রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

চন্দ্রকান্তার চরিত্র পেয়ে স্বপ্নপূরণ কৃতিকার

প্রতি শনি ও রবিবার রাত ৯টায় লাইফ ওকে চ্যানেলে দেখা মিলবে নতুন চন্দ্রকান্তার। এটা
মূল উপন্যাস বা আগের ধারাবাহিকের হুবহু নকল নয়। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র মোটেও দুর্বল
নয়। বা শুধুমাত্র একজন সুন্দরী রমণী নয়। সে লড়াকু যোদ্ধা

স্বপ্ন বাস্তব হল ছোট পরদার নায়িকা কৃতিকা কামরার। নতুন ধারাবাহিক ‘প্রেম ইয়া পহেলি চন্দ্রকান্তা’য় একেবারে নাম ভূমিকায় সুযোগ পেয়েছেন তিনি। রাজকুমারী চন্দ্রকান্তার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ায় আপ্লুত কৃতিকা। এর আগে ‘কিতনি মহব্বত হ্যায়’ ও ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে ছোট পরদার এই দুষ্টু-মিষ্টি নায়িকা দর্শকের নজর কেড়েছিলেন। তাঁর অভিনয় হিন্দি ধারাবাহিকের একনিষ্ঠ দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছিল। এবারে কৃতিকাকে দেখা যাবে একেবারে রাজকুমারীর চরিত্রে।
নতুন ধারাবাহিক নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘সব মেয়েই রাজকুমারী হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তো স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার মতো। তবে, এই চরিত্রটা আমার কাছে বিশাল চ্যালেঞ্জিং। কারণ, রাজকুমারী চন্দ্রকান্তার চরিত্রে নানা ধরনের দিক রয়েছে। পাশাপাশি, রাজকুমার বীরেন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের নানা উত্থান-পতনের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাঁকে এগিয়ে যেতে হবে।’
কৃতিকা জানালেন, টিভির পরদায় যখন চন্দ্রকান্তাকে নিয়ে প্রথমবার ধারাবাহিক হয়েছিল, তিনি দেখেছিলেন। তবে, তখন তিনি খুবই ছোট ছিলেন। চন্দ্রকান্তাকে নিয়ে নতুন ধারাবাহিকে অভিনয় করতে তিনি রাজি হলেন কেন? এ ব্যাপারে কৃতিকার বক্তব্য, ‘প্রেম ইয়া পহেলি চন্দ্রকান্তা’র চিত্রনাট্য তাঁর খুবই আকর্ষণীয় লেগেছিল। তাই এই ধারাবাহিক নিয়ে তাঁর আগ্রহ জন্মায়। নতুন চন্দ্রকান্তা বললেন, ‘এই ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্র শুধুমাত্র একজন সুন্দরী নারী নন, তিনি একজন যোদ্ধা। সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে জীবনের পথে এগিয়ে যাবেন। কয়েকটি পর্বে দর্শক আমাকে যুদ্ধক্ষেত্রেও দেখতে পাবেন। আগের চন্দ্রাকান্তা ধারাবাহিকে মোটামুটি উপন্যাসটিকে হুবহু অনুসরণ করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিকে থিমটা এক, চরিত্রগুলি এক। কিন্তু একটা আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে। এটা মূল উপন্যাস বা আগের ধারাবাহিকের হুবহু নকল নয়। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র মোটেও দুর্বল নয়। সে লড়াকু যোদ্ধা। মনে হয়, এখনকার যুগে বেশিরভাগ মানুষ দুর্বল কেন্দ্রীয় চরিত্র পছন্দ করেন না। নতুন ধারাবাহিকে আজকের যুগের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে চন্দ্রকান্তাকে একাত্ম করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস প্রেম ইয়া পহেলি চন্দ্রকান্তা দর্শকের ভালো লাগবে।’
টিভির পরদায় যখন প্রথম বার চন্দ্রকান্তা হয়েছিল, তখন কৃতিকা নিতান্তই বালিকা। ওই ধারাবাহিকের কিছু কিছু স্মৃতি এখনও তাঁর রয়েছে। তবে, নতুন রূপে চন্দ্রকান্তা করার আগে আর পুরানো চন্দ্রকান্তা দেখার চেষ্টা করেননি তিনি। কৃতিকা চাননি আগের ধারাবাহিকের কোনও রকম প্রভাব তাঁর অভিনয়ের উপর পড়ুক। তিনি দর্শককে নতুন কিছু উপহার দিতে চান। হিন্দি ও উর্দু শব্দের উচ্চারণ দোষ কাটানোর জন্যও তাঁকে বিস্তর মেহনত করতে হয়েছে। মুম্বইয়ের স্টুডিওর পাশাপাশি গোলকোণ্ডায় বেশ কিছু আউটডোর শ্যুটিং হয়েছে। অন্য কয়েকটি চ্যানেলে চন্দ্রকান্তার মতো একই ধরনের কিছু ধারাবাহিক হয়। তবে, সেগুলির সঙ্গে নতুন এই ধারাবাহিকের প্রতিযোগিতার কোনও ব্যাপার নেই বলে বিশ্বাস কৃতিকার। ইতিমধ্যে নতুন ধারাবাহিকের জন্য কৃতিকাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন একতা কাপুর। তবে, দূরদর্শনের ‘চন্দ্রাকান্তা’ ধারাবাহিকটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে তা পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। এবার কৃতিকার ‘প্রেম ইয়া পহেলি চন্দ্রকান্তা’ কতটা পুরানো ধারাবাহিকটিকে টক্কর দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

মুম্বই থেকে শামা ভগত

‘ছদ্মবেশী’ র নায়িকা বদল

কোনও ধারাবাহিকের মূল চরিত্রে শিল্পী বদল খুব নতুন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক অতীতে এরকম দুটি গুরুত্বপূর্ণ বদল ঘটেছিল ‘তোমায় আমায় মিলে’ এবং ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে। ‘তোমায় আমায় মিলে’র নিশীথ এবং ‘ইষ্টি কুটুম’-এর নায়িকা বাহার চরিত্রের শিল্পীদের পরিবর্তন হয়েছিল। কিন্তু দুটি ধারাবাহিকের এই শিল্পী বদল ঘটেছিল মেগা দুটি বহুদিন চলার পর। কিন্তু ‘ছদ্মবেশী’ ধারাবাহিকের নায়িকা বদল ঘটল মাত্র ২৪টা এপিসোডে। উক্ত ধারাবাহিকে লাবণ্যের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নবাগতা প্রিয়াঙ্কা। হঠাৎই ২৫তম পর্ব থেকে দেখা গেল লাবণ্যের চরিত্রে পরিবর্তিত মুখ। ‘দীপ জ্বেলে যাই’ খ্যাত নবনীতা এখন লাবণ্যের ভূমিকায়। হঠাৎ করে কি এমন ঘটল যে রাতারাতি মেগাটির নায়িকা বদল করতে হল? ব্যাপারটা পরিষ্কার করলেন প্রযোজক সংস্থা ‘টেন্ট’-এর প্রযোজক এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সুশান্ত দাস। এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে তিনি জানালেন—যেহেতু ধারাবাহিকটি খুব তাড়াতাড়ি শুরু করতে হয়েছিল তাই ওয়ার্কশপ করার সুযোগ পাননি প্রিয়াঙ্কা। ফলে চরিত্রটির গুরুত্ব সেই ভাবে ধরতে পারছিলেন না তিনি। প্রিয়াঙ্কার অভিনয়েও খামতি থেকে যাচ্ছিল। তাই এই পরিবর্তনটা করতে হয়েছে। তবে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কনট্র্যাক্ট এখনও বহাল আছে। আগামীর কোনও প্রযোজনায় তাঁকে নেওয়া হবে।
নবনীতা প্রসঙ্গে সুশান্ত জানালেন—নবনীতা আমাদের সঙ্গে ‘দীপ জ্বেলে যাই’ করেছে। সে ধারাবাহিক যথেষ্ট জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল। ওর অভিনয় ‘ছদ্মবেশী’তেও আলাদা মাত্রা যোগ করবে।

অজয় মুখোপাধ্যায়

অপুর সংসার, জি বাংলা

(বৃহস্পতি থেকে শনি রাত ৯-৩০)

রোজ রোজ বাড়িতে নিত্য নতুন অতিথি। আর শুরু হয়ে যায় একের পর এক গুগলি। নতুন কমেডি শো অপুর সংসারের ফরম্যাট এটাই।
এখানে মুখ্য চরিত্রে অপুর ভূমিকায় শাশ্বত। খলনায়ক থেকে গোয়েন্দা— বিভিন্ন চরিত্রে শাশ্বতর অভিনয় দর্শকের ভীষণ প্রিয়। আর এবারে সেই তিনিই কমেডি শো-এ। ফলে এমনিতেই দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে। সেই পরিবারের সর্বেসর্বা অপু। মা, দুই ভাই এবং বোনকে নিয়ে তাঁর মজার সংসার। তাঁর পরিবারের সমস্যা যেন সবার ঘরের। আসলে এটি ফ্যামিলি ড্রামায় কমেডির স্বাদ। হাসি-হুল্লোড়ে ভেসে যেতে যেতে দর্শক কিছুক্ষণের জন্য রিলিফ পান। তারকাদের সঙ্গী করেই এই শো। ফলে তারকাদের জানা-অজানা নানা কথা যেমন অপু বের করে আনছেন পেটের ভিতর থেকে, তার সঙ্গেই সমস্যার জালে জড়িয়ে থাকা অপুর সংসারে সমাধান দিতে হাজির অতিথিরাও দর্শককে উপহার দিচ্ছেন নির্ভেজাল হাসির খোরাক। অমিত কুমার, কুমার শানু, তনুশ্রী, অপরাজিতা আঢ্য, শ্রীলেখা, শ্রাবন্তী, স্বস্তিকা, শুভশ্রী, বনি, কৌশানি, ইন্দ্রাণী হালদার, অঙ্কুশ, রঞ্জিত ও কোয়েল মল্লিক, সস্ত্রীক বাবুল সুপ্রিয়— সব মিলিয়ে তারকাদের নামের তালিকা কম বড় নয়। অপুর সংসারের সমস্যা মেটা হাজির হয়েছেন এঁরা। সর্বজয়ার তিন ছেলে অপু, তপু ও দীপু। অপুর স্ত্রী শর্মিলা চায় অভিনেত্রী হতে। তপু উঠতি কবি এবং দীপু চায় অভিনেতা হতে। সুদীপা বসু, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, সৌরভ দাসের অভিনয়ে কোনও কোনও সময় বাড়াবাড়ি লাগলেও মজাদার শো বলতেই হবে।

শেরী ঘোষ

 স্টার প্লাসের নয়া ধারাবাহিক
এক আস্থা অ্যায়সি ভি

স্টার প্লাস তাদের দুপুরের স্লটগুলি ঢেলে সাজিয়েছে। সাধারণত স্টার প্লাসে সম্প্রচারিত মেগাগুলির রিপিট টেলিকাস্ট চলত দুপুরবেলা। কিন্তু এবার পুনঃপ্রচার বন্ধ করে স্টার প্লাসে দুপুর বেলা চার চারটি নতুন ধারাবাহিক শুরু করছে। এই চার ধারাবাহিকের অন্যতম ‘এক আস্থা অ্যায়সি ভি’র কাহিনি আবর্তিত হবে আস্থা নামে একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে। মানালি শহরের মেয়ে আস্থার বিয়ে হয় কলকাতার এক মাড়ওয়ারি পরিবারে। কাহিনির প্রেক্ষাপট কলকাতা শহর। তাই কলকাতার অনেকটা জুড়ে হয়েছে শ্যুটিং। আগামী দিনেও হবে গল্পের কারণেই। কলকাতা এই ধারাবাহিকের একটি চরিত্র। সে কারণেই ধারাবাহিক শুরুর আগে কলকাতায় প্রচার সারল টিম ‘এক আস্থা অ্যায়সি ভি’।
সম্প্রতি প্রিন্সেপ ঘাটে গঙ্গার ধারে ধারাবাহিকের প্রচার পর্বের আয়োজন হয়। সেখানে পৌঁছে চোখে পড়ল ধারাবাহিকের আস্থা প্রিন্সেপ ঘাটে পথশিশু ও দুঃস্থ মানুষদের খাবার পরিবেশন করছেন। নিজে সকলের খাওয়ার তদারকি করছেন। ধারাবাহিকের প্রচারে এসে সমাজ সেবা! নাকি সমাজসেবা আর প্রচার চলছে একযোগে? ‘হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন— সমাজসেবা ও প্রচার চলছে একযোগে’, বিষয়টা ঠিক কি তা খোলসা করলেন আস্থার চরিত্রাভিনেত্রী টিনা ফিলিপ। তাঁর কথায়, ‘আস্থা সেবামূলক কাজের মাধ্যমে ঈশ্বরকে পেতে চায়। এটাই তার স্বভাবের শ্রেষ্ঠ গুণ। আস্থা চরিত্রকে যথাযথভাবে প্রচারের আলোয় আনার উদ্দেশেই এহেন আয়োজন।’
কিন্তু আস্থা ঠিক কিরকম? উত্তরে টিনা বললেন— ‘আস্থা একেবারে অন্যরকম মেয়ে। সে তথাকথিত ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয়। ধর্মস্থানে গিয়ে দেবতার মূর্তি পূজোয় তার আস্থা নেই। কোনও কুসংস্কারের ঘোর বিরোধী। আসলে উদার মনের মেয়েটি মানবতায় বিশ্বাসী। সে মনে করে কোনও ভাল কাজ, যেমন দুঃস্থের সেবা, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অনাথ শিশুদের দেখাশোনা, শিক্ষাদান ইত্যাদি করে ঈশ্বরলাভ সম্ভব।’
এহেন উদারমনা আস্থার জীবনের গল্পটা কোন পথে এগবে? প্রশ্নের উত্তরে ম্যানচেস্টার প্রবাসী এই নবাগতা অভিনেত্রী বললেন,‘উদারমনা আস্থা সত্যধর্মে বিশ্বাসী। আপাতদৃষ্টিতে নাস্তিক আস্থা মানালির মেয়ে। কলকাতার এক মাড়ওয়ারি পরিবারে বিয়ের পরই আস্থার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ যে পরিবারে বিয়ে হয়, তারা ঘোর ঈশ্বর বিশ্বাসী। পুজো-পাঠ-যজ্ঞ লেগেই থাকে। সব রকমের কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। বাড়ির নববধূর বিশ্বাস ও আচরণে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পারিবারিক গুরুমার সঙ্গে আস্থার বিরোধ বাধে। আস্থার জীবনের এই ওঠাপড়াই গল্পের বিষয়।’
ম্যানচেষ্টারে পড়াশোনা করা টিনা পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। ছেলেবেলা থেকেই অভিনেত্রী হতে চেয়েছেন। সে কারণেই লন্ডন থেকে ভারতে ফেরা। দু’বছর নানা প্রচেষ্টার পর অবশেষে স্টার প্লাসে কাজের সুযোগ। ‘আমার অভিনয়ের শুরুটা স্টার প্লাসে হচ্ছে বলে আমি সত্যিই নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি’ বললেন টিনা। এই ধারাবাহিক প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে নতুন প্রযোজনা সংস্থা শূন্য স্কোয়ার প্রোডাকশনস। টিনার বিপরীতে রয়েছেন ছোট পরদার পরিচিত মুখ কানওয়ার ধিঁলো। অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন মানসী সালভি, বিবেক মুশরান প্রমুখ। আগামী ৩ এপ্রিল প্রতি সোম থেকে শনি দুপুর দেড়টায় মেগাটি দেখা যাবে।

মানসী নাথ                  
ছবি: দীপেশ মুখোপাধ্যায়

 




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta