বিশেষ নিবন্ধ
 

লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। জীবৎকালে তাঁরা নিশ্চয়ই ভাবতেও পারেননি, যে দেশমাটি মানুষের জন্য জীবনপাত করছেন, যাঁদের উন্নয়ন উন্নতির কথা ভেবে রাতের ঘুম বরবাদ করছেন, আনন্দ আতিশয্য পরিবারপ্রীতি বিসর্জন দিয়ে চলেছেন এবং পরিবর্তে যে কৃতজ্ঞচিত্ত জনমণ্ডলী তাদের শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় মানুষ থেকে দেবতা মহামানব, পুরুষ থেকে যুগপুরুষ মহাপুরুষের মহিমান্বিত আসনে বরণ করে নিচ্ছেন—একদিন তাঁদের দিকে চাইতেই রীতিমতো ভয় করবে। এমনকী মাথা ঘুরে দেহের ভারসাম্য রক্ষা মুশকিল হয়ে পড়লেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না! কারণ পাঁচ-ছ’ফুটের স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে দেখা আর পঞ্চান্ন-ষাট তলার রেলিংবিহীন বেদি থেকে দৃষ্টিপাত তো এক কথা নয়! আমাদের মতো ক্ষীণ-কলিজা আম-পাবলিক ছাড়, অত উঁচু থেকে ঝুঁকে দেখতে অনেক সিংহ-হৃদয়েরই বুক কাঁপবে। ভার্টিগো রোগ থাকলে তো কথাই নেই। একথা ঠিক, নিজ প্রতিভায় নিজ গুণে মহৎকর্মে তাঁরা সকলেই তাঁদের জীবৎকালে নিজেদের ওই ঐহিক উচ্চতা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং আমাদের মুগ্ধ বিস্ময় কখনও তাঁদের সেই অসাধারণত্বের দিকে চেয়ে হয়তো বলেওছে—গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কেবা!
কিন্তু, সে তো তাঁদের লৌকিক পুরুষত্ব নয়, অলৌকিক মহাপুরুষত্ব, বাস্তবের শারীরিক উচ্চতা নয় তাঁদের অনুগত ভক্তজনের মনে গড়ে ওঠা আকাশচুম্বী ভাবমূর্তি। একটা ভারচুয়াল অবয়ব। এমন এক অবয়ব যার দীর্ঘত্ব কেবল অনুভব করা যায়, চাইলে হয়তো মানসচক্ষে দেখাও যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না, বাস্তবের এই মাটিতে খুঁজেও পাওয়া যায় না! যাবে কী করে? সেটা তো মানুষের শ্রদ্ধা-বিস্ময়ে গড়া, মানুষের মনোরাজ্যের ব্যাপার। তাই, তাতে সঙ্গত কারণেই মহাপুরুষ যুগন্ধরেরা বিশেষ বিচলিত বোধ করেননি। আম-পাবলিকের এই শ্রদ্ধাভক্তির ভবিষ্যৎ বিপদ সম্পর্কে তাঁদের মস্তিষ্কে কোনও চিন্তার রেখাও প্রকটিত হয়নি। বরং, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় তাঁদের ভূমিকা আরও নিবিড় গভীর হয়েছে। এবং বলতে কী, মানুষের মনের ওই শ্রদ্ধামূর্তিকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠার যে চল আমাদের এই গুরুবাদী পূজাপ্রবণ ভারত দেশে বহুযুগ প্রচলিত—তাতেও দেবতা মহাপুরুষ বা মহামানব-মানবীবৃন্দ বিশেষ বিপদের গন্ধ পাননি বলেই বিশ্বাস। কারণ, তাঁদের মূর্তির সাইজ মানবকদের স্বাভাবিক উচ্চতা ছাড়ালেও কখনওই অদ্ভুত অস্বাভাবিক মাত্রা স্পর্শ করেনি। হতে পারে, শিল্পীর নৈপুণ্যে কদাচিৎ কখনও তাঁদের কাউকে আটার বস্তার উপর উল্টানো হাঁড়ি কি কুঁজো বামন কি একটু গাবলুগুবলু মনে হয়েছে—তাঁদের অতি পরিচিত মুখে একেবারে বিষদৃশ ভঙ্গি আমাদের দৃষ্টির নান্দনিকতাকে হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে কিন্তু, একথা কিছুতেই বলা যাবে না যে তাঁদের মূর্তিগুলি কিংকং, গর্জিলার পাষাণ প্রতিরূপ হয়ে আমাদের ভক্তিকে ভীতবিভ্রান্ত করেছে। মূর্তির সাইজ নিয়ে কম্পিটিশন! বিশ্বজুড়ে শত-কোটি নানা তরিকার কম্পিটিশন কণ্টকিত বাজারে—না, কখনও সে কম্পিটিশন দেখেননি কেউ, ভাবেনওনি—এটা হলফ করেই বলা যায়।
পৃথিবীর অন্যত্র জানি না, একবিংশের ভারত কিন্তু দুটোই দেখছে—একদিকে প্রকৃত অর্থে শত শত ফুট উচ্চতার পাথুরে মহামূর্তি এবং সেই উচ্চতা নিয়ে ‘কম্পিটিশন’! তা দেখে আমরা একইসঙ্গে কেউ পুলকিত কেউ বিস্ময়ে হতবাক! যে রাজ্য মূর্তি কম্পিটিশনে শিরোপা পাচ্ছে তাদের মহানন্দ আর বাদবাকি দেশ বিহ্বল হতচকিত! আর অন্যদিকে দরিদ্র ভারতবাসী অজ্ঞ ভারতবাসীর অনাহারক্লিষ্ট বা আধপেটা ভাতের হাতগুলি, নানা অপমান অসম্মান অত্যাচার লাঞ্ছনায় বিপর্যস্ত অসহায় চোখগুলি এবং চারপাশের রাষ্ট্রীয় পেষণে দিশেহারা, সন্ত্রাসশঙ্কায় বিপন্ন ক্ষুব্ধ মনগুলিতে প্রতিফলিত হচ্ছে একটিই কথা, এসব হচ্ছেটা কী! অন্তরীক্ষে প্রয়াত মহাপুরুষেরাও হয়তো মৃদু শ্লেষ মাখা ঠোঁটে এমনটাই ভাবছেন। ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু, মূর্তিবাদীরা ভয় পাবেন কেন? তাঁরা তো একবিংশের হাই-টেক গেরুয়া রাজনীতির পিতৃপুরুষ, দেশের কর্ণধার, মোদিজির স্বচ্ছ ভারত, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়ার শ্রীরামচন্দ্র থেকে শিবাজী মহারাজ থেকে সর্দার প্যাটেল—যাবতীয় মনপসন্দ মহাপুরুষবৃন্দের মহারাজকীয় পুনর্বাসনে অঙ্গীকারবদ্ধ! তাঁদের ঠেকাবে সাধ্য কার! গুজরাটে সর্দার সরোবরের বুকে টন টন পাষাণের পিণ্ড বসিয়ে তাই খাড়া হয়ে গেছেন ১৮২ মিটারের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল! পরিবেশকর্মীরা প্যাটেলের বিরোধিতা না করলেও পরিবেশের স্বার্থ রক্ষার কথাটা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন আম গুজরাটি তথা দেশ বিশ্বের যাবতীয় মানুষের ভালোর কথা ভেবে। শুনল কেউ? নাহ্‌! শুনব কেন? প্যাটেলের মতো মহাপুরুষের মূর্তি আগে না দেশ-পরিবেশ? ঠিক ঠিক, স্যার, মূর্তি আগে, মূর্তি আগে কারণ পাবলিক ধরতে মূর্তি লাগে। গুজরাটে প্যাটেল তো মহারাষ্ট্রে শিবাজী মহারাজ আর অযোধ্যায় (আপাতত যোগীজির রাজ্য হলেও) একমেবাদ্বিতীয়ম্‌ শ্রীরামচন্দ্র! অতএব মূর্তি বানাতে হবে—এক সে বড়কর এক! শিবাজী মহারাজ দুশো হলে শ্রীরামচন্দ্র হবেন দুশোবিশ মিটার—ওয়ার্ল্ডে হাইয়েস্ট—সবার উপরে, সবচেয়ে উঁচু! শ্রীরামচন্দ্র ভগবান না? শিবাজী মহারাজ যত বড় ফাইটারই হোন মর্তমানুষ। তাঁর চেয়ে রামচন্দ্রের হাইট তো য্যাদা হোনাহি চাহিয়ে!
নো প্রবলেম। হচ্ছে এবং হবে। শিবাজী মহারাজ হবেন, রামচন্দ্র হবেন অদূর ভবিষ্যতে বারাণসীর বাবা বিশ্বনাথ সপার্ষৎ এই তালিকায় যুক্ত হলেও বলার কিছু নেই। বারাণসী বলছে, ন্যায্য দাবি। বারাণসী বলছে, বাবা বিশ্বনাথের ভুবনবিখ্যাত গলিগালার আর দরকার নেই। ভক্তজনের সুবিধাঁ কে লিয়ে তোড়ফোড় করে মন্দিরের আশপাশ সব খালি করে দিতে হবে। তাই, ঐতিহ্যপ্রাচীন গলিপথ চিরতরে মুছে বিশ্বনাথ মন্দিরের যাত্রাপথ প্রশস্ত করার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। কারা থাকেন ওখানে? কারা সেই অনাদি অনন্তকাল ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা? না, ধর্মের কথা জাতপাতের কথা গরিব খেটে-খাওয়া ওসব তুলবেন না। এটা একটা গ্লোরিয়াস কর্ম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি বেনারসকে একটা আধুনিক ডিজিটাল রূপ দিতে চাইছেন, বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরকে প্রশস্ত জমকালো আড়ম্বরে গরিয়ান একটা টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি লুক দিতে চাইছেন—হোয়াটস রং! শোনেননি, প্রতিদিন শ্রীরামচন্দ্রের প্রস্তাবিত মূর্তির পাদস্পর্শ করে চলার জন্য সরযূর গতিপথ বদল করা হচ্ছে! ভালো ভালো খুব ভালো। কিন্তু...! কী কিন্তু? বাবার বাহন বেনারসি ষাঁড়েরা থাকবেন কোথায়? তাদের জন্যও কি পুনর্বাসনের ব্যবস্থার মানে সর্বসুবিধাযুক্ত বসত হবে? আমার মেয়ে ছোটবেলায় গোয়ালঘর দেখে বলেছিল, অ্যাই, ওগুলো কি গোরুদের ফ্ল্যাট! তো তেমন কিছু কি পরিকল্পনায় আছে?
ভদ্রলোক আর সহ্য করতে পারলেন না। চটেমটে উঠে পড়লেন। এবং পাদানি থেকে উপস্থিত সকলকে অবাক করে দেশ উচ্চনাদেই বলে গেলেন, যতই যা বলুন, ২০১৯-এ আমরাই আসছি। বাসে যাঁরা এতক্ষণ ভদ্রলোকের কথা শুনছিলেন তাঁদের কেউ মুখ মটকে হাসলেন। একজন আবার নাতিউচ্চে ফুট কাটলেন, আসুন আসুন। কে আটকাচ্ছে? তবে বেঙ্গল বাদে—এখানে রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনী আছে, সাবধান। মুখে পড়লে, ঘুরে দাঁড়ানোর ফুরসত মিলবে না! তাঁর বলার ভঙ্গিতে হাসির রোল উঠল। যাঁকে উদ্দেশ্য করে বলা তিনি অবশ্য ততক্ষণে হাতিবাগানের ভিড়ে মিশে গেছেন। কিন্তু কথা হল, হঠাৎ দেশ জুড়ে দেবতা মহাপুরুষদের মূর্তি পোঁতার এমন উৎসাহ উদ্দীপনা জাগল কেন? কেউ কেউ একে বলছেন মূর্তি-রাজনীতি। মহাপুরুষদের বিশাল বিশাল মূর্তি সামনে বসিয়ে সংশ্লিষ্ট মহাজনের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে খুঁচিয়ে তোলা এবং শাসক বা শাসকদল হিসেবে দুর্বলতাগুলো আড়াল করা। উদ্দেশ্য একটাই, ভোটবাক্সে জনতা জনার্দনের কৃপালাভ।
কিন্তু, পঞ্চাশ-ষাটতলা বাড়ি সাইজের মূর্তি দেখে জনতা জনার্দনের মনোভাব কি সত্যিই কিছু বদলাবে? অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির গড়ার দাবির প্রতি নরম মনোভাব হয়তো রামভক্তদের খানিক উৎসাহিত করতে পারে কিন্তু মহাপুরুষদের ওই দৈত্যাকার মূর্তিগুলি কি পারবে? একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, কিছু ভালো কাজের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদি সরকার শুরু থেকেই নোটবন্দির মতো এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা তাঁদের সরকারের ভাবমূর্তির প্রতি মানুষের আস্থা টলিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ দীর্ঘতর করেছে—অন্তত অর্থনীতির দিকপালেদের অনেকেই এমন অভিমত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নীরব-চোকসি-মালিয়ার মতো ‘মহাজনে’র মহাকীর্তি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তার সঙ্গে দিল্লির দ্বৈরথ বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষস্তরে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে সংঘাত ‘স্বচ্ছ ভারতে’র দিশারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তিকেও যে সরাসরি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাতেও সন্দেহ নেই। পথেঘাটে মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আজ তার আভাস পেতে বিশেষ অপেক্ষা করতে হয় না। নির্বাচন পূর্ববর্তী জনমত সমীক্ষার রিপোর্টগুলিতেও তার প্রমাণ মিলেছে। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেই তাই মনে করছেন, রামমূর্তি-প্যাটেল-শিবাজী সবকিছুই সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চটজলদি কৌশল, এ রাজ্যে ‘গণতন্ত্র উদ্ধারে’র রামরথও তাই। মানুষকে ধর্ম সমেত নানান আবেগে ভুলিয়ে কার্যসিদ্ধির চেষ্টা। কিন্তু, প্রশ্ন হল, এভাবে লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি শাসকের ভাবমূর্তি ফেরানো যায়? বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনীষা আবুল ফজলের একটি মন্তব্য মনে পড়ছে, ‘যা পরকালের সঙ্গে জড়িত, অর্থাৎ ধর্ম, তার ওপর জোর না দিয়ে যা এ জীবনের সঙ্গে জড়িত, অর্থাৎ মানবতার ওপর জোর দেওয়া উচিত। মানুষের কল্যাণ এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে জড়িত।’ (মানবতন্ত্র) দেশ-রাজনীতির মূর্তিবাদী সুধীজনেরা কি একবার ভাববেন?
06th  December, 2018
কংগ্রেসের জয়ে বড় ভূমিকা কৃষক আন্দোলনের 
শুভময় মৈত্র

হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যেই বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করল কংগ্রেস। তবে তাদের দলটা তো বিজেপির মত নিয়মানুবর্তী এবং সংগঠনভিত্তিক নয়। কংগ্রেসকে ভোটে জেতায় তাদের কর্মী এবং জনগণ আর নেতা নির্বাচনের জন্যে সবাই তাকিয়ে থাকে গান্ধী পরিবারের দিকে।  বিশদ

মোদির ভাবমূর্তির পতনই বিজেপির মূল ক্ষতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল বিজেপি’র বিপক্ষে ৫-০ হওয়া ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ জনমানসে মোদির ভাবমূর্তির পতন ঘটা। কোনও একটি বা একাধিক রাজ্যের সরকার পরিবর্তন যতটা না শাসক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ শাসক দলের নেতৃত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ভাবনার উৎপত্তি।
বিশদ

14th  December, 2018
পাক সন্ত্রাসবাদের পাল্টা
জবাবে ভারতের জলযুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে বিঁধতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করা শুরু করেছে ভারত। কখনও বলছে ‘টেররিস্তান’, কখনও ‘বিশেষ সন্ত্রাসবাদী অঞ্চল’! তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক! সেই তথ্যই জানাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে শেষ আট বছরে সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই বছরেই।
বিশদ

13th  December, 2018
রথধ্বনি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

‘এই-সকল টানিয়া বুনিয়া বর্ণনা আমাদের কর্ণে অসম-ভূমি-পথে বাধা-প্রাপ্ত রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দের ন্যায় কর্কশ লাগে।’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের দেশের রাজনীতি এখন শতরঙ্গে ভরা। দেশের কেন্দ্রে অধিকাংশের ভোটে একটি কুনির্বাচিত গণতান্ত্রিক শাসন হঠাৎই রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রধান এবং দলমুখ্যকে মাঝে-মাঝেই মাথায় পাগড়ি এবং হাতে তরবারি নিয়ে ছবি তুলতে দেখছি।
বিশদ

11th  December, 2018
Loading...
ভোটের পর সংসদীয় মূল‌্যবোধ কি অক্ষত থাকবে?  

পি চিদম্বরম: আপনি এই লেখাটি পড়ছেন পাঁচ রাজ‌্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার (৭ ডিসেম্বর) তিনদিন বাদে এবং গণনার (১১ ডিসেম্বর) ঠিক আগের দিন। সুতরাং অত সতর্ক না-থাকলেও আমার চলে।   বিশদ

10th  December, 2018
হাঁক পাড়লেই হবে? মমতার সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে এমন মুখ কোথায়?
শুভা দত্ত

এবারের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি কটা আসন পাবে? পেতে পারে? এই মুহূর্তে বোধহয় স্বয়ং ভগবানও বলতে পারবেন না। জ্যোতিষীরা হয়তো তিথি নক্ষত্র ইত্যাদি গুনেগেঁথে কিছু একটা বলে দিতে পারেন, তবে সেটাই শেষপর্যন্ত মিলে যাবে এমন স্থির সিদ্ধান্ত একমাত্র আহাম্মক ছাড়া কেউ করবেন না। কারণ, ভোট এখনও অনেকটা দূরে।
বিশদ

09th  December, 2018
Loading...
ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্থান ভোটের ফল?

আমরা সবাই এখন ভোটফলের অপেক্ষায়। এর মধ্যে ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার হল রাজস্থান বিধানসভার ভোট। গত বিধানসভায় ২০১৩ সালে এই তারিখ ছিল ১ ডিসেম্বর, রবিবার। সেদিন পরিবার নিয়ে জয়পুরে থাকার সুযোগ হয়েছিল। কাজের সূত্রে যে বন্ধুরা জয়পুরে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হচ্ছিল যাওয়ার আগে।
বিশদ

08th  December, 2018
ওয়াটার মার্কেট
সমৃদ্ধ দত্ত

বিহারের গয়া জেলার কাপাসিয়া ব্লকের গুলাড়িয়া চক গ্রামের গনৌরি কুমার আর মুসাফির মাঝি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে এক পুলিস কর্মীকে বললেন, তোমাদের এখানে যমুনা নদীটা দেখতে যাব কীভাবে? কেন? না, মানে, কেমন জল আছে একবার দেখতাম! আবার কবে আসা হবে তা তো জানি না। এরপর যখন আসব যদি শুকিয়ে যায়! পুলিস কর্মী হাসলেন।
বিশদ

07th  December, 2018
পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস জরুরি
হারাধন চৌধুরী

গত দশকের কথা। কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণবঙ্গের এক জেলায় গিয়েছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের খবর সংগ্রহের জন্য। জেলা সদরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্লকে যাতায়াতের জন্য মূলত গণপরিবহণের উপরেই ভরসা রেখেছিলাম। বলা বাহুল্য, তখন গরম কাল। একটু বাড়তি হাওয়া বাতাসের লোভে জানালার ধারের একটা সিট দখল করার জন্য কসরতও করেছি।
বিশদ

04th  December, 2018
ঢাকের সুপরিচিত শব্দ
পি চিদম্বরম

নরেন্দ্র মোদি ২০১৩-১৪ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি নিজেকে পরিচিত করেছিলেন বিকাশপুরুষ হিসেবে। মানে তিনি উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪-র মে মাসে যে ৩১ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদের একটা বড় অংশ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন) স্লোগানে আন্দোলিত হয়েছিলেন।
বিশদ

03rd  December, 2018
মমতা মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর হঠাৎ এত নরম হয়ে এল কেন?
শুভা দত্ত

গেরুয়া শিবির এবার কি সত্যিই বিপদের আঁচ পাচ্ছে? দিল্লির দরবারে কি দেশের মানুষের মতিগতি নিয়ে কোনও অশনিসংকেত পৌঁছল! দেশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখন ভোট চলছে। যখন এই লেখা লিখছি তখন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভোট হয়ে গেছে। রাজস্থান, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় হবে। সেজন্য রাজ্যগুলিতে ভোটপ্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে।
বিশদ

02nd  December, 2018
উইঙ্কল টুইঙ্কল: ২০৩৮ কি এক মূর্তিস্থানের গল্প?
অতনু বিশ্বাস

 পরের পুজোয় গুজরাত বেড়াতে যাবেন অমলকান্তি। ঠিক করে ফেলেছেন এখনই। আমেদাবাদ, গির, দ্বারকা, ঢোলাবিরা, ইত্যাদি। আর সেইসঙ্গে অবশ্যই যেতে হবে বরোদার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, নর্মদা বাঁধ থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে, ‘সাধু বেত’ নামে নদীর দ্বীপে। যেখানে রয়েছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সুবিশাল মূর্তিখানা।
বিশদ

01st  December, 2018
Loading...
একনজরে
বিএনএন, বর্ধমান: অবশেষে পূর্তদপ্তরের বর্ধমানের কর্তাদের ‘শীতঘুম’ ভেঙেছে। জিটি রোড সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর গত মঙ্গলবার থেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ ফের শুরু হওয়ায় বর্ধমানের মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।   ...

 ওয়াশিংটন, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): যৌন হেনস্তার অপরাধে আমেরিকায় এক ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীর নয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মার্কিন আদালত। চলতি বছরের শুরুতে বিমানে সফরকালে এক ঘুমন্ত মহিলা সহযাত্রীকে যৌন হেনস্তা করে প্রভূ রামমূর্তি (৩৫)। ...

 হায়দরাবাদ, ১৪ ডিসেম্বর: হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচে বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম দিনে ৩৮ ওভারে ২ উইকেটে ৯৯ রান তুলেছে বাংলা। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৫৭ ও অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি ৬ রানে ক্রিজে আছেন। আউট ফিল্ড ভিজে থাকায় এদিন খেলা শুরু হয় নির্ধারিত ...

 নয়াদিল্লি, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেন রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি। তিনি বলেছেন, তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশে আনা অভিযোগগুলি যে সর্বৈব মিথ্যা ছিল, এই রায় সেটাই প্রমাণ করল। ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা, বাহন ক্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের বিদ্যাশিক্ষায় সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭৭- টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট নিলেন,
১৯০৮- রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী রঙ্গনাথানন্দের জন্ম,
১৯৫০- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু,
১৯৭৬- ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৯ টাকা ৯২.৩৩ টাকা
ইউরো ৮০.০৪ টাকা ৮৩.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩১,৯৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,২৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৭৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী ৫৯/৫৯ শেষ রাত্রি ঘ ৬/১৩। নক্ষত্র- পূর্বভাদ্রপদ ৪৭/৩৩ রাত্রি ঘ ১/১৪, সূ উ ৬/১২/৪৫, অ ৪/৫০/২৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ঘ ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/১১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী রাত্রি ২/৫/২৫। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র রাত্রি ১০/১২/৪২। সূ উ ৬/১৩/১৬, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৫/৪০ মধ্যে ও ঘ ৭/৩৮/৪ থেকে ঘ ৯/৪৫/১৬ মধ্যে ও ঘ ১১/৫২/২৭ থেকে ২/৪২/২ মধ্যে ও ৩/২৪/২৬ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫১/৩৯ থেকে ঘ ২/৩৮/৫১ মধ্যে। বারবেলা ১২/৫০/৪৪ থেকে ২/১০/১৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩২/৪৬ মধ্যে ও ঘ ৩/২৯/৪৪ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/৪৩ মধ্যে ও ঘ ৪/৩৩/২৯ থেকে ঘ ৬/১৩/৫৯ মধ্যে। 
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপির রথযাত্রার অনুমতি দিল না রাজ্য 
সাম্প্রদায়িক অশান্তির আশঙ্কায় রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রার আবেদন বাতিল করে দিল ...বিশদ

09:17:00 PM

কাল ম্যারাথনের জন্য হাওড়া স্টেশন ও বিমানবন্দরে যেতে বিকল্প রুট পুলিসের 
টাটা স্টিল কলকাতা ম্যারাথনের জন্য শনিবার রাত ১০টা থেকেই ময়দানের ...বিশদ

07:31:32 PM

জয়নগরে শ্যুটআউটের ঘটনায় ধৃত আরও ১ 

03:59:57 PM

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি এখন কলকাতায়
ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে কলকাতায় পৌঁছাল আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফিটি।আর মাত্র ...বিশদ

03:42:35 PM

এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণা, আটক ২
এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আসানসোলে থেকে ২ জনকে আটক ...বিশদ

03:39:00 PM

আসানসোলে আট ফুটের ময়াল উদ্ধার
আসানসোল উওর থানার পাচগাছিয়া মনোহর বহাল এলাকা থেকে আট ফুটের ...বিশদ

03:36:00 PM

Loading...
Loading...