Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোট সমীক্ষার ভ্রান্ত দিগ্‌নির্দেশ
শুভময় মৈত্র

আমরা সকলেই তাকিয়ে আছি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের দিকে। অবশ্যই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কংগ্রেস আর বিজেপি এই নির্বাচনে কেমন ফল করতে চলেছে। তবে অন্যান্য দলগুলিকেও একেবারে ভুলে থাকা ঠিক হবে না। কারণ এর মধ্যে অনেক রাজ্যেই লড়ছে বিএসপি, যাদের ভোট কোথাও কোথাও পাঁচ শতাংশের বেশি। জাতীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের অবস্থা এই সহস্রাব্দের শুরুর দিকে যতটা ভালো ছিল, আজকে পরিস্থিতি তার থেকে অনেকটা খারাপ হলেও এই দলগুলিকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে যা খবর শোনা যাচ্ছে তাতে রাজস্থানে পাল্লা ভারী কংগ্রেসের। ছত্তিশগড় আর মধ্যপ্রদেশে তুল্যমূল্য লড়াই। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেসের ফল হয়তো আরও ভালো হতো বিরোধীদের মহাজোট হলে। কিন্তু তা হয়নি। ফলে বিরোধীদের ভোট যদি ভাগ হয় তাহলে আসনের হিসেবে বিজেপি কিছু সুবিধে পেতেই পারে। মিজোরামে ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস, তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে বিজেপি আজকাল স্থানীয় দলগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে যখন তখন সরকার গড়ে ফেলছে। সেই হিসেবে অবশ্যই কংগ্রেসের কাছে মিজোরামের লড়াই সহজ নয়। শেষে আলোচনা করা যাক তেলেঙ্গানার কথা। এখানে লড়াই টিআরএস এর সঙ্গে মহাজোটের, যাতে আছে কংগ্রেস, টিডিপি (তেলুগু দেশম পার্টি), সিপিআই আর তেলেঙ্গানা জন সমিতি। কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর) এর নেতৃত্বে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস) ক্ষমতায় আছে তেলেঙ্গানায়। বিধানসভা ভোট মাসছয়েক আগে এগিয়ে এনে সূক্ষ্ম চাল দিয়েছে তারা। অন্যদিকে একসঙ্গে থেকে ভালোই লড়াই করছে মহাকুটামি (মহাজোট)।
এই রাজ্যগুলিতে লোকসভার হিসেবে আসন সংখ্যা কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার মত নয়। সব মিলিয়ে লোকসভার আসন ৮৩ টি, রাজস্থান ২৫, মধ্যপ্রদেশ ২৯, ছত্তিশগড় ১১, তেলেঙ্গানা ১৭ আর মিজোরাম ১। মনে রাখতে হবে এগুলি কিন্তু বিধানসভা আসনের সংখ্যা নয়। বিধানসভার হিসেবে রাজস্থানে আসন ২০০, মধ্যপ্রদেশে ২৩০, ছত্তিশগড়ে ৯০, তেলেঙ্গানা ১১৯ আর মিজোরাম ৪০। অর্থাৎ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই রাজ্যগুলির ভোটফল অবশ্যই ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সুস্পষ্ট দিগ্‌নির্দেশ করবে। ভোট যখন হচ্ছে, তখন সমীক্ষা তো হবেই। সমীক্ষার ভিত্তি হল রাশিবিজ্ঞান। এক একটি রাজ্যের ভোটার সংখ্যা সাধারণত কয়েক কোটি, ছোট রাজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক লক্ষ। তার মধ্যে সাধারণত দুই-তিন হাজার থেকে কুড়ি-পঁচিশ হাজার মানুষের মতামত নেওয়া হয় ভোট সমীক্ষার জন্যে। সেই মানুষগুলোর মতামত থেকে স্থির করা হয় সমগ্র রাজ্য কিংবা দেশে কী হতে চলেছে। সমীক্ষায় যেহেতু অল্প কিছু মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে, তাই সত্যিকারের ফলাফলের সঙ্গে তার পার্থক্য থাকবেই। সোজা বাংলায় সমীক্ষার ফল মিলতেও পারে, আবার নাও মিলতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। ফলিত বিজ্ঞানের একটা বড় অংশের কাজই হচ্ছে ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে তার আভাস দেওয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাতে ভুল হতেই পারে। আমাদের দেশে নির্বাচনী সমীক্ষা সরাসরি আসন সংখ্যার হিসেবে হয় না। শুরুতে কোন দল কত ভোট পেতে পারে তার একটা সম্ভাব্য হিসেব করা হয়। সেখান থেকে অনুমান করা হয় আসনের সংখ্যা। এটা বুঝতে হবে যে ভোট শতাংশ এবং আসন সংখ্যার হিসেব সরলরৈখিক নয়। সাধারণভাবে যে দল বেশি ভোট পায় তারাই বেশি আসন পেয়ে থাকে। মোটামুটিভাবে বিজয়ী দল যদি দ্বিতীয় দলের থেকে পাঁচ শতাংশ ভোট বেশি পায় তাহলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। এর কারণ ভোটের এই পার্থক্যের প্রভাব শুধু একটি আসনের হিসেবে হয় না, তা হয় মোটামুটিভাবে সারা রাজ্যের ভোটবিন্যাসের ভিত্তিতে। রাজ্যজুড়ে ভোটের যে সামঞ্জস্য, তার নিরিখেই জেতা-হারা ঠিক হয়। তবে লড়াই যখন হাড্ডাহাড্ডি, তখন কিন্তু এই হিসেব কাজ করে না। সমীক্ষার তাত্ত্বিক অঙ্কেই জানা আছে যে সাধারণত তিন শতাংশের মত ভুল থাকবে। সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির মধ্যে ভোটের ভাগ যদি হয় খুব কাছাকাছি (তিন শতাংশের কম), তাহলে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা সঠিকভাবে করেও কোন সুবিধা হয় না। এবার মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের ক্ষেত্রে সমীক্ষাগুলি বলছে যে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভোট পার্থক্য থাকবে ভীষণ কম। সেক্ষেত্রে বিনোদনের জন্যে সমীক্ষা হতেই পারে, কিন্তু সেই ফলের ওপর নির্ভরতা রাখা উচিত নয়।
এতক্ষণ তো কথা হল সৎ এবং বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষার বিষয়ে। তার খরচ একটু দেখে নেওয়া যাক। দশ হাজার লোকের কাছে প্রশ্নপত্র নিয়ে গিয়ে তাদের মতামত জানার খরচ প্রতি ভোটারের ক্ষেত্রে অন্তত একশো টাকা। এর কারণ এক জায়গায় একগাদা লোকের কাছ থেকে মতামত নিলে সমীক্ষায় প্রচুর ভুল হয়। ফলে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের খরচ আছে। আর মানুষের কাছে না পৌঁছে টেলিফোন কিংবা ইন্টারনেটে মতামত জানলে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। দশ হাজারকে একশো দিয়ে গুণ করলে হয় দশ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে দরকার তথ্যরাশি কম্পিউটার-এ ভরে সংখ্যার কাটাছেঁড়া। আজকের দিনে কয়েকজন রাশিবিজ্ঞানীকে জোগাড় করে এই ধরনের কাজ করানোর খরচ যথেষ্ট। সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার যে ভালো কোনও সমীক্ষা করতে গেলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। একটু নজর রাখলেই দেখা যাবে যে অনেক সংবাদমাধ্যম পরপর বেশ কয়েকটি সমীক্ষার ফল প্রকাশ করছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে খরচটা কোটির অঙ্কে। টাকার কথা তো হল। এর পর আছে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যম মানেই নিরপেক্ষ, এরকম দুরাশা আজকের দিনে না-করাই ভালো। ঠিক কীভাবে, কোথায়, কত টাকা খরচ করে, কাদের দিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে, সেই সব তথ্য না জানালে সমীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। সেই জন্যেই তো প্রত্যেক নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা ফলাফল অনেকটাই আলাদা হয়। বিনোদন হিসেবে সমীক্ষার গল্প শুনতে অসুবিধে নেই, কিন্তু ফলিত বিজ্ঞান হিসেবে একে মেনে না-নেওয়াই ভালো। রাশিবিজ্ঞানের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী সমীক্ষা করলে বিভিন্ন সংস্থার ফলাফলে বিপুল পার্থক্য হওয়ার কথা নয়। এই প্রেক্ষিতে আমরা উদাহরণ হিসেবে দেখব তেলেঙ্গানা নিয়ে সাম্প্রতিক দুটি ভিন্ন সমীক্ষার ফলাফল, যা নিয়ে আলোচনা চলছে প্রচুর।
আমরা আগেই বলেছি তেলেঙ্গানায় মূল লড়াই টিআরএস আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটের। এখানে এককভাবে লড়াইতে আছে বিজেপি আর আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমেন)। সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলি প্রকাশ করেছে একাধিক নামজাদা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। কয়েকদিন আগে হওয়া যে সমীক্ষার (এবিপি নিউজ-রিপাবলিক টিভি) খবর প্রথম পাওয়া যায় তাতে আমরা জানতে পারি যে টিআরএস পেতে পারে মাত্র ৪২টি আসন আর বিরোধী মহাজোট পাবে ৬৪ টি। অর্থাৎ সম্ভবত ক্ষমতায় আর থাকতে পারবে না কেসিআর-এর নেতৃত্বাধীন টিআরএস। মোট আসন এখানে ১১৯, ফলে ৬০টি আসন জোগাড় হলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব।
কিন্তু অন্য একটি সমীক্ষার (সিএনএক্স-টাইমস নাও) ফল প্রকাশিত হয়েছে আর একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। তারা বলছে টিআরএস পাবে ৭০টি আসন, আর বিরোধী জোট পাবে ৪০-এর সামান্য বেশি। আসনের হিসেবে এত পার্থক্য হওয়া ভীষণ গোলমেলে ঘটনা। দু-একজন বিশ্লেষক বলছেন যে বিরোধী চার দলের জোটের ভোট শতাংশ একসঙ্গে যোগ করে হিসেব করা হয়নি দ্বিতীয় সমীক্ষায়। তাই নাকি তাদের আসনের হিসেব কম এসেছে। এটা অবশ্যই পদ্ধতির ভুল হিসেব বলে ধরে নেওয়া যেত। কিন্তু তথ্য ঘাঁটলে আরও এক অবাক করার মত বিষয় দেখা যাচ্ছে। প্রথম সমীক্ষাটি বলছে, টিআরএস পাবে ২৯.৪ শতাংশ ভোট আর বিরোধী মহাজোট দখল করবে ৩৩.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় সমীক্ষাটি বলছে টিআরএস পাবে ৩৭.৫ শতাংশ ভোট আর বিরোধী কংগ্রেস পাবে প্রায় ২৮%। জোটের ভোট এখানে ঠিক কী ভাবে ধরা হয়েছে সে হিসেব খুব পরিষ্কার নয়। তবে এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে অত্যন্ত নামকরা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি টিআরএস-এর ভোট শতাংশ নিয়ে সম্পূর্ণ দু-ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করছে। একজন বলছে, তিরিশ শতাংশের কম আর অন্যজন বলছে সাঁইত্রিশ শতাংশের বেশি। ভোট সমীক্ষায় আসনের হিসেবে কিছুটা তফাত হতেই পারে (যদিও এক্ষেত্রে আসনের অনুমান বিপুলভাবে আলাদা), কারণ আমরা আগেই বলেছি, ভোট শতাংশ আর আসনের হিসেব সরলরৈখিক নয়। কিন্তু, মূলত টিআরএস আর মহাজোট এই দু’পক্ষের লড়াইতে (এখানে বিজেপি বা এআইএমআইএম খুব বেশি ভোট বা আসন পাবে না একথা মোটামুটি জানাই আছে) শাসক দলের ভোটের অনুমানে আট শতাংশের মত পার্থক্য অবশ্যই রাশিবিজ্ঞানের চোখ কপালে তুলে দেবে।
সমাধান খুব সহজ। এই দুই সমীক্ষা যাঁরা করেছেন তাঁরা মুখোমুখি বসে দেখুন কোথায় গন্ডগোল। রাশিবিজ্ঞানের তত্ত্বের জন্যে যদি এমন ভুল হয় তাহলে সেই অঙ্ক ভোটসমীক্ষা নিয়ে গবেষণার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আর সমীক্ষার নিয়মে যদি ভুল হয় (সম্ভবত সেটাই ঘটেছে), সেক্ষেত্রে তার থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সেই ভুল যে হয়েছে তা অবশ্যই জানানো উচিত জনগণকে। তা না-হলে সাধারণ মানুষ কিন্তু ভোট সমীক্ষায় একধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সেটাই ধরে নিতে হবে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির কাছে এ মোটেই গর্বের বিষয় নয়।
লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মতামত ব্যক্তিগত
29th  November, 2018
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতীয় দলের নতুন কোচিং স্টাফ নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করেছে বিসিসিআই। আর সেই কারণে ক্রিকেট দুনিয়ায় জোর গুঞ্জন, নিউজিল্যান্ডের কাছে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ...

 সুদেব দাস, আরামবাগ, বিএনএ: মঙ্গলবার গভীর রাতে আরামবাগের আরাণ্ডি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে বুধবার সকালে ওই পঞ্চায়েতের ...

  সংবাদদাতা, ইসলামপুর: উত্তর দিনাজপুর জেলার সমস্ত স্কুলে মশাবাহিত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা শিবির চলছে। ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: সরকারি জমি হস্তান্তরের অভিযোগে ৫-৭ জন বিএলএলআরও এবং রেভিনিউ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল ভূমি রাজস্ব দপ্তর। জমি দুর্নীতি নিয়ে নবান্নে বেশ কিছু অভিযোগ আসে। বহু জায়গাতেই সরকারি জমি হাতবদল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় গ্রিভান্স সেলে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার জন্য স্থান পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণামূলক কাজে সাফল্য আসবে। কর্মপ্রার্থীরা কোনও শুভ সংবাদ পেতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৯: কবি বিষ্ণু দের জন্ম
১৯১৮: দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষী আন্দোলনের নেতা তথা সে দেশের প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম
১৯২৭:সঙ্গীতশিল্পী মেহেদি হাসানের জন্ম
১৯৪৯: ক্রিকেটার ডেনিস লিলির জন্ম
১৯৮২: অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জন্ম,
২০১২: অভিনেতা রাজেশ খান্নার মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯০ টাকা ৬৯.৫৯ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৮৬ টাকা ৮৬.৯৯ টাকা
ইউরো ৭৫.৫৪ টাকা ৭৮.৬৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয়া অহোরাত্র। শ্রবণা ৫১/১১ রাত্রি ১/৩৪। সূ উ ৫/৫/৩৯, অ ৬/১৯/৫৪, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭ গতে ২/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪০ গতে ১/৩ মধ্যে।
১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয়া ৫৯/৪৩/২৬ শেষরাত্রি ৪/৫৮/১০। শ্রবণানক্ষত্র ৪৮/২৭/৩৪ রাত্রি ১২/২৭/৫০, সূ উ ৫/৪/৪৮, অ ৬/২২/১৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮ গতে ৩/০ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪২/৩২ গতে ৬/২২/১৩ মধ্যে, কালবেলা ৩/২/৫২ গতে ৪/৪২/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪৩/৩১ গতে ১/৩/৫০ মধ্যে।
১৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কুলভূষণ মামলার রায় ভারতের পক্ষেই
কুলভূষণ মামলার রায় ভারতের পক্ষেই গেল। আজ এই ...বিশদ

17-07-2019 - 06:47:00 PM

এবার বদল গোয়েন্দা প্রধান 
এবার কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠিকে সরিয়ে দেওয়া হল। ...বিশদ

17-07-2019 - 06:14:52 PM

মেট্রোয় মৃত্যু: পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে ফরেন্সিক দল 

17-07-2019 - 01:46:47 PM

ফের বর্ধমানের গোদায় কাটমানি ফেরতের দাবিতে পোস্টার 

17-07-2019 - 01:27:52 PM

ইসলামপুরে যুবককে লক্ষ্য করে গুলি 
প্রকাশ্যে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ইসলামপুরে। ...বিশদ

17-07-2019 - 01:15:24 PM

গ্রেপ্তার হাফিজ সঈদ  

17-07-2019 - 12:56:04 PM