Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আলসেখানার বাসিন্দা থেকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা
মৃণালকান্তি দাস

বাংলাদেশের ভোটে ৩০০ আসনে তিনিই ছিলেন মুখ! দুর্নীতির জালে আটকে পড়া, পাকিস্তান প্রেমে মত্ত আর ধর্মীয় উগ্রবাদে আস্থা রাখা বিরোধীদের সঙ্গে লড়াইটাও ছিল তাঁর একার। নির্বাচনের আগাগোড়া আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর দল আওয়ামি লিগ ফের জিতবে। ভোটের দিনও তাঁর মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। বড় নিশ্চিন্তভাবে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের উপর আমার বিপুল আস্থা। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জনগণের ভোটেই আমরা নির্বাচিত হব।’ হয়েছেও তাই।
১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারির পর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে তল্লাশির সময় তাঁর প্রিয় পুতুলটিও পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল পাক বাহিনী। ১১ বছরের মেয়েটি আজও ভোলেনি সেদিনের যন্ত্রণার কথা। ছোটবেলায় ছিলেন কিছুটা অগোছালো প্রকৃতির। নিজের ঘরে এককোণে মাথাগুঁজে গান শুনতে আর বই পড়তেই ভালো লাগত তাঁর। নিজের ঘরে নিজের মতো। বাড়ির সকলে সেই ঘরের নাম দিয়েছিল ‘আলসেখানা’। ছোট বোন শেখ রেহানা বলেন, ‘আমার খুব মন চায়, আজ যদি মাকে বলতে পারতাম তোমার হাসু আর আলসেখানায় থাকে না। বনানী কবরস্থানে গিয়ে ভাবি, তাঁকে যদি এখনও চিঠি লিখতে পারতাম!’
কী লিখতেন রেহানা? তাঁর আপার আলসেখানার বাসিন্দা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার কাহিনী? যে কাহিনীর সঙ্গে জড়িয়ে একটা গোটা পরিবার হারানোর চরম দুঃখ। একের পর এক হামলার পরও বেঁচে থাকা। হাহাকার। আত্মোপলব্ধি।
প্রধানমন্ত্রী সত্তার চেয়েও আজও তাঁর কাছে মুখ্য পিতার কন্যা পরিচয়টুকুই। মুজিব কন্যা। জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, সেই ১৯৭৫-র ১৫ আগস্ট। ভোরের আলো ফোটার আগেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি পরিণত হয়েছিল এক টুকরো নরকে। নরপিশাচদের গুলি থেকে রেহাই পাননি মহিলা-শিশু, মুজিব পরিবারের কেউই। বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানকেও খুন করা হয়েছিল সেদিন। উদ্দেশ্য, ভারতকে বার্তা দেওয়া। বহু ভারতীয় গোয়েন্দাকর্তার আক্ষেপ, বঙ্গবন্ধুকে বাঁচানো যায়নি এটা শুধু নবজাতক এক রাষ্ট্রের নয়, ভারতেরও ব্যর্থতা। ভাগ্যক্রমে দু’বোনই তখন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। সেই একেকটি গুলির আওয়াজ যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত নাড়িয়ে দেয়। আজও। এরপর দুই বোনের স্বজনহীন জীবন কাটানো। বহু বছর। প্রসঙ্গ উঠলেই মুজিব কন্যা বারবার বলেন, সেদিন ইন্দিরা গান্ধীর তথা ভারতের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা।
আজও ৩২ নম্বর বাড়িতে গেলে দরজার পাশে তিনি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। নির্বাক। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘এখানেই, এই জায়গাতেই আমার ভাই শেখ রাসেল প্রথম হাঁটা শুরু করে।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যে পরিবারটার এত ত্যাগ, সেই পরিবারের গল্পে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে যান। শেখ রেহানার এখনও মাঝে মাঝে মনে হয়, পুরো ব্যাপারটা যদি স্বপ্ন হতো? কেবল এক দুঃস্বপ্ন? ‘ডিকেন্সের একটা বই ছিল। টেল অব টু সিটিজ। দুই বোন রিপাবলিকান। কাঁটা দিয়ে উল বুনছে। আর ওদের যারা অত্যাচার করত তাদের কথা ভাবছে। তো যখন শেষ উলটি বুনল তখন বলল, থার্টি টু। মানে ক’জনকে মারছে সেটা গুনছিল দুই বোন মিলে। তো আমি দিল্লিতে থাকতে আপাকে বলতাম, আপা, আমরা এরকম করব। তখন কিন্তু তুমি আমাকে কিছু বলতে পারবে না। আপা বলত, মাথা ঠান্ডা কর, মাথা ঠান্ডা কর।’ রেহানার আপা আজও মাথা ঠান্ডা রেখেই বলেন, ‘মৃত্যুকে ভয় পাই না। মৃত্যুর আগে মরতেও রাজি নই। যতক্ষণ জীবন আছে, ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’
দেশটাকে নতুন করে গড়তে চান। হেলায় যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসিতে লটকে দেন। ইমরানদের জামাত প্রেম তাঁকে টলাতে পারেননি। ২০১৬ সালের গুলশান হামলার পর জঙ্গি দমনের সাফল্য তো সকলের জানা। তাঁর বিদেশনীতিতে ভারত চিরকাল ছিল নির্ণায়ক স্থানে। আজও আছে। ভোটের ময়দান থেকে কূটনীতির ময়দান, সর্বত্র বলেন, ‘আমরা কোনও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিই না, আশ্রয় দিই না কোনও জঙ্গিকেও। উগ্র সাম্প্রদায়িকতার স্থান এই দেশে নাই।’ এই ভোটেও ঘোষণা করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ভারতবিরোধী কোনও শক্তিকে মাথা তুলতে দেব না।’
তাঁর জীবন মানেই এক পিতৃহারা কন্যার বেড়ে ওঠার গল্প। নিজের দেশের হাল ধরার কাহিনী। শেখ হাসিনা। ১৯৮১-র ১৭ মে ঝড়-ঝঞ্ঝা-বৃষ্টিস্নাত দিনে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে এসেছিলেন তিনি। তারপর? মাথায় ঘোমটা কখন যেন হয়ে গিয়েছে ট্রেডমার্ক। হাতের বালাটা থেকে মাঝে মাঝে হীরক-বিচ্ছুরণ। মুখে একটা স্মিত হাসি। সে হাসির মধ্যেই লুকিয়ে অদ্ভুত এক উষ্ণতা। তা হতে পারে আতিথেয়তার, সৌজন্যের বা কৃতজ্ঞতার। যাঁর মমতার হাত ছুঁয়ে গিয়েছে সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ। শুধু জল ও স্থলই নয়, অন্তরীক্ষেও আজ বাংলাদেশের গৌরবময় বিচরণ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়েও এক টুকরো বাংলাদেশ স্থাপন করে সেদেশের আত্মবিশ্বাস ও সাহসকে গগনচুম্বী করেছেন। বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনাময় একটি দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থার সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৫০ সালের আগেই বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তিধর রাষ্ট্রের তালিকায় ২৩ নম্বর স্থানে পৌঁছে যাবে। বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘও স্বীকার করে নিয়েছে বাংলাদেশের অগ্রগতি ।
পাশে আছে ভারতও। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ঘটেছিল ২০১৫ সালে। যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে যান। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ছিটমহল, ভূমি ও সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি ঘটে এই সফরেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরে আকাশ, তথ্য ও প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রনিকস, সাইবার নিরাপত্তা, অসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎসহ ৯০টির বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন থেকে বর্তমানে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পায়। মোদি প্রতিবেশী এই দুই দেশ সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ বলেই মন্তব্য করেছিলেন।
আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মতো কাজও করেছেন হাসিনা। গত ১০ বছর হাসিনা ক্ষমতায় থাকার কারণে বাংলাদেশ আজ জিডিপি ৭.৮ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতি ৬-এর নীচে। বাস্তবায়ন করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। খাদ্য উৎপাদন প্রায় ৩.৬ কোটি টন। বৈদেশিক মুদ্রা মজুত ৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গুদামে মজুত খাদ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ টন। বাংলাদেশ এখন খাদ্যশস্য বিদেশে রপ্তানি করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট ১.৭০ লাখ কোটি টাকা। বছরের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের হাতে ৩৫ কোটি বই বিনামূল্যে সরবরাহ করে। প্রায় ১৫ হাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু। সাধারণ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ওষুধও বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন। সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে। দারিদ্র্যসীমা আজ ৪৮ থেকে ২৩ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। একজন কৃষি মজুর দৈনিক যা আয় করে তা দিয়ে ১০ কেজি চাল কেনা সম্ভব। একজন রিকশা শ্রমিক এখন ১০ হাজার টাকা মাসে আয় করে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পথেঘাটে ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। দেশের মাদ্রাসাগুলিতেও তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া, সেখানেও উন্নত জীবনের, ভালো জীবনের আকাঙ্ক্ষা। দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে বিদ্যুৎ। ষোলো কোটি মানুষের মধ্যে তেরো কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন। ল্যাপটপ ব্যবহার করছে শতকরা ষাট ভাগের উপর ছাত্রছাত্রী। আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রায় শতভাগ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার উত্থান অনেকটাই রূপকথার ফিনিক্স পাখির মতো। আগুনের ছাই থেকে উঠে এসে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের। মানুষ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন দেশ নিজের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি করছে। সেতুর দুপাড়ের জমি কিনছে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার তরুণের। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ দেখছে সেখানে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ হাব, তৈরি হচ্ছে কয়লাবন্দর। দেশে নতুন যে সমুদ্রবন্দর হয়েছে, পায়রাবন্দরের কাজ এখনও আংশিক শুরুই হয়নি, তাতেই ওই এলাকা বদলে গিয়েছে।
তবুও একটাই শঙ্কা, যে ভয়ঙ্কর সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি, জামাত, ঐক্যফ্রন্ট, রব, মান্না, কাদের সিদ্দিকী, তারেক রহমান, খালেদা জিয়া খড়কুটোর মত ভেসে গিয়েছেন, সেই জোয়ারে যেন গণতন্ত্র, মানবাধিকারও ভেসে না যায়। কারণ, নিরাশার খবরও তো আছে। ছাত্রলিগের গুন্ডামি। নেতাদের দাদাগিরি। সর্বোপরি হেফাজতের সঙ্গে মাখামাখি। কে না জানে, বেকারত্ব যখন সরাসরি আঘাত হানে পেটে, তখন ধর্ম সেখানে সিঁধ কাটে। যদি চোরাপথে ধর্মীয়স্বত্বাকে বাঙালিয়ানার উপর ঠাঁই দেন, বিডিআর বিদ্রোহের থেকেও ভয়াবহ হবে পরিণাম। শেখ হাসিনা কথা দিয়েছেন, সংখ্যালঘু-কল্যাণে মন্ত্রক গড়বেন। হাজার হাজার তরুণের কাজের ব্যবস্থা করবেন।
মুজিবকন্যার কথায়, তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পান না। তাঁর রাজনীতি নিজের জন্য নয়, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নেই তাঁর এই পথচলা। সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা শুরু করেন। ‌আজও।
03rd  January, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মঙ্গলবার সন্ধ্যার ৪০ সেকেন্ডের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া আমতা ২ নং ব্লকের কুশবেড়িয়া ও তাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ...

 দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১৯ জুন: উত্তরবঙ্গে তৈরি হোক এইমস। বাংলার কংগ্রেসিদের সুরেই এবার উত্তরবঙ্গে এইমস চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি এমপিরা। উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা মাথায় রেখে সংসদে এই ইস্যুটি সামনে আনবেন তাঁরা। একসময় রায়গঞ্জে এইমস তৈরি হবে বলে মনমোহন সিং সরকার সিদ্ধান্ত ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

জেনিভা, ১৯ জুন (এএফপি): সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে খুনের ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজের যোগ থাকার জোরালো প্রমাণ মিলেছে বলে জানালেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক মানবাধিকার কর্মী। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের আকস্মিক অবনতি। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। ব্যবসায় নতুন সুযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস
১৯৩৯: ক্রিকেটার রমাকান্ত দেশাইয়ের জন্ম
১৯৫২: লেখক বিক্রম শেঠের জন্ম
১৯৭৯: ফুটবলার রেনেডি সিংয়ের জন্ম
২০০৭: অভিনেত্রী অনীতা গুহের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৯ টাকা ৭১.০৫ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩২ টাকা ৮৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৬.০২ টাকা ৭৯.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ৩০/৩০ অপঃ ৫/৯। উত্তরাষাঢ়া ২৬/৪৭ দিবা ৩/৩৯। সূ উ ৪/৫৬/২০, অ ৬/১৯/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৯/৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ২/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। 
৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২৭/২৪/১ দিবা ৩/৫৩/৬। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২৫/৩৬/১১ দিবা ৩/৯/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/১০ মধ্যে ও ৩/৩৫ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪১/২৯ গতে ৬/২২/২১ মধ্যে, কালবেলা ৩/০/৩৮ গতে ৪/৪১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৮/৫৬ গতে ১২/৫৮/৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৬ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ২৫০/১ (৪০ ওভার)

05:51:07 PM

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে ঢুকছে বর্ষা
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণবঙ্গে ঢুকছে বর্ষা। আজ এমনটাই জানিয়েছে ...বিশদ

05:37:00 PM

১১ আইপিএস অফিসারকে বদলি করল রাজ্য 
১১জন আইপিএস অফিসারকে বদলি করল রাজ্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, কল্লোল ...বিশদ

05:28:55 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১৭৭/১ (৩১ ওভার) 

05:10:37 PM

রোগীর পেট থেকে উদ্ধার গাঁজার ছিলিম
রোগীর পেটের ভিতর থেকে কাঁচি বা ছুরি উদ্ধারের ঘটনা নতুন ...বিশদ

05:08:37 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১১৭/০ (২০ ওভার)

04:32:28 PM