Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সিবিআই নাটকে শেষপর্যন্ত
মমতাই কি লাভবান হলেন না?
মেরুনীল দাশগুপ্ত

নাটক? হ্যাঁ, নাটক। নাটক ছাড়া কী! বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ করে রবিবারের শেষ বিকেলে কোত্থেকে চল্লিশ সিবিআই চলে এলেন, সন্ধের মুখে তাঁদের কজন জিজ্ঞাসাবাদের অছিলায় হানা দিলেন লাউডন স্ট্রিটে খোদ পুলিস কমিশনারের দরজায়, ঢোকার মুখেই কর্তব্যরত পুলিসের সঙ্গে বাধল সংঘাত, ছড়াল উত্তেজনা, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কলকাতা পুলিসের বড়কর্তারা হাজির, তর্ক-বিতর্ক ধস্তাধস্তি এবং শেষমেশ পুলিসের গাড়িবন্দি হয়ে দলের নেতা ডিএসপি সিবিআই ও আরও কয়েকজন শেক্সপিয়র সরণি থানায়! আর অন্যদিকে খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে এলেন ঘটনাস্থলে, খোঁজখবর নিলেন পরিস্থিতির এবং মোদি সরকারের রাজনৈতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে সে রাতেই বসে পড়লেন ধর্নায়। আবার সেই ধর্নার খবর চাউর হতেই গোটা রাজ্যে তৃণমূল নেতা-কর্মী সমর্থক মহলে তো বটেই, মমতাভক্ত সাধারণ মানুষের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল, বহু মানুষ ঘুম ফেলে এসে যোগ দিলেন ধর্নায়, উত্তেজনার পারদ উঠল তুঙ্গে। এর মধ্যেই খবর এল, নিজাম প্যালেস সিজিও কমপ্লেক্সের মতো জায়গার সিবিআই দপ্তর থেকে রাজ্য পুলিস সরেছে, নেমেছে আধাসেনা—কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অফিসারদের নিরাপত্তায় বহাল হয়েছে বাহিনী!
আরও শোনা গেল, ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিবিআই যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। গেল। এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নির্দেশ দিলেন, যাঁকে কেন্দ্র করে এতকিছু, কলকাতার সেই পুলিস কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের ডাকে হাজিরা দিতে হবে, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে হবে। কিন্তু, কোনও অবস্থাতেই সিবিআই অফিসারেরা রাজীব কুমারের ওপর কোনও শক্তিপ্রয়োগ করতে বা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না! আর মহামান্য আদালতের এই নির্দেশকে ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ধর্মতলার ধর্না তুলে নিয়ে দিল্লিতে বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিলেন। সিবিআই ততক্ষণে ফিরে গেছে ডেরায়! এর পর কী হবে সেটা সময় বলবে। কিন্তু, আপাতত সিবিআইয়ের যুদ্ধ শেষ। আদালতের নির্দেশ মানতে ৮ ফেব্রুয়ারি পুলিস কমিশনার সিবিআইয়ের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। সিবিআই জানিয়ে দিয়েছে, ডেট ঠিক করার রাজীব কে? সিবিআই ডেট বলবে। ব্যাস্‌, হয়ে গেল।
এর আগেও কি আমরা এ রাজ্যে সিবিআইয়ের এমন অতিতৎপরতা দেখিনি? দেখেছি। হইহই করে সব আসেন, কয়েকদিন হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি গরম গরম মন্তব্য হাঁকেন ক্ষেত্রবিশেষে একে তাকে ধরে নিয়ে ওড়িশায় যান তারপর সব একসময় কোথায় যেন হারিয়ে যায়! হ্যাঁ, ইতিমধ্যে অবশ্য সারদা-রোজভ্যালির মতো আর্থিক বিষয়ের মামলায় কয়েকজনকে জেলেও পুরেছে সিবিআই, আবার তাঁদের অনেকে পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে ঘরেও ফিরেছেন। একথা ঠিক, সারদা-রোজভ্যালির মতো আর্থিক কাণ্ডে এ রাজ্যের ও ভিন রাজ্যের বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন, সর্বস্ব খুইয়েছেন অনেকে, একাধিক আত্মহননের ঘটনাও ঘটেছে। সেদিক থেকে প্রতারিত সর্বস্ব খোয়ানো মানুষজনের মতো শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সকলেই চাইবেন এবং চানও যে ওইসব আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক। কিন্তু, দোষীদের ‘সাজা’ দেওয়ার সদিচ্ছা সত্যিই কি দিল্লির মহাকর্তাদের আছে? প্রশ্ন উঠেছে বহুদিনই। উঠেছে তার কারণ, কোনও সারদা-রোজভ্যালির মতো কোনও আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তই তো শেষ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা! একবার করে তাঁরা তেড়েফুঁড়ে ওঠেন, জিজ্ঞাসাবাদ ধরপাকড় চলে, সাময়িক একটা উত্তেজনা তৈরি হয়—তারপর হঠাৎ করেই যেন সব হাওয়ায় মিলিয়ে যায়! দিনের পর দিন, বছরের পর বছর সিবিআইয়ের এমন কীর্তিকাণ্ড দেখে লোকে যদি তাঁদের অভিযানকে ‘নাটক’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, দোষ দেওয়া যাবে?
সত্যি বলতে কী, আজ যে সারদাকাণ্ড নিয়ে সিবিআই এত কাণ্ড করল তার একনম্বর অভিযুক্তকে কিন্তু পাকড়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা বাহিনী, সিবিআই নয়! এবং সেই অভিযুক্ত ও তাঁর এক সহকর্মী এখনও জেলজীবন কাটাচ্ছেন যে তার কারণ নিশ্চয়ই রাজ্যের গোয়েন্দা পুলিসের কর্মকুশলতা, মহামান্য আদালতে দাখিল করা তাঁদের অভিযোগপত্রের বলিষ্ঠতা। সিবিআই সেই কুশলতা দেখাতে পারল কই? তাঁরা যাঁদের ধরেছেন তাঁদের প্রায় সকলেই তো সাময়িকভাবে হলেও জামিন পেয়ে গেছেন! গেরো ফসকা না হলে এমনটা ঘটে? এই তো গত রবিবার শেষ বিকেল থেকে রাত অব্দি যা ঘটল তাতেও কি ওই ফসকা গেরোটাই প্রকট হয়ে উঠল না? পুলিস কমিশনারের বাড়িটা ঠিক কোন থানার সেটা পর্যন্ত সঠিকভাবে জেনে আসেননি তদন্তকারীরা? নাহলে শেক্সপিয়র সরণি থানার বদলে পার্ক স্ট্রিট থানায় কেন নথি নিয়ে যাওয়া! এভাবে কলকাতার মতো একটি মহানগরীর নগরপালের বাড়িতে ঢুকতে গেলে বাধা আসতে পারে সেটাও ভাবেননি তাঁরা! তৃতীয়ত, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়ে বুঝিয়ে এলে ক্ষতিটা কী হতো, কমিশনার পালিয়ে যেতেন? কলকাতার পুলিস কমিশনার পদাধিকারী একজন দক্ষ বিচক্ষণ অফিসারের পক্ষে সেটা সম্ভব বলে মনে করেছিলেন তদন্তকারীরা? নিশ্চয়ই না। তাহলে এমন আকস্মিকতার প্রয়োজনটা ছিল কি? শেষমেশ তো কিছুই হল না। যথা পূর্বং তা-ই রইল। জিজ্ঞাসাবাদ। স্থানটা ওড়িশা বা দিল্লি থেকে সরে গেল শিলঙে—এই যা! তার জন্য এত হুডুমদুড়ুম! এত ধস্তাধস্তি! নাটক ছাড়া কী?
দুর্নীতিমুক্ত ভারত, স্বচ্ছ ভারত গড়ার লক্ষ্যে অবিচল বলে লাগাতার বিজ্ঞাপিত নরেন্দ্র মোদি সরকারের দুর্নীতিদমন প্রকল্পে সিবিআই নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা হাতিয়ার। একসময় সিবিআইয়ের নাম শুনলে অনেক ৫৬ ইঞ্চিরও বুকের পাঁজরে কাঁপন ধরে যেত, গলা জিব শুকিয়ে আড়ষ্ট হয়ে যেত কথা! আজ সে দিন হয়তো গিয়েছে। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও সংস্থার শীর্ষমহলে অপ্রীতিকর সংঘাতে হয়তো আরও বিবর্ণ হয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একদা অরণ্যদেব মার্কা ভাবমূর্তি। তবু, আমপাবলিকের কাছে অন্তত এখনও সিবিআই তো সিবিআই-ই না? একটা জবরদস্ত জমকালো সমীহ জাগানো ব্যাপার—তাই না। কিন্তু, সেই সংস্থাকে যখন রাজ্য পুলিসের কাছে হার মানতে দেখছি আমরা (পরে তাঁরা কী করবেন সে পরের কথা। রবিবার যা দেখলাম তার পরিপ্রেক্ষিতে বলছি), দেখছি তাঁদের অফিসারদের পুলিসগাড়িতে তুলে চালান করা হচ্ছে থানায়—তখন আমাদের মনে হবে না কি যে তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা দক্ষতা সংস্থার মানমর্যাদা ভুলে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্যে বা কোনও বিশেষ প্ররোচনাতেই এমন হঠকারিতা দেখিয়েছেন এবং সেই প্ররোচনা রাজনীতি বিচ্ছিন্ন নয়! মনে হতে পারে না কি যে সিবিআইকে যাঁরা দিল্লির শাসকের ‘তোতাপাখি’ বলে আজকাল কটাক্ষ করেন তাঁরা কেবল অসূয়াবশতই করেন না, করার পিছনে কিছু ব্যাপারও আছে, আছেই!?
কিন্তু, মুশকিলটা হল—ভুল জায়গায় ভুল অস্ত্র প্রয়োগ করলে ফল বিপরীত হয়। পুলিস কমিশনার রাজীব কুমারের শেষপর্যন্ত কী হবে, না হবে সময় বলবে। কিন্তু প্রশ্ন হল, সিবিআই নাটকে শেষ পর্যন্ত মমতাই কি লাভবান হলেন না? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, সিবিআইয়ের এই ‘নাটকে’ যদি কেউ লাভবান হন তবে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধীনেত্রী হিসেবে এই ঘটনা যেমন তাঁর প্রতিবাদী ভাবমূর্তির অনন্যতা ফের একবার সর্বজনসমক্ষে উজ্জ্বল করে তুলল, তেমনি বিরোধী শিবিরের মহারথীদের অকুণ্ঠ সমর্থন তাঁর দিল্লি যাত্রার পথটিও পূর্বাপেক্ষা সুগম করে তুলল। মোদি-বিরোধী অভিযানে এখন তিনিই প্রধান মুখ।
বিশেষজ্ঞদের এই অভিমত মানুন আর নাই মানুন একটা কথা পরিষ্কার, ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতি উসকে প্রিয়াঙ্কা ওয়াধেরাকে নামিয়ে রাহুল কংগ্রেস যে চমক দিয়েছিল, ভোট রাজনীতির আলো টানার যে চেষ্টা করেছিল রবিবার রাতের পর তাতে কিছু ভাটা পড়বেই। এবং পড়ার কারণ মমতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতার রবিবাসরীয় মোদি-বিরোধী হুঙ্কার, রাজ্যের ওপর সিবিআইয়ের মতো সংস্থা দিয়ে চাপ সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ এবং সেই অভিযোগ সম্বল করে দিল্লি কাঁপানোর ডাক উপেক্ষা করার সামর্থ্য যে বিরোধী শিবিরে বিশেষ কারও নেই সেটা তাঁর ধর্না মঞ্চে উপস্থিত হয়ে বা ফোনালাপে অনেকেই প্রমাণ করে দিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও কিন্তু তার ব্যতিক্রম নন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা চলে, নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লোকসভা মহাযুদ্ধের ময়দানে বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ, প্রধান সেনাপতি হিসেবে শেষ অব্দি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতির যে সম্ভাবনা দানা বাঁধছিল রবিবারের ঘটনার পর সেটা একরকম অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। মোদি-বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীদের বক্তব্য প্রতিক্রিয়া এবং সমর্থনের তীব্রতায় তার আভাসও স্পষ্ট—অতএব সাধু সাবধান!
07th  February, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (পিটিআই): আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তানের উপর থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবীণ এক কর্তাব্যক্তি শুক্রবার জানিয়েছেন, আগেও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসলামাবাদ। ...

পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনিই যোগ্যতম। বাণিজ্য শাখার স্কুল শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ২০০১ সালের ৩০ জুলাই। কিন্তু, কম যোগ্যতাসম্পন্নদের স্কুলে শিক্ষক পদে রেখে দেওয়া হলেও তাঁর চাকরি বিগত ১৮ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। তাঁর মামলা সূত্রে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক ...

সংবাদাতা, রায়দিঘি: রাজ্যে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দেখা নেই। তাই বৃষ্টি যাতে দ্রুত আসে, সেই কারণে ধুমধাম করে ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী ২৩ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ ধরে বীরভূম জেলাজুড়ে বিস্তারক বর্গ কমসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। তবে গতবছর বিস্তারক কর্মসূচিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছিল।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্র 
বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতির ...বিশদ

04:30:20 PM

মুম্বইয়ের কোলাবায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু, জখম ১ 

03:50:12 PM

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা মেগা ফ্লপ শো: দিলীপ ঘোষ 

03:47:10 PM

টাকা দিয়েও তৃণমূল সভা সফল করতে পারেনি: দিলীপ ঘোষ 

03:42:00 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে হারলেন পি ভি সিন্ধু 
ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে জাপানের আকেন ইয়ামাগুচির কাছে ১৫-২১, ১৬-২১ পয়েন্টে ...বিশদ

02:57:15 PM

ওঃ ইন্ডিজ সফরে তিন ফরম্যাটের ভারতীয় দল ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ঘোষণা করা হল ভারতীয় টেস্ট, ওয়ান ...বিশদ

02:34:49 PM