Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ন্যানো, একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যু
মৃণালকান্তি দাস

ভক্সওয়াগেন বিটল। যে বছর ভারতে ন্যানোর আবির্ভাব, তার ঠিক ৭০ বছর আগে বাজারে এসেছিল এই ‘পিপলস কার’। গোটা জার্মানি জুড়ে শুধু রোড নেটওয়ার্ক বাড়ানোই নয়, দেশের মানুষকে সস্তায় গাড়ি চড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। কে না জানে, ভক্সওয়াগেন মানেই তো ‘জনতার গাড়ি’।
হিটলারের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ফার্দিনান্দ পোর্শের নেতৃত্বে উঠে পড়ে লেগেছিল একটি দল। পতঙ্গের শারীরিক গঠন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি নতুন গাড়ির নকশা তৈরি করেন তাঁরা। ১৯৩৮ সালে জন্ম হয় হিটলার ও পোর্শের মস্তিষ্কপ্রসূত গাড়ি ‘বিটল’-এর। পরবর্তী সময়ে বিটল কোনও একক প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সবচেয়ে বেশি পরিমাণে উৎপাদিত গাড়ির বিরল সুনাম অর্জন করে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ওই মডেলের গাড়ি বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৫ লক্ষেরও বেশি। সস্তার এই ছোট্ট গাড়ি দেখে একসময় অনেক দুঁদে শিল্পপতি এর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁরা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি, আট দশক টিকে থাকবে ভক্সওয়াগেন বিটল। অথচ, এক দশক যেতে না যেতেই ভারতীয়দের স্বপ্নের একলাখি গাড়ি ন্যানো আজ ইতিহাসের দোরগোড়ায়। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ন্যানো তৈরি ও বিক্রি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ টাটা মোটরসের যাত্রীবাহী গাড়ি বিভাগের প্রেসিডেন্ট মায়াঙ্ক পারিখ। শেষ পর্যন্ত তা ঘটলে বাজারে আসার এক দশক পরে দাঁড়ি পড়বে রতন টাটার স্বপ্নের ‘এক লক্ষ’ টাকার গাড়ি প্রকল্পে।
বৃষ্টিতে দু’চাকায় সওয়ার কাকভেজা এক পরিবারকে দেখেই না কি একলাখি গাড়ি তৈরির কথা ভেবেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন কর্ণধার রতন টাটা। যাতে তা অনেক সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসে। ধুলোবালি, জলকাদা এড়িয়ে মধ্যবিত্ত ভারতীয় গাড়িতে চড়ে ঘুরবে। বিপদকে সঙ্গী করে চার সদস্যের পরিবারটাকে আর বাইকে চাপতে হবে না। মাত্র এক লাখ টাকাতেই মিটবে নিজের গাড়ির সাধ। রতন টাটা নিজে এই স্বপ্নে বিশ্বাস করতেন। ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার মধ্যে, সিঁদুরে মেঘ দেখা দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও এই স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলেন।
জন্মলগ্ন থেকে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। রাজনৈতিক গোলমালে কারখানা সরাতে হয়েছে অন্য রাজ্যে। বাজারে আসার পরে ক্রমাগত কমেছে বিক্রিও। গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতার মুখে তেমন কল্কেও পায়নি এই গাড়ি। আর এবার নীরবতা পালনের সময়। এই লেখার জন্যে কলমের ডগা যখন কাগজ ছুঁয়ে এগতে চাইছে, তখন অন্তিম যাত্রার পথে পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তার গাড়ি, ভারতীয়দের সাধের ন্যানো। আত্মপ্রকাশের এক দশক পূরণ করতে না করতেই।
আমেদাবাদ ছাড়িয়ে ৩৫ কিলোমিটার এগতেই সানন্দ-ভিরামগাঁ সড়কের বাঁ দিকে আজও জ্বলজ্বল করে সাইনবোর্ড। দিক নির্দেশের তির চিহ্ন দিয়ে লেখা ‘ন্যানো প্ল্যান্ট’। যে কারখানা আজও একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যুর ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছে। টাটা মোটরসের শীর্ষকর্তা মায়াঙ্ক পারিখ জানিয়ে দিয়েছেন, জানুয়ারিতে নতুন নিরাপত্তা বিধি এসেছে। এপ্রিল ও অক্টোবরে আরও আসবে। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ভারত স্টেজ-৬ (বিএস-৬) দূষণ বিধি চালু হবে। সেগুলি মেনে সব গাড়িকে উন্নীত করার জন্য নতুন লগ্নি না-ও করতে পারে টাটা। ন্যানো তাদের মধ্যে অন্যতম। এর অর্থ একটাই, নিরঞ্জনের পথে রতন টাটার স্বপ্নের ন্যানোর ভবিষ্যৎ।
এক দশক আগের কথা। নয়াদিল্লির অটো এক্সপোতে জনসমক্ষে আনা হয়েছিল টাটা ন্যানো। স্টিল কালারের ছোট্ট গাড়িটায় সওয়ার স্বপ্নের কাণ্ডারী রতন টাটা নিজেই। টাটা গ্রুপের তৎকালীন চেয়ারম্যান। তাজ্জব বনে গিয়েছিল গোটা ভারত। সেদিন এক লক্ষ টাকায় বাজারে গাড়ি এনে অন্য সংস্থাগুলিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল ন্যানো। যে টাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির কথা ভাবতে পারা যায় না সে টাকায় নতুন গাড়ি? পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল উৎসাহ। টাটা মোটরস কর্তাদেরও অনুমান ছিল একলাখি ন্যানোর বার্ষিক বিক্রি সহজেই পৌঁছে যাবে ৫ লাখে। স্বপ্ন তো ছিল। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার ভিতটাই ছিল নড়বড়ে।
শুরুতেই গোঁত্তা খায় সেই স্বপ্ন। এই সময়েই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের শুরু। ন্যানো নিয়ে কত ঢক্কানিনাদ। কত আলোচনা। কত পর্যালোচনা। কত আলোড়ন। একটা গাড়ি কারখানাকে নিয়ে রাজনৈতিক বাদানুবাদ শেষ অবধি পরিণত হয়েছিল রাজ্য রাজনীতির পালাবদলে। বামেদের গদি উল্টে দিয়েছিল টাটার কারখানা নিয়ে গড়িমসি-টালবাহানা।
বাংলার সমাজের সব স্তরে তখন স্পষ্ট মেরুকরণ। গ্রামের কৃষিনির্ভর মানুষ বলছে, শিল্পের জন্য চাষের জমি দেব না। শহুরে শিক্ষিত চাকরি প্রার্থীর বক্তব্য, শিল্প না হলে চাকরি হবে কী করে? হোক না সামান্য ক’টা চাকরি। কিন্তু তার সঙ্গে যে অনুসারী শিল্প তৈরি হবে, তার থেকে নতুন চাকরি তো হবে। সঙ্গে বদলে যাবে গোটা এলাকার অর্থনীতি। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের একটা সিদ্ধান্তে শান্ত সিঙ্গুর বদলে গিয়েছিল আন্দোলনের অগ্নিভূমিতে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভরসায় ২০০৬-এর মে মাসে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন টাটা। শুরু হয়েছিল কৃষক আন্দোলনের অন্য আখ্যান। যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন এক অগ্নিকন্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে দলের ‘শিল্পবিরোধী’ তকমা ঘোঁচাতে বদ্ধপরিকর বাম নেতারা তখন বলছেন, কারখানা হবেই। একলাখি গাড়ি কারখানা। বহুফসলি জমিতেই হবে। কেউ রুখতে পারবে না। এমনিতেই সরকারি কোষাগার ফাঁকা। রাজ্যের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে দরকার বড় শিল্প। সঙ্গে আছে ব্রিটিশ আমলের কৃষক-বিরোধী জমি অধিগ্রহণ আইন আর বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের আত্মবিশ্বাস। অন্যদিকে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, গায়ের জোরে বহুফসলি জমি অধিগ্রহণ তাঁরা মানবেন না। সিঙ্গুরের প্রতিবাদের মন বুঝতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনিচ্ছুক কৃষকদের। ধেয়ে এসেছিল সরকারের পুলিসবাহিনী। পিঠে হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া লাঠির বাড়ি। কাঁদানে গ্যাস। সিঙ্গুরের লড়াইয়ের বার্তা কলকাতা-সহ গোটা দেশ, বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের বিডিও অফিস থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিয়েছিল প্রশাসন। ফিরে এসে মেয়ো রোডে অবস্থানে তিনি। আড়াই মাস পর জোর করে জমি নেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় তাঁর ২৬ দিনের অনশন সিঙ্গুরের আন্দোলনে এঁকে দিয়েছিল ল্যান্ডমার্ক। কৃষি বনাম শিল্পের রাজ্য জুড়ে তরজায় থেমে রইলেন না টাটাও। সিঙ্গুরে জমি দিতে ইচ্ছুক চাষিদের মধ্যে থেকেই বেছে নিলেন তরুণদের। জোর কদমে শুরু হয়ে গেল তাঁদের প্রশিক্ষণ। স্বপ্ন একটাই। টাটার কারখানায় চাকরি
হবে তাঁদের।
২০০৭-এর গোড়ায় কারখানা তৈরির কাজ শুরু করল টাটা। কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিল, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণে ভুল করেনি বাম সরকার। সোনার ফসল ফলানো মাটি আগলে রাখতে আরও কঠিন লড়াই। সেদিন অকুতোভয় আটপৌরে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহস হারাতে দেননি মমতা। সিঙ্গুরের সানাপাড়ায় ধর্নায় বসলেন মমতা। ১৫ দিনের ধর্নায় অবরুদ্ধ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল টাটারা। রাজভবনে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর মধ্যস্থতায় বুদ্ধদেব-মমতা মুখোমুখি হলেও ভেস্তে গেল আলোচনা। এরপর আরও আড়াই বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। যদিও, অনেকেই মনে করেন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামই ছিল তাদের ওয়াটারলু। বাকিটা ইতিহাস।
জমিরক্ষার আন্দোলন দানা পাকতেই ঢুকে পড়লেন জাতীয় রাজনীতির নেতারাও। পশ্চিমবঙ্গে সমস্যা? গুজরাতে এসো। সানন্দে এক টাকায় জমি দিচ্ছি। নিজের শিল্প বান্ধব ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে এমনই বলেছিলেন তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা ছেড়ে আসায় ‘‌উপহার’ হিসেবে টাটা গোষ্ঠীকে কারখানা গড়ার জন্য বিনামূল্যে কলানা, খোডা এবং বল গ্রামের ১১০০ একর জমি দিয়েছিলেন মোদি। তারজন্য রাতারাতি ‘‌সানন্দ রিসার্চ সেন্টার ফর এগ্রিকালচার'‌-‌কে আনন্দ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। কারখানা গড়ার সময়েই পশ্চিমবঙ্গের মতো এখানেও জমির মালিকদের অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু ওই জমি একশ বছর আগের চুক্তি অনুযায়ী সরকারের হাতে ছিল। ফলে জমির মালিকানা রাজ্যের। তাই কৃষকের আর্জি আদালতে ধোপে টেকেনি।
সিঙ্গুর থেকে গুজরাতের সানন্দে কারখানা সরানো-সহ নানা কারণে গাড়ির দাম আর এক লক্ষ টাকায় ধরে রাখতে পারেনি সংস্থা। কিন্তু টাটা মোটরস তথা রতন টাটা কিছুতেই প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করতে চাননি। তাই জোর করেই এক লাখ টাকার কাছাকাছি মূল্যেই বাজারে আসে ন্যানো। আর স্বপ্ন ভাঙার বোধহয় সেটাই শুরু। বড় শহরে না হোক, ছোট টাউন কিংবা মফস্‌সলে তুলনামূলক ভালো বিক্রির সম্ভাবনা থাকলেও সংস্থার ডিলারশিপ নেটওয়ার্ক ভালো না হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও ধাক্কা খায়। খোদ রতন টাটাও স্বীকার করেন, গাড়িটির বিপণন কৌশলের ব্যর্থতার কথা। তাঁর মতে, ন্যানো-কে ‘সস্তা’র বদলে ‘সাধ্যের মধ্যে থাকা’ গাড়ি হিসেবে তুলে ধরা উচিত ছিল। সস্তার গাড়ি হিসেবে পরিচিতির জন্য বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। টাটার মতে, ‘মানুষ সস্তার গাড়িতে নিজেদের দেখতে চায়নি। আর সেটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।’ গোটা প্রকল্পটি নিয়ে রতন টাটাকে বিঁধে প্রশ্ন তুলেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রিও। টাটা গোষ্ঠী থেকে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রির অভিযোগ ছিল, প্রকল্পটি নিয়ে টাটার আবেগ এবং ওই গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থায় তাঁর অংশীদারির জন্যই ন্যানোর উৎপাদন বন্ধ করা যায়নি। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল টাটা মোটরস।
বছর পাঁচেকের মধ্যে যখন বার কয়েক গাড়িটির নতুন মডেল আনা হয়, ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। একটা সময়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গাড়িটির জনপ্রিয়তা তখন তলানিতে। ২০১৮-র জুনে মাত্র একটা টাটা ন্যানো উৎপাদন হয়। বিক্রি হয় তিনটে(আগের উৎপাদন নিয়ে)। ২০১৭-র জুন থেকে রপ্তানির সংখ্যাটা এক ধাক্কায় নেমে আসে ২৭৫ থেকে শূন্যতে। বোঝাই যাচ্ছিল, চিরনিদ্রায় যাওয়ার সময় হয়ে এল টাটা ন্যানোর।
আর ভক্সওয়াগেন বিটল? ২০১৮ সালের প্রথম ৮ মাসেই বিটল বিক্রি হয় ১১ হাজার ১১৫ ইউনিট। তবুও জার্মান সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, তারাও ২০১৯ সালে আইকনিক বিটল গাড়ির উৎপাদন চিরতরে বন্ধ করে দেবে। ইতিহাসের পাতায় প্রায় একইসঙ্গে ঠাঁই হবে দুই সস্তার গাড়ির। ভাবতেই কেমন লাগে, বিটলের বয়স ৬০ আর ন্যানোর মাত্র ১০!
08th  February, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
সংবাদাতা, রায়দিঘি: রাজ্যে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দেখা নেই। তাই বৃষ্টি যাতে দ্রুত আসে, সেই কারণে ধুমধাম করে ...

 ভোপাল, ২০ জুলাই (পিটিআই): ভেজাল দুধের বড়সড় চক্রের পর্দা ফাঁস করল মধ্যপ্রদেশ পুলিস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে শনিবার এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী ২৩ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ ধরে বীরভূম জেলাজুড়ে বিস্তারক বর্গ কমসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। তবে গতবছর বিস্তারক কর্মসূচিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছিল।   ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গবাদিপশুর বিচরণ বেড়ে যাওয়া ব্যাপক সমস্যার পড়েছেন পথচলতি সাধারণ মানুষ। শহরের যত্রতত্র গোরু, ছাগল ঘোরাঘুরি করলেও সেসব ধরে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মুম্বইয়ের কোলাবায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু, জখম ১ 

03:50:12 PM

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা মেগা ফ্লপ শো: দিলীপ ঘোষ 

03:47:10 PM

টাকা দিয়েও তৃণমূল সভা সফল করতে পারেনি: দিলীপ ঘোষ 

03:42:00 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে হারলেন পি ভি সিন্ধু 
ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে জাপানের আকেন ইয়ামাগুচির কাছে ১৫-২১, ১৬-২১ পয়েন্টে ...বিশদ

02:57:15 PM

ওঃ ইন্ডিজ সফরে তিন ফরম্যাটের ভারতীয় দল ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ঘোষণা করা হল ভারতীয় টেস্ট, ওয়ান ...বিশদ

02:34:49 PM

সভা শেষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:53:19 PM