রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

শুরু হল লাইফ ওকের নতুন ধারাবাহিক গুলাম

 চিত্রনাট্য অনুসারে অপরাধের পীঠস্থান এই বেরামপুর। সেখানে যাবতীয়
অসামাজিক কুকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই চৌধুরি বীর।

শাশুড়ি-বউমার ঝগড়া এবং রান্নাঘরের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে লাইফ ওকে চ্যানেলে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘গুলাম’। কথা ছিল সেটেই ধারাবাহিকের কলাকুশলীদের সঙ্গে দেখা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য বাস তখন প্রায় বেরামপুর (গল্পে ধারাবাহিকের লোকেশন) পৌঁছবে। আচমকা বাসের মধ্যে একদল দুষ্কৃতীর হামলা! রীতিমতো হাড় হিম হয়ে যাওয়া পরিস্থিতি। ইষ্ট দেবতার নাম জপতে জপতে শেষ পর্যন্ত জানা গেল দুষ্কৃতিরা আসলে প্রত্যেকেই অভিনেতা! চমকের পর চমকই বটে। অবশেষে বাস থামল বেরামপুরে।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই আগত সাংবাদিকদের অভ্যর্থনা জানালেন গ্রামের সর্বেসর্বা চৌধুরি বীর। বেরামপুরে গাছের পাতা খসলেও নাকি বীরের থেকে অনুমতি নিতে হয়! ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলে উপস্থিত হল রঙ্গিলা- চৌধুরী বীরের শিষ্য। চোখ রাখা যাক গল্পের দিকে। চিত্রনাট্য অনুসারে অপরাধের পীঠস্থান এই বেরামপুর। সেখানে যাবতীয় অসামাজিক কুকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই চৌধুরি বীর। তাঁর ডান হাত রঙ্গিলা। ছোট থেকেই রঙ্গিলা তার মনিব এর আদেশ পালন করতেই শিখেছে। রঙ্গিলার জীবনে যদি দেবতা নামক কারও অস্তিত্ব থাকে তাহলে তিনি এই চৌধুরি বীর। নিজের সাম্রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনিও রঙ্গিলাকে নিজের মতো ব্যবহার করে এসেছেন। কিন্তু কথায় বলে হিংস্র সিংহকে পোষ মানানো যায় না। ভাগ্যক্রমে যদিও বা সেটা সম্ভব হয়, ক্ষণস্থায়ী ফলাফলকে সুদূরপ্রসারী বলা যায় কি! এখন রঙ্গিলার মতো ভয়ঙ্কর ছেলে কি শেষ পর্যন্ত চৌধুরির মতো ঠাণ্ডা মাথার আত্মকেন্দ্রিক মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে? নাকি রঙ্গিলাও একসময়ে এই নাগপাশ থেকে বেরিয়ে এসে মনিবের বিরোধিতার পথকেই বেছে নেবে? এটারই খোঁজে শুরু হয়েছে এই ধারাবাহিকের পথ চলা।
ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্র রঙ্গিলার ভূমিকায় অভিনয় করছেন পরম সিং। অন্যদিকে চৌধুরি বীরের চরিত্রে রয়েছেন বিকাশ মানকতলা। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন নীতি টেলর(শিবানী),ভগবান তিওয়ারি (ভীষ্ম), জাহিদা পরভিন (গুলগুলি), প্রদীপ দুহান (মনমিত), সারিকা ধিঁলো (রেশমি), জয় যাদব (জাগির), রিধিমা তিওয়ারি,সমতা সাগর প্রমুখ অভিনেতা। প্রশ্নোত্তর পর্বে পাওয়া গেল পরমকে। তিনি এই প্রথম ‘অ্যান্টি হিরো’র ভূমিকায়। এই চরিত্রে অভিনয় করাটা তার পক্ষে কতটা কঠিন ছিল? ‘সত্যিই কঠিন। এর আগে ধারাবাহিকে দর্শক আমাকে চকলেট বয় হিসেবেই দেখেছেন। তাই চাইছিলাম নিজেকে ভেঙে একেবারে নতুনভাবে হাজির হতে। রঙ্গিলা চরিত্রটা আমাকে সেই সুযোগটা করে দিল’ বলছেন পরম। কিন্তু এই চরিত্রের জন্য নিজেকে কীভাবে তৈরি করলেন পরম? উত্তরে হাসতে হাসতে জানালেন ‘আমির খান! আমি আমির খানের ফ্যান। ইন্ডাস্ট্রিকে আমির সবসময়েই নতুন কিছু উপহার দেন। এই ধারাবাহিকের নাম গুলাম এবং আমার চরিত্রের নাম রঙ্গিলা। এর থেকে বড় অনুপ্রেরণা আর কিই বা হতে পারে’।
অন্যদিকে ‘লেফট রাইট লেফট’ টিভি সিরিজে হুডা চরিত্র বিকাশ মানকতলাকে রাতারাতি লাইম লাইট এনে দিয়েছিল। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও দর্শকদের মনে হুডা এখন স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই বিকাশ জানালেন ‘অমরদীপ হুডা চরিত্রটার জন্যই কিন্তু নির্মাতারা আমাকে এই ধারাবাহিকের জন্য নির্বাচন করেন। কারণহুডার মতো চৌধুরি বীরও কিন্তু হরিয়ানা ঘেঁষা হিন্দিতে কথা বলে। তবে দুটো চরিত্র আলাদা হলেও আমার বিশ্বাস দর্শক চৌধুরিকে পছন্দ করবেন’।
ধারাবাহিকটির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সৌরভ তিওয়ারি, সুমিত চৌধুরী, কেওয়াল শেঠি এবং রাজেশ চাড্ডা। চিত্রনাট্য লিখেছেন রাহিল কাজি এবং সেট ডিজাইন করেছেন ওয়াসিক খান। গতকাল থেকে এই ধারাবাহিকটি দেখা যাচ্ছে লাইফ ওকে চ্যানেলে সোম থেকে শুক্র রাত ন’টায় ।

মুম্বই থেকে শামা ভগত

লক্ষীছানার বিশেষ পর্ব

পাঁচবছর পর আবার আকাশ ৮ এর পরদায় ফিরে এসেছে কচিকাঁচাদের টকশো ‘লক্ষীছানা’। ফিরে এসেও হিট শো টি। আগামী২৫শে জানুয়ারিতে দেখা যাবে এই শো-এর একটি বিশেষ পর্ব । যে পর্বে সঞ্চালক নীল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকছে কিছু দৃষ্টিহীন শিশু।
উত্তরপাড়ার ‘লুই ব্রেইল মেমোরিয়াল স্কুল ফর দ্য লাইটনেস’ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা অভিনয় করবে ‘শপথ’ নাটকটি। নাট্যকার, স্কুলেরই শিক্ষিকা নন্দিতা ভট্টাচার্য, যিনি নিজেই দৃষ্টিহীন। এই পর্বে বিশেষ অতিথি থাকছেন গায়ক সুরজিৎ, যাঁর সঙ্গে গলা মেলাবেন তিথি,চন্দ্রিমা,সরস্বতীরা। এদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে খুশি সুরজিৎ। জানালেন,ওরা আমাদের থেকে অনেক বেশি দেখতে পায়। আমার এক ফরাসি অন্ধ বন্ধু বলেছিল,‘তোমরা তো চোখ দিয়ে দেখ,আমি দশটা আঙুল দিয়ে দেখি। প্রায় সব বাজনাই সে বাজাতে পারে। আমি অভিভূত আজ এদের মধ্যে এসে। নীল জানালেন, দেখাটা তো মনের ব্যাপার। আমার মনে হয় যারা দৃষ্টিহীন, তারা অনেক বেশি দেখে। যে শিশুরা নানা কারণে পিছিয়ে, তাদের নিয়ে এর আগেও অনুষ্ঠান হয়েছে, তবে দৃষ্টিহীনদের নিয়ে এই প্রথম। আসলে দেখতে পাওয়া বা না পাওয়া এই তফাতের কোনও মানে নেই।
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সঞ্চালক আরও জানালেন,‘মজার মধ্যে দিয়ে একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা থাকে এই অনুষ্ঠানে। এটা ট্যালেন্ট হান্ট নয়, এই অনুষ্ঠান নিজেদের মেলে দেবার জায়গা’।

অজয় মুখোপাধ্যায়         
ছবি-ভাষ্কর মুখোপাধ্যায়  

ঝাঁঝ লবঙ্গ ফুল

(স্টার জলসা, সোম থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টা)

শহুরে আধুনিকা সফল হোটেল ব্যবসায়ী ভিক্টোরিয়া প্যালেসের মালকিন ইন্দ্রাণী চান বিদেশ থেকে পাস করে আসা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবেন কোনও নামী পরিবারের হাই-স্ট্যাটাসের মেয়ের। কিন্তু ভাগ্যচক্রে নীলের সঙ্গেই বিয়ে হয় লবঙ্গের। তবে লবঙ্গ যে সে মেয়ে নয়। রীতিমতো রন্ধন-পটিয়সী এই কন্যে। শ্বশুরবাড়িতে লবঙ্গ নিজের অধিকার পেতে মরিয়া। নীলও ভালোবাসে সরল এই মেয়েটিকে। স্বামীর চোখের মণি লবঙ্গকে পরিবারের সবাই মেনে নিলেও ইন্দ্রাণীর দু চোখের বিষ।
এখন আবার কাহিনিতে টুইস্ট। বিদেশে নীলের সঙ্গে একসঙ্গে পাঠরতা বান্ধবী এখন নীলের বউ হিসেবে দাবি করে হাজির নীলের বাড়িতে। তাদের বিয়ে দিতে চায় নীলের মা। লবঙ্গকে সে স্বীকার করে না পুত্রবধূ হিসেবে। নীলের নতুন বউয়ের আগমন নিয়ে গোটা বাড়িতে এক চূড়ান্ত নাটকীয় পরিবেশ। কাহিনির কিছু কিছু মিসিং লিঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আর সবথেকে বড় কথা, ধারাবাহিকটির শুরু রন্ধন শিল্পটিকে নিয়ে, সেখান থেকে সরে এসে সেই পারিবারিক কূটকচালি আর এক ছেলের দুই বউয়ের গল্প। একটি আদ্যোন্ত নতুন অ্যাঙ্গেলের আকর্ষণীয় কাহিনিও গোরুর রচনা হয়ে গেল।
তবে যাই হোক, ভরপুর ফ্যামিলি ড্রামায় জমজমাট কাহিনি। দুবার বিয়ে, নতুন নতুন ইস্যু নিয়ে ঝগড়া, অসুস্থতা, মনখারাপ, বাড়ির এতবড় সমস্যাতেও অভিনেতাদের সাজ-পোশাকের পারিপাট্য, চড়া উগ্র মেকআপ বেশ নজর কাড়ে। লবঙ্গর ভূমিকায় নবাগতা ঈশা সাহার অভিনয় বেশ সাবলীল। সিনেমা এবং সিরিয়ালের পরিচিত মুখ নীলরূপী রাজদীপ গুপ্তাকেও বেশ মানিয়েছে।

ওয়ারিশ

(অ্যান্ড টিভি, সোম থেকে শুক্রবার, রাত ১০টা)

স্বামীর মৃত্যুর পর অম্বা তাদের মেয়ে মনপ্রীতকে মানুষ করেছে ছেলে পরিচয় দিয়ে। পারিবারিক সম্পত্তি যাতে বেহাত হয়ে না যায় সেইজন্য। অম্বার দেওর জগন চায় সব সম্পত্তি একা দখল করে নিতে।
সম্পত্তির এমনই মোহ যে রক্তের সম্পর্কও জড়িয়ে পড়ে খুন-খারাপিতে। মনপ্রীতও নিজেকে জানত ছেলে হিসেবেই। যখন সে নিজের সত্য পরিচয় পেল, মায়ের উপর রাগে অভিমানে কথা বলা বন্ধ করেছিল ছোট্ট মেয়েটি। যে ভয় নিয়ে এক স্বামীহারা মা আঁকড়ে ধরেছিলেন তার সন্তানকে। পারিবারিক নানা জটিলতায় ওয়ারিশ চলছে ভালোই।
বংশের উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যার দাবি অস্বীকার যোগ্য নয়। খাতায়-কলমে আইনি মারপ্যাঁচে সেসব থাকলেও সেসব টপকানো এখনও গ্রাম্য সমাজে সহজ কথা নয়। অথচ সমাজে মেয়েরা আজ ছেলেদের সঙ্গে সমান তালে চলছে, সেখানে বংশের উত্তরাধিকারী হতে বাধা কোথায়? সেখানে ওয়ারিশের কাহিনি চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের সমাজের এই ছায়াই তুলে ধরেছে। তবে ছোট্ট মেয়েটিকে ছেলের পরিচয় দেওয়া কতটা সহজ আর বাস্তবোচিত ক্রমশ শৈশব কাটিয়ে ওঠা মনপ্রীতকে কি লুকিয়ে রাখতে পারবে অম্বা? চ্যালেঞ্জ আছে কাহিনির পরতে পরতে। মনপ্রীতের ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করছে ছোট্ট সানিয়া তওকির।

শেরী ঘোষ




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta