Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সিবিআই বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বে কে?
হিমাংশু সিংহ

পুলিশ ছুঁলে আঠারো ঘা। সিবিআই ছুঁলে পুরো ছত্রিশ। ছোট থেকে বড় যে মামলাই হোক অপরাধীদের হাড়ে কাঁপুনি। আটের দশকের মাঝামাঝি বোফর্স থেকে অতি সম্প্রতি এ রাজ্যের চাঞ্চল্যকর চিটফান্ড মামলা, শুরুটা এমন যেন কালই সব প্রমাণ হয়ে আদালতের রায় বেরিয়ে যাবে। ধরপাকড়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা। গ্রেপ্তার। জামিন। আবার গ্রেপ্তার। লড়তে লড়তে আর হাজিরা দিতে দিতেই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ভোটে হাতে গরম ইস্যু। বিরোধীদের পোয়াবারো। দগদগে ঘা শুকোবার আর জো কাথায়! তারপর বছর ঘোরে, বছর যায়। কিচ্ছুটি এগয় না। চার্জশিটে ধুলো পড়ে। অকাট্য প্রমাণ হাজির করা যায় না। মূল অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে বেড়ায়। অধরা থেকে যায় শাস্তি। শেষে পাঁচ সাত আট বছর পরে সবাই ভুলে গেলে একদিন হঠাৎ মামলাটাই বন্ধ হয়ে যায়। বোফর্স মামলার জেরে দেশে বেশ কয়েকটা অকাল নির্বাচন পর্যন্ত নেমে এসেছে। ক্ষমতা বদল হয়েছে। কংগ্রেস শাসনের অবসানের আনন্দে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর বাজপেয়ি, জ্যোতি বসুকে পর্যন্ত হাত ধরাধরি করতে দেখা গিয়েছে এই শহরে। এবং, সেই সময় বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানের মূলেও ছিল সেই বোফর্স। তারপর? সময় এগয়, কিন্তু কিছুই প্রমাণ হয় না। বোঝা যায়, সবই আসলে পর্বতের মূষিক প্রসব। কখনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আবার কখনও সিবিআইয়ের উপরতলায় মোটা টাকার লেনদেনে, সব একদিন চাপা পড়ে যায়। ধুরন্ধর আমলা, দোর্দণ্ডপ্রতাপ অফিসার—সবারই পেট মোটা। পকেট ভর্তি করার সুযোগ ছাড়ে কে? এদেশের সাধারণ মানুষই শুধু চিরদিন বোকা বনে যায় ভোট ঘিরে নেতাদের চতুর বাক্যালাপ আর ওস্তাদ ভাষণে। তাই ধোঁকা দিয়ে জনগণেশের মন জিততে নেতা থেকে দাগি অফিসার কারও জুড়ি নেই।
সেই দুর্নীতির ছবিটাই হালে দিনের আলোর মতো বেআব্রু হয়ে পড়েছে। আর, সিবিআই নামক দেশের সর্ববৃহৎ তদন্তকারী সংস্থার গায়েই যদি দুর্নীতির কালো মোটা ছোপ পড়ে, অভিযোগ ওঠে শাসকের পদলেহনের, তাহলে নেতা মন্ত্রী আমলা দুষ্ট ব্যবসায়ীর কালা ধান্দা, অসাধু কারবার ধরবে কে? আজ এই প্রশ্নই বড় হয়ে সামনে আসছে। সবাই যেন জেনেই গিয়েছে, দুর্নীতি কোনোমতেই কমবে না, উল্টে বাড়বে। কারণটা সবারই খুব জানা। মানুষ যত শিক্ষিত আর সমৃদ্ধ হচ্ছে তত লোভ বাড়তে বাধ্য। আর সেই লোভ থেকেই পাপ। আর পাপের ফাঁদে জড়িয়ে মৃত্যু।
আর হালে সেই ফাঁদে আটকে দেশের বৃহত্তম তদন্তকারী সংস্থাই প্রায় লাটে ওঠার পথে। দুন স্কুলের মেধাবী ছাত্র থেকে যাত্রা শুরু করে ডাক্তার উকিল না-হয়ে ধুরন্ধর মাংস ব্যবসায়ী বনে যাওয়া এক রহস্যজনক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে দেশের পয়লা নম্বর গোয়েন্দা সংস্থার সব চাকচিক্য, পলেস্তারাই গত এক সপ্তাহে যেন বড় দ্রুত খসে পড়ছে। দুর্ভাগ্যজনক সেই নাটক প্রত্যক্ষ করছে গোটা দেশ। ওই ব্যবসায়ীর নাম মইন কুরেশি। কানপুরের একটা ছোট্ট দোকান থেকে যাত্রা শুরু। তারপর গত সাত বছরে তিন তিন জন সিবিআই ডিরেক্টরের পদ গিয়েছে ওই বিতর্কিত ব্যবসায়ীর হাওলা কারবারের সঙ্গে যুক্ত কিংবা তাতে মদত দেওয়ার অভিযোগে। রঞ্জিত সিনহা, এ পি শর্মা ও একেবারে হালে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে-যাওয়া অলোক ভার্মা। এবার আবার দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থার এক ও দু’নম্বর কর্তার মধ্যেকার নজিরবিহীন লড়াইয়ে যাবতীয় কাজকর্মই শুধু শিকেয় ওঠেনি। ওই গন্ডগোলের জেরে যেভাবে যাবতীয় রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুই কর্তাকেই রাতের অন্ধকারে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে তা এককথায় বেনজির। সিবিআইয়ের ইতিহাসে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সিবিআইয়ের ভিত্তিটাকেই আজ ধ্বংস করতে উদ্যত। বিরোধীরা ভোটের আগে হাতে গরম ইস্যু পেয়ে আত্মহারা। আসলে সবাই সুযোগ খুঁজছে। দেশটার কথা, এই ভয়ঙ্কর মূল্যবৃদ্ধির চাপে ক্লিষ্ট দেশের গরিব মানুষের কথা ডান বাম কেউই ভাবছে না। দুঃখটা এখানেই।
আর এই একের পর এক ঘটনাতেই চূড়ান্তভাবে ধাক্কা খেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তি। যে কঠোর কঠিন ইমেজ এতদিন ধরে ধুরন্ধর দুর্নীতিপরায়ণের মধ্যেও ভয়ের উদ্রেক করত। সম্ভ্রম জাগাত। সিবিআই তল্লাশির নাম শুনলেই অপরাধীর শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা কাঁপুনি ধরাত, তা যদি পুরনো বাড়ির পলেস্তারা খসার মতো এক নিমেষে ভেঙে পড়ে তাহলে গোটা দেশের প্রশাসনিক অনুশাসনই বাষ্প হয়ে উবে যেতে বাধ্য। যে দুর্নীতি ধরে, অপরাধীকে শাস্তি দেয় সেই যদি আকণ্ঠ দুর্নীতিতে জড়িয়ে সরকারের পুতুলে পরিণত হয়ে যায় তাহলে কালো ধান্দার লোকেদের সর্বগ্রাসী আস্ফালনের সামনে সরকারি প্রশাসনের মেরুদণ্ডটাই ধ্বংস হতে বাধ্য। নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই দফার শেষ বছরে যখন লোকসভা ভোটের আর বেশি দেরি নেই, ঠিক তখনই সিবিআইয়ের আকস্মিক এই ভেঙে-পড়া কঙ্কালসার চেহারাটা তাই গভীর উদ্বেগের। এ দায় বিজেপি সরকার মোটেই এড়াতে পারে না। অথচ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের শপথ নিয়েই পাঁচ বছর আগে ক্ষমতায় এসেছিল সরকারটা। একটা পরিবার ও সেই পরিবারের ধারাবাহিক দুর্নীতির হাত থেকে দেশটাকে মুক্ত করাই ছিল নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। প্রতিশ্রুতির বন্যা ও গরিবের স্বার্থে কাজ করার গালভরা কত শপথ নিয়েছিলেন তিনি। সেসব কতটা রক্ষিত হয়েছে আর কতটা হয়নি তার পরীক্ষা হবে জনগণের আদালতে ভোটের ময়দানে। নোটবন্দি থেকে শুরু করে চটজলদি জিএসটি চালু করার ফলে দেশের উপকার হয়েছে না অপকার, সেই উত্তর জানার জন্য অপেক্ষা আর কয়েক মাসের। কিন্তু, তার আগে আগামী ১১ ডিসেম্বর রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা ও মিজোরামের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। আসমুদ্রহিমাচল ওই পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলের দিকে তাকিয়ে। কারণ আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে ওটাই কার্যত সেমিফাইনাল। ওই ফলের উপর দাঁড়িয়েই
আগামী লোকসভা ভোটের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ধারিত হবে।
২০১৯-এ নরেন্দ্র মোদি ফের একক ক্ষমতায় দিল্লিতে ফিরতে পারবেন, না কি আবার কোয়ালিশন যুগের প্রত্যাবর্তন ঘটবে, তা এই মুহূর্তে লাখ টাকার প্রশ্ন। কিন্তু, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, গত পাঁচ বছরে নরেন্দ্র মোদির আমলে সিবিআই, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক-সহ একের-পর-এক বড় সাংবিধানিক সংস্থার চূড়ান্ত বিপন্ন অবস্থা। কয়েক মাস আগে নজিরবিহীনভাবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মুখ খুলে দেশের আইন আদালত ব্যবস্থাকেই গভীর প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন অন্য প্রবীণ বিচারপতিরা। সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে তা আগে কখনও হয়নি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সরকারের অতিমাত্রায় হস্তক্ষেপে কার্যত বিপন্ন। দেশের পয়লা নম্বর আমলা ক্যাবিনেট সচিবের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের গুরুত্ব ও ক্ষমতা বেশি! এ নিয়ে দেশের আইএএস মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। মুখে প্রকাশ করতে ভয় পেলেও গোটা সরকারের যাবতীয় ক্ষমতা যেভাবে আজ প্রধানমন্ত্রীর অফিসে কেন্দ্রীভূত তাতে অনেক প্রবীণ মন্ত্রীও অসন্তুষ্ট। একজন ব্যক্তির খেয়ালের
উপরেই সরকারটা চলছে। গণতন্ত্রে এ জিনিস বেশিদিন চলে কি?
কিন্তু এসব কিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে খোদ দেশের পয়লা নম্বর তদন্তকারী সংস্থার উপরতলার নোংরা কোন্দল। যার জেরে একজন অপরজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করতেও পিছপা হননি। যার পরিণতিতে ভীত সরকার মধ্যরাতে দুজন কর্তাকেই নাটকীয়ভাবে ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। সিবিআই ডিরেক্টরকে এভাবে রাতের অন্ধকারে সরকারি নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া আইনসম্মত কি না সেই মামলা এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন। তবে আদালতের ভর্ৎসনার হাত থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যেই সিবিআই জানিয়ে দিয়েছে, অলোক ভার্মাকে সরানো হয়নি, ছুটিতে পাঠানো হয়েছে মাত্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, অলোক ভার্মাকে সরিয়ে একাধিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত নাগেশ্বর রাওকে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার অস্থায়ী প্রধান করা ঘিরে। এ কথা সত্যি রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তি ও সেই চুক্তি নিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের একের পর এক আক্রমণে মোদি সরকার কিছুটা দিশাহারা। প্রায় তিনদশক পর রাজীব গান্ধীর বোফর্স অপমানের বদলা নিতে আসরে তাঁর ছেলে রাহুল। বোফর্স ছিল ৬৪ কোটি টাকার কাটমানির কিস্যা। আর রাফালে ৩০ হাজার কোটির দুর্নীতির অভিযোগ। রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যালকে বঞ্চিত করে কেন মোদি তথা সরকারের ঘনিষ্ঠ এক ঋণে জর্জরিত বেসরকারি সংস্থাকে হঠাৎ এতবড় অঙ্কের বরাত পাইয়ে দেওয়া হল, তা নিঃসন্দেহে এক বড় বিস্ময়। রহস্যও। তার উপর বিরোধীদের অভিযোগ কেনার কথা ছিল ১২৬ টা রাফাল যুদ্ধবিমান, কিন্তু প্রায় তিনগুণ বেশি দাম দিয়ে সরকার এখন কিনছে মাত্র ৩৬টা! আর এর ফলে নাকি ওই ব্যবসায়ীর পকেটে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঢুকিয়ে দিচ্ছে শাসক বিজেপি সরকার।
এই পুরো ঘটনাটি নিয়ে গত ৪ অক্টোবর একটি তথ্য সংবলিত দীর্ঘ অভিযোগ জমা পড়ে সিবিআই দপ্তরে। সিবিআই প্রধান নাকি তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়েই দেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার একনম্বর ও দু’নম্বর পদাধিকারীর গন্ডগোলের অজুহাত দেখিয়ে নজিরবিহীনভাবে দুজনকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হল। ব্যাপারটা কিন্তু অনেক দূর গড়াবে। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচন যখন শিয়রে। পাঁচ বছর আগে বলা হতো সিবিআই মানে কংগ্রেস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন আর এখন বলা হচ্ছে, বিজেপি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। মানে বদনাম ঘোচেনি। শিরদাঁড়া সোজা হয়নি। বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে সিবিআই সেই রাজনৈতিক প্রভুদেরই উদ্দেশ্যপূরণ করে চলেছে। আর তা করতে করতেই সিবিআই নৈতিকভাবে আজ প্রায় খতম। একদিন শিশুকে বর্গির ভয় দেখিয়ে মা ঘুম পাড়াত। আজ আর বর্গির ভয়ে শিশু ঘুমোয় না। অসাধু ব্যবসায়ীকে বাগে আনতে এই সেদিনও সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্সের ভয় দেখানো হত! বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে, পুরনো লাঠির দিন গেলে আর সিবিআইকেও কেউ পাত্তা দেবে না। তখন ‘কংগ্রেসমুক্ত’ ভারতের খোয়াব দেখা নরেন্দ্র মোদির দুর্নীতিমুক্ত সমাজের কী হাল হবে?
30th  October, 2018
আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম।
বিশদ

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে।
বিশদ

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

23rd  April, 2019
মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের যাবতীয় নথি পরীক্ষা করলেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক বিনোদ জুৎসি। বুধবার আগরতলায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসকের দপ্তরে ওই লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের পর্যালোচনাব বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। ...

 কলম্বো, ২৪ এপ্রিল (পিটিআই): শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পিছনে ছিল এক মহিলা সহ মোট ন’জন। তদন্তে নেমে এই তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। হামলাকারী ন’জনের মধ্যে আটজনকে ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

বিএনএ, কোচবিহার: কোচবিহারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্দরে নানা জটিলতার জেরে রাজ্যস্তরের বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন জেলার কৃতী খেলোয়াড়দের একাংশ। একটি প্রতিযোগিতায় জেলা থেকে একাধিক টিম পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু একটা টিমকে মান্যতা দিচ্ছে রাজ্য ক্রীড়া সংস্থা। এনিয়ে দু’পক্ষের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপথগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০: মার্কিন অভিনেতা আল পাচিনোর জন্ম
১৯৬৮: গায়ক ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের মৃত্যু
১৯৬৯: ফুটবলার আই এম বিজয়নের জন্ম
১৯৮৭: সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৮ টাকা ৭০.৬৭ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৭১ টাকা ৯১.৯৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৮৪ টাকা ৭৯.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ১৮/৫৫ দিবা ১২/৪৭। পূর্বাষাঢ়া ৩৮/৩১ রাত্রি ৮/৩৭। সূ উ ৫/১২/৪৮, অ ৫/৫৬/৪০, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪২ গতে ২/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ২/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৮ মধ্যে।
১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ২৩/২৪/২৫ দিবা ২/৩৫/৭। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ৪২/৫৩/২ রাত্রি ১০/২২/৩৪, সূ উ ৫/১৩/২১, অ ৫/৫৭/৫৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪০ গতে ২/৫৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/২২/১৯ গতে ৫/৫৭/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৪৬/৪৫ গতে ৪/২২/১৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৫/৩৭ গতে ১/০/৪ মধ্যে।
১৯ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিধানসভা উপনির্বাচনে ভাটপাড়া থেকে লড়বেন মদন মিত্র: মমতা 

01:46:36 PM

সিউড়ির চাঁদমারিতে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:43:34 PM

নোডাল অফিসারের খোঁজ মেলার পরই অজয় নায়েকের কাছে পৌঁছল রিপোর্ট 
নিখোঁজ নোডাল অফিসার অর্ণব রায়ের খোঁজ মেলার পরই পুরো বিষয়টির ...বিশদ

01:39:36 PM

বর্ধমানে নির্বাচনী প্রচারে অরূপ বিশ্বাস 

01:24:00 PM

নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েককে সরানোর দাবি জানাল তৃণমূল কংগ্রেস 

01:10:00 PM

হাজরায় লিফটের মধ্যে মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ 

12:58:00 PM