Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। জীবৎকালে তাঁরা নিশ্চয়ই ভাবতেও পারেননি, যে দেশমাটি মানুষের জন্য জীবনপাত করছেন, যাঁদের উন্নয়ন উন্নতির কথা ভেবে রাতের ঘুম বরবাদ করছেন, আনন্দ আতিশয্য পরিবারপ্রীতি বিসর্জন দিয়ে চলেছেন এবং পরিবর্তে যে কৃতজ্ঞচিত্ত জনমণ্ডলী তাদের শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় মানুষ থেকে দেবতা মহামানব, পুরুষ থেকে যুগপুরুষ মহাপুরুষের মহিমান্বিত আসনে বরণ করে নিচ্ছেন—একদিন তাঁদের দিকে চাইতেই রীতিমতো ভয় করবে। এমনকী মাথা ঘুরে দেহের ভারসাম্য রক্ষা মুশকিল হয়ে পড়লেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না! কারণ পাঁচ-ছ’ফুটের স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে দেখা আর পঞ্চান্ন-ষাট তলার রেলিংবিহীন বেদি থেকে দৃষ্টিপাত তো এক কথা নয়! আমাদের মতো ক্ষীণ-কলিজা আম-পাবলিক ছাড়, অত উঁচু থেকে ঝুঁকে দেখতে অনেক সিংহ-হৃদয়েরই বুক কাঁপবে। ভার্টিগো রোগ থাকলে তো কথাই নেই। একথা ঠিক, নিজ প্রতিভায় নিজ গুণে মহৎকর্মে তাঁরা সকলেই তাঁদের জীবৎকালে নিজেদের ওই ঐহিক উচ্চতা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং আমাদের মুগ্ধ বিস্ময় কখনও তাঁদের সেই অসাধারণত্বের দিকে চেয়ে হয়তো বলেওছে—গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কেবা!
কিন্তু, সে তো তাঁদের লৌকিক পুরুষত্ব নয়, অলৌকিক মহাপুরুষত্ব, বাস্তবের শারীরিক উচ্চতা নয় তাঁদের অনুগত ভক্তজনের মনে গড়ে ওঠা আকাশচুম্বী ভাবমূর্তি। একটা ভারচুয়াল অবয়ব। এমন এক অবয়ব যার দীর্ঘত্ব কেবল অনুভব করা যায়, চাইলে হয়তো মানসচক্ষে দেখাও যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না, বাস্তবের এই মাটিতে খুঁজেও পাওয়া যায় না! যাবে কী করে? সেটা তো মানুষের শ্রদ্ধা-বিস্ময়ে গড়া, মানুষের মনোরাজ্যের ব্যাপার। তাই, তাতে সঙ্গত কারণেই মহাপুরুষ যুগন্ধরেরা বিশেষ বিচলিত বোধ করেননি। আম-পাবলিকের এই শ্রদ্ধাভক্তির ভবিষ্যৎ বিপদ সম্পর্কে তাঁদের মস্তিষ্কে কোনও চিন্তার রেখাও প্রকটিত হয়নি। বরং, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় তাঁদের ভূমিকা আরও নিবিড় গভীর হয়েছে। এবং বলতে কী, মানুষের মনের ওই শ্রদ্ধামূর্তিকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠার যে চল আমাদের এই গুরুবাদী পূজাপ্রবণ ভারত দেশে বহুযুগ প্রচলিত—তাতেও দেবতা মহাপুরুষ বা মহামানব-মানবীবৃন্দ বিশেষ বিপদের গন্ধ পাননি বলেই বিশ্বাস। কারণ, তাঁদের মূর্তির সাইজ মানবকদের স্বাভাবিক উচ্চতা ছাড়ালেও কখনওই অদ্ভুত অস্বাভাবিক মাত্রা স্পর্শ করেনি। হতে পারে, শিল্পীর নৈপুণ্যে কদাচিৎ কখনও তাঁদের কাউকে আটার বস্তার উপর উল্টানো হাঁড়ি কি কুঁজো বামন কি একটু গাবলুগুবলু মনে হয়েছে—তাঁদের অতি পরিচিত মুখে একেবারে বিষদৃশ ভঙ্গি আমাদের দৃষ্টির নান্দনিকতাকে হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে কিন্তু, একথা কিছুতেই বলা যাবে না যে তাঁদের মূর্তিগুলি কিংকং, গর্জিলার পাষাণ প্রতিরূপ হয়ে আমাদের ভক্তিকে ভীতবিভ্রান্ত করেছে। মূর্তির সাইজ নিয়ে কম্পিটিশন! বিশ্বজুড়ে শত-কোটি নানা তরিকার কম্পিটিশন কণ্টকিত বাজারে—না, কখনও সে কম্পিটিশন দেখেননি কেউ, ভাবেনওনি—এটা হলফ করেই বলা যায়।
পৃথিবীর অন্যত্র জানি না, একবিংশের ভারত কিন্তু দুটোই দেখছে—একদিকে প্রকৃত অর্থে শত শত ফুট উচ্চতার পাথুরে মহামূর্তি এবং সেই উচ্চতা নিয়ে ‘কম্পিটিশন’! তা দেখে আমরা একইসঙ্গে কেউ পুলকিত কেউ বিস্ময়ে হতবাক! যে রাজ্য মূর্তি কম্পিটিশনে শিরোপা পাচ্ছে তাদের মহানন্দ আর বাদবাকি দেশ বিহ্বল হতচকিত! আর অন্যদিকে দরিদ্র ভারতবাসী অজ্ঞ ভারতবাসীর অনাহারক্লিষ্ট বা আধপেটা ভাতের হাতগুলি, নানা অপমান অসম্মান অত্যাচার লাঞ্ছনায় বিপর্যস্ত অসহায় চোখগুলি এবং চারপাশের রাষ্ট্রীয় পেষণে দিশেহারা, সন্ত্রাসশঙ্কায় বিপন্ন ক্ষুব্ধ মনগুলিতে প্রতিফলিত হচ্ছে একটিই কথা, এসব হচ্ছেটা কী! অন্তরীক্ষে প্রয়াত মহাপুরুষেরাও হয়তো মৃদু শ্লেষ মাখা ঠোঁটে এমনটাই ভাবছেন। ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু, মূর্তিবাদীরা ভয় পাবেন কেন? তাঁরা তো একবিংশের হাই-টেক গেরুয়া রাজনীতির পিতৃপুরুষ, দেশের কর্ণধার, মোদিজির স্বচ্ছ ভারত, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়ার শ্রীরামচন্দ্র থেকে শিবাজী মহারাজ থেকে সর্দার প্যাটেল—যাবতীয় মনপসন্দ মহাপুরুষবৃন্দের মহারাজকীয় পুনর্বাসনে অঙ্গীকারবদ্ধ! তাঁদের ঠেকাবে সাধ্য কার! গুজরাটে সর্দার সরোবরের বুকে টন টন পাষাণের পিণ্ড বসিয়ে তাই খাড়া হয়ে গেছেন ১৮২ মিটারের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল! পরিবেশকর্মীরা প্যাটেলের বিরোধিতা না করলেও পরিবেশের স্বার্থ রক্ষার কথাটা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন আম গুজরাটি তথা দেশ বিশ্বের যাবতীয় মানুষের ভালোর কথা ভেবে। শুনল কেউ? নাহ্‌! শুনব কেন? প্যাটেলের মতো মহাপুরুষের মূর্তি আগে না দেশ-পরিবেশ? ঠিক ঠিক, স্যার, মূর্তি আগে, মূর্তি আগে কারণ পাবলিক ধরতে মূর্তি লাগে। গুজরাটে প্যাটেল তো মহারাষ্ট্রে শিবাজী মহারাজ আর অযোধ্যায় (আপাতত যোগীজির রাজ্য হলেও) একমেবাদ্বিতীয়ম্‌ শ্রীরামচন্দ্র! অতএব মূর্তি বানাতে হবে—এক সে বড়কর এক! শিবাজী মহারাজ দুশো হলে শ্রীরামচন্দ্র হবেন দুশোবিশ মিটার—ওয়ার্ল্ডে হাইয়েস্ট—সবার উপরে, সবচেয়ে উঁচু! শ্রীরামচন্দ্র ভগবান না? শিবাজী মহারাজ যত বড় ফাইটারই হোন মর্তমানুষ। তাঁর চেয়ে রামচন্দ্রের হাইট তো য্যাদা হোনাহি চাহিয়ে!
নো প্রবলেম। হচ্ছে এবং হবে। শিবাজী মহারাজ হবেন, রামচন্দ্র হবেন অদূর ভবিষ্যতে বারাণসীর বাবা বিশ্বনাথ সপার্ষৎ এই তালিকায় যুক্ত হলেও বলার কিছু নেই। বারাণসী বলছে, ন্যায্য দাবি। বারাণসী বলছে, বাবা বিশ্বনাথের ভুবনবিখ্যাত গলিগালার আর দরকার নেই। ভক্তজনের সুবিধাঁ কে লিয়ে তোড়ফোড় করে মন্দিরের আশপাশ সব খালি করে দিতে হবে। তাই, ঐতিহ্যপ্রাচীন গলিপথ চিরতরে মুছে বিশ্বনাথ মন্দিরের যাত্রাপথ প্রশস্ত করার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। কারা থাকেন ওখানে? কারা সেই অনাদি অনন্তকাল ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা? না, ধর্মের কথা জাতপাতের কথা গরিব খেটে-খাওয়া ওসব তুলবেন না। এটা একটা গ্লোরিয়াস কর্ম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি বেনারসকে একটা আধুনিক ডিজিটাল রূপ দিতে চাইছেন, বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরকে প্রশস্ত জমকালো আড়ম্বরে গরিয়ান একটা টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি লুক দিতে চাইছেন—হোয়াটস রং! শোনেননি, প্রতিদিন শ্রীরামচন্দ্রের প্রস্তাবিত মূর্তির পাদস্পর্শ করে চলার জন্য সরযূর গতিপথ বদল করা হচ্ছে! ভালো ভালো খুব ভালো। কিন্তু...! কী কিন্তু? বাবার বাহন বেনারসি ষাঁড়েরা থাকবেন কোথায়? তাদের জন্যও কি পুনর্বাসনের ব্যবস্থার মানে সর্বসুবিধাযুক্ত বসত হবে? আমার মেয়ে ছোটবেলায় গোয়ালঘর দেখে বলেছিল, অ্যাই, ওগুলো কি গোরুদের ফ্ল্যাট! তো তেমন কিছু কি পরিকল্পনায় আছে?
ভদ্রলোক আর সহ্য করতে পারলেন না। চটেমটে উঠে পড়লেন। এবং পাদানি থেকে উপস্থিত সকলকে অবাক করে দেশ উচ্চনাদেই বলে গেলেন, যতই যা বলুন, ২০১৯-এ আমরাই আসছি। বাসে যাঁরা এতক্ষণ ভদ্রলোকের কথা শুনছিলেন তাঁদের কেউ মুখ মটকে হাসলেন। একজন আবার নাতিউচ্চে ফুট কাটলেন, আসুন আসুন। কে আটকাচ্ছে? তবে বেঙ্গল বাদে—এখানে রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনী আছে, সাবধান। মুখে পড়লে, ঘুরে দাঁড়ানোর ফুরসত মিলবে না! তাঁর বলার ভঙ্গিতে হাসির রোল উঠল। যাঁকে উদ্দেশ্য করে বলা তিনি অবশ্য ততক্ষণে হাতিবাগানের ভিড়ে মিশে গেছেন। কিন্তু কথা হল, হঠাৎ দেশ জুড়ে দেবতা মহাপুরুষদের মূর্তি পোঁতার এমন উৎসাহ উদ্দীপনা জাগল কেন? কেউ কেউ একে বলছেন মূর্তি-রাজনীতি। মহাপুরুষদের বিশাল বিশাল মূর্তি সামনে বসিয়ে সংশ্লিষ্ট মহাজনের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে খুঁচিয়ে তোলা এবং শাসক বা শাসকদল হিসেবে দুর্বলতাগুলো আড়াল করা। উদ্দেশ্য একটাই, ভোটবাক্সে জনতা জনার্দনের কৃপালাভ।
কিন্তু, পঞ্চাশ-ষাটতলা বাড়ি সাইজের মূর্তি দেখে জনতা জনার্দনের মনোভাব কি সত্যিই কিছু বদলাবে? অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির গড়ার দাবির প্রতি নরম মনোভাব হয়তো রামভক্তদের খানিক উৎসাহিত করতে পারে কিন্তু মহাপুরুষদের ওই দৈত্যাকার মূর্তিগুলি কি পারবে? একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, কিছু ভালো কাজের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদি সরকার শুরু থেকেই নোটবন্দির মতো এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা তাঁদের সরকারের ভাবমূর্তির প্রতি মানুষের আস্থা টলিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ দীর্ঘতর করেছে—অন্তত অর্থনীতির দিকপালেদের অনেকেই এমন অভিমত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নীরব-চোকসি-মালিয়ার মতো ‘মহাজনে’র মহাকীর্তি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তার সঙ্গে দিল্লির দ্বৈরথ বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষস্তরে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে সংঘাত ‘স্বচ্ছ ভারতে’র দিশারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তিকেও যে সরাসরি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাতেও সন্দেহ নেই। পথেঘাটে মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আজ তার আভাস পেতে বিশেষ অপেক্ষা করতে হয় না। নির্বাচন পূর্ববর্তী জনমত সমীক্ষার রিপোর্টগুলিতেও তার প্রমাণ মিলেছে। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেই তাই মনে করছেন, রামমূর্তি-প্যাটেল-শিবাজী সবকিছুই সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চটজলদি কৌশল, এ রাজ্যে ‘গণতন্ত্র উদ্ধারে’র রামরথও তাই। মানুষকে ধর্ম সমেত নানান আবেগে ভুলিয়ে কার্যসিদ্ধির চেষ্টা। কিন্তু, প্রশ্ন হল, এভাবে লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি শাসকের ভাবমূর্তি ফেরানো যায়? বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনীষা আবুল ফজলের একটি মন্তব্য মনে পড়ছে, ‘যা পরকালের সঙ্গে জড়িত, অর্থাৎ ধর্ম, তার ওপর জোর না দিয়ে যা এ জীবনের সঙ্গে জড়িত, অর্থাৎ মানবতার ওপর জোর দেওয়া উচিত। মানুষের কল্যাণ এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে জড়িত।’ (মানবতন্ত্র) দেশ-রাজনীতির মূর্তিবাদী সুধীজনেরা কি একবার ভাববেন?
06th  December, 2018
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

19th  March, 2019
মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে।  বিশদ

16th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

15th  March, 2019
অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোট পণ্যবাহী ট্রাকের বাজারের ৬৬ শতাংশ দখল করে নিল টাটা। তারা জানিয়েছে, টাটা এস ক্যাটিগরিতে মোট ২০ লক্ষ গাড়ি বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি এক বছর পূর্ণ করল টাটা এস গোল্ড। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর পুকুর থেকে অভিজিৎ মণ্ডল (৪০) নামে এক শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে চুঁচুড়ার ফুলপুকুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্বাদশ আইপিএলের ফাইনাল হবে সম্ভবত ১২ মে চেন্নাইয়ে। সোমবার আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বের ক্রীড়াসূচি প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। ৫ মে পর্যন্ত রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে আটটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। প্লে-অফের পূর্ণ ক্রীড়াসূচি এখনও ঘোষণা করেনি বিসিসিআই। ...

  বিএনএ, মালদহ: উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের কাজের খতিয়ান পেশ করেই নির্বাচনের প্রচার করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, জেলা পরিষদ থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে জেলায় প্রভূত উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। পাশাপাশি, লোকসভার সংসদ সদস্য থেকে বিধায়করাও অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আপনার মনে ধর্মভাব জাগ্রত হবে। কর্মপ্রার্থীরা কর্মের সুযোগ পাবেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা হবে। অর্থ নিয়ে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭২৬- বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের মৃত্যু
১৮২৮- নরওয়ের নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের জন্ম
১৮৫২- হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর ‘আঙ্কল টমাস কেবিন’ প্রকাশিত হল
১৯১৬- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বের প্রকাশ
১৯৫১- ক্রিকেটার মদনলালের জন্ম
১৯৫২- টেনিস খেলোয়াড় আনন্দ অমৃতরাজের জন্ম
১৯৬৬- গায়িকা অলকা ইয়াগনিকের জন্ম
২০০৩- ফুটবলার কৃশানু দে’র মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬৯ টাকা ৯২.৯৭ টাকা
ইউরো ৭৬.৬১ টাকা ৭৯.৫৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৪৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৮০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,২৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩০ দিবা ১০/৪৫। পূর্বফাল্গুনী ২৬/২০ অপঃ ৪/১৭। সূ উ ৫/৪৫/১১, অ ৫/৪৩/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১ মধ্যে পুনঃ ৯/৪৪ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ১/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৪ গতে ৪/১৪ মধ্যে।
৫ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ৯/৩৯/৫২। পূর্বফাল্গুনীনক্ষত্র সন্ধ্যা ৩/৪৫/১৪, সূ উ ৫/৪৫/৩৪, অ ৫/৪২/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১/১২ মধ্যে ও ৯/৪৪/৩৯ থেকে ১১/২০/১৭ মধ্যে ও ৩/১৯/২২ থেকে ৪/৫৫/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩১/০ থেকে ৮/৫৫/৩৩ মধ্যে ও ১/৪৪/৩৯ থেকে ৫/৪৪/৩৫ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪৪/১১ থেকে ১/১৩/৫১ মধ্যে, কালবেলা ৮/৪৪/৫৩ থেকে ১০/১৪/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৪/৫৩ থেকে ৪/১৫/১৪ মধ্যে।
 ১২ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের ময়দানে তরুণ ক্রিকেটারের মৃত্যু 
খেলতে গিয়ে ফের মৃত্যু ময়দানে। এদিন খেলা চলাকালীন বাটার মাঠে ...বিশদ

01:52:56 PM

বাঁকুড়ার সালতোরায় প্রচুর জিলেটিন স্টিক উদ্ধার 

01:46:00 PM

গোয়া: আস্থাভোটে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত 

01:04:41 PM

বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগ: কমিশনে বিএসএফের আইজি 
কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগে গতকাল রিপোর্ট চাওয়ার পর এদিন বিএসএফের ...বিশদ

12:45:00 PM

লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বিএসপি প্রধান মায়াবতী 

12:38:38 PM

তুরস্কে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.৪ 

12:33:00 PM