Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। জীবৎকালে তাঁরা নিশ্চয়ই ভাবতেও পারেননি, যে দেশমাটি মানুষের জন্য জীবনপাত করছেন, যাঁদের উন্নয়ন উন্নতির কথা ভেবে রাতের ঘুম বরবাদ করছেন, আনন্দ আতিশয্য পরিবারপ্রীতি বিসর্জন দিয়ে চলেছেন এবং পরিবর্তে যে কৃতজ্ঞচিত্ত জনমণ্ডলী তাদের শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় মানুষ থেকে দেবতা মহামানব, পুরুষ থেকে যুগপুরুষ মহাপুরুষের মহিমান্বিত আসনে বরণ করে নিচ্ছেন—একদিন তাঁদের দিকে চাইতেই রীতিমতো ভয় করবে। এমনকী মাথা ঘুরে দেহের ভারসাম্য রক্ষা মুশকিল হয়ে পড়লেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না! কারণ পাঁচ-ছ’ফুটের স্বাভাবিক উচ্চতা থেকে দেখা আর পঞ্চান্ন-ষাট তলার রেলিংবিহীন বেদি থেকে দৃষ্টিপাত তো এক কথা নয়! আমাদের মতো ক্ষীণ-কলিজা আম-পাবলিক ছাড়, অত উঁচু থেকে ঝুঁকে দেখতে অনেক সিংহ-হৃদয়েরই বুক কাঁপবে। ভার্টিগো রোগ থাকলে তো কথাই নেই। একথা ঠিক, নিজ প্রতিভায় নিজ গুণে মহৎকর্মে তাঁরা সকলেই তাঁদের জীবৎকালে নিজেদের ওই ঐহিক উচ্চতা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং আমাদের মুগ্ধ বিস্ময় কখনও তাঁদের সেই অসাধারণত্বের দিকে চেয়ে হয়তো বলেওছে—গগন নহিলে তোমারে ধরিবে কেবা!
কিন্তু, সে তো তাঁদের লৌকিক পুরুষত্ব নয়, অলৌকিক মহাপুরুষত্ব, বাস্তবের শারীরিক উচ্চতা নয় তাঁদের অনুগত ভক্তজনের মনে গড়ে ওঠা আকাশচুম্বী ভাবমূর্তি। একটা ভারচুয়াল অবয়ব। এমন এক অবয়ব যার দীর্ঘত্ব কেবল অনুভব করা যায়, চাইলে হয়তো মানসচক্ষে দেখাও যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না, বাস্তবের এই মাটিতে খুঁজেও পাওয়া যায় না! যাবে কী করে? সেটা তো মানুষের শ্রদ্ধা-বিস্ময়ে গড়া, মানুষের মনোরাজ্যের ব্যাপার। তাই, তাতে সঙ্গত কারণেই মহাপুরুষ যুগন্ধরেরা বিশেষ বিচলিত বোধ করেননি। আম-পাবলিকের এই শ্রদ্ধাভক্তির ভবিষ্যৎ বিপদ সম্পর্কে তাঁদের মস্তিষ্কে কোনও চিন্তার রেখাও প্রকটিত হয়নি। বরং, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায় তাঁদের ভূমিকা আরও নিবিড় গভীর হয়েছে। এবং বলতে কী, মানুষের মনের ওই শ্রদ্ধামূর্তিকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠার যে চল আমাদের এই গুরুবাদী পূজাপ্রবণ ভারত দেশে বহুযুগ প্রচলিত—তাতেও দেবতা মহাপুরুষ বা মহামানব-মানবীবৃন্দ বিশেষ বিপদের গন্ধ পাননি বলেই বিশ্বাস। কারণ, তাঁদের মূর্তির সাইজ মানবকদের স্বাভাবিক উচ্চতা ছাড়ালেও কখনওই অদ্ভুত অস্বাভাবিক মাত্রা স্পর্শ করেনি। হতে পারে, শিল্পীর নৈপুণ্যে কদাচিৎ কখনও তাঁদের কাউকে আটার বস্তার উপর উল্টানো হাঁড়ি কি কুঁজো বামন কি একটু গাবলুগুবলু মনে হয়েছে—তাঁদের অতি পরিচিত মুখে একেবারে বিষদৃশ ভঙ্গি আমাদের দৃষ্টির নান্দনিকতাকে হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে কিন্তু, একথা কিছুতেই বলা যাবে না যে তাঁদের মূর্তিগুলি কিংকং, গর্জিলার পাষাণ প্রতিরূপ হয়ে আমাদের ভক্তিকে ভীতবিভ্রান্ত করেছে। মূর্তির সাইজ নিয়ে কম্পিটিশন! বিশ্বজুড়ে শত-কোটি নানা তরিকার কম্পিটিশন কণ্টকিত বাজারে—না, কখনও সে কম্পিটিশন দেখেননি কেউ, ভাবেনওনি—এটা হলফ করেই বলা যায়।
পৃথিবীর অন্যত্র জানি না, একবিংশের ভারত কিন্তু দুটোই দেখছে—একদিকে প্রকৃত অর্থে শত শত ফুট উচ্চতার পাথুরে মহামূর্তি এবং সেই উচ্চতা নিয়ে ‘কম্পিটিশন’! তা দেখে আমরা একইসঙ্গে কেউ পুলকিত কেউ বিস্ময়ে হতবাক! যে রাজ্য মূর্তি কম্পিটিশনে শিরোপা পাচ্ছে তাদের মহানন্দ আর বাদবাকি দেশ বিহ্বল হতচকিত! আর অন্যদিকে দরিদ্র ভারতবাসী অজ্ঞ ভারতবাসীর অনাহারক্লিষ্ট বা আধপেটা ভাতের হাতগুলি, নানা অপমান অসম্মান অত্যাচার লাঞ্ছনায় বিপর্যস্ত অসহায় চোখগুলি এবং চারপাশের রাষ্ট্রীয় পেষণে দিশেহারা, সন্ত্রাসশঙ্কায় বিপন্ন ক্ষুব্ধ মনগুলিতে প্রতিফলিত হচ্ছে একটিই কথা, এসব হচ্ছেটা কী! অন্তরীক্ষে প্রয়াত মহাপুরুষেরাও হয়তো মৃদু শ্লেষ মাখা ঠোঁটে এমনটাই ভাবছেন। ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু, মূর্তিবাদীরা ভয় পাবেন কেন? তাঁরা তো একবিংশের হাই-টেক গেরুয়া রাজনীতির পিতৃপুরুষ, দেশের কর্ণধার, মোদিজির স্বচ্ছ ভারত, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়ার শ্রীরামচন্দ্র থেকে শিবাজী মহারাজ থেকে সর্দার প্যাটেল—যাবতীয় মনপসন্দ মহাপুরুষবৃন্দের মহারাজকীয় পুনর্বাসনে অঙ্গীকারবদ্ধ! তাঁদের ঠেকাবে সাধ্য কার! গুজরাটে সর্দার সরোবরের বুকে টন টন পাষাণের পিণ্ড বসিয়ে তাই খাড়া হয়ে গেছেন ১৮২ মিটারের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল! পরিবেশকর্মীরা প্যাটেলের বিরোধিতা না করলেও পরিবেশের স্বার্থ রক্ষার কথাটা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন আম গুজরাটি তথা দেশ বিশ্বের যাবতীয় মানুষের ভালোর কথা ভেবে। শুনল কেউ? নাহ্‌! শুনব কেন? প্যাটেলের মতো মহাপুরুষের মূর্তি আগে না দেশ-পরিবেশ? ঠিক ঠিক, স্যার, মূর্তি আগে, মূর্তি আগে কারণ পাবলিক ধরতে মূর্তি লাগে। গুজরাটে প্যাটেল তো মহারাষ্ট্রে শিবাজী মহারাজ আর অযোধ্যায় (আপাতত যোগীজির রাজ্য হলেও) একমেবাদ্বিতীয়ম্‌ শ্রীরামচন্দ্র! অতএব মূর্তি বানাতে হবে—এক সে বড়কর এক! শিবাজী মহারাজ দুশো হলে শ্রীরামচন্দ্র হবেন দুশোবিশ মিটার—ওয়ার্ল্ডে হাইয়েস্ট—সবার উপরে, সবচেয়ে উঁচু! শ্রীরামচন্দ্র ভগবান না? শিবাজী মহারাজ যত বড় ফাইটারই হোন মর্তমানুষ। তাঁর চেয়ে রামচন্দ্রের হাইট তো য্যাদা হোনাহি চাহিয়ে!
নো প্রবলেম। হচ্ছে এবং হবে। শিবাজী মহারাজ হবেন, রামচন্দ্র হবেন অদূর ভবিষ্যতে বারাণসীর বাবা বিশ্বনাথ সপার্ষৎ এই তালিকায় যুক্ত হলেও বলার কিছু নেই। বারাণসী বলছে, ন্যায্য দাবি। বারাণসী বলছে, বাবা বিশ্বনাথের ভুবনবিখ্যাত গলিগালার আর দরকার নেই। ভক্তজনের সুবিধাঁ কে লিয়ে তোড়ফোড় করে মন্দিরের আশপাশ সব খালি করে দিতে হবে। তাই, ঐতিহ্যপ্রাচীন গলিপথ চিরতরে মুছে বিশ্বনাথ মন্দিরের যাত্রাপথ প্রশস্ত করার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে। কারা থাকেন ওখানে? কারা সেই অনাদি অনন্তকাল ধরে ওই এলাকার বাসিন্দা? না, ধর্মের কথা জাতপাতের কথা গরিব খেটে-খাওয়া ওসব তুলবেন না। এটা একটা গ্লোরিয়াস কর্ম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি বেনারসকে একটা আধুনিক ডিজিটাল রূপ দিতে চাইছেন, বাবা বিশ্বনাথের মন্দিরকে প্রশস্ত জমকালো আড়ম্বরে গরিয়ান একটা টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি লুক দিতে চাইছেন—হোয়াটস রং! শোনেননি, প্রতিদিন শ্রীরামচন্দ্রের প্রস্তাবিত মূর্তির পাদস্পর্শ করে চলার জন্য সরযূর গতিপথ বদল করা হচ্ছে! ভালো ভালো খুব ভালো। কিন্তু...! কী কিন্তু? বাবার বাহন বেনারসি ষাঁড়েরা থাকবেন কোথায়? তাদের জন্যও কি পুনর্বাসনের ব্যবস্থার মানে সর্বসুবিধাযুক্ত বসত হবে? আমার মেয়ে ছোটবেলায় গোয়ালঘর দেখে বলেছিল, অ্যাই, ওগুলো কি গোরুদের ফ্ল্যাট! তো তেমন কিছু কি পরিকল্পনায় আছে?
ভদ্রলোক আর সহ্য করতে পারলেন না। চটেমটে উঠে পড়লেন। এবং পাদানি থেকে উপস্থিত সকলকে অবাক করে দেশ উচ্চনাদেই বলে গেলেন, যতই যা বলুন, ২০১৯-এ আমরাই আসছি। বাসে যাঁরা এতক্ষণ ভদ্রলোকের কথা শুনছিলেন তাঁদের কেউ মুখ মটকে হাসলেন। একজন আবার নাতিউচ্চে ফুট কাটলেন, আসুন আসুন। কে আটকাচ্ছে? তবে বেঙ্গল বাদে—এখানে রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনী আছে, সাবধান। মুখে পড়লে, ঘুরে দাঁড়ানোর ফুরসত মিলবে না! তাঁর বলার ভঙ্গিতে হাসির রোল উঠল। যাঁকে উদ্দেশ্য করে বলা তিনি অবশ্য ততক্ষণে হাতিবাগানের ভিড়ে মিশে গেছেন। কিন্তু কথা হল, হঠাৎ দেশ জুড়ে দেবতা মহাপুরুষদের মূর্তি পোঁতার এমন উৎসাহ উদ্দীপনা জাগল কেন? কেউ কেউ একে বলছেন মূর্তি-রাজনীতি। মহাপুরুষদের বিশাল বিশাল মূর্তি সামনে বসিয়ে সংশ্লিষ্ট মহাজনের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকে খুঁচিয়ে তোলা এবং শাসক বা শাসকদল হিসেবে দুর্বলতাগুলো আড়াল করা। উদ্দেশ্য একটাই, ভোটবাক্সে জনতা জনার্দনের কৃপালাভ।
কিন্তু, পঞ্চাশ-ষাটতলা বাড়ি সাইজের মূর্তি দেখে জনতা জনার্দনের মনোভাব কি সত্যিই কিছু বদলাবে? অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির গড়ার দাবির প্রতি নরম মনোভাব হয়তো রামভক্তদের খানিক উৎসাহিত করতে পারে কিন্তু মহাপুরুষদের ওই দৈত্যাকার মূর্তিগুলি কি পারবে? একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, কিছু ভালো কাজের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদি সরকার শুরু থেকেই নোটবন্দির মতো এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা তাঁদের সরকারের ভাবমূর্তির প্রতি মানুষের আস্থা টলিয়ে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ দীর্ঘতর করেছে—অন্তত অর্থনীতির দিকপালেদের অনেকেই এমন অভিমত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নীরব-চোকসি-মালিয়ার মতো ‘মহাজনে’র মহাকীর্তি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কর্তার সঙ্গে দিল্লির দ্বৈরথ বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষস্তরে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে সংঘাত ‘স্বচ্ছ ভারতে’র দিশারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তিকেও যে সরাসরি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাতেও সন্দেহ নেই। পথেঘাটে মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আজ তার আভাস পেতে বিশেষ অপেক্ষা করতে হয় না। নির্বাচন পূর্ববর্তী জনমত সমীক্ষার রিপোর্টগুলিতেও তার প্রমাণ মিলেছে। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেই তাই মনে করছেন, রামমূর্তি-প্যাটেল-শিবাজী সবকিছুই সেই ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চটজলদি কৌশল, এ রাজ্যে ‘গণতন্ত্র উদ্ধারে’র রামরথও তাই। মানুষকে ধর্ম সমেত নানান আবেগে ভুলিয়ে কার্যসিদ্ধির চেষ্টা। কিন্তু, প্রশ্ন হল, এভাবে লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি শাসকের ভাবমূর্তি ফেরানো যায়? বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনীষা আবুল ফজলের একটি মন্তব্য মনে পড়ছে, ‘যা পরকালের সঙ্গে জড়িত, অর্থাৎ ধর্ম, তার ওপর জোর না দিয়ে যা এ জীবনের সঙ্গে জড়িত, অর্থাৎ মানবতার ওপর জোর দেওয়া উচিত। মানুষের কল্যাণ এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে জড়িত।’ (মানবতন্ত্র) দেশ-রাজনীতির মূর্তিবাদী সুধীজনেরা কি একবার ভাববেন?
06th  December, 2018
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলে স্ট্রাইকার সমস্যা মেটাতে রবিবার বিকেলে কলকাতায় এলেন নতুন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মার্কোস। অর্থ বাঁচাতে এই ফুটবলারটির সঙ্গে ১৫ আগস্ট থেকে চুক্তি ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি পাঠ্যক্রম থেকে পড়াশোনা, তাও ডায়াবেটিসের মতো এখন প্রায় প্রতিটি গৃহস্থবাড়িতে থাকা অসুখের মোকাবিলায় পড়াশোনা করেও সরকারি স্তরে কাজের সুযোগ নেই। এমনকী রাজ্য সরকার নির্দিষ্টস্তরের কর্মী বা ‘ক্যাডার’ হিসেবেও গণ্য করছে না। এমনই অভিযোগ চার মেডিক্যাল কলেজ ...

 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে লাদাখকে। এবার লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানালেন সেখানকার বিশিষ্ট নেতারা। লাদাখবাসীর জমির সুরক্ষা ও পরিচিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজ থেকে লাগাতার ট্রাক ধর্মঘটের ডাক
অ্যাক্সেল লোড বৃদ্ধি, পুলিসি জুলুম বন্ধ, জ্বালানির উপর জিএসটি চালু ...বিশদ

09:04:55 AM

আজ দীঘায় মুখ্যমন্ত্রী 
আজ, সোমবার সন্ধ্যায় দু’দিনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে দীঘায় পৌঁছবেন ...বিশদ

09:00:00 AM

পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস 
আজ, সোমবার কলকাতায় দুর্যোগের পরিবেশ থাকবে না। বৃষ্টিও হবে বিক্ষিপ্তভাবে ...বিশদ

08:53:20 AM

 হাসপাতালে ভাইকো
মঙ্গলবার বড় কর্মসূচির আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন এমডিএমকে ...বিশদ

08:50:00 AM

আজ হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী
আজ, সোমবার হাওড়ার শরৎ সদনে প্রশাসনিক বৈঠক করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী ...বিশদ

08:39:55 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে 
বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের ...বিশদ

08:22:59 AM