Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অসম ফের ভাবাচ্ছে, শেষ
পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হবে!
মোশারফ হোসেন

বছর কুড়ি-একুশ আগের কথা। গুয়াহাটিতে একদিন একটি মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে প্রাতঃরাশ সারছিলাম। সম্ভবত খানিকটা বেলা হয়ে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টে ভিড় নেই। পাশের টেবিলে চার ভদ্রলোক খাওয়া দাওয়া করতে করতে নিজেদের মধ্যে অনুচ্চ স্বরে কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎই কানে পড়ল বেশ কয়েকটি বাংলা শব্দবন্ধ। তখন বয়স অনেক কম। কৌতূহল বেশি। আবেগও। সাংবাদিকতার কাজে বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হয়। বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কাশ্মীর, কর্ণাটক- যেখানেই যাই না কেন, বাঙালির সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগে। মাতৃভাষায় খানিক গল্পগুজব করতে পারলে প্রাণের আরাম বোধ হয়। ওখানে ওই বাঙালিরা কেমন আছেন জানার চেষ্টা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করি। নতুন নতুন তথ্য পাই। নানারকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। কখনও কখনও মজার অভিজ্ঞতাও হয়। ভালোই লাগে। এর আগে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একবার এক হোটেল মালিকের পদবি চ্যাটার্জি শুনে পরম আনন্দে বাংলায় ভাব জমাতে গিয়ে জোর ধাক্কা খেয়েছিলাম। জেনেছিলাম, ওই ভদ্রলোকরা বেশ কয়েকপুরুষ কানপুরের বাসিন্দা। ওঁদের যে পুর্বপুরুষ বাংলা থেকে গিয়েছিলেন, তিনি ওখানকার স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করেন। পরবর্তী প্রজন্মগুলির সমস্ত বধূও খাস উত্তরপ্রদেশীয়। কেবল পদবিটুকু ছাড়া ওই পরিবারের সমস্তকিছুই ওই রাজ্যের আর পাঁচজনের মতো। রীতি, আচার, পুজোআচ্চা সবই। এমনকী পরিবারের লোকজনের মধ্যে শেষ কবে বাংলা ভাষায় কথাবার্তা হয়েছে তা ওই মধ্যবয়সি ভদ্রলোকেরও জানা নেই। আবার, ওই রাজ্যেরই আলিগড়ে এক প্রবাসী বাঙালি অধ্যাপক পরিচয় পেয়ে বাড়িতে ‘দিওয়ালি’ মিলন উৎসবে আপ্যায়ণ করেছিলেন। ওই পরিবারে অবশ্য বাংলার চর্চা ভালোই দেখেছিলাম। ভিনরাজ্যে কোথাও বাংলা ভাষা বা বাঙালির দেখা পেলে সম্ভবত খানিক আশ্বস্তও হতাম। কারগিল যুদ্ধের সময় দ্রাসের যুদ্ধক্ষেত্রেই এক জওয়ানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সীমান্তে পাক গোলন্দাজদের সঙ্গে ঘোর গোলাগুলি বিনিময়ের ফাঁকেই নদীয়ার ওই বঙ্গসন্তান বাঙ্কারের মধ্যে স্টোভে দুধ-চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন তৃষ্ণার্ত থাকা জিভটা চেনা ‘বাঙালি চা’য়ের ছোঁয়ায় বড় স্বস্তি পেয়েছিল।
আবার, পুরীতে বাংলায় কথাবার্তা বলার অভিজ্ঞতাকে ভরসা করে একবার ওড়িশার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ডাবের জলে তেষ্টা মেটানোর ইচ্ছেপূরণ করতে চেয়ে বেজায় সমস্যায় পড়েছিলাম। গ্রীষ্মের দুপুরে জোর তেষ্টা পেয়েছে। চায়ের দোকান টোকান থেকে জল খেতে ভয়। কে জানে পেট খারাপ করবে কি না! গ্রামীণ এলাকা। আশপাশে কোনও দোকানে বোতলবন্দি জলের দেখা পেলাম না। ভাবলাম, ডাবই খাই। কিন্তু কোথায় ডাব? ডাব, নারিয়েল, গ্রিন কোকোনাট—কোনও শব্দ দিয়েই তো আমি আমার চাহিদার কথা বোঝাতে পারছি না! বাংলা তো নয়ই, আমার হিন্দিও কেউ বুঝছে না। এদিকে, তেষ্টায় গলা পর্যন্ত কাঠ হওয়ার জোগাড়। একটি ছোটখাটো ধাবার মতো জায়গায় গিয়ে শেষ চেষ্টা করে বিফল হলাম। তখন মুখ থেকে স্বগতোক্তির মতো বেরিয়ে গেল, মহা মুশকিলে পড়া গেল তো! কোথাও একটা ডাবও পাচ্ছি না!
ধাবার এককোণে বসে চা খাচ্ছিলেন সাধারণ চেহারার একটি লোক। আমার কথাটা সম্ভবত তাঁর কানে গিয়েছিল। উনি উঠে দাঁড়িয়ে বাংলায় বললেন, আপনি ডাব খুঁজছেন? এখানেই পাবেন। সত্যিই ধাবার ভিতরের দিক থেকে ডাব এল। তেষ্টা মেটানোর পর কৃতজ্ঞ চোখে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। উনি বললেন, আসলে এই অঞ্চলের এইসব লোকজন হিন্দি বা ইংরেজি তেমন বোঝে না বললেই চলে। ওড়িয়ায় ডাবের জলকে ‘ফয়ডা পানি’ বলে। তা বলতেই মিলে গেল। শুনলাম আমার মুশকিল আসান ভদ্রলোক আসলে সবংয়ের মানুষ। মাদুর বেচতে উনি প্রতি বছরই ওড়িশার গ্রামেগঞ্জে ঘোরেন। সেবারও একই কাজে গিয়েছিলেন। কর্ণাটকে গ্রামীণ সড়কের পাশে দেহাতি কলাবিক্রেতা তাঁর পণ্যের দাম জানিয়েছিলেন—ওয়ান রুপি ইচ। কিন্তু ওড়িশার এক দোকানি ‘গট্টা টঙ্কা’ চেয়ে আমায় বিপদে ফেলেছিলেন। গট্টা টঙ্কা মানে যে এক টাকা, তা বুঝতে আমার বেশ কয়েক মিনিট সময় লেগেছিল। ভিয়েতনামের সাইগন নদীর ওপর একটি প্রমোদতরণীতে বাঙালি পরিচয় পেয়ে আদতে কলকাতার বাসিন্দা হয়েও ওদেশে জমিয়ে ব্যবসা করা এক ভদ্রলোক খাতির করে আমায় গোবিন্দভোগ চালের পায়েস খাইয়েছিলেন।
যাইহোক, সেন্টিমেন্টের জেরেই বোধহয় গুয়াহাটিতে সেদিন প্রাতঃরাশ শেষ করে কাউন্টারে দাম মিটিয়ে আমি ওই টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, আপনারা বাঙালি? একজন আমার দিকে তাকালেন। সন্দিগ্ধ দৃষ্টি। পাশের জন হিন্দিতে বলে উঠলেন, না, না। আমরা অসমিয়া। আমি অবাক। তাহলে যে একটু আগেই ওদের বাংলা কথাবার্তা শুনলাম! তাহলে ওই অসমিয়ারা কি বাংলায় গালগল্প করছিলেন! খানিক অপ্রস্তুত বোধ করে ওখান থেকে চলে এসেছিলাম। পরদিন এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গী হয়ে দিসপুরে গিয়েছিলাম। অসমের এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাপ বরবরার সঙ্গে আলাপ করতে। ততদিনে গোলাপবাবুর বয়স হয়েছে। দিসপুরে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকেন। কথা বলতে পারেন ঝরঝরে বাংলায়। আসলে ছাত্রজীবনের অনেকটাই কাটিয়েছেন কলকাতায়। আমাদের শহর সম্পর্কে যথেষ্টই ওয়াকিবহাল।
কথাবার্তার মধ্যেই আগের দিনের গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের প্রসঙ্গটি তুললাম। প্রবীণ ওই রাজনীতিবিদ মন দিয়ে সবটা শুনলেন। তারপর বললেন, আসলে ওরা ভয় পাচ্ছিলেন। আপনি অচেনা মানুষ তো! তাই। বলেছিলেন, তিরাশির নেলিকাণ্ডের পর অসমের বাঙালিরা নিজেদের অনেকটাই বদলে নিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের আইডেনটিটি প্রকাশ করতেও সঙ্কোচবোধ করেন।
গোলাপবাবুর কথা শুনতেই শুনতেই নেলি হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী কিছু ঘটনার কথা মনে পড়ছিল। অবশ্য সবই খবরের কাগজের সূত্রে জানা। ১৯৮৩ সালে উগ্র অসমিয়ারা একের পর এক বাঙালি অধ্যুষিত গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। বহু বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। অসমে ওই বাঙালি নিধন যজ্ঞ ও তার জের চলেছিল আরও বেশ কিছু বছর ধরে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যাতে লক্ষ লক্ষ বাঙালি পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৯১ এর জনগণনায় অসমিয়াকে নিজেদের মাতৃভাষা বলে নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। ওই উগ্র অসমিয় প্রাদেশিকতাকে পুঁজি করেই পরবর্তীকালে প্রফুল্ল মোহান্তরা ওই রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন। গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের ঘটনাটির সময় প্রফুল্ল মোহান্তই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
তারপর দেশজুড়ে অনেক বদবদল ঘটেছে। অসমেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের সরকার ক্ষমতায় আসে। সরকার বদলানোর পর উগ্র প্রাদেশিকতার ভাবনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিরাও সম্ভবত হারানো আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছিলেন। অস্তিত্বের অনিশ্চয়তাবোধ থেকে ক্রমশ মুক্তি ঘটছিল তাঁদের। ফলে, গ্রামে শহরে যে যার মতো দিন কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। তাঁদের মনোজগতের এই পরিবর্তনের বেশ খানিকটা প্রকাশ ঘটেছে ২০১১ সালের জনগণনার নথিপত্রে। ১৯৯১ সালের জনগণনার নথিতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় তলানিতে চলে গিয়েছিল। তারপর সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১১-র জনগণনার তথ্যে দেখা যাচ্ছে ওই রাজ্যে বাংলাভাষী বাসিন্দার সংখ্যা আগেরবারের তুলানায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশই বাংলাভাষী বলে নথিভুক্ত হয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি তথাকথিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার সূচনা থেকে অসমে পরিস্থিতি ফের দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। নাগরিকপঞ্জির খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফের ওই রাজ্যে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ ঘোরতর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তথাকথিত ডি অর্থাৎ ডাউটফুল ভোটার এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সুবাদে বহু পরিবারে ভাঙন ধরেছে। খসড়া তালিকা সেই ভাঙনকে প্রশস্ত করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি’র নানা মাপের নেতারা নানা স্তোকবাক্যে বিষয়টি লঘু করার যতই চেষ্টা করুন না কেন, অসমে বসবাসকারী বাঙালিরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন পরিস্থিতি আসলে কতটা ভয়াবহ।
অনেকে বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারেই অসমে নাগরিকপঞ্জি তৈরি হচ্ছে। ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল? না কি কয়েক সপ্তাহ আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই? পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে সম্ভবত রাজনৈতিক ফয়দা তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হল। আর, তাতেই অসমে নতুন করে তৈরি হওয়া আগুনে ঘি পড়ল। ১৯৮৩ –র নেলি ও তারপর বেশ কয়েক বছরের যে হিংসালীলা অতীতের অবাঞ্ছিত ঘটনা বলে ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছিল, সাড়ে তিন দশক বাদে ফের তাকেই যেন বর্তমান করে তোলার অপচেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। নেলির ঘুমন্ত দৈত্যকে ফের জাগিয়ে তোলা হল গত বৃহস্পতিবার তিনসুকিয়ার খেরনিবাড়ি গ্রামে। অনেক প্রাণ, অনেক ক্ষয়ক্ষতি, অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, অনেক সুখের বলি ঘটেছিল নেলির দৈত্যের হাতে। খেরনিবাড়ির দৈত্যকে ঘুম পাড়াতে এবার আরও কত প্রাণের বলি, স্বপ্নের সমাধি ঘটাতে হবে কে জানে! নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থপূরণের তাগিদে যারা হত্যালীলার কারিগরদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে প্ররোচনা জোগাল ইতিহাসের কোন পাতায় কীসের অক্ষরে তাদের নাম লেখা হওয়া উচিত?
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের রাজনৈতিক একতার অন্যতম কারিগর ছিলেন। দেশের বর্তমান ভৌগোলিক-রাজনৈতিক চেহারার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায়। অন্যদিকে, রাজ্য, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমগ্র ভারতবাসীর মননের ঐক্য রচনায় আজীবন সক্রিয় ছিলেন মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। কয়েকদিন আগে নর্মদার তীরে সর্দার প্যাটেলের সুউচ্চ মূর্তি গড়ে আমরা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছি। এবছর মহাত্মা গান্ধীর দেড়শোতম জন্মদিবস পালন শুরু করেছি। আবার, ক’দিন বাদেই ১৪ নভেম্বর আসছে। ওইদিন আমরা পণ্ডিত নেহরুর জন্মদিবস পালন করব। অথচ, এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আবহে দাঁড়িয়ে কোন ভারতে দেখতে হচ্ছে আমাদের!
পয়লা নভেম্বর সন্ধ্যারাতে গ্রামের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিলেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। জলপাই রঙা পোশাক পরা জনাকয়েক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সেখান থেকে পাঁচ-ছ’ জনকে খানিক দূরে একটি সেতুর কাছে নিয়ে গেল। সেখানে ওই হতভাগ্যদের সার দিয়ে দাঁড় করাল। তারপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে গুলি চালিয়ে পাঁচ-পাঁচটি জলজ্যান্ত মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে লাশ বানিয়ে দিল। এমন ঘটনার কথা আমরা কোথায় শুনেছি? পাকিস্তানে। আফগানিস্তানে। এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছিল কারা? এর উত্তরও আমাদের জানা। তালিবানরা।
অসমেও কি আমরা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ছায়া দেখতে পাচ্ছি!
এই ছায়া কি প্রলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে গোটা ভারতজুড়ে? ভিন্ন নামে? ভিন্ন কায়দায়? ভিন্ন লক্ষ্যে?
এখনই সর্বশক্তি দিয়ে ঠেকাতে না নামলে আমাদের শেষ পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হতে পারে তা ভাবলেও আঁতকে উঠতে হয়।
06th  November, 2018
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
বিএনএ, সিউড়ি: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা কেটে যাওয়ায় খুশি বীরভূম জেলার রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাটে বড় হাসপাতালগুলিতে ভিড় জমান জেলার বহু মানুষজন।  ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি ‘জয় শ্রীরাম’ লেখা কয়েক লক্ষ পোস্টকার্ড মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠাবে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তৃণমূল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষাধিক ‘জয় হিন্দ, জয় বাংলা’ লেখা পোস্টকার্ড পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি উঠতেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে কলকাতার হাসপাতালগুলি। এনআরএস এবং এসএসকেএমে ওপিডিতে রোগী দেখা এবং ইমার্জেন্সিতে রোগীদের চিকিৎসা শুরু হল। ...

  শ্রীনগর, ১৮ জুন (পিটিআই): মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে এনকাউন্টারে খতম দুই জয়েশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি। হত দুই জঙ্গির মধ্যে একজন পুলওয়ামায় হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে স্থানীয় পুলিস জানিয়েছে। আর এই গুলির লড়াইয়ে এক জওয়ান গুরুতর জখম হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হওয়ার যোগ আছে। ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭- লেখক সলমন রুশদির জন্ম,
১৯৭০- রাজনীতিক রাহুল গান্ধীর জন্ম,
১৯৮১- ভারতে টেস্ট টিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু,
২০০৮- বর্তমানের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্তের মৃত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.০৩ টাকা ৭০.৭২ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৪ টাকা ৮৯.১১ টাকা
ইউরো ৭৭.০০ টাকা ৭৯.৯৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,২২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ২৬/৩৫ দিবা ৩/৩৪। পূর্বাষাঢ়া ২১/২৩ দিবা ১/৩০। সূ উ ৪/৫৯/৯, অ ৬/১৯/১২, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৭ গতে ১১/১১ মধ্যে পুনঃ ১/৫১ গতে ৫/২৫ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ১/২৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৭ গতে ৯/৫৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৮ গতে ১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৭ গতে ৩/৩৭ মধ্যে। 
৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ২৪/১৯/০ দিবা ২/৩৯/৬। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ২০/৫৮/৩৭ দিবা ১/১৮/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ গতে ১১/১৪ মধ্যে ও ১/৫৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/২৭ মধ্যে, বারবেলা ১১/৩৮/৪৩ গতে ১/১৯/২১ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৭/৭ গতে ৯/৫৭/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৭/৩ গতে ৩/৩৬/১৯ মধ্যে। 
১৫ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ডকে ২৪২ রানের টার্গেট দিল দঃ আফ্রিকা 

08:11:28 PM

বিশ্বকাপ: দঃ আফ্রিকা ১৬৯/৪ (৪০ ওভার) 

07:25:26 PM

হলদিয়া হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার
 

হলদিয়া হাসপাতালে রোগিনীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার। হাসপাতাল চত্বরে ...বিশদ

06:59:53 PM

বিশ্বকাপ: দঃ আফ্রিকা ১২৩/৩ (৩০ ওভার) 

06:36:33 PM

কলকাতা সহ দুই পরগনায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা

06:01:32 PM

বিশ্বকাপ: দঃ আফ্রিকা ৭৩/২ (২০ ওভার) 

05:59:15 PM