Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রায়োরিটি মমতা
মোশারফ হোসেন

১৯৯১ সালের মে মাস। আগের দু’বছরে দেশের রাজনীতিতে একাধিক নাটকীয় ঘটনা ঘটে গিয়েছে। রাজীব গান্ধী ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংকে তাঁর সরকারে প্রথমে অর্থ ও পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহ করেন বিশ্বনাথপ্রতাপ। নিজে নতুন দল গড়ে ও কংগ্রেসবিরোধী প্রায় সবক’টি বড় দলকে পাশে নিয়ে ১৯৮৯ তে পরবর্তী লোকসভা ভোটে নেমেছেন। রাজীবের নেতৃত্বাধীন ইন্দিরা কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে নিজে সরকারও গড়েছেন। কিন্তু অযোধ্যায় রামমন্দির ইস্যুতে সহযোগী বিজেপি’র সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তাঁর সরকার একবছরও টেকেনি। তারপর ডামাডোলের বাজারে কংগ্রেসের সমর্থনে গড়া চন্দ্রশেখরের সরকারও মাত্র পাঁচমাসের মধ্যেই পড়ে গিয়েছে। ফলে, মাত্র দু’বছর বাদেই ১৯৯১ তে দেশ ফের লোকসভা ভোটের মুখোমুখি। ’৯১ এর এই ভোটের মাধ্যমে ফের স্ব-মহিমায় ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছেন রাজীব। দলের প্রার্থীদের প্রচারে দেশজুড়ে চরকির মতো ঘুরছেন। সকাল, দুপুর, মধ্যরাত—রাজীব গান্ধীর প্রচারসভার বিরাম নেই। এই অভিযান করতে করতেই ১৬ মে কলকাতায় এলেন। সকালের দিকে কোথাও একটা সভা সেরে দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক। পোশাকি ভাষায় ‘মিট দ্য প্রেস’। প্রেস ক্লাবের হলঘরে সেদিন অনেক আগে থেকেই সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড়। যথাসময়েই এলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কংগ্রেস দলের সর্বাধিনায়ক। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সাংবাদিকদের অজস্র রকমের প্রশ্নবান নিপুণ কায়দায় সামলালেন। ফাঁকে ফাঁকে জানালেন দেশ সম্পর্কে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার কিছু কথাও। সাংবাদিক বৈঠকের পর একটি ঘরে ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য চা-পানের আয়োজন। বিশিষ্ট অতিথিদের ক্ষেত্রে এটাই ক্লাবের রেওয়াজ। মে মাসের মাঝামাঝি সময়। কলকাতায় সেদিন প্রচণ্ড গরম। তার মধ্যেও রাজীবের গলায় যত্ন করেই স্কার্ফ জড়ানো। চেয়ারে বসেই বললেন, চা-কফি খাবো না। একটু গরম জল পাওয়া যাবে? গলাটা ব্যথা করছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্যান্টিন থেকে গরম জল এল। গ্লাসে ধীরে ধীরে চুমুক দিতে দিতে টুকটাক কথা বলছিলেন। বলা চলে, আমাদের কথাই শুনছিলেন বেশি। তেমন সিরিয়াস কোনও বিষয় ছিল না। নেহাতই সৌজন্যমূলক কথাবার্তা। রাজীবজির মেজাজও বেশ হালকা। হাসি হাসি মুখ। দেখে মনে হল, ভোটের ফলাফলের ব্যাপারে একরকম নিশ্চিন্ত। আত্মপ্রত্যয়ী। এরই মধ্যে ক্লাবের ল্যান্ডফোন বেজে উঠল। রাজীবজির পাশে ডানদিকের চেয়ারটিতেই ছিলাম আমি। আমার হাতের কাছেই টেলিফোন। তখনও দেশে মোবাইল ফোন আসেনি। রিসিভার তুলতেই অন্যপ্রান্ত থেকে শোনা গেল, আমি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি বলছি। কে বলছেন? আমার নাম শুনে বললেন, রাজীবজি এখন তোদের সঙ্গে চা খাচ্ছেন তো? ওনাকে ফোনটা একবার দে না রে ভাই! খুব জরুরি দরকার। প্রিয়বাবুর কথা বলার ঢংটাই ছিল এরকম। পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও তুই-তুমির সম্পর্ক।
আমি রিসিভারটা রাজীবজির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম, মিস্টার দাসমুন্সি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। রাজীব রিসিভার না ছুঁয়েই বললেন, প্লিজ বলে দিন, সিডিউল মতোই ওঁর মিটিংয়ে যাবো। আমি প্রিয়বাবুকে সে কথা জানালাম। কিন্তু উনি নাছোড়। প্লিজ, ফোনটা একবার ওনাকে ধরতে বল না ভাই! খুব উপকার হয়। আমি আবার রাজীবজিকে তা জানালাম। উনি এবার হাসিমুখে হাত বাড়ালেন। যেন জানাই ছিল, প্রিয়রঞ্জন তাঁকে কী বলতে পারেন! তাই ফোনের রিসিভারটা মুখের কাছে এনেই বললেন, আমি তোমায় বলেছি, আগে মমতার মিটিংয়ে যাবো, তারপর তোমারটায়। সে যত রাতই হোক না কেন! প্রায়োরিটি মমতা। তারপর নিজেই রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন ক্রেডেলে। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী। আর, প্রিয়বাবু হাওড়ায়। আগেই ঘোষণা ছিল সেদিন মমতার সমর্থনে দেশপ্রিয় পার্কের প্রচারসভায় রাজীব গান্ধী আসবেন। যোগ দেবেন হাওড়ায় প্রিয়রঞ্জনের প্রচারসভাতেও।
এর ঠিক পাঁচদিনের মাথায় তামিলনাড়ুতে দলীয় এক নির্বাচনী প্রচারসভায় বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল রাজীব গান্ধীর দেহ। তামিল জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই’র এক সদস্যার আত্মঘাতী বিস্ফোরণে রাজীব নিহত হয়েছিলেন। ১৬ মে কলকাতা প্রেস ক্লাবেই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সাংবাদিক বৈঠক। সম্ভবত সেই কারণেই স্মৃতিপটে ঘটনাটি এখনও জ্বলজ্বল করছে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। রাজনীতির অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে কোনও শব্দও থাকতে পারে না। তাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা বাতুলতারই নামান্তর। তবু রাজনীতি নিয়ে হিসেব-নিকেশ, যোগ-বিয়োগ, সম্ভাবনা-অসম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তো থাকেই। আগামী পাঁচ-ছ’মাস বাদের ভারতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক চিত্রটি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎই সাতাশ বছর আগে রাজীব গান্ধীর মুখে উচ্চারিত দুটো শব্দ মনে পড়ে গেল। ‘প্রায়োরিটি মমতা’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মে মাস নাগাদ পরবর্তী লোকসভা ভোট হবে। সিংহাসন ধরে রাখতে সেই ভোটে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবির সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামবে। ধরেই নেওয়া যায়, আরএসএসের ছাতার তলায় থাকা নানা নামের অসংখ্য সংগঠন তাদের সমস্তরকম অস্ত্র প্রয়োগ করে পদ্ম-শিবিরকে দিল্লির মসনদে আসীন রাখতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। সেখানে নীতি-নৈতিকতার চেয়ে ‘মারি অরি যে কৌশলে’রই গুরুত্ব বেশি থাকবে। সে রামমন্দির ইস্যুকে আগ্রাসী কায়দায় সামনে আনাই হোক, আর অন্য কোনও আরও মারাত্মক রাস্তাতেই হোক—ধর্মীয় মেরুকরণই হবে ওই শিবিরের প্রধান হাতিয়ার। কারণ, গত লোকসভা ভোটের মুখে দেশবাসীকে ‘আচ্ছে দিনে’র স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বিদেশে পাচার হওয়া লক্ষ লক্ষ কোটি কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে প্রতিটি ভারতবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা করে ভরে দেবেন। বছরে দু’কোটি করে চাকরি মিলবে, দুর্নীতি নামক বিষয়টি দেশ থেকে সমূলে উচ্ছেদ হবে।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মোদিজিদের দেওয়া প্রায় কোনও প্রতিশ্রুতিই বাস্তয়ায়িত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের মানুষের করের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে অজস্রবার বিদেশভ্রমণ করেছেন। প্রায় অর্ধেক পৃথিবীই তিনি চষে ফেলে একরকম নজির গড়েছেন। এতে হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত বাসনা পূরণ হয়েছে। কিন্তু তাতে বিদেশ থেকে একটি কালো টাকাও দেশে ফেরেনি। বছরে দু’কোটি তো দূরের কথা, কয়েক লক্ষ চাকরিরও ব্যবস্থা হয়নি। বরং, আচমকা নোট বাতিল আর ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি’র ধাক্কায় বহু রোজগেরে মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছেন। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে। সবকা সাথ সবকা বিকাশে’র কথা বললেও বাস্তবে সেই অভিজ্ঞতা মেলেনি। দেশ থেকে দুর্নীতি দূর তো হয়ইনি, বরং বহু দুর্নীতিবাজ শাসক শিবিরের প্রশ্রয় পেয়েছে জনমনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। তিরিশ বছর আগে ১৯৮৯-র লোকসভা ভোটে বোফর্স ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার করে যাঁরা রাজীব গান্ধীর দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মোদিদের দলীয় পূর্বসূরিরা ছিলেন। আজ রাফাল ইস্যু সম্ভবত বোফর্সের পথেই চলেছে। বোফর্সে ছিল ৬৪ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ। আর, রাফালে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে ২০১৪ সালে ভারতের অবস্থা যে রকম ছিল, মোদিদের শাসনের সাড়ে চার বছরে তার চেয়ে তা খারাপ দিকেই এগিয়েছে।
এই পটভূমিকায় আসন্ন ভোট নিয়ে দেশের রাজনীতির ময়দান সরগরম। একদিকে ক্ষমতা ধরে রাখতে গেরুয়া শিবির যেমন মরিয়া, তেমনি কোমর বেঁধে নামছে বিরোধীরাও। বিরোধী শিবির ভোটে জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—সে প্রশ্ন দূরে সরিয়ে রেখে রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু, অখিলেশ যাদব পর্যন্ত সবাই এককাট্টা হতে চান বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। মোদি হঠানোকেই এরা পাখির চোখ করেছেন। এদিকে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যে ২০১৪ সালের চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়ে গিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। গতবছর গুজরাত বিধানসভা ভোটে বিজেপি কোনওক্রমে পুরনো গড় রক্ষা করতে পেরেছে। উত্তরপ্রদেশে জিতলেও তার প্রধান কারণ যে অখিলেশ-মায়াবতী বিবাদ তা জলের মতো স্পষ্ট। কারণ, ওই ভোটে বিপুল জয়ের মাস কয়েকের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি উপনির্বাচনে ওই রাজ্যে বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দীর্ঘকালের গড় গোরক্ষপুর আসনটিও পদ্মপ্রতীকের দখলে রাখতে পারেনি। তারপর কর্ণাটকের বিধানসভা ভোটেও গেরুয়া শিবির পরাস্ত হয়েছে। ফলে, সংখ্যার বিচারে দেশের অর্ধেকের বেশি রাজ্য ওই শিবিরের দখলে গেলেও গোটা দক্ষিণ ভারতই তাদের অধরা রয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটপর্ব চলছে। একাধিক সমীক্ষা বলছে, ফল বেরলে দেখা যাবে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গেরুয়া এলাকা কমেছে। আবার, নীতিগতভাবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একমত হলেও ছত্তিশগড়ে অখিলেশ যাদব কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেননি। কারণ, তাতে মায়াবতীর সঙ্গে বিবাদ বাধত। মায়াবতীর সঙ্গে জোট বেঁধেই আগামী লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে বিপর্যস্ত করতে মরিয়া অখিলেশ। তা যে সম্ভব হতে পারে একাধিক উপনির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। আর, দেশের সর্ববৃহৎ রাজ্য উত্তর প্রদেশের মোট ৮০টি আসনের মধ্যে গতবার বিজেপি ৭২টিই জিতে নিয়েছিল। এর জোরেই দিল্লির সিংহাসনের অনেকটাই কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। এবার ওই রাজ্যে ভরাডুবি হলে পরিস্থিতি আগের মতো থাকা কঠিন। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুসহ বড় রাজ্যগুলিতেও বিজেপির পক্ষে এবার খুব বেশি আসন ঝুলিতে ভরা প্রায় অসম্ভব। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বিজেপির সবচেয়ে পুরনো বন্ধু। কিন্তু আগের মতো আর সুসম্পর্ক নেই। মারাঠিদের রাজ্যে ‘বড়দা’ হয়ে ওঠা বিজেপিকে নানা ইস্যুতে তোপ দেগে চলেছে শিবসেনা। তার উপর লোকসভা ভোটের মাসকয়েকের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটে নিজেদের গড় পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া শিবসেনার উদ্ভব থ্যাকারেরা। ফলে, লোকসভা ভোটে ওখানে বিজেপি কতটা সুবিধা করতে পারবে এখনই বলা মুশকিল। ওড়িশাতে নিজের দখল বজায় রাখতে নবীন পট্টনায়ককে লড়তে হবে মূলত বিজেপির সঙ্গেই। বিহারে বর্তমান বিজেপি-বন্ধু নীতীশ কুমারের আর সে জোর নেই। বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার উপর রয়েছে রামবিলাসের দলের মতো গোটা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কয়েকটি দল যারা সর্বদাই ক্ষমতাসীনের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই কোনও ‘ভানুমতী খেলে’র জোরে বিজেপি সরকার গঠনের জায়গায় পৌঁছতে না পারলে দেশে ১৯৮৯-রই পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
সেক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস হয়তো সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হবে। মমতার দল তৃণমূলের দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। শারদ পাওয়ার আগেই ঘোষণা করেছেন তিনি আর ভোটেই লড়বেন না। ঘোলাজল হলেও চন্দ্রবাবু, অখিলেশ অথবা মায়াবতীর পক্ষেও নানা কারণে ওই দাবি তোলা সহজ হবে না। সেই পরিস্থিতিতেই বাংলার অগ্নিকন্যাই প্রাধান্য পাবেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে ও ভিন্ন প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের মে মাসে রাজীব গান্ধীর মুখে ‘প্রায়োরিটি মমতা’ যেভাবে শুনেছিলাম, আশা করা যায় ২০১৯ এর মে মাসেও অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কারণেই তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধীর মুখে একইভাবে উচ্চারিত হবে সেই দুটি শব্দই—প্রায়োরিটি মমতা। মমতারই অগ্রাধিকার। বৃহত্তর লক্ষ্যপূরণের স্বার্থে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া যে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় অসম্ভব নয় তার প্রমাণ তিনি কর্ণাটকে সরকার গঠনপর্বেই দিয়েছেন।
27th  November, 2018
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার থেকেই শুরু হয়ে গেল সরকারি স্কুলগুলির একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া হচ্ছে। অনলাইনে একটি বা একাধিক ফর্ম ডাউনলোড করে বা তার কপি করে তা পূরণ করে জমা দেওয়া যাচ্ছে। ফর্ম জমা দেওয়া যাবে ...

  জাকার্তা, ২২মে (এপি): নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষ ঘিরে রণক্ষেত্র ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত করে নজির সৃষ্টি করল বেঙ্গল কেমিক্যাল। বুধবার সংস্থার এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে তাঁরাই প্রথম কোম্পানি, যারা বার্ষিক ...

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের নারায়ণগড়ে বামের ভোট রামে চলে যাওয়ার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই বিধানসভা ভোটের লিড ধরে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের নেতারা।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বিরূপ হলেও খুব একটা চিন্তার কারণ হবে না। ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৮৮ টাকা ৭০.৫৭ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৫ টাকা ৭৯.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৩৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/২৩ রাত্রি ৪/১৯। পূর্বাষাঢ়া ০/৩৯ প্রাতঃ ৫/১৩। সূ উ ৪/৫৭/৩৪, অ ৬/৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/১/৪১ শেষরাত্রি ৪/৯/৩৩। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ২/০/১৯ প্রাতঃ ৫/৪৫/১, সূ উ ৪/৫৬/৫৩, অ ৬/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৭ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৪/৩১/৫৯ গতে ৬/১১/১৭ মধ্যে, কালবেলা ২/৫২/৪১ গতে ৪/৩১/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৪/৫ গতে ১২/৫৪/৪৭ মধ্যে। 
১৭ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ইতিহাসে আজকের দিনে
১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম ১৯১৯-জয়পুরের ...বিশদ

07:15:00 AM

আজকের রাশিফল
মেষ: ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। বৃষ: কর্মে পদোন্নতির যোগ আছে। মিথুন:  শেয়ার ও ...বিশদ

07:10:19 AM

ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য 

22-05-2019 - 04:21:49 PM

১৪০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

22-05-2019 - 03:52:18 PM

ধূপগুড়ির বিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে 

22-05-2019 - 03:03:00 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে আইইডি বিস্ফোরণ, শহিদ ১ জওয়ান, জখম ৭ 

22-05-2019 - 01:31:14 PM