Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কলকাতার মেয়র বদল: দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় মমতার মাস্টার স্ট্রোক
শুভা দত্ত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাঁরা চেনেন তাঁরা জানেন দলের ভাবমূর্তি ও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি কখনও কোনও আপস করেন না। দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে বা ভাঙার চেষ্টা করলে, সে তিনি যত বড় নেতা বা নেত্রীই হোন, শাস্তি তাঁকে পেতেই হয়। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে রেয়াত করেন না তিনি। এবং তথ্যভিজ্ঞজনেরা বলেন, দলে শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা প্রথমাবধিই কঠোর এবং অবিচল। আলাদা করে নাম করছি না, তবে দলের শৃঙ্খলা ভেঙে অতীতে যে তৃণমূলের একাধিক নামজাদা নেতানেত্রী কড়া শাস্তির মুখে পড়েছেন তা প্রায় সকলেই জানেন। সেই শাস্তি সামলাতে সামলাতে তাঁদের অনেকের রাজনৈতিক জীবন কার্যত অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। আজ তাঁদের মুখগুলো আর তেমন দেখাই যায় না। দেখা গেলেও সেগুলোকে মনে হয় তাঁদের উজ্জ্বল অতীতের ছায়ামাত্র।
অবশ্য, সেটাই স্বাভাবিক। কারণ, তৃণমূলে যাবতীয় আলোর উৎস একটাই—মমতা, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আকাশের সূর্যের মতো তাঁর আলোতেই আলোকিত ছোট বড় মাঝারি—বাকি সব মুখ। তো কোনও মুখের ওপর থেকে কোনও কারণে তাঁর আলো সরে গেলে সেই মুখটা যে অন্ধকারে ডুবে যাবে তাতে আশ্চর্য কী? আর অন্ধকারের আড়ালে বেশিদিন থাকলে মানুষের মনেও সে মুখের ছবিটা ঝাপসা হবে। হবেই। কারণ, মানুষ স্বভাবগতভাবে ভুলো। ভালো-মন্দ প্রিয়-অপ্রিয় দুঃখ-শোক উপকার—কোনও কিছুই বেশিদিন মনে রাখে না, রাখতে পারে না। আজকের এই চরম ব্যস্ততার দিনে তো কথাই নেই—সকালের কথা রাত অব্দি মনে রাখতেই হিমশিম মানুষ!
এমন পরিস্থিতিতেই আপাতত মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মন্ত্রী ও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। কেন ছাড়লেন সে বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। সেটা একান্তভাবেই তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গও যে তিনি চিরকালের মতো ত্যাগ করলেন এমন চূড়ান্ত কথাও বলছি না। রাজনীতির ক্ষেত্রে তেমনটা বলা মনে হয় না খুব বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, রাজনীতিতে অসম্ভব বা শেষ বলে কিছু নেই। কিন্তু, এই মুহূর্তে মিডিয়ায় সংবাদপত্রে ঘটনা পরম্পরা দেখেশুনে পড়ে রাজ্যবাসী এটুকু বুঝেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুদীর্ঘকালের সুখদুঃখের সঙ্গী, অন্যতম আস্থাভাজন লড়াকু নেতা, ‘মমতা দিদি’র স্নেহাস্পদ কাননের সঙ্গে আপাতত দল ও দলনেত্রীর একটা গুরুতর বিচ্ছেদ ঘটে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতার নির্দেশে মন্ত্রী এবং মেয়র পদ থেকে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। নিজে থেকে বিধায়ক সমেত অন্য পদও ছাড়তে চেয়েছেন। এই বিচ্ছেদের ঘটনার সঙ্গেই উঠে এসেছে তাঁর কিছু অপ্রীতিকর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। মিডিয়া কাগজ মারফত সেসব খবরও আজ রাজ্যে কারও অজানা নয়।
অবশ্য, এই বিচ্ছেদ রাতারাতি ঘটেনি। অনেকদিন ধরেই এই বিচ্ছেদের পটভূমি তৈরি হচ্ছিল। বিচ্ছেদ ঠেকাতে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা অনেক চেষ্টাও করেছেন। তার চেয়েও বড় কথা, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার শোভনবাবুকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দায়দায়িত্ব এবং দলীয় শৃঙ্খলার কথা স্মরণ করিয়ে প্রিয় ‘কানন’কে আজকের এই চূড়ান্ত অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা চালিয়েছেন। তথ্যভিজ্ঞমহল সূত্রে খবর তেমনই। কিন্তু, ভবি তাতেও ভোলেনি। শোভনবাবু তাঁর সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছেন। শেষপর্যন্ত, উপায়ন্ত না দেখে বেদনাদায়ক সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছে দলনেত্রী মমতাকে। ভোটের মুখে দলের ভাবমূর্তি এবং দলীয় শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন তিনি। এবং কলকাতার পরবর্তী মেয়র হিসেবে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মনোনয়নে সম্মতি দিয়েছেন।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, শোভনবাবুকে ছেঁটে ফেলা এবং তাঁর জায়গায় ফিরহাদ অর্থাৎ ববি হাকিমকে মেয়র হিসেবে প্রজেক্ট করাটা রাজনৈতিক দিক থেকে তো বটেই, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও মমতার মাস্টার স্ট্রোক। কারণ, এতদ্বারা তিনি বুঝিয়ে দিলেন, যত প্রিয় এবং যোগ্যই হোন দলের স্বার্থ ও দলীয় শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নন। মন্ত্রী মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আচরণে মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা যে বিশেষ বিব্রত বোধ করছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। বিব্রত হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। শোভনের ঘটনা নিয়ে সিপিএম কংগ্রেস বিজেপি’র মতো বিরোধীদের বাড়তি কটু-কাটব্য কটাক্ষের মোকাবিলা করতে হচ্ছিল তাঁকে। এখন এই এত বড় ভোটের মুখে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থের দিক থেকে সেটা মোটেই প্রীতিকর হচ্ছিল না। বিরোধীদের লাগাতার অপপ্রচারে সাধারণ মানুষের কাছেও একটা ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। তাই, সাময়িকভাবে স্নেহ প্রীতি ভুলে পদক্ষেপ তাঁকে করতেই হয়েছে। তাছাড়া, মোদিবিরোধী জাতীয় রাজনীতিতে এখন অন্যতম মুখ্য ভূমিকায় তিনি। কিছুদিন আগে চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো হেভিওয়েট নেতা এসে প্রকারান্তরে সে কথাই ঘোষণা করে গিয়েছেন। সেই সঙ্গে, মমতার নিজস্ব ফেডারেল ফ্রন্টও আছে। সেটা নিয়েও বিস্তর ভাবনাচিন্তা করতে হচ্ছে তাঁকে। আছে রাজ্যের উন্নয়ন চিন্তা, নানান সমস্যা। সব মিলিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল সুপ্রিমোর এখন দম ফেলবার সময় নেই। এমন অবস্থায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন বিশ্বাসভাজন দক্ষ সহকর্মীর এহেন কাণ্ডে মমতা অসন্তুষ্ট হবেন তাতে আশ্চর্য কী?
তবে, অসন্তোষের বশে কোনও হটকারী সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। কারণ, তিনি মমতা। রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি হোক কি বাস্তবতার বোধ—তিনি যে এ রাজ্যের বিরোধীদের চেয়ে কোটি যোজন এগিয়ে—ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র করার নিদান দিয়ে সত্যি বলতে কী আবার তার প্রমাণ দিলেন। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, মন্ত্রী এবং প্রাক্তন মেয়র সুব্রত মুখোপাধ্যায় ছাড়া এই মুহূর্তে কলকাতা মহানগরীর দায়িত্ব সামলানোর জন্য সবদিক থেকে ফিরহাদ, ববিই যোগ্যতম। কারণ, ববি হাকিম পুরসভা বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং তৃণমূল সরকারে নগরোন্নয়ন দপ্তরের একজন সফল মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের বহু উন্নয়ন পরিকল্পনা সফলভাবে রূপায়িত করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ববি আর পাঁচজনের চেয়ে অনেক সংযত-বাক এবং রাজনৈতিক বুদ্ধি-কৌশলেও অনেক দড়। ফলে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটের বিদায় নিয়ে পুরমহলের আনাচকানাচের আবেগ-আলোড়নগুলোকে সামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নগরোন্নয়নের কাজ শুরু করতেও তাঁর সময় লাগবে না। সেদিক থেকেও ববির নির্বাচন যথার্থ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে। এহেন ববির মেয়র পদে আনুষ্ঠানিক যোগদান এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনও হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, মমতার এই মাস্টার স্ট্রোকের আর একটি দিকও আছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষকে ডেপুটি করে মমতা কলকাতা উত্তরের মানুষজনের ‘অভিমান’ও মুছে দিলেন। এতদিন শোনা যেত, দিদি মমতা নাকি উত্তরের চেয়ে দক্ষিণ কলকাতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। ভালোর সিংহভাগ দক্ষিণে চলে যায়। আর তাই নিয়ে সূক্ষ্ম একটা অভিমান কলকাতা উত্তরের বাতাসে ভেসে বেড়াত। এবার পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের দক্ষ মেয়র পারিষদ অতীনবাবুকে ডেপুটি মেয়রের আসনে বসিয়ে মমতা সেই অভিমান কার্যত মুছে দিলেন। রাজনৈতিক দিক থেকেও এই সিদ্ধান্ত যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তার চেয়েও বড় কথা, ববিকে মেয়র পদে এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে একটি অনন্য নজির গড়লেন। এই প্রথম মহানগরীর একজন সংখ্যালঘু নেতা কলকাতার মেয়র হচ্ছেন। এটা কি কম বড় কথা? অথচ আশ্চর্য এই, তাঁর নির্বাচন নিয়ে সিপিএম কংগ্রেস থেকে বিজেপি—সকলেই আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে। সকলের আক্রমণের লক্ষ্য অবশ্য শেষ পর্যন্ত সেই মমতা! মেয়র পদে ফিরহাদের মনোনয়ন নিয়ে সিপিএম কংগ্রেস আইনি প্রশ্ন তুলছে, সংশোধিত পুর আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক বাধাচ্ছে। আর বিজেপি’র কেউ কেউ তো ঠারেঠোরে সেই চিরচেনা জিগির তুলে হাওয়া গরম করার চেষ্টা করছে। এসব কি রাজ্যের পক্ষে যথেষ্ট দুর্ভাগ্যের নয়? কলকাতার মহানাগরিকের আসনে কোন ধর্ম কোন জাতের মানুষ বসছেন মমতার এই সম্প্রীতির রাজ্যে—এটা কি আলোচ্য হতে পারে! পারে না, কিন্তু হচ্ছে। হোক। তাতে রাজ্যবাসী মানুষজন যে বিশেষ কান দিচ্ছেন না সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। বরং, মেয়র পদে ফিরহাদ হাকিমের মনোনয়নকে তাঁরা মমতার ‘মাস্টার-স্ট্রোক’ বলেই মনে করছেন। রাজ্যের পথেঘাটে সাধারণের মন্তব্য থেকে তেমন প্রতিক্রিয়ার আভাসই মিলছে বলে খবর। এ রাজ্যের বাতাবরণে সেটাই তো স্বাভাবিক—তাই না?
25th  November, 2018
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, হরিপাল: হরিপালের নালিকুল পূর্ব পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব গোপীনাথপুর ও সিঙ্গুর ব্লকের মধ্য হিজলার উপর প্রায় ২ কোটি টাকা খরচে কানা নদীর উপর তৈরি হচ্ছে ...

 নয়াদিল্লি, ২২ মে (পিটিআই): রাত পেরলেই লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণা শুরু হবে। আর বৃহস্পতিবারই ঠিক হয়ে যাবে ৭২৪ জন মহিলা প্রার্থীর ভাগ্য। এবার মোট ৭২৪ জন মহিলা প্রার্থী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এবার সবচেয়ে বেশি ৫৪ জন মহিলা প্রার্থী দাঁড় ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার থেকেই শুরু হয়ে গেল সরকারি স্কুলগুলির একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি প্রক্রিয়া। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া হচ্ছে। অনলাইনে একটি বা একাধিক ফর্ম ডাউনলোড করে বা তার কপি করে তা পূরণ করে জমা দেওয়া যাচ্ছে। ফর্ম জমা দেওয়া যাবে ...

  জাকার্তা, ২২মে (এপি): নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষ ঘিরে রণক্ষেত্র ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্য মাঝেমধ্যে বিরূপ হলেও খুব একটা চিন্তার কারণ হবে না। ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীদের থেকে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু
১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম
১৯১৯-জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর জন্ম
১৯৫১-বিশিষ্ট দাবাড়ু আনাতোলি কারাপোভের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৮৮ টাকা ৭০.৫৭ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৬ টাকা ৯০.২৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৩৫ টাকা ৭৯.২৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৩৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/২৩ রাত্রি ৪/১৯। পূর্বাষাঢ়া ০/৩৯ প্রাতঃ ৫/১৩। সূ উ ৪/৫৭/৩৪, অ ৬/৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৩১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৩ গতে ১২/৫৪ মধ্যে।
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৫৮/১/৪১ শেষরাত্রি ৪/৯/৩৩। পূর্বাষা‌ঢ়ানক্ষত্র ২/০/১৯ প্রাতঃ ৫/৪৫/১, সূ উ ৪/৫৬/৫৩, অ ৬/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৭ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৪ মধ্যে ও ৩/৩০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ৪/৩১/৫৯ গতে ৬/১১/১৭ মধ্যে, কালবেলা ২/৫২/৪১ গতে ৪/৩১/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৪/৫ গতে ১২/৫৪/৪৭ মধ্যে। 
১৭ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ইতিহাসে আজকের দিনে
১৯০৬-নাট্যকার হেনরিক ইবসেনের মৃত্যু১৯১৮: ইংরেজ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের জন্ম ১৯১৯-জয়পুরের ...বিশদ

07:15:00 AM

আজকের রাশিফল
মেষ: ভ্রমণযোগ বিদ্যমান। বৃষ: কর্মে পদোন্নতির যোগ আছে। মিথুন:  শেয়ার ও ...বিশদ

07:10:19 AM

ঘেরাও মুক্ত হলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য 

22-05-2019 - 04:21:49 PM

১৪০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

22-05-2019 - 03:52:18 PM

ধূপগুড়ির বিএমওএইচ-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল স্বাস্থ্য দপ্তরের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে 

22-05-2019 - 03:03:00 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চে আইইডি বিস্ফোরণ, শহিদ ১ জওয়ান, জখম ৭ 

22-05-2019 - 01:31:14 PM