Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নীতি-যুদ্ধ-রাজনীতি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

নৈতিক দৃষ্টিতে যে আচার-আচরণ এবং ব্যবহার ভুল বলে মনে হয়, সেই আচার-আচরণ এবং ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে কখনও ঠিক হতে পারে না—এই সত্যটা সকলের আগে বুঝে নেওয়া ভালো। এই সত্য ভাবগত বুদ্ধিতে যতটা সহজ, কার্যত এটা ততটাই কঠিন। আজকে সমস্ত বিশ্বে যত বড় বড় রাজনৈতিক নেতা আছেন, তাঁদের সবাইকেই আমার যেন কেমন রাজা-রাজা মনে হয়। ঠিক সেই হুংকার, সেই হম্বিতম্বি, সেই ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব, সেই উচ্চচূড় অভিযান-মঞ্চ—যেখান থেকে একটা আদেশ নেমে এলেও যেন মনে হয় তিনি বরদান করছেন, দৃষ্টিপাত-মাত্র করলেও যেন মনে হয় কৃপা করছেন, আর তিনি যদি আমার সঙ্গে একবার কথা বলেন তো সেটা যেন মনে আমার অপ্রাপ্য সম্পত্তির প্রায় সবটাই আমাকে দিয়ে দিলেন।
বস্তুত এইরকম বিশ্বমানের নেতাদের ক্রোধ হয়, তখন সেই ক্রোধ যদি নৈতিক দিক থেকে ভুল হয় তাহলে সেটাকে রাজনীতির আচ্ছন্নতায় যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধ-পরিস্থিতির দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়াটা কিন্তু রাজনৈতিক ভুল বলেই গণ্য হবে। এমনকী এখানে দেশাত্মবোধের আবেশ তৈরি করাটাও অস্থানে প্রযুক্ত এক ব্যাপ্ত হৃদয়াবেগ, যা রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে গণ্য হতে পারে—পুরাকালে আমাদের প্রাচীন রাজারা, বিশেষত ক্ষত্রিয় জাতিটাই তৈরি হয়েছিল এই মানসিকতায়, যেখানে রাজ্যরক্ষা, প্রজাপালনের মতো উদার ক্ষত্রিয়বৃত্তি অতিক্রান্ত হতো আগ্রাসনের প্রয়োজনে। শৈশবকাল থেকে ক্ষত্রিয়ের পরম পুরুষার্থ ছিল এটাই যে, সে রাষ্ট্রের জন্য বলিপ্রদত্ত, যুদ্ধে যদি তাঁর মৃত্যু হয় তবে স্বর্গের দ্বার সামনে আপনিই খুলে যাবে—স্বর্গদ্বারম্‌ অপাবৃতম্‌। রাষ্ট্রের জন্য একটা যুদ্ধ সামনে এসে জুটেছে মানে তার চেয়ে বড় সুখ আর হতে পারে না—সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লক্ষন্তে যুদ্ধমাদৃশম্‌।
শেষোক্ত কথাটা ভগবদ্‌গীতায় কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, যদিও এটা জানি যে, ভাই-বেরাদরদের দেখে অর্জুন যেভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাতে অর্জুনকে প্রথমে চাঙ্গা করে তোলাটাই প্রথম প্রয়োজন ছিল কৃষ্ণের, নইলে যুদ্ধে নিয়োগ করে একটা militancy তৈরি করাটা ভগবদ্‌গীতার ভাবনা নয়। যাঁরা সেটা বলেন, তাঁরা ভগবদ্‌গীতা কিছু বোঝেনই না। কিন্তু আমরা কথাটা তুলেছিলাম অন্য কারণে এবং সেটা হল—আমাদের দেশে যেহেতু জাতিবিভাগ একটা বড় ব্যাপার সেখানে ক্ষত্রিয় জাতিটাকে তৈরি করা হয়েছিল militancy ভাবনা দিয়ে। ফলত, যুদ্ধ করার জন্য ক্ষত্রিয়ের বীরমানিতাকে পুষ্ট করা হতো রাজ্যরক্ষা প্রজাপালন এবং নতুন ভূমিখণ্ড যুক্ত করার মন্ত্রে। আমরা এটাকেই এখনকার যুদ্ধ-কামনার অনুকূলে দেশাত্মবোধ তথা জাতীয়তাবাদের ‘অ্যান্‌঩টিসিডেন্ট’ বলি।
মহাভারতের কালে একটা রাজনৈতিক সমাজবোধ তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে যুদ্ধ পরিহার করার চেষ্টাটা তুঙ্গে গিয়ে পৌঁছেছিল। কুরুক্ষেত্রে একটা বিরাট যুদ্ধ হয়েছিল বটে, কিন্তু সে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মহাবীর কৌরবদের বিপ্রতীপে মহাবীর পাণ্ডবদের প্রতিবাদ ছিল শৈশবকাল থেকে প্রায় প্রৌঢ় বয়স পর্যন্ত তাঁদের সহ্য করার ক্ষমতার মধ্যে। উদ্যোগ পর্বে যুদ্ধ না করার চেষ্টা আর ফলবতী হয়নি। কৌরব পক্ষের প্ররোচনা এবং war-mongering এতটাই চরমে ওঠে যে, যুদ্ধটা তখন ধর্মযুদ্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনা এইরকম দাঁড়ায় যে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র পর্যন্ত বারবার তখন বলতে থাকেন যে যুদ্ধ করে কোনও লাভ নেই, কেননা যুদ্ধে যেহেতু স্বপক্ষ এবং পরপক্ষ দুই পক্ষেরই অনন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাই যুদ্ধে জয় এবং পরাজয় দুইই সমান।
কিন্তু, ধৃতরাষ্ট্র এত জ্ঞানের কথা জানালেও তিনি কিন্তু পাণ্ডবদের প্রাপ্য রাজ্যাংশ ফিরিয়ে দেওয়ার নামও করেননি। অর্থাৎ তিনি প্রবঞ্চনা করেই যাবেন আর যুদ্ধবাজ দুর্যোধনকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধের ব্যাপারে ‘না’ বলছেন—এই প্রবঞ্চনাটাও যখন পরিষ্কার হয়ে গেল তখন কিন্তু যুধিষ্ঠিরের মতো ধর্মবুদ্ধি মানুষও সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। বস্তুত এটাও একপ্রকার প্ররোচনা, যেখানে প্রতিপক্ষের কাছে প্রত্যাঘাত করাটা ভয়ংকরভাবে সত্য হয়ে ওঠে। কৌরব দুর্যোধন যেখানে যুদ্ধ ছাড়া কিছুই বুঝতে চাইছেন না, সেখানে যুধিষ্ঠিরের শান্তিচেষ্টাগুলিকেও তিনি দুর্বলতা বলে ব্যাখ্যা করছেন। বস্তুত দুর্যোধনের এই নীতিহীন যুদ্ধকামিতাই কিন্তু সেকালের ক্ষত্রিয়-জাতির মানস তৈরি করেছিল এবং সেই নীতিহীনতাকেই যখন কৌরব দুর্যোধন স্বঘোষিত ক্ষত্রিয়-জাতি গর্বকে দেশগর্বে পরিণত করে ধৃতরাষ্ট্রকে বলেন—বর্তমান সমস্ত পৃথিবী আমাদের হাতে—অসম্মৎ সংস্থা চ পৃথিবী—যত সব রাজারা সব আমার জন্য এসেছেন, তাঁরা সব আমার সুখেই সুখী, আমার দুঃখেই দুঃখী। আমার জন্য তাঁরা আগুনে ঝাঁপ দিতে পারেন, সমুদ্রেও প্রবেশ করতে পারেন।
এই যে দুর্যোধন সমস্ত ক্ষত্রিয় রাজাদের মধ্যে যুদ্ধের উন্মাদনা তৈরি করেছেন, ক্ষত্রিয়ের গৌরব এবং রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের যে প্রবৃত্তি তিনি তৈরি করেছেন—এইখানেই রাজনীতি ধর্ম এবং নৈতিকতাকে আক্রান্ত করে। উল্টো দিকটায় দেখুন, কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে বলেছিলেন—ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির অধর্মভাবে দেবতাদের সমৃদ্ধ রাজ্যও আকাঙ্ক্ষা করেন না, নৈতিকতার প্রয়োজনে একটা গ্রামে থেকেও তিনি গ্রাম শাসনের দায়িত্ব নেবেন, তাও ঠিক আছে—‘অধর্ম যুক্তং ন চ কাময়েত রাজ্যং সুরান নপি ধর্মরাজঃ’। সত্যি বলতে কী, যুদ্ধ যাতে না লাগে সেজন্য যুধিষ্ঠির সন্ধির শর্ত কমিয়ে এনে নিজের পৈতৃক রাজ্য এবং তাঁর পূর্ব রাজত্ব ইন্দ্রপ্রস্থের অধিকার পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে পাঁচখানি গ্রামমাত্র চেয়েছিলেন দুর্ধোধনের কাছে। দুর্যোধন সেটা তো দেনইনি, বরঞ্চ তাঁর প্রাপ্য দাবি কমিয়ে আনার ঘটনাকে, অথবা যুদ্ধ পরিহার করার শান্তি প্রবৃত্তিকে দুর্যোধন পরিহাস করে বলেছেন—যুধিষ্ঠির কেমন ভয় পেয়েছে দেখেছ? আমি এবং আমার সৈন্যবাহিনী দেখে এতটাই ভয় পেয়েছে ব্যাটা, যে, এখন আর তার পূর্ব রাজ্য ইন্দ্রপ্রস্থ-পুরীর দাবি থেকে সরে এসে পাঁচখানি গ্রাম ভিক্ষা চাইছে—
যুধিষ্ঠিরঃ পুরং হিত্বা পঞ্চ গ্রামান্‌ চ যাচতে।/ ভীত হি মামকাৎ সৈন্যাৎ প্রভাবাচ্চৈব মে বিভো।।
আপন ক্ষমতার বলে বলীয়ান অহংকারী দুর্যোধনের মতো মানুষ যুদ্ধ-বিরোধী শান্তিকামী যুধিষ্ঠিরের মতো মানুষকে দুর্বল এবং ভীতু ভাবতে থাকেন। অথচ দুর্যোধনের এই ভাবনাটা জানা সত্ত্বেও যুধিষ্ঠির কিন্তু কিছুতেই দুর্যোধনের মতো যুদ্ধবাজ হয়ে উঠতে পারেননি। বিশেষত, রাজ্যভ্রষ্ট অবস্থায় নীতিপ্রবৃত্ত রাজনীতিকে দেশাত্মবোধে পরিণত করার সুযোগই তাঁর ছিল না। অন্যদিকে, যুদ্ধ জয় করার পরেও স্বজন-নিধনের ফলে যেহেতু প্রকৃত জয় সম্পন্ন হয় না, তাই যুদ্ধ ব্যাপারটাকেই যুধিষ্ঠির আমিষখণ্ড লাভের জন্য দুই পক্ষের কুকুর-লড়াই বলে মনে করেন যুধিষ্ঠির।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন শেষ হয়ে গিয়েছে, যুধিষ্ঠির শত শত যুবকের জননীদের হাহাকার শুনেছেন এবং তাঁর সম্পূর্ণ ধিক্কার তৈরি হয়েছে ক্ষত্রিয় আচারের উপর—যাঁরা অকারণে যুদ্ধের আগ্রহ এবং আড়ম্বর তৈরি করেন। যুধিষ্ঠির বলেছেন—এই যুদ্ধ করে আমাদের কোনও অভিলাষ পূর্ণ হয়নি—আমি অভিমন্যুর মায়ের সামনে দাঁড়ার কী করে? আমি দ্রৌপদীর সামনে মুখ দেখাব কী করে? পাঞ্চালরা সব কোথায় গিয়েছেন? আমার অভিলাষ তাই পূর্ণ হয়নি স্বজন-বিহনে। আবার দুর্যোধনের অভিলাষও পূর্ণ হয়নি এতটুকুও—কাজেই এই যুদ্ধে আমরাও জয়ী হইনি, দুর্যোধনও জয়ী হননি—ন সাকামা বয়ং তে চ ন চাস্মাভির্ন তৈর্জিতম্‌। যুধিষ্ঠির মনের দুঃখে অর্জুনকে বলেছেন—এর থেকে আমি যদি দ্বারকায় গিয়ে ভিক্ষে করতাম, তাহলে এই জ্ঞাতিবধ আমাকে দেখতে হতো না। কৌরবদের কোনও প্রয়োজন তো মিটলই না মাঝখান দিয়ে আমরা নিজেরাই হত্যা করলাম বা করালাম। এটা কী ধর্ম হল, না নীতি হল—আত্মানমাত্মানা হত্বা কিং ধর্ম ফলমাপ্নুমঃ।
যুধিষ্ঠির কিন্তু এটাই বলতে চাইছেন যে নৈতিক দৃষ্টিতে যেটা ভুল সেটা কখনও রাজনৈতিকভাবে সঠিক হতে পারে না এবং এই রাজনৈতিক ভুলের জন্য তিনি একমাত্র দায়ী করছেন ক্ষত্রিয় আচারকে, ক্ষত্রিয়ের যুদ্ধ-বিষয়ক মানসিকতাকে। বলছেন—ধিক্কার দিই আমাদের এই ক্ষত্রিয় আচারকে, ধিক্কার দিই আমাদের বল এবং পৌরুষকে, ধিক্কার দিই সেই সমুদ্যত ক্রোধকে—যাতে আজ আমরা এক ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছি—ধিগস্তু ক্ষাত্রমাচারং ধিগস্তু বল-পৌরুষম্‌।
ক্ষত্রিয় আচারের দোষটা কেন? এইজন্য যে ক্ষত্রিয়ের বলাব্ধতাই যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্ষত্রিয়ের এই মহিমান্বিত গৌরবই কিন্তু বহুল মানুষকে এক আত্মা- রোপিত দেশাত্মবোধে প্রণোদিত করে। দুর্যোধন শান্তির বার্তা বয়ে-আনা অলৌকিক বুদ্ধিসম্পন্ন কৃষ্ণকেই কথা শুনিয়ে বলেছিলেন—কারও নরম-গরম কোনও কথা বা কোনও কাজে আমরা ভয় পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছেও মাথা নোয়াতে পারি না। আর কৃষ্ণ! তোমার তো ক্ষত্রিয়ধর্ম বলে কিছু নেই। আমরা আমাদের স্বধর্ম ক্ষত্রিয়ধর্ম অনুসারে চলি। তাতে যদি অকালে মরেও যাই তাহলে স্বর্গের পথ খোলা। আমরা শত্রুর কাছে অবনত হই না, যুদ্ধে মরলে আমরা যে বীরশয্যা লাভ করি বাণ-বিছানো ভূমিতে—যজ্জয়ীমহি সংগ্রামে শরতল্পগতা বয়ম্‌।
ক্ষত্রিয়বৃত্তির মধ্যে এই যে ‘মিলিটারিজম’-এর প্রচার, যেটা দেশগর্বের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে দুর্যোধন বলেন—এই যে এত শত মহাবীরেরা, এঁরা আমার জন্য জীবন দিয়েই রেখেছেন—অন্যেচ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ—এইসব জীবন-পণ করা ক্ষত্রিয় বীরদের কথা শুনলেই মনে হবে যেন এঁদের মতো মহান কেউ হতে পারে না, শত্রুবধের জন্য এঁরা প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে এঁদের এই বলোদ্দৃপ্ত প্রচারই রাজাদের অহংকারী করে তুলত—যে অহংকারের কথা শুনলে মনে হবে যেন রাজ্যরক্ষার মতো মহদ্‌ বিষয়, প্রজাকল্যাণের মতো বিরাট কিছু সম্পন্ন করার জন্যই তাঁদের এই অহংকার এবং বলখ্যাপন। কিন্তু মহদাশয়তার জন্য হলেও এই বস্তুটা যেহেতু বলখ্যাপন এবং অহংকার, অতএব সেটা কখনওই নৈতিকতা এবং ধর্মের উপাদান হয়ে ওঠে না। হয়তো এই কারণেই মহাভারতে ব্রহ্মদত্ত-পূজনী সংবাদে পক্ষিণী পূজনী বলেছিল—সমস্ত মানুষের অপকারী ক্ষত্রিয়দের কখনও বিশ্বাস কোরো না—কেননা এরা সবসময় অপকার করেও ঠান্ডা মাথায় অনর্থক মধুর কথা বলে প্রলেপ দেবার চেষ্টা করে—আমাদের ভাষায় এটাই অনৈতিকতার ওপর রাজনৈতিক প্রলেপ—
ক্ষত্রিয়েষু ন বিশ্বাসঃ কার্য্যঃ সর্বাপকারিষু।/ অপকৃত্যাপি সততং সান্ত্বয়ন্তি নিরর্থকম্‌।।
ছবি: সংশ্লিষ্ট সংস্থার সৌজন্যে
05th  March, 2019
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে।  বিশদ

16th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

15th  March, 2019
অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
একনজরে
সেভিয়া, ১৮ মার্চ: দুই দলের শেষ সাক্ষাৎকারে জোড়া গোল করেও বার্সেলোনার হার বাঁচাতে পারেননি লায়োনেল মেসি। রবিবার যেন তারই মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সংকল্প বুকে নিয়ে ...

নয়াদিল্লি, ১৮ মার্চ (পিটিআই): লোকসভার প্রথম পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া শুরু হল সোমবার। হায়দরাবাদ লোকসভা কেন্দ্র থেকে এদিনই মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন এআইএমআইএম সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। প্রথম পর্বে ভোটগ্রহণ হবে ১১ এপ্রিল। ...

মৃণালকান্তি দাস: শুক্রবার রাত মানেই তো আনন্দের রাত। এই রাতে নিউজিল্যান্ডের কোনও শহর এমনিতেই ঘুমায় না। আর এই শুক্রবারটা তো ছিল ১৭ মার্চ। সেন্ট পিটার্স ...

সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: প্রায় সব কাজেই এখন নারী-পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ প্রায় মুছে গিয়েছে। তা কাজকর্মই হোক কিংবা খেলাধুলো। সবেতেই পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে পা মেলাচ্ছেন মহিলারা। তবে চাকরি পেতে বেশ মরিয়া তাঁরা। তাই দেশের মধ্যে কেন্দ্রীয় চাকরির পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের ক্ষেত্রে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে বাধার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। উচ্চতর বিদ্যার ক্ষেত্রে শুভ ফল পাবে। কর্মপ্রার্থীদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৭- প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের জন্ম
১৯০১- সাহিত্যিক ও পরিচালক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৩৯- প্রাক্তন ইংরেজ ফুটবলার রন অ্যাটকিনসনের জন্ম
১৯৭৪- কবি বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যু 

18th  March, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯০ টাকা ৬৯.৫৯ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬৩ টাকা ৯২.৯০ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৯ টাকা ৭৯.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,২৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৬৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,১০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ চৈত্র ১৪২৫, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ২১/২১ দিবা ২/১৯। মঘা ৩৩/১৬ রাত্রি ৭/৫। সূ উ ৫/৪৬/৭, অ ৫/৪৩/২১, অমৃতযোগ দিবা ৮/৯ গতে ১০/৩৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৬ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩১ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৪৫ গতে ৩/২১ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৬ গতে ৮/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/১৪ গতে ২/৪৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১৩ গতে ৮/৪৩ মধ্যে। 
৪ চৈত্র ১৪২৫, ১৯ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ১২/২/২২। মঘানক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/২২/১৬, সূ উ ৫/৪৬/৩৩, অ ৫/৪২/২৫, অমৃতযোগ দিবা ৮/৯/৪৩ থেকে ১০/৩২/৫৫ মধ্যে ও ১২/৫৬/৪ থেকে ২/৩১/৩১ মধ্যে ও ৩/১৯/১৪ থেকে ৪/৫৪/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩০/৪২ মধ্যে ও ৮/৫৫/৩১ থেকে ১১/২০/২১ মধ্যে ও ১/৪৫/১১ থেকে ৩/২১/৪৬ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৬/২ থেকে ৮/৪৫/৩১ মধ্যে, কালবেলা ১/১৩/৫৮ থেকে ২/৪৩/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১২/৫৬ থেকে ৮/৪৩/২৭ মধ্যে। 
মোসলেম: ১১ রজব 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় আইইডি বিস্ফোরণ, জখম ৫ সিআরপিএফ জওয়ান 

18-03-2019 - 06:48:58 PM

কলকাতা বিমানবন্দরে ২ জন রোহিঙ্গা সহ গ্রেপ্তার ৩ 

18-03-2019 - 06:24:00 PM

অনুব্রতর মন্তব্য নিয়ে রিপোর্ট তলব কমিশনের  
অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্য নিয়ে বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোধারা বসুর কাছে ...বিশদ

18-03-2019 - 05:35:12 PM

সল্টলেকে গাড়ির ধাক্কায় জখম এক সাইকেল আরোহী  

18-03-2019 - 05:00:00 PM

নেদারল্যান্ডসের উৎরেষ্ট শহরে বন্দুকবাজের হামলা, হত ১, জখম বেশ কয়েকজন

18-03-2019 - 04:11:00 PM

৭১ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

18-03-2019 - 03:54:21 PM