Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

উইঙ্কল টুইঙ্কল: ২০৩৮ কি এক মূর্তিস্থানের গল্প?
অতনু বিশ্বাস

পরের পুজোয় গুজরাত বেড়াতে যাবেন অমলকান্তি। ঠিক করে ফেলেছেন এখনই। আমেদাবাদ, গির, দ্বারকা, ঢোলাবিরা, ইত্যাদি। আর সেইসঙ্গে অবশ্যই যেতে হবে বরোদার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, নর্মদা বাঁধ থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে, ‘সাধু বেত’ নামে নদীর দ্বীপে। যেখানে রয়েছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সুবিশাল মূর্তিখানা।
মূর্তিটার উদ্বোধন নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল আসমুদ্র ভারত। এমনটা নয় যে এর আগে কোনও মূর্তির প্রতিষ্ঠা দেখেনি এ দেশ। আরাধ্য দেব-দেবীর মূর্তিই শুধু নয়, ইতিহাসের পাতার মহান চরিত্র থেকে সমকালীন রাজনীতিবিদ—সকলের মূর্তিই দেখতে অভ্যস্ত আমরা। এমনকী নিজের মূর্তি স্থাপন করেছেন নিজে—এমন ঘটনারও সাক্ষী আমরা। তবে এ মূর্তিখানা বোধকরি খানিকটা আলাদা রকমের। খরচে, আভিজাত্যে, প্রভাবে, এবং উচ্চতায়। হ্যাঁ, উচ্চতায় পৃথিবীর সব চাইতে বড় মূর্তি বলে কথা—৫৯৭ ফুট বা ১৮২ মিটার। সাত কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাবে এই বিশাল মূর্তিকে।
মূর্তিটা নিয়ে কিন্তু বিস্তর বিতর্ক। নিয়মিত খবরের কাগজ পড়েন অমলকান্তি। টিভিতে নিউজ চ্যানেলগুলিতে সময় কাটান অনেকটা করে। তাই বিতর্কের রকম-সকম তাঁর মোটামুটি জানা। পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ইত্যাদি হাজারো প্রশ্ন থাকবেই এ জাতীয় কাজেকর্মে। তা নিয়ে চাপান-উতোর চলবে। পরিবেশবিদ, আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। বাড়বে চ্যানেলের টিআরপি।
এবং সেই সঙ্গে মূর্তিটা কার, গুরুত্বপূর্ণ সেটাও। কোনও একজন দলীয় রাজনীতিকের, নাকি রাজনীতিক থেকে দেশের নেতায় উত্তীর্ণ হওয়া কোনও এক লৌহমানবের? দেশের একজন কিংবদন্তি নেতা কি আটকে থাকতে পারেন কোনও রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তির চৌহদ্দির মধ্যে? নাকি এক রাজনৈতিক দলের ঝোলা থেকে তাঁর লেগ্যাসিকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল? এনিয়ে অমলকান্তির চিন্তাধারার সাথে আর পাঁচজনের ভাবনা-চিন্তা মিলবে না সব সময়। সেটাই নিয়ম। গণতন্ত্রের। সমাজের। আচ্ছা, ভোটের শতাংশের সঙ্গে কি কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে মূর্তি প্রতিষ্ঠার? আসলে নির্বাচন আর ভোটের শতাংশের জটিল অঙ্ক আমাদের সমাজ জীবনের সব কিছুতেই থাবা বসিয়ে চলেছে এক অনাবিল আয়েসে। ভোট একটা জটিল রসায়ন। তাতে কোন বিষয়ের যে কতটা প্রভাব রয়েছে, তার সঠিক পরিমাপ করাও হয়তো অসম্ভব।
স্ট্যাচুটা গড়তে নাকি খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা। ভারতের মত দেশে টাকাটা বেশ বড় নিঃসন্দেহে। এই টাকায় স্ট্যাচু না গড়ে কত কী করা যেত, তার লম্বা ফর্দ দেখেছে অমলকান্তি।
কিন্তু খরচ হওয়া টাকাটা যে পুরোটাই অপচয়, তেমনটাও হয়তো নয়। এই টাকা বহু লোকের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে নিশ্চয়। এছাড়া স্ট্যাচু তো আর কেবলমাত্র স্ট্যাচু হয়েই থাকে না। তার মাঝেই রয়েছে বাগান, মিউজিয়াম, এবং ভিউইং গ্যালারি। দর্শনার্থীদের গ্যালারিতে তুলে দেবে লিফট। স্ট্যাচুর সঙ্গে ক্রমে গড়ে উঠবে হোটেল, রেস্তরাঁ, পরিবহণ ব্যবস্থা। বিনোদনের হাজার মশলা মিলে গড়ে ওঠে একটা পর্যটনের জায়গা। রোজ নাকি ভিড় জমাবে হাজার পনেরো লোক, অন্তত তেমনটাই আশা করছে গুজরাত সরকার। কী জানি, এর বাণিজ্যিক মূল্য হয়তো ওই টাকার অঙ্কটাকে ছাপিয়ে যাবে অদূর ভবিষ্যতেই।
৯৩ মিটার উঁচু নিউ ইয়র্কের ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ তো কেবলমাত্র আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রতীকই নয়, এতে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে পর্যটনের মূল্যবান রসদ। রিও ডি জেনিরো-তে পাহাড়ের উপরে দু’হাত ছড়ানো যিশুর মূর্তি ‘খ্রাইস্ট দ্য রিডিমার’ দেখতে জড়ো হয় দেশ-বিদেশের মানুষ। এর উচ্চতা অবশ্য ৩০ মিটার, যদিও এটা স্থাপিত রয়েছে ৭০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপরে। আর এর ট্যুরিজমেও সঞ্চারিত হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুরে মারলায়নের স্ট্যাচু দেখতে জড়ো হয় দুনিয়ার মানুষ। এ এক ফ্যান্টাসির প্রাণী। উপরের অর্ধেকটা সিংহের মত, আর নীচের অংশটা মাছের। ‘মারলায়ন’ যেন পরিণত হয়েছে সে দেশের ম্যাসকটে, অন্তত বেসরকারিভাবে। স্যান্টোসা দ্বীপে মারলায়নের যে স্ট্যাচুটা রয়েছে সেটার উচ্চতা ৩৭ মিটার। সেই সঙ্গে রয়েছে মজা আর বিনোদনের সহস্র উপকরণ। ওদিকে হংকং-এর ল্যানটাও দ্বীপে রয়েছে ১১২ ফুট উঁচু বুদ্ধের স্ট্যাচু। ট্যুরিস্টের আর এক আকর্ষণের জায়গা। ‘টিয়ান ট্যান বুদ্ধ’ নামে পরিচিত এই মূর্তি। ‘বিগ বুদ্ধ’ও বলা হয় এই স্ট্যাচুকে।
আর মূর্তিই বা শুধু কেন, লম্বা উঁচু টাওয়ার বানিয়েও পৃথিবীর এখানে ওখানে ট্যুরিস্টদের পকেট কেটে রোজগার হচ্ছে বেশ। মোটা টাকার টিকিট কেটে ঘেমে-নেয়ে লাইন দিয়ে লিফটে চেপে হুশ করে উঠে যাওয়া বেশ খানিক উঁচুতে। সেখান থেকে চারদিকের কয়েক মাইল পর্যন্ত শহর আর শহরতলিকে দেখা, মেঘ-ছোঁয়া রেস্তরাঁয় বসে দামি খাবার আর পানীয়, ব্যস। এমনটাই হয়ে চলেছে টরেন্টোর ক্যানাডিয়ান ন্যাশনাল টাওয়ার, কিংবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের ক্ষেত্রে।
অমলকান্তি ভেবে দেখেন যে, তিনি নিজেই তো ট্যুরিস্ট হিসেবে ছুটেছেন এই স্ট্যাচু এবং টাওয়ারগুলির কোনও কোনওটা দেখতে। এমনই যায় অসংখ্য ট্যুরিস্ট, এ গ্রহের বিভিন্ন কোনা থেকে। খরচ করে আসে ডলার। গুজরাতের স্ট্যাচুতে যেটা অমলকান্তির কাছে সব চাইতে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে, সেটা হল এই দীর্ঘতম স্ট্যাচুতে নিহিত রয়েছে এক অমিত সম্ভাবনার বীজ। ভারতের মতো গঠনতন্ত্রের দেশে অচিরেই কিন্তু গড়ে উঠতে পারে প্রচুর সংখ্যক এমনই দীর্ঘ স্ট্যাচু। হতে পারে গুজরাতের স্ট্যাচু থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে, হতে পারে এর সঙ্গে পাল্লা দিতে, কিংবা ছাপিয়ে যেতে। দেশের এ প্রান্তে, সে প্রান্তে। দেশনায়কদের, এমনকী দেশনায়ক হয়ে উঠতে না-পারা রাজনীতিবিদদের, দেব-দেবীর, ধর্ম-প্রচারকদের। সেই সঙ্গে জন্তু-জানোয়ারদের (যেমন ধরা যাক, রানা প্রতাপের ঘোড়া) স্ট্যাচু তৈরি করলেই বা আটকাচ্ছে কে? কোনও না কোনও সম্প্রদায়ের কাছে সব কিছুরই একটা আবেগ রয়েছে বইকি। আবার সিঙ্গাপুরের মারলায়নের মত অলীক প্রাণীর স্ট্যাচুর বাণিজ্যিক মূল্য কিঞ্চিৎ বেশি হতে বাধ্য। অন্তত বিদেশি ট্যুরিস্ট আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে তো বটেই। আমাদের মহাকাব্য, রূপকথা, উপকথা খুঁজে তেমন বেশ কিছু নিশ্চয়ই বের করা সম্ভব হবে।
তাই এই ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ই হয়তো শুরু করে দিতে পারে এক স্ট্যাচু-বিপ্লব। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার নাকি অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে গড়ে তুলবে উচ্চতর এক স্ট্যাচু—শ্রীরামচন্দ্রের। ২২১ মিটার লম্বা। সে রাজ্যের ট্যুরিজমের প্রকল্প হিসেবে। অমলকান্তির দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতবর্ষের অর্থনীতি এতটাই মজবুত যে এই টাকার অঙ্কগুলি সে তুলনায় যৎসামান্য। ওদিকে ওড়িশার জাজপুর এলাকায় তৈরি হচ্ছে ১০৮ মিটার উঁচু ভগবান বুদ্ধের মূর্তি। এদেশের সব চাইতে উঁচু বুদ্ধমূর্তি হতে চলেছে এটি। ওদিকে কর্ণাটক সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা গড়ে তুলতে চায় মা কাবেরীর ১২৫ ফুট মূর্তি। ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে। বেঙ্গালুরুর ৯০ কিলোমিটার দূরে, মান্ড্য জেলার কৃষ্ণরাজাসাগর জলাধারের কাছে। কাবেরী নদী দক্ষিণের তিনটি রাজ্যের প্রাণস্পন্দন।
লক্ষণীয় যে, ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজ্যে মস্ত বড় মূর্তি গড়ার একটা উৎসাহ জেগেছে। রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা আর কর্ণাটকের শাসন-ক্ষমতায় তো ভিন্ন ভিন্ন ভাবধারার রাজনৈতিক দল! ওদিকে মুম্বইয়ের গিরগাম চৌপাট্টি বিচ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের জলে মানুষের তৈরি পাথরের এক দ্বীপে নির্মীয়মান ‘‘শিবাজি স্মার’’ বা ‘ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মেমোরিয়াল’– ঘোড়ার পিঠে, তরবারি হাতে শিবাজি মহারাজ। তৈরি শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালে। প্রথমে ঠিক ছিল এর উচ্চতা হবে ১৯২ মিটার। কিন্তু চীনের হেনান প্রদেশে নাকি তৈরি হচ্ছে ২০৮ মিটার উঁচু বুদ্ধ স্ট্যাচু। তাকে ছাপিয়ে যাবার জন্যে এর পুনর্নিদ্ধারিত উচ্চতা স্থির হয়েছে ২১০ মিটার। খরচের হিসেব ধরা হয়েছে ২৮০০ কোটি টাকা।
অচিরেই তাই দেশের দিকে দিকে উঁচু উঁচু মূর্তি তৈরির ঢেউ জেগে উঠতে পারে। আজ এখানে, কাল সেখানে। এবং শুরু হয়ে যেতে পারে উচ্চতা নিয়ে প্রতিযোগিতা। রাজ্যগুলি নেমে পড়তে পারে চাঁদ-তারাকে ছোঁওয়ার এই দৌড়ে।
অমলকান্তির মনে উদয় হয় বিচিত্র চিন্তার। ধরা যাক, রিপ ভ্যান উইঙ্কলের মত অমলকান্তিও হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়ল আজ। কুড়ি বছর কেটে গেল এক চুটকিতে। বছর কুড়ি পরে, ২০৩৮-এর ভারতবর্ষে এমন পেল্লাই মাপের মূর্তিই হয়তো থাকবে পঞ্চাশ কিংবা একশোটা বা হয়তো আরও বেশি। রাজ্যে রাজ্যে তাদের নিজেদের মত করে। কোথাও কোথাও আবার বিশেষ কোনও মূর্তি গড়া নিয়ে কিছু চাপান-উতোর আর আইনি টানা-পোড়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেমন লেনিনের মূর্তি কেউ গড়তে চাইবে, আর কেউ চাইবে ভাঙতে—এটা তো পৃথিবীব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস। কর্ণাটকে টিপু সুলতানের মূর্তি হবে কি না, সেটা বেশ চটকদার বিতর্কের বিষয় হতে পারে। আমাদের রাজ্যেও বেশ কিছু মূর্তি গড়ে তোলা যাবে সহজেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবশ্য বিতর্কের অবকাশ থাকবেই। তবে বিতর্কহীন সর্বসম্মত মূর্তির রসদও রয়েছে অনেক। ধরা যাক, বীরভূমের কোনও ধু ধু মাঠের মধ্যে তৈরি হবে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি। রবীন্দ্রর সেই বিশাল মূর্তিটা দেখতে যত ট্যুরিস্ট দৌড়াবে দেশ-বিদেশ থেকে, তার সিকিভাগও হয়তো সেদিন পৌঁছবে না শান্তিনিকেতনে তাঁর কর্মকাণ্ডের স্থানে। মূর্তিটার উচ্চতা কত হবে, সেটা নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিরাই স্থির করবেন—তবে কোনও উচ্চতাই যে প্রকৃত রবীন্দ্র-মাহাত্ম্যের ধারেকাছে পৌঁছবে না, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। সুভাষচন্দ্র বসুর স্ট্যাচুটার নির্মাণ নিয়েও বঙ্গবাসীর মধ্যে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। যদিও তাঁর জন্মস্থানের সূত্র ধরে (রসগোল্লার মতো) এ বিষয়েও ওড়িশা তাদের দাবি জানাবে কি না বলা কঠিন।
২০৩৮। এমনই বহু টানা-পোড়েনের সুতোয় বাঁধা পড়ে গত বিশ বছরে গড়ে উঠেছে উঁচু উঁচু স্ট্যাচু। উঁচু, আরও উঁচু। শ্রদ্ধা জানানো গিয়েছে অনেক মহাপুরুষ আর দেশনায়কদের। আর এর ফলশ্রুতিতে ২০৩৮ নাগাদ ভারতকে দুনিয়ার লোক মোটামুটি ‘মূর্তিস্থান’ বলেই জানতে পারে। উঁচু উঁচু মূর্তি দেখবার জন্যে চালু হয়েছে মূর্তি-ট্যুরিজম। মূর্তি-রুট। দেশের অর্থনীতির অনেকটা দাঁড়িয়ে রয়েছে এর উপরে। মূর্তিগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছোটখাট শহর, হোটেল, পরিষেবা। বহু লোকের কর্মসংস্থান। স্বাভাবিকভাবেই এত মূর্তি তৈরির কলাকুশলীদের প্রশিক্ষণের জন্যে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চালু হয়েছে মূর্তি তৈরির পাঠক্রম। উইঙ্কল টুইঙ্কল-এর কল্পিত স্বপ্নের জগতে খানিকটা ভেসে নেন আমাদের অমলকান্তি। ২০৩৮-এ সক্ষম শরীরে বেঁচে থাকলে না-হয় মূর্তি-রুট ধরে মূর্তি-ট্যুরিজমে একবার ভারত-ভ্রমণ করা যাবে।
আপাতত স্বপ্নের ঘোর ভেঙে অমলকান্তি ফিরে আসেন ২০১৮-র শেষ লগ্নে। নির্বাচনের দামামার মাঝে দেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে।
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
01st  December, 2018
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার থেকেই শুরু হয়ে গেল সরকারি স্কুলগুলির একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া হচ্ছে। অনলাইনে একটি বা একাধিক ফর্ম ডাউনলোড করে বা তার কপি করে তা পূরণ করে জমা দেওয়া যাচ্ছে। ফর্ম জমা দেওয়া যাবে ...

সংবাদদাতা, হরিপাল: হরিপালের নালিকুল পূর্ব পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব গোপীনাথপুর ও সিঙ্গুর ব্লকের মধ্য হিজলার উপর প্রায় ২ কোটি টাকা খরচে কানা নদীর উপর তৈরি হচ্ছে ...

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের নারায়ণগড়ে বামের ভোট রামে চলে যাওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই বিধানসভা ভোটের লিড ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের নেতারা।   ...

সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: দিনমজুরের মেয়ে রেশমী রায় এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র মনের ইচ্ছা এবং একাগ্রতা থাকলে যে বাধা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বিরূপ হলেও খুব একটা চিন্তার কারণ হবে না। ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৮৮ টাকা ৭০.৫৭ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৫ টাকা ৭৯.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৩৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/২৩ রাত্রি ৪/১৯। পূর্বাষাঢ়া ০/৩৯ প্রাতঃ ৫/১৩। সূ উ ৪/৫৭/৩৪, অ ৬/৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/১/৪১ শেষরাত্রি ৪/৯/৩৩। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ২/০/১৯ প্রাতঃ ৫/৪৫/১, সূ উ ৪/৫৬/৫৩, অ ৬/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৭ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৪/৩১/৫৯ গতে ৬/১১/১৭ মধ্যে, কালবেলা ২/৫২/৪১ গতে ৪/৩১/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৪/৫ গতে ১২/৫৪/৪৭ মধ্যে। 
১৭ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য 

22-05-2019 - 04:21:49 PM

১৪০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

22-05-2019 - 03:52:18 PM

ধূপগুড়ির বিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে 

22-05-2019 - 03:03:00 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে আইইডি বিস্ফোরণ, শহিদ ১ জওয়ান, জখম ৭ 

22-05-2019 - 01:31:14 PM

২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ বিশ্বভারতীর উপাচার্য এবং অধ্যাপকরা 
ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে জেরে ২১ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ...বিশদ

22-05-2019 - 01:27:28 PM

বর্ধমানের শাঁখারিপুকুর এলাকায় গাড়ি-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষ, মৃত ২ 

22-05-2019 - 01:23:08 PM