বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রায়োরিটি মমতা
মোশারফ হোসেন

১৯৯১ সালের মে মাস। আগের দু’বছরে দেশের রাজনীতিতে একাধিক নাটকীয় ঘটনা ঘটে গিয়েছে। রাজীব গান্ধী ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংকে তাঁর সরকারে প্রথমে অর্থ ও পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহ করেন বিশ্বনাথপ্রতাপ। নিজে নতুন দল গড়ে ও কংগ্রেসবিরোধী প্রায় সবক’টি বড় দলকে পাশে নিয়ে ১৯৮৯ তে পরবর্তী লোকসভা ভোটে নেমেছেন। রাজীবের নেতৃত্বাধীন ইন্দিরা কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে নিজে সরকারও গড়েছেন। কিন্তু অযোধ্যায় রামমন্দির ইস্যুতে সহযোগী বিজেপি’র সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তাঁর সরকার একবছরও টেকেনি। তারপর ডামাডোলের বাজারে কংগ্রেসের সমর্থনে গড়া চন্দ্রশেখরের সরকারও মাত্র পাঁচমাসের মধ্যেই পড়ে গিয়েছে। ফলে, মাত্র দু’বছর বাদেই ১৯৯১ তে দেশ ফের লোকসভা ভোটের মুখোমুখি। ’৯১ এর এই ভোটের মাধ্যমে ফের স্ব-মহিমায় ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছেন রাজীব। দলের প্রার্থীদের প্রচারে দেশজুড়ে চরকির মতো ঘুরছেন। সকাল, দুপুর, মধ্যরাত—রাজীব গান্ধীর প্রচারসভার বিরাম নেই। এই অভিযান করতে করতেই ১৬ মে কলকাতায় এলেন। সকালের দিকে কোথাও একটা সভা সেরে দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক। পোশাকি ভাষায় ‘মিট দ্য প্রেস’। প্রেস ক্লাবের হলঘরে সেদিন অনেক আগে থেকেই সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড়। যথাসময়েই এলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কংগ্রেস দলের সর্বাধিনায়ক। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সাংবাদিকদের অজস্র রকমের প্রশ্নবান নিপুণ কায়দায় সামলালেন। ফাঁকে ফাঁকে জানালেন দেশ সম্পর্কে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার কিছু কথাও। সাংবাদিক বৈঠকের পর একটি ঘরে ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য চা-পানের আয়োজন। বিশিষ্ট অতিথিদের ক্ষেত্রে এটাই ক্লাবের রেওয়াজ। মে মাসের মাঝামাঝি সময়। কলকাতায় সেদিন প্রচণ্ড গরম। তার মধ্যেও রাজীবের গলায় যত্ন করেই স্কার্ফ জড়ানো। চেয়ারে বসেই বললেন, চা-কফি খাবো না। একটু গরম জল পাওয়া যাবে? গলাটা ব্যথা করছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্যান্টিন থেকে গরম জল এল। গ্লাসে ধীরে ধীরে চুমুক দিতে দিতে টুকটাক কথা বলছিলেন। বলা চলে, আমাদের কথাই শুনছিলেন বেশি। তেমন সিরিয়াস কোনও বিষয় ছিল না। নেহাতই সৌজন্যমূলক কথাবার্তা। রাজীবজির মেজাজও বেশ হালকা। হাসি হাসি মুখ। দেখে মনে হল, ভোটের ফলাফলের ব্যাপারে একরকম নিশ্চিন্ত। আত্মপ্রত্যয়ী। এরই মধ্যে ক্লাবের ল্যান্ডফোন বেজে উঠল। রাজীবজির পাশে ডানদিকের চেয়ারটিতেই ছিলাম আমি। আমার হাতের কাছেই টেলিফোন। তখনও দেশে মোবাইল ফোন আসেনি। রিসিভার তুলতেই অন্যপ্রান্ত থেকে শোনা গেল, আমি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি বলছি। কে বলছেন? আমার নাম শুনে বললেন, রাজীবজি এখন তোদের সঙ্গে চা খাচ্ছেন তো? ওনাকে ফোনটা একবার দে না রে ভাই! খুব জরুরি দরকার। প্রিয়বাবুর কথা বলার ঢংটাই ছিল এরকম। পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও তুই-তুমির সম্পর্ক।
আমি রিসিভারটা রাজীবজির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম, মিস্টার দাসমুন্সি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। রাজীব রিসিভার না ছুঁয়েই বললেন, প্লিজ বলে দিন, সিডিউল মতোই ওঁর মিটিংয়ে যাবো। আমি প্রিয়বাবুকে সে কথা জানালাম। কিন্তু উনি নাছোড়। প্লিজ, ফোনটা একবার ওনাকে ধরতে বল না ভাই! খুব উপকার হয়। আমি আবার রাজীবজিকে তা জানালাম। উনি এবার হাসিমুখে হাত বাড়ালেন। যেন জানাই ছিল, প্রিয়রঞ্জন তাঁকে কী বলতে পারেন! তাই ফোনের রিসিভারটা মুখের কাছে এনেই বললেন, আমি তোমায় বলেছি, আগে মমতার মিটিংয়ে যাবো, তারপর তোমারটায়। সে যত রাতই হোক না কেন! প্রায়োরিটি মমতা। তারপর নিজেই রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন ক্রেডেলে। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী। আর, প্রিয়বাবু হাওড়ায়। আগেই ঘোষণা ছিল সেদিন মমতার সমর্থনে দেশপ্রিয় পার্কের প্রচারসভায় রাজীব গান্ধী আসবেন। যোগ দেবেন হাওড়ায় প্রিয়রঞ্জনের প্রচারসভাতেও।
এর ঠিক পাঁচদিনের মাথায় তামিলনাড়ুতে দলীয় এক নির্বাচনী প্রচারসভায় বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল রাজীব গান্ধীর দেহ। তামিল জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই’র এক সদস্যার আত্মঘাতী বিস্ফোরণে রাজীব নিহত হয়েছিলেন। ১৬ মে কলকাতা প্রেস ক্লাবেই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সাংবাদিক বৈঠক। সম্ভবত সেই কারণেই স্মৃতিপটে ঘটনাটি এখনও জ্বলজ্বল করছে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। রাজনীতির অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে কোনও শব্দও থাকতে পারে না। তাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা বাতুলতারই নামান্তর। তবু রাজনীতি নিয়ে হিসেব-নিকেশ, যোগ-বিয়োগ, সম্ভাবনা-অসম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তো থাকেই। আগামী পাঁচ-ছ’মাস বাদের ভারতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক চিত্রটি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎই সাতাশ বছর আগে রাজীব গান্ধীর মুখে উচ্চারিত দুটো শব্দ মনে পড়ে গেল। ‘প্রায়োরিটি মমতা’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মে মাস নাগাদ পরবর্তী লোকসভা ভোট হবে। সিংহাসন ধরে রাখতে সেই ভোটে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবির সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামবে। ধরেই নেওয়া যায়, আরএসএসের ছাতার তলায় থাকা নানা নামের অসংখ্য সংগঠন তাদের সমস্তরকম অস্ত্র প্রয়োগ করে পদ্ম-শিবিরকে দিল্লির মসনদে আসীন রাখতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। সেখানে নীতি-নৈতিকতার চেয়ে ‘মারি অরি যে কৌশলে’রই গুরুত্ব বেশি থাকবে। সে রামমন্দির ইস্যুকে আগ্রাসী কায়দায় সামনে আনাই হোক, আর অন্য কোনও আরও মারাত্মক রাস্তাতেই হোক—ধর্মীয় মেরুকরণই হবে ওই শিবিরের প্রধান হাতিয়ার। কারণ, গত লোকসভা ভোটের মুখে দেশবাসীকে ‘আচ্ছে দিনে’র স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বিদেশে পাচার হওয়া লক্ষ লক্ষ কোটি কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে প্রতিটি ভারতবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা করে ভরে দেবেন। বছরে দু’কোটি করে চাকরি মিলবে, দুর্নীতি নামক বিষয়টি দেশ থেকে সমূলে উচ্ছেদ হবে।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মোদিজিদের দেওয়া প্রায় কোনও প্রতিশ্রুতিই বাস্তয়ায়িত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের মানুষের করের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে অজস্রবার বিদেশভ্রমণ করেছেন। প্রায় অর্ধেক পৃথিবীই তিনি চষে ফেলে একরকম নজির গড়েছেন। এতে হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত বাসনা পূরণ হয়েছে। কিন্তু তাতে বিদেশ থেকে একটি কালো টাকাও দেশে ফেরেনি। বছরে দু’কোটি তো দূরের কথা, কয়েক লক্ষ চাকরিরও ব্যবস্থা হয়নি। বরং, আচমকা নোট বাতিল আর ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি’র ধাক্কায় বহু রোজগেরে মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছেন। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে। সবকা সাথ সবকা বিকাশে’র কথা বললেও বাস্তবে সেই অভিজ্ঞতা মেলেনি। দেশ থেকে দুর্নীতি দূর তো হয়ইনি, বরং বহু দুর্নীতিবাজ শাসক শিবিরের প্রশ্রয় পেয়েছে জনমনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। তিরিশ বছর আগে ১৯৮৯-র লোকসভা ভোটে বোফর্স ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার করে যাঁরা রাজীব গান্ধীর দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মোদিদের দলীয় পূর্বসূরিরা ছিলেন। আজ রাফাল ইস্যু সম্ভবত বোফর্সের পথেই চলেছে। বোফর্সে ছিল ৬৪ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ। আর, রাফালে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে ২০১৪ সালে ভারতের অবস্থা যে রকম ছিল, মোদিদের শাসনের সাড়ে চার বছরে তার চেয়ে তা খারাপ দিকেই এগিয়েছে।
এই পটভূমিকায় আসন্ন ভোট নিয়ে দেশের রাজনীতির ময়দান সরগরম। একদিকে ক্ষমতা ধরে রাখতে গেরুয়া শিবির যেমন মরিয়া, তেমনি কোমর বেঁধে নামছে বিরোধীরাও। বিরোধী শিবির ভোটে জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—সে প্রশ্ন দূরে সরিয়ে রেখে রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু, অখিলেশ যাদব পর্যন্ত সবাই এককাট্টা হতে চান বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। মোদি হঠানোকেই এরা পাখির চোখ করেছেন। এদিকে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যে ২০১৪ সালের চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়ে গিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। গতবছর গুজরাত বিধানসভা ভোটে বিজেপি কোনওক্রমে পুরনো গড় রক্ষা করতে পেরেছে। উত্তরপ্রদেশে জিতলেও তার প্রধান কারণ যে অখিলেশ-মায়াবতী বিবাদ তা জলের মতো স্পষ্ট। কারণ, ওই ভোটে বিপুল জয়ের মাস কয়েকের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি উপনির্বাচনে ওই রাজ্যে বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দীর্ঘকালের গড় গোরক্ষপুর আসনটিও পদ্মপ্রতীকের দখলে রাখতে পারেনি। তারপর কর্ণাটকের বিধানসভা ভোটেও গেরুয়া শিবির পরাস্ত হয়েছে। ফলে, সংখ্যার বিচারে দেশের অর্ধেকের বেশি রাজ্য ওই শিবিরের দখলে গেলেও গোটা দক্ষিণ ভারতই তাদের অধরা রয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটপর্ব চলছে। একাধিক সমীক্ষা বলছে, ফল বেরলে দেখা যাবে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গেরুয়া এলাকা কমেছে। আবার, নীতিগতভাবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একমত হলেও ছত্তিশগড়ে অখিলেশ যাদব কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেননি। কারণ, তাতে মায়াবতীর সঙ্গে বিবাদ বাধত। মায়াবতীর সঙ্গে জোট বেঁধেই আগামী লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে বিপর্যস্ত করতে মরিয়া অখিলেশ। তা যে সম্ভব হতে পারে একাধিক উপনির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। আর, দেশের সর্ববৃহৎ রাজ্য উত্তর প্রদেশের মোট ৮০টি আসনের মধ্যে গতবার বিজেপি ৭২টিই জিতে নিয়েছিল। এর জোরেই দিল্লির সিংহাসনের অনেকটাই কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। এবার ওই রাজ্যে ভরাডুবি হলে পরিস্থিতি আগের মতো থাকা কঠিন। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুসহ বড় রাজ্যগুলিতেও বিজেপির পক্ষে এবার খুব বেশি আসন ঝুলিতে ভরা প্রায় অসম্ভব। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বিজেপির সবচেয়ে পুরনো বন্ধু। কিন্তু আগের মতো আর সুসম্পর্ক নেই। মারাঠিদের রাজ্যে ‘বড়দা’ হয়ে ওঠা বিজেপিকে নানা ইস্যুতে তোপ দেগে চলেছে শিবসেনা। তার উপর লোকসভা ভোটের মাসকয়েকের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটে নিজেদের গড় পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া শিবসেনার উদ্ভব থ্যাকারেরা। ফলে, লোকসভা ভোটে ওখানে বিজেপি কতটা সুবিধা করতে পারবে এখনই বলা মুশকিল। ওড়িশাতে নিজের দখল বজায় রাখতে নবীন পট্টনায়ককে লড়তে হবে মূলত বিজেপির সঙ্গেই। বিহারে বর্তমান বিজেপি-বন্ধু নীতীশ কুমারের আর সে জোর নেই। বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার উপর রয়েছে রামবিলাসের দলের মতো গোটা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কয়েকটি দল যারা সর্বদাই ক্ষমতাসীনের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই কোনও ‘ভানুমতী খেলে’র জোরে বিজেপি সরকার গঠনের জায়গায় পৌঁছতে না পারলে দেশে ১৯৮৯-রই পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
সেক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস হয়তো সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হবে। মমতার দল তৃণমূলের দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। শারদ পাওয়ার আগেই ঘোষণা করেছেন তিনি আর ভোটেই লড়বেন না। ঘোলাজল হলেও চন্দ্রবাবু, অখিলেশ অথবা মায়াবতীর পক্ষেও নানা কারণে ওই দাবি তোলা সহজ হবে না। সেই পরিস্থিতিতেই বাংলার অগ্নিকন্যাই প্রাধান্য পাবেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে ও ভিন্ন প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের মে মাসে রাজীব গান্ধীর মুখে ‘প্রায়োরিটি মমতা’ যেভাবে শুনেছিলাম, আশা করা যায় ২০১৯ এর মে মাসেও অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কারণেই তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধীর মুখে একইভাবে উচ্চারিত হবে সেই দুটি শব্দই—প্রায়োরিটি মমতা। মমতারই অগ্রাধিকার। বৃহত্তর লক্ষ্যপূরণের স্বার্থে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া যে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় অসম্ভব নয় তার প্রমাণ তিনি কর্ণাটকে সরকার গঠনপর্বেই দিয়েছেন।
27th  November, 2018
কংগ্রেসের জয়ে বড় ভূমিকা কৃষক আন্দোলনের 
শুভময় মৈত্র

হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যেই বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতা দখল করল কংগ্রেস। তবে তাদের দলটা তো বিজেপির মত নিয়মানুবর্তী এবং সংগঠনভিত্তিক নয়। কংগ্রেসকে ভোটে জেতায় তাদের কর্মী এবং জনগণ আর নেতা নির্বাচনের জন্যে সবাই তাকিয়ে থাকে গান্ধী পরিবারের দিকে।  বিশদ

মোদির ভাবমূর্তির পতনই বিজেপির মূল ক্ষতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল বিজেপি’র বিপক্ষে ৫-০ হওয়া ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ জনমানসে মোদির ভাবমূর্তির পতন ঘটা। কোনও একটি বা একাধিক রাজ্যের সরকার পরিবর্তন যতটা না শাসক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ শাসক দলের নেতৃত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ভাবনার উৎপত্তি।
বিশদ

14th  December, 2018
পাক সন্ত্রাসবাদের পাল্টা
জবাবে ভারতের জলযুদ্ধ!
মৃণালকান্তি দাস

সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তানকে বিঁধতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে নতুন শব্দবন্ধ ব্যবহার করা শুরু করেছে ভারত। কখনও বলছে ‘টেররিস্তান’, কখনও ‘বিশেষ সন্ত্রাসবাদী অঞ্চল’! তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক! সেই তথ্যই জানাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরে শেষ আট বছরে সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই বছরেই।
বিশদ

13th  December, 2018
রথধ্বনি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

‘এই-সকল টানিয়া বুনিয়া বর্ণনা আমাদের কর্ণে অসম-ভূমি-পথে বাধা-প্রাপ্ত রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দের ন্যায় কর্কশ লাগে।’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের দেশের রাজনীতি এখন শতরঙ্গে ভরা। দেশের কেন্দ্রে অধিকাংশের ভোটে একটি কুনির্বাচিত গণতান্ত্রিক শাসন হঠাৎই রাজতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রধান এবং দলমুখ্যকে মাঝে-মাঝেই মাথায় পাগড়ি এবং হাতে তরবারি নিয়ে ছবি তুলতে দেখছি।
বিশদ

11th  December, 2018
Loading...
ভোটের পর সংসদীয় মূল‌্যবোধ কি অক্ষত থাকবে?  

পি চিদম্বরম: আপনি এই লেখাটি পড়ছেন পাঁচ রাজ‌্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার (৭ ডিসেম্বর) তিনদিন বাদে এবং গণনার (১১ ডিসেম্বর) ঠিক আগের দিন। সুতরাং অত সতর্ক না-থাকলেও আমার চলে।   বিশদ

10th  December, 2018
হাঁক পাড়লেই হবে? মমতার সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে পারে এমন মুখ কোথায়?
শুভা দত্ত

এবারের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি কটা আসন পাবে? পেতে পারে? এই মুহূর্তে বোধহয় স্বয়ং ভগবানও বলতে পারবেন না। জ্যোতিষীরা হয়তো তিথি নক্ষত্র ইত্যাদি গুনেগেঁথে কিছু একটা বলে দিতে পারেন, তবে সেটাই শেষপর্যন্ত মিলে যাবে এমন স্থির সিদ্ধান্ত একমাত্র আহাম্মক ছাড়া কেউ করবেন না। কারণ, ভোট এখনও অনেকটা দূরে।
বিশদ

09th  December, 2018
Loading...
ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্থান ভোটের ফল?

আমরা সবাই এখন ভোটফলের অপেক্ষায়। এর মধ্যে ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার হল রাজস্থান বিধানসভার ভোট। গত বিধানসভায় ২০১৩ সালে এই তারিখ ছিল ১ ডিসেম্বর, রবিবার। সেদিন পরিবার নিয়ে জয়পুরে থাকার সুযোগ হয়েছিল। কাজের সূত্রে যে বন্ধুরা জয়পুরে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হচ্ছিল যাওয়ার আগে।
বিশদ

08th  December, 2018
ওয়াটার মার্কেট
সমৃদ্ধ দত্ত

বিহারের গয়া জেলার কাপাসিয়া ব্লকের গুলাড়িয়া চক গ্রামের গনৌরি কুমার আর মুসাফির মাঝি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে এক পুলিস কর্মীকে বললেন, তোমাদের এখানে যমুনা নদীটা দেখতে যাব কীভাবে? কেন? না, মানে, কেমন জল আছে একবার দেখতাম! আবার কবে আসা হবে তা তো জানি না। এরপর যখন আসব যদি শুকিয়ে যায়! পুলিস কর্মী হাসলেন।
বিশদ

07th  December, 2018
লম্বা লম্বা মূর্তি বানিয়ে কি ভাবমূর্তি ফেরানো যায়
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 মহাপুরুষদের আজ সত্যিই মহাবিপদ! এই নরলোকে যখন তাঁরা রক্তমাংসে জীবন্ত ছিলেন মনে হয় না তখন এই মহাবিপদের আঁচটি তাঁরা পেয়েছিলেন। বিশদ

06th  December, 2018
পরিচ্ছন্নতাকে নির্বাচনী ইস্যু করার সাহস জরুরি
হারাধন চৌধুরী

গত দশকের কথা। কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণবঙ্গের এক জেলায় গিয়েছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের খবর সংগ্রহের জন্য। জেলা সদরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্লকে যাতায়াতের জন্য মূলত গণপরিবহণের উপরেই ভরসা রেখেছিলাম। বলা বাহুল্য, তখন গরম কাল। একটু বাড়তি হাওয়া বাতাসের লোভে জানালার ধারের একটা সিট দখল করার জন্য কসরতও করেছি।
বিশদ

04th  December, 2018
ঢাকের সুপরিচিত শব্দ
পি চিদম্বরম

নরেন্দ্র মোদি ২০১৩-১৪ সাল থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদি নিজেকে পরিচিত করেছিলেন বিকাশপুরুষ হিসেবে। মানে তিনি উন্নয়নের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৪-র মে মাসে যে ৩১ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল তাদের একটা বড় অংশ ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন) স্লোগানে আন্দোলিত হয়েছিলেন।
বিশদ

03rd  December, 2018
মমতা মায়াবতী নিয়ে মোদিজির সুর হঠাৎ এত নরম হয়ে এল কেন?
শুভা দত্ত

গেরুয়া শিবির এবার কি সত্যিই বিপদের আঁচ পাচ্ছে? দিল্লির দরবারে কি দেশের মানুষের মতিগতি নিয়ে কোনও অশনিসংকেত পৌঁছল! দেশের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এখন ভোট চলছে। যখন এই লেখা লিখছি তখন মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে ভোট হয়ে গেছে। রাজস্থান, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় হবে। সেজন্য রাজ্যগুলিতে ভোটপ্রস্তুতি ও রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে।
বিশদ

02nd  December, 2018
Loading...
একনজরে
 জম্মু, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গাড়ি পড়ে জম্মু ও কাশ্মীরে মৃত্যু হল সাতজনের। মৃতদের মধ্যে তিনজনই শিশু। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে রেয়াসি জেলার তামসগালি এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, বিয়ে বাড়ির অনষ্ঠান সেরে ফেরার পথে তামসগালির পাহাড়ি পথে গাড়ির চালক ...

 ওয়াশিংটন, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): যৌন হেনস্তার অপরাধে আমেরিকায় এক ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীর নয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল মার্কিন আদালত। চলতি বছরের শুরুতে বিমানে সফরকালে এক ঘুমন্ত মহিলা সহযাত্রীকে যৌন হেনস্তা করে প্রভূ রামমূর্তি (৩৫)। ...

বিএনএন, বর্ধমান: অবশেষে পূর্তদপ্তরের বর্ধমানের কর্তাদের ‘শীতঘুম’ ভেঙেছে। জিটি রোড সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকার পর গত মঙ্গলবার থেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ ফের শুরু হওয়ায় বর্ধমানের মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।   ...

বিএনএ, কোচবিহার: ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সহ নানা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই কাজ শুরু হয়ে যাবে।  ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা, বাহন ক্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের বিদ্যাশিক্ষায় সংশয় বৃদ্ধি। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭৭- টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট নিলেন,
১৯০৮- রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী রঙ্গনাথানন্দের জন্ম,
১৯৫০- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু,
১৯৭৬- ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৯ টাকা ৯২.৩৩ টাকা
ইউরো ৮০.০৪ টাকা ৮৩.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩১,৯৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,২৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৭৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী ৫৯/৫৯ শেষ রাত্রি ঘ ৬/১৩। নক্ষত্র- পূর্বভাদ্রপদ ৪৭/৩৩ রাত্রি ঘ ১/১৪, সূ উ ৬/১২/৪৫, অ ৪/৫০/২৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ঘ ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/১১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার, অষ্টমী রাত্রি ২/৫/২৫। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র রাত্রি ১০/১২/৪২। সূ উ ৬/১৩/১৬, অ ৪/৪৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৫৫/৪০ মধ্যে ও ঘ ৭/৩৮/৪ থেকে ঘ ৯/৪৫/১৬ মধ্যে ও ঘ ১১/৫২/২৭ থেকে ২/৪২/২ মধ্যে ও ৩/২৪/২৬ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫১/৩৯ থেকে ঘ ২/৩৮/৫১ মধ্যে। বারবেলা ১২/৫০/৪৪ থেকে ২/১০/১৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩২/৪৬ মধ্যে ও ঘ ৩/২৯/৪৪ থেকে ৪/৪৯/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৯/৪৩ মধ্যে ও ঘ ৪/৩৩/২৯ থেকে ঘ ৬/১৩/৫৯ মধ্যে। 
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপির রথযাত্রার অনুমতি দিল না রাজ্য 
সাম্প্রদায়িক অশান্তির আশঙ্কায় রাজ্যে বিজেপির রথযাত্রার আবেদন বাতিল করে দিল ...বিশদ

09:17:00 PM

কাল ম্যারাথনের জন্য হাওড়া স্টেশন ও বিমানবন্দরে যেতে বিকল্প রুট পুলিসের 
টাটা স্টিল কলকাতা ম্যারাথনের জন্য শনিবার রাত ১০টা থেকেই ময়দানের ...বিশদ

07:31:32 PM

জয়নগরে শ্যুটআউটের ঘটনায় ধৃত আরও ১ 

03:59:57 PM

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি এখন কলকাতায়
ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে কলকাতায় পৌঁছাল আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফিটি।আর মাত্র ...বিশদ

03:42:35 PM

এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণা, আটক ২
এটিএমের পিন হাতিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আসানসোলে থেকে ২ জনকে আটক ...বিশদ

03:39:00 PM

আসানসোলে আট ফুটের ময়াল উদ্ধার
আসানসোল উওর থানার পাচগাছিয়া মনোহর বহাল এলাকা থেকে আট ফুটের ...বিশদ

03:36:00 PM

Loading...
Loading...