বিশেষ নিবন্ধ
 

পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস জরুরি
হারাধন চৌধুরী

গত দশকের কথা। কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণবঙ্গের এক জেলায় গিয়েছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের খবর সংগ্রহের জন্য। জেলা সদরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্লকে যাতায়াতের জন্য মূলত গণপরিবহণের উপরেই ভরসা রেখেছিলাম। বলা বাহুল্য, তখন গরম কাল। একটু বাড়তি হাওয়া বাতাসের লোভে জানালার ধারের একটা সিট দখল করার জন্য কসরতও করেছি। কিন্তু, চাকা কয়েক পা গড়াতেই বুঝেছিলাম কী ভুলটা করে বসেছি। বাসের ছাদ যাত্রীবোঝাই। বাস চলাকালে সেই যাত্রীদের অনেকে কফ থুতু কলার খোসা খাবার ঠোঙা ইত্যাদি উপর থেকে ফেলছে, নির্বিকার চিত্তে। আর তার কিছু কিছু ছুটে আসছে নীচে, বিশেষত জানালার ধারের যাত্রীদের গায়েই পড়ছে। নীচের থেকে আমার মতো দু-একজন আপত্তি জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। তাতে আরও চেঁচামেচি করার পর কানে আসে উপর থেকে ‘হো হো হো ...’! ব্যাপারটা বাস কন্ডাক্টরের নজরে এনে জবাব পাওয়া গেল—‘‘জানালার ধারে সিট নেবেন, আর এটুকু ভোগ করবেন না! এটুকু তো হতেই পারে!’’ অভিযুক্ত যাত্রী আর তার সমর্থক যাত্রীদের হাসির রোলের সঙ্গে কন্ডাক্টরের জবাবখানা যেন রাজযোটক। এই প্রশ্নে বাসের ভেতরের যাত্রীদের কাউকেই পাশে পাওয়া গেল না। আমার সঙ্গে আর যে দু-একজন জানালার ধারের যাত্রী প্রতিবাদ করেছিলেন, পরে জানলাম তাঁরাও কলকাতা থেকে এসে আতান্তরে পড়েছেন।
দশক পাল্টে গিয়েছে, শুধু আমরা পাল্টাইনি—গ্রাম মফস্‌সল থেকে কলকাতায় ঢুকেও না। এই তো সেদিন ছিঃ ছিঃ পড়ে গেল সদ্য উদ্বোধন হওয়া কলকাতার স্বপ্নের প্রকল্প স্কাইওয়াকের উপর ওয়াক থু করা নিয়ে। তবু আশার কথা নিন্দেমন্দটা হয়েছে। কিন্তু, বাকি সর্বত্র? পুরো গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে।
কলকাতায় বা শহরতলিতে বাসের ছাদে চেপে বসা যায় না। কিন্তু, সুন্দর পোশাক পরে বাস ট্রেনের ভেতরে যারা যাতায়াত করে তাদের অনেকেরই চেতনার মান, আজও, ওই দূরবর্তী জেলার সেই লোকগুলোর থেকে উন্নত নয়। তারা চলন্ত বাসেই খইনি, গুটখা, পান প্রভৃতির রসাস্বাদন করে থাকে। ওইসব রসে এক-একজনের মুখ যখন টইটম্বুর হয়ে যায় তখন সেগুলো তারা বাসের জানালা দিয়েই রাস্তার মাঝে উগরে দেয়। সেই তরল কারও গায়ে মাথায় পড়ল কি না তা দেখার ফুরসত লোকগুলোর থাকে না। আর চলন্ত গাড়ি থেকে ওই নোংরা বাইরে ফেলতে গিয়ে সবসময় যে লক্ষ্যভেদ তারা করতে পারে এমনও নয়। কিছুটা পড়ে জানালার মধ্যে কিংবা সিটের উপর, আর কিছুটা বাতাসে উড়ে এসে পিছনের যাত্রীদের মুখ ভিজিয়ে দেয়। হাতে তাল ঠুকতে ঠুকতে খইনি বানানোর সময় আশেপাশের যাত্রীদের হাঁচি-কাশিতে জেরবার হবার বন্দোবস্তও করে তারা। এসব নিয়ে প্রায় প্রতিটি বাসে নিত্য ঝগড়াঝাঁটি, এমনকী হাতাহাতিও হয়। তারপরেও থুক পার্টি নির্বিকার!
গ্রামের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ বিল্ডিং পর্যন্ত খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বিভিন্ন দেওয়াল রঙিন থুৎকারে ছয়লাপ হয়ে রয়েছে। সরকারি অফিস বাড়িগুলোরও একই হাল। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতেও গা ঘিন ঘিন করে। বেশিরভাগ রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড আর সাবওয়ের যা চেহারা, সেগুলোকে সভ্য সমাজের অংশ হিসেবে মানতে কষ্ট হয়। কলকাতায় এবং শহরতলিতে গত কয়েক বছরে বহু কোটি টাকায় অনেকগুলো বাসস্টপে আধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষা শেড নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলোর কয়েকটা আবার এসি! কিন্তু, আশঙ্কামতোই সেগুলি উদ্বোধন হওয়ার পর বছরখানেকের ভিতর নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। শুধু থুৎকারে রাঙানো হয়নি, অনেকগুলোর দফারফা হয়ে গিয়েছে। ওই বিলাসীরা হাওড়া ব্রিজের পক্ষে সাক্ষাৎ ‘থ্রেট’!
রেল স্টেশনে, বাসস্ট্যান্ডে, হাসপাতালে ‘শৌচালয়’ নামক জিনিসের বেশিরভাগই নরককুণ্ডে পরিণত। পানীয় জলের কল বহু জায়গায় ভেঙে শেষ করা হয়েছে অথবা সেখানকার পরিবেশ দেখে গা বমি বমি হয়। কলকাতা, হাওড়া এবং শহরতলি এখন ফ্ল্যাটবাড়িতে ছয়লাপ। এই যে বহু হাজার ফ্ল্যাটে বহু লক্ষ  মানুষ আমরা বাস করছি, তাদের মধ্যেও সকলে খুব সচেতন নই। নির্দিষ্ট সময়ে পুরসভার সাফাইওয়ালার গাড়িতে কিংবা ভ্যাটে গিয়ে রোজকার ময়লা আবর্জনা অনেকে ফেলছি না। কিন্তু, একাধিক দিনের ময়লা ঘরে জমে পচে কী দুর্বিষহ অবস্থা হয়! তখন কেউ কেউ কী করি—আবর্জনা প্যাকেটে পুরে সুযোগ বুঝে বহুতলের উপর থেকে সটান রাস্তায় ছুড়ে দিচ্ছি কিংবা রাস্তার ধারে, ড্রেন অথবা খালের ধারে ফেলে দিয়ে আসছি! এরপর কী হচ্ছে—কুকুরে টানা হেঁচড়া করছে অথবা বৃষ্টিতে ভেসে আসছে রাস্তার মধ্যে অথবা সরে যাচ্ছে ড্রেন কিংবা খালের জলে। খাল রাস্তা বরাবর অগুনতি বেআইনি দোকানপাট। তার একাংশ খাবারের দোকান বা রেস্তরাঁ। মাছ সব্জি ফলমূলেরও বাজার বসছে। সেগুলো থেকেও থার্মোকলের থালা গেলাশ প্ল্যাস্টিক ব্যাগ নর্দমা খালে জমা হচ্ছে। নর্দমা, খাল এইভাবে অল্পদিনেই ভরে উঠছে। বহু ব্যয়ে সাফাই এবং ড্রেজিং সরকারি কোষাগার জলাঞ্জলির দেওয়ার শামিল হচ্ছে। তাতে নিকাশি সমস্যা তীব্র হচ্ছে এবং বাড়ছে মশা মাছির উৎপাত। আমরা পরিত্রাহি চিৎকার ছাড়ছি ম্যালেরিয়া, এনসেফেলাইটিস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া নিয়ে।
কলকাতাকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে লাভ খুব একটা হয়নি। সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ নামে একটি তথ্যচিত্র। এই উদ্যোগের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভায় পাশ করানো হয়েছে একটি জরুরি বিল—যাতে বলা হয়েছে রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেলে নোংরা করলে ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। তার দিনকয়েক বাদে বিধানসভায় পাশ হয়েছে হাওড়া এবং রাজ্যের বাকি পুর কর্পোরেশনগুলির জন্যও অনুরূপ বিল। বিধানসভায় বিলের উপর আলোচনার সময় পুরমন্ত্রী বলেন, সরকার মানুষের উপর জরিমানা চাপাতে চায় না। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে নাগরিকরাই সচেতন থাকুন, সরকার এটাই চায়।
কিন্তু, আইন তৈরি আর সংশোধন করেই কি সমাজটাকে সভ্য করে ফেলা সম্ভব হবে—রাতারাতির কথা বলছি না, সুদূর ভবিষ্যতেও? তার আগে দুটি জিনিস যে চাই—পরিকাঠামো আর আইন কার্যকর করার মতো হিম্মত।
পরিকাঠামো এই যে, রোজ প্রতিটি মহল্লায় বাঁশিওয়ালা সাফাইকর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছনোটা নিশ্চিত করতে হবে। কিংবা পাড়ার মোড়ে ভ্যাট, বিন থাকলে সেটা রোজ সময়মতো পরিষ্কার হওয়া জরুরি। এজন্য কলকাতা, হাওড়াসহ সব শহরে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় সাফাই কর্মী নিয়োগ করতে হবে। রাস্তায় রাস্তায়ও সর্বক্ষণের সাফাই কর্মী মজুত রাখতে হবে, যাতে নোংরা দেখামাত্র তারা সেসব তুলে নিয়ে যায়। সমস্ত রাস্তার ধারে কিছু দূর অন্তর শৌচাগার তৈরি করতেই হবে। জলের অভাবে বেশিরভাগ শৌচাগার অল্পদিনেই অব্যবহার্য হয়ে যায়। তাই সেখানে জলের ব্যবস্থা করাটাও জরুরি। প্রয়োজনে সেসব ফেল কড়ি মাখো তেল বা পে অ্যান্ড ইয়ুজ’ই হোক। ভালো পরিষেবা পেলে মানুষ বুঝবে নিশ্চয়, দিব্যি চলবে। জলসহ শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না-রেখে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ না-করার নির্দেশ নিষ্ফলা হতে বাধ্য। তাই ‘আপনার এলাকা, আপনার পরিচয়’, ‘পরিষ্কার রাখুন, সুস্থ থাকুন’ স্লোগান সার্থক করে তুলতে হলে এই কথাও মাথায় রাখা দরকার।
এই যে ব্যবস্থার কথা উঠল—এর বেনিফিট একাধিক। প্রথমত, ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারও ভালো অঙ্কের রাজস্ব পাবে। পে অ্যান্ড ইয়ুজ সিস্টেমে যে টাকা উঠবে সেই টাকাতেই নিযুক্ত কর্মীদের বেতন মেটানো যাবে। তৃতীয় লাভটা হবে—প্রতিটি শহরের সুন্দর চেহারা এবং নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য। রোগ ব্যাধির প্রকোপ কমতে বাধ্য। কথায় কথায় হাসপাতালে যে ভিড় হয় সেটা কমে যাবে। রোগের পিছনে ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে মানুষের এবং সরকারের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতাকে হাতিয়ার করে লক্ষ্মীলাভও নিশ্চিত করা সম্ভব।
এখন কথা হল—বাজে খরচ ছেঁটে পরিচ্ছন্ন শহরের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো আমরা গড়ব কি? ভোটের জন্য আতুপুতু করার বদঅভ্যাস আমাদের রাজনীতির কারবারিরা ছাড়তে প্রস্তুত আছেন কি? আতুপুতু করার পরিণাম তো অজানা নয়। শুধু আইনে-কাগজে-কলমে হাড় হিম হিম ভাব দেখিয়ে কিচ্ছুটি হবে না। আমরা তো ধরেই নেব, ওসব মুখে বলতে হয়, আসলে কিছুই করবে না প্রশাসন। আমরা যেমন পার পেয়ে যাই সব ব্যাপারে তেমনিই পার পেয়ে যাব। কিছু ফাইন আদায়ের ব্যবস্থা তো অনেক বছর যাবৎই আছে, কিন্তু এ পর্যন্ত কতজনের কাছ থেকে ক’পয়সা আদায় হয়েছে আর তার দরুন এই বিপদ কতটা মোকাবিলা করা গিয়েছে? আবার দেখছি, এই শহরেই মেট্রো রেল এবং মেট্রো স্টেশনগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। এসি বাসগুলোও অপরিচ্ছন্ন নয়। এক যাত্রায় এই পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব হল? নজরদারি আর কড়াকড়ি ছাড়া কিছু নয়।
এবার ভাবা দরকার, প্রকাশ্যে গুটখা খইনি পান প্রভৃতি চিবানো নিষিদ্ধ করার সাহস দেখানো যায় কি না। যারা রাস্তাঘাটে ইচ্ছেখুশি নোংরা ফেলছে তাদেরও কড়া হাতে শায়েস্তা করতে হবে। সিঙ্গাপুর কিন্তু সামান্য চিউয়িংগামও খাওয়া বন্ধ করেছে গত শতকের শেষদিকে। লোকসংখ্যা এবং সামাজিক অবস্থানের তফাত মাথায় রেখেও আমরা সিঙ্গাপুর ও জাপান থেকে পরিচ্ছন্নতার পাঠ নিতে পারি। মানছি সিঙ্গাপুর একটা নগর রাষ্ট্রমাত্র। সেই মডেল মাথায় রেখে আমাদের শহর প্রশাসনগুলোকেও আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া যায় পরিচ্ছন্নতার নীতি কার্যকর করার জন্য। পরিচ্ছন্নতার আন্দোলনকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস দেখানোটা আজ জরুরি। সব দল এই ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় নামতে রাজি আছে কি? তাদের দৃঢ়তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—অভিযুক্তের পাশে কেউ দাঁড়াবে না—অভিযুক্তরা যে রং আর মতের মানুষ এবং যতই ওজনদার হোক না কেন।
04th  December, 2018
কংগ্রেসের জয়ে বড় ভূমিকা কৃষক আন্দোলনের 
শুভময় মৈত্র

হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যেই বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করল কংগ্রেস। তবে তাদের দলটা তো বিজেপির মত নিয়মানুবর্তী এবং সংগঠনভিত্তিক নয়। কংগ্রেসকে ভোটে জেতায় তাদের কর্মী এবং জনগণ আর নেতা নির্বাচনের জন্যে সবাই তাকিয়ে থাকে গান্ধী পরিবারের দিকে।  বিশদ

মোদির ভাবমূর্তির পতনই বিজেপির মূল ক্ষতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল বিজেপি’র বিপক্ষে ৫-০ হওয়া ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ জনমানসে মোদির ভাবমূর্তির পতন ঘটা। কোনও একটি বা একাধিক রাজ্যের সরকার পরিবর্তন যতটা না শাসক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ শাসক দলের নেতৃত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ভাবনার উৎপত্তি।
বিশদ

14th  December, 2018
পাক সন্ত্রাসবাদের পাল্টা
জবাবে ভারতের জলযুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে বিঁধতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করা শুরু করেছে ভারত। কখনও বলছে ‘টেররিস্তান’, কখনও ‘বিশেষ সন্ত্রাসবাদী অঞ্চল’! তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক! সেই তথ্যই জানাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে শেষ আট বছরে সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই বছরেই।
বিশদ

13th  December, 2018
রথধ্বনি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

‘এই-সকল টানিয়া বুনিয়া বর্ণনা আমাদের কর্ণে অসম-ভূমি-পথে বাধা-প্রাপ্ত রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দের ন্যায় কর্কশ লাগে।’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের দেশের রাজনীতি এখন শতরঙ্গে ভরা। দেশের কেন্দ্রে অধিকাংশের ভোটে একটি কুনির্বাচিত গণতান্ত্রিক শাসন হঠাৎই রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রধান এবং দলমুখ্যকে মাঝে-মাঝেই মাথায় পাগড়ি এবং হাতে তরবারি নিয়ে ছবি তুলতে দেখছি।
বিশদ

11th  December, 2018
Loading...
ভোটের পর সংসদীয় মূল‌্যবোধ কি অক্ষত থাকবে?  

পি চিদম্বরম: আপনি এই লেখাটি পড়ছেন পাঁচ রাজ‌্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার (৭ ডিসেম্বর) তিনদিন বাদে এবং গণনার (১১ ডিসেম্বর) ঠিক আগের দিন। সুতরাং অত সতর্ক না-থাকলেও আমার চলে।   বিশদ

10th  December, 2018
হাঁক পাড়লেই হবে? মমতার সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে এমন মুখ কোথায়?
শুভা দত্ত

এবারের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি কটা আসন পাবে? পেতে পারে? এই মুহূর্তে বোধহয় স্বয়ং ভগবানও বলতে পারবেন না। জ্যোতিষীরা হয়তো তিথি নক্ষত্র ইত্যাদি গুনেগেঁথে কিছু একটা বলে দিতে পারেন, তবে সেটাই শেষপর্যন্ত মিলে যাবে এমন স্থির সিদ্ধান্ত একমাত্র আহাম্মক ছাড়া কেউ করবেন না। কারণ, ভোট এখনও অনেকটা দূরে।
বিশদ

09th  December, 2018
Loading...
ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্থান ভোটের ফল?

আমরা সবাই এখন ভোটফলের অপেক্ষায়। এর মধ্যে ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার হল রাজস্থান বিধানসভার ভোট। গত বিধানসভায় ২০১৩ সালে এই তারিখ ছিল ১ ডিসেম্বর, রবিবার। সেদিন পরিবার নিয়ে জয়পুরে থাকার সুযোগ হয়েছিল। কাজের সূত্রে যে বন্ধুরা জয়পুরে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হচ্ছিল যাওয়ার আগে।
বিশদ

08th  December, 2018
ওয়াটার মার্কেট
সমৃদ্ধ দত্ত

বিহারের গয়া জেলার কাপাসিয়া ব্লকের গুলাড়িয়া চক গ্রামের গনৌরি কুমার আর মুসাফির মাঝি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে এক পুলিস কর্মীকে বললেন, তোমাদের এখানে যমুনা নদীটা দেখতে যাব কীভাবে? কেন? না, মানে, কেমন জল আছে একবার দেখতাম! আবার কবে আসা হবে তা তো জানি না। এরপর যখন আসব যদি শুকিয়ে যায়! পুলিস কর্মী হাসলেন।
বিশদ

07th  December, 2018
লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। বিশদ

06th  December, 2018
ঢাকের সুপরিচিত শব্দ
পি চিদম্বরম

নরেন্দ্র মোদি ২০১৩-১৪ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি নিজেকে পরিচিত করেছিলেন বিকাশপুরুষ হিসেবে। মানে তিনি উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪-র মে মাসে যে ৩১ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদের একটা বড় অংশ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন) স্লোগানে আন্দোলিত হয়েছিলেন।
বিশদ

03rd  December, 2018
মমতা মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর হঠাৎ এত নরম হয়ে এল কেন?
শুভা দত্ত

গেরুয়া শিবির এবার কি সত্যিই বিপদের আঁচ পাচ্ছে? দিল্লির দরবারে কি দেশের মানুষের মতিগতি নিয়ে কোনও অশনিসংকেত পৌঁছল! দেশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখন ভোট চলছে। যখন এই লেখা লিখছি তখন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভোট হয়ে গেছে। রাজস্থান, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় হবে। সেজন্য রাজ্যগুলিতে ভোটপ্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে।
বিশদ

02nd  December, 2018
উইঙ্কল টুইঙ্কল: ২০৩৮ কি এক মূর্তিস্থানের গল্প?
অতনু বিশ্বাস

 পরের পুজোয় গুজরাত বেড়াতে যাবেন অমলকান্তি। ঠিক করে ফেলেছেন এখনই। আমেদাবাদ, গির, দ্বারকা, ঢোলাবিরা, ইত্যাদি। আর সেইসঙ্গে অবশ্যই যেতে হবে বরোদার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, নর্মদা বাঁধ থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে, ‘সাধু বেত’ নামে নদীর দ্বীপে। যেখানে রয়েছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সুবিশাল মূর্তিখানা।
বিশদ

01st  December, 2018
Loading...
একনজরে
 নয়াদিল্লি, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানালেন রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি। তিনি বলেছেন, তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশে আনা অভিযোগগুলি যে সর্বৈব মিথ্যা ছিল, এই রায় সেটাই প্রমাণ করল। ...

 হায়দরাবাদ, ১৪ ডিসেম্বর: হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচে বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম দিনে ৩৮ ওভারে ২ উইকেটে ৯৯ রান তুলেছে বাংলা। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৫৭ ও অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি ৬ রানে ক্রিজে আছেন। আউট ফিল্ড ভিজে থাকায় এদিন খেলা শুরু হয় নির্ধারিত ...

 জম্মু, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গাড়ি পড়ে জম্মু ও কাশ্মীরে মৃত্যু হল সাতজনের। মৃতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রেয়াসি জেলার তামসগালি এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, বিয়ে বাড়ির অনষ্ঠান সেরে ফেরার পথে তামসগালির পাহাড়ি পথে গাড়ির চালক ...

 ওয়াশিংটন, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): যৌন হেনস্তার অপরাধে আমেরিকায় এক ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীর নয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মার্কিন আদালত। চলতি বছরের শুরুতে বিমানে সফরকালে এক ঘুমন্ত মহিলা সহযাত্রীকে যৌন হেনস্তা করে প্রভূ রামমূর্তি (৩৫)। ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা, বাহন ক্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের বিদ্যাশিক্ষায় সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭৭- টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট নিলেন,
১৯০৮- রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী রঙ্গনাথানন্দের জন্ম,
১৯৫০- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু,
১৯৭৬- ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৯ টাকা ৯২.৩৩ টাকা
ইউরো ৮০.০৪ টাকা ৮৩.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩১,৯৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,২৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৭৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী ৫৯/৫৯ শেষ রাত্রি ঘ ৬/১৩। নক্ষত্র- পূর্বভাদ্রপদ ৪৭/৩৩ রাত্রি ঘ ১/১৪, সূ উ ৬/১২/৪৫, অ ৪/৫০/২৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ঘ ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/১১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী রাত্রি ২/৫/২৫। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র রাত্রি ১০/১২/৪২। সূ উ ৬/১৩/১৬, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৫/৪০ মধ্যে ও ঘ ৭/৩৮/৪ থেকে ঘ ৯/৪৫/১৬ মধ্যে ও ঘ ১১/৫২/২৭ থেকে ২/৪২/২ মধ্যে ও ৩/২৪/২৬ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫১/৩৯ থেকে ঘ ২/৩৮/৫১ মধ্যে। বারবেলা ১২/৫০/৪৪ থেকে ২/১০/১৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩২/৪৬ মধ্যে ও ঘ ৩/২৯/৪৪ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/৪৩ মধ্যে ও ঘ ৪/৩৩/২৯ থেকে ঘ ৬/১৩/৫৯ মধ্যে। 
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপির রথযাত্রার অনুমতি দিল না রাজ্য 
সাম্প্রদায়িক অশান্তির আশঙ্কায় রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রার আবেদন বাতিল করে দিল ...বিশদ

09:17:00 PM

কাল ম্যারাথনের জন্য হাওড়া স্টেশন ও বিমানবন্দরে যেতে বিকল্প রুট পুলিসের 
টাটা স্টিল কলকাতা ম্যারাথনের জন্য শনিবার রাত ১০টা থেকেই ময়দানের ...বিশদ

07:31:32 PM

জয়নগরে শ্যুটআউটের ঘটনায় ধৃত আরও ১ 

03:59:57 PM

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি এখন কলকাতায়
ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে কলকাতায় পৌঁছাল আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফিটি।আর মাত্র ...বিশদ

03:42:35 PM

এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণা, আটক ২
এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আসানসোলে থেকে ২ জনকে আটক ...বিশদ

03:39:00 PM

আসানসোলে আট ফুটের ময়াল উদ্ধার
আসানসোল উওর থানার পাচগাছিয়া মনোহর বহাল এলাকা থেকে আট ফুটের ...বিশদ

03:36:00 PM

Loading...
Loading...