Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

স্বাগত ২০১৯, নতুন বছরে একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী চাই
হিমাংশু সিংহ

বিদায় ২০১৮। গত বারোমাসের হাজারো উজ্জ্বল এবং তারই মধ্যে কিছু কিছু ধুলো মলিন মন ভারাক্রান্ত করা স্মৃতিকে বিদায় দিয়ে দ্বিগুণ উদ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পালা। আগামী ৩৬৫ দিনে সবচেয়ে বড় যে দুটি মেগা ইভেন্ট প্রত্যক্ষ করার জন্য দেশবাসী উন্মুখ হয়ে আছে তা হচ্ছে লোকসভা নির্বাচন ও লন্ডনের বিশ্বকাপ ক্রিকেট। দুটির সঙ্গেই গোটা দেশের সম্মান ও মর্যাদা জড়িয়ে। বিরাট কোহলির দল তৃতীয়বারের জন্য ক্রিকেট বিশ্বকাপে সেরার মুকুট জিততে পারবে কি না, ১৯৮৩ সালে কপিলদেবের পর আবার লর্ডসে স্বর্ণাক্ষরে ভারতের নাম লিখতে পারবেন কি না সেটা নিঃসন্দেহে ২০১৯-এর অন্যতম বড় দেখার বিষয়। বলা বাহুল্য, লোকসভা নির্বাচন এপ্রিল-মে মাস জুড়ে চলবে। আর ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হবে তারই পিঠোপিঠি। চলবে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত। ক্রিকেট বিশ্বকাপে বিরাট কোহলির ভারতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার সঙ্গেই রয়েছে দুটি অমোঘ প্রশ্ন, আরও পাঁচ বছরের জন্য দেশের ক্ষমতায় মোদিজিই থাকবেন নাকি ফের কংগ্রেস রাজ মায় রাহুল গান্ধীর শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। নাকি এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে প্রথম দুই বৃহৎ দলকে বাদ দিয়ে তৃতীয় কোনও আঞ্চলিক দল থেকে প্রধানমন্ত্রী বেছে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা চাইব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাক আসুক। সঙ্গতভাবেই আসুক। তিনি পশ্চিমবঙ্গকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার গোটা দেশকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিন বাংলার অগ্নিকন্যা। নিঃসন্দেহে এক কঠিন কল্পনা। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। আর এখানেই আপামর ঠোঁট বাঁকানো, ভ্রু কোঁচকানো বিদ্বৎসমাজকে প্রশ্ন, দেবেগৌড়া, আই কে গুজরাল, চন্দ্রশেখরের মতো টালমাটাল দুর্বল সংখ্যালঘু সরকার সম্ভব হলে সুদক্ষ সর্বজনগ্রাহ্য, একেবারে আপনার আমার সাধারণ ঘর থেকে উঠে আসা বাংলার আপসহীন লড়াকু জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হবেন না কেন? স্বাধীনতা-উত্তর ভারতে সবদিক দিয়ে বাংলার অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। তবু, দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের ভূমিকায় আজ পর্যন্ত কোনও বাঙালি বসেননি। তাই এই চাওয়ার পিছনে যাঁরা আঞ্চলিকতাবাদ তথা সঙ্কীর্ণতার গন্ধ খুঁজতে মরিয়া, তাঁদের ধিক্কার ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্য নয়। বীর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চেয়ে বড় স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতে আসেননি। দুর্ভাগ্য আমাদের, ১৯৪৫ সালের সেই আকস্মিক অর্ন্তধান রহস্যের সমাধান আজও হয়নি। তাঁকে প্রাপ্য সম্মান আমরা দিতে পারিনি। কিন্তু তিনি আছেন, এই বিশ্বাস বাংলা ও বাঙালির অনুভবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে। গর্বের সঙ্গে তাঁর ফেলে যাওয়া বীরত্বের গৌরবগাঁথাকে আমরা প্রতি মূহূর্তে লালন করি। বাংলার শ্রেষ্ঠ বীরের আসন তাই আজও শূন্য। তিনি ফেরেননি। তারপর দশকের পর দশক কেটে গিয়েছে। বাঙালির ভাগ্যে বঞ্চনা ছাড়া মেলেনি কিছুই। কত প্রধানমন্ত্রী এলেন গেলেন। কোনও বাঙালির ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল না। এর পিছনে কি শুধুই যোগ্যতার অভাব নাকি সুগভীর চক্রান্ত কাজ করেছে, সে প্রশ্নের নিষ্পত্তি সহজে হওয়ার নয়, হবেও না। তামিল, মারাঠি, গুজরাতি, ওড়িয়া-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জাত্যভিমানের সঙ্গে পাল্লা দিতে বাঙালিকেও একজোট হতে হবে। লক্ষ্য একটাই, কোনও রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থ, হিংসুটে স্বার্থপর পদক্ষেপ যাতে স্বাধীনতার সাত দশক পর একজন বাঙালির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অন্তরায় হতে না পারে। যিনি শত ব্যস্ততার মধ্যেও গান করেন, ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন, তিনিই পারবেন গোটা দেশের গুরুভার একার কাঁধে তুলে নিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিনা ক্লেশে পথ চলতে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে হাজারো প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতি মুহূর্তে খাটো করার, ছোট করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। অনেক লবি সক্রিয় হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বাঙালির জাত্যভিমান কোনওদিনই তেমন প্রকট, প্রবল নয়। তবু সৌরভ কিন্তু হার মানেননি। বুক চিতিয়ে দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বেহালার হার-না-মানা ছেলেটা। লর্ডসে জামা উড়িয়ে তাঁর সেই জয়োচ্ছ্বাস আজও প্রতিটি বাঙালির স্মৃতিতে ভাস্বর। এমনভাবেই সঙ্গীতে, বিজ্ঞানে, সমাজের অন্ধকার মুছে দেওয়ার কাজে বাঙালি কখনও পিছিয়ে থাকেনি। বিনয় বাদল দীনেশ থেকে ক্ষুদিরাম, কাকে ছেড়ে কার নাম করব! স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলি থেকেই বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের এই ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা। কিন্তু তবু গত প্রায় ৭০ বছরের স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের ইতিহাসে বাঙালির প্রাপ্তি বলতে সামান্যই। তেমন কিছুই মেলেনি। মাঝে ১৯৯৬ সালে জ্যোতি বসুর সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু, তাঁর দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় সম্মতি না-দেওয়ায় কিংবা বলা ভালো, দলের একটি অংশ পিছন থেকে ছুরি মারায় সে-যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় জ্যোতিবাবুর। যে কলঙ্ক আজ আর শুধু একটা রাজনৈতিক দলের নয়, গোটা বাঙালি জাতির। লাল পার্টির সেই ঐতিহাসিক ভুলের দায় সমগ্র বাঙালি জাতির। যে জনগোষ্ঠীর জাত্যভিমান নেই, খালি পিছন থেকে টেনে ধরা, কাঠি করা স্বভাব, তার প্রাপ্তির ভাণ্ডার সবসময় শূন্যই থাকে। জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী না-হতে দেওয়ার সেই কলঙ্ক থেকে সহজে আমাদের মুক্তি মিলবে না। এরপর আর কোনও বাঙালির সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসেনি। অতর্কিতে নিজের দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরা গান্ধীর প্রাণ হারানোর পর মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে ’৮৪ সালেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ ছিল। বিশেষ একটি পরিবার নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসি শাসনে নানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেও বাঙালি জাতির এক দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস। সেই গোটা অধ্যায় যথেষ্ট বিতর্কিতও বটে। দোর্দণ্ডপ্রতাপ অর্থমন্ত্রী থেকে তাঁর পাঁচ দশকের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্বে প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির জয়মুকুট প্রণববাবুর মাথায় উঠলেও, বলতে দ্বিধা নেই, একজন অত্যন্ত সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আমরা তাঁকে দেখতে চেয়েছিলাম। দেশের এক নম্বর নীতিনির্ধারকের আসনে তাঁর অভিষেক হওয়া উচিত ছিল। অনেকের চেয়ে বেশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে প্রণববাবুকে আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেলেও এই উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের প্রধানমন্ত্রী না-হওয়া বাঙালির হাজারো না-পাওয়ার হতাশা ও বঞ্চনার পরিচয়কেই বহন করছে। দেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রণববাবুর মতো এমন যোগ্য ব্যাক্তিত্ব ক’জন এসেছেন? বাঙালির সেই আক্ষেপ, সেই দীর্ঘশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ২০১৯-এ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা কোটি টাকার প্রশ্ন। তবু আশায় বুক বাঁধতে অসুবিধা কোথায়?
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হচ্ছে মোদিজির বহুচর্চিত আচ্ছে দিন কি দেশের আম জনতা দেখতে পেয়েছে? ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা কি ঢুকেছে—নাকি প্রয়াত বাজপেয়িজির আমলের শাইনিং ইন্ডিয়ার মতো এবারও নোটবন্দি, জিএসটি এবং দুর্বল কৃষি নীতিতে বিপন্ন দেশবাসী শাসক দলের রথ উল্টে দেবে? এমনিতে দেশের মানুষ যে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের উপর খুব একটা খুশি নন, তা সদ্যসমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনী ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং রাজস্থান—তিন বৃহৎ রাজ্যেই শাসক বিজেপি ক্ষমতা হারিয়েছে। সেইসঙ্গে মিজোরাম ও তেলেঙ্গানাতেও দাঁত ফোটাতে তারা ব্যর্থ। সর্বত্রই খেটে-খাওয়া গরিব মানুষের আস্থা হারিয়েছে মোদির সরকার। কংগ্রেস দীর্ঘ ব্যর্থতার পর কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে মাত্র ৪৪টি আসন জেতার কলঙ্ক ঢেকে শেষ পর্যন্ত সোনিয়া-রাহুলের দল দেড়শো আসন পেরতে পারবে কি না, তা বড় প্রশ্ন। আর কংগ্রেস, বিজেপিকে বাদ দিয়ে তৃতীয় বৃহত্তম দল হওয়ার দৌড়ে আছে বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-মাটি-মানুষ-এর দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের সরকার এরাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী জনপ্রিয় নেত্রীর মুখাপেক্ষী হয়, তাহলে বাঙালির দীর্ঘ অপ্রাপ্তির ইতিহাসে যবনিকা পড়তে পারে। বাঙালির সেই শাপমুক্তি জননেত্রীর হাত ধরেই হয় কি না, সেদিকেই আপাতত নজর থাকবে গোটা জাতির। সেইসঙ্গে প্রার্থনা, এবার বাঙালি যেন বিনা বাধায় শীর্ষে পৌঁছায়।
01st  January, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি ঠেকাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রিপল বিলি করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের বিডিও। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে খাবার বিলিতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।  ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রামের একমাত্র জল নিকাশির জায়গায় রাইসমিল গড়ে তোলার প্রতিবাদে শুক্রবার রামপুরহাট-১ ব্লকের খরুণ গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানালেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। এই ব্লকের চাকপাড়া, মালসা ও ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফিবছর বর্ষার সময় আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় থাকি।   ...

কাবুল, ১৯ জুলাই (এএফপি): কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন প্রাণ হারালেন। ঘটনায় আরও বহু মানুষ জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। সরকারি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পাথরপ্রতিমায় পুকুরে কুমির
পাথরপ্রতিমা ব্লকের কুয়েমুড়ি গ্রামের একটি পুকুরে প্রমাণ সাইজের কুমির দেখা ...বিশদ

08:30:00 AM

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতার জন্য পরামর্শ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি 
স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী ...বিশদ

08:30:00 AM

আজকের রাশিফল 
মেষ: পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। বৃষ: মাতৃস্থানীয় ব্যক্তির স্বাস্থ্যোন্নতির ইঙ্গিত। মিথুন: সম্পত্তি লাভের ...বিশদ

08:11:47 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম১৮৯৯: লেখক বনফুল ...বিশদ

07:50:00 AM

২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

19-07-2019 - 08:37:08 PM

গড়িয়াহাট রোডে গাড়িতে আগুন, হতাহত নেই 

19-07-2019 - 06:58:00 PM