Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নীতি-যুদ্ধ-রাজনীতি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

নৈতিক দৃষ্টিতে যে আচার-আচরণ এবং ব্যবহার ভুল বলে মনে হয়, সেই আচার-আচরণ এবং ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে কখনও ঠিক হতে পারে না—এই সত্যটা সকলের আগে বুঝে নেওয়া ভালো। এই সত্য ভাবগত বুদ্ধিতে যতটা সহজ, কার্যত এটা ততটাই কঠিন। আজকে সমস্ত বিশ্বে যত বড় বড় রাজনৈতিক নেতা আছেন, তাঁদের সবাইকেই আমার যেন কেমন রাজা-রাজা মনে হয়। ঠিক সেই হুংকার, সেই হম্বিতম্বি, সেই ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব, সেই উচ্চচূড় অভিযান-মঞ্চ—যেখান থেকে একটা আদেশ নেমে এলেও যেন মনে হয় তিনি বরদান করছেন, দৃষ্টিপাত-মাত্র করলেও যেন মনে হয় কৃপা করছেন, আর তিনি যদি আমার সঙ্গে একবার কথা বলেন তো সেটা যেন মনে আমার অপ্রাপ্য সম্পত্তির প্রায় সবটাই আমাকে দিয়ে দিলেন।
বস্তুত এইরকম বিশ্বমানের নেতাদের ক্রোধ হয়, তখন সেই ক্রোধ যদি নৈতিক দিক থেকে ভুল হয় তাহলে সেটাকে রাজনীতির আচ্ছন্নতায় যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধ-পরিস্থিতির দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়াটা কিন্তু রাজনৈতিক ভুল বলেই গণ্য হবে। এমনকী এখানে দেশাত্মবোধের আবেশ তৈরি করাটাও অস্থানে প্রযুক্ত এক ব্যাপ্ত হৃদয়াবেগ, যা রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে গণ্য হতে পারে—পুরাকালে আমাদের প্রাচীন রাজারা, বিশেষত ক্ষত্রিয় জাতিটাই তৈরি হয়েছিল এই মানসিকতায়, যেখানে রাজ্যরক্ষা, প্রজাপালনের মতো উদার ক্ষত্রিয়বৃত্তি অতিক্রান্ত হতো আগ্রাসনের প্রয়োজনে। শৈশবকাল থেকে ক্ষত্রিয়ের পরম পুরুষার্থ ছিল এটাই যে, সে রাষ্ট্রের জন্য বলিপ্রদত্ত, যুদ্ধে যদি তাঁর মৃত্যু হয় তবে স্বর্গের দ্বার সামনে আপনিই খুলে যাবে—স্বর্গদ্বারম্‌ অপাবৃতম্‌। রাষ্ট্রের জন্য একটা যুদ্ধ সামনে এসে জুটেছে মানে তার চেয়ে বড় সুখ আর হতে পারে না—সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লক্ষন্তে যুদ্ধমাদৃশম্‌।
শেষোক্ত কথাটা ভগবদ্‌গীতায় কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, যদিও এটা জানি যে, ভাই-বেরাদরদের দেখে অর্জুন যেভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তাতে অর্জুনকে প্রথমে চাঙ্গা করে তোলাটাই প্রথম প্রয়োজন ছিল কৃষ্ণের, নইলে যুদ্ধে নিয়োগ করে একটা militancy তৈরি করাটা ভগবদ্‌গীতার ভাবনা নয়। যাঁরা সেটা বলেন, তাঁরা ভগবদ্‌গীতা কিছু বোঝেনই না। কিন্তু আমরা কথাটা তুলেছিলাম অন্য কারণে এবং সেটা হল—আমাদের দেশে যেহেতু জাতিবিভাগ একটা বড় ব্যাপার সেখানে ক্ষত্রিয় জাতিটাকে তৈরি করা হয়েছিল militancy ভাবনা দিয়ে। ফলত, যুদ্ধ করার জন্য ক্ষত্রিয়ের বীরমানিতাকে পুষ্ট করা হতো রাজ্যরক্ষা প্রজাপালন এবং নতুন ভূমিখণ্ড যুক্ত করার মন্ত্রে। আমরা এটাকেই এখনকার যুদ্ধ-কামনার অনুকূলে দেশাত্মবোধ তথা জাতীয়তাবাদের ‘অ্যান্‌঩টিসিডেন্ট’ বলি।
মহাভারতের কালে একটা রাজনৈতিক সমাজবোধ তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে যুদ্ধ পরিহার করার চেষ্টাটা তুঙ্গে গিয়ে পৌঁছেছিল। কুরুক্ষেত্রে একটা বিরাট যুদ্ধ হয়েছিল বটে, কিন্তু সে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মহাবীর কৌরবদের বিপ্রতীপে মহাবীর পাণ্ডবদের প্রতিবাদ ছিল শৈশবকাল থেকে প্রায় প্রৌঢ় বয়স পর্যন্ত তাঁদের সহ্য করার ক্ষমতার মধ্যে। উদ্যোগ পর্বে যুদ্ধ না করার চেষ্টা আর ফলবতী হয়নি। কৌরব পক্ষের প্ররোচনা এবং war-mongering এতটাই চরমে ওঠে যে, যুদ্ধটা তখন ধর্মযুদ্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনা এইরকম দাঁড়ায় যে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র পর্যন্ত বারবার তখন বলতে থাকেন যে যুদ্ধ করে কোনও লাভ নেই, কেননা যুদ্ধে যেহেতু স্বপক্ষ এবং পরপক্ষ দুই পক্ষেরই অনন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাই যুদ্ধে জয় এবং পরাজয় দুইই সমান।
কিন্তু, ধৃতরাষ্ট্র এত জ্ঞানের কথা জানালেও তিনি কিন্তু পাণ্ডবদের প্রাপ্য রাজ্যাংশ ফিরিয়ে দেওয়ার নামও করেননি। অর্থাৎ তিনি প্রবঞ্চনা করেই যাবেন আর যুদ্ধবাজ দুর্যোধনকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধের ব্যাপারে ‘না’ বলছেন—এই প্রবঞ্চনাটাও যখন পরিষ্কার হয়ে গেল তখন কিন্তু যুধিষ্ঠিরের মতো ধর্মবুদ্ধি মানুষও সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। বস্তুত এটাও একপ্রকার প্ররোচনা, যেখানে প্রতিপক্ষের কাছে প্রত্যাঘাত করাটা ভয়ংকরভাবে সত্য হয়ে ওঠে। কৌরব দুর্যোধন যেখানে যুদ্ধ ছাড়া কিছুই বুঝতে চাইছেন না, সেখানে যুধিষ্ঠিরের শান্তিচেষ্টাগুলিকেও তিনি দুর্বলতা বলে ব্যাখ্যা করছেন। বস্তুত দুর্যোধনের এই নীতিহীন যুদ্ধকামিতাই কিন্তু সেকালের ক্ষত্রিয়-জাতির মানস তৈরি করেছিল এবং সেই নীতিহীনতাকেই যখন কৌরব দুর্যোধন স্বঘোষিত ক্ষত্রিয়-জাতি গর্বকে দেশগর্বে পরিণত করে ধৃতরাষ্ট্রকে বলেন—বর্তমান সমস্ত পৃথিবী আমাদের হাতে—অসম্মৎ সংস্থা চ পৃথিবী—যত সব রাজারা সব আমার জন্য এসেছেন, তাঁরা সব আমার সুখেই সুখী, আমার দুঃখেই দুঃখী। আমার জন্য তাঁরা আগুনে ঝাঁপ দিতে পারেন, সমুদ্রেও প্রবেশ করতে পারেন।
এই যে দুর্যোধন সমস্ত ক্ষত্রিয় রাজাদের মধ্যে যুদ্ধের উন্মাদনা তৈরি করেছেন, ক্ষত্রিয়ের গৌরব এবং রাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের যে প্রবৃত্তি তিনি তৈরি করেছেন—এইখানেই রাজনীতি ধর্ম এবং নৈতিকতাকে আক্রান্ত করে। উল্টো দিকটায় দেখুন, কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে বলেছিলেন—ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির অধর্মভাবে দেবতাদের সমৃদ্ধ রাজ্যও আকাঙ্ক্ষা করেন না, নৈতিকতার প্রয়োজনে একটা গ্রামে থেকেও তিনি গ্রাম শাসনের দায়িত্ব নেবেন, তাও ঠিক আছে—‘অধর্ম যুক্তং ন চ কাময়েত রাজ্যং সুরান নপি ধর্মরাজঃ’। সত্যি বলতে কী, যুদ্ধ যাতে না লাগে সেজন্য যুধিষ্ঠির সন্ধির শর্ত কমিয়ে এনে নিজের পৈতৃক রাজ্য এবং তাঁর পূর্ব রাজত্ব ইন্দ্রপ্রস্থের অধিকার পর্যন্ত ছেড়ে দিয়ে পাঁচখানি গ্রামমাত্র চেয়েছিলেন দুর্ধোধনের কাছে। দুর্যোধন সেটা তো দেনইনি, বরঞ্চ তাঁর প্রাপ্য দাবি কমিয়ে আনার ঘটনাকে, অথবা যুদ্ধ পরিহার করার শান্তি প্রবৃত্তিকে দুর্যোধন পরিহাস করে বলেছেন—যুধিষ্ঠির কেমন ভয় পেয়েছে দেখেছ? আমি এবং আমার সৈন্যবাহিনী দেখে এতটাই ভয় পেয়েছে ব্যাটা, যে, এখন আর তার পূর্ব রাজ্য ইন্দ্রপ্রস্থ-পুরীর দাবি থেকে সরে এসে পাঁচখানি গ্রাম ভিক্ষা চাইছে—
যুধিষ্ঠিরঃ পুরং হিত্বা পঞ্চ গ্রামান্‌ চ যাচতে।/ ভীত হি মামকাৎ সৈন্যাৎ প্রভাবাচ্চৈব মে বিভো।।
আপন ক্ষমতার বলে বলীয়ান অহংকারী দুর্যোধনের মতো মানুষ যুদ্ধ-বিরোধী শান্তিকামী যুধিষ্ঠিরের মতো মানুষকে দুর্বল এবং ভীতু ভাবতে থাকেন। অথচ দুর্যোধনের এই ভাবনাটা জানা সত্ত্বেও যুধিষ্ঠির কিন্তু কিছুতেই দুর্যোধনের মতো যুদ্ধবাজ হয়ে উঠতে পারেননি। বিশেষত, রাজ্যভ্রষ্ট অবস্থায় নীতিপ্রবৃত্ত রাজনীতিকে দেশাত্মবোধে পরিণত করার সুযোগই তাঁর ছিল না। অন্যদিকে, যুদ্ধ জয় করার পরেও স্বজন-নিধনের ফলে যেহেতু প্রকৃত জয় সম্পন্ন হয় না, তাই যুদ্ধ ব্যাপারটাকেই যুধিষ্ঠির আমিষখণ্ড লাভের জন্য দুই পক্ষের কুকুর-লড়াই বলে মনে করেন যুধিষ্ঠির।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যখন শেষ হয়ে গিয়েছে, যুধিষ্ঠির শত শত যুবকের জননীদের হাহাকার শুনেছেন এবং তাঁর সম্পূর্ণ ধিক্কার তৈরি হয়েছে ক্ষত্রিয় আচারের উপর—যাঁরা অকারণে যুদ্ধের আগ্রহ এবং আড়ম্বর তৈরি করেন। যুধিষ্ঠির বলেছেন—এই যুদ্ধ করে আমাদের কোনও অভিলাষ পূর্ণ হয়নি—আমি অভিমন্যুর মায়ের সামনে দাঁড়ার কী করে? আমি দ্রৌপদীর সামনে মুখ দেখাব কী করে? পাঞ্চালরা সব কোথায় গিয়েছেন? আমার অভিলাষ তাই পূর্ণ হয়নি স্বজন-বিহনে। আবার দুর্যোধনের অভিলাষও পূর্ণ হয়নি এতটুকুও—কাজেই এই যুদ্ধে আমরাও জয়ী হইনি, দুর্যোধনও জয়ী হননি—ন সাকামা বয়ং তে চ ন চাস্মাভির্ন তৈর্জিতম্‌। যুধিষ্ঠির মনের দুঃখে অর্জুনকে বলেছেন—এর থেকে আমি যদি দ্বারকায় গিয়ে ভিক্ষে করতাম, তাহলে এই জ্ঞাতিবধ আমাকে দেখতে হতো না। কৌরবদের কোনও প্রয়োজন তো মিটলই না মাঝখান দিয়ে আমরা নিজেরাই হত্যা করলাম বা করালাম। এটা কী ধর্ম হল, না নীতি হল—আত্মানমাত্মানা হত্বা কিং ধর্ম ফলমাপ্নুমঃ।
যুধিষ্ঠির কিন্তু এটাই বলতে চাইছেন যে নৈতিক দৃষ্টিতে যেটা ভুল সেটা কখনও রাজনৈতিকভাবে সঠিক হতে পারে না এবং এই রাজনৈতিক ভুলের জন্য তিনি একমাত্র দায়ী করছেন ক্ষত্রিয় আচারকে, ক্ষত্রিয়ের যুদ্ধ-বিষয়ক মানসিকতাকে। বলছেন—ধিক্কার দিই আমাদের এই ক্ষত্রিয় আচারকে, ধিক্কার দিই আমাদের বল এবং পৌরুষকে, ধিক্কার দিই সেই সমুদ্যত ক্রোধকে—যাতে আজ আমরা এক ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছি—ধিগস্তু ক্ষাত্রমাচারং ধিগস্তু বল-পৌরুষম্‌।
ক্ষত্রিয় আচারের দোষটা কেন? এইজন্য যে ক্ষত্রিয়ের বলাব্ধতাই যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্ষত্রিয়ের এই মহিমান্বিত গৌরবই কিন্তু বহুল মানুষকে এক আত্মা- রোপিত দেশাত্মবোধে প্রণোদিত করে। দুর্যোধন শান্তির বার্তা বয়ে-আনা অলৌকিক বুদ্ধিসম্পন্ন কৃষ্ণকেই কথা শুনিয়ে বলেছিলেন—কারও নরম-গরম কোনও কথা বা কোনও কাজে আমরা ভয় পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছেও মাথা নোয়াতে পারি না। আর কৃষ্ণ! তোমার তো ক্ষত্রিয়ধর্ম বলে কিছু নেই। আমরা আমাদের স্বধর্ম ক্ষত্রিয়ধর্ম অনুসারে চলি। তাতে যদি অকালে মরেও যাই তাহলে স্বর্গের পথ খোলা। আমরা শত্রুর কাছে অবনত হই না, যুদ্ধে মরলে আমরা যে বীরশয্যা লাভ করি বাণ-বিছানো ভূমিতে—যজ্জয়ীমহি সংগ্রামে শরতল্পগতা বয়ম্‌।
ক্ষত্রিয়বৃত্তির মধ্যে এই যে ‘মিলিটারিজম’-এর প্রচার, যেটা দেশগর্বের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে দুর্যোধন বলেন—এই যে এত শত মহাবীরেরা, এঁরা আমার জন্য জীবন দিয়েই রেখেছেন—অন্যেচ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ—এইসব জীবন-পণ করা ক্ষত্রিয় বীরদের কথা শুনলেই মনে হবে যেন এঁদের মতো মহান কেউ হতে পারে না, শত্রুবধের জন্য এঁরা প্রাণ পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে এঁদের এই বলোদ্দৃপ্ত প্রচারই রাজাদের অহংকারী করে তুলত—যে অহংকারের কথা শুনলে মনে হবে যেন রাজ্যরক্ষার মতো মহদ্‌ বিষয়, প্রজাকল্যাণের মতো বিরাট কিছু সম্পন্ন করার জন্যই তাঁদের এই অহংকার এবং বলখ্যাপন। কিন্তু মহদাশয়তার জন্য হলেও এই বস্তুটা যেহেতু বলখ্যাপন এবং অহংকার, অতএব সেটা কখনওই নৈতিকতা এবং ধর্মের উপাদান হয়ে ওঠে না। হয়তো এই কারণেই মহাভারতে ব্রহ্মদত্ত-পূজনী সংবাদে পক্ষিণী পূজনী বলেছিল—সমস্ত মানুষের অপকারী ক্ষত্রিয়দের কখনও বিশ্বাস কোরো না—কেননা এরা সবসময় অপকার করেও ঠান্ডা মাথায় অনর্থক মধুর কথা বলে প্রলেপ দেবার চেষ্টা করে—আমাদের ভাষায় এটাই অনৈতিকতার ওপর রাজনৈতিক প্রলেপ—
ক্ষত্রিয়েষু ন বিশ্বাসঃ কার্য্যঃ সর্বাপকারিষু।/ অপকৃত্যাপি সততং সান্ত্বয়ন্তি নিরর্থকম্‌।।
ছবি: সংশ্লিষ্ট সংস্থার সৌজন্যে
05th  March, 2019
অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
সবার উপরে ভোট সত্য
হারাধন চৌধুরী 

সিকি শতক আগের কথা। কর্মসূত্রে মেদিনীপুর শহরে থাকি। গ্রীষ্মের সকাল। ভোটের দিন। ভোটের খবর নিতে বেরনোর আগে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেব। পঞ্চুরচকে চায়ের দোকানে এসেছি। এক ফেরিওয়ালার সঙ্গে দেখা।  
বিশদ

14th  May, 2019
অর্থনীতি ‘ডেঞ্জার জোন’-এ প্রবেশ করেছে
পি চিদম্বরম

 ২০১৪-র নির্বাচনে পাল্লা দিতে নেমে নরেন্দ্র মোদি অর্থনীতি বিষয়ে একটি হঠকারী মন্তব্য করে বসেছিলেন। প্রতিক্রিয়ায় আমি বলেছিলাম, ‘‘মোদিজির অর্থনৈতিক জ্ঞানটা একটি ডাক টিকিটের পিছনেই লিখে ফেলা যেতে পারে।’’ আমার মন্তব্যটি নির্দোষ ছিল, কিন্তু আমার বিশ্বাস, ওই মন্তব্যের কারণে মোদিজি আমাকে ক্ষমা করেননি!
বিশদ

13th  May, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবছর মাধ্যমিকের প্রথম দশে জায়গা করে নিল ৫১ জন পরীক্ষার্থী। ৬৯৪ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের সৌগত ...

 নয়াদিল্লি, ২১ মে (পিটিআই): নির্বাচনী প্রচারে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে একাধিকবার টেনে এনে কংগ্রেসকে নিশানা করেছিলেন। কখনও বফর্স কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে রাজীব গান্ধীকে ‘ভ্রষ্টাচারী নম্বর ...

বাংলা নিউজ এজেন্সি: মাধ্যমিকে সম্ভাব্য মেধা তালিকায় পূর্ব বর্ধমান জেলার চারজন এবং পশ্চিম বর্ধমানের এক পড়ুয়া জায়গা করে নিল। বর্ধমান বিদ্যার্থীভবন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র সাহিত্যিকা ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: ভাড়াবাড়ির বাথরুম থেকে বুবাই ঘোষ (৩৬) নামে এক যুবকের গলার নলিকাটা দেহ উদ্ধার করল পুলিস। বাড়ির মালিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোমবার রাতে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গোপন প্রেম, গোপন থাকবে না। ব্যবসায়ীদের জন্য সময়টি ভালো, বয়স্করা একটু সাবধানী হবেন। ঠান্ডা লাগা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৪৫: সম্রাট শেরশাহের মৃত্যু
১৭৭২: রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম
১৮৫৯: গোয়েন্দা শার্লক হোমসের স্রস্টা স্টটিশ সাহিত্যিক আর্থার কোনান ডয়েলের জন্ম
১৮৮৫: ফরাসি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগোর মৃত্যু
১৯৪০: ক্রিকেটার এরাপল্লি প্রসন্নর জন্ম
১৯৪৬: আইরিশ ফুটবলার জর্জ বেস্টের জন্ম
২০০৪: ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ডঃ মনমোহন সিংয়ের শপথ গ্রহণ

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯২ টাকা ৭০.৬১ টাকা
পাউন্ড ৮৭.১৮ টাকা ৯০.৩৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৫০ টাকা ৭৯.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২২ মে ২০১৯, বুধবার, চতুর্থী ৫৮/১৮ রাত্রি ২/৪১। পূর্বাষাঢ়া অহোরাত্র। সূ উ ৪/৫৭/৫৩, অ ৬/৮/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৭ গতে ১১/৭ মধ্যে পুনঃ ১/৪৪ গতে ৫/১৫ মধ্যে। রাত্রি ৯/৪৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/২১ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৬ গতে ৯/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৩ গতে ১/১২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৫ গতে ৩/৩৭ মধ্যে।
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২২ মে ২০১৯, বুধবার, চতুর্থী ৫৪/৪৯/৫ রাত্রি ২/৫২/৫৯। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৪/৫৭/২১, অ ৬/১০/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ১/৫০ গতে ৫/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫০ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ১/২২ মধ্যে, বারবেলা ১১/৩৪/১ গতে ১/১৩/১১ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৫/৪১ গতে ৯/৫৪/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৫/৪১ গতে ৩/৩৬/৩১ মধ্যে।
১৬ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বদলে যাচ্ছে দূরদর্শনের চিরপরিচিত লোগো
আধুনীকিকরণ হবে। তাই বদলে যাচ্ছে দূরদর্শনের চিরপরিচিত লোগো। ২০১৭ সালের ...বিশদ

08:42:16 AM

জোড়াসাঁকোতে আজ পুনর্নির্বাচন

কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের জোড়াসাঁকো বিধানসভার সংস্কৃত কলেজের ১ নম্বর ...বিশদ

08:33:37 AM

রাফাল: মানহানির মামলা প্রত্যাহার অনিল আম্বানির
রাফাল চুক্তি নিয়ে অফসেট পার্টনার রিলায়েন্স এবং কর্ণধার অনিল আম্বানির ...বিশদ

08:30:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৫৪৫: সম্রাট শেরশাহের মৃত্যু১৭৭২: রাজা রামমোহন রায়ের জন্ম১৮৫৯: গোয়েন্দা শার্লক ...বিশদ

08:19:44 AM

রবিবার জয়েন্টের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন মেট্রোয়
আগামী ২৬ মে, রবিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন ...বিশদ

08:15:00 AM

আজকের রাশিফল
মেষ: ব্যবসায়ীদের জন্য সময়টি ভালো। বৃষ: হঠাৎ প্রাপ্তি, যশ সুনাম দিতে পারে। ...বিশদ

08:07:00 AM