বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রায়োরিটি মমতা
মোশারফ হোসেন

১৯৯১ সালের মে মাস। আগের দু’বছরে দেশের রাজনীতিতে একাধিক নাটকীয় ঘটনা ঘটে গিয়েছে। রাজীব গান্ধী ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংকে তাঁর সরকারে প্রথমে অর্থ ও পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহ করেন বিশ্বনাথপ্রতাপ। নিজে নতুন দল গড়ে ও কংগ্রেসবিরোধী প্রায় সবক’টি বড় দলকে পাশে নিয়ে ১৯৮৯ তে পরবর্তী লোকসভা ভোটে নেমেছেন। রাজীবের নেতৃত্বাধীন ইন্দিরা কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে নিজে সরকারও গড়েছেন। কিন্তু অযোধ্যায় রামমন্দির ইস্যুতে সহযোগী বিজেপি’র সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তাঁর সরকার একবছরও টেকেনি। তারপর ডামাডোলের বাজারে কংগ্রেসের সমর্থনে গড়া চন্দ্রশেখরের সরকারও মাত্র পাঁচমাসের মধ্যেই পড়ে গিয়েছে। ফলে, মাত্র দু’বছর বাদেই ১৯৯১ তে দেশ ফের লোকসভা ভোটের মুখোমুখি। ’৯১ এর এই ভোটের মাধ্যমে ফের স্ব-মহিমায় ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া লড়াই চালাচ্ছেন রাজীব। দলের প্রার্থীদের প্রচারে দেশজুড়ে চরকির মতো ঘুরছেন। সকাল, দুপুর, মধ্যরাত—রাজীব গান্ধীর প্রচারসভার বিরাম নেই। এই অভিযান করতে করতেই ১৬ মে কলকাতায় এলেন। সকালের দিকে কোথাও একটা সভা সেরে দুপুরে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক। পোশাকি ভাষায় ‘মিট দ্য প্রেস’। প্রেস ক্লাবের হলঘরে সেদিন অনেক আগে থেকেই সাংবাদিকদের উপচে পড়া ভিড়। যথাসময়েই এলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কংগ্রেস দলের সর্বাধিনায়ক। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সাংবাদিকদের অজস্র রকমের প্রশ্নবান নিপুণ কায়দায় সামলালেন। ফাঁকে ফাঁকে জানালেন দেশ সম্পর্কে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার কিছু কথাও। সাংবাদিক বৈঠকের পর একটি ঘরে ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য চা-পানের আয়োজন। বিশিষ্ট অতিথিদের ক্ষেত্রে এটাই ক্লাবের রেওয়াজ। মে মাসের মাঝামাঝি সময়। কলকাতায় সেদিন প্রচণ্ড গরম। তার মধ্যেও রাজীবের গলায় যত্ন করেই স্কার্ফ জড়ানো। চেয়ারে বসেই বললেন, চা-কফি খাবো না। একটু গরম জল পাওয়া যাবে? গলাটা ব্যথা করছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্যান্টিন থেকে গরম জল এল। গ্লাসে ধীরে ধীরে চুমুক দিতে দিতে টুকটাক কথা বলছিলেন। বলা চলে, আমাদের কথাই শুনছিলেন বেশি। তেমন সিরিয়াস কোনও বিষয় ছিল না। নেহাতই সৌজন্যমূলক কথাবার্তা। রাজীবজির মেজাজও বেশ হালকা। হাসি হাসি মুখ। দেখে মনে হল, ভোটের ফলাফলের ব্যাপারে একরকম নিশ্চিন্ত। আত্মপ্রত্যয়ী। এরই মধ্যে ক্লাবের ল্যান্ডফোন বেজে উঠল। রাজীবজির পাশে ডানদিকের চেয়ারটিতেই ছিলাম আমি। আমার হাতের কাছেই টেলিফোন। তখনও দেশে মোবাইল ফোন আসেনি। রিসিভার তুলতেই অন্যপ্রান্ত থেকে শোনা গেল, আমি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি বলছি। কে বলছেন? আমার নাম শুনে বললেন, রাজীবজি এখন তোদের সঙ্গে চা খাচ্ছেন তো? ওনাকে ফোনটা একবার দে না রে ভাই! খুব জরুরি দরকার। প্রিয়বাবুর কথা বলার ঢংটাই ছিল এরকম। পরিচিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও তুই-তুমির সম্পর্ক।
আমি রিসিভারটা রাজীবজির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম, মিস্টার দাসমুন্সি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। রাজীব রিসিভার না ছুঁয়েই বললেন, প্লিজ বলে দিন, সিডিউল মতোই ওঁর মিটিংয়ে যাবো। আমি প্রিয়বাবুকে সে কথা জানালাম। কিন্তু উনি নাছোড়। প্লিজ, ফোনটা একবার ওনাকে ধরতে বল না ভাই! খুব উপকার হয়। আমি আবার রাজীবজিকে তা জানালাম। উনি এবার হাসিমুখে হাত বাড়ালেন। যেন জানাই ছিল, প্রিয়রঞ্জন তাঁকে কী বলতে পারেন! তাই ফোনের রিসিভারটা মুখের কাছে এনেই বললেন, আমি তোমায় বলেছি, আগে মমতার মিটিংয়ে যাবো, তারপর তোমারটায়। সে যত রাতই হোক না কেন! প্রায়োরিটি মমতা। তারপর নিজেই রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন ক্রেডেলে। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী। আর, প্রিয়বাবু হাওড়ায়। আগেই ঘোষণা ছিল সেদিন মমতার সমর্থনে দেশপ্রিয় পার্কের প্রচারসভায় রাজীব গান্ধী আসবেন। যোগ দেবেন হাওড়ায় প্রিয়রঞ্জনের প্রচারসভাতেও।
এর ঠিক পাঁচদিনের মাথায় তামিলনাড়ুতে দলীয় এক নির্বাচনী প্রচারসভায় বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল রাজীব গান্ধীর দেহ। তামিল জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই’র এক সদস্যার আত্মঘাতী বিস্ফোরণে রাজীব নিহত হয়েছিলেন। ১৬ মে কলকাতা প্রেস ক্লাবেই ছিল তাঁর জীবনের শেষ সাংবাদিক বৈঠক। সম্ভবত সেই কারণেই স্মৃতিপটে ঘটনাটি এখনও জ্বলজ্বল করছে।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। রাজনীতির অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে কোনও শব্দও থাকতে পারে না। তাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা বাতুলতারই নামান্তর। তবু রাজনীতি নিয়ে হিসেব-নিকেশ, যোগ-বিয়োগ, সম্ভাবনা-অসম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তো থাকেই। আগামী পাঁচ-ছ’মাস বাদের ভারতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক চিত্রটি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎই সাতাশ বছর আগে রাজীব গান্ধীর মুখে উচ্চারিত দুটো শব্দ মনে পড়ে গেল। ‘প্রায়োরিটি মমতা’। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মে মাস নাগাদ পরবর্তী লোকসভা ভোট হবে। সিংহাসন ধরে রাখতে সেই ভোটে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবির সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামবে। ধরেই নেওয়া যায়, আরএসএসের ছাতার তলায় থাকা নানা নামের অসংখ্য সংগঠন তাদের সমস্তরকম অস্ত্র প্রয়োগ করে পদ্ম-শিবিরকে দিল্লির মসনদে আসীন রাখতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। সেখানে নীতি-নৈতিকতার চেয়ে ‘মারি অরি যে কৌশলে’রই গুরুত্ব বেশি থাকবে। সে রামমন্দির ইস্যুকে আগ্রাসী কায়দায় সামনে আনাই হোক, আর অন্য কোনও আরও মারাত্মক রাস্তাতেই হোক—ধর্মীয় মেরুকরণই হবে ওই শিবিরের প্রধান হাতিয়ার। কারণ, গত লোকসভা ভোটের মুখে দেশবাসীকে ‘আচ্ছে দিনে’র স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বিদেশে পাচার হওয়া লক্ষ লক্ষ কোটি কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে প্রতিটি ভারতবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা করে ভরে দেবেন। বছরে দু’কোটি করে চাকরি মিলবে, দুর্নীতি নামক বিষয়টি দেশ থেকে সমূলে উচ্ছেদ হবে।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মোদিজিদের দেওয়া প্রায় কোনও প্রতিশ্রুতিই বাস্তয়ায়িত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের মানুষের করের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে অজস্রবার বিদেশভ্রমণ করেছেন। প্রায় অর্ধেক পৃথিবীই তিনি চষে ফেলে একরকম নজির গড়েছেন। এতে হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত বাসনা পূরণ হয়েছে। কিন্তু তাতে বিদেশ থেকে একটি কালো টাকাও দেশে ফেরেনি। বছরে দু’কোটি তো দূরের কথা, কয়েক লক্ষ চাকরিরও ব্যবস্থা হয়নি। বরং, আচমকা নোট বাতিল আর ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি’র ধাক্কায় বহু রোজগেরে মানুষ বেকার হয়ে গিয়েছেন। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছে। সবকা সাথ সবকা বিকাশে’র কথা বললেও বাস্তবে সেই অভিজ্ঞতা মেলেনি। দেশ থেকে দুর্নীতি দূর তো হয়ইনি, বরং বহু দুর্নীতিবাজ শাসক শিবিরের প্রশ্রয় পেয়েছে জনমনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। তিরিশ বছর আগে ১৯৮৯-র লোকসভা ভোটে বোফর্স ইস্যুকে প্রধান হাতিয়ার করে যাঁরা রাজীব গান্ধীর দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মোদিদের দলীয় পূর্বসূরিরা ছিলেন। আজ রাফাল ইস্যু সম্ভবত বোফর্সের পথেই চলেছে। বোফর্সে ছিল ৬৪ কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ। আর, রাফালে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে ২০১৪ সালে ভারতের অবস্থা যে রকম ছিল, মোদিদের শাসনের সাড়ে চার বছরে তার চেয়ে তা খারাপ দিকেই এগিয়েছে।
এই পটভূমিকায় আসন্ন ভোট নিয়ে দেশের রাজনীতির ময়দান সরগরম। একদিকে ক্ষমতা ধরে রাখতে গেরুয়া শিবির যেমন মরিয়া, তেমনি কোমর বেঁধে নামছে বিরোধীরাও। বিরোধী শিবির ভোটে জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন—সে প্রশ্ন দূরে সরিয়ে রেখে রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু, অখিলেশ যাদব পর্যন্ত সবাই এককাট্টা হতে চান বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। মোদি হঠানোকেই এরা পাখির চোখ করেছেন। এদিকে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যে ২০১৪ সালের চেয়ে অনেকটাই আলাদা হয়ে গিয়েছে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। গতবছর গুজরাত বিধানসভা ভোটে বিজেপি কোনওক্রমে পুরনো গড় রক্ষা করতে পেরেছে। উত্তরপ্রদেশে জিতলেও তার প্রধান কারণ যে অখিলেশ-মায়াবতী বিবাদ তা জলের মতো স্পষ্ট। কারণ, ওই ভোটে বিপুল জয়ের মাস কয়েকের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি উপনির্বাচনে ওই রাজ্যে বিজেপি ধরাশায়ী হয়েছে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দীর্ঘকালের গড় গোরক্ষপুর আসনটিও পদ্মপ্রতীকের দখলে রাখতে পারেনি। তারপর কর্ণাটকের বিধানসভা ভোটেও গেরুয়া শিবির পরাস্ত হয়েছে। ফলে, সংখ্যার বিচারে দেশের অর্ধেকের বেশি রাজ্য ওই শিবিরের দখলে গেলেও গোটা দক্ষিণ ভারতই তাদের অধরা রয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটপর্ব চলছে। একাধিক সমীক্ষা বলছে, ফল বেরলে দেখা যাবে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে গেরুয়া এলাকা কমেছে। আবার, নীতিগতভাবে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একমত হলেও ছত্তিশগড়ে অখিলেশ যাদব কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেননি। কারণ, তাতে মায়াবতীর সঙ্গে বিবাদ বাধত। মায়াবতীর সঙ্গে জোট বেঁধেই আগামী লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে বিপর্যস্ত করতে মরিয়া অখিলেশ। তা যে সম্ভব হতে পারে একাধিক উপনির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। আর, দেশের সর্ববৃহৎ রাজ্য উত্তর প্রদেশের মোট ৮০টি আসনের মধ্যে গতবার বিজেপি ৭২টিই জিতে নিয়েছিল। এর জোরেই দিল্লির সিংহাসনের অনেকটাই কাছে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। এবার ওই রাজ্যে ভরাডুবি হলে পরিস্থিতি আগের মতো থাকা কঠিন। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুসহ বড় রাজ্যগুলিতেও বিজেপির পক্ষে এবার খুব বেশি আসন ঝুলিতে ভরা প্রায় অসম্ভব। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা বিজেপির সবচেয়ে পুরনো বন্ধু। কিন্তু আগের মতো আর সুসম্পর্ক নেই। মারাঠিদের রাজ্যে ‘বড়দা’ হয়ে ওঠা বিজেপিকে নানা ইস্যুতে তোপ দেগে চলেছে শিবসেনা। তার উপর লোকসভা ভোটের মাসকয়েকের মধ্যেই মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটে নিজেদের গড় পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া শিবসেনার উদ্ভব থ্যাকারেরা। ফলে, লোকসভা ভোটে ওখানে বিজেপি কতটা সুবিধা করতে পারবে এখনই বলা মুশকিল। ওড়িশাতে নিজের দখল বজায় রাখতে নবীন পট্টনায়ককে লড়তে হবে মূলত বিজেপির সঙ্গেই। বিহারে বর্তমান বিজেপি-বন্ধু নীতীশ কুমারের আর সে জোর নেই। বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার উপর রয়েছে রামবিলাসের দলের মতো গোটা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশ কয়েকটি দল যারা সর্বদাই ক্ষমতাসীনের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই কোনও ‘ভানুমতী খেলে’র জোরে বিজেপি সরকার গঠনের জায়গায় পৌঁছতে না পারলে দেশে ১৯৮৯-রই পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
সেক্ষেত্রে বিরোধী শিবিরে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস হয়তো সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হবে। মমতার দল তৃণমূলের দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। শারদ পাওয়ার আগেই ঘোষণা করেছেন তিনি আর ভোটেই লড়বেন না। ঘোলাজল হলেও চন্দ্রবাবু, অখিলেশ অথবা মায়াবতীর পক্ষেও নানা কারণে ওই দাবি তোলা সহজ হবে না। সেই পরিস্থিতিতেই বাংলার অগ্নিকন্যাই প্রাধান্য পাবেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে ও ভিন্ন প্রসঙ্গে ১৯৯১ সালের মে মাসে রাজীব গান্ধীর মুখে ‘প্রায়োরিটি মমতা’ যেভাবে শুনেছিলাম, আশা করা যায় ২০১৯ এর মে মাসেও অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কারণেই তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধীর মুখে একইভাবে উচ্চারিত হবে সেই দুটি শব্দই—প্রায়োরিটি মমতা। মমতারই অগ্রাধিকার। বৃহত্তর লক্ষ্যপূরণের স্বার্থে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া যে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় অসম্ভব নয় তার প্রমাণ তিনি কর্ণাটকে সরকার গঠনপর্বেই দিয়েছেন।
27th  November, 2018
শিশুদের বাজেট
শুভময় মৈত্র

 একশো ত্রিশ কোটির দেশে আশি কোটি প্রাপ্তবয়স্ক ভোটার, বাকি পঞ্চাশ কোটি বয়সে ছোট। যার ভোট নেই তার জন্যে লোকসভা নির্বাচনের মাস তিনেক আগে ভাবার সময় থাকে না শাসকদলের। সেই জন্যেই বাজেট বক্তৃতায় শিশুদের কথা খুঁজতে গেলে দূরবিন প্রয়োজন। তবে চশমা ছাড়াই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এবারের বাজেটের বিশালাকার অক্ষরের ভীষণ চমক ‘ভিশন ২০৩০’। আজ থেকে এগারো বছর পর দেশ ঠিক কোথায় পৌঁছবে তার চালচিত্র। কোথাও কিন্তু আজকের শিশুদের কথা নেই।
বিশদ

মার্কিন মুলুকে (-) ৬০,
সন্ধিক্ষণ কিন্তু পরিবর্তনেরই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

পোলার ভর্টেক্সের প্রভাব কি ভারতেও পড়েছে? এবার উত্তর ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডার জন্য আবহাওয়াবিদরা কিছুটা হলেও পোলার ভর্টেক্সকে দায়ী করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোলার ভর্টেক্স দুর্বল হয়ে ঠান্ডাটাকে আমেরিকা ও ইউরোপের উত্তরভাগে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। আর তার ধাক্কায় দক্ষিণের দিকে চলে এসেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এমনিতে বছরে চার থেকে ছ’টি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ভারতীয় উপমহাদেশে এসে ধাক্কা খায়। চলতি বছর সেই সংখ্যাটা সাত। যার জন্য শীতের প্রকোপ বেড়েছে ভারতে। মূলত হিমালয় এবং তার সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে।
বিশদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এগিয়ে?
সমৃদ্ধ দত্ত

গত পাঁচ বছরে সিপিএম একবারও কি রেলমন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করে রাস্তায় নেমেছে? পশ্চিমবঙ্গ কেন বঞ্চিত হচ্ছে, এই প্রশ্ন তুলে কখনও সিপিএমকে প্রেস কনফারেন্স করতে দেখেছে কেউ? কেন কিছু করেনি সিপিএম? কারণ এখন আর রেলমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। বিশদ

15th  February, 2019
রাফাল না সিবিআই, মোদি-বিরোধিতায় সবচেয়ে শক্তিশালী ইস্যু কোনটি?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 রাফাল ইস্যুকে সামনে রেখে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তির ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ধারাবাহিকভাবে রাফাল ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে রাখতে পেরেছিলেন রাহুল। হিন্দি বলয়ে তিন রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়-এ বিজেপি’র পরাজয়ের পিছনে অন্য সমস্ত কারণের মধ্যে রাহুল গান্ধীর তোলা রাফাল যুদ্ধ বিমান দুর্নীতির প্রচার বিজেপি’র বিরুদ্ধে গিয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।
বিশদ

14th  February, 2019
স্মার্ট সিটি এবং সুশাসন
রঞ্জন সেন

স্মার্ট হওয়া ভালো, কিন্তু আরও ভালো হল সুশাসিত হওয়া। আর এটা হয় না বলেই রাতারাতি স্মার্ট বলে দেগে দেশের স্মার্ট সিটিগুলিতে হঠাৎ প্রয়োজনে জরুরি পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তার প্রশস্ত রাজপথে চরে বেড়ায় গোরু। তার পরিণতিতে মানুষের প্রাণও যায়।
বিশদ

12th  February, 2019
ভোটের কৈফিয়ত
পি চিদম্বরম

একটা আত্মবিশ্বাসী সরকার স্বাভাবিক অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করত আর এটাই করা উচিত, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের মতো জিনিসটার ঘাটতি রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মধ্যে। শুধু বিজেপি এমপিদের বিষণ্ণ মুখগুলোর দিকে তাকান বিশেষত যাঁরা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছেন এবং আপনি আমার সঙ্গে একমত হবেন।
বিশদ

11th  February, 2019
ফাঁকা অভিযোগ করে বা সিবিআই জুজু দেখিয়ে কি মমতার গতিরোধ করা যাবে?
শুভা দত্ত

২০১৯ যুদ্ধের দামামা বেশ ভালোমতোই বেজে উঠেছে। বোঝাই যাচ্ছে লোকসভা ভোট আর দূরে নেই। মাঝে বড়জোর মাস দুই-আড়াই। তারপরই এসে পড়বে সেই বহু প্রতীক্ষিত মহাসংগ্রামের দিন। দেশের শাসনক্ষমতার মসনদ দখলের যুদ্ধে মুখোমুখি হবে শাসক এবং বিরোধী শিবিরের রথী-মহারথীবৃন্দ।
বিশদ

10th  February, 2019
হৃদয় গিয়েছে চুরি
অতনু বিশ্বাস

আচ্ছা, হৃদয়টাকে (হৃদপিণ্ড মানে হৃদয় ধরে নিয়ে) সত্যি সত্যিই কি কোথাও ফেলে আসা যায় না? যদি সত্যিই না যায়, কুমিরটা সেটা বিশ্বাস করল কী করে? উপকথার কুমিররা হয়তো বোকা হয়, তবে তার তথাকথিত বোকামিকে অনেক ক্ষেত্রেই আমার নেহাতই সরলতা বলে মনে হয়েছে।
বিশদ

09th  February, 2019
ন্যানো, একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যু
মৃণালকান্তি দাস

ভক্সওয়াগেন বিটল। যে বছর ভারতে ন্যানোর আবির্ভাব, তার ঠিক ৭০ বছর আগে বাজারে এসেছিল এই ‘পিপলস কার’। গোটা জার্মানি জুড়ে শুধু রোড নেটওয়ার্ক বাড়ানোই নয়, দেশের মানুষকে সস্তায় গাড়ি চড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। কে না জানে, ভক্সওয়াগেন মানেই তো ‘জনতার গাড়ি’।
বিশদ

08th  February, 2019
সিবিআই নাটকে শেষপর্যন্ত
মমতাই কি লাভবান হলেন না?
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 নাটক? হ্যাঁ, নাটক। নাটক ছাড়া কী! বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ করে রবিবারের শেষ বিকেলে কোত্থেকে চল্লিশ সিবিআই চলে এলেন, সন্ধের মুখে তাঁদের কজন জিজ্ঞাসাবাদের অছিলায় হানা দিলেন লাউডন স্ট্রিটে খোদ পুলিস কমিশনারের দরজায়, ঢোকার মুখেই কর্তব্যরত পুলিসের সঙ্গে বাধল সংঘাত, ছড়াল উত্তেজনা, কয়েক মুহূর্তের মধ্যে কলকাতা পুলিসের বড়কর্তারা হাজির, তর্ক-বিতর্ক ধস্তাধস্তি এবং শেষমেশ পুলিসের গাড়িবন্দি হয়ে দলের নেতা ডিএসপি সিবিআই ও আরও কয়েকজন শেক্সপিয়র সরণি থানায়!
বিশদ

07th  February, 2019
উন্নয়নের সঙ্গে যথেষ্ট আর্থিকশৃঙ্খলা অর্জিত হয়েছে
দেবনারায়ণ সরকার

সোমবার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। গত বছরের অনুমিত বাজেটের তুলনায় এটা ২১ শতাংশেরও বেশি। রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। 
বিশদ

05th  February, 2019
গাদকারি মাহাত্ম্য
পি চিদম্বরম

নীতিন গাদকারি একজন অন‌্যধরনের রাজনীতিক। তাঁর নিজের স্বীকার অনুযায়ী, তিনি একজন ভোজনরসিক, তিনি হাল ফ‌্যাশনের পোশাক পরেন এবং দেখে মনে হয় জীবনটাকে উপভোগও করেন। তিনি পাবলিক ফাংশনে ভাষণ দিতে পছন্দ করেন এবং এমনভাবে কথা বলেন যেন দুনিয়ার কে কী ভাবল তাতে তাঁর যায় আসে না।
বিশদ

04th  February, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে চরমে উঠল কেবল টিভি সমস্যা। গ্রাহকদের একটা বড় অংশ অভিযোগ করছে, তারা টিভিতে হাতে গোনা কয়েকটি চ্যানেল ছাড়া পছন্দের চ্যানেল দেখতে পাচ্ছে না। এদিকে, যাঁরা নয়া নিয়মে চ্যানেল দেখার জন্য ফর্ম পূরণ করে টাকা জমা দিয়েছেন, ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: এক নাবালিকাকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত যুবকের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে জুনপুট কোস্টাল থানার পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম হারাধন সিং। তার বাড়ি সংশ্লিষ্ট থানার গোপালচক গ্রামে। শুক্রবার কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪দিন জেল ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ এবং ওয়ান ডে সিরিজের জন্য শুক্রবার তিনটি দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। প্রতিটি দলেই ১৫ জন করে ক্রিকেটার আছেন। ...

  বেজিং, ১৫ ফেব্রুয়ারি (এএফপি): চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে সংঘাত মেটাতে আয়োজিত দু’দিনের বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে। শুক্রবার এমনটাই জানালেন মার্কিন রাজস্ব বিভাগের সচিব স্টিভেন মনুচিন। তবে মার্কিন আধিকারিক মুখে এই কথা বললেও, ওই দু’দিনের বৈঠকে স্থায়ী কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৪: পরিচালক দাদাসাহেব ফালকের মৃত্যু
১৯৫৬: বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার মৃত্যু
১৯৫৯: মার্কিন টেনিস খেলোয়াড় জন ম্যাকেনরোর জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৭০ টাকা ৯২.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৮.৯৫ টাকা ৮২.১২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৭০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৯৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,৪৫৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শনিবার, একাদশী ১২/৫ দিবা ১১/২। আর্দ্রা ৩২/১৩ রাত্রি ৭/৫। সূ উ ৬/১২/৮, অ ৫/২৯/৩২, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৮/১ গতে ১০/৩৪ মধ্যে পুনঃ ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে পুনঃ ২/৪৯ গতে ৪/৩০ মধ্যে। বারবেলা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৪০ মধ্যে পুনঃ ৪/৫ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৬ গতে উদয়াবধি।
৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, শনিবার, একাদশী প্রাতঃ ৬/৪১/২ পরে দ্বাদশী রাত্রিশেষ ৪/৪৩/৫৪। আর্দ্রানক্ষত্র ৩/৩৬/২৭, সূ উ ৬/১৩/১৬, অ ৫/২৭/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮/১৮ থেকে ১২/৫৮/৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/০/৫৩ থেকে ১০/৩৪/৩ মধ্যে ও ১২/১৬/১১ থেকে ১/৫৮/১৮ মধ্যে ও ২/৪৯/২১ থেকে ৪/৩১/২৮ মধ্যে, বারবেলা ১/১৪/৫৫ থেকে ২/৩৯/১১ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩৭/৫২ মধ্যে ও ৪/৩/২৭ থেকে ৫/২৭/৪২ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩/২৬ মধ্যে ও ৪/৩৭/১৩ থেকে ৬/১২/৫৭ মধ্যে। 
১০ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গোপীবল্লভপুরে নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল এক কিশোর 

15-02-2019 - 06:37:00 PM

ভুয়ো কোম্পানি খুলে রাজ্যজুড়ে প্রতারণার জাল, ধৃত ৭
গৃহঋণ থেকে চাকরির টোপ দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে প্রচুর মানুষকে ...বিশদ

15-02-2019 - 04:12:00 PM

৬৭ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

15-02-2019 - 04:11:35 PM

পুলওয়ামায় হামলা: নদীয়া, হাওড়ার শহিদ জওয়ানদের বাড়িতে আসছেন দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী 

15-02-2019 - 04:03:51 PM

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার জেরে উত্তপ্ত জম্মু, পুড়ল ১৫টি গাড়ি 

15-02-2019 - 03:08:00 PM

মাঝেরহাটে সিইএসই অফিসে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৩টি ইঞ্জিন 

15-02-2019 - 03:03:00 PM