Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মমতার ব্রিগেডে মিলতে পারে
অনেক রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ-রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে যাবে। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারিতে বামেদের সমাবেশ রয়েছে ব্রিগেডে। বিজেপি ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের কথা ঘোষণা করলেও, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ আটকে পড়ায়, ২৯ জানুয়ারি নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে ব্রিগেডে সমাবেশ করার কথা নতুন করে ভাবছে। রাজ্য কংগ্রেসও চাইছে রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে ব্রিগেডে সমাবেশ করতে। যে-কোনও নির্বাচনে প্রচার শুরুতে রাজ্যের প্রধান দলগুলি ব্রিগেড সমাবেশ করে থাকে। এটাই এই রাজ্যের রাজনৈতিক রেওয়াজ। ব্রিগেডে বড় মাপের জনসমাগম করে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কর্মীদের সক্রিয় করতে চান যেমন, তেমনি ভোটারদের সামনে দলের শক্তি প্রদর্শন করে নির্বাচনে দলের মূল ভাবনা উপস্থাপন করতে চান। ব্রিগেডে সমাবেশ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলি প্রচারের কেন্দ্রে থাকার সুযোগ পায়।
রাজ্য-রাজনীতির চার পক্ষ—তৃণমূল, বিজেপি, বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে নানা কারণেই তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে রাজ্য তো বটেই, সারা দেশেই যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। বলা যায় ১৯ জানুয়ারি সারা দেশের রাজনৈতিক মহলের চোখ থাকবে ব্রিগেডের সমাবেশের দিকে। এই আগ্রহের পেছনে মূল কারণগুলি হল—
ক) বিমুদ্রাকরণের সময় থেকে তৃণমূল নেত্রী সারা দেশেই মোদি-বিরোধী অন্যতম মুখ হিসাবে উঠে এসেছেন। সুতরাং, মোদির বিরোধিতায় লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী রাজনৈতিক বক্তব্য এই সমাবেশ থেকে উঠে আসে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল তো বটেই, সাধারণ মানুষেরও যথেষ্ট আগ্রহ থাকবে।
খ) ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশকে তৃণমূল নেত্রী সর্বভারতীয় বিজেপি-বিরোধী মঞ্চ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছেন। আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিজেপি-বিরোধী সমস্ত দলকে। ১৯ তারিখের ব্রিগেডে কোন কোন বিরোধী দলনেতা মমতার ডাকে সাড়া দেন সেই দিকে শাসক-বিরোধী সমস্ত নেতৃত্বের নজর থাকবে।
গ) বিজেপি শিবিরে একাধিক নেতা নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন যশোবন্ত সিন্‌হা, শত্রুঘ্ন সিন্‌হা, অরুণ শৌরি এবং রাম জেঠমালানি। মমতা শেষ পর্যন্ত বিজেপির চার বিক্ষুব্ধ নেতাকে ব্রিগেড সমাবেশে হাজির করতে পারেন কি না সেই বিষয়েও রাজনৈতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে।
ঘ) মমতার ব্রিগেড সমাবেশে বিজেপি-বিরোধী জোটের প্রকৃতি নিয়েও যথেষ্ট আগ্রহ থাকবে। রাহুল গান্ধী হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে বিজেপিকে পরাজিত করবার পর ডিএমকে সমেত বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দল কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি-বিরোধী জোট গঠনের পক্ষে। অন্যদিকে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা ফেডারেল ফ্রন্টের পক্ষে। মায়াবতী, নবীন পট্টনায়করা আবার এখনই কোনও শিবিরে যেতে চাইছেন না। ব্রিগেড থেকে মোদি-বিরোধী জোটের কোনও চেহারা বের হয় কি না সেই বিষয়েও নজর থাকবে।
ঙ) কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনার প্রশ্নে ব্রিগেড সমাবেশ থেকে মমতা নতুন কিছু কর্মসূচি বা ভাবনার কথা জনতার কাছে পেশ করেন কি না সেই বিষয়েও সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকবে। মোদির সরকার পরিচালনা নিয়েও যথেষ্ট সোচ্চার মমতা। অতএব মমতার ঝুলিতে সরকার পরিচালনায় নতুন কোনও ভাবনা রয়েছে কি না সেই বিষয়েও জল্পনা থাকবে।
মমতার ডাকা ব্রিগেড সমাবেশের তুলনায় বিজেপির ডাকে ব্রিগেড সমাবেশ হবে এককভাবে রাজ্য বিজেপির উদ্যোগে। মমতার ডাকা ব্রিগেডের মতো সেই সমাবেশের সর্বভারতীয় চরিত্র থাকার সম্ভাবনা নেই। কেবলমাত্র মোদি-কেন্দ্রিক সমাবেশ। অন্যদিকে, ব্রিগেডে সমাবেশ করে বামেদের লক্ষ্য থাকবে রাজ্য-রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে রাখা। ওই সমাবেশ তৃণমূলের মতো না-হলেও বাম নেতৃত্ব চাইছেন মোদি-মমতা বিরোধী সমাবেশ হিসাবে সর্বভারতীয় চেহারা দেবার। কংগ্রেসও চাইবে রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে পূর্ব ভারতে মোদি-বিরোধী সর্বভারতীয় সমাবেশ ব্রিগেডে আয়োজন করতে। ততদিনে নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে এই রাজ্যে যদি আসন সমঝোতা হয়ে যায়, তবে কংগ্রেসের ডাকা ব্রিগেডও বিরোধীদের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আয়োজিত ব্রিগেডের পর মূল প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসবে, কোন দলের ব্রিগেড সমাবেশে কত মানুষের ভিড় হয়েছিল? সাধারণত শাসক দলই এই ক্ষেত্রে অ্যাডভান্টেজ অবস্থায় থাকে। তৃণমূলের আজ সারা রাজ্যে যে ধরনের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে তাতে কেবলমাত্র উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই লোক এনে মাঠ ভরিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে, যেমনভাবে একসময় সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তী কেবলমাত্র উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই লোক এনে ব্রিগেড ভরে দেবার দাবি করতেন। প্রশাসন হাতে থাকলে বাস, লরি পেতে যেমন সুবিধে, তেমনি সরকারের উপভোক্তাদের সহজেই দলীয় সমাবেশে হাজির করা যায়। সেই তুলনায় বিরোধীদের ক্ষেত্রে ব্রিগেড ততটা সহজ নয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন একাধিকবার ব্রিগেডে ঐতিহাসিক জনসমাবেশে করেছিলেন। এর মধ্যে ১৯৯২ সালে মমতার ডাকে ব্রিগেড ছিল আক্ষরিক অর্থেই ঐতিহাসিক। ওই সমাবেশে তিনি বামফ্রন্টের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে বাম-বিরোধিতাকে এক অন্যমাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ব্রিগেড ভরলেই যে ভোটের বাক্স ভরবে তেমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলায় বুথ যার ভোট তার। বুথস্তরে এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া এই রাজ্যে বিজেপি-সিপিএম বা কংগ্রেস কোনও দলেরই মজবুত সংগঠন নেই। ফলের ব্রিগেড ভরালেও ভোটের বাক্স ভরবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই। যদিও লোকসভা নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শন করে কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের কাছে বার্তা দেওয়ার সুযোগ কোনও দলই হাতছাড়া করতে চায় না।
১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সভার তুলনা টানা চলবে দুইদিক থেকে: (এক) ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের আগে ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪-য় যে ব্রিগেড জনসভা হয়েছিল এবং (দুই) বিভিন্ন সময়ে দিল্লির রামলীলা ময়দানে কিংবা বিহারের পাটনায় বিরোধী নেতাদের নিয়ে যে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
২০১৪-র ৩০ জানুয়ারি ব্রিগেডে বিপুল জনসমাবেশ দেখে সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ইন্দিরা-মুজিবর রহমানের জনসভার তুলনা করেছিলেন। তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে চ্যালেঞ্জ—২০১৪ ভিড়ের রেকর্ডকে অতিক্রম করা। অতীতের রামলীলা ময়দানের বা পাটনায় বিরোধী নেতাদের ডাকা সমাবেশগুলির সঙ্গে মমতার ডাকা এই ব্রিগেড সমাবেশেরও কিন্তু একটা তুলনা আসবে। এখানেই আঞ্চলিক নেতা হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফল্য।
এই সমস্ত বিষয় ছেড়ে ১৯ জানুয়ারি মমতার ব্রিগেডের মূল চর্চার বিষয় কিন্তু মোদি-বিরোধী জোটের অভিমুখ এই সভা থেকে পাওয়া যাবে কি না। সেই বিষয়ে উত্তরে কাশ্মীরে ফারুক আবদুল্লা থেকে দক্ষিণে চন্দ্রবাবু নাইডু, পূর্বে লালুপ্রসাদের পুত্র তেজস্বী যাদব থেকে পশ্চিমে দলিত নেতা জিগনেশ-অল্পেশ-হার্দিকরা, বা উত্তর-ভারত থেকে অখিলেশ-অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা থাকবেন। কিন্তু মমতার ব্রিগেডে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী আসবেন কি? রাহুল এলে ফেডারেল ফ্রন্টের সঙ্গে কংগ্রেসকে কীভাবে মেলাবেন? না কি মমতা কংগ্রেস বা ইউপিএ-র সমান্তরালভাবে ফেডারেল ফ্রন্টকে মোদির বিরুদ্ধে পরিচালনা করবেন?
মমতার ব্রিগেড থেকে এইসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। তবে, মোদির বিরুদ্ধে একাধিক ফ্রন্ট তৈরি করলে কিন্তু রাজনৈতিকভাবে বিজেপির লাভের সম্ভাবনা থাকছে। বহু মানুষ বিজেপিকে চায় না যেমন সত্য, তেমনি ১৯৮৯ বা ১৯৯৬-এর মতো কেন্দ্রে অস্থির সরকার গঠিত হোক সেটারও বিরুদ্ধে মানুষ। বিজেপি-বিরোধী দলগুলি যদি একাধিক ফ্রন্টে বিভক্ত থাকে তবে ১৯৮৯ বা ১৯৯৬-এর অভিজ্ঞতা ভোটারদের শুনিয়ে মোদি আবারও দিল্লির মসনদে বসবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়?
লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
10th  January, 2019
আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম।
বিশদ

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে।
বিশদ

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

23rd  April, 2019
মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
একনজরে
 বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা মোটেই খারাপ নয়। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের সর্বশেষ হিসেব বলছে, দেশে যত বিদেশি পর্যটক পা রাখেন, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ স্থানে। এমনকী কেরল বা গোয়া— পর্যটন সংক্রান্ত আলোচনায় যে অঙ্গরাজ্যগুলির নাম আগে ...

 কলম্বো, ২৪ এপ্রিল (পিটিআই): শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পিছনে ছিল এক মহিলা সহ মোট ন’জন। তদন্তে নেমে এই তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। হামলাকারী ন’জনের মধ্যে আটজনকে ...

সংবাদদাতা, ধনেখালি: বুধবার সকালে তারকেশ্বর বিধানসভা ও ধনেখালি থানার অন্তর্গত গোপীনাথপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করলেন আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দার। হুডখোলা ৩০টি টোটো, প্রায় ৫০টি বাইক নিয়ে শোভাযাত্রা করেন তৃণমূল প্রার্থী। ...

  সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফালাকাটায় আলিপুরদুয়ার জেলার প্রথম স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফালাকাটার টাউন ক্লাবের মাঠে এই স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হওয়ায় ফালাকাটা সহ জেলার ক্রীড়া মহলে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপথগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০: মার্কিন অভিনেতা আল পাচিনোর জন্ম
১৯৬৮: গায়ক ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের মৃত্যু
১৯৬৯: ফুটবলার আই এম বিজয়নের জন্ম
১৯৮৭: সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৮ টাকা ৭০.৬৭ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৭১ টাকা ৯১.৯৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৮৪ টাকা ৭৯.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ১৮/৫৫ দিবা ১২/৪৭। পূর্বাষাঢ়া ৩৮/৩১ রাত্রি ৮/৩৭। সূ উ ৫/১২/৪৮, অ ৫/৫৬/৪০, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪২ গতে ২/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ২/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৮ মধ্যে।
১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ২৩/২৪/২৫ দিবা ২/৩৫/৭। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ৪২/৫৩/২ রাত্রি ১০/২২/৩৪, সূ উ ৫/১৩/২১, অ ৫/৫৭/৫৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪০ গতে ২/৫৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/২২/১৯ গতে ৫/৫৭/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৪৬/৪৫ গতে ৪/২২/১৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৫/৩৭ গতে ১/০/৪ মধ্যে।
১৯ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 আইপিএল: কেকেআর ১০০/৪ (১৫ ওভার)

09:19:38 PM

 আইপিএল: কেকেআর ৪৯/৩ (১০ ওভার)

08:51:57 PM

 আইপিএল: কেকেআর ৩১/২ (৫ ওভার)

08:26:46 PM

 টসে জিতে ফিল্ডিং নিল রাজস্থান
টসে জিতে প্রথমে কেকেআরকে ব্যাট করতে পাঠাল রাজস্থান রয়্যালস ...বিশদ

07:35:41 PM

মুম্বইয়ের ধারাভিতে বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১, চলছে উদ্ধারকাজ 

04:18:53 PM

মোদিকে হ্যাঙারে ঢুকে যেতে হবে: মমতা 

04:05:00 PM