Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস জরুরি
হারাধন চৌধুরী

গত দশকের কথা। কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণবঙ্গের এক জেলায় গিয়েছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের খবর সংগ্রহের জন্য। জেলা সদরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্লকে যাতায়াতের জন্য মূলত গণপরিবহণের উপরেই ভরসা রেখেছিলাম। বলা বাহুল্য, তখন গরম কাল। একটু বাড়তি হাওয়া বাতাসের লোভে জানালার ধারের একটা সিট দখল করার জন্য কসরতও করেছি। কিন্তু, চাকা কয়েক পা গড়াতেই বুঝেছিলাম কী ভুলটা করে বসেছি। বাসের ছাদ যাত্রীবোঝাই। বাস চলাকালে সেই যাত্রীদের অনেকে কফ থুতু কলার খোসা খাবার ঠোঙা ইত্যাদি উপর থেকে ফেলছে, নির্বিকার চিত্তে। আর তার কিছু কিছু ছুটে আসছে নীচে, বিশেষত জানালার ধারের যাত্রীদের গায়েই পড়ছে। নীচের থেকে আমার মতো দু-একজন আপত্তি জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। তাতে আরও চেঁচামেচি করার পর কানে আসে উপর থেকে ‘হো হো হো ...’! ব্যাপারটা বাস কন্ডাক্টরের নজরে এনে জবাব পাওয়া গেল—‘‘জানালার ধারে সিট নেবেন, আর এটুকু ভোগ করবেন না! এটুকু তো হতেই পারে!’’ অভিযুক্ত যাত্রী আর তার সমর্থক যাত্রীদের হাসির রোলের সঙ্গে কন্ডাক্টরের জবাবখানা যেন রাজযোটক। এই প্রশ্নে বাসের ভেতরের যাত্রীদের কাউকেই পাশে পাওয়া গেল না। আমার সঙ্গে আর যে দু-একজন জানালার ধারের যাত্রী প্রতিবাদ করেছিলেন, পরে জানলাম তাঁরাও কলকাতা থেকে এসে আতান্তরে পড়েছেন।
দশক পাল্টে গিয়েছে, শুধু আমরা পাল্টাইনি—গ্রাম মফস্‌সল থেকে কলকাতায় ঢুকেও না। এই তো সেদিন ছিঃ ছিঃ পড়ে গেল সদ্য উদ্বোধন হওয়া কলকাতার স্বপ্নের প্রকল্প স্কাইওয়াকের উপর ওয়াক থু করা নিয়ে। তবু আশার কথা নিন্দেমন্দটা হয়েছে। কিন্তু, বাকি সর্বত্র? পুরো গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে।
কলকাতায় বা শহরতলিতে বাসের ছাদে চেপে বসা যায় না। কিন্তু, সুন্দর পোশাক পরে বাস ট্রেনের ভেতরে যারা যাতায়াত করে তাদের অনেকেরই চেতনার মান, আজও, ওই দূরবর্তী জেলার সেই লোকগুলোর থেকে উন্নত নয়। তারা চলন্ত বাসেই খইনি, গুটখা, পান প্রভৃতির রসাস্বাদন করে থাকে। ওইসব রসে এক-একজনের মুখ যখন টইটম্বুর হয়ে যায় তখন সেগুলো তারা বাসের জানালা দিয়েই রাস্তার মাঝে উগরে দেয়। সেই তরল কারও গায়ে মাথায় পড়ল কি না তা দেখার ফুরসত লোকগুলোর থাকে না। আর চলন্ত গাড়ি থেকে ওই নোংরা বাইরে ফেলতে গিয়ে সবসময় যে লক্ষ্যভেদ তারা করতে পারে এমনও নয়। কিছুটা পড়ে জানালার মধ্যে কিংবা সিটের উপর, আর কিছুটা বাতাসে উড়ে এসে পিছনের যাত্রীদের মুখ ভিজিয়ে দেয়। হাতে তাল ঠুকতে ঠুকতে খইনি বানানোর সময় আশেপাশের যাত্রীদের হাঁচি-কাশিতে জেরবার হবার বন্দোবস্তও করে তারা। এসব নিয়ে প্রায় প্রতিটি বাসে নিত্য ঝগড়াঝাঁটি, এমনকী হাতাহাতিও হয়। তারপরেও থুক পার্টি নির্বিকার!
গ্রামের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ বিল্ডিং পর্যন্ত খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বিভিন্ন দেওয়াল রঙিন থুৎকারে ছয়লাপ হয়ে রয়েছে। সরকারি অফিস বাড়িগুলোরও একই হাল। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতেও গা ঘিন ঘিন করে। বেশিরভাগ রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড আর সাবওয়ের যা চেহারা, সেগুলোকে সভ্য সমাজের অংশ হিসেবে মানতে কষ্ট হয়। কলকাতায় এবং শহরতলিতে গত কয়েক বছরে বহু কোটি টাকায় অনেকগুলো বাসস্টপে আধুনিক যাত্রী প্রতীক্ষা শেড নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলোর কয়েকটা আবার এসি! কিন্তু, আশঙ্কামতোই সেগুলি উদ্বোধন হওয়ার পর বছরখানেকের ভিতর নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। শুধু থুৎকারে রাঙানো হয়নি, অনেকগুলোর দফারফা হয়ে গিয়েছে। ওই বিলাসীরা হাওড়া ব্রিজের পক্ষে সাক্ষাৎ ‘থ্রেট’!
রেল স্টেশনে, বাসস্ট্যান্ডে, হাসপাতালে ‘শৌচালয়’ নামক জিনিসের বেশিরভাগই নরককুণ্ডে পরিণত। পানীয় জলের কল বহু জায়গায় ভেঙে শেষ করা হয়েছে অথবা সেখানকার পরিবেশ দেখে গা বমি বমি হয়। কলকাতা, হাওড়া এবং শহরতলি এখন ফ্ল্যাটবাড়িতে ছয়লাপ। এই যে বহু হাজার ফ্ল্যাটে বহু লক্ষ  মানুষ আমরা বাস করছি, তাদের মধ্যেও সকলে খুব সচেতন নই। নির্দিষ্ট সময়ে পুরসভার সাফাইওয়ালার গাড়িতে কিংবা ভ্যাটে গিয়ে রোজকার ময়লা আবর্জনা অনেকে ফেলছি না। কিন্তু, একাধিক দিনের ময়লা ঘরে জমে পচে কী দুর্বিষহ অবস্থা হয়! তখন কেউ কেউ কী করি—আবর্জনা প্যাকেটে পুরে সুযোগ বুঝে বহুতলের উপর থেকে সটান রাস্তায় ছুড়ে দিচ্ছি কিংবা রাস্তার ধারে, ড্রেন অথবা খালের ধারে ফেলে দিয়ে আসছি! এরপর কী হচ্ছে—কুকুরে টানা হেঁচড়া করছে অথবা বৃষ্টিতে ভেসে আসছে রাস্তার মধ্যে অথবা সরে যাচ্ছে ড্রেন কিংবা খালের জলে। খাল রাস্তা বরাবর অগুনতি বেআইনি দোকানপাট। তার একাংশ খাবারের দোকান বা রেস্তরাঁ। মাছ সব্জি ফলমূলেরও বাজার বসছে। সেগুলো থেকেও থার্মোকলের থালা গেলাশ প্ল্যাস্টিক ব্যাগ নর্দমা খালে জমা হচ্ছে। নর্দমা, খাল এইভাবে অল্পদিনেই ভরে উঠছে। বহু ব্যয়ে সাফাই এবং ড্রেজিং সরকারি কোষাগার জলাঞ্জলির দেওয়ার শামিল হচ্ছে। তাতে নিকাশি সমস্যা তীব্র হচ্ছে এবং বাড়ছে মশা মাছির উৎপাত। আমরা পরিত্রাহি চিৎকার ছাড়ছি ম্যালেরিয়া, এনসেফেলাইটিস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া নিয়ে।
কলকাতাকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু তাতে লাভ খুব একটা হয়নি। সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ নামে একটি তথ্যচিত্র। এই উদ্যোগের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভায় পাশ করানো হয়েছে একটি জরুরি বিল—যাতে বলা হয়েছে রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেলে নোংরা করলে ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। তার দিনকয়েক বাদে বিধানসভায় পাশ হয়েছে হাওড়া এবং রাজ্যের বাকি পুর কর্পোরেশনগুলির জন্যও অনুরূপ বিল। বিধানসভায় বিলের উপর আলোচনার সময় পুরমন্ত্রী বলেন, সরকার মানুষের উপর জরিমানা চাপাতে চায় না। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে নাগরিকরাই সচেতন থাকুন, সরকার এটাই চায়।
কিন্তু, আইন তৈরি আর সংশোধন করেই কি সমাজটাকে সভ্য করে ফেলা সম্ভব হবে—রাতারাতির কথা বলছি না, সুদূর ভবিষ্যতেও? তার আগে দুটি জিনিস যে চাই—পরিকাঠামো আর আইন কার্যকর করার মতো হিম্মত।
পরিকাঠামো এই যে, রোজ প্রতিটি মহল্লায় বাঁশিওয়ালা সাফাইকর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছনোটা নিশ্চিত করতে হবে। কিংবা পাড়ার মোড়ে ভ্যাট, বিন থাকলে সেটা রোজ সময়মতো পরিষ্কার হওয়া জরুরি। এজন্য কলকাতা, হাওড়াসহ সব শহরে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় সাফাই কর্মী নিয়োগ করতে হবে। রাস্তায় রাস্তায়ও সর্বক্ষণের সাফাই কর্মী মজুত রাখতে হবে, যাতে নোংরা দেখামাত্র তারা সেসব তুলে নিয়ে যায়। সমস্ত রাস্তার ধারে কিছু দূর অন্তর শৌচাগার তৈরি করতেই হবে। জলের অভাবে বেশিরভাগ শৌচাগার অল্পদিনেই অব্যবহার্য হয়ে যায়। তাই সেখানে জলের ব্যবস্থা করাটাও জরুরি। প্রয়োজনে সেসব ফেল কড়ি মাখো তেল বা পে অ্যান্ড ইয়ুজ’ই হোক। ভালো পরিষেবা পেলে মানুষ বুঝবে নিশ্চয়, দিব্যি চলবে। জলসহ শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না-রেখে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ না-করার নির্দেশ নিষ্ফলা হতে বাধ্য। তাই ‘আপনার এলাকা, আপনার পরিচয়’, ‘পরিষ্কার রাখুন, সুস্থ থাকুন’ স্লোগান সার্থক করে তুলতে হলে এই কথাও মাথায় রাখা দরকার।
এই যে ব্যবস্থার কথা উঠল—এর বেনিফিট একাধিক। প্রথমত, ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারও ভালো অঙ্কের রাজস্ব পাবে। পে অ্যান্ড ইয়ুজ সিস্টেমে যে টাকা উঠবে সেই টাকাতেই নিযুক্ত কর্মীদের বেতন মেটানো যাবে। তৃতীয় লাভটা হবে—প্রতিটি শহরের সুন্দর চেহারা এবং নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য। রোগ ব্যাধির প্রকোপ কমতে বাধ্য। কথায় কথায় হাসপাতালে যে ভিড় হয় সেটা কমে যাবে। রোগের পিছনে ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে মানুষের এবং সরকারের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতাকে হাতিয়ার করে লক্ষ্মীলাভও নিশ্চিত করা সম্ভব।
এখন কথা হল—বাজে খরচ ছেঁটে পরিচ্ছন্ন শহরের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো আমরা গড়ব কি? ভোটের জন্য আতুপুতু করার বদঅভ্যাস আমাদের রাজনীতির কারবারিরা ছাড়তে প্রস্তুত আছেন কি? আতুপুতু করার পরিণাম তো অজানা নয়। শুধু আইনে-কাগজে-কলমে হাড় হিম হিম ভাব দেখিয়ে কিচ্ছুটি হবে না। আমরা তো ধরেই নেব, ওসব মুখে বলতে হয়, আসলে কিছুই করবে না প্রশাসন। আমরা যেমন পার পেয়ে যাই সব ব্যাপারে তেমনিই পার পেয়ে যাব। কিছু ফাইন আদায়ের ব্যবস্থা তো অনেক বছর যাবৎই আছে, কিন্তু এ পর্যন্ত কতজনের কাছ থেকে ক’পয়সা আদায় হয়েছে আর তার দরুন এই বিপদ কতটা মোকাবিলা করা গিয়েছে? আবার দেখছি, এই শহরেই মেট্রো রেল এবং মেট্রো স্টেশনগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। এসি বাসগুলোও অপরিচ্ছন্ন নয়। এক যাত্রায় এই পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব হল? নজরদারি আর কড়াকড়ি ছাড়া কিছু নয়।
এবার ভাবা দরকার, প্রকাশ্যে গুটখা খইনি পান প্রভৃতি চিবানো নিষিদ্ধ করার সাহস দেখানো যায় কি না। যারা রাস্তাঘাটে ইচ্ছেখুশি নোংরা ফেলছে তাদেরও কড়া হাতে শায়েস্তা করতে হবে। সিঙ্গাপুর কিন্তু সামান্য চিউয়িংগামও খাওয়া বন্ধ করেছে গত শতকের শেষদিকে। লোকসংখ্যা এবং সামাজিক অবস্থানের তফাত মাথায় রেখেও আমরা সিঙ্গাপুর ও জাপান থেকে পরিচ্ছন্নতার পাঠ নিতে পারি। মানছি সিঙ্গাপুর একটা নগর রাষ্ট্রমাত্র। সেই মডেল মাথায় রেখে আমাদের শহর প্রশাসনগুলোকেও আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেওয়া যায় পরিচ্ছন্নতার নীতি কার্যকর করার জন্য। পরিচ্ছন্নতার আন্দোলনকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস দেখানোটা আজ জরুরি। সব দল এই ব্যাপারে প্রতিযোগিতায় নামতে রাজি আছে কি? তাদের দৃঢ়তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—অভিযুক্তের পাশে কেউ দাঁড়াবে না—অভিযুক্তরা যে রং আর মতের মানুষ এবং যতই ওজনদার হোক না কেন।
04th  December, 2018
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান, আফগানিস্তান ও কাতার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছেন সুনীল ছেত্রী-সন্দেশ ঝিংগানরা। কিন্তু ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিম্যাচ বলেছেন, ‘গ্রুপের বাকি দলগুলির প্রত্যেককেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ...

তেহরান, ২২ জুলাই (এএফপি): সিআইএ-র চর সন্দেহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান। সোমবার এই খবর জানিয়েছে ইরান প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের সঙ্গে গদ্দারি করার অভিযোগে কয়েকজনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে হরেক দাবিদাওয়া পেশ করেছিল অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমাতে হবে এবং ...

 বদায়ুন, ২২ জুলাই (পিটিআই): সোমবার উত্তরপ্রদেশে স্নান করতে নেমে গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন দুই কাঁওয়ার যাত্রী। পুলিস জানিয়েছে, বদায়ুনের উসাইহাতা এলাকার অতাইনা ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন দিব্যম সাক্সেনা (২৩), আমন গুপ্ত (২২) এবং দেবেন্দ্র (৩০)। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM