Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রধানমন্ত্রী: আকস্মিক বনাম আত্মঘাতী
শুভময় মৈত্র

‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ বইটি এবং তার ওপর ভিত্তি করে লেখা সিনেমা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক সম্পর্কে অনেকেই অবহিত। ২০১৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে একটি জীবনী প্রকাশ করেন সঞ্জয় বারু। রাজনীতি, অর্থনীতি, সংবাদমাধ্যম ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঞ্জয়বাবুর যথেষ্ট পরিচিতি আছে। এছাড়াও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ২০০৪ সালের মে মাস থেকে ২০০৮ এর আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পরামর্শদাতা এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া। এই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি যে বই লেখেন তাতে পরিষ্কার বলা আছে যে মনমোহন সিংয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে রিমোট কন্ট্রোল ছিল সোনিয়া গান্ধীর হাতে। বইটি প্রকাশিত হওয়ার সময় বেশ খানিকটা হইচই হয়েছিল। তবে সংবাদমাধ্যমের নিয়মমতোই আস্তে আস্তে সে সব খবর মুদিখানা কিংবা চপ-মুড়ির শৈল্পিক ঠোঙায় বিলীন। বইটির খবর মোটামুটি ভুলেই গিয়েছিল ভারতের জনগণ। একথা মানতেই হবে সুখপাঠ্য বইটিতে নতুন খবর তো বিশেষ কিছু ছিল না। মনমোহন সিং-এর রাজনৈতিক কার্যকলাপে যে সোনিয়া গান্ধীর প্রত্যক্ষ নির্দেশ থাকবে এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই। স্বাধীনতার আগে পরে সব সময়েই কংগ্রেসের সমর্থক এবং অনুগামীরা নেতৃত্বের জন্যে গান্ধীদের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে গান্ধী কখনও মহাত্মা, কখনও বা পদবিতে নেহেরু, আর তারপর থেকে পুরোটাই ইন্দিরা-রাজীব-সোনিয়া-প্রিয়াঙ্কা-রাহুল। আগের নরসিমা রাও বা ভি পি সিংয়ের মতো আজকেও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বা শচীন পাইলট আছেন। কিন্তু সব মিলিয়ে কংগ্রেস সামনের লোকসভা নির্বাচনে ভালো সংখ্যক আসন পেলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা রাহুল গান্ধীর-ই। তাঁর মা বিদেশে জন্মানোর কারণে সেই কেদারায় বসতে পারেননি। ২০০৪ সালে দূরদর্শনের সরাসরি সম্প্রচারে সদ্য লোকসভা ভোটে জেতা অভিনেতা গোবিন্দার কান্না নিশ্চয় এখনও অনেকের মনে আছে। সোনিয়াজিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কাতর আবেদনে কতটা অভিনয় আর কতটা অন্তরের আকুতি সেকথা ঈশ্বরই জানেন। তবে এটা সত্যি যে ২০০৪ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সর্বময় নেত্রী ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। দলটাকে একজোট করে ভোটে লড়িয়েছিলেন তিনিই। ভোটের পর বামেদের সমর্থনে ন্যূনতম কিছু কর্মসূচির ভিত্তিতে পরপর দুটি কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে সোনিয়া গান্ধীর অবদান অনস্বীকার্য। সেই হিসেবে নিজে প্রধানমন্ত্রী না হতে পারলে তাঁর সরাসরি প্রভাব যে প্রধানমন্ত্রীর ওপর থাকবে সে অঙ্ক কষতে মহাকাশ বিজ্ঞানী হতে হয় না। শ্রীযুক্ত সঞ্জয় বারুর লেখা বই সেই ইতিহাসের স্বচ্ছ বর্ণনা।
এবার আশা যাক সাম্প্রতিক ঘটনায়। এই বইটি নিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছে। নতুন বছরে জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখে তা বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। এর মধ্যেই তার ট্রেইলার অন্তর্জালে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ছবির পরিচালক বিজয় রত্নাকর গুট্টে। কিন্তু বিষয়টির প্রচার এমনভাবে হচ্ছে যে পরিচালকের নাম সম্ভবত কেউই জানেন না। লেখক সঞ্জয় বারু এই সুযোগে আবার কিছুটা প্রচারের আলোয়, কিন্তু চিত্রনাট্যকারের নাম যে মায়াঙ্ক তেওয়ারি সেটাও অল্পসংখ্যক চলচ্চিত্রপ্রেমী ছাড়া বাকিদের অজানা। তবে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন অভিনেতা অনুপম খের। তিনি একাধারে মনমোহন সিংয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, ছবিটির প্রচার করছেন শক্তহাতে এবং সর্বোপরি তিনি আজকের দিনে বিজেপির এক বড় নেতা। ছবির স্বল্পাংশ দেখে বোঝা গেল প্রত্যেকের অভিনয় অসাধারণ। বিভিন্ন চরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেছেন, তাঁদের প্রায় সকলকেই বাস্তবের মানুষগুলির মতো দেখতে লাগছে। কথাবার্তাও একই রকম। ব্যতিক্রম শুধু রাহুল গান্ধী। তাঁর চরিত্রটির চেহারা একেবারেই তাঁর মত দেখতে নয়। অবশ্যই এর রাজনৈতিক কারণ আছে, সে কথায় আমরা একটু পরেই আসছি। প্রচারধর্মী এই ছবিটি থেকে যে ফসল ঘরে তুলতে চায় বিজেপি, তা হল মনমোহন সিং ভালো মানুষ। তাঁর আড়ালে কলকাঠি নাড়া গান্ধী পরিবার (পড়ুন সোনিয়া গান্ধী) ক্ষমতা দখলের জন্যে লালায়িত। অর্থাৎ এই ছায়াছবি গান্ধী পরিবার বিরোধী একটি প্রচার।
কিন্তু বিজ্ঞাপনের জগতে একটা কথা খুব চলে, তা হল যে-কোনও বিজ্ঞাপনই ভালো বিজ্ঞাপন। অর্থাৎ যেখানে প্রচারটাই মুখ্য বিষয় সেখানে আসল প্রশ্ন হল জনমানসে উপস্থিতি প্রকট কি না। চরিত্রটিকে ভালো কিংবা খারাপ ভাবে দেখানোর ব্যাপারটা গৌণ। সেই হিসেবে এই ছবিতে গান্ধী পরিবার যথেষ্ট প্রচার পাবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে প্রচারধর্মী ছবির মাধ্যমে বিজেপির মূল উদ্দেশ্য যদি সফল না হয় তাহলে কিন্তু সম্পূর্ণ প্রয়াসটাই আত্মঘাতী। সে ব্যাপারে বিজেপি অবশ্যই সচেতন। তারা ভালোই জানে যে এই ছবিতে সোনিয়া গান্ধীকে খলনায়িকা হিসেবে দেখানো গেলেও রাহুলকে ততটা বড় খলনায়ক হিসেবে দেখানো শক্ত। সন্তানের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চাইছে কুচক্রী মা, এটাই সারমর্ম। ফলে মায়ের চরিত্র অবশ্যই নেতিবাচক। কিন্তু তার ছেলের চরিত্রকে একইরকম নেতিবাচক দেখাতে হলে ছবিতে সেই চরিত্রের ধার থাকত অনেক বেশি। বিজেপি জানে যে এই মুহূর্তে সোনিয়া গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নেই, কিন্তু রাহুলের আছে। তাই এই ছবিতে রাহুলের গুরুত্ব একটু কম রাখা হয়েছে, চেহারাও তার মত নয়। সব মিলিয়ে রাহুল বিরোধিতা কিংবা রাহুলের অস্তিত্বের মাত্রা এখানে কম থাকারই কথা। অর্থাৎ অভিনেতার চেহারা রাহুলের মত হলে প্রচারের তীব্রতায় পুরোটাই ব্যুমেরাং হয়ে যেতে পারে সে কথা বুঝেছেন এই ছবির কর্মকর্তারা। তাই ‘আকস্মিক প্রধানমন্ত্রী’ ছবিতে রাহুলের ভোলবদল যুক্তিগ্রাহ্য এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিভঙ্গিতে মোটেই তা সমাপতন নয়। ছবিটির পিছনে স্পষ্ট চিন্তন দলের অনিবার্য উপস্থিতি।
একশো তিরিশ কোটির দেশে যে-কোনও কিছুতেই এক হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। ফলে যে-কেউ প্রধানমন্ত্রী হলেই তা ‘‘আকস্মিক’। সেটা মনমোহনই হোন কিংবা নরেন্দ্র মোদি। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কিন্তু ক্ষমতা প্রায় অসীম। ভারতের মতো বিশাল দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর একজন প্রধানমন্ত্রীর দেশকে দিশা দেখানোর সুযোগ থাকে অগাধ। মনমোহন সিং সৎ, গুণী এবং বিদ্বান মানুষ। ধরে নেওয়া যাক তাঁর আমলে ভালো কাজ কিছু হয়নি। প্রচারধর্মী ছবিতে তো বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছেই যে তার কারণ সোনিয়া গান্ধী। অর্থাৎ মনমোহন ভুল করে ক্ষমতা হারালেও সেখানে প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘আত্মঘাতী’ পদবি যোগ করা যাবে না। মোদির ক্ষেত্রে দায় কিন্তু পুরো নিজের। সেখানে দলের মধ্যে অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর অধিকার একশো শতাংশ। পিছন থেকে পুতুল নাচানোর মতো কোনও শক্তি সেখানে নেই। আদানি, আম্বানিরা যেটুকু আছেন সেটুকু সব রাজত্বেই থেকে থাকে, তাদেরকে এর বেশি গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হবে না। সেই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠবেই যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এত বেশি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কেন? আধার তো কংগ্রেস আমলের। তাকে জনগণের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টায় ব্রতী তাঁর সরকার। জিএসটি-র অনেকটা কাজও কংগ্রেসের আমলে হয়েছে। চটজলদি সেটা লাগু করে দেশের মাঝের সারির ব্যবসায়ীদের বিপুল ঝামেলায় ফেলেছেন এই প্রধানমন্ত্রী। রাফেল কেনাকাটার শুরুও কংগ্রেস আমলে। তার দাম নিয়ে গন্ডগোল করে এখন পিছনের পায়ে ছাপান্ন ইঞ্চির ছাতিওলা দেশনেতা। কালোটাকা ফিরিয়ে প্রত্যেক দেশবাসীকে পনেরো লক্ষ দেওয়ার গল্প নোটবাতিলের ধাক্কায় চুটকির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রধানমন্ত্রী একটু ভাবলেই দেখবেন যে কমনওয়েলথ গেমস বা থ্রি-জি’র কেলেঙ্কারিতে বিপর্যস্ত কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর তাঁর সামনে অন্তত দুটো পাঁচ বছরের রাজত্ব রেকাবিতে সাজিয়ে রাখা ছিল। কিন্তু প্রথমটাতেই যতটা ঘেঁটে গেল, তাতে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয়টার সম্ভাবনা কমছে অনেকটা। আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর পিছনে সোনিয়া গান্ধীর কলকাঠি নাড়ার প্রচারধর্মী ছবি একগাদা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রধানমন্ত্রীকে কতটা বাঁচাতে পারে সেটাই এখন দেখার।
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত
05th  January, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রামের একমাত্র জল নিকাশির জায়গায় রাইসমিল গড়ে তোলার প্রতিবাদে শুক্রবার রামপুরহাট-১ ব্লকের খরুণ গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানালেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। এই ব্লকের চাকপাড়া, মালসা ও ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফিবছর বর্ষার সময় আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় থাকি।   ...

  কটক, ১৯ জুলাই: একুশতম কমনওয়েলথ টেবল টেনিস প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা বিভাগে সোনা জিতল ভারতীয় টিটি দল। শুক্রবার কটকে এই প্রতিযোগিতার পুরুষ বিভাগের ফাইনালে ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

কাবুল, ১৯ জুলাই (এএফপি): কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন প্রাণ হারালেন। ঘটনায় আরও বহু মানুষ জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। সরকারি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উচ্চশিক্ষা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান (শিক্ষা) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি 
অবশেষে উচ্চশিক্ষা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান (শিক্ষা) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। ...বিশদ

09:06:13 AM

পাথরপ্রতিমায় পুকুরে কুমির
পাথরপ্রতিমা ব্লকের কুয়েমুড়ি গ্রামের একটি পুকুরে প্রমাণ সাইজের কুমির দেখা ...বিশদ

08:52:23 AM

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতার জন্য পরামর্শ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি 
স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী ...বিশদ

08:40:23 AM

আজকের রাশিফল 
মেষ: পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। বৃষ: মাতৃস্থানীয় ব্যক্তির স্বাস্থ্যোন্নতির ইঙ্গিত। মিথুন: সম্পত্তি লাভের ...বিশদ

08:11:47 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম১৮৯৯: লেখক বনফুল ...বিশদ

07:50:00 AM

২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

19-07-2019 - 08:37:08 PM