Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মিথ্যা‌ই সত্য
সমৃদ্ধ দত্ত

বিশ্বের সবথেকে বেশি ডিজিটাল ক্যামেরা যেসব দেশে বিক্রি হয় ভারত তার মধ্যে মাঝেমধ্যেই টপার হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রথম। কখনও দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে। বিশ্বের সবথেকে বেশি ক্যামেরা ইউজারের তালিকাতেও ভারত প্রথম সারিতে তো বটেই, অনেক সময় ফার্স্ট হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের সবথেকে বড় ক্যামেরা সংস্থা কোনগুলি? ক্যানন আর নিকন। দুটোই জাপানের। টপ ডিএসএলআর ক্যামেরা কোম্পানি লিখে একবার গুগলে যান। দেখবেন ভারতে কোনও ক্যামেরার আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডই নেই। স্টিল শুধু নয়, মুভি ক্যামেরাতেও তাই। অর্থাৎ ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের অন্যতম বড় বিজনেস মডেল, ১০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি বক্স অফিস। অথচ ভারত নিজে কোনও আন্তর্জাতিক মানের ক্যামেরা তৈরি করতে পারছে না। আজও!
বিশ্বের সবথেকে দ্রুতহারে স্মার্টফোন ক্রেতার বাড়ছে ভারতে। সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। অথচ ভারত আজও কোনও নিজস্ব স্মার্টফোনকে আন্তর্জাতিক বাজারের ব্র্যান্ডযুদ্ধে দাঁড় করাতেই পারেনি। সবথেকে টপ পাঁচটি মডেল হল স্যামসাং, হিউয়েই, অ্যাপল, জিওমি এবং অপ্পো। পাঁচের মধ্যে দুটোই চীন। ব্যবসার দিক থেকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাঁচটি টেলিকম কোম্পানি কী কী? একটাও ভারতের নয়। প্রথম স্থানে চায়না মোবাইল লিমিটেড, এরপর আমেরিকার ভেরিজোন কমিউনিকেশন, আমেরিকারই এটি অ্যাণ্ড টি, ব্রিটেনের ভোদাফোন এবং জাপানের নিপ্পন টেলিগ্রাফ কর্পোরেশন। গোটা দুনিয়ার সবথেকে জনপ্রিয় এবং বিক্রি হওয়া টেলিভিশন মডেল কোন কোন দেশের? দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং এক নম্বরে। এরপরের স্থানও তাদের, এল জি। তারপর জাপানের সোনি, আমেরিকার ভিজিও এবং চীনের টিসিএল। ভারত নেই।
বিশ্বের সবথেকে ব্যবহার করা ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন কোনগুলি? গুগল, বিং, ইয়াহু, আস্ক ডট কম। চীন কিন্তু আমেরিকার সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেই না বলা যায়। তাদের নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন বাইডু। সবথেকে ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন। আমরা সারাক্ষণ ইন্টারনেটে মুখ গুঁজে আছি। কিন্তু এখনও ভারতের একটিও নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন জনপ্রিয় হল না।
আমরা এত যুদ্ধ ভালোবাসি। একবার পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি হলে প্রায় সকলেই ওয়ার স্পেশালিস্ট, আর্মি বিশেষজ্ঞ এবং দেশভক্তির যোদ্ধায় পরিণত হই, অথচ ভারত আজও নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র নিজেরা তৈরি করার মতো জায়গায় যেতে পারল না কেন? আমরা শুধুই অস্ত্র কিনি অন্যদের থেকে। আমাদের বন্ধু ভাবে ইজরায়েল, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন সকলেই। কেন? কারণ আমরা তাদের সবথেকে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্রেতা। আসলে আমরা বাজার। ১৩০ কোটির কর্পোরেট বাজার। তাই আমরা বন্ধু। অস্ত্রনির্মাণে আমরা উন্নত দেশগুলিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছি না কেন?
এই যে কোনও আধুনিক সভ্যতার উপকরণ নির্মাণেই আমরা পশ্চিমি দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছি না এটাই কি শেষ কথা? ভারত কি সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং-এই এক নম্বর নয়? এটা ভুল ধারণা। আমরা এক নম্বর স্থান পেয়েছি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। সেটি হল ফেক নিউজ। মাইক্রোসফট সম্প্রতি একটি সমীক্ষা করে জানিয়েছে, বিশ্বের সবথেকে বেশি ফেক নিউজ প্রচারের জায়গায় পরিণত হয়েছে ভারত। গোটা বিশ্বের অ্যাভারেজ যেখানে ৫৭ শতাংশ, ভারতে সেটা ৬০ শতাংশ। সবথেকে বিপজ্জনক ট্রেণ্ড হল ভারতে ক্রমেই ফেক নিউজই রিয়াল নিউজে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে এই প্রবণতা আরও বেড়ে চলেছে। শুধু ফেক নিউজ নয়, অনলাইনে অভদ্র ব্যবহার, যৌনতা প্ররোচনামূলক পোস্ট, ভুল তথ্য শেয়ার এবং মতের অমিল হলেই পরস্পরকে চরমভাবে গালিগালাজ করার প্রবণতা ভারতে প্রবলভাবে বেড়ে চলেছে। এই তথ্য জানা যাচ্ছে মাইক্রোসফটের ‘ডিজিটাল সিভিলিটি ইনডেক্স’ সমীক্ষায়। সেখানে অনলাইনে অভব্য আচরণের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে মোট ২২টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ভারতের স্থান প্রথম সাতের মধ্যে। ভারতে সবথেকে বেশি ফেক নিউজ ছড়ানো হয় ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে। কেন এত বাড়ছে ফেক নিউজ? শুধুই কি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন ঘটিয়ে সেই থেকে ফায়দা লোটা? তার পাশে উল্লেখযোগ্য যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা হল ক্রমেই ফেক নিউজ একটি দুর্দান্ত লাভজনক বিজনেস মডেল হয়ে উঠেছে। নিয়মটা হল, প্রথমেই একটা ফেসবুক পেজ তৈরি করা হবে। এরপর সেই পেজ কারা কারা দেখছে সেটি ট্র্যাক করা হয়। তার জন্য থাকে প্রফেশনাল হ্যাকার। কতবার সেই পেজ খোলা হয়েছে সেটা মনিটর করা হয় এবং তারপর লাইকের সংখ্যা ধরে ধরে এগনো হয় সেটিকে গ্রুপে গ্রুপে পোস্ট করা। আমার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই আমি সেগুলির প্রতি আকৃষ্ট হই বেশি বেশি। কারণ ওইসব পোস্টে যেসব তথ্য ও যুক্তি দেওয়া থাকে সেগুলিকে আমি ব্যক্তিগতভাবেও আমার বিরুদ্ধপক্ষীয়দের সঙ্গে তর্কে ব্যবহার করতে পারবো। যদিও সেই তথ্যগুলির সিংহভাগ মিথ্যা। আমাদের কাছে তর্কযুদ্ধে জয়টাই বেশি জরুরি। সত্যমিথ্যার বিচার নয়। ফলো করতে থাকি। লাইক করতে থাকি। এভাবে যখন এরকম ফেসবুক পেজগুলির লাইক ও ফলো করার সংখ্যা কয়েক লক্ষ পেরিয়ে যায়, তখনই দেখা যায় বিজ্ঞাপন বাড়ছে। এভাবে পেজটি একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। আর তারপর সেই পেজটি বিক্রি করার ডিল শুরু হয়ে যায়। ওই পেজ কাজে লাগবে এরকম রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়া উইং ওইসব পেজ কিনে নেয় বিপুল টাকা দিয়ে। এমনকী সাধারণ ব্যবসায়ীও সেই পেজ বেশি দামে কিনে তারপর নিজের মতো আরও অন্য কনটেন্ট দিয়ে আরও ব্যবসা বাড়ানোর জন্য নতুন স্পনসর খুঁজে নেয়।
বেশ কিছু ফেক নিউজের মধ্যেই দেখা যায় কয়েকটি শব্দ হাইলাইট করা কিংবা তার নীচে লেখা থাকবে রিলেটেড নিউজ। সেখানে ক্লিক করলে একটা ওয়েবসাইট বেরিয়ে আসবে। আমরা সরল মনে ভাবছি ওই ওয়েবসাইট হল ওই পোস্টে লেখা যুক্তির সপক্ষে সোর্স বা প্রমাণ। কিন্তু আমরা জানতেই পারি না ওই বিশেষ ফেসবুক পেজ যারা চালাচ্ছে তারাই সেই ওয়েবসাইট খুলেছে। এর ফলে যারাই ওই পেজ পড়ছে, তারা আবার ক্লিক করে এই ওয়েবসাইটেও চলে যাচ্ছে আরও তথ্যের আশায়। এভাবে ভিউয়ারশিপ বেড়ে চলে এবং বিজ্ঞাপনও দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই কারণেই যতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে কোনও মিথ্যা খবর ও ভিডিও লেখা ও তৈরি করা হবে ততই সেটির বিজনেস বাড়ছে। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনে রিসার্চ করা ও পোস্ট লেখার জন্য যাদের রিক্রুট করা হয় তাদের প্রতি পোস্ট পিছু যথেষ্ট মোটা টাকা দেওয়া হয়। অথবা মাসিক স্যালারির ব্যবস্থা। সেটা কখনও সখনও ৫০ হাজার টাকাও ছাপিয়ে যায়। আর কনটেন্ট ডিরেক্টর বেতন পায় এক লক্ষ টাকার বেশি। ফেক নিউজ নিছক রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে লাভ দেয় তাই নয়, এটা সবটাই একটা ইন্ডাস্ট্রি। আমরা বোকার মতো আমাদের প্রিয় দলের হয়ে অনলাইনে অবিরত যুদ্ধ করি, একে অন্যকে গালিগালাজ করি, ফেক নিউজ শেয়ার করি। আমাদের আর্থিক, সামাজিক লাভ হয় না কিছু। সাময়িক আত্মতৃপ্তি পাই যে ‘কেমন দিলাম’! কিন্তু আদতে আমাদের ব্যবহার করেই কোটি কোটি টাকা ব্যবসার লেনদেন হয়ে চলেছে। সে কোটি টাকার বিজনেস মডেলের সূত্রপাত নিছক একটি গ্রুপ অথবা পেজ স্টার্ট করে। নো ইনভেস্টমেন্ট।
অনলাইনে দুরকম মিডিয়া আছে। একটি সরকারের কাছে রেজিস্টার করা মিডিয়া সংস্থা। তাদের মালিক, লগ্নি, শেয়ার, রেজিস্ট্রেশন নম্বর সবই সরকারের কাছে আছে। পাশাপাশি দ্রুত বিশ্বজুড়ে আর একটি সংস্থা তৈরি হচ্ছে, তার নাম কনটেন্ট কোম্পানি। স্বচ্ছ কনটেন্ট কোম্পানির পাশাপাশি ক্রমেই বাড়ছে ফেক নিউজের কোম্পানিও। এই সংস্থাগুলির হয়ে লেখার জন্য কনটেন্ট রাইটার, এডিটর আর গ্রাফিক্স আর্টিস্ট রিক্রুট করা হয়। তাদের কাজ হল, যে দল বা সংগঠনের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট হয়েছে, তাদের সুবিধামতো ১) বিভিন্ন অতীত ইতিহাসকে ভুল তথ্য সহযোগে পোস্ট করা ২) বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ফোটোশপ করা ছবি দিয়ে একটা নিউজের মতো দেখতে আইটেম বানানো আর ৩) এডিটিং করে ভিডিও শেয়ার করা। উদাহরণ হিসেবে যেমন ধরা যাক, একটি রাজনৈতিক সমাবেশে একজন নেতা বা নেত্রী তাঁর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বললেন, ‘ওই দলটি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কিন্তু ভারতের পক্ষে সেটা হবে চরম বিপজ্জনক। ভারতের ভালোর জন্যই তাই ওই দলকে ভোট দেবেন না। ’এবার ঠিক এই বক্তৃতার ক্লিপিংস নিয়ে ফেক নিউজ ফ্যাক্টরিতে শুরু হয় এডিটিং। সূক্ষ্ম কাজ। বেছে বেছে যেখানে ‘ভারতের’ শব্দটি বলা হয়েছে, সেখানেই ওই বক্তার গলাটি নকল করে এডিটেড ভার্সানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় নতুন শব্দ। ‘পাকিস্তানের’। তৎক্ষণাৎ বাক্যটি কী দাঁড়াল? ‘ওই দল যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কিন্তু ‘পাকিস্তানের’ পক্ষে সেটা হবে চরম বিপজ্জনক। তাই ‘পাকিস্তানের’ ভালোর জন্য ওই দলকে ভোট দেবেন না।’ ব্যস! এবার এটা শেয়ার করা শুরু হল। ওই নেতানেত্রীর বিরোধীরা তো বটেই, তাঁদের সমর্থকরাও ভাবতে শুরু করলেন এরকম কথা বলা ঠিক হয়নি। এটা তো পাকিস্তানের হয়ে কথা বলা! এভাবেই সার্কুলেট হতে থাকে ফেক নিউজ। এই যে কনটেন্ট কোম্পানি এগুলির কোনও সরকারি রেগুলেশন নেই। ভারতে রেজিস্টার্ড মিডিয়ায় সরাসরি এখনও বিদেশি কোনও মিডিয়া সংস্থা আসেনি। শেয়ার রয়েছে। পরিচালনায় নেই। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ কনটেন্ট মার্কেটিংয়ে নেই। এটা একাটা গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম। তাই বিদেশি অজানা সংস্থাও লগ্নিতে ঢুকে পড়েছে।
হোয়াটস অ্যাপের প্রতিটি অ্যাকাউন্টের অ্যাক্টিভেশনের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নম্বর, আইপি অ্যাড্রেস আর কেরিয়ার ইনফরমেশন মাদার সার্ভারে চলে যায়। এমনকী কে টাইপ করছে সেটাও জানা সম্ভব। কিন্তু কী টাইপ করছে সেটা হোয়াটস অ্যাপ জানতে পারে না (অন্তত তারা সেরকমই দাবি করে)। হোয়াটস অ্যাপ কর্তৃপক্ষ বলে, এটা এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের প্রাইভেসি। কিন্তু একটি মেসেজ পাঁচটির বেশি শেয়ার করা যাবে না। ফেক নিউজ যারা ছড়ায় তারা সেই কারণে একসঙ্গে বহু মোবাইল থেকে বাল্ক গ্রুপ তৈরি করে। আর সেভাবে প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি করে ফেক নিউজ পোস্ট করে মাল্টিপল শেয়ার করে দেওয়া শুরু হয়। ফেক নিউজ শেয়ারকারীরা জেনে যায় আমাদের কারা কারা সেই পোস্ট রিপোস্ট অথবা রিশেয়ার করেছি। তারা এরপর আমাদের টার্গেট করে রোজই কিছু না কিছু শেয়ার করতে থাকে। সেসব আমাদের পছন্দসই সাবজেক্ট হওয়ায় আমরাও শেয়ার করতে থাকি। সত্যকে আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলি, তুমি মিথ্যে। মিথ্যেকে আমরা সাদরে বরণ করে বলি, তুমিই সত্য!
এভাবে ক্রমেই হারিয়ে যায় আসল নিউজ। আসল ইতিহাস। আসল সত্য। একটি সমাজ ক্রমেই বিশ্বাস করতে শুরু করে, তার যেটা পছন্দ সেটাই সত্য! তার যেটা অপছন্দ সেটা‌ই মিথ্যা। আর তাই নতুন যুগের নতুন ধ্রুবপদ—মিথ্যাই সত্য!
08th  March, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত করে নজির সৃষ্টি করল বেঙ্গল কেমিক্যাল। বুধবার সংস্থার এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে তাঁরাই প্রথম কোম্পানি, যারা বার্ষিক ...

শ্বকাপে খেলতে ইংল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় দল। আগামী ৩০ মে উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজবে ক্রিকেটের বৃহত্তম প্রতিযোগিতার। আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু ...

সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: দিনমজুরের মেয়ে রেশমী রায় এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র মনের ইচ্ছা এবং একাগ্রতা থাকলে যে বাধা ...

সংবাদদাতা, হরিপাল: হরিপালের নালিকুল পূর্ব পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব গোপীনাথপুর ও সিঙ্গুর ব্লকের মধ্য হিজলার উপর প্রায় ২ কোটি টাকা খরচে কানা নদীর উপর তৈরি হচ্ছে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বিরূপ হলেও খুব একটা চিন্তার কারণ হবে না। ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৮৮ টাকা ৭০.৫৭ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৫ টাকা ৭৯.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৩৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/২৩ রাত্রি ৪/১৯। পূর্বাষাঢ়া ০/৩৯ প্রাতঃ ৫/১৩। সূ উ ৪/৫৭/৩৪, অ ৬/৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/১/৪১ শেষরাত্রি ৪/৯/৩৩। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ২/০/১৯ প্রাতঃ ৫/৪৫/১, সূ উ ৪/৫৬/৫৩, অ ৬/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৭ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৪/৩১/৫৯ গতে ৬/১১/১৭ মধ্যে, কালবেলা ২/৫২/৪১ গতে ৪/৩১/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৪/৫ গতে ১২/৫৪/৪৭ মধ্যে। 
১৭ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য 

22-05-2019 - 04:21:49 PM

১৪০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

22-05-2019 - 03:52:18 PM

ধূপগুড়ির বিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে 

22-05-2019 - 03:03:00 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে আইইডি বিস্ফোরণ, শহিদ ১ জওয়ান, জখম ৭ 

22-05-2019 - 01:31:14 PM

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ বিশ্বভারতীর উপাচার্য এবং অধ্যাপকরা 
ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে জেরে ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ...বিশদ

22-05-2019 - 01:27:28 PM

বর্ধমানের শাঁখারিপুকুর এলাকায় গাড়ি-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ, মৃত ২ 

22-05-2019 - 01:23:08 PM