Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাজেট অন্তর্বর্তী হলেও চ্যালেঞ্জ আছে সর্বক্ষেত্রে
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

শেষ বারের মতো  মোদি সরকারে যে বাজেট পেশ হচ্ছে সেটি কার্যত ভোট অন অ্যাকাউন্ট,অর্থাৎ নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত সব বিষয়ে কাজ চালানোর মতো কিছু বরাদ্দ করা। এর মধ্যে দিয়ে দেশের বিকাশ বা অর্থনীতির মেরামতে দীর্ঘ মেয়াদি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। সেটা জেনেই আগামী ভোটের দিকে তাকিয়ে আম জনতাকে খুশি করতে এবং  একই সঙ্গে মধবিত্ত ও  শিল্প মহলকে খুশি করতে এমন কিছু প্রস্তাব এই ধরনের অন্তর্বর্তী বাজেট রাখা হয় যেগুলি আদতে কার্যকর করা সম্ভব নয়, কিন্তু ভোটে বৈতরণী পার হতে নির্বাচনী ইস্তাহারের মতো কাজে লাগানোর লক্ষ্যে জনদরদি কিছু ঘোষণা রাখা  হয়। দলের পক্ষে ভোটের প্রচারে বলা যাবে, যে ক্ষমতায় ফিরলে তারা এগুলিই করতে চায়। তাই এই বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট কার্যত একটা ভোটমুখী রাজনৈতিক ইস্তেহার।  এছাড়া  একে অন্য ভাবে ভাববার কারণ নেই। এত কিছু সত্ত্বেও  বর্তমান পরিস্থিতিতে এবারে বাজেট বেশ কিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেন, সেটিই প্রথম আলোচ্য।
প্রথমত, এই ভোট অন অ্যাকাউন্ট থেকেই মোদিকে বোঝাতে হবে যে তিনি নিজের ইচ্ছে মতো আর অর্থনীতি চালাতে চান না, তাঁকে যাঁরা ক্ষমতায় আনছেন শুধু তাঁদের প্রতি তিনি দায়বদ্ধ নন। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষকে ভুলে যাবেন না তিনি। গত পাঁচ বছর ধরে নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে অর্থমন্ত্রী জেটলির সিদ্ধান্তও অর্থ মন্ত্রকের রিপোর্ট বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুপারিশ অগ্রাহ্য করে দেশের অর্থনীতিকে ত্রিমুখী ভাবনায় পরিচালিত করেছেন। এক, নোট বাতিলের মত হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং অপ্রস্তুত অবস্থায় জিএসটি চালু করে রাতারাতি অর্থনীতির খোল নলচে বদলের চেষ্টা করেছেন, যা সর্বস্তরে একটি জোর ধাক্কা দিয়ে অর্থনীতির বৃদ্ধি কমিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি, এমনকী বৃহৎশিল্প চাঙ্গা করতে ব্যর্থ হয়ে কেবলমাত্র আম্বানি-আদনি-পেটিএম-এর মতো কিছু নির্দিষ্ট দেশি-বিদেশি পুঁজিনির্ভর লগ্নির নামে দেশের অর্থে পছন্দের শিল্পপতির বিকাশ ঘটিয়েছেন,তার জন্য ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপর নিয়ন্ত্রণ চাপিয়ে তাদের রিজার্ভ অর্থে দেউলিয়া পুঁজির ক্ষত মেরামত করার চেষ্টা করছেন। তাতে যে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা আরও দুর্বল হবে, বিপন্ন হবে আম জনতা, সেটা জেনেও তিনি তা-ই করতে চেয়েছেন। ক্ষমতায় মোদি সরকার ফিরলে যে দেশের আপামর জনতা শুধু এই কারণেই চোখে সর্ষে ফুল দেখবে, নির্বাচনের ময়দানেও সেটা মোদিজির পক্ষে অশনিসংকেত হিসেবেই স্পষ্ট। তৃতীয়ত, দেশের স্বয়ম্ভর খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার বদলে কৃষি অর্থনীতিকে পশ্চিমি বাজারমুখী উন্নয়নের ভাবনায় ঢেলে সাজাতে চাইছেন। তাতে ক্ষুদ্র চাষিদের লাঙ্গল ছেড়ে মাল্টি ন্যাশনাল ফুড কর্পোরেটদের কাছে নিজের জমি লিজ দিয়ে সেই জমিতেই চাষ করতে হবে। দেশের কৃষি সমস্যা না মিটিয়ে বাজেটে কৃষি বরাদ্দ বাড়িয়ে বৃহৎ পুঁজির এগ্রি-কর্পোরেট ভেঞ্চারগুলির স্বার্থে বরাদ্দ হচ্ছে কৃষি ও গ্রামীণ বিকাশের নামে। সেটি বুঝে গিয়েছে দেশের কৃষক শ্রেণী। এমনকী, বিজেপি অনুমোদিত কৃষক সংগঠনগুলিও তাই গত দু’বছর মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে। বস্তুত, কৃষি ও সাধারণ কৃষকের কল্যাণে মোদি সরকারের বাজেটে বিশেষ কিছু থাকে না, যা কিছু থাকে তা কৃষি পণ্যের বিপণন, কৃষি বাণিজ্যকরণ, কৃষিক্ষেত্রের ভর্তুকি ও সুযোগ-সুবিধা যার সিংহভাগ পায় বৃহৎ চাষিদের একাংশ। কৃষি মন্ত্রকের সরকারি তথ্য বলছে, মোদির চার বছরে কৃষিঋণের বেশিরভাগ অর্থ জমা হয়েছে মাত্র ৬৭০টি অ্যাকাউন্টে। ভাবুন, এই হল বাজেটের বাস্তব-দর্শন! স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ছোট কৃষকরা চাষের খরচ তুলতে না-পারলে ফসল ফলায় যেসব কোম্পানি তাদের কাছে জমি দিয়ে দিক, তাদের কাছে কাজ করুক! এই প্রধানমন্ত্রীর শেষ বাজেটে কৃষকের আয় দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যদি লক্ষ কোটি টাকাও ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য বরাদ্দ হয়, তাকে নির্বাচনী চমক ছাড়া আর কীই-বা ভাবা যেতে পারে? সারা ভারতকে আধপেটা খাইয়ে শুধু ৪০কোটি উচ্চ আয়ের বাজার ধরার বাজেট না-করে যদি প্রকৃত একটি জনস্বার্থের বাজেট হয়, তাতে সব পক্ষেরই মঙ্গল।
ঘটনা যা-ই হোক, মোদিকে ক্ষমতায় ফেরার জন্য একটা স্থায়ী ও স্থির সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কোনও দেশ, অর্থনীতি বা দেশের মানুষের কল্যাণ কোনওদিন দুমদাম সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিনা প্রস্তুতিতে তা কার্যকর করার জন্য ঘোষণার মধ্যে দিয়ে হতে পারে না। এবারে ভোট অন অ্যাকাউন্টে মোদিকে বোঝাতে হবে যে তিনি  রাজনৈতিক প্রয়োজনে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না, অর্থনীতির প্রয়োজন বুঝলেই বরং তো সকলের পক্ষে মঙ্গল, নইলে  বাজেটে ঘোষিত হলেই যে কার্যকর হয় না তার দৃষ্টান্ত অজস্র। নির্বাচনের বছরে বাজেট পেশ করতে গিয়ে মোদিজি যেন গতবারের  মতো বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি না দেন, তাতে মোদিজির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
এবারের বাজেটে মোদিজি মানুষের জন্য অনেক জনহিতকর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো অনুকূল অবস্থায় আছেন। গত চারবছরে মোদি জমানার সব চাইতে বিতর্কিত যে নোট বাতিল কাণ্ড, তা পরোক্ষে রাজকোষের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটিয়েছে। গত চারবছরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আয়কর সংগ্রহ বেড়েছে ৪০ শতাংশ, এবং এর ফলে রাজকোষ ঘাটতি কমানোয় দারুণভাবে সাফল্য এসেছে। এই বিষয়টিকে যে ‘ট্যাক্স টু জিডিপি’ অনুপাতের হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাতে ৫৬% উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি রয়েছে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী জিডিপি সাড়ে তিন শতাংশের মধ্যেই। ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে। এতে লগ্নির পরিবেশ অনুকূল, তার উপর আশানুরূপ বিদেশি লগ্নি আসছে,  বিদেশে তেলের দাম বা টাকার দামে ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও চলতি খাতের ভারসাম্য লগ্নি ও বিদেশি মুদ্রা আগমনের নিরিখে সন্তোষজনক। সব মিলিয়ে এখন কোষাগারীয় পরিস্থিতি অনুকূলে। এই অবস্থায়  তাই যে-কোনও সরকার চাইলে আম জনতার জন্য কিছু ভালো প্রস্তাব রাখতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। অরুণ জেটলির অসুস্থতায় এখন বাজেট পেশ করতে এসে সকল মহলের জন্য কতখানি দায় ও ঝুঁকি নিতে পারেন পীযূষ গোয়েল, সেটাই দেখার।
অন্তর্বর্তী হলেও এই বাজেটেই সত্যিই কিছু করতে হবে মোদি সরকারকে, এমন বিষয়টা রাজনৈতিক নয় শুধু, অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। দেশের বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের উপরে হলেও ‘জব লেস গ্রোথ’। কর্মসংস্থান বাড়ছে না আশানুরূপ হারে, এটাই মোদির সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোটের রায়ে ক্ষমতায় যেই আসুক, আগে দেশ ও জনতার স্বার্থে কর্মসংস্থান সমস্যার গুরুত্ব অগ্রাধিকার দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। এই বাজেটে তাই পরিকাঠামো, হাউজিং, রিয়াল এস্টেটে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে ‘স্টার্ট আপ বিজনেসে’ কর ছাড় দিতে হবে, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের বাজার ফিরিয়ে দিতে হবে চীনাপণ্যের সঙ্গে লড়াইয়ে, তার জন্য মাশুল সংস্কার করতে হবে, জিএসটি কমানো খুব জরুরি, নইলে দেশের বাজার আরো নিয়ে নেবে চীনারা। দেশ কখনও বিদেশি লগ্নির উপর চলতে পারে না, দেশীয় পুঁজিকে শক্তিশালী করে দেশের বাজার তাদের হাতে রাখাটা খুব জরুরি। ব্যাঙ্কিং ও কর সংস্কারের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেটাই। কিন্তু হচ্ছে উল্টো। ফলে সীমিত ও নির্দিষ্ট কিছু কর্পোরেটের বাইরে দেশীয় শিল্পের বিকাশ শ্লথ।
এই বাজেটে সাধারণ আম জনতার জন্য আশা করা যায় করমুক্ত আয়ের ঊর্ধ্বসীমা আরও বাড়িয়ে তিন লাখ করা হবে। তাতে অর্থনীতির লাভ, কিছুটা হলেও চাহিদা বাড়িয়ে বৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত হবে।  বৃদ্ধির হার আরও ২ শতাংশ বাড়াতে গেলে অবিলম্বে চাই একটি গ্রামীণ বিকাশভিত্তিক সত্যিকারের গণমুখী বাজেট, যাতে সাধারণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে, কৃষকের আয় বাড়ে,  ক্ষুদ্র ও মাঝরি শিল্পের বাজার বাড়ে, চাকরির পাশাপাশি লগ্নির পরিবেশ চাঙ্গা হয়। এইসব একটি অন্তর্বর্তী বাজেটের কাজ নয়, কিন্তু এই লক্ষ্যেই আগামী দিনের পদক্ষেপের জন্য এবারের অন্তর্বর্তী বাজেট সাজাতে হবে, সেটাই চ্যালেঞ্জ। নইলে জবাবদিহির দায় এড়ানো কঠিন হবে ভোটের বছরেই।
30th  January, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বসিরহাট: ভ্যাপসা গুমোট গরমের শেষে একটানা বৃষ্টির স্বস্তি এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বসিরহাট পুরসভা এলাকায়। বেশিরভাগ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি জলের তলায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ...

 সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি সদর এলাকায় টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করতে ময়নাগুড়ি পুলিস প্রশাসন বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে চলেছে। ব্যস্ত রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে টোটো পার্কিং করা হলে তা ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুধু হাওড়া শহর সংলগ্ন এলাকায় নয়, হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এবার শিল্প স্থাপনে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। তার জন্য উদয়নারায়ণপুরের কান্দুয়ায় ৪০০ একর জমি বাছা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭০ একর জমি কেনাও হয়ে গিয়েছে। ...

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর শহরে দলমাদল রোডে ভরসন্ধ্যায় যুবক খুনের ঘটনায় শুক্রবার রাতে পুলিস এক ফুচকা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম মধুসূদন মাঝি। তার বাড়ি বিষ্ণুপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ,ওইদিন সন্ধ্যায় ফুচকা বিক্রেতার সঙ্গে যুবকের বচসা বাধে। তা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

হঠাৎ জেদ বা রাগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া শ্রেয়। প্রেম-প্রীতির যোগ বর্তমান। প্রীতির বন্ধন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০০: রাজনীতিক বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের জন্ম
১৯৩৬: গীতিকার ও পরিচালক গুলজারের জন্ম
১৯৫৮: ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করলেন প্রথম এশীয় ব্রজেন দাস
১৯৮০: সঙ্গীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৪৯/৪৯ রাত্রি ১/১৪। পূর্বভাদ্রপদ ২৯/২ অপঃ ৪/৫৫। সূ উ ৫/১৮/২, অ ৬/৩/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৯ গতে ৯/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩২ গতে ৯/২ মধ্যে, বারবেলা ১০/৫ গতে ১/১৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৫ গতে ২/৩০ মধ্যে।
৩২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৪৩/৯/৬ রাত্রি ১০/৩২/৩৬। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ২৬/১/৪১ দিবা ৩/৪১/৩৮, সূ উ ৫/১৬/৫৮, অ ৬/৫/৪৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/১২ গতে ৯/৩১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৪ মধ্যে, বারবেলা ১০/৫/১৬ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪১/২২ গতে ১/১৭/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৫/১৬ গতে ২/২৯/১০ মধ্যে।
 ১৬ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নেতাজিনগরে ২টি অটোর সংঘর্ষ, জখম মহিলা 

08:31:00 PM

বেনিয়াপুকুরে তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার 

06:21:00 PM

পানিহাটিতে গঙ্গায় ডুবে যাওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার 

05:49:00 PM

পানিহাটিতে গঙ্গায় ডুবে যাওয়া যুবকের দেহ উদ্ধার 

05:46:00 PM

তপসিয়ায় বহুতলে আগুন, দমকলের ১টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে 

05:43:00 PM

শেক্সপিয়র সরণীর ঘটনায় ধৃতের পুলিস হেফাজত 
শেক্সপিয়র সরণীর ঘটনায় ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ধৃতের পুলিস হেফাজত। ...বিশদ

04:09:25 PM