Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাজেটে ভুলিয়ে দেশের মানুষের মন জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

শুক্রবার সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব পেশ হল হিসেব মতো সেটা দেশের চলতি সরকারের শেষ বাজেট—অন্তর্বর্তী বাজেট। কিন্তু, বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত পীযূষ গোয়েলের বক্তৃতা বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আচার-আচরণ দেখে মনে হল অন্তর্বর্তী নয়, আসন্ন অর্থবর্ষের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাজেটই পেশ করল বিদায়ী সরকার! শুধু তাই নয়, গোটা বাজেট প্রস্তাব জুড়ে মধ্যবিত্ত থেকে কৃষক শ্রমিক প্রান্তিক মানুষজনের জন্য ‘ছাড়’ আর অর্থবরাদ্দের যে হিড়িক দেখা গেল—এককথায় তা নজিরবিহীন। মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবীদের আয়করে বিরাট ছাড়ের পাশাপাশি কৃষক-শ্রমিকের জীবন সুরক্ষা থেকে ছোট ও মাঝারি গ্রামীণ শিল্পের বিকাশ, রেলের সার্বিক উন্নয়ন থেকে জিএসটি কমানো, গোরক্ষা থেকে উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণ, দেশজুড়ে পরিকাঠামো সড়ক, সেতুর বিস্তার ও উন্নয়নে যে বিপুল অর্থবরাদ্দ করা হল এককথায় তা নজিরবিহীন। আয়করে ছাড়ের বহর দেখে অতিবড় মোদি নিন্দুকও হতবাক হয়েছেন সন্দেহ নেই। ছাড়ের পরিমাণ যে একলাফে দ্বিগুণ হল—হতবাক হবেন না! মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মধ্যবিত্ত দেশ-জনতা আয়করে এমনই একটা পরিবর্তনই তো চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মুখে নরেন্দ্র মোদির কিছু প্রতিশ্রুতিতেই দেশের সাধারণ চাকুরিজীবী মহলে এমন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁরা ভেবেছিলেন কালাধন উদ্ধার করে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা জমার ব্যবস্থা শেষ অব্দি করতে না পারুন, চড়া বাজারের মোকাবিলায় আয়করে কিছু ছাড় দিয়ে মোদিজি মধ্যবিত্তকে একটু রিলিফ দেবেন। কিন্তু, পর পর চারটে বাজেটের পর সে আশা যখন নিভেই গেছে বলা যায়—তখন এই ভোটবছরে শেষ বাজেটে একেবারে যাকে বলে ভরিয়ে দিলেন মোদিজির অর্থমন্ত্রী! বাজেটে যা দাঁড়িয়েছে তাতে বছরে সাত লক্ষ টাকা অব্দি আয় করমুক্ত হয়ে যাবে! পাঁচ লাখে সরাসরি ছাড়, পঞ্চাশ হাজার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশান আর বিনিয়োগে আরও দেড় লাখ পর্যন্ত রেহাই। ভাবা যায়! হতবাক হবে না জনতা!
শুধু মধ্যবিত্ত কেন, কৃষক শ্রমিক? তাঁরাও তো তাঁদের উন্নয়ন সুরক্ষায় বাজেটে অর্থবরাদ্দের বন্যা দেখে নিশ্চয় ‘অভিভূত’। তবে, সরাসরি কৃষিঋণ মকুবের ঘোষণা তেমনভাবে দেখা গেল না বাজেটে। না থাকারই কথা। ওটা যে রাহুল গান্ধী হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছেন। তিন রাজ্যে বিজেপিকে দুরমুশ করে ক্ষমতায় এসে করেও দেখিয়েছেন। সে পথে মোদিজি বা তাঁর কার্যনির্বাহী অর্থমন্ত্রী হাঁটেন কী করে? হাঁটলে লোকে তো বলতেই পারে, রাহুল গান্ধীর নীতিকে নকল করছেন প্রধানমন্ত্রী। সে জন্যই বিকল্প পথে কৃষক সন্তোষ বিধানের সর্বাত্মক চেষ্টা হয়েছে বাজেটে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা পেনশন, ‘পি এম কিষাণ’ প্রকল্পে দুই হেক্টর অব্দি জমির অধিকারী কৃষক মাসে দুই হাজার করে বছরে তিনবার অনুদান আর সেটা লাগু করা হল শেষ ডিসেম্বরের পয়লা থেকে। সুতরাং দেশের ১২-১৩ কোটি কৃষকজনের অ্যাকাউন্টে ঠিক ভোটের মুখে দু-হাজার করে টাকা ঢুকে পড়তেই পারে। সেই সঙ্গে ‘রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশন’ প্রকল্পে গোরক্ষা ও গোরুদের সুন্দর করে জীবন কাটানোর জন্য বছরে সাড়ে সাতশো কোটি দেবার আয়োজনও আছে বাজেটে! আর কী চাই! এহেন বাজেটের পর দেশের কৃষকসমাজ যদি বিশেষ উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং মোদি সরকারকে ধন্য ধন্য করে তাতে আশ্চর্য কী? আর শুধু কৃষক কেন, দেশের শ্রমিকমহলের জন্যও তো অন্তর্বর্তী বাজেটে সুরক্ষা ও উন্নয়নখাতে বরাদ্দের অভাব নেই। শ্রমিকের মৃত্যুতে দ্বিগুণ, পি.এফ, গ্রাচুইটি দশ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ত্রিশ লক্ষ করা—আরও কত কী!
শুধু কি তাই? উচ্চবর্ণের জন্য দশ শতাংশ সংরক্ষণ, আর্থিকভাবে অনগ্রসর উচ্চবর্ণের জন্য স্কুলস্তরে ২৫ শতাংশ সংরক্ষণ, রেলের আধুনিকীকরণে শত শত কোটির বরাদ্দ প্রতিরক্ষায় রেকর্ড তিন লক্ষ কোটি—ভাবা যাচ্ছে না! এমন একটা বাজেট যে হতে পারে এমন ‘জনহিতকর’ এমন ‘উদার মুক্তহস্ত’—সত্যি বলতে কী এখনও মানুষজন ভেবেই উঠতে পারছেন না! অথচ হয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর লাগাতার টেবিল চাপড়ানো সাধুবাদ নিয়ে এমন একটা অভূতপূর্ব বাজেট প্রস্তাবই শুক্রবার পেশ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। কেন দিন ফুরোনোর মুখে এমন একটা বাজেট তা আশা করি কাউকেই আজ বলে দিতে হবে না। ভোট এসে পড়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট। সেই ভোটের আগে জনমন জয়ের লক্ষ্যেই যে বিদায়বেলার অন্তর্বর্তী বাজেটকে এমন বিপুল লোভনীয় সব প্রস্তাবে টইটম্বুর করে পূর্ণাঙ্গ বাজেটের আকারে পেশ করা হল, জিএসটি কমানোর জন্য জিএসটি কাউন্সিলকে অনুরোধ জানানো হল—তা তো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের প্রায় সকলেই বলছেন। খুব যে ভুল বলছেন এমনও কি বলা যাবে? বলা যেত, যদি দেখা যেত যে ক্ষমতায় এসে ইস্তক মোদিজির অর্থমন্ত্রী দেশের গরিব-মধ্যবিত্ত কৃষক-শ্রমিকের জন্য ফি-বছর বাজেটে এমন দরাজ প্রস্তাব পেশ করেছেন এবং বছরভর সেইসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সচেষ্ট থেকেছেন। কিন্তু, তা তো ঘটেনি। বরং, ‘স্বচ্ছ ভারত’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, কালাধন উদ্ধার, নোটবন্দি, জিএসটি, জ্বালানি তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি—একের পর এক সংস্কারী দাওয়াইতে গরিব মধ্যবিত্তের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছেন। তারপর ২০১৯ মহাযুদ্ধ যখন ঘনিয়ে এসেছে আর তার মুখে পাঁচ রাজ্যের ভোটফলে বিপর্যয় যখন গেরুয়া শিবিরের শক্ত ভিতে ধাক্কা দিয়েছে, বোঝা গিয়েছে পদ্ম-রাজে দেশের মানুষের আস্থা টলেছে—তখন এই বাজেট! বিমুখ দেশের মুখ ফেরাতে শেষ অস্ত্র। কিন্তু, কথা হল—এভাবে বাজেটে ভুলিয়ে দেশের মানুষের মন জেতা যাবে? লোকে পাঁচ বছরের কষ্টগুলো ভুলে কেবল কটা বাজেট প্রস্তাবে মজে গেরুয়া শিবিরের ২০১৯ ভোটবাক্স ভরিয়ে দেবে? বিশেষ করে যখন সেই মানুষজনের মনে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জ্বালা রীতিমতো সতেজ ও সক্রিয়—তখন! বাজেটের প্রস্তাবগুলোও তো এক ধরনের প্রতিশ্রুতিই—তাই না?
কেউ কেউ বলছেন, মোদিজির এই লোভনীয় বাজেট প্রস্তাব ভোটের মুখে দেশের আম-পাবলিকের দরবারে কিছু সাড়া ফেলতে পারে। তবে তা ভোটফলকে কতটা প্রভাবিত করবে সে ব্যাপারে এখনও কেউই নিশ্চিত নন। তার কারণ, প্রাথমিকভাবে এই বাজেট মধ্যবিত্ত শ্রমজীবী জনতার মধ্যে একটা স্বস্তি খুশির আবহ তৈরি করলেও তার আয়ু দীর্ঘ হবার সম্ভাবনা কম। কেননা, এই বাজেট একটি বিদায়ী সরকারের বাজেট। একে যতই পূর্ণাঙ্গ বাজেটের খোলশ পরানো হোক জনতা জানে এটা অন্তর্বর্তী বাজেট। আসন্ন লোকসভা ভোটে দেশের মসনদে রং বদল হলে এইসব প্রস্তাব মূল্য হারাতেই পারে। তখন নতুন সরকার এসে নতুন বাজেট প্রস্তাব রাখতেই পারে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান সরকারও যদি ভোট জিতে ক্ষমতায় ফিরে আসে তখনও যে এইসব প্রস্তাব কার্যকর হবে এমন ভরসাও একশো শতাংশ ধরে রাখা মুশকিল। কারণ, এই প্রস্তাব মানতে হলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় বড় চাপ পড়বে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন। এবং তাঁর মতে, ভোট রাজনীতির স্বার্থে এমন বাজেট কখনওই কাম্য নয়। শুধু মমতাই কেন, অর্থনীতির অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এই বাজেট প্রস্তাবে একটা তাৎক্ষণিক চমক আছে ঠিকই, তবে এ দিয়ে দেশের বা দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ, এইসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত করতে গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাই। সে অর্থ কোথা থেকে আসবে তার তেমন দিশা বাজেটে কোথায়? তাছাড়া, এতে সরকারি কোষাগারের আয়েও টান পড়ার সম্ভাবনা। কিন্তু, ভোট বড় বালাই। ক্ষমতায় ফিরতে গেলে ২০১৯ মহাসংগ্রামে জিততেই হবে। সে জয় যে সহজ নয় সেটা আজ কে না বোঝেন। একে গেরুয়া-রাজের ওপর দেশের মানুষের আস্থা অনেকটাই ভেঙেছে, তার ওপর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যেভাবে সংগঠিত হচ্ছেন দেশের তাবড় বিরোধীরা তাতে ২০১৯ সালের ভোটযুদ্ধে যে মোদিজি ও তাঁর গেরুয়া বাহিনীর জন্য কড়া লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে তাতেও সন্দেহ নেই। এমন অবস্থায় দেশজনতার মন ভোলাতে না পারলে যে সমূহ বিপদ। ‘উরি’ বা ‘অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইমমিনিস্টারে’র মতো কটা সিনেমা দিয়ে যে দেশের মানুষের মনে জাতীয়তাবোধ জাগানো বা কংগ্রেসের প্রতি বাড়তি বিতৃষ্ণা তৈরি করা যে সম্ভব না সেটা কে না বোঝেন। অতএব পদ্মবিমুখ মানুষের মন মজাতে বাকি রইল দান-খয়রাত আর আর্থিক ছাড়ের উপহার। শুক্রবারের অন্তর্বর্তী বাজেটকে তার এক উজ্জ্বল নমুনা বললে কি খুব ভুল হবে? সে ঠিক ভুল যাই হোক, দিনের শেষে প্রশ্ন সেই একটাই—এভাবে বাজেটে ভুলিয়ে দেশের মানুষের মন জেতা যাবে, পার হওয়া যাবে ২০১৯ লোকসভার ভোট বৈতরণী?
03rd  February, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বসিরহাট: ভ্যাপসা গুমোট গরমের শেষে একটানা বৃষ্টির স্বস্তি এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বসিরহাট পুরসভা এলাকায়। বেশিরভাগ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি জলের তলায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গঙ্গাবক্ষে বিশ্বের দীর্ঘতম সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে মুর্শিদাবাদ সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন। ভাগীরথী নদীর উপর এই সাঁতার প্রতিযোগিতা হবে ৮১ ও ১৯ কিলোমিটার দূরত্বে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুধু হাওড়া শহর সংলগ্ন এলাকায় নয়, হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এবার শিল্প স্থাপনে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। তার জন্য উদয়নারায়ণপুরের কান্দুয়ায় ৪০০ একর জমি বাছা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭০ একর জমি কেনাও হয়ে গিয়েছে। ...

 সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি সদর এলাকায় টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে ময়নাগুড়ি পুলিস প্রশাসন বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ব্যস্ত রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে টোটো পার্কিং করা হলে তা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

হঠাৎ জেদ বা রাগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া শ্রেয়। প্রেম-প্রীতির যোগ বর্তমান। প্রীতির বন্ধন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০০: রাজনীতিক বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের জন্ম
১৯৩৬: গীতিকার ও পরিচালক গুলজারের জন্ম
১৯৫৮: ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করলেন প্রথম এশীয় ব্রজেন দাস
১৯৮০: সঙ্গীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৪৯/৪৯ রাত্রি ১/১৪। পূর্বভাদ্রপদ ২৯/২ অপঃ ৪/৫৫। সূ উ ৫/১৮/২, অ ৬/৩/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৯ গতে ৯/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩২ গতে ৯/২ মধ্যে, বারবেলা ১০/৫ গতে ১/১৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৫ গতে ২/৩০ মধ্যে।
৩২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৪৩/৯/৬ রাত্রি ১০/৩২/৩৬। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ২৬/১/৪১ দিবা ৩/৪১/৩৮, সূ উ ৫/১৬/৫৮, অ ৬/৫/৪৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/১২ গতে ৯/৩১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৪ মধ্যে, বারবেলা ১০/৫/১৬ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪১/২২ গতে ১/১৭/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৫/১৬ গতে ২/২৯/১০ মধ্যে।
 ১৬ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নেতাজিনগরে ২টি অটোর সংঘর্ষ, জখম মহিলা 

08:31:00 PM

বেনিয়াপুকুরে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার 

06:21:00 PM

পানিহাটিতে গঙ্গায় ডুবে যাওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার 

05:49:00 PM

পানিহাটিতে গঙ্গায় ডুবে যাওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার 

05:46:00 PM

তপসিয়ায় বহুতলে আগুন, দমকলের ১টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে 

05:43:00 PM

শেক্সপিয়র সরণীর ঘটনায় ধৃতের পুলিস হেফাজত 
শেক্সপিয়র সরণীর ঘটনায় ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ধৃতের পুলিস হেফাজত। ...বিশদ

04:09:25 PM