Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সংবিধান ৭০
সমৃদ্ধ দত্ত

ঠিক কেমন সম্পর্ক ছিল তখন জওহরলাল নেহরু আর মহম্মদ আলি জিন্নার? ১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গার পর, নোয়াখালি, তারপর বিহার, তারপর পাঞ্জাব। রক্তগঙ্গা বইছে। ঠিক সেই সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ভারতীয় নেতাদের ডেকেছিলেন একটি মিটিংয়ে। মাল্টা হয়ে লন্ডন। ‘ইয়র্ক’ নামক সেই ফোর ইঞ্জিন বিমানে ‘নো স্মোকিং’ লাইট নিভে যাওয়ার পর জিন্না একটা ‘স্টেট এক্সপ্রেস ফাইভ ফাইভ ফাইভ’ সিগারেট ধরিয়ে বই খুললেন। বইয়ের নাম ছিল ‘আ নেশন বিট্রেড’। অবশ্যই প্রস্তাবিত পাকিস্তান সম্পর্কে। ঠিক পিছনের সিটে যিনি বসেছিলেন তিনি সাধারণত কুর্তা পরেন। কিন্তু সেদিন পরেছিলেন স্যুট আর টাই। জওহরলাল নেহরু। কিছুদিন ধরে তাঁর পিঠে ব্যাথা। স্যুট পরতে সুবিধা। সঙ্গে দুটি বই নিয়েছেন। রোজামন্ড লেহম্যানের লেখা ‘দ্য ব্যালাড অ্যান্ড দ্য সোর্স’। আর একটি বই পাশেই রাখা। সিনক্লেয়ার লিউইসের ’কাস টিম্বারলেন’। গোটা পথ দুজনে বই পড়লেন। একটিও বাক্য বিনিময় হল না। প্লেন যখন ল্যান্ড করল মাল্টায়, তখন নামার সময় কথা না বলা অত্যন্ত অশোভন। তাই জিন্না প্রশ্ন করলেন, ‘ওয়েল, আজকাল কী করছেন আপনি মিস্টার নেহরু?’ নেহরু মৃদু হেসে জবাব দিয়েছিলেন, ‘তেমন কিছু না। এই একটু পড়ছি, একটু ঘুমোচ্ছি, একটু হাঁটাহাঁটি করছি। ব্যস!’ আর কোনও আলাপচারিতা নয়। দুজনে দুদিক থেকে এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে চলে যান।
কলকাতায় সদর দপ্তর থাকা হিন্দু সংগঠন অল ইন্ডিয়া বর্ণশর্মা স্বরাজ সংঘ লিখিতভাবে প্রস্তাব পাঠিয়ে দাবি করেছিল সংবিধান যেন প্রাচীন হিন্দু পুঁথিপত্রে যেসব বিধি, নিয়ম ও নীতি বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতেই তৈরি হয়। নচেৎ তারা ওই সংবিধান মেনে নেবে না। উইনস্টন চার্চিল কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ভারতের সংবিধান যারা তৈরি করছে সেই সভায় তো কংগ্রেসের সদস্যদেরই আধিক্য। তার মানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব কোথায় হল? ওটা তো বর্ণহিন্দুদের স্বার্থই সুরক্ষা করবে। কংগ্রেস তো সংখ্যাগুরুদের দল। সংযুক্ত প্রদেশের এক সংসদ সদস্য আর ভি ধূলেকর ১৯৪৬ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবিধান সভায় দাঁড়িয়ে একটি সংশোধনী পেশ করেছিলেন। এবং সেটির সমর্থনে ‘হিন্দুস্তানি’ ভাষায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। সংবিধান সভার সভাপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ তাঁকে বলেছিলেন, এখানে বহু সদস্য কিন্তু হিন্দুস্তানি ভাষা জানেন না। ধূলেকর জবাব দিয়েছিলেন, যাঁরা হিন্দুস্তানি ভাষা জানেন না তাঁদের ভারতে থাকার কোনও অধিকারই নেই। এই সভায় উপস্থিত সদস্যরা সংবিধান নির্মাণের কাজে যুক্ত হয়েছেন অথচ হিন্দুস্তানি জানেন না, তাঁদের এই সভার সদস্য হওয়ারই যোগ্যতা নেই। সবথেকে ভালো হয় আপনারা অন্যত্র চলে যান। ভারত ছেড়ে। চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বাংলা ও দক্ষিণ ভারতীয় সদস্যদের মধ্যে। জওহরলাল নেহরু উঠে দাঁড়িয়ে ওই ধূলেকরকে ধমক দিয়ে বিরত করেন। বলেছিলেন, ‘শুনুন, এটা ঝাঁসির ময়দান নয় যে ভাইয়ো অর বহেনো বলে গলা ফুলিয়ে লেকচার দেবেন।’ সংবিধানের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পরই কিছু সদস্য দাবি করেন ব্রিটিশ নাগরিকতাকে বর্জন করতে হবে। ভারতের সংবিধান আর প্রশাসন নির্মিত হোক গ্রামভিত্তিক। গান্ধীজির আদর্শকে সামনে রেখে। পঞ্চায়েত রাজ হোক ভারত। গ্রামীণ কাউন্সিল দেশ চালাবে। সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান বি আর আম্বেদকর বলেন, এটা কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না। গ্রাম মানেও এক প্রাদেশিকতা। স্থানীয় স্বার্থ, অজ্ঞতা, সংকীর্ণ মনোভাব আর সাম্প্রদায়িকতা। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলে না। রাষ্ট্রকে প্রাদেশিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। তাই একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার শক্তিশালী রাজ্যগুলিকে নিয়ে গড়ে তোলা হোক নয়া ভারত। কৃষক নেতা এন সি রাঙ্গা গর্জে উঠেছিলেন। তিনি বললেন, আম্বেদকর ভারতের ঐতিহ্য কিছুই জানেন না। দক্ষিণ ভারতে এসে একটু দেখে যান সেখান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কীভাবে গ্রামীণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সমাজকে উন্নত করেছে। চার্চিল যা বলেছিলেন সেটা সত্যি প্রমাণ করতে মুসলিম লিগ সংবিধান সভা প্রথমদিকে বয়কট করেছিল। যাতে প্রতিষ্ঠিত হয় যে সত্যিই এটা আসলে হিন্দুদের স্বার্থই দেখবে এবং সেইভাবেই তৈরি হবে ভারতের সংবিধান। আর তাহ঩লেই পাকিস্তানের দাবি আরও জোরদার হবে।
এসব প্রসঙ্গ উত্থাপন করার কারণ কী? কারণ হল ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সংবিধান রচনার কাজটি কী প্রবল সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে হয়েছিল তা বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত একমাত্র উদাহরণ। আর এই দুয়েকটি উদাহরণ থেকে স্পষ্ট যে কতরকম মতবাদ পাল্টা মতবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সংবিধান রচনাকারীদের সামনে। সেসব সামলাতে হয়েছে তাঁদের। সেই সংবিধান গ্রহণের ৭০ বছর হতে চলেছে এই বছর। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধান সভায় অনুমোদিত তথা পাশ হয়েছিল ভারতের সংবিধান। স্থির হয়েছিল ঠিক দু’মাস পর অর্থাৎ ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে সেই নয়া সংবিধান অনুযায়ী ভারত হবে নয়া সাধারণতন্ত্র। সুতরাং এই ২০১৯ সাল ভারতের সংবিধান অনুমোদন তথা গ্রহণের ৭০ তম বর্ষ। আর আজ আমাদের পারিপার্শ্বিক সামাজিক, রাজনৈতিক, নৈতিক আবট তথা নিত্যদিনের চর্চা, মনোভাব ও আচরণ বহু ক্ষেত্রে কিন্তু সংবিধানের লক্ষ্য, আদর্শ ও স্পিরিটের সম্পূর্ণ বিপরীত। ওরকম এক প্রবল ঘুর্ণিঝড়ের আবহে যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নিবিষ্টমনে এরকম একটি নিপুণ সংবিধান রচনা করে গেলেন তাকে নস্যাৎ করে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করে আমরা কি আমাদের অতীত ঐতিহ্য আর গৌরবকেই অপমান করছি না? ধর্ম নিয়ে হানাহানি বেড়েছে, জাতপাত নিয়ে রাজনীতি বিদ্যমান, ভাষার আগ্রাসন সমানভাবে চলছে। আজ সবথেকে বেশি আমরা আলোচনা করি, ঝগড়া করি, চর্চা করি আর পরস্পরকে আক্রমণ করি প্রধানত দুটি বিষয়ে। ধর্মীয় বিভেদ এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত। অথচ সংবিধান রচনাকারীরা সবার আগে যেটা ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন সেটি হল এই দুই বিভেদ। অস্পৃশ্যতা, জাতপাত, সম্প্রদায়গত এবং ধনী দরিদ্র বিভাজনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক শত্রুতার অবসান চেয়েছিলেন তাঁরা। সেই কারণে সবথেকে শক্তিশালী দল কংগ্রেসের প্রথম সারির যোগ্য নেতারা থাকা সত্ত্বেও গান্ধীজি থেকে নেহরু, সকলের চরম সমালোচক বি আর আম্বেদকরকে করা হয়েছিল সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান। সংবিধান সভার প্রথম সারিতে নেহরু ও প্যাটেলের পাশেই আসন নির্ধারিত করা হয়েছিল কংগ্রেসের অন্যতম বিরোধী নেতা শরৎচন্দ্র বসুর। জয়পাল সিং লাগাতার বলেছিলেন, মুসলিম লিগ যোগ না দিলে এই সভার কোনও গুরুত্ব নেই। সেই জয়পাল সিংকে তথ্য আর যুক্তি দিয়ে বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন আর কেউ নয়, স্বয়ং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ৩০০ জন সদস্য ছিলেন। অসংখ্য মতবাদ। তার থেকে বাছাই করে, জোরজবরদস্তি নয়, সকলের মন জয় করে সংবিধান রচনার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
১৯৪৬ থেকে ১৯৪৯, ভারতের এই তিনটি বছরের ইতিহাস বস্তুত আধুনিক ভারতের সবথেকে অস্থির, সবথেকে বেদনাদায়ক, সবথেকে সন্ত্রাসকবলিত, সবথেকে অমানবিক আর সবথেকে লড়াইয়ের সময় হিসেবেই পরিগণিত। দাঙ্গার ঘা শুকানোর আগেই ঝড়ের মতো এসেছিল দেশভাগ। কাশ্মীরে যুদ্ধ। লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তুকে নিয়ে দিশাহারা নতুন সরকার। তার সঙ্গে চলছে রক্তের উৎসব। ১৯৪৮ সালের জুন মাসে ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে চলে যাবে স্থির হয়েছিল। কিন্তু আচমকা ৩ জুন ১৯৪৭ সালে ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন একটি বৈঠক ডাকলেন। এবং বললেন, আর মাত্র আট সপ্তাহ। ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ চলে যাবে এবং দেশভাগ হচ্ছেই। পরদিন ৪ জুন সেটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও হয়ে গেল। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল অখণ্ড ভারতের। কোনও মানসিক, প্রশাসনিক প্রস্তুতিই ছিল না। লক্ষ লক্ষ মানুষ জানে না তাঁদের দেশ কোনটা হবে। কারণ দেশ কাটার কাঁচি ভারতের হাতে নেই। তার জন্য আসবেন একজন ব্রিটিশ । সিরিল র‌্যাডক্লিফ। দাঙ্গা বেড়ে গেল। উদ্বাস্তুর সমুদ্র আছড়ে পড়ছে প্রতিদিন। সেরকম এক মুহূর্তে চলছে সংবিধান রচনা। এবং গান্ধী হত্যা। ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে ওই খবরের পর রেডিওতে শান্তিরক্ষা করার আহ্বান জানাতে গিয়ে নেহরু কেঁদে ফেলেছিলেন। প্যাটেল বলেছিলেন, আমাদের এবার সব বিভেদ ভুলে একজোট হয়ে বাপুর স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। এবং ওই প্রচণ্ড আঘাতের মধ্যেই প্যাটেল কয়েকদিন পরই মর্নিং ওয়াকের সময় ডেকে পাঠাতেন সংবিধান সভার কিছু সদস্যকে। তাঁদের সঙ্গে মর্নিং ওয়াক করতে করতে তিনি তাঁদের সংবিধানের খসড়া নিয়ে আপত্তি ও প্রতিবাদের কথা শুনতেন। এবং বোঝাতেন ধৈর্য ধরে। নিষ্পত্তি হতো সমস্যার। এগিয়ে যেত সংবিধান রচনার কাজ।
১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর সংবিধান সভার কাজ সমাপ্ত হওয়ার প্রাক্কালে বি আর আম্বেদকর শেষ বক্তৃতায় সতর্ক করেছিলেন কয়েকটি বিষয়ে। তার মধ্যে দুটি সতর্কবার্তা আমরা ৭০ বছর পর স্বচ্ছন্দে ভুলে গিয়েছি। তিনি বলেছিলেন, ১) ‘পৃথিবীর যে কোনও দেশের তুলনায় রাজনীতিতে ভক্তিবাদ ভারতে সবথেকে বেশি। ধর্মে ভক্তি আত্মাকে শান্তিপ্রদান করে। কিন্তু রাজনীতিতে ভক্তি অথবা একজন নেতাকেই হিরো হিসাবে বন্দনা করা চরম বিপজ্জনক। কারণ সেটি নিশ্চিতভাবে অগ্রসর হয় স্বৈরতন্ত্রের দিকে।’ ২) ‘২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ভারত চরম এক বৈপরীত্য ও দ্বিচারিতা নিয়ে অগ্রসর হবে। রাজনীতিতে আমাদের মধ্যে সাম্য থাকবে, অথচ আর্থিক ও সামাজিকভাবে থেকে যাবে চরম বৈষম্য। রাজনীতিতে আমরা স্বীকৃতি দেব একটি ভোট একটি মূল্য। প্রতিটি ভারতবাসীর ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য। কিন্তু সামাজিক ও আর্থিকভাবে সব মানুষের মূল্য সমান হবে না। কতদিন এই বৈষম্য আর দ্বিচারিতা নিয়ে ভারত চলবে? ভারতবাসীর মধ্যে সামাজিক আর আর্থিক বৈষম্যের যদি অবসান না হয় তাহলে আমরা রাজনৈতিক গণতন্ত্রকেও আসলে হত্যা করব।’
সংবিধান রচনার ৭০ বছর পরও আম্বেদকরের সতর্কবার্তা ধ্রুব সত্য হিসেবে রয়ে গিয়েছে। এটাই আমাদের কাছে সবথেকে বড় অগৌরব। তাই সংবিধানের ৭০ বছরে পা দিয়ে আজ আমাদের কী উচিত নয় অন্তত প্রতিটি মৌলিক অধিকারকে সযত্নে করে রক্ষা করার শপথ গ্রহণ? ধর্ম ও সংস্কৃতির অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, সাম্যের অধিকার, ভাষার অধিকার ... জীবনের অধিকার! সোজা কথা হল, যে দল সংবিধানকে রক্ষা করবে, আমরা সেই দলের সমর্থক হব। সে দলের নেতানেত্রীর নাম যাই হোক না কেন!
04th  January, 2019
তিন তালাক বিল অমানবিক ও বৈষম্যমূলক
শামিম আহমেদ

রাজ্যসভার শীতকালীন অধিবেশন ৯ জানুয়ারি শেষ হল, তিন তালাক বিল লোকসভায় পাশ হলেও রাজ্যসভায় হল না। বিরোধীরা বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবিতে অনড় রইল।
বিশদ

মহাকাশ-চর্চায় ভারতকে স্যালুট জানাচ্ছে গোটা দুনিয়া
মৃণালকান্তি দাস

 মহাকাশ জয় নিয়ে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন অন্তত একজন ভারতীয় মহাকাশে যাক। আর তার জন্য বন্ধু দেশ রাশিয়ার সাহায্য চেয়েছিলেন তিনি। ইতিহাস তৈরি হয়েছিল ১৯৮৪ সালের ২ এপ্রিল। বিশদ

11th  January, 2019
মমতার ব্রিগেডে মিলতে পারে
অনেক রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সমাবেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ-রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে যাবে। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারিতে বামেদের সমাবেশ রয়েছে ব্রিগেডে। বিজেপি ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের কথা ঘোষণা করলেও, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ আটকে পড়ায়, ২৯ জানুয়ারি নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে ব্রিগেডে সমাবেশ করার কথা নতুন করে ভাবছে।
বিশদ

10th  January, 2019
অন্নদাতা না ভোটব্যাঙ্ক!
মোশারফ হোসেন

সালটা ছিল ১৯০১। আঠাশ বছর বয়সি এক সুঠাম যুবক কলকাতা থেকে বরিশালের চাখার গ্রামের দিকে চলেছেন। সেখানেই তাঁদের বেশ কয়েক পুরুষের বসবাস। যুবকটি এর আগে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে একইসঙ্গে তিনটি বিষয়ে অনার্সসহ গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন।
বিশদ

08th  January, 2019
রিপোর্ট কার্ডে ‘ফেল’
পি চিদম্বরম

আমি দিল্লি থেকে লিখছি, যেটা পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল মহানগরীর একটা। এখনও শীতকাল। গত সপ্তাহে যে বসন্তের উল্লেখ করেছিলাম তা এখনও কয়েক সপ্তাহ দূরে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের ভোটে সবক’টাতে পরাজয় সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্ব এখনও সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপ্রবণ, উদ্ধত এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাচ্ছিল্যপূর্ণ।
বিশদ

07th  January, 2019
দু’দিনের বন্‌ধ সফল করে কি সিপিএম ভাবমূর্তি ফেরাতে পারবে?
শুভা দত্ত

 সিপিএমের প্রবীণ নেতা বিমান বসু একটি প্রস্তাব রেখেছিলেন। সরাসরি অবশ্য প্রস্তাবটা রাখেননি বিমানবাবু, রেখেছিলেন আকারে ইঙ্গিতে, ঘোরানো কথায়। কিন্তু, রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণজন সকলেই তাঁর সেই ঘোরানো-প্যাঁচানো কথার মধ্যেকার আসল বক্তব্যটি ধরে ফেলেছিলেন।
বিশদ

06th  January, 2019
প্রধানমন্ত্রী: আকস্মিক বনাম আত্মঘাতী
শুভময় মৈত্র

 ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ বইটি এবং তার ওপর ভিত্তি করে লেখা সিনেমা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক সম্পর্কে অনেকেই অবহিত। ২০১৪ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে একটি জীবনী প্রকাশ করেন সঞ্জয় বারু। রাজনীতি, অর্থনীতি, সংবাদমাধ্যম ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঞ্জয়বাবুর যথেষ্ট পরিচিতি আছে।
বিশদ

05th  January, 2019
আলসেখানার বাসিন্দা থেকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা
মৃণালকান্তি দাস

বাংলাদেশের ভোটে ৩০০ আসনে তিনিই ছিলেন মুখ! দুর্নীতির জালে আটকে পড়া, পাকিস্তান প্রেমে মত্ত আর ধর্মীয় উগ্রবাদে আস্থা রাখা বিরোধীদের সঙ্গে লড়াইটাও ছিল তাঁর একার। নির্বাচনের আগাগোড়া আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর দল আওয়ামি লিগ ফের জিতবে।
বিশদ

03rd  January, 2019
স্বাগত ২০১৯, নতুন বছরে একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী চাই
হিমাংশু সিংহ

বিদায় ২০১৮। গত বারোমাসের হাজারো উজ্জ্বল এবং তারই মধ্যে কিছু কিছু ধুলো মলিন মন ভারাক্রান্ত করা স্মৃতিকে বিদায় দিয়ে দ্বিগুণ উদ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পালা। আগামী ৩৬৫ দিনে সবচেয়ে বড় যে দুটি মেগা ইভেন্ট প্রত্যক্ষ করার জন্য দেশবাসী উন্মুখ হয়ে আছে তা হচ্ছে লোকসভা নির্বাচন ও লন্ডনের বিশ্বকাপ ক্রিকেট।
বিশদ

01st  January, 2019
বছরটা বিদায় নিচ্ছে বিষণ্ণতার রেশ রেখে
পি চিদম্বরম

গণতন্ত্রের বিশিষ্টতা ভারসাম্যে (ব্যালান্স)। যখনই এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় তখনই গণতন্ত্রের অস্তিত্বের সামনে একটা প্রশ্নচিহ্ন দেখা দেয়। ভারত এইরকম একটা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, যেখানে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে—ভারতে গণতন্ত্রটা কি রক্ষা করা যাবে?
বিশদ

31st  December, 2018
বছর শেষের ভাবনা
শুভা দত্ত

আবার একটা আনকোরা নতুন বছর এসে গেল। কাল মধ্যরাত পেরতেই শুরু হয়ে যাবে নতুন ইংরেজি বছর ২০১৯। কীভাবে যে আজকাল সময় চলে যায়! একটা গোটা বছর যেন চোখের কয়েকটা পলক মাত্র! তাই বুঝি আজ বছর শেষের দোরগোড়ায় এসে মনে হচ্ছে—এই তো সেদিন ২০১৮ এল!
বিশদ

30th  December, 2018
চাই মুক্ত বায়ু
রঞ্জন সেন

 যে প্রাণ দেয়, সে-ই আবার প্রাণ নেয়। বায়ু এখন হয়ে উঠছে ঘাতক। সে এখন আর মোটেই রবীন্দ্রনাথের কবিতার মতো ‘আনন্দ উজ্জ্বল পরমায়ু’র বার্তা বহন করে আনে না। যে কবি মুক্ত বায়ুর সঙ্গে পরমায়ুর মিল দিয়ে কবিতা লিখেছিলেন তাঁর বাসস্থান উত্তর কলকাতাতেই বায়ুদূষণের হাল দেখলে তিনি চমকে উঠতেন।
বিশদ

29th  December, 2018
একনজরে
সংবাদদাতা, মালদহ: সঙ্গীতের তিনটি বিভাগে সর্বভারতীয় প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সেরার খেতাব ছিনিয়ে নিল মালদহের কিশোরী রাফা ইয়াসমিন। ৯ জানুয়ারি কলকাতায় এই মেধা অনুসন্ধান সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ।  ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: বামেদের ডাকা ধর্মঘটের দিন কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় দলীয় কর্মীকে মারধরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার উত্তরপাড়া থানার কানাইপুর ফাঁড়ি ঘেরাও করল তৃণমূল। ...

 মুম্বই, ১১ জানুয়ারি (পিটিআই): বেতন বৃদ্ধি, ‘বেস্ট’ ও ‘বিএমসি’র বাজেট মিশিয়ে দেওয়া সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার চতুর্থ দিনে পড়ল মুম্বইয়ের বাস ধর্মঘট। যার জেরে চরম ...

 সিডনি, ১১ জানুয়ারি: এশিয়ার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের মুকুট সদ্য তাঁর মাথায় উঠেছে। তবু অজিদের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে খেলতে নামার আগে মন ভালো নেই বিরাট কোহলির। চোখে মুখে ধরা পড়েছে বিষণ্ণতার ছাপ। খানিক অপ্রস্তুতও বটে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিতর্ক বিবাদ এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। প্রেম পরিণয়ে মানসিক স্থিরতা নষ্ট। নানা উপায়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

জাতীয় যুব দিবস
১৮৬৩: স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম
১৯৩৪: মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসি
১৯৫০: কলকাতায় চালু হল চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতাল  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৬০ টাকা ৭১.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৮.২২ টাকা ৯১.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৯.৬৯ টাকা ৮২.৭০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৬৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৯৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৪৫৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৭তম আবির্ভাব দিবস
২৭ পৌষ ১৪২৫, ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ৩৯/১৫ রাত্রি ১০/৫। নক্ষত্র- পূর্বভাদ্রপদ ৫/৫০ দিবা ৮/৪৩, সূ উ ৬/২২/৫৮, অ ৫/৬/৩০, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/৬ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৯ গতে ৯/৫৭ মধ্যে পুনঃ ১২/৬ গতে ২/৫৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১/৪ গতে ২/৫০। বারবেলা ঘ ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/৪ গতে ২/২৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৩ গতে উদয়াবধি।
আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৭তম আবির্ভাব দিবস
২৭ পৌষ ১৪২৫, ১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী রাত্রি ৫/৫১/২৯। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র অহোরাত্র। সূ উ ৬/২৪/১, অ ৫/৪/৪২, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/৬/৪৪ মধ্যে ও ঘ ৭/৪৯/২৮ থেকে ঘ ৯/৫৭/৩৮ মধ্যে ও ১২/৫/৪৮ থেকে ২/৫৬/৪২ মধ্যে ও ৩/৩৯/২৫ থেকে ৫/৪/৫২ মধ্যে এবং রাত্রি ১/৪/২২ থেকে ঘ ২/৫০/৫৫ মধ্যে। বারবেলা ১/৪/৩৩ থেকে ২/২৪/৩৯ মধ্যে, কালবেলা ৭/৪৪/৭ মধ্যে ও ঘ ৩/৪৪/৪৫ থেকে ৫/৪/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৪৪/৪৬ মধ্যে ও ঘ ৪/৪৪/১৬ থেকে ৬/২৪/১০ মধ্যে।
 
এই মুহূর্তে
ভর সন্ধ্যায় শ্যুটআউট পার্কসার্কাসে
ভর সন্ধ্যায় পার্কসার্কাস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গুলি করে খুন করা ...বিশদ

09:59:38 PM

কলকাতায় চিতা বাঘের চামড়া সহ ধৃত ২

শনিবার বিকালে উত্তর কলকাতার একটি বাড়ি থেকে চিতা বাঘের চামড়া ...বিশদ

06:20:00 PM

আইলিগ: নেরোকাকে ১-০ গোলে হারাল মোহন বাগান 

04:09:04 PM

পথ দুর্ঘটনায় জখম উঃদিনাজপুরের জেলাশাসক
পথ দুর্ঘটনায় জখম হলেন উঃদিনাজপুরের জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা। তবে ...বিশদ

04:05:22 PM

৩৪ রানে হারল ভারত 
ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচ ৩৪ রানে জিতল অস্ট্রেলিয়া  ...বিশদ

03:56:27 PM

 প্রথম ওয়ান ডে: ভারত ২১৪/৬ (৪৫ ওভার)

03:31:36 PM