Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ফাঁকা অভিযোগ করে বা সিবিআই জুজু দেখিয়ে কি মমতার গতিরোধ করা যাবে?
শুভা দত্ত

২০১৯ যুদ্ধের দামামা বেশ ভালোমতোই বেজে উঠেছে। বোঝাই যাচ্ছে লোকসভা ভোট আর দূরে নেই। মাঝে বড়জোর মাস দুই-আড়াই। তারপরই এসে পড়বে সেই বহু প্রতীক্ষিত মহাসংগ্রামের দিন। দেশের শাসনক্ষমতার মসনদ দখলের যুদ্ধে মুখোমুখি হবে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের রথী-মহারথীবৃন্দ। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরেও সেই মহাসংগ্রামের দিনক্ষণ স্থির করা নিয়ে এখন শেষ মুহূর্তের তৎপরতা, খবর তেমনই। এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিকে দিন যত এগচ্ছে ততই শাসক ও বিরোধীপক্ষের তরজায় দেশ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছে। অবশ্য, অনেকদিন ধরেই যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলোর বাদানুবাদ অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে দেশের বিভিন্ন মহলে এমনকী সাধারণজনের মধ্যেও আসন্ন লোকসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছিলই। প্রত্যাশিতভাবেই এখন তার পরিধি ও তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে এই বঙ্গে এবার সেই উত্তেজনার মাত্রা যেন একটু বেশি বলেই মনে হচ্ছে।
অবশ্য তার সঙ্গত কারণও আছে। দেশের মোদি-বিরোধী শিবিরে এবার যে মধ্যমণি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁকে কেন্দ্র করেই জোট বাঁধছে দেশের মোদি-বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো। আর তাতে ভোট রাজনীতির জাতীয় মঞ্চে বাংলার ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মমতা যে জাতীয় বিরোধী মঞ্চের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন এবং বিরোধীরা যে তাঁকেই সামনে রেখে মোদি-বিরোধী লড়াইতে যেতে চাইছেন সাম্প্রতিকে অন্তত দুটি ঘটনায় তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। প্রথমটি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ এবং দ্বিতীয়টি মমতার ধর্না। দেশের প্রভাবশালী প্রথমসারির মোদি-বিরোধী নেতারা মমতার ব্রিগেডে উপস্থিত হয়ে বা ফোন করে কীভাবে তাঁর প্রতি আস্থা ও সংহতি জানিয়েছেন তা দেশ দেখেছে। জাতীয় কংগ্রেসও এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেনি বরং প্রতিনিধি পাঠিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মমতার প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। পরবর্তীতে রাজ্যের অধিকার উপেক্ষা করে সিবিআইয়ের আচমকা অভিযানের বিরোধিতায় মমতা যখন ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তখনও বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীরা কেউ ধর্নামঞ্চে এসে কেউ ফোনে মমতার প্রতিবাদকে স্বাগত জানিয়েছেন, পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। এই দলেও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ছিলেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, কংগ্রেস সমেত পদ্মবিরোধীরা প্রায় সকলেই আজ বাংলার মা-মাটি-মানুষের লড়াকু নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতার পাশে মমতার সঙ্গে এবং আসন্ন ২০১৯ ভোটযুদ্ধে তাঁকেই চাইছেন নেতৃত্বে। সত্যি বলতে কী, রাহুল গান্ধী থেকে অখিলেশ যাদব মায়াবতী চন্দ্রবাবু নাইডু কানিমোঝি প্রমুখ দেশের বিরোধী নেতানেত্রীর এহেন মমতা-প্রীতিই পশ্চিমবঙ্গের জনমনে প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা উসকে দিয়েছে। পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে ভোট-রাজনীতির জাতীয় মঞ্চে এখন রাহুল-মোদির চেয়ে মমতা-মোদির লড়াইটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ লোকসভা রণাঙ্গনে কংগ্রেস বিজেপির লড়াইয়ের চেয়ে মানুষজন মমতার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিজির গেরুয়াবাহিনীর টক্কর ও তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়েই বেশি কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন!
আর সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর পদ্মবাহিনীর প্রধান টার্গেট এখন মমতা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা-সমিতিতে মোদিজি ও তাঁর দলের নেতানেত্রীরা সব ছেড়ে মমতার নামে বিষোদ্গারে মাতছেন। যা মুখে আসে তাই বলছেন। নানা অভিযোগের বন্যা বহাচ্ছেন। তার সঙ্গে নতুন করে শুরু হয়েছে সারদা নারদা রোজভ্যালি নিয়ে নাড়াচাড়া, সিবিআই অভিযান! কদিন আগে কলকাতার পুলিস কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অছিলায় তাঁর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে আচমকা হানা দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের কয়েকজন অফিসার। তাঁদের সঙ্গে প্রথমে পুলিস কমিশনারের বাড়িতে কর্তব্যরত পুলিসের এবং পরে উচ্চপদস্থ পুলিসকর্তাদের বাদবিতণ্ডায় রীতিমতো উত্তেজনার সৃষ্টি হল। কিন্তু, আখেরে হলটা কী? মহামান্য আদালত সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজীব কুমারকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কিন্তু তাঁর ওপর বলপ্রয়োগ বা তাঁকে আটক করতে পারবে না। সেইমতো শিলংয়ে ডেকে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ হচ্ছে। এই জিজ্ঞাসাবাদ রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোজা পথেও করা যেত। না করে লাভটা কী হল? মহামান্য আদালতের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের বেশি কিছু করার সামর্থ্যই তো রইল না! বরং, মাঝখান থেকে সিবিআইয়ের এহেন কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সেই প্রতিবাদে কংগ্রেসসমেত দেশের নানা প্রান্তের বিরোধী নেতানেত্রীর সমর্থন পেয়ে মমতা জাতীয় স্তরে তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি আরও বাড়িয়ে নিলেন! বলছেন দেশ-রাজ্যের মানুষ, বলছেন রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞরাও।
আচ্ছা, যাঁরা এত বছর মমতাকে দেখছেন, তাঁর রাজনৈতিক স্বভাব, মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অনমনীয় মনোভাব এবং সর্বোপরি তাঁর সততা ও আত্মবিশ্বাসের ভূরি ভূরি উদাহরণ দেখেছেন ও দেখছেন তাঁরা কি স্বপ্নেও ভাবতে পারেন এভাবে ফাঁকা অভিযোগ করে বা ভয় দেখিয়ে মমতার গতিরোধ করা যাবে? ভাবতে যে পারেন না সেটা এই বাংলার পথেঘাটে অফিস-কাছারিতে একটু ঘোরাঘুরি করলে প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রী সেনাপতিরা অনায়াসে বুঝে যেতেন। ওই যে মমতা বলেছেন না, পাঙ্গা নিলে আমি চাঙ্গা হয়ে যাই—একেবারে ঠিক কথা। এই মনের জোর এই অকুতোভয় একরোখা প্রতিবাদী স্পিরিট না থাকলে কি সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেদের ৩৪ বছরের দুর্গ তিনি ধূলিসাৎ করতে পারতেন? প্রায় একক চেষ্টায় সিপিএমের দীর্ঘ শাসনে রুগ্ন বিবর্ণ শিল্পসম্ভাবনাহীন হতাশার রাজ্যে এত তাড়াতাড়ি এমন প্রাণ সঞ্চার করতে পারতেন? পারতেন দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষকোটির বিনিয়োগ আনতে, লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে? পারতেন, জঙ্গলমহল থেকে পাহাড় সাগর থেকে সীমান্ত এমন শান্তি সম্প্রীতি আর উন্নয়নে উজ্জ্বল এমন একটা বিশ্ববাংলা উপহার দিতে? শুধু কী তাই, জগৎসভায় আজ পশ্চিমবঙ্গ যে ফের একবার নতুন আলোয় আলোকিত। কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প যে আজ বিশ্ববন্দিত—সেও কি মমতার মতো এমন একনিষ্ঠ জননেত্রী অক্লান্তকর্মী মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া সম্ভব ছিল?
বাংলার মানুষ কি সাধে আজও এমন মমতামুগ্ধ? যাচাই করে তাঁরা তো দেখেছেন, ২০১১ সালের আগে এই রাজ্যের হাল কী ছিল আর আজ কী? সাধারণ গরিবের জীবনমান লালজমানায় কী ছিল আর মমতা রাজে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে। তবেই না তাঁরা সব ভুলে মমতাকে উজাড় করে দিয়েছেন তাঁদের সমর্থনের শক্তি। সেই অপরিমেয় জনশক্তি ও সমর্থন প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর পার্ষদদের দুটো অভিযোগে শেষ হয়ে ভেঙে পড়বে? সিবিআই এসে রামাসামা অভিযোগ ঠুকে দু’-চারজনকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করলেই বাংলার পাবলিক মমতার পাশ থেকে সরে যাবেন? হয়, হতে পারে! বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো এমন একটি রাজনীতি সচেতন রাজ্যে তেমনটা হওয়া কি আদৌ সম্ভব! আমার এক বন্ধুর সামনে এমন একটা প্রশ্ন রেখেছিলাম। তিনি একটি অতি পরিচিত রসিকতা ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, কইবেন না, কইবেন না দিদি, শুনলি ঘুড়ায় (ঘোড়া) হাসব!
আমার বন্ধুর মন্তব্যটি হয়তো নিছক রসিকতা। কিন্তু, আমাদের দেশে ভোট এলে এমন রসের কাণ্ডকীর্তি যে চিরকালই ঘটে তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারেন? এই যেমন ধরুন কেউ যদি প্রশ্ন করেন, সারদা রোজভ্যালিতে সর্বস্বান্ত মানুষজনের দুঃখে যে প্রধানমন্ত্রীর আজ বুক ফেটে যাচ্ছে নোট বন্দি, জমা টাকায় সুদ কমানো, কৃষি সরঞ্জামের মতো গরিব সাধারণের নিত্যদিনের রুটিরুজির অবলম্বনে ভর্তুকি বন্ধ করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সেই দরদ কোথায় ছিল—কী জবাব দেবেন মোদিজি? জানি, বলবেন, দেশের আর্থিক সংস্কারের স্বার্থে কিছু কষ্ট সকলকেই করতে হয়। কিন্তু, কেউ যদি জানতে চান, সে না হয় হল, সারদা রোজভ্যালি কাণ্ড নিয়ে এমন মাঝে মাঝে জেগে ওঠা ও ঘুমিয়ে পড়া কেন? আর লক্ষ করলে দেখা যাচ্ছে ভোটের সময়ই যেন বেশি বেশি করে তেড়েফুঁড়ে উঠছে সিবিআই—কেন? কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা যতদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসেননি ততদিন তাঁর স্বামী রবার্ট ওয়াধেরাকে নিয়ে কথা নেই। প্রিয়াঙ্কা রাজনীতির ময়দানে নামতেই ওয়াধেরার পিছনে সিবিআই, ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ! মানেটা কী? উত্তর মিলবে?
বঙ্গ রাজনীতির তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেই মনে করছেন, ২০১৯ ভোট মহাযুদ্ধের আগে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার কেবল মুখের বাণী নয় সিবিআইয়ের মতো শক্তিরও যথেচ্ছ প্রয়োগ হবে। কারও জেলযাত্রার ঘটনা ঘটলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। কিন্তু দিনের শেষে প্রশ্ন একটাই, ফাঁকা অভিযোগ করে বা সিবিআই জুজু দেখিয়ে কি মমতার মতো মহানেত্রীর গতিরোধ করা যায়? দেয়ালের লিখনটা কিন্তু ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। গেরুয়া বন্ধুরা একটু চোখ মেলে দেখুন।
10th  February, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (পিটিআই): আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তানের উপর থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবীণ এক কর্তাব্যক্তি শুক্রবার জানিয়েছেন, আগেও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসলামাবাদ। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী ২৩ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ ধরে বীরভূম জেলাজুড়ে বিস্তারক বর্গ কমসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। তবে গতবছর বিস্তারক কর্মসূচিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছিল।   ...

 ভোপাল, ২০ জুলাই (পিটিআই): ভেজাল দুধের বড়সড় চক্রের পর্দা ফাঁস করল মধ্যপ্রদেশ পুলিস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে শনিবার এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। ...

  নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই: বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাত্র ১৫ দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাকার সুযোগ পাবেন। এটাই ছিল বিসিসিআইয়ের নিয়ম। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্র 
বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতির ...বিশদ

04:30:20 PM

মুম্বইয়ের কোলাবায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু, জখম ১ 

03:50:12 PM

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা মেগা ফ্লপ শো: দিলীপ ঘোষ 

03:47:10 PM

টাকা দিয়েও তৃণমূল সভা সফল করতে পারেনি: দিলীপ ঘোষ 

03:42:00 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে হারলেন পি ভি সিন্ধু 
ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে জাপানের আকেন ইয়ামাগুচির কাছে ১৫-২১, ১৬-২১ পয়েন্টে ...বিশদ

02:57:15 PM

ওঃ ইন্ডিজ সফরে তিন ফরম্যাটের ভারতীয় দল ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ঘোষণা করা হল ভারতীয় টেস্ট, ওয়ান ...বিশদ

02:34:49 PM