বিশেষ নিবন্ধ
 

আঞ্চলিক রাজনীতি বনাম মোদি, নির্ধারক কিন্তু পাঁচ রাজ্যই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মাসখানেক আগেও চারমিনার চত্বর ছাড়া গোটা হায়দরাবাদে একটাও রাজনৈতিক পোস্টার বা ফ্লেক্স চোখে আসেনি। যাও বা নজরে এসেছে, মেরেকেটে খান দশেক। আমরা এমন রাজ্যের বাসিন্দা, যেখানে সকালের চা থেকে ডিনার শেষ করে মুখ ধোওয়া পর্যন্ত মন এবং মস্তিষ্কের আনাচে কানাচে রাজনীতি ঘোরাফেরা করে। কাজেই এমন একটা ভোট-উদাসীন শহর তো অবাক করবেই! যেখানে বিধানসভা নির্বাচনের তারিখটা পর্যন্ত ঘোষণা হয়ে গিয়েছে! স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে কিছুটা অবাক চাউনির মুখে পড়তে হল। এত তাড়াতাড়ি কেন গোছের দৃষ্টি আর কী! অনেক সময় আছে। আর বেশিরভাগ লোকজনেরই এক ধারণা, বাকিরা যতই প্রচার করুক, ক্ষমতায় তো কেসিআরই আসছেন। মানুষ যখন এতটাই নিশ্চিত, তাহলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, ১১৯টির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির ঝুলিতে ঢুকছে। বিজেপি বা কংগ্রেস এখানে দাঁত ফোটাতে পারবে না। কিন্তু কেন? নামজাদা এক কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বাঙালি। বছর দশেক ধরে ওই সংস্থায় কাজ করেন। তার মধ্যে সাত বছরই হায়দরাবাদে। সাফ বললেন, ‘ডেভেলপমেন্ট। উন্নয়ন। এখানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস মানে কোনও লোক দেখানো প্রচার অভিযান নয়! কাজটা সত্যি হয়। আর সেইসঙ্গে ইনফ্রাস্ট্রাকচার। ভালোভাবে কাজ করতে গেলে একটা কোম্পানির ঠিক যা যা সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবটা এখানে পাওয়া যায়। তাই শিল্পের এত রমরমা। ভোট চাইতে যাওয়াটাও তাই টিআরএসের এমএলএ বা প্রার্থীদের কাছে একদম অন্যরকম। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের নামে চারটে বাজে কথা বলাটা সাধারণত রেয়ার। বরং এঁরা স্পষ্ট বলেন, গত ভোটে আপনাদের কাছে এই দশটা কাজ করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মিলিয়ে দেখুন এই ছ’টা করেছি। আর চারটে হয়নি। সময় দিন, এগুলো তো করে দেবই, পাশাপাশি আরও অমুক অমুক পরিষেবা আপনাদের দেব।’
অর্থাৎ এই রাজ্যে টিআরএসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এই ৭ ডিসেম্বরের ভোটে অন্তত সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। চন্দ্রশেখর রাওই সর্বেসর্বা। সেই কেসিআর, যিনি ফেডারেল ফ্রন্টের দাবি নিয়ে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন। আর তারপরই তাঁর সঙ্গে বিজেপির সখ্যের পাখি ডানা মেলেছিল। তাতে দেশজুড়ে নতুন ফ্রন্ট গঠনের আশায় থাকা আঞ্চলিক এবং জাতীয় দলগুলির মুখ কালো হয়েছিল ঠিকই, তাঁর ভোটব্যাঙ্কে এতটুকু প্রভাব পড়েনি। সেটা তিনি বিলক্ষণ জানেন বলেই নরেন্দ্র মোদির দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বুঝেছিলেন, রাজ্যের মানুষর উন্নয়ন যদি করতে পারেন, তাহলে সঙ্গে কংগ্রেস থাকল না বিজেপি, ভোটাররা দেখবেন না। এমনিতেই আবার কংগ্রেসের উপর কেসিআরের একটু অ্যালার্জি রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক আশা না ছেড়ে তেলেঙ্গানায় জোরকদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে হাতপার্টি।
জোরকদমে বোঝা যাচ্ছে কীভাবে? শুধু এই রাজ্যেই প্রচারে অংশ নিচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী। এক মঞ্চে দেখা যাচ্ছে মা-ছেলেকে। যদি কিছু করা যায়! লক্ষ্য শুধু এই বিধানসভা ভোট নয়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনও। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যের ভোটের মধ্যে দু’চোখ বুজে কংগ্রেসের পাল্লা ভারী রাজস্থানে। অধিকাংশ জনমত সমীক্ষাই দাবি করছে, হেলায় ক্ষমতা দখল করবে কংগ্রেস। গত নির্বাচনে মাত্র ২১টি বিধানসভা আসন পাওয়া সত্ত্বেও। কেন? প্রথমত, রাজস্থানের ভোটারদের মধ্যে পাঁচ বছর অন্তর সরকারি পার্টি বদলের একটা ধারা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার প্রতি অনাস্থা। তাই ২০০ আসনের মরুরাজ্যে কংগ্রেসের শিকে ছিঁড়তেই পারে। তা সে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শচীন পাইলট থাকুন, বা অশোক গেহলট। ভোটটা যত না তাঁদের পক্ষে পড়বে, তার থেকে অনেক বেশি মহারানির বিপক্ষে পড়বে বলেই ধারণা। মিজোরাম নিয়ে বরং কিছুটা টেনশন রাহুল গান্ধীদের থাকতেই পারে। বিজেপি যেভাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে টার্গেট করে তেড়েফুঁড়ে নেমেছে, তাতে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট, মিজোরাম পিপলস কনফারেন্স এবং জোরাম ন্যাশনালিস্ট পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে অমিত শাহ যদি সরকার গড়ে ফেলেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু হবে না। গত বিধানসভা ভোটে এই রাজ্যে কংগ্রেসের ছিল ৪৪.৬৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ বাকি সব ভোট এক করলে কিন্তু জোট সরকার হয়েই যায়।
বাকি রইল আর দু’টি রাজ্য—ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশ। যে দুটিতে ইতিমধ্যেই ভোট হয়ে গিয়েছে। এই পাঁচের মধ্যে শুধু ছত্তিশগড়েই হয়েছে দু’দফায় ভোট। কারণ? মাওবাদী। ভোট বয়কটের ডাক এবং নির্বাচন শুরুর ঠিক আগে মুহুর্মুহু নাশকতার মাধ্যমে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিয়েছিল, নির্বাচন খুব একটা তুলোয় মোড়া হবে না। কিন্তু দিনের শেষে হাতে আসা পরিসংখ্যানটা নেহাৎ ফেলে দেওয়ার মতো নয়! ছত্তিশগড়ে দু’দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়ল প্রায় ৭৫ শতাংশ। তার মধ্যে মাওবাদী অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতেই ৭৬.৪২ শতাংশ। আর মধ্যপ্রদেশে বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন উৎসবে ভোট পড়ল ৭৪.৬১ শতাংশ। গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যানটাও কিন্তু বিজেপিকে উদ্বেগে ফেলতেই পারে! আর কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলতে পারে মিজোরাম। কারণ, এই রাজ্যে কিন্তু রেকর্ড ৭৫ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে।
কেন এই উদ্বেগ? কারণ এত বেশি মাত্রায় ভোটাররা বুথমুখো হওয়ায় প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে, তাহলে কি এবার প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোটের জাঁতাকলে আটকে পড়তে চলেছে বিজেপি? এমনিতে প্রায় বছর খানেক আগে থেকে একটা বিশ্লেষণমূলক প্রচার জোরকদমে চলছে, এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনই আসলে আসন্ন লোকসভা ভোটের সেমি-ফাইনাল। এই ভোটযুদ্ধে যে দল বা যে জোট তার শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে, তারাই অ্যাডভান্টেজ সংসদ। কিন্তু সত্যি যদি ছত্তিশগড়ে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোটের হাওয়া বয়ে থাকে, তাহলে বিজেপির হাত থেকে রাজ্যটি যেতে বসেছে। প্রথম দফায় যে ১৮টি আসনে এই রাজ্যে ভোট হয়েছিল, তার অধিকাংশই কংগ্রেসের শক্ত গড়। বিজেপি বিরোধী ভোট এই কেন্দ্রগুলিতে বেশিমাত্রায় পড়াটা খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফাতেও তো প্রায় ৭৩ শতাংশ! এখানে ভাবনার বিষয় রয়েছে বইকি! তাও এখনই পরিস্থিতি ৫০-৫০ ছাড়া অন্য কিছু বলা যাচ্ছে না। একই অবস্থা মধ্যপ্রদেশেরও। এখানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! কংগ্রেসের ঘুঁটি এখানে কমল নাথ এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
একটা বিষয় অবশ্য উল্লেখ করতেই হবে, পাঁচ রাজ্যেই কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের দিকে তাকিয়েই ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু রাজস্থানে ভোটটা মুখ্যমন্ত্রীর বিপক্ষে পড়তে পারে। বাকি সর্বত্র তাঁরাই হিরো। ক্ষমতাসীন দলের প্রধান মুখ। তা সে কেসিআর হোন, রামন সিং, শিবরাজ সিং চৌহান বা লাল থানওয়ালা, প্রত্যেকেরই ক্রাউড পুল রয়েছে। যথেষ্ট জনপ্রিয় তাঁরা প্রত্যেকেই। এরপর বাকি রইল আর একটি মোক্ষম প্রশ্ন—মোদিঝড় কি আছে? বোধহয় না। গত লোকসভা নির্বাচনে যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক লড়াইটা দেশজুড়ে হয়েছিল, তাঁর সরাসরি প্রভাব অনেকটাই স্তিমিত। গুজরাতে অবশ্য শেষ মুহূর্তে ম্যারাথন প্রচার চালিয়ে মোদিই বিজেপির পক্ষে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গুজরাত তাঁর নিজভূম। কাজেই এই পাঁচ রাজ্যে আবার পরীক্ষা হতে চলেছে তাঁর ‘ঝড়ে’র। এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে নোট বাতিল, জিএসটি, রাফাল দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং পেট্রল-ডিজেল। মূলত অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে তাঁর সরকার ফাঁপরে। অথচ, সাধারণ মানুষকে সাধারণভাবে বোঝানোর মতো কোনও দুঁদে অফিসার মোদির সরকারে নেই। যিনি সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন, সরকারি নীতিগুলি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেবেন এবং সেগুলিই খবরের কাগজ বা চ্যানেলওয়ালারা বিশ্বাস করে ছাপবে। নরেন্দ্র মোদির কাছে কিন্তু ব্রজেশ মিশ্রর মতো কোনও ডাকসাইটে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিও নেই। যা ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ির। অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন, বিজেপির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সমঝোতা বজায় রাখনেওয়ালা, বিদেশনীতির সমঝদার এবং অসম্ভব ভালো জনসংযোগকারী। এই সবকটি গুণ ছিল ব্রজেশ মিশ্রর। নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয়ই এমন একজন আমলার অভাব অনুভব করেন। সুতরাং, আমলাতন্ত্র দিয়ে হবে না। বিজেপিকে যদি আবার গোটা দেশের জনসমর্থনের হাওয়া নিজেদের দিকে ঘোরাতে হয়, তাহলে মোদিঝড় ফিরিয়ে আনতে হবে। যা এই মুহূর্তে একটু কঠিন। একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এই মুহূর্তে জাতীয় স্তরে মোদির সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো নেতা-নেত্রী খুব কম আছেন। কিন্তু যদি মহাজোট বাস্তব রূপ পায় এবং মমতার একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের ফর্মুলাকে সব আঞ্চলিক দল ও কংগ্রেস প্রয়োগ করে, তাহলে মোদি ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য। আর হ্যাঁ, পাঁচ রাজ্যের এই বিধানসভা ভোট, অর্থাৎ সেমি-ফাইনালে অন্তত তিন রাজ্যে বিজেপি হেরে গেলে কিন্তু বুঝতেই হবে, লোকসভা ভোটের যুদ্ধ মোদির জন্য আর সহজ নয়। আঞ্চলিক দলগুলি তখন সংসদের লড়াইতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেগ দেওয়ার ক্ষমতা বিজেপি সম্পূর্ণ হারাবে। তেমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনই যদি তৃণমূল দখল করে, সেটাও আশ্চর্যের হবে না।
কাজেই এই মুহূর্তে কোমর বেঁধে আসরে মোদি-অমিত জুটি। গত চার বছরের অতীতে বহুবার যাঁরা যাবতীয় সমীকরণ উল্টে দিয়েছেন। আপাতত ৬৭৯টি বিধানসভা আসনের জন্য তাঁদের লড়াই। আর তার ভিতের উপর দাঁড়িয়েই পরের বছর ৫৪৫টি লোকসভা কেন্দ্র। এই পাঁচ রাজ্যে লড়াইয়ে যদি বিজেপি পিছিয়ে পড়ে? কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির পোয়াবারো। ও হ্যাঁ, তারপরও অবশ্য আস্তিনে একটা তাস মোদির থেকেই যাবে। চিরাচরিত দেশাত্মবোধের মোড়কে পাকিস্তান বিরোধিতা। ওটা কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই মিরাকিউরাল। তেমন কিছুর ঘুঁটিই কি মোদি সাজাচ্ছেন? সে উত্তর রাম জানেন। আমাদের আপাতত অপেক্ষা ১১ ডিসেম্বরের!
30th  November, 2018
কংগ্রেসের জয়ে বড় ভূমিকা কৃষক আন্দোলনের 
শুভময় মৈত্র

হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যেই বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করল কংগ্রেস। তবে তাদের দলটা তো বিজেপির মত নিয়মানুবর্তী এবং সংগঠনভিত্তিক নয়। কংগ্রেসকে ভোটে জেতায় তাদের কর্মী এবং জনগণ আর নেতা নির্বাচনের জন্যে সবাই তাকিয়ে থাকে গান্ধী পরিবারের দিকে।  বিশদ

মোদির ভাবমূর্তির পতনই বিজেপির মূল ক্ষতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল বিজেপি’র বিপক্ষে ৫-০ হওয়া ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ জনমানসে মোদির ভাবমূর্তির পতন ঘটা। কোনও একটি বা একাধিক রাজ্যের সরকার পরিবর্তন যতটা না শাসক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ শাসক দলের নেতৃত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ভাবনার উৎপত্তি।
বিশদ

14th  December, 2018
পাক সন্ত্রাসবাদের পাল্টা
জবাবে ভারতের জলযুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে বিঁধতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করা শুরু করেছে ভারত। কখনও বলছে ‘টেররিস্তান’, কখনও ‘বিশেষ সন্ত্রাসবাদী অঞ্চল’! তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক! সেই তথ্যই জানাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে শেষ আট বছরে সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই বছরেই।
বিশদ

13th  December, 2018
রথধ্বনি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

‘এই-সকল টানিয়া বুনিয়া বর্ণনা আমাদের কর্ণে অসম-ভূমি-পথে বাধা-প্রাপ্ত রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দের ন্যায় কর্কশ লাগে।’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের দেশের রাজনীতি এখন শতরঙ্গে ভরা। দেশের কেন্দ্রে অধিকাংশের ভোটে একটি কুনির্বাচিত গণতান্ত্রিক শাসন হঠাৎই রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রধান এবং দলমুখ্যকে মাঝে-মাঝেই মাথায় পাগড়ি এবং হাতে তরবারি নিয়ে ছবি তুলতে দেখছি।
বিশদ

11th  December, 2018
Loading...
ভোটের পর সংসদীয় মূল‌্যবোধ কি অক্ষত থাকবে?  

পি চিদম্বরম: আপনি এই লেখাটি পড়ছেন পাঁচ রাজ‌্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার (৭ ডিসেম্বর) তিনদিন বাদে এবং গণনার (১১ ডিসেম্বর) ঠিক আগের দিন। সুতরাং অত সতর্ক না-থাকলেও আমার চলে।   বিশদ

10th  December, 2018
হাঁক পাড়লেই হবে? মমতার সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে এমন মুখ কোথায়?
শুভা দত্ত

এবারের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি কটা আসন পাবে? পেতে পারে? এই মুহূর্তে বোধহয় স্বয়ং ভগবানও বলতে পারবেন না। জ্যোতিষীরা হয়তো তিথি নক্ষত্র ইত্যাদি গুনেগেঁথে কিছু একটা বলে দিতে পারেন, তবে সেটাই শেষপর্যন্ত মিলে যাবে এমন স্থির সিদ্ধান্ত একমাত্র আহাম্মক ছাড়া কেউ করবেন না। কারণ, ভোট এখনও অনেকটা দূরে।
বিশদ

09th  December, 2018
Loading...
ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্থান ভোটের ফল?

আমরা সবাই এখন ভোটফলের অপেক্ষায়। এর মধ্যে ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার হল রাজস্থান বিধানসভার ভোট। গত বিধানসভায় ২০১৩ সালে এই তারিখ ছিল ১ ডিসেম্বর, রবিবার। সেদিন পরিবার নিয়ে জয়পুরে থাকার সুযোগ হয়েছিল। কাজের সূত্রে যে বন্ধুরা জয়পুরে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হচ্ছিল যাওয়ার আগে।
বিশদ

08th  December, 2018
ওয়াটার মার্কেট
সমৃদ্ধ দত্ত

বিহারের গয়া জেলার কাপাসিয়া ব্লকের গুলাড়িয়া চক গ্রামের গনৌরি কুমার আর মুসাফির মাঝি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে এক পুলিস কর্মীকে বললেন, তোমাদের এখানে যমুনা নদীটা দেখতে যাব কীভাবে? কেন? না, মানে, কেমন জল আছে একবার দেখতাম! আবার কবে আসা হবে তা তো জানি না। এরপর যখন আসব যদি শুকিয়ে যায়! পুলিস কর্মী হাসলেন।
বিশদ

07th  December, 2018
লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। বিশদ

06th  December, 2018
পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস জরুরি
হারাধন চৌধুরী

গত দশকের কথা। কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণবঙ্গের এক জেলায় গিয়েছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের খবর সংগ্রহের জন্য। জেলা সদরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্লকে যাতায়াতের জন্য মূলত গণপরিবহণের উপরেই ভরসা রেখেছিলাম। বলা বাহুল্য, তখন গরম কাল। একটু বাড়তি হাওয়া বাতাসের লোভে জানালার ধারের একটা সিট দখল করার জন্য কসরতও করেছি।
বিশদ

04th  December, 2018
ঢাকের সুপরিচিত শব্দ
পি চিদম্বরম

নরেন্দ্র মোদি ২০১৩-১৪ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি নিজেকে পরিচিত করেছিলেন বিকাশপুরুষ হিসেবে। মানে তিনি উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪-র মে মাসে যে ৩১ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদের একটা বড় অংশ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন) স্লোগানে আন্দোলিত হয়েছিলেন।
বিশদ

03rd  December, 2018
মমতা মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর হঠাৎ এত নরম হয়ে এল কেন?
শুভা দত্ত

গেরুয়া শিবির এবার কি সত্যিই বিপদের আঁচ পাচ্ছে? দিল্লির দরবারে কি দেশের মানুষের মতিগতি নিয়ে কোনও অশনিসংকেত পৌঁছল! দেশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখন ভোট চলছে। যখন এই লেখা লিখছি তখন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভোট হয়ে গেছে। রাজস্থান, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় হবে। সেজন্য রাজ্যগুলিতে ভোটপ্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে।
বিশদ

02nd  December, 2018
Loading...
একনজরে
 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: মা উড়ালপুল থেকে এজেসি বোস উড়ালপুলমুখী সংযোগের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩১ ডিসেম্বর। হাইকোর্ট এই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ১৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল হলে পশ্চিমবঙ্গ সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের ৫০তম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। প্রারম্ভিক ভাষণ দেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা দেবাশিস রায়। ...

বিএনএ, কোচবিহার: ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সহ নানা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই কাজ শুরু হয়ে যাবে।  ...

 জম্মু, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গাড়ি পড়ে জম্মু ও কাশ্মীরে মৃত্যু হল সাতজনের। মৃতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রেয়াসি জেলার তামসগালি এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, বিয়ে বাড়ির অনষ্ঠান সেরে ফেরার পথে তামসগালির পাহাড়ি পথে গাড়ির চালক ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা, বাহন ক্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের বিদ্যাশিক্ষায় সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭৭- টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট নিলেন,
১৯০৮- রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী রঙ্গনাথানন্দের জন্ম,
১৯৫০- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু,
১৯৭৬- ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৯ টাকা ৯২.৩৩ টাকা
ইউরো ৮০.০৪ টাকা ৮৩.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩১,৯৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,২৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৭৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী ৫৯/৫৯ শেষ রাত্রি ঘ ৬/১৩। নক্ষত্র- পূর্বভাদ্রপদ ৪৭/৩৩ রাত্রি ঘ ১/১৪, সূ উ ৬/১২/৪৫, অ ৪/৫০/২৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ঘ ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/১১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী রাত্রি ২/৫/২৫। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র রাত্রি ১০/১২/৪২। সূ উ ৬/১৩/১৬, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৫/৪০ মধ্যে ও ঘ ৭/৩৮/৪ থেকে ঘ ৯/৪৫/১৬ মধ্যে ও ঘ ১১/৫২/২৭ থেকে ২/৪২/২ মধ্যে ও ৩/২৪/২৬ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫১/৩৯ থেকে ঘ ২/৩৮/৫১ মধ্যে। বারবেলা ১২/৫০/৪৪ থেকে ২/১০/১৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩২/৪৬ মধ্যে ও ঘ ৩/২৯/৪৪ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/৪৩ মধ্যে ও ঘ ৪/৩৩/২৯ থেকে ঘ ৬/১৩/৫৯ মধ্যে। 
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপির রথযাত্রার অনুমতি দিল না রাজ্য 
সাম্প্রদায়িক অশান্তির আশঙ্কায় রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রার আবেদন বাতিল করে দিল ...বিশদ

09:17:00 PM

কাল ম্যারাথনের জন্য হাওড়া স্টেশন ও বিমানবন্দরে যেতে বিকল্প রুট পুলিসের 
টাটা স্টিল কলকাতা ম্যারাথনের জন্য শনিবার রাত ১০টা থেকেই ময়দানের ...বিশদ

07:31:32 PM

জয়নগরে শ্যুটআউটের ঘটনায় ধৃত আরও ১ 

03:59:57 PM

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি এখন কলকাতায়
ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে কলকাতায় পৌঁছাল আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফিটি।আর মাত্র ...বিশদ

03:42:35 PM

এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণা, আটক ২
এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আসানসোলে থেকে ২ জনকে আটক ...বিশদ

03:39:00 PM

আসানসোলে আট ফুটের ময়াল উদ্ধার
আসানসোল উওর থানার পাচগাছিয়া মনোহর বহাল এলাকা থেকে আট ফুটের ...বিশদ

03:36:00 PM

Loading...
Loading...