Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দু’দিনের বন্‌ধ সফল করে কি সিপিএম ভাবমূর্তি ফেরাতে পারবে?
শুভা দত্ত

সিপিএমের প্রবীণ নেতা বিমান বসু একটি প্রস্তাব রেখেছিলেন। সরাসরি অবশ্য প্রস্তাবটা রাখেননি বিমানবাবু, রেখেছিলেন আকারে ইঙ্গিতে, ঘোরানো কথায়। কিন্তু, রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণজন সকলেই তাঁর সেই ঘোরানো-প্যাঁচানো কথার মধ্যেকার আসল বক্তব্যটি ধরে ফেলেছিলেন। গত বুধবার বারাসতে বন্‌঩ধের প্রচারে পদযাত্রার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য বিমানবাবু যা বলেছিলেন, তাতে উপস্থিত সকলেরই মনে হয়েছিল তিনি এই ইঙ্গিতই দিচ্ছেন যে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল যদি তাঁদের দু-দিনব্যাপী বন্‌঩ধে শামিল হয়, সমর্থন করে তাহলে বামেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি-বিরোধী ব্রিগেড সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা ভেবে দেখবে! মানে যাকে বলে, দিবে আর নিবে, মেলাবে মিলিবে। শুধু তাই নয়, বিমানবাবুর ওই প্রচ্ছন্ন আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই যেন একই মর্মে বন্‌঩ধের উদ্যোক্তাদের শিবির থেকে ‘আমন্ত্রণে’র চিঠিও চলে গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার দরবারে! এবং প্রত্যাশিতভাবেই শাসকদলের সুপ্রিমো বা শীর্ষ নেতৃত্ব ওই আমন্ত্রণে কোনও আগ্রহ দেখাননি। শুধু তাই নয়, বন্‌ধ ঩নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তাঁর প্রশাসনের অনড় অবস্থানেও যে তাতে কিছুমাত্র নড়চড় হয়নি তা শুক্রবারই স্পষ্ট হয়ে গেছে। মমতা সরকারের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৮-৯ জানুয়ারির বন্‌ধ঩কে তাঁরা কোনওভাবেই সমর্থন করবেন না। পরন্তু ওই সময় সরকারি কর্মচারীরা ছুটি নিলে (অসুস্থতা ইত্যাদি কয়েকটি ক্ষেত্র বাদে) তা চাকরিতে ছেদ হিসেবেই গণ্য হবে। সুতরাং, বিমানবাবুর আহ্বান একরকম মাঠে মারা পড়ল।
কিন্তু, বিমানবাবুর ওই বক্তব্যে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন বাম নেতৃত্ব, বিশেষত সিপিএম। কারণ, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে শুরু করে ফ্রন্টের সকলেই বোঝেন—এমন প্রস্তাব যথেষ্ট বাস্তবসম্মত বা দূরদর্শী ছিল না। উল্টে এই ধরনের আমন্ত্রণে এ রাজ্যে বন্‌ধ সফল করা নিয়ে বামেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকটাই প্রকট হয়ে উঠেছে। কেননা প্রথমত, যে মমতাকে দিনরাত উঠতে-বসতে কারণে- অকারণে গালমন্দ করা হচ্ছে, মোদি-মমতা একই মুদ্রার দুই পিঠ বলে যাঁর উদ্দেশ্যে কদর্য কটাক্ষ করা হচ্ছে, পদে পদে যাঁর উন্নয়ন কাজগুলোকে লোকচক্ষে হেয় অর্থহীন প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে—সেই তিনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন প্রস্তাবে কিছুতেই সায় দেবেন না। দেবেন না, তার কারণ এই নয় যে, যারা এই প্রস্তাব রাখছে সেই সিপিএম তাঁর চরম প্রতিপক্ষ, রাজনৈতিক শত্রু। সিপিএমের সঙ্গে এক সারিতে দাঁড়াতে তাঁর আপত্তি। মোটেই না। মমতার উদারতা ও রাজনৈতিক সৌজন্য গোটা দেশ জানে। এই সেদিনও রাজ্যের প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী সিপিএম নেতা নিরুপম সেনের মৃত্যুর পর রাজ্যবাসী ফের তার পরিচয় পেয়েছেন।
কিন্তু, পাশাপাশি এটাও তো সত্যি যে, কিছু নীতিগত ক্ষেত্রে মমতা বজ্রের মতো কঠোর অনমনীয় অবিচল। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ গরিব দিন আনি দিন খাই মানুষের ক্ষতি হয় সেখানে মমতা একেবারেই আপসহীন। আর তারই একটা হল এই বন্‌ধ। দৈনন্দিনের যাবতীয় কাজকর্ম পণ্ড করে বন্‌঩ধের বিরোধিতায় মমতা তাই চিরকালই ভয়ঙ্কর কট্টর এবং একবগ্গা। এমনকী রাজ্যের বিরোধী নেত্রী থাকাকালেও তিনি বন্‌ধ঩কে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার করেননি। তাঁর সাফ কথা, বন্‌ধ কর্মনাশা, গরিবের রুটি-রুজির শত্রু। তাই, কোনও অবস্থাতেই তিনি বা তাঁর সরকার বন্‌ধ সমর্থন করেনি, করে না, করবেও না। এ কথা শত-সহস্রবার বলেছেন তিনি। এই মনোভাবনা থেকেই ক্ষমতায় আসার পর তিনি এ রাজ্যে বন্‌঩ধের রাজনীতি মোটামুটি তুলেই দিয়েছেন—কথায় নয়, বাস্তবে। এ রাজ্যে ২০১১ সালের পর কোনও বন্‌ধ তাই সফল হতে পারেনি। বন্‌঩ধের দিনগুলোতে জনজীবন অন্য আর পাঁচটা দিনের চেয়েও যেন বেশি সচল ও স্বাভাবিক থেকেছে। বিমানবাবু কেন, রাজ্যের আপামর মানুষ এ কথা জানেন। তা সত্ত্বেও কী করে ওই প্রবীণ নেতা এমন ইঙ্গিত করেন—তা নিয়ে সিপিএমে তো বটেই, ফ্রন্টের অন্য মহলগুলোতেও বিস্ময়, অস্বস্তির সঙ্গে খানিকটা ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত রাজনৈতিক মহলের খবর তেমনি।
আসলে মমতা যে টানা দু’দিনের বন্‌঩ধে সমর্থন জানাবেন না, এমনকী বন্‌ধ ব্যাপারে নিরাসক্ত থেকে বন্‌ধ সফল করার পথ করে দেবেন না কোনওমতেই তা সিপিএম কেন লাল গেরুয়া হাতছাপ তেরঙ্গা থেকে সাধারণ মানুষজন সকলেই জানেন। তা সত্ত্বেও কেন বিমানবাবুর মতো বর্ষীয়ান নেতা বন্‌঩ধে শামিল হওয়ার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ আহ্বান জানালেন!? রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, বিমানবাবুর এই আহ্বান নিছক কথার কথা নয়, এর মধ্যে একটা সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল আছে। রাজ্যে ৪৮ ঘণ্টার বন্‌ধ সফলের ‘নজিরবিহীন’ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সিপিএম চাইছে লোকসভা ভোটের মুখে পার্টির লড়াকু জনদরদি ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে। এবং সেই সূত্রে বঙ্গ রাজনীতিতে তাদের হারানো সোনার দিনের স্মৃতিটা ফের একবার জনমনে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্‌ধ ঩নিয়ে পুরনো অবস্থানে অটল থাকলে তা সম্ভব নয়। ২০১১ সালের পর থেকে সিপিএম নেতৃত্ব অভিজ্ঞতায় বুঝেছেন, এ রাজ্যে বন্‌ধ সফল করার জন্য তাঁরা যতই হাঁকডাক, সভা, মিছিল করুন কার্যক্ষেত্রে তাতে বিশেষ কিছুই ফললাভ হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতার বন্‌ধ ঩বিরোধী কঠোর মনোভাব—বামেদের রাজ্য অচল করার রাজনীতি ভেস্তে দেয়। জনতাও বন্‌঩ধের রাজনীতি বহুকাল বর্জন করেছে। দুই-এ মিলে বন্‌঩ধের দিনেও পুরোপুরি সচল থাকে এ রাজ্যের জীবনযাত্রা।
সিপিএম কি অন্য বিরোধী দলগুলোর হাতে আজ এই ‘প্রতিকূলতা’র সঙ্গে লড়াই করে বন্‌ধ সফল করার মতো সংগঠন বা জনসমর্থন কিছুই নেই। ফলে, বন্‌঩ধের দিনে অসহায় আত্মসমর্পণটা মোটের ওপর অবধারিতই হয়ে পড়েছে। এবার তার ব্যতিক্রম হবে—এমন সম্ভাবনাও নেই। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ফরমান জারি করে দিয়েছে, বন্‌঩ধে ছুটি গ্রাহ্য হবে না। এমন পরিস্থিতিতে উপায় ছিল একটাই—মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বন্‌঩ধের পক্ষে টানা, তাঁর প্রত্যক্ষ না হোক পরোক্ষ সমর্থন আদায় করা। আর তা আদায় করতে মমতার মোদি-বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানকে ব্যবহার। কারণ, দেশের বিভিন্ন শ্রমিক কর্মচারী সংগঠনের ডাকা ৮-৯ জানুয়ারির এই দুদিন ব্যাপী ধর্মঘটের মূল লক্ষ্য মোদিজির নানান জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা। এককথায় মোদি-বিরোধী ধর্মঘট। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিমানবাবুরা হয়তো ভেবেছিলেন, মোদি-বিরোধী অবস্থান ধরে রাখতে মমতা আহ্বানে সাড়া দিতেও পারেন। কেননা, সাড়া দিলে সিপিএম সমেত বাম দলগুলো ১৯ জানুয়ারির ব্রিগেডে মোদি-বিরোধী সমাবেশে শামিল হবে। আর তাতে জাতীয় মোদি-বিরোধী শিবিরের প্রধান নেত্রী মমতার রাজনৈতিক শক্তি আরও জোরদার হবে। আবার বন্‌঩ধের বিরোধিতা করলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষে বাড়তি ইন্ধন যোগ করার সুযোগ পাবে সিপিএম এবং তার সুবাদে জনমহলে কিছু রাজনৈতিক ফায়দাও জুটে যাবে ভোটের মুখে। সেই সঙ্গে নিজেদের সাংগঠনিক ইত্যাদি দুর্বলতাগুলোও সাময়িকভাবে খানিকটা লোকচক্ষু থেকে আড়াল করতে পারবেন তাঁরা।
কিন্তু, মুশকিলটা হল তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মা-মাটি-মানুষের ক্ষতি হয়, অসুবিধে হয় বা রাজ্যের উন্নয়ন এক মুহূর্তের জন্য বিচলিত হয়—এমন চিন্তা তাঁর কোটি মাইলের মধ্যে প্রশ্রয় পায় না। ফলে, ফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। তিনি বন্‌ধ ঩নিয়ে আগের মতোই কড়া অবস্থানে। কিন্তু প্রশ্ন হল, বন্‌ধ সফল করতে শেষে এভাবে পরোক্ষে মমতার দ্বারস্থ কেন হল সিপিএম! দু’দিনের বন্‌ধ সফল করে কি সিপিএম ভাবমূর্তি ফেরাতে পারবে? লালপার্টির প্রতি রাজ্যবাসীর হারানো আস্থা ফিরে আসবে? মানুষ সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম নেতাই কেশপুর সব ভুলে যাবে? ভুলে যাবে ক্যাডার-রাজ, স্বজনপোষণ, চূড়ান্ত বামায়নের সেইসব দমবন্ধ দিনগুলো? মানুষের স্মৃতি এমনিতে দুর্বল কিন্তু সে দুর্বলতাও কি ওইসব ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা ভুলিয়ে দিতে পারে, পেরেছে? পথেঘাটে হাটবাজারে আজ কান পাতলে কি তাই মনে হয়? সত্যি বলতে কী, এই কঠোর বাস্তবটা সিপিএম কেন, রাজ্যের বিরোধীরা সকলেই জানেন বোঝেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতার নেতৃত্বে গত ২০১১ সালের পর থেকে যে বিপুল উন্নয়ন-যজ্ঞ চলছে তাতে মানুষ এখন এতটাই অভিভূত যে, বিকল্প ভাবার চিন্তাটুকুও আজ তাঁদের কাছে প্রশ্রয় পায় না। এমনকী মমতার কট্টর সমালোচকেরাও আজ এই বদলে যাওয়া বাংলা, বিশ্ববাংলার চোখধাঁধানো গরিমা গৌরবকে উপেক্ষা করতে পারছেন না। অস্বীকার করতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতার রাজনৈতিক প্রশাসনিক অনন্যতা। এমন পরিস্থিতিতে কেবল একটা বন্‌ধ সফল করলেই সিপিএমের ৩৪ বছরের কালিমা মুছে যাবে—হয়?
06th  January, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
 হর্ষ ভোগলে : চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লড়াকু মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিজেদের যেটুকু সক্ষমতা রয়েছে, সেটাকেই পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। তারচেয়ে বড় ...

জেনিভা, ১৯ জুন (এএফপি): সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে খুনের ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজের যোগ থাকার জোরালো প্রমাণ মিলেছে বলে জানালেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক মানবাধিকার কর্মী। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারিই সার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে টোটোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযানে নামতে পারছে না পরিবহণ দপ্তর। প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মে’র পর রাস্তায় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের আকস্মিক অবনতি। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। ব্যবসায় নতুন সুযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস
১৯৩৯: ক্রিকেটার রমাকান্ত দেশাইয়ের জন্ম
১৯৫২: লেখক বিক্রম শেঠের জন্ম
১৯৭৯: ফুটবলার রেনেডি সিংয়ের জন্ম
২০০৭: অভিনেত্রী অনীতা গুহের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৯ টাকা ৭১.০৫ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩২ টাকা ৮৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৬.০২ টাকা ৭৯.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ৩০/৩০ অপঃ ৫/৯। উত্তরাষাঢ়া ২৬/৪৭ দিবা ৩/৩৯। সূ উ ৪/৫৬/২০, অ ৬/১৯/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৯/৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ২/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। 
৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২৭/২৪/১ দিবা ৩/৫৩/৬। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২৫/৩৬/১১ দিবা ৩/৯/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/১০ মধ্যে ও ৩/৩৫ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪১/২৯ গতে ৬/২২/২১ মধ্যে, কালবেলা ৩/০/৩৮ গতে ৪/৪১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৮/৫৬ গতে ১২/৫৮/৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৬ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
১১ আইপিএস অফিসারকে বদলি করল রাজ্য 
১১জন আইপিএস অফিসারকে বদলি করল রাজ্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, কল্লোল ...বিশদ

05:28:55 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১৭৭/১ (৩১ ওভার) 

05:10:37 PM

রোগীর পেট থেকে উদ্ধার গাঁজার ছিলিম
রোগীর পেটের ভিতর থেকে কাঁচি বা ছুরি উদ্ধারের ঘটনা নতুন ...বিশদ

05:08:37 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১১৭/০ (২০ ওভার)

04:32:28 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ৫৩/০ (১০ ওভার)

03:50:40 PM

ভাটপাড়ার পরিস্থিতি সামলাতে বিশেষ দায়িত্ব সঞ্জয় সিংকে 
ভাটপাড়ার পরিস্থিতি সামলাতে এডিজি(দক্ষিণবঙ্গ) সঞ্জয় সিংকে বিশেষ দায়িত্ব দিল রাজ্য। ...বিশদ

03:28:00 PM