Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অসম ফের ভাবাচ্ছে, শেষ
পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হবে!
মোশারফ হোসেন

বছর কুড়ি-একুশ আগের কথা। গুয়াহাটিতে একদিন একটি মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে প্রাতঃরাশ সারছিলাম। সম্ভবত খানিকটা বেলা হয়ে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টে ভিড় নেই। পাশের টেবিলে চার ভদ্রলোক খাওয়া দাওয়া করতে করতে নিজেদের মধ্যে অনুচ্চ স্বরে কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎই কানে পড়ল বেশ কয়েকটি বাংলা শব্দবন্ধ। তখন বয়স অনেক কম। কৌতূহল বেশি। আবেগও। সাংবাদিকতার কাজে বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হয়। বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কাশ্মীর, কর্ণাটক- যেখানেই যাই না কেন, বাঙালির সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগে। মাতৃভাষায় খানিক গল্পগুজব করতে পারলে প্রাণের আরাম বোধ হয়। ওখানে ওই বাঙালিরা কেমন আছেন জানার চেষ্টা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করি। নতুন নতুন তথ্য পাই। নানারকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। কখনও কখনও মজার অভিজ্ঞতাও হয়। ভালোই লাগে। এর আগে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একবার এক হোটেল মালিকের পদবি চ্যাটার্জি শুনে পরম আনন্দে বাংলায় ভাব জমাতে গিয়ে জোর ধাক্কা খেয়েছিলাম। জেনেছিলাম, ওই ভদ্রলোকরা বেশ কয়েকপুরুষ কানপুরের বাসিন্দা। ওঁদের যে পুর্বপুরুষ বাংলা থেকে গিয়েছিলেন, তিনি ওখানকার স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করেন। পরবর্তী প্রজন্মগুলির সমস্ত বধূও খাস উত্তরপ্রদেশীয়। কেবল পদবিটুকু ছাড়া ওই পরিবারের সমস্তকিছুই ওই রাজ্যের আর পাঁচজনের মতো। রীতি, আচার, পুজোআচ্চা সবই। এমনকী পরিবারের লোকজনের মধ্যে শেষ কবে বাংলা ভাষায় কথাবার্তা হয়েছে তা ওই মধ্যবয়সি ভদ্রলোকেরও জানা নেই। আবার, ওই রাজ্যেরই আলিগড়ে এক প্রবাসী বাঙালি অধ্যাপক পরিচয় পেয়ে বাড়িতে ‘দিওয়ালি’ মিলন উৎসবে আপ্যায়ণ করেছিলেন। ওই পরিবারে অবশ্য বাংলার চর্চা ভালোই দেখেছিলাম। ভিনরাজ্যে কোথাও বাংলা ভাষা বা বাঙালির দেখা পেলে সম্ভবত খানিক আশ্বস্তও হতাম। কারগিল যুদ্ধের সময় দ্রাসের যুদ্ধক্ষেত্রেই এক জওয়ানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সীমান্তে পাক গোলন্দাজদের সঙ্গে ঘোর গোলাগুলি বিনিময়ের ফাঁকেই নদীয়ার ওই বঙ্গসন্তান বাঙ্কারের মধ্যে স্টোভে দুধ-চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন তৃষ্ণার্ত থাকা জিভটা চেনা ‘বাঙালি চা’য়ের ছোঁয়ায় বড় স্বস্তি পেয়েছিল।
আবার, পুরীতে বাংলায় কথাবার্তা বলার অভিজ্ঞতাকে ভরসা করে একবার ওড়িশার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ডাবের জলে তেষ্টা মেটানোর ইচ্ছেপূরণ করতে চেয়ে বেজায় সমস্যায় পড়েছিলাম। গ্রীষ্মের দুপুরে জোর তেষ্টা পেয়েছে। চায়ের দোকান টোকান থেকে জল খেতে ভয়। কে জানে পেট খারাপ করবে কি না! গ্রামীণ এলাকা। আশপাশে কোনও দোকানে বোতলবন্দি জলের দেখা পেলাম না। ভাবলাম, ডাবই খাই। কিন্তু কোথায় ডাব? ডাব, নারিয়েল, গ্রিন কোকোনাট—কোনও শব্দ দিয়েই তো আমি আমার চাহিদার কথা বোঝাতে পারছি না! বাংলা তো নয়ই, আমার হিন্দিও কেউ বুঝছে না। এদিকে, তেষ্টায় গলা পর্যন্ত কাঠ হওয়ার জোগাড়। একটি ছোটখাটো ধাবার মতো জায়গায় গিয়ে শেষ চেষ্টা করে বিফল হলাম। তখন মুখ থেকে স্বগতোক্তির মতো বেরিয়ে গেল, মহা মুশকিলে পড়া গেল তো! কোথাও একটা ডাবও পাচ্ছি না!
ধাবার এককোণে বসে চা খাচ্ছিলেন সাধারণ চেহারার একটি লোক। আমার কথাটা সম্ভবত তাঁর কানে গিয়েছিল। উনি উঠে দাঁড়িয়ে বাংলায় বললেন, আপনি ডাব খুঁজছেন? এখানেই পাবেন। সত্যিই ধাবার ভিতরের দিক থেকে ডাব এল। তেষ্টা মেটানোর পর কৃতজ্ঞ চোখে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। উনি বললেন, আসলে এই অঞ্চলের এইসব লোকজন হিন্দি বা ইংরেজি তেমন বোঝে না বললেই চলে। ওড়িয়ায় ডাবের জলকে ‘ফয়ডা পানি’ বলে। তা বলতেই মিলে গেল। শুনলাম আমার মুশকিল আসান ভদ্রলোক আসলে সবংয়ের মানুষ। মাদুর বেচতে উনি প্রতি বছরই ওড়িশার গ্রামেগঞ্জে ঘোরেন। সেবারও একই কাজে গিয়েছিলেন। কর্ণাটকে গ্রামীণ সড়কের পাশে দেহাতি কলাবিক্রেতা তাঁর পণ্যের দাম জানিয়েছিলেন—ওয়ান রুপি ইচ। কিন্তু ওড়িশার এক দোকানি ‘গট্টা টঙ্কা’ চেয়ে আমায় বিপদে ফেলেছিলেন। গট্টা টঙ্কা মানে যে এক টাকা, তা বুঝতে আমার বেশ কয়েক মিনিট সময় লেগেছিল। ভিয়েতনামের সাইগন নদীর ওপর একটি প্রমোদতরণীতে বাঙালি পরিচয় পেয়ে আদতে কলকাতার বাসিন্দা হয়েও ওদেশে জমিয়ে ব্যবসা করা এক ভদ্রলোক খাতির করে আমায় গোবিন্দভোগ চালের পায়েস খাইয়েছিলেন।
যাইহোক, সেন্টিমেন্টের জেরেই বোধহয় গুয়াহাটিতে সেদিন প্রাতঃরাশ শেষ করে কাউন্টারে দাম মিটিয়ে আমি ওই টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, আপনারা বাঙালি? একজন আমার দিকে তাকালেন। সন্দিগ্ধ দৃষ্টি। পাশের জন হিন্দিতে বলে উঠলেন, না, না। আমরা অসমিয়া। আমি অবাক। তাহলে যে একটু আগেই ওদের বাংলা কথাবার্তা শুনলাম! তাহলে ওই অসমিয়ারা কি বাংলায় গালগল্প করছিলেন! খানিক অপ্রস্তুত বোধ করে ওখান থেকে চলে এসেছিলাম। পরদিন এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গী হয়ে দিসপুরে গিয়েছিলাম। অসমের এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাপ বরবরার সঙ্গে আলাপ করতে। ততদিনে গোলাপবাবুর বয়স হয়েছে। দিসপুরে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকেন। কথা বলতে পারেন ঝরঝরে বাংলায়। আসলে ছাত্রজীবনের অনেকটাই কাটিয়েছেন কলকাতায়। আমাদের শহর সম্পর্কে যথেষ্টই ওয়াকিবহাল।
কথাবার্তার মধ্যেই আগের দিনের গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের প্রসঙ্গটি তুললাম। প্রবীণ ওই রাজনীতিবিদ মন দিয়ে সবটা শুনলেন। তারপর বললেন, আসলে ওরা ভয় পাচ্ছিলেন। আপনি অচেনা মানুষ তো! তাই। বলেছিলেন, তিরাশির নেলিকাণ্ডের পর অসমের বাঙালিরা নিজেদের অনেকটাই বদলে নিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের আইডেনটিটি প্রকাশ করতেও সঙ্কোচবোধ করেন।
গোলাপবাবুর কথা শুনতেই শুনতেই নেলি হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী কিছু ঘটনার কথা মনে পড়ছিল। অবশ্য সবই খবরের কাগজের সূত্রে জানা। ১৯৮৩ সালে উগ্র অসমিয়ারা একের পর এক বাঙালি অধ্যুষিত গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। বহু বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। অসমে ওই বাঙালি নিধন যজ্ঞ ও তার জের চলেছিল আরও বেশ কিছু বছর ধরে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যাতে লক্ষ লক্ষ বাঙালি পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৯১ এর জনগণনায় অসমিয়াকে নিজেদের মাতৃভাষা বলে নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। ওই উগ্র অসমিয় প্রাদেশিকতাকে পুঁজি করেই পরবর্তীকালে প্রফুল্ল মোহান্তরা ওই রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন। গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের ঘটনাটির সময় প্রফুল্ল মোহান্তই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
তারপর দেশজুড়ে অনেক বদবদল ঘটেছে। অসমেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের সরকার ক্ষমতায় আসে। সরকার বদলানোর পর উগ্র প্রাদেশিকতার ভাবনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিরাও সম্ভবত হারানো আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছিলেন। অস্তিত্বের অনিশ্চয়তাবোধ থেকে ক্রমশ মুক্তি ঘটছিল তাঁদের। ফলে, গ্রামে শহরে যে যার মতো দিন কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। তাঁদের মনোজগতের এই পরিবর্তনের বেশ খানিকটা প্রকাশ ঘটেছে ২০১১ সালের জনগণনার নথিপত্রে। ১৯৯১ সালের জনগণনার নথিতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় তলানিতে চলে গিয়েছিল। তারপর সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১১-র জনগণনার তথ্যে দেখা যাচ্ছে ওই রাজ্যে বাংলাভাষী বাসিন্দার সংখ্যা আগেরবারের তুলানায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশই বাংলাভাষী বলে নথিভুক্ত হয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি তথাকথিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার সূচনা থেকে অসমে পরিস্থিতি ফের দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। নাগরিকপঞ্জির খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফের ওই রাজ্যে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ ঘোরতর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তথাকথিত ডি অর্থাৎ ডাউটফুল ভোটার এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সুবাদে বহু পরিবারে ভাঙন ধরেছে। খসড়া তালিকা সেই ভাঙনকে প্রশস্ত করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি’র নানা মাপের নেতারা নানা স্তোকবাক্যে বিষয়টি লঘু করার যতই চেষ্টা করুন না কেন, অসমে বসবাসকারী বাঙালিরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন পরিস্থিতি আসলে কতটা ভয়াবহ।
অনেকে বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারেই অসমে নাগরিকপঞ্জি তৈরি হচ্ছে। ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল? না কি কয়েক সপ্তাহ আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই? পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে সম্ভবত রাজনৈতিক ফয়দা তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হল। আর, তাতেই অসমে নতুন করে তৈরি হওয়া আগুনে ঘি পড়ল। ১৯৮৩ –র নেলি ও তারপর বেশ কয়েক বছরের যে হিংসালীলা অতীতের অবাঞ্ছিত ঘটনা বলে ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছিল, সাড়ে তিন দশক বাদে ফের তাকেই যেন বর্তমান করে তোলার অপচেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। নেলির ঘুমন্ত দৈত্যকে ফের জাগিয়ে তোলা হল গত বৃহস্পতিবার তিনসুকিয়ার খেরনিবাড়ি গ্রামে। অনেক প্রাণ, অনেক ক্ষয়ক্ষতি, অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, অনেক সুখের বলি ঘটেছিল নেলির দৈত্যের হাতে। খেরনিবাড়ির দৈত্যকে ঘুম পাড়াতে এবার আরও কত প্রাণের বলি, স্বপ্নের সমাধি ঘটাতে হবে কে জানে! নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থপূরণের তাগিদে যারা হত্যালীলার কারিগরদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে প্ররোচনা জোগাল ইতিহাসের কোন পাতায় কীসের অক্ষরে তাদের নাম লেখা হওয়া উচিত?
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের রাজনৈতিক একতার অন্যতম কারিগর ছিলেন। দেশের বর্তমান ভৌগোলিক-রাজনৈতিক চেহারার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায়। অন্যদিকে, রাজ্য, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমগ্র ভারতবাসীর মননের ঐক্য রচনায় আজীবন সক্রিয় ছিলেন মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। কয়েকদিন আগে নর্মদার তীরে সর্দার প্যাটেলের সুউচ্চ মূর্তি গড়ে আমরা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছি। এবছর মহাত্মা গান্ধীর দেড়শোতম জন্মদিবস পালন শুরু করেছি। আবার, ক’দিন বাদেই ১৪ নভেম্বর আসছে। ওইদিন আমরা পণ্ডিত নেহরুর জন্মদিবস পালন করব। অথচ, এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আবহে দাঁড়িয়ে কোন ভারতে দেখতে হচ্ছে আমাদের!
পয়লা নভেম্বর সন্ধ্যারাতে গ্রামের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিলেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। জলপাই রঙা পোশাক পরা জনাকয়েক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সেখান থেকে পাঁচ-ছ’ জনকে খানিক দূরে একটি সেতুর কাছে নিয়ে গেল। সেখানে ওই হতভাগ্যদের সার দিয়ে দাঁড় করাল। তারপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে গুলি চালিয়ে পাঁচ-পাঁচটি জলজ্যান্ত মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে লাশ বানিয়ে দিল। এমন ঘটনার কথা আমরা কোথায় শুনেছি? পাকিস্তানে। আফগানিস্তানে। এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছিল কারা? এর উত্তরও আমাদের জানা। তালিবানরা।
অসমেও কি আমরা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ছায়া দেখতে পাচ্ছি!
এই ছায়া কি প্রলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে গোটা ভারতজুড়ে? ভিন্ন নামে? ভিন্ন কায়দায়? ভিন্ন লক্ষ্যে?
এখনই সর্বশক্তি দিয়ে ঠেকাতে না নামলে আমাদের শেষ পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হতে পারে তা ভাবলেও আঁতকে উঠতে হয়।
06th  November, 2018
ভোট চাই, ভোট
মোশারফ হোসেন

দেশজুড়ে লোকসভা ভোটের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে লোকসভা ভোট একটি জাতীয় উৎসবই বলা চলে। কারণ, নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, হরেকরকম বৈচিত্র্যের মধ্যে অদ্ভুত ঐক্যের আসমুদ্র হিমাচল বিস্তৃত এই দেশে যে কোনও সামাজিক, ধর্মীয় বা অন্য কোনওরকমের উৎসবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।
বিশদ

দক্ষ ম‌্যানেজারদের চাই, নিছক চৌকিদারদের নয় 
পি চিদম্বরম

পি চিদম্বরম: চৌকিদার হওয়াটা সম্মানের কাজ যেটা অনেক শতাব্দী ধরে চলে আসছে। চৌকিদার বা ওয়াচম‌্যানদের পাওয়া গিয়েছে সমস্ত গোষ্ঠী-সম্প্রদায় এবং পরিবেশ-পটভূমি থেকে। তাঁরা ছিলেন কিছু ব‌্যক্তি এবং তাঁদের কাজটি ছিল নিয়মমাফিক। আবাসন থেকে বাণিজ‌্য কেন্দ্র প্রভৃতি নানা স্থানে বেসরকারি উদ‌্যোগে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের একটি সংগঠিত ব‌্যবসার জন্ম দিয়েছে উদারীকরণ নীতি।  বিশদ

25th  March, 2019
 লোকসভা ২০১৯: প্রার্থী বাছতেই
হিমশিম, মমতাকে রুখবেন কীভাবে!
শুভা দত্ত

 দোল শেষ। তবে, রাজ্যজুড়ে রঙের উৎসবের আমেজ এখনও যথেষ্টই রয়েছে। পথেঘাটে মানুষের শরীরে মনে তার ছাপ এখনও স্পষ্ট। এবার দোলে গরম তেমন অসহনীয় ছিল না। বৃষ্টিও হয়নি। বরং, শুক্রবার হোলির বিকেলে কালবৈশাখী এসে যেটুকু ভ্যাপসা গরম জমে ছিল তাও ধুয়েমুছে নিয়ে গেছে।
বিশদ

24th  March, 2019
কংগ্রেস-সিপিএম জোট যেন
সান্ধ্য মেগা সিরিয়াল!
মৃণালকান্তি দাস

শত্রু চিহ্নিত হয়েছিল বছরখানেক আগেই। কেন্দ্রে বিজেপি, রাজ্যে তৃণমূল। সেই শত্রুকে বধ করতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাতে হাত ধরে লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হবে, সেই বার্তাও দেওয়া হচ্ছিল বহুদিন ধরে। সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে সুজন চক্রবর্তী, অধীর চৌধুরি থেকে আব্দুল মান্নান—যাঁদের জোট চর্চার সঙ্গে শত্রু-বিরোধী গরম গরম ভাষণও শোনা গিয়েছিল অনেক। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগেই অশ্বডিম্ব প্রসব করে চূড়ান্ত হাস্যস্পদে পরিণত হয়েছে দুই দল।
বিশদ

24th  March, 2019
ধর্মের বেশে ভোটব্যাঙ্ক!
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 

দুপুর গড়িয়ে বিকেলের পথে। তারিখটা ২৭ মে, ১৯৬৪। দিল্লির রাজপথে কালো মাথার ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই। আর ভিড়ের বেশিরভাগেরই গতিমুখ তিনমূর্তি ভবনের দিকে। সেখানে শায়িত জওহরলাল নেহরু। শেষযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির গ্র্যানভিল অস্টিনও। মার্কিন ছাত্র। থিসিস লিখছেন ভারতের সংবিধানের উপর। তাই আগ্রহটা বাকিদের থেকে একটু বেশিই।  
বিশদ

23rd  March, 2019
পরিবেশ নিরুদ্দেশ 
রঞ্জন সেন

খবরের কাগজে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, সন্ত্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন মানব সভ্যতার সামনে বড় বিপদ। বাতাসে কার্বন নিঃসরণ বাড়ে এমন কোনও কাজ তিনি করেন না। কার্বন নিঃসরণের বিপদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এমন সতর্কতা খুব ভালো লাগল।  
বিশদ

23rd  March, 2019
এবারের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার
বামফ্রন্ট এবং তার প্রার্থীতালিকা
শুভময় মৈত্র

এ দেশে বামপন্থার ইতিহাস আজকের নয়। প্রায় একশো বছর আগে ১৯২৫ সালের বড়দিনের ঠিক পরের তারিখেই কানপুরে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (সিপিআই) প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে শোনা যায়। সিপিএমের আবার অন্য তত্ত্বও আছে। তাদের একাংশের মতে ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পথ চলা শুরু।
বিশদ

21st  March, 2019
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

19th  March, 2019
মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে।  বিশদ

16th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
একনজরে
 সুকান্ত বসু, কলকাতা: তদন্তে একাধিক অসঙ্গতির কারণে ‘পকসো’ মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন রাহুল সরকার নামে এক যুবক। সম্প্রতি শিয়ালদহের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক জীমূতবাহন বিশ্বাস ওই আদেশ দিয়েছেন। ন’বছরের এক বালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে ...

 শারজা, ২৫ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি একদিনের সিরিজে পাকিস্তানকে পরাজিত করল। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ১৪৩ বলে ১৫৩ রানের একটি অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। ...

 নয়াদিল্লি, ২৫ মার্চ (পিটিআই): রাজধানীতে ফের কংগ্রেস-আপ জোটের জল্পনা। লোকসভা ভোটে দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর উপর ছেড়ে দিল প্রদেশ নেতৃত্ব। ...

  সংবাদদাতা, মালবাজার: ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুডুমারি বস্তিকে দত্তক নিয়ে মডেল ভিলেজ হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজ্যসভার সংসদ সদস্য কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য। কিন্তু আজও মডেল ভিলেজ গড়ে না ওঠায় বাসিন্দারা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের বিভিন্ন দিক থেকে শুভ যোগাযোগ ঘটবে। হঠাৎ প্রেমে পড়তে পারেন। কর্মে উন্নতির যোগ। মাঝে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: গিলেটিনের আবিষ্কর্তা জোসেফ ইগনেস গিলেটিনের মৃত্যু
১৮২৭: জার্মান সুরকার এবং পিয়ানো বাদক লুডউইগ ভ্যান বেইটোভেনের মৃত্যু
১৯৯৩: চিত্র পরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭১: স্বাধীনতা ঘোষণা করল বাংলাদেশ, শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭৪: চিপকো আন্দোলনের সূচনা
১৯৯৯: সুরকার আনন্দশঙ্করের মৃত্যু
২০০৬: রাজনীতিবিদ অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.০৭ টাকা ৬৯.৭৬ টাকা
পাউন্ড ৮৯.১৭ টাকা ৯২.৬১ টাকা
ইউরো ৭৬.৫৮ টাকা ৭৯.৫৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৬৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৯৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৪৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ চৈত্র ১৪২৫, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ৩৫/৫৬ রাত্রি ৮/২। অনুরাধা ৩/৫৯ দিবা ৭/১৫। সূ উ ৫/৩৯/২৬, অ ৫/৪৫/৫০, অমৃতযোগ দিবা ৮/৪ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৫ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/১৯ মধ্যে পুনঃ ১/৪১ গতে ৩/১৬ মধ্যে, বারবেলা ৭/৯ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ১/১৩ গতে ২/৪৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১৪ গতে ৮/৪৪ মধ্যে।
১১ চৈত্র ১৪২৫, ২৬ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী রাত্রি ১২/১১/১৩। অনুরাধানক্ষত্র ১১/২৩/৩৭, সূ উ ৫/৩৯/৪৩, অ ৫/৪৫/৩, অমৃতযোগ দিবা ৮/৪/৪৭ থেকে ১০/২৯/৫১ মধ্যে ও ১২/৫৪/৫৫ থেকে ২/৩১/৩৭ মধ্যে ও ৩/১৯/৫৯ থেকে ৪/৫৬/৪২ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩২/৪২ মধ্যে ও ৮/৫৩/৩৮ থেকে ১১/১৪/৩৪ মধ্যে ও ১/৩৫/৩০ থেকে ৩/১০/৪৭ মধ্যে, বারবেলা ৭/১০/২৩ থেকে ৮/৪১/৩ মধ্যে, কালবেলা ১/১৩/৩ থেকে ২/৪৩/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/১৪/২৩ থেকে ৮/৪৩/৪৩ মধ্যে।
১৮ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজস্থানকে ১৮৫ রানের টার্গেট দিল পাঞ্জাব  

25-03-2019 - 09:54:37 PM

 পাঞ্জাব ৬৮/২ (১০ ওভার)  

25-03-2019 - 08:51:00 PM

রাজ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অবসার্ভাররা কে কে?
প্রথম ও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের জেনারেল অবসার্ভারদের নাম ...বিশদ

25-03-2019 - 08:15:22 PM

দ্বিতীয় দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল কংগ্রেস 
দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল কংগ্রেস। এঁদের মধ্যে কলকাতা ...বিশদ

25-03-2019 - 08:08:00 PM

দুটি পৃথক ঘটনায় দুই জেলা শাসকের কাছে রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের

বিমানবন্দরে সোনাকাণ্ড নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসকের কাছে ...বিশদ

25-03-2019 - 07:31:10 PM

বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে বিজেপি যুবমোর্চা নেতা আটক
বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে আটক করা হল আলিপুরদুয়ারের এক ...বিশদ

25-03-2019 - 06:38:39 PM