Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মমতার নেতৃত্ব ছাড়া বিরোধীদের
লোকসভা জয়ের স্বপ্ন সফল হবে?
শুভা দত্ত

তিন রাজ্যের ভোটে ভালো ফল করার পর যে জাতীয় স্তরে কংগ্রেস ফের খানিকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে তাতে সন্দেহ নেই। লোকসভার ভিতরে বাইরে তাদের নেতা রাহুল গান্ধীর কথাবার্তা ও শরীরী ভাষাতেও সেটা পরিষ্কার। বিশেষ করে রাফাল যুদ্ধবিমানের বরাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌যুদ্ধ এবং উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের তরজায় এখন কংগ্রেস সভাপতি রাহুলকেই যেন অপেক্ষাকৃত ধারালো, তরতাজা দেখাচ্ছে! তবে, অনেক সময় তরজার ঝোঁকে মাত্রাজ্ঞানটা যে গৌণ হয়ে পড়ছে এটাও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। এই তো, গত বুধবার জয়পুরে এক জনসভায় রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাফাল নিয়ে খোঁচা দিতে গিয়ে বললেন, ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতিওয়ালা চৌকিদার এখন একজন মহিলার শরণ নিয়েছেন, বলছেন, আমাকে বাঁচান। আমি নিজেকে বাঁচাতে পারছি না! মহিলা যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা তা আশা করি বলার অপেক্ষা রাখে না। এর পাল্টা দিতে গিয়ে আগ্রার এক সভায় মোদিজি রাহুলের নাম না করে তাঁর মন্তব্যকে ভারতের প্রথম মহিলা প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সমেত গোটা দেশের নারীশক্তির অবমাননা বলে অভিযোগ তুললেন। আর তা শোনামাত্র কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে যে চূড়ান্ত অস্বস্তিকর কটাক্ষটি হানলেন তার জবাব দেওয়া সহজ ছিল না! জবাব আসেওনি। টুইটে রাহুল লিখেছিলেন, মোদিজি, আপনার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমাদের সংস্কৃতিতে ঘর পরিবার থেকেই নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সূচনা হয়। কথাটার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কে না বোঝেন?
আসলে, যাকে বলে ‘বিলো দ্য বেল্ট’ আঘাত করা, আজকাল রাজনীতির ময়দানে সেটা যে একরকম রেওয়াজই হয়ে গেছে ওই টুইট কটাক্ষ তারই প্রমাণ। যুক্তিতে না পারলেই আকথা-কুকথা আর তাতে যদি মনে হয় উদ্দেশ্য সিদ্ধ হচ্ছে না, তখন ঘর পরিবার নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধীর (তা সে তিনি বিরোধী দলনেতা নেত্রীই হোন কি দেশের প্রধানমন্ত্রী) কোনও দুর্বল জায়গায় ঘা মারা— রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এখন এমন আকছার ঘটছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও তাঁর ব্যতিক্রম হতে পারলেন কই? রাফাল যুদ্ধবিমানের বরাত নিয়ে বহুদিন যাবৎই রাহুল প্রধানমন্ত্রীকে বিঁধতে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ বলে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগটি প্রায় স্লোগানের মতো ছড়িয়েছে সারা দেশে! দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে চৌকিদার ব্যাপারটা! এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। রাজনীতির লোকজন সম্পর্কে বহুকাল ধরেই মানুষের ধারণা খুব মধুর নয়। তাই, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও একটা কিছু মুখরোচক পেলে বহুজনই তার সত্য-মিথ্যা বিচার না করেই গিলে নেন। আর সেই রাজনীতিক যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে তো কথাই নেই। বড় ক্ষমতাবানকে, বিশেষ করে যিনি ‘প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ’ বলে চিহ্নিত, তাঁকে কোনওভাবে অস্বস্তিতে পড়তে দেখলে অনেকের এক ধরনের ভালো লাগে বোধহয়। আর তাই, ২০১৪ সালে নতুন ভারত দারিদ্র্য-দুশ্চিন্তামুক্ত ভারত গড়ার কারিগর বলে যাঁকে দেশের মানুষ বিপুলভাবে বরণ করে নিয়েছিলেন, মাত্র কটা বছর পর তাঁর বিরুদ্ধে চোর অপবাদ প্রকৃত সত্য যাচাইয়ের অপেক্ষা না রেখে সেই জনমহলের একাংশেই বেশ জায়গা পেয়ে যায়! এবং ওই স্লোগানের কারিগর কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নামটাও সে মহলে আগের চেয়ে বেশি চর্চায় চলে আসে। সেইসঙ্গে তিন রাজ্যের বিধানসভায় কংগ্রেসের রীতিমতো মোড় ঘোরানো ফল রাহুল-চর্চাকে আরও গভীর, আরও ব্যাপক করে তোলে! পুরনো ভাবনা ছেড়ে নতুন চোখে রাহুলকে দেখাও শুরু হয়ে যায় মহলের কোথাও কোথাও! এই না হলে ভারতদেশের রাজনীতি!
তো সে যাই হোক, তিন বিধানসভা জয়ের অক্সিজেন পেয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সপার্ষদ মোদি হটাও অভিযানে নেমে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছেন, সভা সমাবেশ করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে রাফাল ইত্যাদি নিয়ে তোপের পর তোপ দাগছেন, কটুকাটব্য ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করছেন, অনেক সময় সেসবের সীমা বেল্টের নীচেও নেমে যাচ্ছে, আর তাতে উৎফুল্ল সমর্থক জনতার উল্লাসও শুনছেন। অন্যদিকে, বামেরাও তাঁদের শ্রমিক সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে দেশ জুড়ে দুদিনের ধর্মঘট করে মোদিজির সরকারকে ‘ধাক্কা’ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। তাতে কাজের কাজ কী হল ভবিষ্যৎ বলবে, তবে দুদিন এই বাংলায় না হলেও দেশের কোথাও কোথাও গরিবের রুটি-রুজি বন্ধ থাকল, কাজকামে বিঘ্ন ঘটল, সাধারণ জনজীবন কিছুটা হলেও বিপর্যস্ত হল! বন্‌ধ সমর্থক নেতানেত্রীরা বুক ফুলিয়ে দাবি করলেন, দেশজনতা তাঁদের বন্‌ধ঩কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং আসন্ন লোকসভা ভোটে মোদিরাজ খতম করতে তাঁরা বামেদের সমর্থনপুষ্ট বিরোধী জোটকে সাথ দেবেন! পাশাপাশি ওড়িশার নবীন পট্টনায়েক, ইউপির মায়াবতী অখিলেশ যাদবরাও নানান খেল্‌ ঩নিয়ে আসরে নেমে পড়েছেন। কিন্তু, প্রশ্ন হল, এভাবে কি হবে? রাহুল গান্ধী, অখিলেশ মায়াবতী বা সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম যেই থাকুন, মমতার নেতৃত্ব ছাড়া বিরোধীদের লোকসভা জয়ের স্বপ্ন সফল হবে? ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা দেশের চৌকিদারকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে?
রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞমহলের অনেকেই মনে করছেন, এই মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতি যা তাতে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধীজোট হলেই দিল্লির মসনদে রং বদল হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিকল্প একটাই—মমতার ফেডারেল ফ্রন্ট। মমতা বহুদিন ধরেই ফেডারেল ফ্রন্ট তৈরিতে নেমেছেন তেলেঙ্গানার কেসিআর অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবুর মতো দেশের নানা প্রান্তের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ইতিমধ্যেই মমতার ফ্রন্টে শামিল হয়েছেন। কিন্তু, তিন রাজ্যের ভোটে কংগ্রেস ভালো ফল করার পর রাহুল গান্ধী খানিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ায় কোনও কোনও নেতা আবার দোলাচলেও ভুগছেন। মমতা না রাহুল কোনদিকে যাবেন তাই নিয়ে দোলাচল। কিন্তু, রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞজনেদের বক্তব্য, রাহুল সভাসমিতিতে বা টুইট করে চটকদার চমকদার যেসব কথা বলছেন বা যেসব লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন—ভোট রাজনীতির দিক থেকে তার একটা তাৎক্ষণিক মূল্য থাকতে পারে। কিন্তু, তা দিয়ে মোদিজি বা তাঁর বিজেপির মতো কৌশল-নিপুণ প্রভাবশালীকে চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে পরাস্ত করা, কি নিদেনপক্ষে কিছুটা বেকায়দায় ফেলাও কতদূর সম্ভব তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। কারণ, যে দুর্নীতিকে ইস্যু করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বেকায়দায় ফেলতে চাইছেন রাহুল, ঠিক সেই ইস্যুতেই তাঁদের দলের সরকারের মহাপতন ঘটেছিল ২০১৪ সালে! মনমোহন সিং সরকারের বিরুদ্ধে দেশজনতার প্রধান যে দুটি অভিযোগ ছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতি! আজ মোদিজির বিরুদ্ধে যেমন সাধারণ মানুষের মনে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের জ্বালা জেগেছে, মূল্যবৃদ্ধির দাপটে সেই জ্বালায় যন্ত্রণা বেড়েছে— মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। মনমোহনের কংগ্রেস সরকারের প্রতি দেশের মানুষের সেই ক্ষোভ, সেই প্রতিশ্রুতিভঙ্গের জ্বালা রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসের রাজনৈতিক অগ্রগতির পথে নরেন্দ্র মোদির চেয়েও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। মানুষের মন বলে কথা!
আর বাদবাকি যাঁরা, তাঁদের কার আছে তেমন সর্বভারতীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি, যা দিয়ে মোদিজিকে টেক্কা দিতে পারেন তাঁরা? একটা জবরদস্ত ভোট মহাযুদ্ধের পটভূমি রচনা করতে পারেন? আছেন তো একজনই— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ কথা আমরা বলছি না, বলছেন জাতীয় রাজনীতির একাধিক পর্যবেক্ষক, বলছে মমতামুগ্ধ দেশ জনতা। বলছে যে তার কারণও আছে। প্রথমত, মমতার কোনও অপ্রীতিকর ইতিহাস নেই। অতীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে রেল সমেত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর তিনি সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন। তাঁর আমলে ‘দূরন্ত’র মতো দুর্দান্ত নন-স্টপ ট্রেন এবং ঝকঝকে পরিষেবা পেয়েছিল দেশ। রেলের ভাড়াও নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। তাতে আপামর দেশবাসী যে উপকৃত হয়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ রেলের অবস্থা, চড়া ভাড়া এবং পরিষেবার মানের সঙ্গে তুলনা করলে তফাৎটা যে কারওরই নজরে আসবে। অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সিপিএমের ছেড়ে যাওয়া রুগ্ন, হতশ্রী শিল্পহীন উন্নয়নহীন রাজ্যটাকে মাত্র কয়েক বছরে অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি কোথায় তুলে নিয়ে গেছেন সেটাও লোকে দেখছেন। তাঁর বিশ্ববাংলা কন্যাশ্রী আজ কেবল দেশে নয়, গোটা বিশ্বে মর্যাদা স্বীকৃতির আলোয় মহিমান্বিত। এবং, ইতিমধ্যেই মমতা ঘোষণা করেছেন, দেশের ক্ষমতায় এলে গোটা দেশকে কন্যাশ্রীর আওতায় আনবেন।
দেশের মানুষ তাঁর এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করলে আশ্চর্যের কিছু নেই। কারণ তাঁরা তো শুনছেন, দেখছেন, বুঝছেন—মমতা যা প্রতিশ্রুতি দেন তা বাস্তবায়িত করেন। দেশের মন্ত্রী হিসেবে করেছেন। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে করছেন। আর সেইসূত্রেই দেশজনতার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও করবেন। মোদিজির মতো মহানেতা এবং তাঁর সুদক্ষ পদ্মবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন একজন সৎ-স্বচ্ছ কর্তব্যে অবিচল মহানেত্রী ছাড়া লড়াই জমে!
13th  January, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মঙ্গলবার সন্ধ্যার ৪০ সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া আমতা ২ নং ব্লকের কুশবেড়িয়া ও তাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

জেনিভা, ১৯ জুন (এএফপি): সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে খুনের ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজের যোগ থাকার জোরালো প্রমাণ মিলেছে বলে জানালেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক মানবাধিকার কর্মী। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি। ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারিই সার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে টোটোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযানে নামতে পারছে না পরিবহণ দপ্তর। প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মে’র পর রাস্তায় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের আকস্মিক অবনতি। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। ব্যবসায় নতুন সুযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস
১৯৩৯: ক্রিকেটার রমাকান্ত দেশাইয়ের জন্ম
১৯৫২: লেখক বিক্রম শেঠের জন্ম
১৯৭৯: ফুটবলার রেনেডি সিংয়ের জন্ম
২০০৭: অভিনেত্রী অনীতা গুহের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৯ টাকা ৭১.০৫ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩২ টাকা ৮৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৬.০২ টাকা ৭৯.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ৩০/৩০ অপঃ ৫/৯। উত্তরাষাঢ়া ২৬/৪৭ দিবা ৩/৩৯। সূ উ ৪/৫৬/২০, অ ৬/১৯/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৯/৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ২/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। 
৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২৭/২৪/১ দিবা ৩/৫৩/৬। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২৫/৩৬/১১ দিবা ৩/৯/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/১০ মধ্যে ও ৩/৩৫ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪১/২৯ গতে ৬/২২/২১ মধ্যে, কালবেলা ৩/০/৩৮ গতে ৪/৪১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৮/৫৬ গতে ১২/৫৮/৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৬ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১১৭/০ (২০ ওভার)

04:32:28 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ৫৩/০ (১০ ওভার)

03:50:40 PM

ভাটপাড়ার পরিস্থিতি সামলাতে বিশেষ দায়িত্ব সঞ্জয় সিংকে 
ভাটপাড়ার পরিস্থিতি সামলাতে এডিজি(দক্ষিণবঙ্গ) সঞ্জয় সিংকে বিশেষ দায়িত্ব দিল রাজ্য। ...বিশদ

03:28:00 PM

বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়লেন নুসরত 
খুব ভুল না হলে টলিউডে প্রথম ডেস্টিনেশন ওয়েডিং সারলেন অভিনেত্রী-সংসদ ...বিশদ

02:40:33 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার 

02:38:15 PM

রাজ্য জয়েন্টে প্রথম দুর্গাপুরের সোহম মিস্ত্রি 
রাজ্য জয়েন্টে প্রথম স্থান অধিকার করলেন দুর্গাপুরের সোহম মিস্ত্রি। দ্বিতীয় ...বিশদ

02:29:43 PM