Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বছর শেষের ভাবনা
শুভা দত্ত

আবার একটা আনকোরা নতুন বছর এসে গেল। কাল মধ্যরাত পেরতেই শুরু হয়ে যাবে নতুন ইংরেজি বছর ২০১৯। কীভাবে যে আজকাল সময় চলে যায়! একটা গোটা বছর যেন চোখের কয়েকটা পলক মাত্র! তাই বুঝি আজ বছর শেষের দোরগোড়ায় এসে মনে হচ্ছে—এই তো সেদিন ২০১৮ এল! ডিসেম্বরের শেষ রাতে ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁতেই কত বাজি পুড়ল, গির্জায় ঘণ্টা বাজল, প্রার্থনার রব উঠল, মানুষ রাতের ঘুম ভুলে পার্ক স্ট্রিট থেকে বউবাজারের বো-ব্যারাক, কাকদ্বীপ থেকে কালিম্পং গোটা রাজ্য মাতিয়ে বেড়ালো, খানাপিনা হইহুল্লোড় আর আলোর রোশনাইতে ঝলমলে রাতের মহানগরী ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ভোর অব্দি ভেসে গেল উৎসবমুখর মানুষের স্রোতে। আর টিভির চ্যানেলগুলোতে দেশ রাজ্যের সঙ্গে লন্ডন শিকাগো প্যারিস নিউইয়র্ক ভ্যাটিকান বেইজিং— সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বর্ষবরণের রঙিন উন্মাদনার অজস্র টুকরো ছবি বর্ষবরণের সেই আনন্দকে যেন রূপকথার মতো মায়াবী মোহময় করে দিয়ে গেল। তারপর এক দুই করে কেটে বারোটা মাস পার! ঘটনা-দুর্ঘটনা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অশান্তি-উত্তেজনা, সংশয়-চিন্তায় ঠাসা বারো মাস! কিন্তু, কী আশ্চর্য— মনে হচ্ছে এই তো সেদিন গেল পয়লা জানুয়ারি!
এ কেবল কথার কথা নয়। অনেকেই আজকাল এই আক্ষেপ করেন— সময় হারানোর আক্ষেপ! সময় পাচ্ছি না ভাই, কোথা দিয়ে যে সময় যাচ্ছে বুঝতেই পারছি না, কাজকর্ম ডাঁই হয়ে আছে, সময় বেঁধে শুরু করলাম কিন্তু কাজের মাঝপথেই দেখি সময় হাওয়া! পথেঘাটে অফিস-কাছারিতে মায় ঘরসংসারের অন্দরেও এই আক্ষেপ অহরহ বাজছে, একটু কান পাতলেই শোনা যায়! কিন্তু, এমনটা হচ্ছে কেন? সত্যিই কি সময়ের গতি বেড়ে গেছে? এসব নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন সেই বিশেষজ্ঞরা অনেকে বলছেন, সময়ের গতি বাড়েনি, বেড়েছে মানুষের কাজের মাত্রা, চাপের বহর আর সাধ্যের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাপারে যুক্ত থাকার প্রবণতা। সারাদিন সবদিক সামাল দিতে মানুষকে এখন চড়কিপাক খেতে হয়। আর সেই পাকের সঙ্গে তাল রাখতে অনেক ক্ষেত্রেই এক ঘণ্টার কাজ আধ ঘণ্টায় সারতে হচ্ছে। তা করতে গিয়ে যখন কাজ ফুরোচ্ছে না, তখনই মনে হচ্ছে সময় পালিয়ে গেল! ব্যস্ততাই আমাদের জীবনে সময়কে ক্রমশ ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। আর তাই দশ বারো দিন কি বারো মাস আগের ঘটনাও অনেক সময় মনে হচ্ছে এই তো সেদিন! হয়তো তাই, কিন্তু মনে যে হচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই।
তবে সময়ের গতি যাই হোক কাল রাত পোহাতেই আর একটা নববর্ষ। ইংরেজি ২০১৯ শুরু। শুধু তাই নয়, দেশ রাজ্যের ভবিষ্যতের বিচারে এই নববর্ষের গুরুত্ব এবার বিগতের তুলনায় কিছু বেশিই বলা চলে। কারণ এটা ভোটবছর, দেশের ক্ষমতার মসনদ দখলের রাজনৈতিক মহাসংগ্রামের বছর। এবছরের মাঝামাঝি লোকসভার ভোটযুদ্ধে সেই মসনদ দখলের ফয়সালা হবে। তার জন্য অবশ্য ইতিমধ্যেই শাসক বিজেপি থেকে শুরু করে কংগ্রেস তৃণমূল সমেত বিরোধী শিবিরের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। দেশের রাজনৈতিক মহলগুলোতে একটা সাজো সাজো রবও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বছরের শুরুটা, কেবল শুরুটা কেন সারা বছরটাই দেশ ও দশের জন্য যে বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ—তাতে সন্দেহ কী? দেশের লাখ কোটি মানুষের আশা ভরসা প্রত্যাশা পূরণের নতুন স্বপ্ন যাঁদের ঘিরে তৈরি হয়েছে জনাদেশ তাঁদের পক্ষেই যাবে। তাঁরাই আসন্ন ভোটযুদ্ধে জয়যুক্ত হবেন, দেশ চালানোর অধিকার দখল করবেন। কিন্তু, মসনদে বসার পর তাঁরা মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণে কতটা উদ্যোগী হবেন সেটাই তো বড় কথা। এই ভোটবছরে তার আঁচও মিলবে। সুশাসন, মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বেকার সমস্যা সমাধান, দুর্নীতি দমন, কালো টাকা উদ্ধারের মতো উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাঁরা কতটা উৎসাহী—বোঝা যাবে ভোটফল প্রকাশ ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরবর্তী ছমাসেই। এবং সেজন্য, বলা বাহুল্য, আর পাঁচটা বছরের চেয়ে আসন্ন বছরটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শুধু কি তাই? দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন দিল্লিতে পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল বিজেপির কার্যকলাপ দেশের আমজনতাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং, অনেক ক্ষেত্রেই গেরুয়া বাহিনীর ক্রিয়াকলাপ ও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আশাহত হয়েছেন দেশজনতা। গোরক্ষা, জাতীয়তাবাদ নিয়ে খুনোখুনি ঝামেলা, নোটবন্দি, জিএসটি রূপায়ণে এক ধরনের দিশাহীনতা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও করা দুর্নীতির ব্যাপারে ধীরে চলার নীতি এবং সেইসঙ্গে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি দেশের মানুষের মধ্যে আশাভঙ্গের যে যন্ত্রণা তৈরি করেছে তার প্রভাব আসন্ন লোকসভা ভোটে ভালোই পড়বে বলেই মনে করছেন ওঁরা। তার ওপর দেশের গরিব কৃষক মজদুর শ্রেণীর মানুষজনের জীবনেও বিশেষ কোনও উন্নতি ঘটাতে পারেনি মোদিজির বিজেপি সরকার। সেখানেও বড় খামতি থেকে গেছে।
এখন এই ভোটের মুখে তাই কৃষক কল্যাণে কৃষিঋণ মকুবের জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে দিল্লিতে। গরিবের অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা ঢালার আয়োজনও হচ্ছে! কিন্তু, ভোটযুদ্ধের মুখে এইসব উদ্যোগ শেষ অব্দি ক্ষমতা দখলের লড়াইতে শাসককে কতটা সুফল দেবে তা নিয়ে যথেষ্ট ভাবিত শাসক বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। পাঁচ রাজ্যের ভোটে বিজেপি পর্যুদস্ত হওয়ার পর এই ভাবনা যে আরও গাঢ়, আরও গভীর হয়েছে তাতে সন্দেহ কি?
তার ওপর আছে বিরোধীদের ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত। পাঁচ রাজ্যের সাম্প্রতিক ভোটফলে কংগ্রেসের জয়জয়কার হয়েছে ঠিকই, তবে দেশের বাকি ২৪ রাজ্যের কটাতে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস এখনও সেই জয়জয়কার ধরে রাখার সামর্থ্য অর্জন করেছে তা নিয়ে রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের একটা বড় অংশেরই সন্দেহ আছে। ২০১৪ সালের ভোট বিপর্যয়ের পর সবে তো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাথমিক লক্ষণটুকু দেখা গেছে মধ্যপ্রদেশ ছত্তিশগড় রাজস্থানে। ওই তিন রাজ্য তো আর গোটা ভারত নয়, বাংলার মতো রাজ্যও সেখানে আছে। সুতরাং, বিজেপি হটাতে জোট ছাড়া গতি নেই। আর নেই যে সেটা কংগ্রেসও জানে। তাই জোটের নেতা বা প্রধানমন্ত্রী মুখ বাছতে কংগ্রেসের অগ্রাধিকারও ছেড়েছে কংগ্রেস। তবে, রাজনৈতিক হাওয়া যা তাতে অকংগ্রেসি অবিজেপি মহাজোটের সম্ভাবনাই প্রকট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মধ্যমণি করে তেলেঙ্গানার চন্দ্রশেখর রাও বা অন্ধ্রের চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো নেতারা যে ফেডারেল ফ্রন্ট তৈরি করেছেন তার দাপট আসন্ন লোকসভা ভোটে বহুগুণ বেশি হয়ে ধরা পড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সে জন্যই নাকি মোদিজি ও তাঁর বিজেপি রাহুল কংগ্রেসের চেয়ে মমতার ফেডারেল ফ্রন্টকে অধিকতর সমীহ করতে শুরু করেছে। সেটাই স্বাভাবিক।
কংগ্রেস বিজেপিকে শাসক বাছলে তাঁরা কী করতে পারে, না পারে তা দেশের মানুষ দেখে নিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা দেখছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কী করে প্রায় একক চেষ্টায় সিপিএমের ফেলে যাওয়া রুগ্ন মুমূর্ষু হতশ্রী পশ্চিমবঙ্গকে সার্বিক উন্নয়নের আলোয় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ববাংলায় রূপান্তরিত করেছেন। মমতার সততা নিষ্ঠা আর অক্লান্ত পরিশ্রমী ভাবমূর্তিতে তাই আজ দেশের লাখ কোটি মানুষের পরম শ্রদ্ধা ও আস্থা। সেই শ্রদ্ধা আর আস্থার ওপর ভরসা করেই দিল্লিতে প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দেখছে বাংলা, দেখছে দেশের মানুষ। ২০১৯ সেই স্বপ্ন সার্থক হওয়ার বছর।
স্বপ্ন সফল হবে কি হবে না তা সময়ই বলবে। তবে, দেশের পরিস্থিতি যা, তাতে এই স্বপ্ন অসম্ভব বলে মনে করছেন না কেউই। কেন নয় সে কথা আগের অনেক কলমেই কমবেশি আলোচনা হয়েছে। আজ
এই উৎসবের দিনে রাজনীতির সেই জটিল অঙ্ক ফিরে না দেখে শুধু এটুকুই বলছি আমরা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য দিল্লি আজ আর খুব বেশি
দূর নয়। এ রাজ্যের বিরোধীরা, বিশেষত সিপিএম কংগ্রেস এ কথা শুনে হয়তো টিপ্পনী কাটবে।
তবে, ২০১১ সালে ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’, ‘৩৪ বছরের অজেয়’ সিপিএম লালদুর্গের মর্মান্তিক পতনের ইতিহাস স্মরণ করলে সে টিপ্পনী উধাও হয়ে তাঁদের নেতানেত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজটাই মোটা হয়ে উঠবে—তা হলফ করেই বলা যায়। আসলে গ্রহণযোগ্যতা—মমতার গ্রহণযোগ্যতা আজ রাজ্যে যেমন সর্বাত্মক, ঠিক তেমনি ভিন রাজ্যেও। সুতরাং, এখানে বিরোধীরা তাঁকে লক্ষ্য করে যে কুৎসা কটুকাটব্যই করুন, যত বিদ্বেষই ছড়ান তাঁর বিরুদ্ধে—রাজ্যে তো বটেই, জাতীয় স্তরেও মমতার ওই গ্রহণযোগ্যতা স্পর্শ করতে পারবেন না! কারণ, দেশের জনদরবারে এই মমতা-বিরোধীদের গ্রহণযোগ্যতাই তো আজ প্রায় তলানিতে—কে বিশ্বাস করবে ওঁদের! এখন তাই দেখার—নববর্ষে লোকসভা ২০১৯ কী বলে। শুভ নববর্ষ।
30th  December, 2018
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারিই সার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে টোটোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযানে নামতে পারছে না পরিবহণ দপ্তর। প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মে’র পর রাস্তায় ...

  বিজাপুর, ১৯ জুন: ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে এক সমাজবাদী পার্টির নেতাকে অপহরণ করে খুন করল মাওবাদীরা। পুলিস জানিয়েছে, এসপি নেতা সন্তোষ পুনেম ওই এলাকায় কনট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। গতবছর তিনি বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন। ...

 দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১৯ জুন: উত্তরবঙ্গে তৈরি হোক এইমস। বাংলার কংগ্রেসিদের সুরেই এবার উত্তরবঙ্গে এইমস চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি এমপিরা। উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা মাথায় রেখে সংসদে এই ইস্যুটি সামনে আনবেন তাঁরা। একসময় রায়গঞ্জে এইমস তৈরি হবে বলে মনমোহন সিং সরকার সিদ্ধান্ত ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের আকস্মিক অবনতি। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। ব্যবসায় নতুন সুযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস
১৯৩৯: ক্রিকেটার রমাকান্ত দেশাইয়ের জন্ম
১৯৫২: লেখক বিক্রম শেঠের জন্ম
১৯৭৯: ফুটবলার রেনেডি সিংয়ের জন্ম
২০০৭: অভিনেত্রী অনীতা গুহের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৯ টাকা ৭১.০৫ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩২ টাকা ৮৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৬.০২ টাকা ৭৯.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ৩০/৩০ অপঃ ৫/৯। উত্তরাষাঢ়া ২৬/৪৭ দিবা ৩/৩৯। সূ উ ৪/৫৬/২০, অ ৬/১৯/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৯/৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ২/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। 
৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২৭/২৪/১ দিবা ৩/৫৩/৬। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২৫/৩৬/১১ দিবা ৩/৯/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/১০ মধ্যে ও ৩/৩৫ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪১/২৯ গতে ৬/২২/২১ মধ্যে, কালবেলা ৩/০/৩৮ গতে ৪/৪১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৮/৫৬ গতে ১২/৫৮/৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৬ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১৭৭/১ (৩১ ওভার) 

05:10:37 PM

রোগীর পেট থেকে উদ্ধার গাঁজার ছিলিম
রোগীর পেটের ভিতর থেকে কাঁচি বা ছুরি উদ্ধারের ঘটনা নতুন ...বিশদ

05:08:37 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ১১৭/০ (২০ ওভার)

04:32:28 PM

বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া ৫৩/০ (১০ ওভার)

03:50:40 PM

ভাটপাড়ার পরিস্থিতি সামলাতে বিশেষ দায়িত্ব সঞ্জয় সিংকে 
ভাটপাড়ার পরিস্থিতি সামলাতে এডিজি(দক্ষিণবঙ্গ) সঞ্জয় সিংকে বিশেষ দায়িত্ব দিল রাজ্য। ...বিশদ

03:28:00 PM

বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়লেন নুসরত 
খুব ভুল না হলে টলিউডে প্রথম ডেস্টিনেশন ওয়েডিং সারলেন অভিনেত্রী-সংসদ ...বিশদ

02:40:33 PM