Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি আসন্ন ভোটযুদ্ধে মোদিজিকে কি এগিয়ে দিল?
শুভা দত্ত

এখনও শেষ হয়নি। চলছে। পুলওয়ামার ন্যক্কারজনক জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার রেশ এখনও যথেষ্টই রয়েছে। রয়েছে প্রবল উত্তেজনাও। শুক্রবারও মেন্ধার আখনুর উরি নৌশেরা প্রভৃতি সেক্টরে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক রেঞ্জাররা দফায় দফায় গোলাগুলি চালিয়েছে এবং তার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। অন্যদিকে এদিনই জঙ্গি সন্ত্রাসে ফের রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গের মাটি—নিহত হয়েছেন সেনা আধা-সেনা ও পুলিস মিলিয়ে পাঁচজন! গুরুতর আহত নিরাপত্তাবাহিনীর চার রক্ষী। সংঘর্ষে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। সবমিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি বহাল এবং উপত্যকায় জঙ্গি ক্রিয়াকলাপও চলেই চলেছে। পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যে তিক্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসান দূরে থাক, তেমন সম্ভাবনাটুকুও দেখা যাচ্ছে না! ফলে কাশ্মীরের বাতাবরণে উদ্বেগ আশঙ্কার কালো মেঘ ক্রমশ গভীর হচ্ছে। দু-দেশের চলতি ছায়াযুদ্ধ শেষপর্যন্ত বড়সড় যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে ভেবে কাশ্মীরের সাধারণ জনজীবন যে রীতিমতো উৎকণ্ঠায় কাল কাটাচ্ছেন তা বলাই বাহুল্য।
তবে, এর মধ্যেই প্রত্যাশামতোই শুক্রবার রাতে দেশের মাটিতে ফিরে এলেন অভিনন্দন বর্তমান। নানান টালবাহানার পর আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করে অভিনন্দনকে ভারতে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হল পাকিস্তান। ভারতের সীমায় ঢুকে পড়া পাকিস্তানের এফ-১৬ কে তাড়া করে শত্রুপক্ষের ওই যুদ্ধবিমানকে ভূপতিত করার পর পাল্টা গুলির কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ভারতীয় বায়ুসেনার এই বীর জওয়ান। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর প্রাণ রক্ষা হয়। তবে, তিনি পাকিস্তানের এলাকায় গিয়ে পড়ায় পাকবাহিনীর হাতে বন্দি হন তিনি। এই ঘটনা চাউর হতেই দেশ জুড়ে প্রবল উত্তেজনার সঞ্চার হয়। ভারত সরকার ও তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলি অভিনন্দনকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ দিতে শুরু করে। দেশজনতা ও সোশ্যাল মিডিয়াও তাঁর মুক্তির দাবিতে রীতিমতো সরগরম হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, যুদ্ধবন্দি ফাইটার পাইলট অভিনন্দনের সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনের চুক্তিশর্ত অনুযায়ী যাতে ব্যবহার করা হয়—সে ব্যাপারেও পাকিস্তানের ইমরান সরকারের ওপর নানান কূটনৈতিক চাপও উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। আমেরিকা রাশিয়া ফ্রান্স জার্মানি সমেত বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর রাষ্ট্র জঙ্গি দমনে পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করা শুরু করে। এমনকী সাম্প্রতিকের পাক বন্ধু চীনও ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেয় জঙ্গি সন্ত্রাস দমন প্রশ্নে তারাও ভারত ও তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে একরকম সহমত।
পুলওয়ামা কাণ্ডের জেরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জিকাল স্ট্রাইকের প্রতিক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে কিছুটা হম্বিতম্বি করলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্মিলিত চাপের মুখে শেষ অব্দি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মুখে অন্তত আপস রফার অনুরোধ জানিয়ে সুর নরম করতে হয়। এবং, এমনকী তাঁর সেনার হাতে বন্দি বায়ুসেনা অভিনন্দনকে নিঃশর্তে অক্ষত শরীরে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতে হয়। সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর পাকবাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরেন অভিনন্দন। সামরিক কূটনৈতিক—উভয় দিক থেকেই নিঃসন্দেহে ভারতের এ এক বড় সাফল্য। কদিন আগে পুলওয়ামায় জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে সেনা কনভয়ে জয়েশ জঙ্গিদের আত্মঘাতী হামলায় ৪৪ জওয়ানের মর্মান্তিক নিধনের বদলায় সীমান্ত-সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে ভারতীয় সেনা যে প্রবল অভিযান শুরু করেছিল, বলা চলে, অভিনন্দনের মুক্তিতে তার একটি অধ্যায় যেন সমাপ্ত হল। আন্তর্জাতিক দরবারে ফের একবার ভারতের সেনা তাদের পরাক্রম শৌর্যবীর্যের স্বাক্ষর রেখে সমীহ ও স্বীকৃতি আদায় করে নিল। সেই সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধান ও জঙ্গি সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানি দ্বিধা দৈন্যও যেন আর একবার বিশ্বের সামনে প্রকট হয়ে উঠল। একদিক থেকে এটা তো ভারতের সামরিক সাফল্য বটেই।
এবং গোটা দেশ জাতি ধর্ম বর্ণ রাজনীতি ভুলে সেনার এই সাফল্যকে অকুণ্ঠ স্বীকৃতি জানাতেও কসুর করেনি। আমাদের এই রাজ্যে তো বটেই, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও পুলওয়ামার মর্মান্তিক কাণ্ডের পর থেকে ভারতীয় সেনার গৌরব গানে মেতে উঠেছে মানুষ, ক্ষোভ ফেটে ফেটে পড়েছে সন্ত্রাসী জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা বলে ‘অভিযুক্ত’ প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে! ৪৪ জন বীর শহিদ সেনানীর প্রতি শ্রদ্ধায় মোমবাতি মিছিল করে, প্রতিবাদসভা করে অন্তরের শোক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশবাসী। দেশপ্রেমের এক প্রবল আবেগে উত্তাল হয়েছে আসমুদ্রহিমাচল। শুক্রবার অভিনন্দনের মুক্তির রাতে ওয়াঘা বর্ডারে জনতার ঢল ও উন্মাদনায় যে সেই আবেগেরই প্রমাণ মিলেছে, তা অস্বীকার করবেন কে?
কিন্তু, মুশকিলটা হল—পুলওয়ামা কাণ্ড থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জিকাল স্ট্রাইক, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটি ও তিনশো-সাড়ে তিনশো জঙ্গি নিকেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধী রাজনৈতিক মহল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। সেসব নিয়ে কাগজে মিডিয়ায় জোর তর্ক-বিতর্কও হয়ে চলেছে সে কথা সকলেই জানেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিছু সঙ্গত প্রশ্ন তুলেছেন। পুলওয়ামা কাণ্ডে পাকিস্তান যোগের প্রমাণ চেয়েছেন, বায়ুসেনার সার্জিকাল স্ট্রাইকে জঙ্গিঘাঁটি ও তিন-সাড়ে তিনশো জঙ্গি নিধনের প্রমাণ দাবি করেছেন এবং করেছেন সঙ্গত কারণেই। কারণ, ইতিমধ্যেই এই বিষয়গুলো নিয়ে দেশের ও আন্তর্জাতিক মহলের আনাচেকানাচে অনুরূপ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাকিস্তান সরকারও জঙ্গি নিধনে ভারতের দাবি নস্যাৎ করেছে। এবং এসব খবর সাধারণের মহলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে, বহু জনমনেই একটা সন্দেহ সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এই সংশয়ে পড়ে ভাবতেই পারেন দেশের সরকার প্রতিবেশী দেশের প্রতি ভারতীয় জনসমাজের একটা বড় অংশের চিরাচরিত বিরাগ বাড়িয়ে তুলে সেনা জওয়ানদের কৃতিত্ব ফাঁপিয়ে ধরে দেশভক্তির আবেগে দেশের মানুষকে বাদবাকি সব সমস্যা ভুলিয়ে দিতে চাইছেন। উদ্দেশ্য, আসন্ন লোকসভা ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা লাভ। আর এক্ষেত্রে এই ভাবনা ও সংশয়ে ইন্ধন জোগাচ্ছে পুলওয়ামা কাণ্ড ও তার প্রতিক্রিয়ায় একের পর এক ঘটতে থাকা উত্তেজনাকর ঘটনাক্রমের সময়কাল। দেশের প্রথম বিজেপি প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির আমলে যেমন কার্গিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় তেমনি কি পুলওয়ামা ইত্যাদি— সন্দেহ বাড়ছে। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের কেউ কেউ আবার বলেই ফেলছেন—রাফাল সমেত সবকিছু উড়িয়ে মোদিজির দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার রাস্তা মোটামুটি তৈয়ার করে দিয়ে গেল পুলওয়ামা! কিন্তু, সত্যিই কি তাই? ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি আসন্ন ভোটযুদ্ধে মোদিজিকে কি সত্যিই এগিয়ে দিল?
দেশভক্তি, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ইত্যাদি আবেগ যে গেরুয়া শিবিরের প্রচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম হাতিয়ার তা এখন সকলেই জানেন। এই আবেগ ‘জাগাতে’ ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সেসবের জেরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে বহুক্ষেত্রেই হিমশিম খেয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজন। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, ৪৪ শহিদসেনা, তার পাল্টায় ভারতীয় বাহিনীর সামরিক তৎপরতা দেশের মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত দেশপ্রেমের যে আবেগ সঞ্চার করেছে—তাকে আসন্ন ভোটযুদ্ধে ব্যবহার করতে শাসক পদ্মশিবির যে আগ্রহী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই মত রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অধিকাংশের। তাঁদের বক্তব্য, এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নানা বক্তৃতা ও মন্তব্যে তার আভাস মিলেছে। পুলওয়ামার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় সার্জিকাল স্ট্রাইক সহ যাবতীয় অভিযান নিয়ে তাঁর ‘পাইলট প্রজেক্ট’ ও ‘মূল প্রজেক্টে’র মতো মন্তব্যগুলিকে তার প্রমাণ হিসেবে দাখিল করছেন তাঁরা। তাঁরা বলছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ জনমতের একটা অংশে যে চিরকালীন বিরাগ ও উষ্মা তাকেও নানাভাবে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাতে ভোট রাজনীতিতে হয়তো ফায়দা কিছু মিলবে, তবে এতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার সুদৃঢ় ভিতে টান পড়ার সম্ভাবনাও থাকছে!
আজ এই উনিশ সালে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আর দেশপ্রেমের আবেগ হাতিয়ার করে ভোটযুদ্ধে বাজিমাত কতটা সম্ভব তা নিয়ে অবশ্য অনেকের মতো আমাদেরও সংশয় আছে। বিশেষ করে যে সরকারের আমলে নোটবন্দি নীরব-মালিয়া-চোকসি ব্যাঙ্ককাণ্ড সিবিআই-আরবিআই কর্তাবিরোধ থেকে রাফালের মতো চাঞ্চল্যকর এবং একই সঙ্গে জন-আশাভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে তার ক্ষেত্রে কেবল দেশপ্রেমের মলমে বাকি কদিনে সব ক্ষত মুছে যাবে— এমনটা সহজে ভেবে ওঠা সহজ নয়। লক্ষ করুন, এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে লোকসভা ভোটে ৪২-এ ৪২ দাবি করছেন তা কিন্তু কোনও সস্তা সেন্টিমেন্টকে হাতিয়ার করে নয়—ব্যাপক উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও মা-মাটি-মানুষের প্রতি তাঁর একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতাকে পুঁজি করে। মমতার প্রতি বাংলার মানুষের বিশ্বাস শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিও তাই। একসময় মোদিজি ও তাঁর দলও মানুষের এমন শ্রদ্ধা ও আস্থা পেয়েছিলেন। কিন্তু, গত পাঁচ বছরের নানা অপ্রীতিকর ঘটনা জনমনে সেই আস্থার ভিতটাকেই তো দুর্বল করেনি, দেশ জুড়ে গেরুয়া বাহিনীর প্রতি প্রবল এক বিরূপতাও তৈরি করেছে। এখন আসন্ন লোকসভা যুদ্ধের আগে কাশ্মীরের পুলওয়ামা ও ভারতীয় সেনার অসাধারণ কৃতিত্ব সেই বিরূপতাকে কতটা মুছে দিতে পারে—এখন সেটাই দেখার।
03rd  March, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত করে নজির সৃষ্টি করল বেঙ্গল কেমিক্যাল। বুধবার সংস্থার এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে তাঁরাই প্রথম কোম্পানি, যারা বার্ষিক ...

শ্বকাপে খেলতে ইংল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় দল। আগামী ৩০ মে উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজবে ক্রিকেটের বৃহত্তম প্রতিযোগিতার। আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু ...

সংবাদদাতা, হরিপাল: হরিপালের নালিকুল পূর্ব পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব গোপীনাথপুর ও সিঙ্গুর ব্লকের মধ্য হিজলার উপর প্রায় ২ কোটি টাকা খরচে কানা নদীর উপর তৈরি হচ্ছে ...

 নয়াদিল্লি, ২২ মে (পিটিআই): রাত পেরলেই লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা শুরু হবে। আর বৃহস্পতিবারই ঠিক হয়ে যাবে ৭২৪ জন মহিলা প্রার্থীর ভাগ্য। এবার মোট ৭২৪ জন মহিলা প্রার্থী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবার সবচেয়ে বেশি ৫৪ জন মহিলা প্রার্থী দাঁড় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বিরূপ হলেও খুব একটা চিন্তার কারণ হবে না। ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৮৮ টাকা ৭০.৫৭ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৫ টাকা ৭৯.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৩৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/২৩ রাত্রি ৪/১৯। পূর্বাষাঢ়া ০/৩৯ প্রাতঃ ৫/১৩। সূ উ ৪/৫৭/৩৪, অ ৬/৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/১/৪১ শেষরাত্রি ৪/৯/৩৩। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ২/০/১৯ প্রাতঃ ৫/৪৫/১, সূ উ ৪/৫৬/৫৩, অ ৬/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৭ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৪/৩১/৫৯ গতে ৬/১১/১৭ মধ্যে, কালবেলা ২/৫২/৪১ গতে ৪/৩১/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৪/৫ গতে ১২/৫৪/৪৭ মধ্যে। 
১৭ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য 

22-05-2019 - 04:21:49 PM

১৪০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

22-05-2019 - 03:52:18 PM

ধূপগুড়ির বিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে 

22-05-2019 - 03:03:00 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে আইইডি বিস্ফোরণ, শহিদ ১ জওয়ান, জখম ৭ 

22-05-2019 - 01:31:14 PM

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ বিশ্বভারতীর উপাচার্য এবং অধ্যাপকরা 
ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে জেরে ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ...বিশদ

22-05-2019 - 01:27:28 PM

বর্ধমানের শাঁখারিপুকুর এলাকায় গাড়ি-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ, মৃত ২ 

22-05-2019 - 01:23:08 PM