বিশেষ নিবন্ধ
 

উইঙ্কল টুইঙ্কল: ২০৩৮ কি এক মূর্তিস্থানের গল্প?
অতনু বিশ্বাস

পরের পুজোয় গুজরাত বেড়াতে যাবেন অমলকান্তি। ঠিক করে ফেলেছেন এখনই। আমেদাবাদ, গির, দ্বারকা, ঢোলাবিরা, ইত্যাদি। আর সেইসঙ্গে অবশ্যই যেতে হবে বরোদার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, নর্মদা বাঁধ থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে, ‘সাধু বেত’ নামে নদীর দ্বীপে। যেখানে রয়েছে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সুবিশাল মূর্তিখানা।
মূর্তিটার উদ্বোধন নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল আসমুদ্র ভারত। এমনটা নয় যে এর আগে কোনও মূর্তির প্রতিষ্ঠা দেখেনি এ দেশ। আরাধ্য দেব-দেবীর মূর্তিই শুধু নয়, ইতিহাসের পাতার মহান চরিত্র থেকে সমকালীন রাজনীতিবিদ—সকলের মূর্তিই দেখতে অভ্যস্ত আমরা। এমনকী নিজের মূর্তি স্থাপন করেছেন নিজে—এমন ঘটনারও সাক্ষী আমরা। তবে এ মূর্তিখানা বোধকরি খানিকটা আলাদা রকমের। খরচে, আভিজাত্যে, প্রভাবে, এবং উচ্চতায়। হ্যাঁ, উচ্চতায় পৃথিবীর সব চাইতে বড় মূর্তি বলে কথা—৫৯৭ ফুট বা ১৮২ মিটার। সাত কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাবে এই বিশাল মূর্তিকে।
মূর্তিটা নিয়ে কিন্তু বিস্তর বিতর্ক। নিয়মিত খবরের কাগজ পড়েন অমলকান্তি। টিভিতে নিউজ চ্যানেলগুলিতে সময় কাটান অনেকটা করে। তাই বিতর্কের রকম-সকম তাঁর মোটামুটি জানা। পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ইত্যাদি হাজারো প্রশ্ন থাকবেই এ জাতীয় কাজেকর্মে। তা নিয়ে চাপান-উতোর চলবে। পরিবেশবিদ, আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। বাড়বে চ্যানেলের টিআরপি।
এবং সেই সঙ্গে মূর্তিটা কার, গুরুত্বপূর্ণ সেটাও। কোনও একজন দলীয় রাজনীতিকের, নাকি রাজনীতিক থেকে দেশের নেতায় উত্তীর্ণ হওয়া কোনও এক লৌহমানবের? দেশের একজন কিংবদন্তি নেতা কি আটকে থাকতে পারেন কোনও রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তির চৌহদ্দির মধ্যে? নাকি এক রাজনৈতিক দলের ঝোলা থেকে তাঁর লেগ্যাসিকে ছিনতাই করে নিয়ে যেতে পারে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল? এনিয়ে অমলকান্তির চিন্তাধারার সাথে আর পাঁচজনের ভাবনা-চিন্তা মিলবে না সব সময়। সেটাই নিয়ম। গণতন্ত্রের। সমাজের। আচ্ছা, ভোটের শতাংশের সঙ্গে কি কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে মূর্তি প্রতিষ্ঠার? আসলে নির্বাচন আর ভোটের শতাংশের জটিল অঙ্ক আমাদের সমাজ জীবনের সব কিছুতেই থাবা বসিয়ে চলেছে এক অনাবিল আয়েসে। ভোট একটা জটিল রসায়ন। তাতে কোন বিষয়ের যে কতটা প্রভাব রয়েছে, তার সঠিক পরিমাপ করাও হয়তো অসম্ভব।
স্ট্যাচুটা গড়তে নাকি খরচ হয়েছে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা। ভারতের মত দেশে টাকাটা বেশ বড় নিঃসন্দেহে। এই টাকায় স্ট্যাচু না গড়ে কত কী করা যেত, তার লম্বা ফর্দ দেখেছে অমলকান্তি।
কিন্তু খরচ হওয়া টাকাটা যে পুরোটাই অপচয়, তেমনটাও হয়তো নয়। এই টাকা বহু লোকের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে নিশ্চয়। এছাড়া স্ট্যাচু তো আর কেবলমাত্র স্ট্যাচু হয়েই থাকে না। তার মাঝেই রয়েছে বাগান, মিউজিয়াম, এবং ভিউইং গ্যালারি। দর্শনার্থীদের গ্যালারিতে তুলে দেবে লিফট। স্ট্যাচুর সঙ্গে ক্রমে গড়ে উঠবে হোটেল, রেস্তরাঁ, পরিবহণ ব্যবস্থা। বিনোদনের হাজার মশলা মিলে গড়ে ওঠে একটা পর্যটনের জায়গা। রোজ নাকি ভিড় জমাবে হাজার পনেরো লোক, অন্তত তেমনটাই আশা করছে গুজরাত সরকার। কী জানি, এর বাণিজ্যিক মূল্য হয়তো ওই টাকার অঙ্কটাকে ছাপিয়ে যাবে অদূর ভবিষ্যতেই।
৯৩ মিটার উঁচু নিউ ইয়র্কের ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ তো কেবলমাত্র আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় প্রতীকই নয়, এতে সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে পর্যটনের মূল্যবান রসদ। রিও ডি জেনিরো-তে পাহাড়ের উপরে দু’হাত ছড়ানো যিশুর মূর্তি ‘খ্রাইস্ট দ্য রিডিমার’ দেখতে জড়ো হয় দেশ-বিদেশের মানুষ। এর উচ্চতা অবশ্য ৩০ মিটার, যদিও এটা স্থাপিত রয়েছে ৭০০ মিটার উঁচু পাহাড়ের উপরে। আর এর ট্যুরিজমেও সঞ্চারিত হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুরে মারলায়নের স্ট্যাচু দেখতে জড়ো হয় দুনিয়ার মানুষ। এ এক ফ্যান্টাসির প্রাণী। উপরের অর্ধেকটা সিংহের মত, আর নীচের অংশটা মাছের। ‘মারলায়ন’ যেন পরিণত হয়েছে সে দেশের ম্যাসকটে, অন্তত বেসরকারিভাবে। স্যান্টোসা দ্বীপে মারলায়নের যে স্ট্যাচুটা রয়েছে সেটার উচ্চতা ৩৭ মিটার। সেই সঙ্গে রয়েছে মজা আর বিনোদনের সহস্র উপকরণ। ওদিকে হংকং-এর ল্যানটাও দ্বীপে রয়েছে ১১২ ফুট উঁচু বুদ্ধের স্ট্যাচু। ট্যুরিস্টের আর এক আকর্ষণের জায়গা। ‘টিয়ান ট্যান বুদ্ধ’ নামে পরিচিত এই মূর্তি। ‘বিগ বুদ্ধ’ও বলা হয় এই স্ট্যাচুকে।
আর মূর্তিই বা শুধু কেন, লম্বা উঁচু টাওয়ার বানিয়েও পৃথিবীর এখানে ওখানে ট্যুরিস্টদের পকেট কেটে রোজগার হচ্ছে বেশ। মোটা টাকার টিকিট কেটে ঘেমে-নেয়ে লাইন দিয়ে লিফটে চেপে হুশ করে উঠে যাওয়া বেশ খানিক উঁচুতে। সেখান থেকে চারদিকের কয়েক মাইল পর্যন্ত শহর আর শহরতলিকে দেখা, মেঘ-ছোঁয়া রেস্তরাঁয় বসে দামি খাবার আর পানীয়, ব্যস। এমনটাই হয়ে চলেছে টরেন্টোর ক্যানাডিয়ান ন্যাশনাল টাওয়ার, কিংবা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের ক্ষেত্রে।
অমলকান্তি ভেবে দেখেন যে, তিনি নিজেই তো ট্যুরিস্ট হিসেবে ছুটেছেন এই স্ট্যাচু এবং টাওয়ারগুলির কোনও কোনওটা দেখতে। এমনই যায় অসংখ্য ট্যুরিস্ট, এ গ্রহের বিভিন্ন কোনা থেকে। খরচ করে আসে ডলার। গুজরাতের স্ট্যাচুতে যেটা অমলকান্তির কাছে সব চাইতে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে, সেটা হল এই দীর্ঘতম স্ট্যাচুতে নিহিত রয়েছে এক অমিত সম্ভাবনার বীজ। ভারতের মতো গঠনতন্ত্রের দেশে অচিরেই কিন্তু গড়ে উঠতে পারে প্রচুর সংখ্যক এমনই দীর্ঘ স্ট্যাচু। হতে পারে গুজরাতের স্ট্যাচু থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজে, হতে পারে এর সঙ্গে পাল্লা দিতে, কিংবা ছাপিয়ে যেতে। দেশের এ প্রান্তে, সে প্রান্তে। দেশনায়কদের, এমনকী দেশনায়ক হয়ে উঠতে না-পারা রাজনীতিবিদদের, দেব-দেবীর, ধর্ম-প্রচারকদের। সেই সঙ্গে জন্তু-জানোয়ারদের (যেমন ধরা যাক, রানা প্রতাপের ঘোড়া) স্ট্যাচু তৈরি করলেই বা আটকাচ্ছে কে? কোনও না কোনও সম্প্রদায়ের কাছে সব কিছুরই একটা আবেগ রয়েছে বইকি। আবার সিঙ্গাপুরের মারলায়নের মত অলীক প্রাণীর স্ট্যাচুর বাণিজ্যিক মূল্য কিঞ্চিৎ বেশি হতে বাধ্য। অন্তত বিদেশি ট্যুরিস্ট আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে তো বটেই। আমাদের মহাকাব্য, রূপকথা, উপকথা খুঁজে তেমন বেশ কিছু নিশ্চয়ই বের করা সম্ভব হবে।
তাই এই ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ই হয়তো শুরু করে দিতে পারে এক স্ট্যাচু-বিপ্লব। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার নাকি অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে গড়ে তুলবে উচ্চতর এক স্ট্যাচু—শ্রীরামচন্দ্রের। ২২১ মিটার লম্বা। সে রাজ্যের ট্যুরিজমের প্রকল্প হিসেবে। অমলকান্তির দৃঢ় বিশ্বাস, ভারতবর্ষের অর্থনীতি এতটাই মজবুত যে এই টাকার অঙ্কগুলি সে তুলনায় যৎসামান্য। ওদিকে ওড়িশার জাজপুর এলাকায় তৈরি হচ্ছে ১০৮ মিটার উঁচু ভগবান বুদ্ধের মূর্তি। এদেশের সব চাইতে উঁচু বুদ্ধমূর্তি হতে চলেছে এটি। ওদিকে কর্ণাটক সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা গড়ে তুলতে চায় মা কাবেরীর ১২৫ ফুট মূর্তি। ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে। বেঙ্গালুরুর ৯০ কিলোমিটার দূরে, মান্ড্য জেলার কৃষ্ণরাজাসাগর জলাধারের কাছে। কাবেরী নদী দক্ষিণের তিনটি রাজ্যের প্রাণস্পন্দন।
লক্ষণীয় যে, ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজ্যে মস্ত বড় মূর্তি গড়ার একটা উৎসাহ জেগেছে। রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা আর কর্ণাটকের শাসন-ক্ষমতায় তো ভিন্ন ভিন্ন ভাবধারার রাজনৈতিক দল! ওদিকে মুম্বইয়ের গিরগাম চৌপাট্টি বিচ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের জলে মানুষের তৈরি পাথরের এক দ্বীপে নির্মীয়মান ‘‘শিবাজি স্মার’’ বা ‘ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ মেমোরিয়াল’– ঘোড়ার পিঠে, তরবারি হাতে শিবাজি মহারাজ। তৈরি শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালে। প্রথমে ঠিক ছিল এর উচ্চতা হবে ১৯২ মিটার। কিন্তু চীনের হেনান প্রদেশে নাকি তৈরি হচ্ছে ২০৮ মিটার উঁচু বুদ্ধ স্ট্যাচু। তাকে ছাপিয়ে যাবার জন্যে এর পুনর্নিদ্ধারিত উচ্চতা স্থির হয়েছে ২১০ মিটার। খরচের হিসেব ধরা হয়েছে ২৮০০ কোটি টাকা।
অচিরেই তাই দেশের দিকে দিকে উঁচু উঁচু মূর্তি তৈরির ঢেউ জেগে উঠতে পারে। আজ এখানে, কাল সেখানে। এবং শুরু হয়ে যেতে পারে উচ্চতা নিয়ে প্রতিযোগিতা। রাজ্যগুলি নেমে পড়তে পারে চাঁদ-তারাকে ছোঁওয়ার এই দৌড়ে।
অমলকান্তির মনে উদয় হয় বিচিত্র চিন্তার। ধরা যাক, রিপ ভ্যান উইঙ্কলের মত অমলকান্তিও হঠাৎ করে ঘুমিয়ে পড়ল আজ। কুড়ি বছর কেটে গেল এক চুটকিতে। বছর কুড়ি পরে, ২০৩৮-এর ভারতবর্ষে এমন পেল্লাই মাপের মূর্তিই হয়তো থাকবে পঞ্চাশ কিংবা একশোটা বা হয়তো আরও বেশি। রাজ্যে রাজ্যে তাদের নিজেদের মত করে। কোথাও কোথাও আবার বিশেষ কোনও মূর্তি গড়া নিয়ে কিছু চাপান-উতোর আর আইনি টানা-পোড়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেমন লেনিনের মূর্তি কেউ গড়তে চাইবে, আর কেউ চাইবে ভাঙতে—এটা তো পৃথিবীব্যাপী প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস। কর্ণাটকে টিপু সুলতানের মূর্তি হবে কি না, সেটা বেশ চটকদার বিতর্কের বিষয় হতে পারে। আমাদের রাজ্যেও বেশ কিছু মূর্তি গড়ে তোলা যাবে সহজেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবশ্য বিতর্কের অবকাশ থাকবেই। তবে বিতর্কহীন সর্বসম্মত মূর্তির রসদও রয়েছে অনেক। ধরা যাক, বীরভূমের কোনও ধু ধু মাঠের মধ্যে তৈরি হবে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি। রবীন্দ্রর সেই বিশাল মূর্তিটা দেখতে যত ট্যুরিস্ট দৌড়াবে দেশ-বিদেশ থেকে, তার সিকিভাগও হয়তো সেদিন পৌঁছবে না শান্তিনিকেতনে তাঁর কর্মকাণ্ডের স্থানে। মূর্তিটার উচ্চতা কত হবে, সেটা নিশ্চয় সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিরাই স্থির করবেন—তবে কোনও উচ্চতাই যে প্রকৃত রবীন্দ্র-মাহাত্ম্যের ধারেকাছে পৌঁছবে না, সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। সুভাষচন্দ্র বসুর স্ট্যাচুটার নির্মাণ নিয়েও বঙ্গবাসীর মধ্যে কোনও দ্বিমত থাকার কথা নয়। যদিও তাঁর জন্মস্থানের সূত্র ধরে (রসগোল্লার মতো) এ বিষয়েও ওড়িশা তাদের দাবি জানাবে কি না বলা কঠিন।
২০৩৮। এমনই বহু টানা-পোড়েনের সুতোয় বাঁধা পড়ে গত বিশ বছরে গড়ে উঠেছে উঁচু উঁচু স্ট্যাচু। উঁচু, আরও উঁচু। শ্রদ্ধা জানানো গিয়েছে অনেক মহাপুরুষ আর দেশনায়কদের। আর এর ফলশ্রুতিতে ২০৩৮ নাগাদ ভারতকে দুনিয়ার লোক মোটামুটি ‘মূর্তিস্থান’ বলেই জানতে পারে। উঁচু উঁচু মূর্তি দেখবার জন্যে চালু হয়েছে মূর্তি-ট্যুরিজম। মূর্তি-রুট। দেশের অর্থনীতির অনেকটা দাঁড়িয়ে রয়েছে এর উপরে। মূর্তিগুলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছোটখাট শহর, হোটেল, পরিষেবা। বহু লোকের কর্মসংস্থান। স্বাভাবিকভাবেই এত মূর্তি তৈরির কলাকুশলীদের প্রশিক্ষণের জন্যে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে চালু হয়েছে মূর্তি তৈরির পাঠক্রম। উইঙ্কল টুইঙ্কল-এর কল্পিত স্বপ্নের জগতে খানিকটা ভেসে নেন আমাদের অমলকান্তি। ২০৩৮-এ সক্ষম শরীরে বেঁচে থাকলে না-হয় মূর্তি-রুট ধরে মূর্তি-ট্যুরিজমে একবার ভারত-ভ্রমণ করা যাবে।
আপাতত স্বপ্নের ঘোর ভেঙে অমলকান্তি ফিরে আসেন ২০১৮-র শেষ লগ্নে। নির্বাচনের দামামার মাঝে দেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে।
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
01st  December, 2018
কংগ্রেসের জয়ে বড় ভূমিকা কৃষক আন্দোলনের 
শুভময় মৈত্র

হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যেই বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করল কংগ্রেস। তবে তাদের দলটা তো বিজেপির মত নিয়মানুবর্তী এবং সংগঠনভিত্তিক নয়। কংগ্রেসকে ভোটে জেতায় তাদের কর্মী এবং জনগণ আর নেতা নির্বাচনের জন্যে সবাই তাকিয়ে থাকে গান্ধী পরিবারের দিকে।  বিশদ

মোদির ভাবমূর্তির পতনই বিজেপির মূল ক্ষতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল বিজেপি’র বিপক্ষে ৫-০ হওয়া ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ জনমানসে মোদির ভাবমূর্তির পতন ঘটা। কোনও একটি বা একাধিক রাজ্যের সরকার পরিবর্তন যতটা না শাসক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ শাসক দলের নেতৃত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ভাবনার উৎপত্তি।
বিশদ

14th  December, 2018
পাক সন্ত্রাসবাদের পাল্টা
জবাবে ভারতের জলযুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে বিঁধতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করা শুরু করেছে ভারত। কখনও বলছে ‘টেররিস্তান’, কখনও ‘বিশেষ সন্ত্রাসবাদী অঞ্চল’! তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক! সেই তথ্যই জানাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে শেষ আট বছরে সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই বছরেই।
বিশদ

13th  December, 2018
রথধ্বনি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

‘এই-সকল টানিয়া বুনিয়া বর্ণনা আমাদের কর্ণে অসম-ভূমি-পথে বাধা-প্রাপ্ত রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দের ন্যায় কর্কশ লাগে।’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের দেশের রাজনীতি এখন শতরঙ্গে ভরা। দেশের কেন্দ্রে অধিকাংশের ভোটে একটি কুনির্বাচিত গণতান্ত্রিক শাসন হঠাৎই রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রধান এবং দলমুখ্যকে মাঝে-মাঝেই মাথায় পাগড়ি এবং হাতে তরবারি নিয়ে ছবি তুলতে দেখছি।
বিশদ

11th  December, 2018
Loading...
ভোটের পর সংসদীয় মূল‌্যবোধ কি অক্ষত থাকবে?  

পি চিদম্বরম: আপনি এই লেখাটি পড়ছেন পাঁচ রাজ‌্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার (৭ ডিসেম্বর) তিনদিন বাদে এবং গণনার (১১ ডিসেম্বর) ঠিক আগের দিন। সুতরাং অত সতর্ক না-থাকলেও আমার চলে।   বিশদ

10th  December, 2018
হাঁক পাড়লেই হবে? মমতার সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে এমন মুখ কোথায়?
শুভা দত্ত

এবারের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি কটা আসন পাবে? পেতে পারে? এই মুহূর্তে বোধহয় স্বয়ং ভগবানও বলতে পারবেন না। জ্যোতিষীরা হয়তো তিথি নক্ষত্র ইত্যাদি গুনেগেঁথে কিছু একটা বলে দিতে পারেন, তবে সেটাই শেষপর্যন্ত মিলে যাবে এমন স্থির সিদ্ধান্ত একমাত্র আহাম্মক ছাড়া কেউ করবেন না। কারণ, ভোট এখনও অনেকটা দূরে।
বিশদ

09th  December, 2018
Loading...
ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্থান ভোটের ফল?

আমরা সবাই এখন ভোটফলের অপেক্ষায়। এর মধ্যে ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার হল রাজস্থান বিধানসভার ভোট। গত বিধানসভায় ২০১৩ সালে এই তারিখ ছিল ১ ডিসেম্বর, রবিবার। সেদিন পরিবার নিয়ে জয়পুরে থাকার সুযোগ হয়েছিল। কাজের সূত্রে যে বন্ধুরা জয়পুরে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হচ্ছিল যাওয়ার আগে।
বিশদ

08th  December, 2018
ওয়াটার মার্কেট
সমৃদ্ধ দত্ত

বিহারের গয়া জেলার কাপাসিয়া ব্লকের গুলাড়িয়া চক গ্রামের গনৌরি কুমার আর মুসাফির মাঝি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে এক পুলিস কর্মীকে বললেন, তোমাদের এখানে যমুনা নদীটা দেখতে যাব কীভাবে? কেন? না, মানে, কেমন জল আছে একবার দেখতাম! আবার কবে আসা হবে তা তো জানি না। এরপর যখন আসব যদি শুকিয়ে যায়! পুলিস কর্মী হাসলেন।
বিশদ

07th  December, 2018
লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। বিশদ

06th  December, 2018
পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস জরুরি
হারাধন চৌধুরী

গত দশকের কথা। কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণবঙ্গের এক জেলায় গিয়েছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের খবর সংগ্রহের জন্য। জেলা সদরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্লকে যাতায়াতের জন্য মূলত গণপরিবহণের উপরেই ভরসা রেখেছিলাম। বলা বাহুল্য, তখন গরম কাল। একটু বাড়তি হাওয়া বাতাসের লোভে জানালার ধারের একটা সিট দখল করার জন্য কসরতও করেছি।
বিশদ

04th  December, 2018
ঢাকের সুপরিচিত শব্দ
পি চিদম্বরম

নরেন্দ্র মোদি ২০১৩-১৪ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি নিজেকে পরিচিত করেছিলেন বিকাশপুরুষ হিসেবে। মানে তিনি উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪-র মে মাসে যে ৩১ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদের একটা বড় অংশ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন) স্লোগানে আন্দোলিত হয়েছিলেন।
বিশদ

03rd  December, 2018
মমতা মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর হঠাৎ এত নরম হয়ে এল কেন?
শুভা দত্ত

গেরুয়া শিবির এবার কি সত্যিই বিপদের আঁচ পাচ্ছে? দিল্লির দরবারে কি দেশের মানুষের মতিগতি নিয়ে কোনও অশনিসংকেত পৌঁছল! দেশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখন ভোট চলছে। যখন এই লেখা লিখছি তখন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভোট হয়ে গেছে। রাজস্থান, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় হবে। সেজন্য রাজ্যগুলিতে ভোটপ্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে।
বিশদ

02nd  December, 2018
Loading...
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): যৌন হেনস্তার অপরাধে আমেরিকায় এক ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীর নয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মার্কিন আদালত। চলতি বছরের শুরুতে বিমানে সফরকালে এক ঘুমন্ত মহিলা সহযাত্রীকে যৌন হেনস্তা করে প্রভূ রামমূর্তি (৩৫)। ...

 জম্মু, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গাড়ি পড়ে জম্মু ও কাশ্মীরে মৃত্যু হল সাতজনের। মৃতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রেয়াসি জেলার তামসগালি এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, বিয়ে বাড়ির অনষ্ঠান সেরে ফেরার পথে তামসগালির পাহাড়ি পথে গাড়ির চালক ...

 হায়দরাবাদ, ১৪ ডিসেম্বর: হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচে বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম দিনে ৩৮ ওভারে ২ উইকেটে ৯৯ রান তুলেছে বাংলা। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৫৭ ও অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি ৬ রানে ক্রিজে আছেন। আউট ফিল্ড ভিজে থাকায় এদিন খেলা শুরু হয় নির্ধারিত ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হলে পশ্চিমবঙ্গ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের ৫০তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। প্রারম্ভিক ভাষণ দেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা দেবাশিস রায়। ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা, বাহন ক্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের বিদ্যাশিক্ষায় সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭৭- টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট নিলেন,
১৯০৮- রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী রঙ্গনাথানন্দের জন্ম,
১৯৫০- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু,
১৯৭৬- ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৯ টাকা ৯২.৩৩ টাকা
ইউরো ৮০.০৪ টাকা ৮৩.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩১,৯৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,২৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৭৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী ৫৯/৫৯ শেষ রাত্রি ঘ ৬/১৩। নক্ষত্র- পূর্বভাদ্রপদ ৪৭/৩৩ রাত্রি ঘ ১/১৪, সূ উ ৬/১২/৪৫, অ ৪/৫০/২৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ঘ ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/১১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী রাত্রি ২/৫/২৫। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র রাত্রি ১০/১২/৪২। সূ উ ৬/১৩/১৬, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৫/৪০ মধ্যে ও ঘ ৭/৩৮/৪ থেকে ঘ ৯/৪৫/১৬ মধ্যে ও ঘ ১১/৫২/২৭ থেকে ২/৪২/২ মধ্যে ও ৩/২৪/২৬ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫১/৩৯ থেকে ঘ ২/৩৮/৫১ মধ্যে। বারবেলা ১২/৫০/৪৪ থেকে ২/১০/১৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩২/৪৬ মধ্যে ও ঘ ৩/২৯/৪৪ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/৪৩ মধ্যে ও ঘ ৪/৩৩/২৯ থেকে ঘ ৬/১৩/৫৯ মধ্যে। 
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপির রথযাত্রার অনুমতি দিল না রাজ্য 
সাম্প্রদায়িক অশান্তির আশঙ্কায় রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রার আবেদন বাতিল করে দিল ...বিশদ

09:17:00 PM

কাল ম্যারাথনের জন্য হাওড়া স্টেশন ও বিমানবন্দরে যেতে বিকল্প রুট পুলিসের 
টাটা স্টিল কলকাতা ম্যারাথনের জন্য শনিবার রাত ১০টা থেকেই ময়দানের ...বিশদ

07:31:32 PM

জয়নগরে শ্যুটআউটের ঘটনায় ধৃত আরও ১ 

03:59:57 PM

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি এখন কলকাতায়
ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে কলকাতায় পৌঁছাল আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফিটি।আর মাত্র ...বিশদ

03:42:35 PM

এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণা, আটক ২
এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আসানসোলে থেকে ২ জনকে আটক ...বিশদ

03:39:00 PM

আসানসোলে আট ফুটের ময়াল উদ্ধার
আসানসোল উওর থানার পাচগাছিয়া মনোহর বহাল এলাকা থেকে আট ফুটের ...বিশদ

03:36:00 PM

Loading...
Loading...