। ২০০০-’১০, ৭০০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ০.১% কৃষিজমি মহারাষ্ট্রে সেচ-সেবিত। ক্যালিফোর্নিয়ার উপর্যুপরি খরা। কলোরাডো নদীর জল শুকিয়ে যাচ্ছে স্রেফ তুলো-চাষিদের সৌজন্যে। কাজাখস্থানের তুলো-চাষিরা ‘আরাল সাগর’কে মাঠ বানিয়ে ফেলেছে। অনুঘটক সর্বত্রই কৃষককুলের জোট ও নিরঙ্কুশ ভোট। ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা মায় কলকাতার কাছে সল্টলেক/নিউটাউনও। বোরওয়েল ক্রমশঃ মাটির গভীরে তার শিকড় ছড়াচ্ছে, জলস্তর নিম্নগামী, বাড়ছে জল-সঙ্কট ও আর্সেনিকের প্রাবল্য।
জল সন্ত্রাস ও জলের মৌলিক অধিকার: সংবিধানের ২১ নং ধারায় জলের অধিকার মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। সরকারের ক্ষমতা/অধিকার নেই জল বিক্রি বা ভোটের তাগিদে কৃষক-লবিকে ভৌমজল উজাড় করে দেওয়ার। লাখ লাখ লিটার বোতল-বন্দি জল যখন বহু মানুষকে তৃষ্ণার জল থেকে বঞ্চিত করছে, জলাভাবে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ—তখন তা কি বহুজাতিকের অবিসংবাদিত সন্ত্রাস নয়? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির। জনসাধারণের নিত্যপ্রয়োজনীয় জলের জোগানেই কেবল সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। স্মর্তব্য, নদী আর ড্রেন কখনওই সমার্থক নয়। যদিও নদীর ক্লিন্ন ভূমিকা বর্তমানে ড্রেনেরই। কারণ কলকারখানার যাবতীয় বর্জ্য থেকে নগর জীবনের দৈনন্দিন ক্লেদ—সবেরই শেষ গন্তব্য নদী। পণ্ডিতরা বলছেন—খাদ্য নিরাপত্তার কারণেই নাকি প্রয়োজন নদী সংযোজনের! হয়তো ভুল ধারণা। ১৯৭২-৭৩ সালে প্রতিটি মানুষের বার্ষিক ১৫৩ কেজি খাদ্যশস্যের প্রয়োজন ছিল (এনএসএস) অধুনা প্রয়োজন ১৫৪ কেজি বা তার বেশি। ১৯৮৪ সালে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান শুরু হলেও আজ পর্যন্ত কোনও একটি নদীর জলও নয় সুপেয়, নিরাপদ। শিল্পতালুকের ‘জিরো অ্যাফ্লুয়েন্ট’ কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। ‘ওয়েটল্যান্ড’ বা জলাভূমি ‘ওয়েস্টল্যান্ডে’ পরিণত। ‘মোর ক্রপ পার ড্রপ’ অসাড় প্রতিশ্রুতি মাত্র। অথচ চীন ভারতের অর্ধেক কর্ষণযোগ্য জমি নিয়ে ভারতের থেকে ১৩% বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করে। ‘সিস্টেম অফ রাইস ইনটেনসিফিকেশনের’ (SRI) মত পদ্ধতিকে তারা আত্তীকরণ করতে পেরেছে। সেচে জল ব্যবহার দক্ষতা চীনের ০.৪৩, ভারতের ০.৩৫। উদ্ভিদের সুষম বৃদ্ধির সময়টাতেই কেবল জলের নিরবচ্ছিন্ন জোগান প্রয়োজন, অন্য সময়ে নয়। গুলিয়ে যাচ্ছে আবহবিজ্ঞান (মেটিরিওলজিকাল) সৃজিত খরা ও কৃষিজ খরার সংজ্ঞা। ‘ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ ব্যর্থ জলসম্পদ ব্যবহারের সঠিক দিশা বাতলাতে। ১৯৮২তে তৈরি ‘ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’র (NWDA) ভূমিকাও অস্পষ্ট। প্রথম বিশ্বে জল ব্যবহারে নয়া স্লোগান : রিডিউস-রিসাইকেল অ্যান্ড রিইউজ। ‘লো কার্বন ইকনমি’র মত নয়া ভারতেরও স্বপ্ন হওয়া উচিত ‘লো ওয়াটার ইকনমি’।
জলনীতি ও নীতি আয়োগের কথা: ভারতে ৭০% দূষিত-সংক্রমিত জলে প্রতি বছর ২ লক্ষ মানুষ মারা পড়েন। জলের গুণগত মানে পৃথিবীর ১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১২০। ৬০ কোটি মানুষ বা ৪৫% ভারতীয় চরম জলসঙ্কটের শিকার। নীতি আয়োগের ‘কম্পোজিট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনডেক্সে’ যাবতীয় হাড় হিম করা তথ্য উঠে এসেছে। পূর্বাভাস, অভূতপূর্ব জলসঙ্কটে মোট জাতীয় উৎপাদন ৬% কমে যেতে পারে। জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী নীতিন গাদকারির বক্তব্য : যে সব রাজ্য জল সংরক্ষণে অগ্রগণ্য তাদের কৃষির উন্নতিও নাকি আকাশছোঁয়া! মহারাষ্ট্র-তামিলনাড়ু-গুজরাত-কর্ণাটক-অন্ধ্রপ্রদেশ-কেরল যেন ঠিক উল্টো কথা বলে। অপরিকল্পিত ভৌমজলের অপরিণামদর্শী ব্যবহারে কৃষি ও মানুষ উভয়েই চরম সঙ্কটাপন্ন। মন্ত্রী জলের উৎস সংরক্ষণে উৎসাহী। ভোট বাৎসল্যে উৎসমুখেই যে জল নিঃশেষিত। প্রয়োজন নতুন বিজ্ঞানসম্মত জলনীতি। নদীর জল সংক্রান্ত বিবাদ সুপ্রিম কোর্ট ছাড়িয়ে আন্তঃরাজ্য যুদ্ধের পর্যায়ে উপনীত তথাপি সরকার প্রায় নিদ্রামগ্ন। কোনও একটি রাজ্য নদীর জলের একচেটিয়া অধিকারী কখনওই নয়। যে কটি রাজ্যের মধ্যে দিয়ে নদী প্রবাহিত তারা সকলেই সমানাধিকারী নদীর জলের। চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে নদীর জলের ভাগবাটোয়ারা চলে না। ১৯৫৬ সালের (২০০২তে সংশোধিত) সংবিধানের ২৬২নং ধারা মোতাবেক জল-বিবাদ মেটানোর চেষ্টা আহাম্মকি। ‘জল ধরো জল ভরো’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন আছে। কারণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোট ছোট ট্যাঙ্ক বা জলাধারে বৃষ্টির জল ধরলে বাষ্পায়ণের ফলে তার অপচয় হয় বহুলাংশে। সেই জল মাটিতে মিশে ভৌমজলের আকর বৃদ্ধি করলে তাতে স্থানীয় জনসমষ্টির সামগ্রিক উপকার হয়। বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়বহুল, সুতরাং মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা ন্যায্য মূল্যে জল কিনতেই পারেন! একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিস্রুত জল দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী ও অন্যান্যদের বিতরণ করা যেতেই পারে (দঃ আফ্রিকা)। চাষের কাজে অনুসৃত হওয়া উচিত ‘লো এনার্জি সাসটেনেবল এগ্রিকালচার’ (LESA) নীতি। নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন, মালা বা পুজোর ফুল ফেলা, প্রদীপ ভাসানো বা মৃতদেহের সৎকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। নাসা ও জার্মান মহাকাশ কেন্দ্রের যৌথ উপগ্রহ ভিত্তিক প্রকল্প GRACE বা ‘গ্রাভিটি রিকভারি অ্যান্ড ক্লাইমেট এক্সপেরিমেন্ট’র পর্যবেক্ষণে উত্তরভারতের রাজস্থান-পাঞ্জাব-হরিয়ানা ও দিল্লিতে ভৌমজল প্রায় নিঃশেষিত। প্রতি বছর ১৭.৭ গিগা টন হারে ভৌমজল উত্তোলিত হয় উত্তরভারতে। জলসম্পদ মন্ত্রকের বয়ানে যার ৯১% ব্যবহৃত হয় মুনাফাখোর আখ/গোলাপ/তুলো চাষে। হাস্যকর, জলসম্পদ মন্ত্রকের বিলম্বে বোধোদয়! 
16th  March, 2019
অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
সবার উপরে ভোট সত্য
হারাধন চৌধুরী 

সিকি শতক আগের কথা। কর্মসূত্রে মেদিনীপুর শহরে থাকি। গ্রীষ্মের সকাল। ভোটের দিন। ভোটের খবর নিতে বেরনোর আগে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেব। পঞ্চুরচকে চায়ের দোকানে এসেছি। এক ফেরিওয়ালার সঙ্গে দেখা।  
বিশদ

14th  May, 2019
অর্থনীতি ‘ডেঞ্জার জোন’-এ প্রবেশ করেছে
পি চিদম্বরম

 ২০১৪-র নির্বাচনে পাল্লা দিতে নেমে নরেন্দ্র মোদি অর্থনীতি বিষয়ে একটি হঠকারী মন্তব্য করে বসেছিলেন। প্রতিক্রিয়ায় আমি বলেছিলাম, ‘‘মোদিজির অর্থনৈতিক জ্ঞানটা একটি ডাক টিকিটের পিছনেই লিখে ফেলা যেতে পারে।’’ আমার মন্তব্যটি নির্দোষ ছিল, কিন্তু আমার বিশ্বাস, ওই মন্তব্যের কারণে মোদিজি আমাকে ক্ষমা করেননি!
বিশদ

13th  May, 2019
একনজরে
বাংলা নিউজ এজেন্সি: মাধ্যমিকে সম্ভাব্য মেধা তালিকায় পূর্ব বর্ধমান জেলার চারজন এবং পশ্চিম বর্ধমানের এক পড়ুয়া জায়গা করে নিল। বর্ধমান বিদ্যার্থীভবন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র সাহিত্যিকা ...

 নয়াদিল্লি, ২১ মে (পিটিআই): নির্বাচনী প্রচারে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে একাধিকবার টেনে এনে কংগ্রেসকে নিশানা করেছিলেন। কখনও বফর্স কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে রাজীব গান্ধীকে ‘ভ্রষ্টাচারী নম্বর ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: ভাড়াবাড়ির বাথরুম থেকে বুবাই ঘোষ (৩৬) নামে এক যুবকের গলার নলিকাটা দেহ উদ্ধার করল পুলিস। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোমবার রাতে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গোপন প্রেম, গোপন থাকবে না। ব্যবসায়ীদের জন্য সময়টি ভালো, বয়স্করা একটু সাবধানী হবেন। ঠান্ডা লাগা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৪৫: সম্রাট শেরশাহের মৃত্যু
১৭৭২: রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম
১৮৫৯: গোয়েন্দা শার্লক হোমসের স্রস্টা স্টটিশ সাহিত্যিক আর্থার কোনান ডয়েলের জন্ম
১৮৮৫: ফরাসি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগোর মৃত্যু
১৯৪০: ক্রিকেটার এরাপল্লি প্রসন্নর জন্ম
১৯৪৬: আইরিশ ফুটবলার জর্জ বেস্টের জন্ম
২০০৪: ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ডঃ মনমোহন সিংয়ের শপথ গ্রহণ

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯২ টাকা ৭০.৬১ টাকা
পাউন্ড ৮৭.১৮ টাকা ৯০.৩৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৫০ টাকা ৭৯.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২২ মে ২০১৯, বুধবার, চতুর্থী ৫৮/১৮ রাত্রি ২/৪১। পূর্বাষাঢ়া অহোরাত্র। সূ উ ৪/৫৭/৫৩, অ ৬/৮/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৭ গতে ১১/৭ মধ্যে পুনঃ ১/৪৪ গতে ৫/১৫ মধ্যে। রাত্রি ৯/৪৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/২১ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৬ গতে ৯/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৩ গতে ১/১২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৫ গতে ৩/৩৭ মধ্যে।
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২২ মে ২০১৯, বুধবার, চতুর্থী ৫৪/৪৯/৫ রাত্রি ২/৫২/৫৯। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৪/৫৭/২১, অ ৬/১০/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ১/৫০ গতে ৫/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ১/২২ মধ্যে, বারবেলা ১১/৩৪/১ গতে ১/১৩/১১ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৫/৪১ গতে ৯/৫৪/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৫/৪১ গতে ৩/৩৬/৩১ মধ্যে।
১৬ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  আজ রিস্যাট ২বি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে ইসরো
বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে ভোর সাড়ে ৫টায় নজরদারি উপগ্রহ রিস্যাট-২বি ...বিশদ

09:00:00 AM

রবিবার জয়েন্টের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন মেট্রোয়
আগামী ২৬ মে, রবিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন ...বিশদ

08:59:12 AM

বদলে যাচ্ছে দূরদর্শনের চিরপরিচিত লোগো
আধুনীকিকরণ হবে। তাই বদলে যাচ্ছে দূরদর্শনের চিরপরিচিত লোগো। ২০১৭ সালের ...বিশদ

08:42:16 AM

জোড়াসাঁকোতে আজ পুনর্নির্বাচন

কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াসাঁকো বিধানসভার সংস্কৃত কলেজের ১ নম্বর ...বিশদ

08:33:37 AM

রাফাল: মানহানির মামলা প্রত্যাহার অনিল আম্বানির
রাফাল চুক্তি নিয়ে অফসেট পার্টনার রিলায়েন্স এবং কর্ণধার অনিল আম্বানির ...বিশদ

08:30:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৫৪৫: সম্রাট শেরশাহের মৃত্যু১৭৭২: রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম১৮৫৯: গোয়েন্দা শার্লক ...বিশদ

08:19:44 AM