Bartaman Patrika
রাজ্য
 

 পরিব্রাজক বিবেকানন্দ

গুঞ্জন ঘোষ: শ্রীরামকৃষ্ণের দেহত্যাগের পর নরেন্দ্রনাথ স্বামী বিবেকানন্দরূপে ভারত পরিক্রমায় বেরিয়ে নিজেকে জানার সঙ্গে সঙ্গে জেনেছিলেন কোথায় ভারতের শক্তি আর কোথায় তার দুর্বলতা। আধ্যাত্মিকতার প্রাণকেন্দ্র ভারতবর্ষের লুপ্ত গৌরব পুনরুদ্ধারের সংকল্পে শিকাগো ধর্মমহাসভাকেই পাখির চোখ করলেন। কিন্তু সনাতন হিন্দুধর্মের আদর্শকে তৎকালীন মার্কিন দেশের হৃদয় মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি যেমন অক্লান্ত পরিশ্রম করে গুণীজনদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছেন তেমনই অপমানিত হয়েছেন। নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন এদেশের ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার। শিকাগো ধর্মমহাসভাতে বিশ্বের যেসব ধর্মের প্রতিনিধিরা নিজের নিজের ধর্মকে পরিচিত করতে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে মার্কিন জনগণের হৃদয় কেড়েছিলেন হিন্দুধর্মের প্রতিনিধি ‘গৈরিক বসন ও বুদ্ধিদৃপ্ত দৃঢ় মুখমণ্ডল’ সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দই। যদিও শিকাগোতে প্রথম দিকে তাঁর নামের বানানবিধি নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি হয়েছে। কেউ বলত ‘বিব্‌কা নন্দ’ আবার কেউ শুধুই ‘কানন্দ’। এর পরও বিবেকানন্দে মুগ্ধ শিকাগোবাসী। এই অবস্থায় নিজেরই স্বদেশবাসী ও প্রিয়জনতুল্য বিবেকানন্দের নামযশ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই তুলনায় নিজের প্রতিপত্তিকে ক্ষয় হতে দেখে ঈর্ষায় জ্বলে উঠেছিলেন প্রতাপচন্দ্র। নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে সোজা পথে পর্যুদস্ত করতে না পেরে শেষটায় ধর্মমহাসভার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতাপচন্দ্র রটিয়ে দিলেন অদ্ভুত এক তত্ত্ব, ‘স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের এমন এক ভবঘুরে সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যাহাদের কোন সামাজিক মর্যাদা বা প্রভাব নাই; বস্তুত তিনি ভণ্ড।’ মজুমদারের ঈর্ষাপরায়ণ কাজকর্ম দেখে ১৮৯৪ সালে আহত স্বামীজি গুরুভাই স্বামী রামকৃষ্ণানন্দকে শিকাগো থেকে লেখেন —
‘‘প্রভুর ইচ্ছায় মজুমদার মহাশয়ের সঙ্গে এখানে দেখা। প্রথমে বড়ই প্রীতি, পরে যখন শিকাগোসুদ্ধ নরনারী আমার উপর ভেঙে পড়তে লাগল তখন মজুমদার ভায়ার মনে আগুন জ্বলল।...আর মজুমদার পার্লামেন্ট অব রিলিজিয়নের পাদ্রীদের কাছে আমার যথেষ্ট নিন্দা করে, ‘ও কেউ নয়, ঠগ, জোচ্চোর; ও তোমাদের দেশে এসে বলে – আমি ফকীর’ ইত্যাদি বলে তাদের মন আমার উপর যথেষ্ট বিগড়ে দিলে!...’’
ধর্মমহাসভার অধিবেশন শেষ হলে স্বামীজি প্রচারের প্রয়োজনে একটি প্রচার সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দিতে থাকেন। সেইসময় বিভিন্ন মার্কিন পত্রপত্রিকায় তাঁর বক্তৃতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হলে প্রতাপচন্দ্রের ঈর্ষার আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি এন্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকাটিকে সম্বল করে ময়দানে নামেন। ওই পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন শুধুমাত্র ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য। স্বামীজিকে ‘আমাদের পুরাতন বন্ধু’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে একটি প্রবন্ধে লেখা হয়, ‘‘...আমরা জানি আমাদের বন্ধু যে নবীন হিন্দুমত প্রচার করিতেছেন, তাহা গোঁড়া হিন্দুধর্ম নহে। তাহার পক্ষে যাহা সম্পূর্ণ অকর্তব্য, তাহা হইতেছে কালাপানি পার হওয়া, ম্লেচ্ছদের অন্নগ্রহণ করা এবং সিগারেটের পর সিগারেট খাওয়া কিংবা ঐরূপ কিছু করা। খাঁটি গোঁড়া হিন্দু আমাদের যতখানি শ্রদ্ধা আকর্ষণ করিতে পারেন, আধুনিক হিন্দুমতাবলম্বী ব্যক্তি সেরূপ শ্রদ্ধা দাবি করিতে পারেন না। কিন্তু বিবেকানন্দের সুখ্যাতি বাড়াইবার জন্য আমাদের সহযোগী সাধ্যমত চেষ্টা করিলেও, তিনি যখন বাজে কথা বকিতে থাকেন, তখন আমাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।” ওই প্রবন্ধে তাঁর সম্বন্ধে এত কথা বলা হলেও আসল সত্যটি হল, ব্রাহ্মসমাজের ‘নববৃন্দাবন’ নাটকে যোগীর ভূমিকায় আর কাউকে না পেয়ে সুগায়ক নরেন্দ্রনাথকে বহু পীড়াপীড়ি পর অভিনয়ের জন্য রাজি করানো হয়েছিল এবং মুখ্যভূমিকায় ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের নেতা ও শ্রীরামকৃষ্ণের কৃপাধন্য কেশবচন্দ্র সেন। নরেন্দ্রনাথ সেই বয়সে থিয়েটারকে এতই অপছন্দ করতেন যে শহরের রাস্তার যে ফুটপাতে থিয়েটার সেই ফুটপাত তিনি একেবারেই মাড়াতেন না।
প্রতাপচন্দ্র কলকাতায় ফিরে রটিয়ে দিলেন বদনামে ভরা অদ্ভুত এক তত্ত্ব— “বিবেকানন্দ আমেরিকায় সব রকমের পাপ কাজ করেছে।” তা শুনে স্বামীজির জবাব ছিল, “বেচারির এতদূর অধঃপতনে আমি বিশেষ দুঃখিত। ভগবান ভদ্রলোককে কৃপা করুন।” তবুও স্বামীজির মনে আশঙ্কা ছিল এই যে, কলকাতার লোকমুখে এ রটনা প্রচারিত হয়ে তাঁর জননীর কানে পৌঁছলে তিনি প্রচণ্ড আঘাত পাবেন। এই রটনায় স্বামীজি প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছিলেন – “আমার বুড়ি মা এখনো বেঁচে আছেন, সারা জীবন তিনি অসীম কষ্ট পেয়েছেন...কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ আশার, তাঁর সবচেয়ে ভালবাসার যে ছেলেটিকে তিনি দান করেছেন, সে দূরদেশে গিয়ে – কলকাতায় মজুমদার যেমন রটাচ্ছে তেমনিভাবে – জঘন্য নোংরা জীবনযাপন করছে, এ সংবাদ তাঁকে একেবারে শেষ করে দেবে।” ( যুগনায়ক বিবেকানন্দ ২য় খণ্ড , পৃষ্ঠা ১১৭)
শুধু দেশবাসীর অপবাদ নয়, বিশেদেও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে নানান কথা। তাঁর সমকালীন ভারতবর্ষকে অপপ্রচারের মাধ্যমে নরকের সিংহ দুয়ারে করে তুলে ছিল আমেরিকার খ্রিস্টান মিশনারীরা। তারা ভারতের মাটিকে নরক, ধর্মকে কুসংস্কার ও ভারতবাসীদের বিধর্মী আখ্যা দিয়ে এই দেশের উন্নতিকল্পে আমেরিকা থেকে অর্থসংগ্রহ করত। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল ‘রমাবাঈ সার্কল’ নামে এক স্বার্থান্বেষী ধর্মীয় সংঘ। যারা পাশ্চাত্যে ভারতীয় বিধবাদের বৈধব্যজীবনের ভয়ঙ্করতা নিয়ে মিথ্যা গল্প ফেঁদে অর্থোপার্জনের ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু স্বামীজি যখন বক্তৃতামঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের মিথ্যার আবরণ সরিয়ে ভারতের সনাতন রূপটিকে সর্বসমক্ষে তুলে ধরলেন, তখন সেই কপটাচারীর দল দুটি প্রতিজ্ঞা করে – ‘জাহান্নমে যাইতে হয় তো তাহাও স্বীকার, কিন্তু নচ্ছার বিবেকানন্দের সর্বনাশ করিতেই হইবে।’ (যুগনায়ক বিবেকানন্দ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৫)।
প্রতাপচন্দ্রের চেয়ে এরা ছিল শতগুণে ভয়ঙ্কর এবং স্বামীজির অনিষ্ট করতে এক কাঠি উপরে। ১৮৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘ডেট্রয়েট জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয় যে, এক বক্তৃতামঞ্চে বারোজন ধর্মযাজক মিলে স্বামীজি ও তাঁর মতাদর্শকে কটূক্তি ও অশ্রাব্য গালিগালাজ দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন। স্বামীজির প্রতি আঘাত হানতে তারা কতদূর নীচে নামেন তা স্পষ্ট হয় যখন আমেরিকা জুড়ে প্রচারিত হল – “বিবেকানন্দের অসদ্ব্যবহারে উত্ত্যক্ত হইয়া (মিশিগানের ভূতপূর্ব গভর্নরের স্ত্রী) শ্রীযুক্তা ব্যাগলিকে তাঁহার একটি অল্পবয়স্কা ঝিকে বিদায় দিতে হয়েছিল; বিবেকানন্দ অসম্ভব রকম আত্মসংযমহীন।” (যুগনায়ক বিবেকানন্দ ২য় খণ্ড, পৃ ১২১ – ১২২)
শ্রীযুক্ত জর্জ ডব্লিউ হেল ও তাঁর পত্নী – যাঁদের স্বামীজি বলতেন ‘ফাদার পোপ’ ও ‘মাদার চার্চ’; তাঁদের দুই কন্যা হ্যারিয়েট হেল ও মেরি হেল এবং দুই বোনঝি হ্যারিয়েট ম্যাককিন্ডলি ও ইসাবেল ম্যাককিন্ডলি স্বামীজির কাছে ছিল নিজের বোনের মতো স্নেহের। তাঁদের প্রাণঢালা ভালোবাসার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে স্বামীজির বিভিন্ন চিঠিতে। সেই হেল পরিবারকে বেনামী চিঠিতে জানানো হয় যে স্বামী বিবেকানন্দ দুশ্চরিত্র। অতএব মিঃ হেল যেন তাঁর বাড়ির মহিলাদের বিবেকানন্দের সংসর্গ থেকে দূরে রাখেন। যে স্বামীজি নারীশিক্ষার উন্নতিকল্পে ব্রতী হয়ে ভারতে স্ত্রীমঠ প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে সচেষ্ট ছিলেন, তাঁকেই রমাবাঈ সার্কলের তরফ থেকে হিন্দু কন্যাদের শিক্ষার বিরোধী বলে নিন্দা করা হয়। মিশনারীরা তাঁকে ধর্মপ্রচারকের বেশধারী রাজনীতিক বলতেও ছাড়েনি। সেইসময়ে তাঁকে যে প্রাণে মারারও ষড়যন্ত্র চলছিল তা আমরা জানতে পারি ডেট্রয়েটে এক নৈশভোজ চলাকালীন। খাওয়ার টেবিলে বসে স্বামীজি কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে যাচ্ছেন, এমন সময় দেখেন শ্রীরামকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, ‘খাসনি, ও বিষ!’
প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যের জন্য বিশেষ বাণী বহন করে আনা স্বামীজি বর্ণবিদ্বেষের শিকারও হয়েছেন। গায়ের ময়লা রঙের জন্য বহু হোটেল ও রুচিবোধসম্পন্ন মার্কিনদের গৃহে তাঁর জায়গা হয়নি। এমন কী গুরু হওয়ার করণে প্রিয় শিষ্যের সঙ্গে সঙ্গে কুৎসার শিকার হয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণও। মিশনারীদের উদ্যোগে একটি সংবাদপত্রে শ্রীরামকৃষ্ণের একটি ছবি ছাপিয়ে তাঁর সম্বন্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রকাশ করা হয়। তা দেখে স্বামীজি ব্যথিত হয়ে বলেন, ‘হায়! এ যে সাক্ষাৎ ভগবদ্বিদ্বেষ!’
কিন্তু এত করেও আমেরিকা ও পরে ইংল্যান্ডে তিনি ছিলেন “সমস্ত প্রকৃত ব্রহ্মপ্রবক্তাদের রহস্যের ও আধ্যাত্মিক নিঃসঙ্গতার মূর্ত বিগ্রহ।” দেশে-বিদেশে স্বামীজি যতবার মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি দেখেছেন, ততবারই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করেছেন। তাঁর নিজের কথাতে ‘আমি জীবনে যত বাধা পেয়েছি ততই আমার শক্তির স্ফুরণ হয়েছে।’ বিবেকানন্দ এইখানেই আশ্চর্যের যে, তিনি কাউকে পরাস্ত করে নিজের জয়ের জন্য আনন্দ পেতেন না, বরং খুশি হতেন একটি সত্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছে দেখে। তাঁর প্রতি মিথ্যে অপবাদ এলে কোনও কোনও সময় স্বামীজির হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মার্কিন সমাজের একাংশ। যেমন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শ্রীযুক্তা ব্যাগলি, জার্মান ভাষাবিদ শ্রীমতী মার্গুয়েরাইট, জর্জ ডব্লিউ হেল, মেরি হেল প্রমুখ। স্বামীজির এক বক্তৃতা শুনে বিশিষ্টা জার্মান ভাষাবিদ শ্রীমতী মার্গুয়েরাইটের মনে তাঁর পবিত্রতা ও মহত্ত্ব সম্বন্ধে এমন গভীর ছাপ পড়ে যে স্বামীজির সঙ্গে করমর্দনের পর তিন দিন তিনি নিজের হাত ধোওয়ার কথা ভাবেননি।
নিজের প্রতি ধেয়ে আসা মিথ্যাচারের কারণে যখন তাঁর প্রচারকার্যে ব্যাঘাত ঘটছিল তখন স্বামীজি আশা করেছিলেন যে তাঁর পক্ষ সমর্থন করে নিশ্চয় ভারত থেকে চিঠি মারফত সমুচিত জবাব আসবে। কিন্তু পাশ্চাত্যে থাকাকালীন প্রথমদিকে তাঁকে নিয়ে ভারতীয়দের যে অমনোযোগিতা, সেই সম্পর্কে কিছু অভিমত ধরা পড়েছে তাঁরই এক চিঠিতে – “...এই যে এক বৎসর যাবৎ আমি এখানে আছি – এর মধ্যে ভারতবর্ষের একজন খ্যাতনামা লোকও এদেশবাসীকে এ কথাটি জানানো উচিৎ মনে করেন নাই যে, আমি প্রতারক নহি।...” কিন্তু পরমুহূর্তেই ব্যক্ত হয়েছে তাঁর মনের কথাটি —“আমার চরিত্রের সর্বপ্রধান ত্রুটি এই যে, আমি আমার দেশকে ভালবাসি, বড় একান্তভাবেই ভালবাসি।”
সমালোচনা, ঈর্ষা যে সাফল্যের অংশ তা তো স্বামীজি জানতেনই। মানুষের গোটা জীবনটাই কঠিন পরীক্ষার ঘেরাটোপে বন্দি। তাই শিষ্য শরৎচন্দ্র চক্রবর্তীর এক প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজি বলেছিলেন জীবনের সনাতন বাস্তব ও সারকথাটি — “...লোকে যখন আমায় খাতির করতে লাগল, তখন পাদ্রীরা আমার পেছনে খুব লাগল। আমার নামে কত কুৎসা কাগজে লিখে রটনা করেছিল! কত লোকে আমায় তার প্রতিবাদ করতে বলত। আমি কিন্তু কিছু গ্রাহ্য করতুম না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস— চালাকি দ্বারা জগতে কোন মহৎ কার্য হয় না; তাই ঐ সকল অশ্লীল কুৎসায় কর্ণপাত না করে ধীরে ধীরে আপনার কাজ করে যেতুম। দেখতেও পেতুম— অনেক সময় যারা আমায় অযথা গালমন্দ করত, তারাও অনুতপ্ত হয়ে আমার শরণ নিত এবং নিজেরাই কাগজে প্রতিবাদ করে ক্ষমা চাইত।...কি জানিস, বাবা, সংসারে সবই দুনিয়াদারি! ঠিক সৎসাহসী ও জ্ঞানী কি এসব দুনিয়াদারিতে ভোলে রে বাপ! জগৎ যা ইচ্ছে বলুক, আমার কর্তব্য কার্য করে চলে যাব – এই জানবি বীরের কাজ। নতুবা এ কি বলছে, ও কি লিখছে —ওসব নিয়ে দিনরাত থাকলে জগতে কোন মহৎ কাজ করা যায় না।” (বাণী ও রচনা ৯, পৃ ৭৪ - ৭৫)।
আশাহত হয়েও তিনি ভেঙে পড়েননি। শত বাধার প্রাচীর তৈরি করেও তাঁর গতিরোধ করায় যায়নি। নিজে ক্ষত হয়েছেন কিন্তু ক্ষতির বিস্তার চাননি। কেননা স্বামীজির হৃদয় জুড়ে ছিল ভারত ও ভারতবাসী।
12th  January, 2019
রং বদলাবে ভাগ্যের চাকা

আজ হোলি, রঙের উৎসব। চারিদিকে লাল-নীল-সবুজ রঙের বাহার। উৎসবের এই দিনটির জন্য মুখিয়ে থাকেন আপামর দেশবাসী। ইতিমধ্যেই জোরকদমে হোলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু রাশি অনুযায়ী কোন রং আপনার জন্য পারফেক্ট। কোন রং আপনাকে এনে দিতে পারে সৌভাগ্যের চাবিকাঠি তা জেনে নিয়ে হাতে তুলে নিন রংয়ের প্যাকেট। বিশদ

পিএফ গ্রাহকদের হাউজিং
স্কিমে সাড়া পড়ল না রাজ্যে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাঁদের আর্থিক অবস্থা ততটা ভালো নয়, তাঁদের অকেকেই গৃহ ঋণ দিতে চায় না বহু ঋণদাতা সংস্থাই। সেই অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই পিএফ দপ্তর হাউজিং স্কিম চালু করে কয়েক বছর আগে। বলা হয়, তিন বছর ধরে যদি কেউ পিএফ গ্রাহক থাকেন, তাহলে তিনি ওই স্কিমে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই স্কিমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ রাজ্যে স্কিমটিতে সাড়া দেননি কেউই, এমনটাই খরব। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকও। বিশদ

ক্রেতা টানল জ্যাকশন টুপি, রাক্ষুসে মুখোশও
সবুজ-গেরুয়া-লাল সমান
জনপ্রিয় দোলের বাজারে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের বাজারে যাই হোক না কেন, দোলের বাজারে কিন্তু লাল-সবুজ-গেরুয়া— কম যায় না কেউই। বুধবার দোলের আগের দিন বড়বাজারের রঙের সার দেওয়া দোকানগুলি অন্তত সে কথাই বলেছে। এদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেদার বিকিয়েছে সবুজ-লাল-গেরুয়া আবির।
বিশদ

21st  March, 2019
বাংলায় ভোট যুদ্ধে নামার আগেই
সংশয়-বিভ্রান্তিতে জেরবার বিজেপি

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন লোকসভা ভোটে প্রচারের কৌশল কী হবে জানা নেই। কোন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ কতটা চড়ানো হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি। কারণ, যে কোনও দিন সংশ্লিষ্ট সেই নেতা-নেত্রী শিবির বদল করতে পারেন।
বিশদ

21st  March, 2019
অনুব্রতকে শো-কজ
নির্বাচন কমিশনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শো-কজ করা হল বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বুধবার বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোদারাবসু তাঁকে শো’কজের চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জেলাশাসক জানিয়েছেন।
বিশদ

21st  March, 2019
এবার রায়গঞ্জ-মুর্শিদাবাদ থেকে দীপা-হেনাকে সরাতে চাপ, কংগ্রেসের জেতা ২ আসনে প্রার্থী বামেদের

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাদের জেতা দুটি আসন থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের জন্য কংগ্রেসের উপর ধাপে ধাপে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বামফ্রন্ট। এই কৌশলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বুধবার তারা কংগ্রেসের জেতা চারটির মধ্যে দুটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করল।
বিশদ

21st  March, 2019
অভিমত কার্ডিওলজিস্টদের
মাঠে নামার আগে খেলোয়াড়দের
ইকো-ইসিজি আবশ্যিক হোক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালিগঞ্জ স্পোর্টিং-এর সোনু যাদব এবং ক্যামেরুনের মার্ক ভিভিয়ান ফো—মিল কোথায়? খেলাধুলোর সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ রাখা মানুষজন নিঃসন্দেহে একটু চিন্তার পর বলবেন—মৃত্যুতে, মর্মান্তিক মৃত্যুতে।
বিশদ

21st  March, 2019
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মনোনয়ন জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে
এখনও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না
হওয়ায় বেজায় অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ: লোকসভা নির্বাচনের প্রথম, দ্বিতীয় পর্যায়ের মনোনয়ন জমার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না হওয়ায় বেজায় চাপে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। এই পরিপ্রেক্ষিতেই আজ এখানে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘বরাবরই ওস্তাদের মার শেষ রাতেই হয়।
বিশদ

21st  March, 2019
রায়গঞ্জ-মুর্শিদাবাদ
বাম-কংগ্রেসের মধ্যে জোটের
জট ফিরে গেল পুরনো অবস্থায়

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বামেদের ঘোষিত পাঁচ আসনে প্রার্থী না দিতে প্রস্তুত কংগ্রেস। কিন্তু গত লোকসভা ভোটে সিপিএমের জেতা দুই আসনেই প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নেওয়ায় এবার সংঘাতের পথে যেতে বসেছে বাম-কংগ্রেস।
বিশদ

21st  March, 2019
  ধর্মতলায় অনশনকারী শিক্ষক
চাকরিপ্রার্থীদের গণ সম্মেলন

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে শিক্ষকদের চাকরি পাওয়ার দাবিতে লাগাতার অনশন আন্দোলনের সমর্থনে বুধবার অরাজনৈতিক গণ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ধর্মতলায় প্রেস ক্লাবের সামনে সেই অরাজনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিতে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল করে আসেন সিটু সমর্থকরা।
বিশদ

21st  March, 2019
রাজ্যে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী বৃহৎ ঐক্যের আশা
অঙ্কুরেই নষ্ট, লিবারেশন-পিডিএস ভোটের আসরে

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যে যে বৃহত্তর বাম ও গণতান্ত্রিক ঐক্যের মঞ্চ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছে। কেবল মাত্র কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের বোঝাপড়া ভেঙে যাওয়াই এর একমাত্র কারণ নয়।
বিশদ

21st  March, 2019
কেন্দ্রীয় বাহিনী: কমিশনের
দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী সপ্তাহেই প্রথম দফার ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে চলেছে রাজ্যে। সাত দফার ভোটে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে, তা নিয়ে বুধবার আইজি বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব।
বিশদ

21st  March, 2019
কাল রাজ্যে ছুটি থাকলেও
পেশ করা যাবে মনোনয়ন

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাল শুক্রবার দোল উৎসব উপলক্ষে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত ছুটি দিলেও ওইদিন লোকসভা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র পেশ করা যাবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার এনআই অ্যাক্ট অনুযায়ী রাজ্যে ছুটি নয়।
বিশদ

21st  March, 2019
গান রেকর্ডিং নিয়ে
ব্যাখ্যা দিলেন বাবুল

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নিজের গান রেকর্ডিং নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন। বুধবার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সেই গান বাজারে মুক্তি পায়নি। রেকর্ডিং করার সময় কিছু সংবাদমাধ্যম তা রেকর্ড করে।
বিশদ

21st  March, 2019

Pages: 12345

একনজরে
সম্প্রতি নেতাজী নগর ডে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাবন্ধু কর্মীদের একাংশ পৌঁছে গিয়েছিলেন সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়া দ্বীপের লাহিড়িপুর অঞ্চলের চরঘেরী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সোনাগাঁ, গোসাবা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের বেসরকারি বা সরকারি উভয়ক্ষেত্রে যোগাযোগের সম্ভাবনা প্রবল। অংশীদারী ব্যবসায় যুক্ত হলেও শুভ। কোনও রোগের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক জল দিবস
১৭৩৯- দিল্লি জয় করে নাদির শাহ ময়ূর সিংহাসনের মণিরত্ন লুট করে নিয়ে গেলেন
১৮৮৩ - বাঙালি সাহিত্যিক এবং গবেষক যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তের জন্ম
১৮৯৪- বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের জন্ম।
১১৯৪৭ - লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ভাইসরয় পদে নিযুক্ত হয়ে ভারতে আসেন।
১৯৬৩- বিটলস-এর প্রথম অ্যালবাম ‘প্লিজ প্লিজ মি’ প্রকাশিত হয়
১৯৯২- আলবেনিয়ায় কমিউনিজমের পতন। পার্লামেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব আলবেনিয়া
১৯৯৭- হেল-বপ নামে ধুমকেতু পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৩৩ টাকা ৭০.০২ টাকা
পাউন্ড ৯০.০২ টাকা ৯৩.৩০ টাকা
ইউরো ৭৭.০৪ টাকা ৮০.০০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  March, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৩৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৬৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,১৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
21st  March, 2019

দিন পঞ্জিকা

আজ দোলযাত্রা উৎসব
৬ চৈত্র ১৪২৫, ২১ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ৩/৪২ দিবা ৭/১৩ পরে (ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষ) প্রতিপদ ৫৫/২২ রাত্রি ৩/৫৩। উত্তরফাল্গুনী ১৯/৩৪ দিবা ১/৩৪। সূ উ ৫/৪৪/১৩, অ ৫/৪৪/৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৫৫ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ২/৪৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪৩ গতে ১/১৪ মধ্যে।
আজ দোলযাত্রা উৎসব
৬ চৈত্র ১৪২৫, ২১ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ৭/২৩/৪৩ পরে প্রতিপদ রাত্রিশেষ ৫/১৯/৫৬। উত্তরফাল্গুনীনক্ষত্র ২/১৬/০, সূ উ ৫/৪৪/৩৫, অ ৫/৪৩/১২, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৫৬/২ থেকে ৩/২০/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৪/১৩/২৩ থেকে ৫/৪৩/১২ মধ্যে, কালবেলা ২/৪৩/৩৩ থেকে ৪/১৩/২৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪৩/৫৩ থেকে ১/১৪/৪ মধ্যে।
১৩ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন পাকিস্তানের, পুঞ্চ সীমান্তে পাক সেনার গোলাগুলি 

05:38:13 PM

দমদমে রঙ খেলে স্নান করতে নেমে জলাশয়ে তলিয়ে গেল যুবক 

05:07:00 PM

আজ বিকালে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা 

04:53:34 PM

২২২ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:04:52 PM

রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে শো-কজ কমিশনের 
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে শো-কজ করল নির্বাচন ...বিশদ

03:07:29 PM

চাড্ডিও এবার অক্সফোর্ড অভিধানে
বেশ কিছু দেশীয় শব্দ ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে অক্সফোর্ড ইংরাজি অভিধানে। ...বিশদ

02:55:02 PM