Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আঞ্চলিক রাজনীতি বনাম মোদি, নির্ধারক কিন্তু পাঁচ রাজ্যই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মাসখানেক আগেও চারমিনার চত্বর ছাড়া গোটা হায়দরাবাদে একটাও রাজনৈতিক পোস্টার বা ফ্লেক্স চোখে আসেনি। যাও বা নজরে এসেছে, মেরেকেটে খান দশেক। আমরা এমন রাজ্যের বাসিন্দা, যেখানে সকালের চা থেকে ডিনার শেষ করে মুখ ধোওয়া পর্যন্ত মন এবং মস্তিষ্কের আনাচে কানাচে রাজনীতি ঘোরাফেরা করে। কাজেই এমন একটা ভোট-উদাসীন শহর তো অবাক করবেই! যেখানে বিধানসভা নির্বাচনের তারিখটা পর্যন্ত ঘোষণা হয়ে গিয়েছে! স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে কিছুটা অবাক চাউনির মুখে পড়তে হল। এত তাড়াতাড়ি কেন গোছের দৃষ্টি আর কী! অনেক সময় আছে। আর বেশিরভাগ লোকজনেরই এক ধারণা, বাকিরা যতই প্রচার করুক, ক্ষমতায় তো কেসিআরই আসছেন। মানুষ যখন এতটাই নিশ্চিত, তাহলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, ১১৯টির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির ঝুলিতে ঢুকছে। বিজেপি বা কংগ্রেস এখানে দাঁত ফোটাতে পারবে না। কিন্তু কেন? নামজাদা এক কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বাঙালি। বছর দশেক ধরে ওই সংস্থায় কাজ করেন। তার মধ্যে সাত বছরই হায়দরাবাদে। সাফ বললেন, ‘ডেভেলপমেন্ট। উন্নয়ন। এখানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস মানে কোনও লোক দেখানো প্রচার অভিযান নয়! কাজটা সত্যি হয়। আর সেইসঙ্গে ইনফ্রাস্ট্রাকচার। ভালোভাবে কাজ করতে গেলে একটা কোম্পানির ঠিক যা যা সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবটা এখানে পাওয়া যায়। তাই শিল্পের এত রমরমা। ভোট চাইতে যাওয়াটাও তাই টিআরএসের এমএলএ বা প্রার্থীদের কাছে একদম অন্যরকম। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের নামে চারটে বাজে কথা বলাটা সাধারণত রেয়ার। বরং এঁরা স্পষ্ট বলেন, গত ভোটে আপনাদের কাছে এই দশটা কাজ করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মিলিয়ে দেখুন এই ছ’টা করেছি। আর চারটে হয়নি। সময় দিন, এগুলো তো করে দেবই, পাশাপাশি আরও অমুক অমুক পরিষেবা আপনাদের দেব।’
অর্থাৎ এই রাজ্যে টিআরএসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এই ৭ ডিসেম্বরের ভোটে অন্তত সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। চন্দ্রশেখর রাওই সর্বেসর্বা। সেই কেসিআর, যিনি ফেডারেল ফ্রন্টের দাবি নিয়ে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন। আর তারপরই তাঁর সঙ্গে বিজেপির সখ্যের পাখি ডানা মেলেছিল। তাতে দেশজুড়ে নতুন ফ্রন্ট গঠনের আশায় থাকা আঞ্চলিক এবং জাতীয় দলগুলির মুখ কালো হয়েছিল ঠিকই, তাঁর ভোটব্যাঙ্কে এতটুকু প্রভাব পড়েনি। সেটা তিনি বিলক্ষণ জানেন বলেই নরেন্দ্র মোদির দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বুঝেছিলেন, রাজ্যের মানুষর উন্নয়ন যদি করতে পারেন, তাহলে সঙ্গে কংগ্রেস থাকল না বিজেপি, ভোটাররা দেখবেন না। এমনিতেই আবার কংগ্রেসের উপর কেসিআরের একটু অ্যালার্জি রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক আশা না ছেড়ে তেলেঙ্গানায় জোরকদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে হাতপার্টি।
জোরকদমে বোঝা যাচ্ছে কীভাবে? শুধু এই রাজ্যেই প্রচারে অংশ নিচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী। এক মঞ্চে দেখা যাচ্ছে মা-ছেলেকে। যদি কিছু করা যায়! লক্ষ্য শুধু এই বিধানসভা ভোট নয়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনও। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যের ভোটের মধ্যে দু’চোখ বুজে কংগ্রেসের পাল্লা ভারী রাজস্থানে। অধিকাংশ জনমত সমীক্ষাই দাবি করছে, হেলায় ক্ষমতা দখল করবে কংগ্রেস। গত নির্বাচনে মাত্র ২১টি বিধানসভা আসন পাওয়া সত্ত্বেও। কেন? প্রথমত, রাজস্থানের ভোটারদের মধ্যে পাঁচ বছর অন্তর সরকারি পার্টি বদলের একটা ধারা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার প্রতি অনাস্থা। তাই ২০০ আসনের মরুরাজ্যে কংগ্রেসের শিকে ছিঁড়তেই পারে। তা সে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শচীন পাইলট থাকুন, বা অশোক গেহলট। ভোটটা যত না তাঁদের পক্ষে পড়বে, তার থেকে অনেক বেশি মহারানির বিপক্ষে পড়বে বলেই ধারণা। মিজোরাম নিয়ে বরং কিছুটা টেনশন রাহুল গান্ধীদের থাকতেই পারে। বিজেপি যেভাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে টার্গেট করে তেড়েফুঁড়ে নেমেছে, তাতে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট, মিজোরাম পিপলস কনফারেন্স এবং জোরাম ন্যাশনালিস্ট পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে অমিত শাহ যদি সরকার গড়ে ফেলেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু হবে না। গত বিধানসভা ভোটে এই রাজ্যে কংগ্রেসের ছিল ৪৪.৬৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ বাকি সব ভোট এক করলে কিন্তু জোট সরকার হয়েই যায়।
বাকি রইল আর দু’টি রাজ্য—ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশ। যে দুটিতে ইতিমধ্যেই ভোট হয়ে গিয়েছে। এই পাঁচের মধ্যে শুধু ছত্তিশগড়েই হয়েছে দু’দফায় ভোট। কারণ? মাওবাদী। ভোট বয়কটের ডাক এবং নির্বাচন শুরুর ঠিক আগে মুহুর্মুহু নাশকতার মাধ্যমে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিয়েছিল, নির্বাচন খুব একটা তুলোয় মোড়া হবে না। কিন্তু দিনের শেষে হাতে আসা পরিসংখ্যানটা নেহাৎ ফেলে দেওয়ার মতো নয়! ছত্তিশগড়ে দু’দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়ল প্রায় ৭৫ শতাংশ। তার মধ্যে মাওবাদী অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতেই ৭৬.৪২ শতাংশ। আর মধ্যপ্রদেশে বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন উৎসবে ভোট পড়ল ৭৪.৬১ শতাংশ। গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যানটাও কিন্তু বিজেপিকে উদ্বেগে ফেলতেই পারে! আর কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলতে পারে মিজোরাম। কারণ, এই রাজ্যে কিন্তু রেকর্ড ৭৫ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে।
কেন এই উদ্বেগ? কারণ এত বেশি মাত্রায় ভোটাররা বুথমুখো হওয়ায় প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে, তাহলে কি এবার প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোটের জাঁতাকলে আটকে পড়তে চলেছে বিজেপি? এমনিতে প্রায় বছর খানেক আগে থেকে একটা বিশ্লেষণমূলক প্রচার জোরকদমে চলছে, এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনই আসলে আসন্ন লোকসভা ভোটের সেমি-ফাইনাল। এই ভোটযুদ্ধে যে দল বা যে জোট তার শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে, তারাই অ্যাডভান্টেজ সংসদ। কিন্তু সত্যি যদি ছত্তিশগড়ে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোটের হাওয়া বয়ে থাকে, তাহলে বিজেপির হাত থেকে রাজ্যটি যেতে বসেছে। প্রথম দফায় যে ১৮টি আসনে এই রাজ্যে ভোট হয়েছিল, তার অধিকাংশই কংগ্রেসের শক্ত গড়। বিজেপি বিরোধী ভোট এই কেন্দ্রগুলিতে বেশিমাত্রায় পড়াটা খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফাতেও তো প্রায় ৭৩ শতাংশ! এখানে ভাবনার বিষয় রয়েছে বইকি! তাও এখনই পরিস্থিতি ৫০-৫০ ছাড়া অন্য কিছু বলা যাচ্ছে না। একই অবস্থা মধ্যপ্রদেশেরও। এখানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! কংগ্রেসের ঘুঁটি এখানে কমল নাথ এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
একটা বিষয় অবশ্য উল্লেখ করতেই হবে, পাঁচ রাজ্যেই কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের দিকে তাকিয়েই ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু রাজস্থানে ভোটটা মুখ্যমন্ত্রীর বিপক্ষে পড়তে পারে। বাকি সর্বত্র তাঁরাই হিরো। ক্ষমতাসীন দলের প্রধান মুখ। তা সে কেসিআর হোন, রামন সিং, শিবরাজ সিং চৌহান বা লাল থানওয়ালা, প্রত্যেকেরই ক্রাউড পুল রয়েছে। যথেষ্ট জনপ্রিয় তাঁরা প্রত্যেকেই। এরপর বাকি রইল আর একটি মোক্ষম প্রশ্ন—মোদিঝড় কি আছে? বোধহয় না। গত লোকসভা নির্বাচনে যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক লড়াইটা দেশজুড়ে হয়েছিল, তাঁর সরাসরি প্রভাব অনেকটাই স্তিমিত। গুজরাতে অবশ্য শেষ মুহূর্তে ম্যারাথন প্রচার চালিয়ে মোদিই বিজেপির পক্ষে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গুজরাত তাঁর নিজভূম। কাজেই এই পাঁচ রাজ্যে আবার পরীক্ষা হতে চলেছে তাঁর ‘ঝড়ে’র। এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে নোট বাতিল, জিএসটি, রাফাল দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং পেট্রল-ডিজেল। মূলত অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে তাঁর সরকার ফাঁপরে। অথচ, সাধারণ মানুষকে সাধারণভাবে বোঝানোর মতো কোনও দুঁদে অফিসার মোদির সরকারে নেই। যিনি সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন, সরকারি নীতিগুলি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেবেন এবং সেগুলিই খবরের কাগজ বা চ্যানেলওয়ালারা বিশ্বাস করে ছাপবে। নরেন্দ্র মোদির কাছে কিন্তু ব্রজেশ মিশ্রর মতো কোনও ডাকসাইটে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিও নেই। যা ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ির। অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন, বিজেপির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সমঝোতা বজায় রাখনেওয়ালা, বিদেশনীতির সমঝদার এবং অসম্ভব ভালো জনসংযোগকারী। এই সবকটি গুণ ছিল ব্রজেশ মিশ্রর। নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয়ই এমন একজন আমলার অভাব অনুভব করেন। সুতরাং, আমলাতন্ত্র দিয়ে হবে না। বিজেপিকে যদি আবার গোটা দেশের জনসমর্থনের হাওয়া নিজেদের দিকে ঘোরাতে হয়, তাহলে মোদিঝড় ফিরিয়ে আনতে হবে। যা এই মুহূর্তে একটু কঠিন। একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এই মুহূর্তে জাতীয় স্তরে মোদির সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো নেতা-নেত্রী খুব কম আছেন। কিন্তু যদি মহাজোট বাস্তব রূপ পায় এবং মমতার একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের ফর্মুলাকে সব আঞ্চলিক দল ও কংগ্রেস প্রয়োগ করে, তাহলে মোদি ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য। আর হ্যাঁ, পাঁচ রাজ্যের এই বিধানসভা ভোট, অর্থাৎ সেমি-ফাইনালে অন্তত তিন রাজ্যে বিজেপি হেরে গেলে কিন্তু বুঝতেই হবে, লোকসভা ভোটের যুদ্ধ মোদির জন্য আর সহজ নয়। আঞ্চলিক দলগুলি তখন সংসদের লড়াইতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেগ দেওয়ার ক্ষমতা বিজেপি সম্পূর্ণ হারাবে। তেমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনই যদি তৃণমূল দখল করে, সেটাও আশ্চর্যের হবে না।
কাজেই এই মুহূর্তে কোমর বেঁধে আসরে মোদি-অমিত জুটি। গত চার বছরের অতীতে বহুবার যাঁরা যাবতীয় সমীকরণ উল্টে দিয়েছেন। আপাতত ৬৭৯টি বিধানসভা আসনের জন্য তাঁদের লড়াই। আর তার ভিতের উপর দাঁড়িয়েই পরের বছর ৫৪৫টি লোকসভা কেন্দ্র। এই পাঁচ রাজ্যে লড়াইয়ে যদি বিজেপি পিছিয়ে পড়ে? কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির পোয়াবারো। ও হ্যাঁ, তারপরও অবশ্য আস্তিনে একটা তাস মোদির থেকেই যাবে। চিরাচরিত দেশাত্মবোধের মোড়কে পাকিস্তান বিরোধিতা। ওটা কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই মিরাকিউরাল। তেমন কিছুর ঘুঁটিই কি মোদি সাজাচ্ছেন? সে উত্তর রাম জানেন। আমাদের আপাতত অপেক্ষা ১১ ডিসেম্বরের!
30th  November, 2018
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

19th  March, 2019
মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে।  বিশদ

16th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

15th  March, 2019
অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
একনজরে
 সুব্রত ধর, গড়াইমারি (ডোমকল), বিএনএ: লোকসভা ভোটের মুখে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সোমবার রাতে ভোটপ্রচার সেরে উপপ্রধানের সঙ্গে বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথে ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের আলতাব শেখ (৪৫)খুন হন। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোট পণ্যবাহী ট্রাকের বাজারের ৬৬ শতাংশ দখল করে নিল টাটা। তারা জানিয়েছে, টাটা এস ক্যাটিগরিতে মোট ২০ লক্ষ গাড়ি বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি এক বছর পূর্ণ করল টাটা এস গোল্ড। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: প্রায় ২৪ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর পুকুর থেকে অভিজিৎ মণ্ডল (৪০) নামে এক শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে চুঁচুড়ার ফুলপুকুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্বাদশ আইপিএলের ফাইনাল হবে সম্ভবত ১২ মে চেন্নাইয়ে। সোমবার আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বের ক্রীড়াসূচি প্রকাশ করেছে বিসিসিআই। ৫ মে পর্যন্ত রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে আটটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। প্লে-অফের পূর্ণ ক্রীড়াসূচি এখনও ঘোষণা করেনি বিসিসিআই। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আপনার মনে ধর্মভাব জাগ্রত হবে। কর্মপ্রার্থীরা কর্মের সুযোগ পাবেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা হবে। অর্থ নিয়ে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭২৬- বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের মৃত্যু
১৮২৮- নরওয়ের নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের জন্ম
১৮৫২- হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর ‘আঙ্কল টমাস কেবিন’ প্রকাশিত হল
১৯১৬- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বের প্রকাশ
১৯৫১- ক্রিকেটার মদনলালের জন্ম
১৯৫২- টেনিস খেলোয়াড় আনন্দ অমৃতরাজের জন্ম
১৯৬৬- গায়িকা অলকা ইয়াগনিকের জন্ম
২০০৩- ফুটবলার কৃশানু দে’র মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬৯ টাকা ৯২.৯৭ টাকা
ইউরো ৭৬.৬১ টাকা ৭৯.৫৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৪৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৮০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,২৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩০ দিবা ১০/৪৫। পূর্বফাল্গুনী ২৬/২০ অপঃ ৪/১৭। সূ উ ৫/৪৫/১১, অ ৫/৪৩/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১ মধ্যে পুনঃ ৯/৪৪ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ১/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৪ গতে ৪/১৪ মধ্যে।
৫ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ৯/৩৯/৫২। পূর্বফাল্গুনীনক্ষত্র সন্ধ্যা ৩/৪৫/১৪, সূ উ ৫/৪৫/৩৪, অ ৫/৪২/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১/১২ মধ্যে ও ৯/৪৪/৩৯ থেকে ১১/২০/১৭ মধ্যে ও ৩/১৯/২২ থেকে ৪/৫৫/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩১/০ থেকে ৮/৫৫/৩৩ মধ্যে ও ১/৪৪/৩৯ থেকে ৫/৪৪/৩৫ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪৪/১১ থেকে ১/১৩/৫১ মধ্যে, কালবেলা ৮/৪৪/৫৩ থেকে ১০/১৪/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৪/৫৩ থেকে ৪/১৫/১৪ মধ্যে।
 ১২ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের ময়দানে তরুণ ক্রিকেটারের মৃত্যু 
খেলতে গিয়ে ফের মৃত্যু ময়দানে। এদিন খেলা চলাকালীন বাটার মাঠে ...বিশদ

01:52:56 PM

বাঁকুড়ার সালতোরায় প্রচুর জিলেটিন স্টিক উদ্ধার 

01:46:00 PM

গোয়া: আস্থাভোটে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত 

01:04:41 PM

বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগ: কমিশনে বিএসএফের আইজি 
কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগে গতকাল রিপোর্ট চাওয়ার পর এদিন বিএসএফের ...বিশদ

12:45:00 PM

লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বিএসপি প্রধান মায়াবতী 

12:38:38 PM

তুরস্কে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.৪ 

12:33:00 PM