Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটবাজার: ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

ইমরান খান বুদ্ধিমান। দুনিয়া কাঁপানো এই ক্রিকেটার আজকের হাই-টেক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা দর তার হিসেব না নিয়েও বলা যায়—তিনি বুদ্ধিমান এবং অবশ্যই বিচক্ষণ। তিনি জানেন, লড়াইয়ের ময়দানে কখনও-সখনও কৌশলগত কারণে এক-পা এগনোর জন্য দু-পা পিছিয়েও আসতে হয়, আসতে হতে পারে। এবং সেটাই রাজনৈতিক বিচক্ষণতা। বিশেষ করে শত্রু যখন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং কার্যকারণ সূত্রে বিশ্বের শক্তিধরেরা তার দিকেই হেলে, তখন এই কৌশল প্রয়োগ দেশজনতার স্বার্থেই একরকম অনিবার্য হয়ে ওঠে। অন্যথায় আর যাই হোক ভালো কিছু হয় না। বিপদও বাড়ে বই কমে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যেদিন তাঁদের সংসদে বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনা অভিনন্দন ভর্তমানের মুক্তি ঘোষণা করেছিলেন সেদিন প্রকারান্তরে তিনি তাঁর ওই বুদ্ধি ও বিচক্ষণতারই পরিচয় দিয়েছিলেন। অন্তত, বিশেষজ্ঞমহলের একটা বড় অংশ তেমনটাই মনে করেছেন এবং সেটা মোটেই ভুল না। ভারত যে তুলনায় অনেক বেশি শক্তিধর সেটা সকলেই জানেন। তবে পাকিস্তানও কম না, পরমাণু শক্তিতে তারাও বলীয়ান। সুতরাং, যুদ্ধ শুরু হলে তার গতিপ্রকৃতি সাধারণের সীমা ছাড়িয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যেতেই পারে আর সেক্ষেত্রে উভয় দেশই নজিরবিহীন ভয়াবহতার শিকার হতে পারে। ভারতকে হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের হুমকি-ধমকি মূলক মন্তব্যে এমন সম্ভাবনার কথাই কি ধরা পড়েনি? আমাদের পরম সৌভাগ্য, বায়ুসেনার বহুকথিত ‘সার্জিকাল স্ট্রাইকে’র পর সেই ইমরানই বিচক্ষণতার পরিচয় রেখে আপসের কথায় ফিরেছেন এবং বন্দি বায়ুসেনা জওয়ানকে মুক্তি দিয়ে আপাতত যুদ্ধের সেই সম্ভাব্য নারকী ভয়াবহতার দুশ্চিন্তা থেকে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের সাধারণকে মুক্তি দিয়েছেন।
অনেকে অবশ্য বলছেন, যুদ্ধবন্দি নিয়ে জেনিভা চুক্তি অগ্রাহ্য করার সাহস পাননি বলেই ইমরান বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনা অভিনন্দনকে মুক্তি দিয়েছেন। ওই চুক্তির দাপটেই ও দেশের সেনাও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার বিশেষ সুযোগ পায়নি। পাক ভূখণ্ডে ধরা পড়ার সময় স্থানীয় লোকজনই মারধর যা করার করে নিয়েছে। জেরার সময় অভিনন্দনের বলিষ্ঠ অভিব্যক্তি ও দৃঢ়তার সামনে পাক-সেনা অফিসারদের মর্যাদা বজায় রেখেই এগতে হয়েছে। সে কথা পরবর্তীতে অভিনন্দনও স্বীকার করেছেন। তাঁর পাঁজরে ও দেহের অন্যত্র যেসব আঘাতের চিহ্ন মিলেছে তার কারণ অবশ্য এখনও আমাদের অজানা। তার জন্য পাক-সেনার ভূমিকাও এখনও স্বীকৃত নয়। কিন্তু, একটা ব্যাপার পরিষ্কার, অভিনন্দনকে নিঃশর্তে ছেড়ে দিয়ে ইমরান খান আর কিছু না করুন যুদ্ধ বাধার উপক্রমটি অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছেন। এখন যুদ্ধ বিরতি চুক্তি ‘লঙ্ঘন’ করে পাক গোলাগুলি বা তার জবাবে ভারতীয় সেনার পাল্টা সামরিক তৎপরতা যা ঘটছে সেসব ভারত-পাক সীমান্তের নিত্যদিনের ঘটনা। বছরের পর বছর ধরেই এসব চলছে আর তার জেরে মাঝেমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত সন্নিহিত সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হয়েই চলেছে। পাক-গোলায় বাড়িঘর ধ্বংস থেকে নিরীহ মানুষজনের মৃত্যু সেকাল থেকে একাল এমনকী আজও কোনও নতুন ঘটনা নয় ভূস্বর্গে!
বরং, যেদিন থেকে কাশ্মীর নিয়ে দু-দেশের সামরিক সংঘাতে জঙ্গি-মাত্রা যুক্ত হয়েছে, সীমান্তে সামরিক গোলাগুলির রুটিন বিনিময় ছাপিয়ে উঠেছে জঙ্গি সন্ত্রাসের বীভৎসতা সেদিন থেকে মানুষের বিপন্নতাই কেবল বাড়েনি, তাঁদের মধ্যে বিশেষত, তাঁদের নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীর মধ্যে অস্তিত্ব সংকটের অস্থিরতাও প্রবল হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগে কাশ্মীরের মাটিতে বসে এমনই আক্ষেপ করছিলেন ওয়ানিসাব। নামটা বলছি না। শুধু এটুকুই বলছি, ওয়ানিসাব উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার ছিলেন, সম্প্রতি রিটায়ার করেছেন। তিনি স্পষ্টতই বলেছিলেন, যতদিন কাশ্মীর সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখা হবে ততদিন এই সমস্যা বেড়েই চলবে। এবং কাশ্মীরি জনতাও রাজনীতির পাকেচক্রে পড়ে বিভ্রান্ত হবেন, দিকভ্রষ্ট হবেন, এমনকী দেশের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সংহতির পরিপন্থীও হয়ে উঠতে পারেন কেউ কেউ!
সত্যি বলতে কী, পুলওয়ামার ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা ও ৪৪ জওয়ান মর্মান্তিকভাবে শহিদ হওয়ার পর যখন ওই নারকী ঘটনায় যুক্ত জঙ্গিদের পিছনে স্থানীয় যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছিল তখন ওয়ানিসাবের ওই কয়েক বছরের পুরনো মন্তব্যটা ফের একবার ঝলকে উঠেছিল মনে! পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদক্ষেপে যুদ্ধ থেকে আপাতত অব্যাহতি পেয়েছে দুই দেশ কিন্তু, কাশ্মীরি জনতার মনের ক্ষতগুলো মুছতে না পারলে, রাজনীতির চশমা খুলে মানবিকতা ও সম্প্রীতির উদার চোখে তাঁদের সমস্যাগুলোকে দেখতে না পারলে ভবিষ্যতে যুদ্ধ কি ঠেকানো যাবে? যাঁরা ভাবছেন, পাক ভূখণ্ডের কটা জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিলে বা মাসুদ আজাহারের মতো কটা জঙ্গি নেতা খতম হলেই জঙ্গিসন্ত্রাস শেষ হয়ে যাবে, কাশ্মীরের গুলবাগিচার হাসিতে ভরে উঠবে জনজীবন—তাঁরা কতটা ঠিক ভাবছেন তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। কারণ, বিভিন্ন সময় নানা নিরাপত্তা এজেন্সির রিপোর্ট ও ঘটনাবলিই প্রমাণ করেছে স্থানীয় মাটির রস ও রসদ তাদের জঙ্গি ক্রিয়াকলাপ চালাতে সহায়তা করেছে এবং করছে।
এই রস ও রসদ জোগানের সাপ্লাই লাইন বন্ধ করার মূল উপায় যে উন্নয়ন, উন্নয়ন এবং উন্নয়ন—সার্বিক লাগাতার উন্নয়ন তা বলেছেন, আজও বলেন অনেক মহামুনিজন। তাঁদের মতে, উন্নয়নের জোয়ার উঠলেই অলস মস্তিষ্কে শয়তানের বাসাগুলো খান খান হয়ে যাবে—কাশ্মীরের নবীন প্রজন্ম জীবনের ইতিবাচক দিশা পাবে, জঙ্গিরা ভারতের মাটিতে রস-রসদের জোগানের অভাবে এমন বেমক্কা বজ্জাতির শক্তি-সাহসও অনিবার্যভাবেই অনেকটা হারিয়ে ফেলবে। এতে কাশ্মীর সমস্যা পুরোপুরি না মিটলেও কাশ্মীরি জনজীবন বাঁচার নতুন দিশা পাবে, জোর পাবে সাম্প্রদায়িক প্রীতি জাতীয় সংহতি। এখন কথা হল, ‘যুদ্ধ’ কি এক্ষেত্রে এই কাজটা করে দিতে পারে? পারে না যে তা এর আগে অনেকবার প্রমাণিত। কার্গিলের স্মৃতি এখনও বিশেষ ঝাপসা নয়—পেরেছে? পারলে পুলওয়ামা বা তার মতো মারাত্মক সব ঘটনা আজও ঘটে চলেছে কেন? ‘যুদ্ধ’ যখন একাধিকবার কাশ্মীরে জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ দেখা যাচ্ছে তখন সার্জিকাল স্ট্রাইকে জঙ্গি নিধন ও তাদের ঘাঁটি ওড়ানোর পরও কেন যুদ্ধের দিকে মুখ? ইমরানের চালে যুদ্ধটা আপাতত বাধল না বটে তবে ভবিষ্যতেও বাধবে না এমন গ্যারান্টি তো নেই। কিন্তু, কেন? আসলে, এক্ষেত্রে যুদ্ধটা তো সেই অর্থে সরাসরি কোনও দেশের সঙ্গে নয়, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, জঙ্গি উৎখাতের জন্য। আর কে না জানে জঙ্গিদের কোনও দেশ নেই, জীবাণুর মতো তারা দুর্বল শরীরকেই আশ্রয় বানিয়ে তোলে। জয়েশ থেকে আইএস—একটু নজর করলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন।
কিন্তু, মুশকিলটা হল, সার্জিকাল স্ট্রাইক থেকে সম্ভাব্য যুদ্ধ ব্যাপারটা এমনভাবে আমাদের মধ্যে প্রচারিত হয়েছে যাতে আমরা ধরেই নিয়েছি প্রতিপক্ষ পাকিস্তান (যে দেশের প্রতি দেশজনতার একটা অংশে বীতরাগ ও ক্ষোভ প্রবল) যুদ্ধই হোক, কী সার্জিকাল স্ট্রাইক—দুটোর লক্ষ্যই ওই প্রতিবেশী দেশ। পুলওয়ামার ঘটনার পর ‘পাকিস্তান জঙ্গিদের মদতদাতা আশ্রয়দাতা’—এমন অভিযোগ দেশের মানুষের একাংশ পাক-বিদ্বেষ আরও উস্কে দিয়েছে! এতটাই যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সার্জিকাল স্ট্রাইক ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য জানতে চাওয়ায় শাসকদল থেকে নেটিজেন বহুজনের বিরাগভাজন হয়েছেন, তাঁর নামে যা ইচ্ছে বলা হয়েছে, হচ্ছে! আমার বন্ধু প্রাক্তন সেনানী শ্যামলও পুলওয়ামার পর দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে রীতিমতো উত্তেজিত। অথচ, মজাটা এই—শ্রীলঙ্কায় শান্তি সেনা হিসেবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা বহু যুদ্ধের সক্রিয় সৈনিক শ্যামলের চোখেও জঙ্গি-বিরোধিতা পাক-বিরোধিতায় ফারাকটা নজরে আসছিল না! বলতে কী, পুলওয়ামার পর গোটা দেশে জেগে ওঠা টগবগে আবেগময় দেশপ্রেমে তাঁর মতো সচেতন যুদ্ধনিপুণ প্রাক্তন সেনাও কাবু হয়েছিলেন এতটাই যে, জঘন্য জঙ্গি আর প্রতিবেশী দেশ তাঁর চোখেও একাকার হয়ে গিয়েছিল! তাহলে সাধারণের মনের কী দশা হয়েছে ভাবুন!
হবে না কেন? গত ১৪ ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকে কাগজে মিডিয়ায় সর্বত্র কেবল তো যুদ্ধ আর যুদ্ধ। হুমকি আর প্রতিহুমকি। এবং দেশপ্রেম, বন্যার মতো দিক ভোলানো দেশপ্রেমের আবেগ। আমার পরিচিত এক প্রবীণজনের উক্তি, তা বাপু, যুদ্ধ তো বুঝলাম কিন্তু এই ভরা ভোটবাজার ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়! রাফাল, সিবিআই, ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি, আরবিআই নোটবন্দি—কোথায় সব? গেরুয়া শিবিরকে চাপে রাখতে এসব নিয়ে কত তোলপাড় শুরু হয়েছিল! গেল কই!! আগুস্তা হেলিকপ্টার, সারদা নারদা, ওয়াধেরা—সেসবই বা কোথায়! সত্যিই তো, ভোটবাজার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলকে কুপোকাত করতে বিরোধীদের ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়! কংগ্রেস তৃণমূলের বিরুদ্ধে মোদিজির শিবির থেকে তোলা অভিযোগ—সেসবই বা কোথায়? এখনও তো যেদিকে তাকাই যুদ্ধভাব আর আবেগে আপ্লুত দেশপ্রেম। অভিনন্দন ফেরার পর খানিকটা স্তিমিত হলেও পুরনো ইস্যুরা ফিরে আসার পথ এখনও পায়নি। একটি ইস্যুই এখনও সর্বব্যাপ্ত—দেশপ্রেম। আর তার জীবন্ত বিগ্রহ অভিনন্দন। দেশ জনতা এখনও তাতে আপ্লুত অভিভূত—সেনা গৌরবে গৌরবান্বিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিতে আচ্ছন্ন। বাজেটে ঢালাও সুবিধা দিয়ে, কী অন্য কোনওভাবেও তো দেশের মানুষের মন ফেরানো যাচ্ছিল না! কিন্তু, এবার? পুলওয়ামা ও সার্জিকাল স্ট্রাইক তো বিরোধীদের সব ইস্যু শেষ করে দিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধী জোট ইস্যু খুঁজতে হয়রান হচ্ছেন! গেরুয়া শিবিরের আত্মতুষ্ট নেতানেত্রীরা এমনটা মনে করতেই পারেন। তবে কী, মানুষের মন তো! সবসময় গুনে দেখে না হয়তো, কিন্তু কম পড়লে ঠিক টের পায়। সেটাই সমস্যা। 
07th  March, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের নারায়ণগড়ে বামের ভোট রামে চলে যাওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই বিধানসভা ভোটের লিড ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের নেতারা।   ...

 নয়াদিল্লি, ২২ মে (পিটিআই): রাত পেরলেই লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা শুরু হবে। আর বৃহস্পতিবারই ঠিক হয়ে যাবে ৭২৪ জন মহিলা প্রার্থীর ভাগ্য। এবার মোট ৭২৪ জন মহিলা প্রার্থী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবার সবচেয়ে বেশি ৫৪ জন মহিলা প্রার্থী দাঁড় ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত করে নজির সৃষ্টি করল বেঙ্গল কেমিক্যাল। বুধবার সংস্থার এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে তাঁরাই প্রথম কোম্পানি, যারা বার্ষিক ...

সংবাদদাতা, হরিপাল: হরিপালের নালিকুল পূর্ব পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব গোপীনাথপুর ও সিঙ্গুর ব্লকের মধ্য হিজলার উপর প্রায় ২ কোটি টাকা খরচে কানা নদীর উপর তৈরি হচ্ছে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বিরূপ হলেও খুব একটা চিন্তার কারণ হবে না। ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৮৮ টাকা ৭০.৫৭ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৫ টাকা ৭৯.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৩৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/২৩ রাত্রি ৪/১৯। পূর্বাষাঢ়া ০/৩৯ প্রাতঃ ৫/১৩। সূ উ ৪/৫৭/৩৪, অ ৬/৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/১/৪১ শেষরাত্রি ৪/৯/৩৩। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ২/০/১৯ প্রাতঃ ৫/৪৫/১, সূ উ ৪/৫৬/৫৩, অ ৬/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৭ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৪/৩১/৫৯ গতে ৬/১১/১৭ মধ্যে, কালবেলা ২/৫২/৪১ গতে ৪/৩১/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৪/৫ গতে ১২/৫৪/৪৭ মধ্যে। 
১৭ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য 

22-05-2019 - 04:21:49 PM

১৪০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

22-05-2019 - 03:52:18 PM

ধূপগুড়ির বিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে 

22-05-2019 - 03:03:00 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে আইইডি বিস্ফোরণ, শহিদ ১ জওয়ান, জখম ৭ 

22-05-2019 - 01:31:14 PM

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ বিশ্বভারতীর উপাচার্য এবং অধ্যাপকরা 
ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে জেরে ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ...বিশদ

22-05-2019 - 01:27:28 PM

বর্ধমানের শাঁখারিপুকুর এলাকায় গাড়ি-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ, মৃত ২ 

22-05-2019 - 01:23:08 PM