Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোট সমীক্ষার ভ্রান্ত দিগ্‌নির্দেশ
শুভময় মৈত্র

আমরা সকলেই তাকিয়ে আছি পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের দিকে। অবশ্যই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কংগ্রেস আর বিজেপি এই নির্বাচনে কেমন ফল করতে চলেছে। তবে অন্যান্য দলগুলিকেও একেবারে ভুলে থাকা ঠিক হবে না। কারণ এর মধ্যে অনেক রাজ্যেই লড়ছে বিএসপি, যাদের ভোট কোথাও কোথাও পাঁচ শতাংশের বেশি। জাতীয় রাজনীতিতে বামপন্থীদের অবস্থা এই সহস্রাব্দের শুরুর দিকে যতটা ভালো ছিল, আজকে পরিস্থিতি তার থেকে অনেকটা খারাপ হলেও এই দলগুলিকেও উপেক্ষা করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে যা খবর শোনা যাচ্ছে তাতে রাজস্থানে পাল্লা ভারী কংগ্রেসের। ছত্তিশগড় আর মধ্যপ্রদেশে তুল্যমূল্য লড়াই। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেসের ফল হয়তো আরও ভালো হতো বিরোধীদের মহাজোট হলে। কিন্তু তা হয়নি। ফলে বিরোধীদের ভোট যদি ভাগ হয় তাহলে আসনের হিসেবে বিজেপি কিছু সুবিধে পেতেই পারে। মিজোরামে ক্ষমতায় আছে কংগ্রেস, তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে বিজেপি আজকাল স্থানীয় দলগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে যখন তখন সরকার গড়ে ফেলছে। সেই হিসেবে অবশ্যই কংগ্রেসের কাছে মিজোরামের লড়াই সহজ নয়। শেষে আলোচনা করা যাক তেলেঙ্গানার কথা। এখানে লড়াই টিআরএস এর সঙ্গে মহাজোটের, যাতে আছে কংগ্রেস, টিডিপি (তেলুগু দেশম পার্টি), সিপিআই আর তেলেঙ্গানা জন সমিতি। কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর) এর নেতৃত্বে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস) ক্ষমতায় আছে তেলেঙ্গানায়। বিধানসভা ভোট মাসছয়েক আগে এগিয়ে এনে সূক্ষ্ম চাল দিয়েছে তারা। অন্যদিকে একসঙ্গে থেকে ভালোই লড়াই করছে মহাকুটামি (মহাজোট)।
এই রাজ্যগুলিতে লোকসভার হিসেবে আসন সংখ্যা কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার মত নয়। সব মিলিয়ে লোকসভার আসন ৮৩ টি, রাজস্থান ২৫, মধ্যপ্রদেশ ২৯, ছত্তিশগড় ১১, তেলেঙ্গানা ১৭ আর মিজোরাম ১। মনে রাখতে হবে এগুলি কিন্তু বিধানসভা আসনের সংখ্যা নয়। বিধানসভার হিসেবে রাজস্থানে আসন ২০০, মধ্যপ্রদেশে ২৩০, ছত্তিশগড়ে ৯০, তেলেঙ্গানা ১১৯ আর মিজোরাম ৪০। অর্থাৎ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই রাজ্যগুলির ভোটফল অবশ্যই ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সুস্পষ্ট দিগ্‌নির্দেশ করবে। ভোট যখন হচ্ছে, তখন সমীক্ষা তো হবেই। সমীক্ষার ভিত্তি হল রাশিবিজ্ঞান। এক একটি রাজ্যের ভোটার সংখ্যা সাধারণত কয়েক কোটি, ছোট রাজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক লক্ষ। তার মধ্যে সাধারণত দুই-তিন হাজার থেকে কুড়ি-পঁচিশ হাজার মানুষের মতামত নেওয়া হয় ভোট সমীক্ষার জন্যে। সেই মানুষগুলোর মতামত থেকে স্থির করা হয় সমগ্র রাজ্য কিংবা দেশে কী হতে চলেছে। সমীক্ষায় যেহেতু অল্প কিছু মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে, তাই সত্যিকারের ফলাফলের সঙ্গে তার পার্থক্য থাকবেই। সোজা বাংলায় সমীক্ষার ফল মিলতেও পারে, আবার নাও মিলতে পারে। এতে দোষের কিছু নেই। ফলিত বিজ্ঞানের একটা বড় অংশের কাজই হচ্ছে ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে তার আভাস দেওয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাতে ভুল হতেই পারে। আমাদের দেশে নির্বাচনী সমীক্ষা সরাসরি আসন সংখ্যার হিসেবে হয় না। শুরুতে কোন দল কত ভোট পেতে পারে তার একটা সম্ভাব্য হিসেব করা হয়। সেখান থেকে অনুমান করা হয় আসনের সংখ্যা। এটা বুঝতে হবে যে ভোট শতাংশ এবং আসন সংখ্যার হিসেব সরলরৈখিক নয়। সাধারণভাবে যে দল বেশি ভোট পায় তারাই বেশি আসন পেয়ে থাকে। মোটামুটিভাবে বিজয়ী দল যদি দ্বিতীয় দলের থেকে পাঁচ শতাংশ ভোট বেশি পায় তাহলে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। এর কারণ ভোটের এই পার্থক্যের প্রভাব শুধু একটি আসনের হিসেবে হয় না, তা হয় মোটামুটিভাবে সারা রাজ্যের ভোটবিন্যাসের ভিত্তিতে। রাজ্যজুড়ে ভোটের যে সামঞ্জস্য, তার নিরিখেই জেতা-হারা ঠিক হয়। তবে লড়াই যখন হাড্ডাহাড্ডি, তখন কিন্তু এই হিসেব কাজ করে না। সমীক্ষার তাত্ত্বিক অঙ্কেই জানা আছে যে সাধারণত তিন শতাংশের মত ভুল থাকবে। সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির মধ্যে ভোটের ভাগ যদি হয় খুব কাছাকাছি (তিন শতাংশের কম), তাহলে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা সঠিকভাবে করেও কোন সুবিধা হয় না। এবার মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের ক্ষেত্রে সমীক্ষাগুলি বলছে যে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভোট পার্থক্য থাকবে ভীষণ কম। সেক্ষেত্রে বিনোদনের জন্যে সমীক্ষা হতেই পারে, কিন্তু সেই ফলের ওপর নির্ভরতা রাখা উচিত নয়।
এতক্ষণ তো কথা হল সৎ এবং বিজ্ঞানসম্মত সমীক্ষার বিষয়ে। তার খরচ একটু দেখে নেওয়া যাক। দশ হাজার লোকের কাছে প্রশ্নপত্র নিয়ে গিয়ে তাদের মতামত জানার খরচ প্রতি ভোটারের ক্ষেত্রে অন্তত একশো টাকা। এর কারণ এক জায়গায় একগাদা লোকের কাছ থেকে মতামত নিলে সমীক্ষায় প্রচুর ভুল হয়। ফলে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের খরচ আছে। আর মানুষের কাছে না পৌঁছে টেলিফোন কিংবা ইন্টারনেটে মতামত জানলে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। দশ হাজারকে একশো দিয়ে গুণ করলে হয় দশ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে দরকার তথ্যরাশি কম্পিউটার-এ ভরে সংখ্যার কাটাছেঁড়া। আজকের দিনে কয়েকজন রাশিবিজ্ঞানীকে জোগাড় করে এই ধরনের কাজ করানোর খরচ যথেষ্ট। সব মিলিয়ে এটা পরিষ্কার যে ভালো কোনও সমীক্ষা করতে গেলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। একটু নজর রাখলেই দেখা যাবে যে অনেক সংবাদমাধ্যম পরপর বেশ কয়েকটি সমীক্ষার ফল প্রকাশ করছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে খরচটা কোটির অঙ্কে। টাকার কথা তো হল। এর পর আছে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যম মানেই নিরপেক্ষ, এরকম দুরাশা আজকের দিনে না-করাই ভালো। ঠিক কীভাবে, কোথায়, কত টাকা খরচ করে, কাদের দিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে, সেই সব তথ্য না জানালে সমীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। সেই জন্যেই তো প্রত্যেক নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা ফলাফল অনেকটাই আলাদা হয়। বিনোদন হিসেবে সমীক্ষার গল্প শুনতে অসুবিধে নেই, কিন্তু ফলিত বিজ্ঞান হিসেবে একে মেনে না-নেওয়াই ভালো। রাশিবিজ্ঞানের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী সমীক্ষা করলে বিভিন্ন সংস্থার ফলাফলে বিপুল পার্থক্য হওয়ার কথা নয়। এই প্রেক্ষিতে আমরা উদাহরণ হিসেবে দেখব তেলেঙ্গানা নিয়ে সাম্প্রতিক দুটি ভিন্ন সমীক্ষার ফলাফল, যা নিয়ে আলোচনা চলছে প্রচুর।
আমরা আগেই বলেছি তেলেঙ্গানায় মূল লড়াই টিআরএস আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটের। এখানে এককভাবে লড়াইতে আছে বিজেপি আর আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিশ-এ ইত্তেহাদুল মুসলিমেন)। সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলি প্রকাশ করেছে একাধিক নামজাদা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। কয়েকদিন আগে হওয়া যে সমীক্ষার (এবিপি নিউজ-রিপাবলিক টিভি) খবর প্রথম পাওয়া যায় তাতে আমরা জানতে পারি যে টিআরএস পেতে পারে মাত্র ৪২টি আসন আর বিরোধী মহাজোট পাবে ৬৪ টি। অর্থাৎ সম্ভবত ক্ষমতায় আর থাকতে পারবে না কেসিআর-এর নেতৃত্বাধীন টিআরএস। মোট আসন এখানে ১১৯, ফলে ৬০টি আসন জোগাড় হলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব।
কিন্তু অন্য একটি সমীক্ষার (সিএনএক্স-টাইমস নাও) ফল প্রকাশিত হয়েছে আর একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। তারা বলছে টিআরএস পাবে ৭০টি আসন, আর বিরোধী জোট পাবে ৪০-এর সামান্য বেশি। আসনের হিসেবে এত পার্থক্য হওয়া ভীষণ গোলমেলে ঘটনা। দু-একজন বিশ্লেষক বলছেন যে বিরোধী চার দলের জোটের ভোট শতাংশ একসঙ্গে যোগ করে হিসেব করা হয়নি দ্বিতীয় সমীক্ষায়। তাই নাকি তাদের আসনের হিসেব কম এসেছে। এটা অবশ্যই পদ্ধতির ভুল হিসেব বলে ধরে নেওয়া যেত। কিন্তু তথ্য ঘাঁটলে আরও এক অবাক করার মত বিষয় দেখা যাচ্ছে। প্রথম সমীক্ষাটি বলছে, টিআরএস পাবে ২৯.৪ শতাংশ ভোট আর বিরোধী মহাজোট দখল করবে ৩৩.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় সমীক্ষাটি বলছে টিআরএস পাবে ৩৭.৫ শতাংশ ভোট আর বিরোধী কংগ্রেস পাবে প্রায় ২৮%। জোটের ভোট এখানে ঠিক কী ভাবে ধরা হয়েছে সে হিসেব খুব পরিষ্কার নয়। তবে এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে অত্যন্ত নামকরা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি টিআরএস-এর ভোট শতাংশ নিয়ে সম্পূর্ণ দু-ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করছে। একজন বলছে, তিরিশ শতাংশের কম আর অন্যজন বলছে সাঁইত্রিশ শতাংশের বেশি। ভোট সমীক্ষায় আসনের হিসেবে কিছুটা তফাত হতেই পারে (যদিও এক্ষেত্রে আসনের অনুমান বিপুলভাবে আলাদা), কারণ আমরা আগেই বলেছি, ভোট শতাংশ আর আসনের হিসেব সরলরৈখিক নয়। কিন্তু, মূলত টিআরএস আর মহাজোট এই দু’পক্ষের লড়াইতে (এখানে বিজেপি বা এআইএমআইএম খুব বেশি ভোট বা আসন পাবে না একথা মোটামুটি জানাই আছে) শাসক দলের ভোটের অনুমানে আট শতাংশের মত পার্থক্য অবশ্যই রাশিবিজ্ঞানের চোখ কপালে তুলে দেবে।
সমাধান খুব সহজ। এই দুই সমীক্ষা যাঁরা করেছেন তাঁরা মুখোমুখি বসে দেখুন কোথায় গন্ডগোল। রাশিবিজ্ঞানের তত্ত্বের জন্যে যদি এমন ভুল হয় তাহলে সেই অঙ্ক ভোটসমীক্ষা নিয়ে গবেষণার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আর সমীক্ষার নিয়মে যদি ভুল হয় (সম্ভবত সেটাই ঘটেছে), সেক্ষেত্রে তার থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সেই ভুল যে হয়েছে তা অবশ্যই জানানো উচিত জনগণকে। তা না-হলে সাধারণ মানুষ কিন্তু ভোট সমীক্ষায় একধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সেটাই ধরে নিতে হবে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলির কাছে এ মোটেই গর্বের বিষয় নয়।
লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মতামত ব্যক্তিগত
29th  November, 2018
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

19th  March, 2019
মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে।  বিশদ

16th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

15th  March, 2019
অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
একনজরে
  বিএনএ, মালদহ: উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের কাজের খতিয়ান পেশ করেই নির্বাচনের প্রচার করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, জেলা পরিষদ থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে জেলায় প্রভূত উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। পাশাপাশি, লোকসভার সংসদ সদস্য থেকে বিধায়করাও অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছোট পণ্যবাহী ট্রাকের বাজারের ৬৬ শতাংশ দখল করে নিল টাটা। তারা জানিয়েছে, টাটা এস ক্যাটিগরিতে মোট ২০ লক্ষ গাড়ি বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি এক বছর পূর্ণ করল টাটা এস গোল্ড। ...

লখনউ, ১৯ মার্চ (পিটিআই): বিজেপির ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ প্রচারের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিএসপির প্রধান মায়াবতী কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘চাওয়ালা’ প্রধানমন্ত্রী এখন ‘চৌকিদার’ হয়েছেন। এটাই প্রমাণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্বে ভারতে কী পরিবর্তন হয়েছে! ...

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ: দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণায় দেরি হওয়ায় বাংলায় পিছিয়ে থেকে শুরু করছে বিজেপি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে এ কথাই স্পষ্ট জানিয়ে দিল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আপনার মনে ধর্মভাব জাগ্রত হবে। কর্মপ্রার্থীরা কর্মের সুযোগ পাবেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা হবে। অর্থ নিয়ে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭২৬- বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটনের মৃত্যু
১৮২৮- নরওয়ের নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের জন্ম
১৮৫২- হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর ‘আঙ্কল টমাস কেবিন’ প্রকাশিত হল
১৯১৬- আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বের প্রকাশ
১৯৫১- ক্রিকেটার মদনলালের জন্ম
১৯৫২- টেনিস খেলোয়াড় আনন্দ অমৃতরাজের জন্ম
১৯৬৬- গায়িকা অলকা ইয়াগনিকের জন্ম
২০০৩- ফুটবলার কৃশানু দে’র মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৬৯ টাকা ৯২.৯৭ টাকা
ইউরো ৭৬.৬১ টাকা ৭৯.৫৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৪৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৮০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,২৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩০ দিবা ১০/৪৫। পূর্বফাল্গুনী ২৬/২০ অপঃ ৪/১৭। সূ উ ৫/৪৫/১১, অ ৫/৪৩/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১ মধ্যে পুনঃ ৯/৪৪ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩১ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪৪ গতে ১০/১৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ১/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৪ গতে ৪/১৪ মধ্যে।
৫ চৈত্র ১৪২৫, ২০ মার্চ ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ৯/৩৯/৫২। পূর্বফাল্গুনীনক্ষত্র সন্ধ্যা ৩/৪৫/১৪, সূ উ ৫/৪৫/৩৪, অ ৫/৪২/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২১/১২ মধ্যে ও ৯/৪৪/৩৯ থেকে ১১/২০/১৭ মধ্যে ও ৩/১৯/২২ থেকে ৪/৫৫/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩১/০ থেকে ৮/৫৫/৩৩ মধ্যে ও ১/৪৪/৩৯ থেকে ৫/৪৪/৩৫ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪৪/১১ থেকে ১/১৩/৫১ মধ্যে, কালবেলা ৮/৪৪/৫৩ থেকে ১০/১৪/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৪/৫৩ থেকে ৪/১৫/১৪ মধ্যে।
 ১২ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের ময়দানে তরুণ ক্রিকেটারের মৃত্যু 
খেলতে গিয়ে ফের মৃত্যু ময়দানে। এদিন খেলা চলাকালীন বাটার মাঠে ...বিশদ

01:52:56 PM

বাঁকুড়ার সালতোরায় প্রচুর জিলেটিন স্টিক উদ্ধার 

01:46:00 PM

গোয়া: আস্থাভোটে জয়ী মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত 

01:04:41 PM

বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগ: কমিশনে বিএসএফের আইজি 
কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগে গতকাল রিপোর্ট চাওয়ার পর এদিন বিএসএফের ...বিশদ

12:45:00 PM

লোকসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বিএসপি প্রধান মায়াবতী 

12:38:38 PM

তুরস্কে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৬.৪ 

12:33:00 PM