Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মমতা মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর হঠাৎ এত নরম হয়ে এল কেন?
শুভা দত্ত

গেরুয়া শিবির এবার কি সত্যিই বিপদের আঁচ পাচ্ছে? দিল্লির দরবারে কি দেশের মানুষের মতিগতি নিয়ে কোনও অশনিসংকেত পৌঁছল! দেশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখন ভোট চলছে। যখন এই লেখা লিখছি তখন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভোট হয়ে গেছে। রাজস্থান, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় হবে। সেজন্য রাজ্যগুলিতে ভোটপ্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে। পাঁচ রাজ্যের ভোট সামলে দলীয় দুর্গের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ দলবল নিয়ে এবার বহু আগে থেকেই নেমে পড়েছিলেন। রাজস্থানে রাজমাতার প্রতি জনতার ক্ষোভ, অভিমান, তেলেঙ্গানায় টিআরএস মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব, মধ্যপ্রদেশে নানান দুর্নীতির অভিযোগ, ছত্তিশগড়ে মাওবাদী ঝামেলা ইত্যাদি সামলাতে দিনরাত এক করে দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষনেতা থেকে সাধারণ সৈনিকেরা।
কিন্তু, তা সত্ত্বেও জনমত সমীক্ষার ফলগুলিতে খুব ভালো কিছু নজরে আসেনি। বরং, রিপোর্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই থেকে ক্ষমতাচ্যুতির মতো বিপদের গন্ধই মিলেছে! অবশ্য, রিপোর্টের কথা সবসময় সত্যি হয় না—এটাও বাস্তব। সুতরাং, ওই পাঁচ রাজ্যের ভোটফল নিয়ে লোকসভার ভোট ভবিষ্যৎ ব্যাপারে আগাম সিদ্ধান্ত অর্থহীন। তবু, ওই জনসমীক্ষার ফল একেবারে মন থেকে ঝেড়েও কি ফেলা যাচ্ছে! ফেলতে পারছেন গেরুয়া শিবিরের শীর্ষমহল? রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের একটা বড় অংশের ধারণা, পারছেন না।
অথচ, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বিধানসভা ভোটফলকে লোকসভার ভোটফলের আগাম আভাস বলে মনে করেন না। লোকসভার নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বও দিতে চান না। কারণ, তাঁদের মতে, বিধানসভা ভোটে জনতার মনে আঞ্চলিক উন্নয়নের ইস্যুগুলো বেশি কাজ করে আর লোকসভার ক্ষেত্রে নাকি জাতীয় ব্যাপার-স্যাপার। সেদিক থেকে পাঁচ রাজ্যের চলতি ভোটফল নিয়ে বিজেপি’র বিশেষ মাথা ঘামানোর কথা নয়। কেননা, এই পাঁচ রাজ্যের ভোটফল বিরুদ্ধে গেলেও দেশের সিংহভাগ রাজ্য তাঁদের দখলেই থাকবে। তার ওপর শোনা যাচ্ছে পূর্বাঞ্চলের মিজোরামের ভোট পড়ার হার (৭৫ শতাংশ) নাকি পদ্ম দলে বিশেষ উৎসাহের সঞ্চার করেছে! ওই রাজ্য জয়ের ব্যাপারে তাঁদের আশা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এত সব সত্ত্বেও কি দিল্লির শাসক শিবির লোকসভার আসন্ন ভোট মহাযুদ্ধ নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারছে না!? আগামী লোকসভায় দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় থাকার ব্যাপারে মোদিজি অমিতজিরা কি একটু বেশি সন্দিহান হয়ে পড়েছেন? না হলে হঠাৎ কেন মমতা-মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর এত নরম হয়ে এল? কেন সিপিএমকেও আর তাঁর তেমন বিপজ্জনক মনে হচ্ছে না! আর কেনই বা ব্যতিক্রম কংগ্রেস! কেন কংগ্রেসই মনে হচ্ছে একমাত্র শত্রু—তাড়াতে হবে দেশ থেকে? হ্যাঁ, একটা সাদা কারণ তার তো আছেই। লোকসভায় আসন যতই সামান্য হোক জাতীয় রাজনীতি তথা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কংগ্রেসের ঐতিহ্য গরিমা এখনও যথেষ্টই। সেই কংগ্রেসকে নরেন্দ্র মোদিজি প্রধান রাজনৈতিক শত্রু ও প্রতিপক্ষ বলে মনে করলে আশ্চর্যের কিছু নেই। সেই অবস্থান থেকে তিনি কংগ্রেস মুক্ত ভারতের ডাক দিতেই পারেন, বলতেই পারেন, অখিলেশ-মায়াবতী-মমতা সব ঠিক আছে। কেবল তাড়াতে হবে কংগ্রেসকে। কিন্তু, হায়দরাবাদের জনসভায় মোদিজির এই বক্তব্যের তাৎপর্য কি শুধু এটুকুই?
একথা ঠিক, উত্তরপ্রদেশের কয়েকটা উপনির্বাচনে অখিলেশ-মায়াবতী মিলে ভালো ধাক্কা দিয়েছিল রেকর্ড আসনে জেতা যোগী-বাহিনীকে। সেই ধাক্কা দিল্লির দরবারেও গিয়ে পৌঁছেছিল। আসন্ন লোকসভায় ওঁরা জোট বাঁধলে যে বিপদ সেটা আঁচ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অমন নরম কথা বলতেই পারেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা প্রায় একই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব-প্রতিপত্তিতে আচ্ছন্ন, মমতায় মুগ্ধ, মমতার উন্নয়নের জোয়ারে ভাসমান এই পশ্চিমবঙ্গে আগামী লোকসভা ছাড়, সুদূর ভবিষ্যতেও গেরুয়া বাহিনী দাঁত ফোটাতে পারবে এমন আশা সে দলের কেউই খুব বুক বাজিয়ে বলতে পারেন বলে শুনিনি। এমনি রাজনৈতিক প্রচারে সে কথা হয়তো অনেকে জোর গলায় সভাসমিতিতে বলছেন, দিল্লি নেতাদের উৎসাহে তাঁদের কর্মী সমর্থকদের আসন্ন লোকসভায় ২২/২৪ আসন দখলের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন—কিন্তু তাঁরাও খুব ভালোই জানেন বাস্তবে এই ২০১৯ সালে এমনটা ঘটানো খুব সহজ নয়, বরং অসম্ভবের কাছাকাছি।
তবু বলছেন, বলতে হয় বলেই বলছেন। উপায় কী? দলীয় রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বলে একটা ব্যাপার তো পদ্মশিবিরেও আছে। ভোটের মুখে তার দাবি অস্বীকার করবে কে? কিন্তু, সেই বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও রূঢ় রাজনৈতিক বাস্তবকে উপেক্ষা করবেন কীভাবে? অতএব, মমতাকে ভোটযুদ্ধে কাহিল করার কোনও সম্ভাবনা নেই। তার ওপর আছে তাঁর ফেডারেল ফ্রন্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, যে ফ্রন্ট গেরুয়া শিবিরের ভোটচিন্তায় আজ অন্যতম কাঁটা। সেখানেই শেষ নয়। ফেডারেল ফ্রন্টের বাইরেও গেরুয়া বিরোধী অভিযানে দানা বেঁধে ওঠা তৃতীয় শক্তির চোখেও যে নিজগুণে মমতা মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন সে খবরও তো আছে মোদিজি অমিত শাহের কাছে। এহেন শক্তিশালী রাজনৈতিক ক্ষমতাকে এত বড় ভোটের মুখে একটু ‘গুড হিউমারে’ রাখাই যে বিচক্ষণতা সেটা দেশের প্রধানমন্ত্রী কি বুঝেছেন? আর তাই কি মমতাকে ভালোর দলে রাখা!? হতেই পারে। বাকি রইলেন সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামপন্থীরা। একসময় বাজপেয়ি-আদবানি যুগে বাংলার বামপন্থীদের সঙ্গে তাঁদের দহরম-মহরম ছিল। আজও সেটা ঝালিয়ে নেওয়ার জন্যই কি তাঁরা মোদিজির ভালোর দলে? এটাও হতেই পারে।
কিন্তু, রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞরা মনে করছেন, কংগ্রেসকে দেশ থেকে তাড়ানোর ডাক দেওয়ার পাশাপাশি মমতা-মায়াবতী-অখিলেশ মায় সিপিএম সমেত বামপন্থীদের প্রতি নরম মনোভাবের কারণ কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। আসল উদ্দেশ্য, কংগ্রেসকেন্দ্রিক তৃতীয় ফ্রন্ট এবং মমতার নেতৃত্বাধীন ফেডারেল ফ্রন্টের মধ্যে অর্থাৎ বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলির মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা। একদিকে ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলে তৃতীয় ফ্রন্টের এবং অন্যদিকে একই লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ফ্রন্টের অভিযান ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে ভালো সাড়া ফেলেছে। কেন্দ্রে প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাবনাও দেখতে শুরু করেছে দেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, দুই ফ্রন্টে এবং দেশের মানুষের মধ্যে এই মুহূর্তে মমতার মতো গ্রহণযোগ্যতা বিরোধী শিবিরের আর কোনও নেতানেত্রীরই নাকি নেই। তাই, ২০১৯ সালে যদি মোদিজি ক্ষমতাচ্যুত হন তবে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বিরোধীজোটের প্রথম এবং স্বতঃস্ফূর্ত চয়েস মমতাই হবেন—এমনটাই অভিমত ওই মহলের বিশেষজ্ঞদের।
বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব অবশ্য বাঙালির প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে বিশেষ ভাবিত বলে মনে হয় না। তাঁরা ক্ষমতা রক্ষা করতেই বেশি তৎপর। মুশকিলটা হল, এক্ষেত্রেও মমতাই তাঁদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। কারণ, মধ্যমণি হয়ে মমতাই কার্যত দেশ জুড়ে বিরোধীদের একট্টা করতে এবং তাঁর ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থী দেওয়ার ফর্মুলা সফল করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। আর তাতে সাফল্যও মিলছে ভালোই। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সমেত জোট নেতারা ভোটের পর প্রধানমন্ত্রী ঠিক করার নীতি মেনেছেন এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ও মমতার ফেডারেল ফ্রন্ট মিলেমিশে একটা জোরদার মোদি-বিরোধী লড়াই দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে। অমিত শাহ সমেত মোদিজির রাজনৈতিক সেনাপতিরা জোটের প্রকৃত শক্তি এখনও কতটা আঁচ করতে পেরেছেন জানা নেই, তবে তাঁরা যে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন তাতে সন্দেহ নেই।
আসলে, গেরুয়া শিবির একটা কথা স্পষ্ট বুঝে গেছে—দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদির শাসনে খুব একটা খুশি নয়। এক তো ব্যাপক দুর্নীতি, ব্যাঙ্কের লক্ষ কোটি টাকা গায়েবের ঘটনা এবং অভিযুক্তদের ব্যাপারে সরকারি নিস্পৃহতা, তার সঙ্গে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, উন্নয়নহীনতা, নানাভাবে সাধারণের আয় কমে যাওয়া, রান্নার গ্যাস এবং কেরোসিন, পেট্রল, ডিজেলের মতো জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি—সবমিলিয়ে আজ দেশের জনতার মধ্যে একটা চোরা উল্টোস্রোত বইতে শুরু করেছে। মুখ ফেরাচ্ছে মানুষজন। আর প্রত্যাশিতভাবেই সেই স্রোতটাকে নানাভাবে কাজে লাগাতে চাইছেন বিরোধীরা। ভোটযুদ্ধের সেই গণ-অপ্রসন্নতাকে লোকসভা যুদ্ধে বিপজ্জনক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন তাঁরা।
জোটের পরিসরও ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম একলপ্তে শতটাকার বেশি কমানোর মতো মলম দিয়ে জনমনের ওই ক্ষত বাকি ক’মাসে কতটা মেরামত করা যাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তথ্যভিজ্ঞদের অনেকে বলছেন, পদ্মবাহিনীর আত্মরক্ষার একটাই জোরালো কৌশল এখন অবশিষ্ট—যেন তেন প্রকারে বিরোধী জোট-রাজনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া, অন্যদের কাছে টেনে কংগ্রেসকে বিচ্ছিন্ন করা। তথ্যভিজ্ঞদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার হায়দরাবাদের সভায় মায়াবতী-মমতা নিয়ে বিজেপি সুপ্রিমো তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই ‘নরম’ মন্তব্যকে কি সেই কৌশলেরই ভূমিকা বলে মনে হচ্ছে না?
02nd  December, 2018
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে হরেক দাবিদাওয়া পেশ করেছিল অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমাতে হবে এবং ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়ে গত মাসের শেষের দিকে ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদন করেছিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। ...

তেহরান, ২২ জুলাই (এএফপি): সিআইএ-র চর সন্দেহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান। সোমবার এই খবর জানিয়েছে ইরান প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের সঙ্গে গদ্দারি করার অভিযোগে কয়েকজনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার ও মালাবাজার: ছেলেধরা সন্দেহে সোমবার সকালে নাগরাকাটার সুখানিবস্তি এলাকায় পুলিসের সামনেই এক ভিখারিকে পাথর দিয়ে মাথা থেতলে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। ছেলেধরা সন্দেহে নাগরাকাটায় রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM