বিশেষ নিবন্ধ
 

উইঙ্কল টুইঙ্কল: ২০৩৮ কি এক মূর্তিস্থানের গল্প?
অতনু বিশ্বাস

পরের পুজোয় গুজরাত বেড়াতে যাবেন অমলকান্তি। ঠিক করে ফেলেছেন এখনই। আমেদাবাদ, গির, দ্বারকা, ঢোলাবিরা, ইত্যাদি। আর সেইসঙ্গে অবশ্যই যেতে হবে বরোদার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, নর্মদা বাঁধ থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে, ‘সাধু বেত’ নামে নদীর দ্বীপে। যেখানে রয়েছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সুবিশাল মূর্তিখানা।
মূর্তিটার উদ্বোধন নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল আসমুদ্র ভারত। এমনটা নয় যে এর আগে কোনও মূর্তির প্রতিষ্ঠা দেখেনি এ দেশ। আরাধ্য দেব-দেবীর মূর্তিই শুধু নয়, ইতিহাসের পাতার মহান চরিত্র থেকে সমকালীন রাজনীতিবিদ—সকলের মূর্তিই দেখতে অভ্যস্ত আমরা। এমনকী নিজের মূর্তি স্থাপন করেছেন নিজে—এমন ঘটনারও সাক্ষী আমরা। তবে এ মূর্তিখানা বোধকরি খানিকটা আলাদা রকমের। খরচে, আভিজাত্যে, প্রভাবে, এবং উচ্চতায়। হ্যাঁ, উচ্চতায় পৃথিবীর সব চাইতে বড় মূর্তি বলে কথা—৫৯৭ ফুট বা ১৮২ মিটার। সাত কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাবে এই বিশাল মূর্তিকে।
মূর্তিটা নিয়ে কিন্তু বিস্তর বিতর্ক। নিয়মিত খবরের কাগজ পড়েন অমলকান্তি। টিভিতে নিউজ চ্যানেলগুলিতে সময় কাটান অনেকটা করে। তাই বিতর্কের রকম-সকম তাঁর মোটামুটি জানা। পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ইত্যাদি হাজারো প্রশ্ন থাকবেই এ জাতীয় কাজেকর্মে। তা নিয়ে চাপান-উতোর চলবে। পরিবেশবিদ, আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। বাড়বে চ্যানেলের টিআরপি।
এবং সেই সঙ্গে মূর্তিটা কার, গুরুত্বপূর্ণ সেটাও। কোনও একজন দলীয় রাজনীতিকের, নাকি রাজনীতিক থেকে দেশের নেতায় উত্তীর্ণ হওয়া কোনও এক লৌহমানবের? দেশের একজন কিংবদন্তি নেতা কি আটকে থাকতে পারেন কোনও রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তির চৌহদ্দির মধ্যে? নাকি এক রাজনৈতিক দলের ঝোলা থেকে তাঁর লেগ্যাসিকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল? এনিয়ে অমলকান্তির চিন্তাধারার সাথে আর পাঁচজনের ভাবনা-চিন্তা মিলবে না সব সময়। সেটাই নিয়ম। গণতন্ত্রের। সমাজের। আচ্ছা, ভোটের শতাংশের সঙ্গে কি কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে মূর্তি প্রতিষ্ঠার? আসলে নির্বাচন আর ভোটের শতাংশের জটিল অঙ্ক আমাদের সমাজ জীবনের সব কিছুতেই থাবা বসিয়ে চলেছে এক অনাবিল আয়েসে। ভোট একটা জটিল রসায়ন। তাতে কোন বিষয়ের যে কতটা প্রভাব রয়েছে, তার সঠিক পরিমাপ করাও হয়তো অসম্ভব।
স্ট্যাচুটা গড়তে নাকি খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা। ভারতের মত দেশে টাকাটা বেশ বড় নিঃসন্দেহে। এই টাকায় স্ট্যাচু না গড়ে কত কী করা যেত, তার লম্বা ফর্দ দেখেছে অমলকান্তি।
কিন্তু খরচ হওয়া টাকাটা যে পুরোটাই অপচয়, তেমনটাও হয়তো নয়। এই টাকা বহু লোকের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে নিশ্চয়। এছাড়া স্ট্যাচু তো আর কেবলমাত্র স্ট্যাচু হয়েই থাকে না। তার মাঝেই রয়েছে বাগান, মিউজিয়াম, এবং ভিউইং গ্যালারি। দর্শনার্থীদের গ্যালারিতে তুলে দেবে লিফট। স্ট্যাচুর সঙ্গে ক্রমে গড়ে উঠবে হোটেল, রেস্তরাঁ, পরিবহণ ব্যবস্থা। বিনোদনের হাজার মশলা মিলে গড়ে ওঠে একটা পর্যটনের জায়গা। রোজ নাকি ভিড় জমাবে হাজার পনেরো লোক, অন্তত তেমনটাই আশা করছে গুজরাত সরকার। কী জানি, এর বাণিজ্যিক মূল্য হয়তো ওই টাকার অঙ্কটাকে ছাপিয়ে যাবে অদূর ভবিষ্যতেই।
৯৩ মিটার উঁচু নিউ ইয়র্কের ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ তো কেবলমাত্র আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রতীকই নয়, এতে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে পর্যটনের মূল্যবান রসদ। রিও ডি জেনিরো-তে পাহাড়ের উপরে দু’হাত ছড়ানো যিশুর মূর্তি ‘খ্রাইস্ট দ্য রিডিমার’ দেখতে জড়ো হয় দেশ-বিদেশের মানুষ। এর উচ্চতা অবশ্য ৩০ মিটার, যদিও এটা স্থাপিত রয়েছে ৭০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপরে। আর এর ট্যুরিজমেও সঞ্চারিত হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুরে মারলায়নের স্ট্যাচু দেখতে জড়ো হয় দুনিয়ার মানুষ। এ এক ফ্যান্টাসির প্রাণী। উপরের অর্ধেকটা সিংহের মত, আর নীচের অংশটা মাছের। ‘মারলায়ন’ যেন পরিণত হয়েছে সে দেশের ম্যাসকটে, অন্তত বেসরকারিভাবে। স্যান্টোসা দ্বীপে মারলায়নের যে স্ট্যাচুটা রয়েছে সেটার উচ্চতা ৩৭ মিটার। সেই সঙ্গে রয়েছে মজা আর বিনোদনের সহস্র উপকরণ। ওদিকে হংকং-এর ল্যানটাও দ্বীপে রয়েছে ১১২ ফুট উঁচু বুদ্ধের স্ট্যাচু। ট্যুরিস্টের আর এক আকর্ষণের জায়গা। ‘টিয়ান ট্যান বুদ্ধ’ নামে পরিচিত এই মূর্তি। ‘বিগ বুদ্ধ’ও বলা হয় এই স্ট্যাচুকে।
আর মূর্তিই বা শুধু কেন, লম্বা উঁচু টাওয়ার বানিয়েও পৃথিবীর এখানে ওখানে ট্যুরিস্টদের পকেট কেটে রোজগার হচ্ছে বেশ। মোটা টাকার টিকিট কেটে ঘেমে-নেয়ে লাইন দিয়ে লিফটে চেপে হুশ করে উঠে যাওয়া বেশ খানিক উঁচুতে। সেখান থেকে চারদিকের কয়েক মাইল পর্যন্ত শহর আর শহরতলিকে দেখা, মেঘ-ছোঁয়া রেস্তরাঁয় বসে দামি খাবার আর পানীয়, ব্যস। এমনটাই হয়ে চলেছে টরেন্টোর ক্যানাডিয়ান ন্যাশনাল টাওয়ার, কিংবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের ক্ষেত্রে।
অমলকান্তি ভেবে দেখেন যে, তিনি নিজেই তো ট্যুরিস্ট হিসেবে ছুটেছেন এই স্ট্যাচু এবং টাওয়ারগুলির কোনও কোনওটা দেখতে। এমনই যায় অসংখ্য ট্যুরিস্ট, এ গ্রহের বিভিন্ন কোনা থেকে। খরচ করে আসে ডলার। গুজরাতের স্ট্যাচুতে যেটা অমলকান্তির কাছে সব চাইতে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে, সেটা হল এই দীর্ঘতম স্ট্যাচুতে নিহিত রয়েছে এক অমিত সম্ভাবনার বীজ। ভারতের মতো গঠনতন্ত্রের দেশে অচিরেই কিন্তু গড়ে উঠতে পারে প্রচুর সংখ্যক এমনই দীর্ঘ স্ট্যাচু। হতে পারে গুজরাতের স্ট্যাচু থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে, হতে পারে এর সঙ্গে পাল্লা দিতে, কিংবা ছাপিয়ে যেতে। দেশের এ প্রান্তে, সে প্রান্তে। দেশনায়কদের, এমনকী দেশনায়ক হয়ে উঠতে না-পারা রাজনীতিবিদদের, দেব-দেবীর, ধর্ম-প্রচারকদের। সেই সঙ্গে জন্তু-জানোয়ারদের (যেমন ধরা যাক, রানা প্রতাপের ঘোড়া) স্ট্যাচু তৈরি করলেই বা আটকাচ্ছে কে? কোনও না কোনও সম্প্রদায়ের কাছে সব কিছুরই একটা আবেগ রয়েছে বইকি। আবার সিঙ্গাপুরের মারলায়নের মত অলীক প্রাণীর স্ট্যাচুর বাণিজ্যিক মূল্য কিঞ্চিৎ বেশি হতে বাধ্য। অন্তত বিদেশি ট্যুরিস্ট আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে তো বটেই। আমাদের মহাকাব্য, রূপকথা, উপকথা খুঁজে তেমন বেশ কিছু নিশ্চয়ই বের করা সম্ভব হবে।
তাই এই ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ই হয়তো শুরু করে দিতে পারে এক স্ট্যাচু-বিপ্লব। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার নাকি অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে গড়ে তুলবে উচ্চতর এক স্ট্যাচু—শ্রীরামচন্দ্রের। ২২১ মিটার লম্বা। সে রাজ্যের ট্যুরিজমের প্রকল্প হিসেবে। অমলকান্তির দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতবর্ষের অর্থনীতি এতটাই মজবুত যে এই টাকার অঙ্কগুলি সে তুলনায় যৎসামান্য। ওদিকে ওড়িশার জাজপুর এলাকায় তৈরি হচ্ছে ১০৮ মিটার উঁচু ভগবান বুদ্ধের মূর্তি। এদেশের সব চাইতে উঁচু বুদ্ধমূর্তি হতে চলেছে এটি। ওদিকে কর্ণাটক সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা গড়ে তুলতে চায় মা কাবেরীর ১২৫ ফুট মূর্তি। ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে। বেঙ্গালুরুর ৯০ কিলোমিটার দূরে, মান্ড্য জেলার কৃষ্ণরাজাসাগর জলাধারের কাছে। কাবেরী নদী দক্ষিণের তিনটি রাজ্যের প্রাণস্পন্দন।
লক্ষণীয় যে, ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজ্যে মস্ত বড় মূর্তি গড়ার একটা উৎসাহ জেগেছে। রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা আর কর্ণাটকের শাসন-ক্ষমতায় তো ভিন্ন ভিন্ন ভাবধারার রাজনৈতিক দল! ওদিকে মুম্বইয়ের গিরগাম চৌপাট্টি বিচ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের জলে মানুষের তৈরি পাথরের এক দ্বীপে নির্মীয়মান ‘‘শিবাজি স্মার’’ বা ‘ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মেমোরিয়াল’– ঘোড়ার পিঠে, তরবারি হাতে শিবাজি মহারাজ। তৈরি শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালে। প্রথমে ঠিক ছিল এর উচ্চতা হবে ১৯২ মিটার। কিন্তু চীনের হেনান প্রদেশে নাকি তৈরি হচ্ছে ২০৮ মিটার উঁচু বুদ্ধ স্ট্যাচু। তাকে ছাপিয়ে যাবার জন্যে এর পুনর্নিদ্ধারিত উচ্চতা স্থির হয়েছে ২১০ মিটার। খরচের হিসেব ধরা হয়েছে ২৮০০ কোটি টাকা।
অচিরেই তাই দেশের দিকে দিকে উঁচু উঁচু মূর্তি তৈরির ঢেউ জেগে উঠতে পারে। আজ এখানে, কাল সেখানে। এবং শুরু হয়ে যেতে পারে উচ্চতা নিয়ে প্রতিযোগিতা। রাজ্যগুলি নেমে পড়তে পারে চাঁদ-তারাকে ছোঁওয়ার এই দৌড়ে।
অমলকান্তির মনে উদয় হয় বিচিত্র চিন্তার। ধরা যাক, রিপ ভ্যান উইঙ্কলের মত অমলকান্তিও হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়ল আজ। কুড়ি বছর কেটে গেল এক চুটকিতে। বছর কুড়ি পরে, ২০৩৮-এর ভারতবর্ষে এমন পেল্লাই মাপের মূর্তিই হয়তো থাকবে পঞ্চাশ কিংবা একশোটা বা হয়তো আরও বেশি। রাজ্যে রাজ্যে তাদের নিজেদের মত করে। কোথাও কোথাও আবার বিশেষ কোনও মূর্তি গড়া নিয়ে কিছু চাপান-উতোর আর আইনি টানা-পোড়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেমন লেনিনের মূর্তি কেউ গড়তে চাইবে, আর কেউ চাইবে ভাঙতে—এটা তো পৃথিবীব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস। কর্ণাটকে টিপু সুলতানের মূর্তি হবে কি না, সেটা বেশ চটকদার বিতর্কের বিষয় হতে পারে। আমাদের রাজ্যেও বেশ কিছু মূর্তি গড়ে তোলা যাবে সহজেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবশ্য বিতর্কের অবকাশ থাকবেই। তবে বিতর্কহীন সর্বসম্মত মূর্তির রসদও রয়েছে অনেক। ধরা যাক, বীরভূমের কোনও ধু ধু মাঠের মধ্যে তৈরি হবে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি। রবীন্দ্রর সেই বিশাল মূর্তিটা দেখতে যত ট্যুরিস্ট দৌড়াবে দেশ-বিদেশ থেকে, তার সিকিভাগও হয়তো সেদিন পৌঁছবে না শান্তিনিকেতনে তাঁর কর্মকাণ্ডের স্থানে। মূর্তিটার উচ্চতা কত হবে, সেটা নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিরাই স্থির করবেন—তবে কোনও উচ্চতাই যে প্রকৃত রবীন্দ্র-মাহাত্ম্যের ধারেকাছে পৌঁছবে না, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। সুভাষচন্দ্র বসুর স্ট্যাচুটার নির্মাণ নিয়েও বঙ্গবাসীর মধ্যে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। যদিও তাঁর জন্মস্থানের সূত্র ধরে (রসগোল্লার মতো) এ বিষয়েও ওড়িশা তাদের দাবি জানাবে কি না বলা কঠিন।
২০৩৮। এমনই বহু টানা-পোড়েনের সুতোয় বাঁধা পড়ে গত বিশ বছরে গড়ে উঠেছে উঁচু উঁচু স্ট্যাচু। উঁচু, আরও উঁচু। শ্রদ্ধা জানানো গিয়েছে অনেক মহাপুরুষ আর দেশনায়কদের। আর এর ফলশ্রুতিতে ২০৩৮ নাগাদ ভারতকে দুনিয়ার লোক মোটামুটি ‘মূর্তিস্থান’ বলেই জানতে পারে। উঁচু উঁচু মূর্তি দেখবার জন্যে চালু হয়েছে মূর্তি-ট্যুরিজম। মূর্তি-রুট। দেশের অর্থনীতির অনেকটা দাঁড়িয়ে রয়েছে এর উপরে। মূর্তিগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছোটখাট শহর, হোটেল, পরিষেবা। বহু লোকের কর্মসংস্থান। স্বাভাবিকভাবেই এত মূর্তি তৈরির কলাকুশলীদের প্রশিক্ষণের জন্যে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চালু হয়েছে মূর্তি তৈরির পাঠক্রম। উইঙ্কল টুইঙ্কল-এর কল্পিত স্বপ্নের জগতে খানিকটা ভেসে নেন আমাদের অমলকান্তি। ২০৩৮-এ সক্ষম শরীরে বেঁচে থাকলে না-হয় মূর্তি-রুট ধরে মূর্তি-ট্যুরিজমে একবার ভারত-ভ্রমণ করা যাবে।
আপাতত স্বপ্নের ঘোর ভেঙে অমলকান্তি ফিরে আসেন ২০১৮-র শেষ লগ্নে। নির্বাচনের দামামার মাঝে দেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে।
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
01st  December, 2018
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এগিয়ে?
সমৃদ্ধ দত্ত

গত পাঁচ বছরে সিপিএম একবারও কি রেলমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে রাস্তায় নেমেছে? পশ্চিমবঙ্গ কেন বঞ্চিত হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে কখনও সিপিএমকে প্রেস কনফারেন্স করতে দেখেছে কেউ? কেন কিছু করেনি সিপিএম? কারণ এখন আর রেলমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। বিশদ

রাফাল না সিবিআই, মোদি-বিরোধিতায় সবচেয়ে শক্তিশালী ইস্যু কোনটি?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 রাফাল ইস্যুকে সামনে রেখে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তির ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ধারাবাহিকভাবে রাফাল ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে রাখতে পেরেছিলেন রাহুল। হিন্দি বলয়ে তিন রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়-এ বিজেপি’র পরাজয়ের পিছনে অন্য সমস্ত কারণের মধ্যে রাহুল গান্ধীর তোলা রাফাল যুদ্ধ বিমান দুর্নীতির প্রচার বিজেপি’র বিরুদ্ধে গিয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।
বিশদ

14th  February, 2019
স্মার্ট সিটি এবং সুশাসন
রঞ্জন সেন

স্মার্ট হওয়া ভালো, কিন্তু আরও ভালো হল সুশাসিত হওয়া। আর এটা হয় না বলেই রাতারাতি স্মার্ট বলে দেগে দেশের স্মার্ট সিটিগুলিতে হঠাৎ প্রয়োজনে জরুরি পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তার প্রশস্ত রাজপথে চরে বেড়ায় গোরু। তার পরিণতিতে মানুষের প্রাণও যায়।
বিশদ

12th  February, 2019
ভোটের কৈফিয়ত
পি চিদম্বরম

একটা আত্মবিশ্বাসী সরকার স্বাভাবিক অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করত আর এটাই করা উচিত, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের মতো জিনিসটার ঘাটতি রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মধ্যে। শুধু বিজেপি এমপিদের বিষণ্ণ মুখগুলোর দিকে তাকান বিশেষত যাঁরা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছেন এবং আপনি আমার সঙ্গে একমত হবেন।
বিশদ

11th  February, 2019
ফাঁকা অভিযোগ করে বা সিবিআই জুজু দেখিয়ে কি মমতার গতিরোধ করা যাবে?
শুভা দত্ত

২০১৯ যুদ্ধের দামামা বেশ ভালোমতোই বেজে উঠেছে। বোঝাই যাচ্ছে লোকসভা ভোট আর দূরে নেই। মাঝে বড়জোর মাস দুই-আড়াই। তারপরই এসে পড়বে সেই বহু প্রতীক্ষিত মহাসংগ্রামের দিন। দেশের শাসনক্ষমতার মসনদ দখলের যুদ্ধে মুখোমুখি হবে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের রথী-মহারথীবৃন্দ।
বিশদ

10th  February, 2019
হৃদয় গিয়েছে চুরি
অতনু বিশ্বাস

আচ্ছা, হৃদয়টাকে (হৃদপিণ্ড মানে হৃদয় ধরে নিয়ে) সত্যি সত্যিই কি কোথাও ফেলে আসা যায় না? যদি সত্যিই না যায়, কুমিরটা সেটা বিশ্বাস করল কী করে? উপকথার কুমিররা হয়তো বোকা হয়, তবে তার তথাকথিত বোকামিকে অনেক ক্ষেত্রেই আমার নেহাতই সরলতা বলে মনে হয়েছে।
বিশদ

09th  February, 2019
ন্যানো, একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যু
মৃণালকান্তি দাস

ভক্সওয়াগেন বিটল। যে বছর ভারতে ন্যানোর আবির্ভাব, তার ঠিক ৭০ বছর আগে বাজারে এসেছিল এই ‘পিপলস কার’। গোটা জার্মানি জুড়ে শুধু রোড নেটওয়ার্ক বাড়ানোই নয়, দেশের মানুষকে সস্তায় গাড়ি চড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। কে না জানে, ভক্সওয়াগেন মানেই তো ‘জনতার গাড়ি’।
বিশদ

08th  February, 2019
সিবিআই নাটকে শেষপর্যন্ত
মমতাই কি লাভবান হলেন না?
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 নাটক? হ্যাঁ, নাটক। নাটক ছাড়া কী! বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ করে রবিবারের শেষ বিকেলে কোত্থেকে চল্লিশ সিবিআই চলে এলেন, সন্ধের মুখে তাঁদের কজন জিজ্ঞাসাবাদের অছিলায় হানা দিলেন লাউডন স্ট্রিটে খোদ পুলিস কমিশনারের দরজায়, ঢোকার মুখেই কর্তব্যরত পুলিসের সঙ্গে বাধল সংঘাত, ছড়াল উত্তেজনা, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কলকাতা পুলিসের বড়কর্তারা হাজির, তর্ক-বিতর্ক ধস্তাধস্তি এবং শেষমেশ পুলিসের গাড়িবন্দি হয়ে দলের নেতা ডিএসপি সিবিআই ও আরও কয়েকজন শেক্সপিয়র সরণি থানায়!
বিশদ

07th  February, 2019
উন্নয়নের সঙ্গে যথেষ্ট আর্থিকশৃঙ্খলা অর্জিত হয়েছে
দেবনারায়ণ সরকার

সোমবার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের অনুমিত বাজেটের তুলনায় এটা ২১ শতাংশেরও বেশি। রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। 
বিশদ

05th  February, 2019
গাদকারি মাহাত্ম্য
পি চিদম্বরম

নীতিন গাদকারি একজন অন‌্যধরনের রাজনীতিক। তাঁর নিজের স্বীকার অনুযায়ী, তিনি একজন ভোজনরসিক, তিনি হাল ফ‌্যাশনের পোশাক পরেন এবং দেখে মনে হয় জীবনটাকে উপভোগও করেন। তিনি পাবলিক ফাংশনে ভাষণ দিতে পছন্দ করেন এবং এমনভাবে কথা বলেন যেন দুনিয়ার কে কী ভাবল তাতে তাঁর যায় আসে না।
বিশদ

04th  February, 2019
বাজেটে ভুলিয়ে দেশের মানুষের মন জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

শুক্রবার সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব পেশ হল হিসেব মতো সেটা দেশের চলতি সরকারের শেষ বাজেট—অন্তর্বর্তী বাজেট। কিন্তু, বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত পীযূষ গোয়েলের বক্তৃতা বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আচার-আচরণ দেখে মনে হল অন্তর্বর্তী নয়, আসন্ন অর্থবর্ষের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাজেটই পেশ করল বিদায়ী সরকার! শুধু তাই নয়, গোটা বাজেট প্রস্তাব জুড়ে মধ্যবিত্ত থেকে কৃষক শ্রমিক প্রান্তিক মানুষজনের জন্য ‘ছাড়’ আর অর্থবরাদ্দের যে হিড়িক দেখা গেল—এককথায় তা নজিরবিহীন।
বিশদ

03rd  February, 2019
উন্নয়নের সঙ্গে আপস করে
জনমোহিনী বাজেট

দেবনারায়ণ সরকার

 শুক্রবার লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মোদি সরকারের ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন। কার্যত এটাকে পূর্ণাঙ্গ বাজেটই বলা চলে। বিশদ

02nd  February, 2019
একনজরে
মুম্বই, ১৪ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): ৮৬ তম জন্মদিনে প্রয়াত অভিনেত্রী মধুবালাকে শ্রদ্ধা জানাল গুগল। সার্চ ইঞ্জিনে ব্যবহার হল বেঙ্গালুরুর শিল্পী মহম্মদ সাজিদের তৈরি ডুডল। ১৯৩৩ সালে ...

  বিএনএ, আরামবাগ: পুরশুড়ার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে জাতীয় ক্রীড়া ময়দান কাঁপাল দুই বোন। ঘরের মেয়েরা গুজরাত ও হরিয়ানায় জাতীয় স্তরের আসরে সফল হওয়ায় গর্বে বুক ফুলেছে বাবা, মা সহ এলাকাবাসীর। এতদিন স্কুল থেকে জেলা, রাজ্যস্তরের পর্যায়ে তারা একই সঙ্গে খেলে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাণ্ডার দেউচা-পাচামি থেকে কয়লা তুলবে পোল্যান্ডের সংস্থা। এই বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে চুক্তি করতে রাজ্য সরকার অনেকটাই এগিয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরপর দু’দিন মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতেই হোয়াটসঅ্যাপে বেরিয়ে গেল প্রশ্নপত্র। তারপর ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও তথ্যপ্রমাণ হাতড়ে বেড়াচ্ছে পুলিস। শোনা গিয়েছে, ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গুরুজনের চিকিৎসায় বহু ব্যয়। ক্রোধ দমন করা উচিত। নানাভাবে অর্থ পাওয়ার সুযোগ। সহকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ায় ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৬৪: জ্যোতির্বিদ গ্যালিলিও গ্যালিলির জন্ম
১৮৬৯: মির্জা গালিবের মৃত্যু
১৮৯৮: কিউবা উপকূলে মার্কিন রণতরী ডুবে গিয়ে মৃত ২৭৪। স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল আমেরিকা
১৯২১: ঐতিহাসিক রাধাকৃষ্ণ চৌধুরির জন্ম
১৯৩৩: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা। নিহত শিকাগোর মেয়র
১৯৪২: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সিঙ্গাপুরের পতন। জাপানের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ব্রিটিশ জেনারেল।
১৯৪৭: রণধীর কাপুরের জন্ম
১৯৫৬: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ডেসমন্ড হেইনসের জন্ম
১৯৬৪: আশুতোষ গোয়ারিকরের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৮০ টাকা ৭১.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৩৪ টাকা ৯২.৫৮ টাকা
ইউরো ৭৮.৫৩ টাকা ৮১.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  February, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার, দশমী ১৭/৪৫ দিবা ১/১৯। মৃগশিরা ৩৬/৩৯ রাত্রি ৮/৫২। সূ উ ৬/১২/৪৫, অ ৫/২৯/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ৮/২৮ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৭ গতে অস্তাবধি। বারবেলা ৯/১১ গতে ১১/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৩৯ গতে ১০/১৫ মধ্যে।
২ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার, দশমী ৮/২২/২০। মৃগশিরানক্ষত্র অপঃ ৪/৪৪/৫, সূ উ ৬/১৪/১৩, অ ৫/২৭/১১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৩/৫৭ মধ্যে ও ৮/২৮/৪৯ থেকে ১০/৪৩/২৪ মধ্যে ও ১২/৫৮/০ থেকে ২/২৭/৪৪ মধ্যে ও ৩/৫৭/২৭ থেকে ৫/২৭/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৯/২৭ থেকে ৮/৫১/৪৪ মধ্যে ও ৩/৪০/৪৯ থেকে ৪/৩১/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৯/২/২৮ থেকে ১০/২৬/৩৫ মধ্যে, কালবেলা ১০/২৬/৩৫ থেকে ১১/৫০/৪২ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৩৮/৫৭ থেকে ১০/১৪/৪৯ মধ্যে।
৯ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গোপীবল্লভপুরে নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল এক কিশোর 

06:37:00 PM

ভুয়ো কোম্পানি খুলে রাজ্যজুড়ে প্রতারণার জাল, ধৃত ৭
গৃহঋণ থেকে চাকরির টোপ দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে প্রচুর মানুষকে ...বিশদ

04:12:00 PM

৬৭ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:11:35 PM

পুলওয়ামায় হামলা: নদীয়া, হাওড়ার শহিদ জওয়ানদের বাড়িতে আসছেন দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী 

04:03:51 PM

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জেরে উত্তপ্ত জম্মু, পুড়ল ১৫টি গাড়ি 

03:08:00 PM

মাঝেরহাটে সিইএসই অফিসে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৩টি ইঞ্জিন 

03:03:00 PM