Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আঞ্চলিক রাজনীতি বনাম মোদি, নির্ধারক কিন্তু পাঁচ রাজ্যই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মাসখানেক আগেও চারমিনার চত্বর ছাড়া গোটা হায়দরাবাদে একটাও রাজনৈতিক পোস্টার বা ফ্লেক্স চোখে আসেনি। যাও বা নজরে এসেছে, মেরেকেটে খান দশেক। আমরা এমন রাজ্যের বাসিন্দা, যেখানে সকালের চা থেকে ডিনার শেষ করে মুখ ধোওয়া পর্যন্ত মন এবং মস্তিষ্কের আনাচে কানাচে রাজনীতি ঘোরাফেরা করে। কাজেই এমন একটা ভোট-উদাসীন শহর তো অবাক করবেই! যেখানে বিধানসভা নির্বাচনের তারিখটা পর্যন্ত ঘোষণা হয়ে গিয়েছে! স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে কিছুটা অবাক চাউনির মুখে পড়তে হল। এত তাড়াতাড়ি কেন গোছের দৃষ্টি আর কী! অনেক সময় আছে। আর বেশিরভাগ লোকজনেরই এক ধারণা, বাকিরা যতই প্রচার করুক, ক্ষমতায় তো কেসিআরই আসছেন। মানুষ যখন এতটাই নিশ্চিত, তাহলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে, ১১৯টির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির ঝুলিতে ঢুকছে। বিজেপি বা কংগ্রেস এখানে দাঁত ফোটাতে পারবে না। কিন্তু কেন? নামজাদা এক কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বাঙালি। বছর দশেক ধরে ওই সংস্থায় কাজ করেন। তার মধ্যে সাত বছরই হায়দরাবাদে। সাফ বললেন, ‘ডেভেলপমেন্ট। উন্নয়ন। এখানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস মানে কোনও লোক দেখানো প্রচার অভিযান নয়! কাজটা সত্যি হয়। আর সেইসঙ্গে ইনফ্রাস্ট্রাকচার। ভালোভাবে কাজ করতে গেলে একটা কোম্পানির ঠিক যা যা সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তার সবটা এখানে পাওয়া যায়। তাই শিল্পের এত রমরমা। ভোট চাইতে যাওয়াটাও তাই টিআরএসের এমএলএ বা প্রার্থীদের কাছে একদম অন্যরকম। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের নামে চারটে বাজে কথা বলাটা সাধারণত রেয়ার। বরং এঁরা স্পষ্ট বলেন, গত ভোটে আপনাদের কাছে এই দশটা কাজ করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। মিলিয়ে দেখুন এই ছ’টা করেছি। আর চারটে হয়নি। সময় দিন, এগুলো তো করে দেবই, পাশাপাশি আরও অমুক অমুক পরিষেবা আপনাদের দেব।’
অর্থাৎ এই রাজ্যে টিআরএসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এই ৭ ডিসেম্বরের ভোটে অন্তত সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। চন্দ্রশেখর রাওই সর্বেসর্বা। সেই কেসিআর, যিনি ফেডারেল ফ্রন্টের দাবি নিয়ে নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন। আর তারপরই তাঁর সঙ্গে বিজেপির সখ্যের পাখি ডানা মেলেছিল। তাতে দেশজুড়ে নতুন ফ্রন্ট গঠনের আশায় থাকা আঞ্চলিক এবং জাতীয় দলগুলির মুখ কালো হয়েছিল ঠিকই, তাঁর ভোটব্যাঙ্কে এতটুকু প্রভাব পড়েনি। সেটা তিনি বিলক্ষণ জানেন বলেই নরেন্দ্র মোদির দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বুঝেছিলেন, রাজ্যের মানুষর উন্নয়ন যদি করতে পারেন, তাহলে সঙ্গে কংগ্রেস থাকল না বিজেপি, ভোটাররা দেখবেন না। এমনিতেই আবার কংগ্রেসের উপর কেসিআরের একটু অ্যালার্জি রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক আশা না ছেড়ে তেলেঙ্গানায় জোরকদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে হাতপার্টি।
জোরকদমে বোঝা যাচ্ছে কীভাবে? শুধু এই রাজ্যেই প্রচারে অংশ নিচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী। এক মঞ্চে দেখা যাচ্ছে মা-ছেলেকে। যদি কিছু করা যায়! লক্ষ্য শুধু এই বিধানসভা ভোট নয়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনও। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যের ভোটের মধ্যে দু’চোখ বুজে কংগ্রেসের পাল্লা ভারী রাজস্থানে। অধিকাংশ জনমত সমীক্ষাই দাবি করছে, হেলায় ক্ষমতা দখল করবে কংগ্রেস। গত নির্বাচনে মাত্র ২১টি বিধানসভা আসন পাওয়া সত্ত্বেও। কেন? প্রথমত, রাজস্থানের ভোটারদের মধ্যে পাঁচ বছর অন্তর সরকারি পার্টি বদলের একটা ধারা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার প্রতি অনাস্থা। তাই ২০০ আসনের মরুরাজ্যে কংগ্রেসের শিকে ছিঁড়তেই পারে। তা সে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শচীন পাইলট থাকুন, বা অশোক গেহলট। ভোটটা যত না তাঁদের পক্ষে পড়বে, তার থেকে অনেক বেশি মহারানির বিপক্ষে পড়বে বলেই ধারণা। মিজোরাম নিয়ে বরং কিছুটা টেনশন রাহুল গান্ধীদের থাকতেই পারে। বিজেপি যেভাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে টার্গেট করে তেড়েফুঁড়ে নেমেছে, তাতে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট, মিজোরাম পিপলস কনফারেন্স এবং জোরাম ন্যাশনালিস্ট পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে অমিত শাহ যদি সরকার গড়ে ফেলেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু হবে না। গত বিধানসভা ভোটে এই রাজ্যে কংগ্রেসের ছিল ৪৪.৬৩ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ বাকি সব ভোট এক করলে কিন্তু জোট সরকার হয়েই যায়।
বাকি রইল আর দু’টি রাজ্য—ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশ। যে দুটিতে ইতিমধ্যেই ভোট হয়ে গিয়েছে। এই পাঁচের মধ্যে শুধু ছত্তিশগড়েই হয়েছে দু’দফায় ভোট। কারণ? মাওবাদী। ভোট বয়কটের ডাক এবং নির্বাচন শুরুর ঠিক আগে মুহুর্মুহু নাশকতার মাধ্যমে মাওবাদীরা বুঝিয়ে দিয়েছিল, নির্বাচন খুব একটা তুলোয় মোড়া হবে না। কিন্তু দিনের শেষে হাতে আসা পরিসংখ্যানটা নেহাৎ ফেলে দেওয়ার মতো নয়! ছত্তিশগড়ে দু’দফা মিলিয়ে মোট ভোট পড়ল প্রায় ৭৫ শতাংশ। তার মধ্যে মাওবাদী অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতেই ৭৬.৪২ শতাংশ। আর মধ্যপ্রদেশে বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন উৎসবে ভোট পড়ল ৭৪.৬১ শতাংশ। গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি। এই পরিসংখ্যানটাও কিন্তু বিজেপিকে উদ্বেগে ফেলতেই পারে! আর কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলতে পারে মিজোরাম। কারণ, এই রাজ্যে কিন্তু রেকর্ড ৭৫ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে।
কেন এই উদ্বেগ? কারণ এত বেশি মাত্রায় ভোটাররা বুথমুখো হওয়ায় প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে, তাহলে কি এবার প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোটের জাঁতাকলে আটকে পড়তে চলেছে বিজেপি? এমনিতে প্রায় বছর খানেক আগে থেকে একটা বিশ্লেষণমূলক প্রচার জোরকদমে চলছে, এই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনই আসলে আসন্ন লোকসভা ভোটের সেমি-ফাইনাল। এই ভোটযুদ্ধে যে দল বা যে জোট তার শক্তি প্রদর্শন করতে পারবে, তারাই অ্যাডভান্টেজ সংসদ। কিন্তু সত্যি যদি ছত্তিশগড়ে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ভোটের হাওয়া বয়ে থাকে, তাহলে বিজেপির হাত থেকে রাজ্যটি যেতে বসেছে। প্রথম দফায় যে ১৮টি আসনে এই রাজ্যে ভোট হয়েছিল, তার অধিকাংশই কংগ্রেসের শক্ত গড়। বিজেপি বিরোধী ভোট এই কেন্দ্রগুলিতে বেশিমাত্রায় পড়াটা খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফাতেও তো প্রায় ৭৩ শতাংশ! এখানে ভাবনার বিষয় রয়েছে বইকি! তাও এখনই পরিস্থিতি ৫০-৫০ ছাড়া অন্য কিছু বলা যাচ্ছে না। একই অবস্থা মধ্যপ্রদেশেরও। এখানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! কংগ্রেসের ঘুঁটি এখানে কমল নাথ এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
একটা বিষয় অবশ্য উল্লেখ করতেই হবে, পাঁচ রাজ্যেই কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীদের দিকে তাকিয়েই ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু রাজস্থানে ভোটটা মুখ্যমন্ত্রীর বিপক্ষে পড়তে পারে। বাকি সর্বত্র তাঁরাই হিরো। ক্ষমতাসীন দলের প্রধান মুখ। তা সে কেসিআর হোন, রামন সিং, শিবরাজ সিং চৌহান বা লাল থানওয়ালা, প্রত্যেকেরই ক্রাউড পুল রয়েছে। যথেষ্ট জনপ্রিয় তাঁরা প্রত্যেকেই। এরপর বাকি রইল আর একটি মোক্ষম প্রশ্ন—মোদিঝড় কি আছে? বোধহয় না। গত লোকসভা নির্বাচনে যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক লড়াইটা দেশজুড়ে হয়েছিল, তাঁর সরাসরি প্রভাব অনেকটাই স্তিমিত। গুজরাতে অবশ্য শেষ মুহূর্তে ম্যারাথন প্রচার চালিয়ে মোদিই বিজেপির পক্ষে হাওয়া ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গুজরাত তাঁর নিজভূম। কাজেই এই পাঁচ রাজ্যে আবার পরীক্ষা হতে চলেছে তাঁর ‘ঝড়ে’র। এর মধ্যে ঢুকে পড়েছে নোট বাতিল, জিএসটি, রাফাল দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং পেট্রল-ডিজেল। মূলত অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে তাঁর সরকার ফাঁপরে। অথচ, সাধারণ মানুষকে সাধারণভাবে বোঝানোর মতো কোনও দুঁদে অফিসার মোদির সরকারে নেই। যিনি সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন, সরকারি নীতিগুলি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেবেন এবং সেগুলিই খবরের কাগজ বা চ্যানেলওয়ালারা বিশ্বাস করে ছাপবে। নরেন্দ্র মোদির কাছে কিন্তু ব্রজেশ মিশ্রর মতো কোনও ডাকসাইটে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিও নেই। যা ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ির। অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন, বিজেপির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সমঝোতা বজায় রাখনেওয়ালা, বিদেশনীতির সমঝদার এবং অসম্ভব ভালো জনসংযোগকারী। এই সবকটি গুণ ছিল ব্রজেশ মিশ্রর। নরেন্দ্র মোদি নিশ্চয়ই এমন একজন আমলার অভাব অনুভব করেন। সুতরাং, আমলাতন্ত্র দিয়ে হবে না। বিজেপিকে যদি আবার গোটা দেশের জনসমর্থনের হাওয়া নিজেদের দিকে ঘোরাতে হয়, তাহলে মোদিঝড় ফিরিয়ে আনতে হবে। যা এই মুহূর্তে একটু কঠিন। একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এই মুহূর্তে জাতীয় স্তরে মোদির সঙ্গে টক্কর দেওয়ার মতো নেতা-নেত্রী খুব কম আছেন। কিন্তু যদি মহাজোট বাস্তব রূপ পায় এবং মমতার একের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ের ফর্মুলাকে সব আঞ্চলিক দল ও কংগ্রেস প্রয়োগ করে, তাহলে মোদি ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য। আর হ্যাঁ, পাঁচ রাজ্যের এই বিধানসভা ভোট, অর্থাৎ সেমি-ফাইনালে অন্তত তিন রাজ্যে বিজেপি হেরে গেলে কিন্তু বুঝতেই হবে, লোকসভা ভোটের যুদ্ধ মোদির জন্য আর সহজ নয়। আঞ্চলিক দলগুলি তখন সংসদের লড়াইতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেগ দেওয়ার ক্ষমতা বিজেপি সম্পূর্ণ হারাবে। তেমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনই যদি তৃণমূল দখল করে, সেটাও আশ্চর্যের হবে না।
কাজেই এই মুহূর্তে কোমর বেঁধে আসরে মোদি-অমিত জুটি। গত চার বছরের অতীতে বহুবার যাঁরা যাবতীয় সমীকরণ উল্টে দিয়েছেন। আপাতত ৬৭৯টি বিধানসভা আসনের জন্য তাঁদের লড়াই। আর তার ভিতের উপর দাঁড়িয়েই পরের বছর ৫৪৫টি লোকসভা কেন্দ্র। এই পাঁচ রাজ্যে লড়াইয়ে যদি বিজেপি পিছিয়ে পড়ে? কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির পোয়াবারো। ও হ্যাঁ, তারপরও অবশ্য আস্তিনে একটা তাস মোদির থেকেই যাবে। চিরাচরিত দেশাত্মবোধের মোড়কে পাকিস্তান বিরোধিতা। ওটা কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই মিরাকিউরাল। তেমন কিছুর ঘুঁটিই কি মোদি সাজাচ্ছেন? সে উত্তর রাম জানেন। আমাদের আপাতত অপেক্ষা ১১ ডিসেম্বরের!
30th  November, 2018
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 সুদেব দাস, আরামবাগ, বিএনএ: মঙ্গলবার গভীর রাতে আরামবাগের আরাণ্ডি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে বুধবার সকালে ওই পঞ্চায়েতের ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কলকাতায় ঘোরার পর মন্দিরে পুজো দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কন্টেনারের পিছনে প্রাইভেট গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল ওড়িশার বাসিন্দা চার আরোহীর। বুধবার ভোরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে সাঁকরাইল থানার ধূলাগড়ে। ...

 নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশে ব্যবসায়ী অপহরণের মামলায় সমাজবাদী পার্টি (সপা)’র প্রাক্তন এমপি আতিক আহমেদের বাড়িতে তল্লাশি চালালো সিবিআই। গতমাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আহমেদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্তকারী সংস্থা। ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: সরকারি জমি হস্তান্তরের অভিযোগে ৫-৭ জন বিএলএলআরও এবং রেভিনিউ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল ভূমি রাজস্ব দপ্তর। জমি দুর্নীতি নিয়ে নবান্নে বেশ কিছু অভিযোগ আসে। বহু জায়গাতেই সরকারি জমি হাতবদল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় গ্রিভান্স সেলে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার জন্য স্থান পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণামূলক কাজে সাফল্য আসবে। কর্মপ্রার্থীরা কোনও শুভ সংবাদ পেতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৯: কবি বিষ্ণু দের জন্ম
১৯১৮: দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষী আন্দোলনের নেতা তথা সে দেশের প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম
১৯২৭:সঙ্গীতশিল্পী মেহেদি হাসানের জন্ম
১৯৪৯: ক্রিকেটার ডেনিস লিলির জন্ম
১৯৮২: অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জন্ম,
২০১২: অভিনেতা রাজেশ খান্নার মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯০ টাকা ৬৯.৫৯ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৮৬ টাকা ৮৬.৯৯ টাকা
ইউরো ৭৫.৫৪ টাকা ৭৮.৬৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয়া অহোরাত্র। শ্রবণা ৫১/১১ রাত্রি ১/৩৪। সূ উ ৫/৫/৩৯, অ ৬/১৯/৫৪, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭ গতে ২/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪০ গতে ১/৩ মধ্যে।
১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয়া ৫৯/৪৩/২৬ শেষরাত্রি ৪/৫৮/১০। শ্রবণানক্ষত্র ৪৮/২৭/৩৪ রাত্রি ১২/২৭/৫০, সূ উ ৫/৪/৪৮, অ ৬/২২/১৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮ গতে ৩/০ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪২/৩২ গতে ৬/২২/১৩ মধ্যে, কালবেলা ৩/২/৫২ গতে ৪/৪২/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪৩/৩১ গতে ১/৩/৫০ মধ্যে।
১৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কুলভূষণ মামলার রায় ভারতের পক্ষেই
কুলভূষণ মামলার রায় ভারতের পক্ষেই গেল। আজ এই ...বিশদ

17-07-2019 - 06:47:00 PM

এবার বদল গোয়েন্দা প্রধান 
এবার কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠিকে সরিয়ে দেওয়া হল। ...বিশদ

17-07-2019 - 06:14:52 PM

মেট্রোয় মৃত্যু: পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে ফরেন্সিক দল 

17-07-2019 - 01:46:47 PM

ফের বর্ধমানের গোদায় কাটমানি ফেরতের দাবিতে পোস্টার 

17-07-2019 - 01:27:52 PM

ইসলামপুরে যুবককে লক্ষ্য করে গুলি 
প্রকাশ্যে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ইসলামপুরে। ...বিশদ

17-07-2019 - 01:15:24 PM

গ্রেপ্তার হাফিজ সঈদ  

17-07-2019 - 12:56:04 PM