কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

দু’ইনিংসে ১২টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা স্টিভ ওকিফে
সাফল্যের শিখর থেকে ব্যর্থতার অতল
খাদে নিমজ্জিত কোহলির ‘টিম ইন্ডিয়া’

পুনে, ২৫ ফেব্রুয়ারি: সাফল্যের শিখর থেকে এক ধাক্কায় অতল খাদে নিমজ্জিত হল ‘টিম ইন্ডিয়া’। টানা ১৯টি টেস্টে অপরাজিত থাকার তকমা। পর পর চারটি টেস্ট সিরিজে বিরাট কোহলির ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ড। অফ স্পিনার রবিটন্দ্রন অশ্বিনের দুরন্ত ফর্ম। সর্বোপতি ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের পর একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে বিরাট কোহলিদের মনোবল প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছিল। ভাবখানা ছিল এমন, এই অস্ট্রেলিয়া দলকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেবেন তাঁরা। সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, সিনিয়র স্পিনার হরভজন সিং তো বলেই দিয়েছিলেন, ভারত ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবে। কিন্তু সব হিসাব উলটে দিয়ে পুনেতে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ৩৩৩ রানে ভারতকে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ভারত দুই ইনিংস মিলিয়ে তোলা ২১২ রান ঘরের মাঠে কোনও টেস্ট ম্যাচে সর্বনিম্ন স্কোর। দুই ইনিংসে মাত্র ৪৪৪টি বল খেলে তাদের ২০টি উইকেটের পতন ঘটেছে।
কেউ কী ভেবেছিলেন স্টিভ ও’কিফে ১২টা উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হবেন। অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ৩২ বছর বয়সী অফ স্পিনারটিকে ক’জনই বা চিনতেন? কিন্তু অচেনা অতিথি ও’কিফের স্পিনের ছোবলে দুই ইনিংসেই ধরাশায়ী হল ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ। ৭০ রান দিয়ে তিনি ১২টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে এটাই সেরা পারফরম্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছে অজি ক্যাপ্টেন স্টিভ স্মিথের দ্বিতীয় লড়াকু সেঞ্চুরি। যার জেরে ভারতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া ৪৫০২দিন পর টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল অনায়াসে। স্টিভ স্মিথ এই ইনিংসে পাঁচবার জীবন ফিরে পেয়ে টানা পাঁচটি টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। তিনি এখন কোহলি ব্রিগেডের কাছে সাক্ষাৎ নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া ৪৪১ রানের টার্গেট খাড়া করেছিল ভারতের সামনে। চতুর্থ ইনিংসে এই রান তাড়া করে ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব ছিল বিরাট কোহলিদের পক্ষে। কিন্তু এটাও কেউ প্রত্যাশা করেনি ভারত দ্বিতীয় ইনিংসেও মাত্র ১০৭ রানেই আত্মসমর্পণ করবে। প্রথম ইনিংসে ‘টিম ইন্ডিয়া’ করেছিল ১০৫ রান। আরও লজ্জার তথ্য হল, স্টিভ স্মিথের ব্যক্তিগত ১০৯ রানের ইনিংসটাও ১১ জন ভারতীয় ব্যাটসম্যান টপকাতে পারেনি! আসলে প্রথম ইনিংসে ১৫৫ রানে পিছিয়ে পড়াটা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ফোকাস নড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ তো দুই ইনিংসের খেলা! অতীতে ভারত বহু টেস্টে নাটকীয়ভাবে জিতেছে। সেটা ২০০১ সালে ইডেনে ভি ভি এস লক্ষ্মণ-রাহুল দ্রাবিড়ের ৩৭৬ রানের পার্টনারশিপ হোক কিংবা ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ে শচীন, সেওয়াগ, গম্ভীর ও যুবরাজের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের উপর ভর করে ভারতের ৩৮৭ রান তুলে তুলে ম্যাচ জেতা। সেটাই ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের সর্বাধিক রান তাড়া করে ম্যা জেতার রেকর্ড। সেই লড়াই আজ দেখা যায়নি ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। মিচেল স্টার্ক যে পিচে প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করতে পারেন, সেখানে লোকেশ রাহুলের প্রথম ইনিংসে ৬৪ বাদ দিলে টপ অর্ডারে ভারতের আর কোনও ব্যাটসম্যানই দাগ কাটতে পারেননি।
১৯টি টেস্টে অপরাজিত থেকে এই ম্যাচটা খেলতে নেমেছিল ভারত। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিরাট কোহলিরা রেকর্ড বুক আরও উজ্জ্বল করতে পারতেন। সেটা হয়নি। তাতে আকাশ ভেঙে পড়বে না। কোনও একটা দল তো হারবেই। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে ভারত টেস্ট ক্রিকেটে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে তার সঙ্গে এই পরাজয় বড়ই বেমানান। ঘরের মাঠে পছন্দের উইকেটে ‘টিম ইন্ডিয়া’র এমন নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ কোহলিদের বেশ চাপে ফেলে দিল। ঝড় সামলে পরের টেস্টে বেঙ্গালুরুতে কোহলিরা ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে বের করতে পারেন কিনা, সেটা সময় বলবে!
অস্ট্রেলিয়া এদিন ৪ উইকেটে ১৪৩ নিয়ে শুরু করে। স্মিথ ৫৯ ও মিচেল মার্শ ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া এদিন ২৯৮ রানের লিড নিয়ে খেলতে নেমেছিল। ম্যাচটা প্রায় হাত থেকে বেরিয়ে গেলেও ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সেই আগ্রাসন এদিন দেখা যায়নি। মিচেল মার্শকে ৩১ রানে জাদেজার ফেরাতে অনেকটা সময় চলে যায়। স্মিথকে আউট করতে কালঘাম ছুটে যায় ভারতীয় বোলারদের। স্মিথ ২০২ বল খেলে ১০৯ রান করে আউট হন। টেস্টে এটি তাঁর অষ্টাদশ সেঞ্চুরি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১১টি চার। এদিনও তাঁর ক্যাচ ফেলেছেন রাহানে। মিচেল স্টার্ক দ্রুত তিনটি ছক্কা ও দু’টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩১ বলে ৩০ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৫ রানে অলআউট হয়। অশ্বিন চারটি ও জাদেজা ৩টি উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুই ভারতীয় ওপেনার মুরলী বিজয় ও লোকেশ রাহুল নড়বড় করছিলেন। বিজয় ২ রানে ও’কিফের বলে এলবিডব্লু হয়ে সাজঘরে ফেরেন। লোকেশকে ১০ রানে তুলে নেন লিয়ঁ। জোড়া ধাক্কায় ভারতীয় ব্যাটিং কেপে গিয়েছিল। চেতেশ্বর পূজারা ও বিরাট কোহলির সামনে প্রত্যাঘাতের সুযোগ ছিল। পূজারা নিখুঁত টেকনিককে অস্ত্র করে অজি স্পিন ও পেসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও বিরাট কোহলি প্রথম ইনিংসের মতোই হতাশ করেন। প্রথম ইনিংসে তিনি স্টার্কের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পিছনে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ও’কিফের ডেলিভারিতে জাজমেন্ট দিতে গিয়ে বোল্ড হন বিরাট। বলটা ছিল স্ট্রেটার। স্পিন করেনি। তাতেই ঠকে যান কোহলি। এই ম্যাচের ব্যর্থতা তাঁকে কুরে কুরে খাবে। অধিনায়ক হিসাবে কোহলির থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে পারতেন ভারত অধিনায়ক। সব ম্যাচেই তিনি রান পাবেন তেমন কোনও দিব্যি নেই। তবে বড় ব্যাটসম্যানদের থেকে প্রত্যাশা তো থাকবেই!
কোহলি-পূজারা জুটি দাঁড়িয়ে গেলে ম্যাচটা তিন দিনে শেষ নাও হতে পারত। রবিবার খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হলেন পুনের দর্শকরা। আসলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আতঙ্কিত করে তুলেছিলেন ও’কিফে। কোহলি যে বলে বোল্ড হয়েছেন সেটা মোটেই বিপজ্জনক ডেলিভারি ছিল না। জাজমেন্ট দিতে গিয়ে তাঁর অফস্টাম্প উড়ে যায়! ক্রিকেট এক বলের খেলা। একবার ঢিলটা ছুঁড়ে দিলে আর ফেরত আসে না। আউট হওয়ার পর ক্রিজে দাঁড়িয়েই হতাশা উগরে দিচ্ছিলেন ভারত অধিনায়ক। আর কোহলি আউট হতেই অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা জয়ের আগাম আনন্দে মেতে উঠেছিলেন মাঠেই।
কোহলি যখন আউট হন তখন ভারতের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৪৭। অজিঙ্কা রাহানে ও চেতেশ্বর পূজারা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রাহানে ১৮ রানে আউট হওয়ার পর মড়ক লাগে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ‘টিম ইন্ডিয়া’র গর্বের ব্যাটিং লাইন-আপ। অশ্বিন (৮), ঋদ্ধিমান (৫) দাঁড়াতেই পারেননি। তার মধ্যে পূজারা ৩১ রানে ও’কিফের বলে এলবিডব্লু হতেই ভারতের সব প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। জাদেজা ৩ ও ইশান্ত করেন ৫ রান। নাথান লিয়ঁর বলে জয়ন্ত যাদবের ক্যাচ ম্যাথু ওয়েডের হাতে ধরা পড়তেই স্টাম্প নেওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে যায় অজিদের মধ্যে। যদিও টি ভি রিপ্লেতে দেখা গিয়েছে বলটি জয়ন্তর প্যাডে লেগেছিল। কিন্তু ভারতের কাছে কিছু করার ছিল না। অধিনায়ক কোহলি তাড়াহুড়ো করে আগেই যে দু’টো রিভিউ নষ্ট করে ফেলেছিলেন!

বেঙ্গালুরুকে চূর্ণ করে জয়ের পথে ফিরল ইস্ট বেঙ্গল

ইস্ট বেঙ্গল- ৩                          বেঙ্গালুরু এফসি- ১
(ওয়েডসন, রবিন ২)                              (বিনীথ)

নিজস্ব প্রতিবেদন: অনবদ্য ফুটবল খেলে আবার আই লিগে জয়ের পথে ফিরল ইস্ট বেঙ্গল। হোমের পর অ্যাওয়ে ম্যাচেও দু’বারের আই লিগ জয়ী বেঙ্গালুরু এফ সি’কে হেলায় হারাল মরগ্যানের দল। ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষেই উজ্জ্বল লাল-হলুদ। সেখানে আইজল এফ সি ১১ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দু’নম্বরে। দুটি কম খেলে মোহন বাগান ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পেয়েছে।
টানা তিন ম্যাচে জয় না পেয়ে নিজের দলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য কোচসহ ফুটবলারদের উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কটাক্ষ করেছিলেন সচিবের নেতৃত্বে ইস্ট বেঙ্গলের একশ্রেণীর কর্তারা। এদিন জিতে তার মধুর জবাব দিলেন রবিন সিংরা। লাল-হলুদ ব্রিগেড প্রবলভাবেই আই লিগ জয়ের দৌড়ে থাকল। এদিন কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৩ মিনিটে ওয়েডসনের গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের ধানমন্ডির হয়ে আইএফএ শিল্ডে খেলতে এসে এমন ট্রেডমার্ক গোলেই ফুটবলপ্রেমীদের মন জিতে নিয়েছিলেন ওয়েডসন। যে ধরনের গোলটি করে শনিবার কান্তিরাভায় বেঙ্গালুরু এফ সি’র বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলকে এগিয়ে দেন হাইতিয়ান স্ট্রাইকার। ম্যাচের ২৩ মিনিটে নিজেদের বক্সের প্রায় সামনে থেকে স্টপার বুকেনিয়ার লম্বা নিখুঁত থ্রু বেঙ্গালুরুর বক্সের কাছাকাছি ধরেন ওয়েডসন। ডানপ্রান্ত থেকে চকিতে প্রতিপক্ষ লেফট ব্যাক সেনা রালতেকে ডানদিক দেখিয়ে ইনসাইড ডজ করে টলিয়ে দিলে কিছুটা কাট করে ভেতরে ঢুকে বাঁ-পায়ের কার্লিং শটে ওয়েডসন দুরন্ত প্লেসিং করেন দ্বিতীয় পোস্টে। দুরূহ কোণ দিয়ে বল তখন জালে (১-০)। গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্য ছ’গজের বক্সে দাঁড়িয়ে কোনও মুভই করলেন না! টেলিভিশনে ধারাভাষ্যকাররা অরিন্দমকে বারবার অমরিন্দর সিং বলে গেলেন। এরা কারা, কে জানে! ছ’গোল করে সতীর্থ উইলিস প্লাজা, মোহন বাগানের ড্যারেল ডাফির পাশে দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা একসারিতে চলে এলেন ওয়েডসন। আই লিগের অন্যতম সেরা গোল।
এদিন জয়ে ফেরার লক্ষ্যে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেছিলেন লাল-হলুদ কোচ মরগ্যান। সামনে রবিন সিং, পেইনের নিচ থেকে পেন্ডুলামের মতো দুলে দুলে খেললেন ওয়েডসন। দু’প্রান্তেই চকিতে সুইচ ওভার করলেন। এমন ফুটবলারকে মার্কিং করা বেশ কঠিন। ঘরের মাঠে বেঙ্গালুরু এফ সি’র বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গলের জয়ের নায়ক রবিন সিংকে এদিন আলাদা নজর দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর স্প্যানিশ কোচ রোকা। রবিন ভার্সেটাইল স্ট্রাইকার নয়। জোনাল মার্কিংয়ে থাকা বাঁ-দিক সর্বস্ব এই ফুটবলারকে বাঁ-দিকে বেশি টার্ন করতে দেননি তিন ডিফেন্ডারে খেলা বেঙ্গালুরু এফ সি। তাদের মিডল থার্ড থেকে ডিফেন্সিভ থার্ডের মধ্যে বিস্তর ফাঁক তৈরি হয়েছে। যে জায়গাটা কাজে লাগান ওয়েডসন। তিন ডিফেন্ডারে চেলসিকে খেলাতে পারেন আন্তনিও কন্তে। তবে ভারতীয় ফুটবলে তিন ব্যাকে খেলা রপ্ত করানো বেশ কঠিন।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিট গত টানা ছ’টি ম্যাচে জয় না পাওয়া দু’বারের আই লিগ জয়ীরা আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করেন। অ্যাটাকিং থার্ডে তিন ফরোয়ার্ড বিনীথ, সুনীল, উদান্তার পেছনে উঠে এলেন সেনা রালতে, ওয়াটসন, খাবরারা। ম্যাচের ৪ মিনিটে সুনীল ছেত্রীর একটি শট দারুণ ব্লক করেন বুকেনিয়া। ৯ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে উঠে আসা উদান্তাকে পেছন থেকে এসে মিট করে দুরন্ত স্লাইড বল নিজের দখলে নেন উগান্ডার স্টপার। ৩০ মিনিটে বিনীথের শট দ্বিতীয় পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ধীরে ধীরে বুকেনিয়ার লম্বা পাস-ক্লিয়ারেন্সে প্রতিআক্রমণে ওয়েডসনের নেতৃত্বে ম্যাচের দখল নেয় ইস্ট বেঙ্গল।
৩৮ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ইস্ট বেঙ্গলের স্ট্রাইকার ক্রিস পেইন। বাঁ-দিকে একটি বল ফাঁকায় পেয়েও ওয়ান-ইজ-টু-ওয়ানে গোলরক্ষকের গায়ে মারেন তিনি। ফিরতি বলে গোল করতে ব্যর্থ হন রবিন সিং। বিরতির বাঁশি বাজার পরেই দেখা গেল ওয়েডসন প্লেয়ারদের পিঠ চাপড়ে উজ্জীবিত করছেন। বিরতির পরও নীচে নেমে প্রতিটি বল তাড়া করে খেললেন ওয়েডসন। কিন্তু ৫৬ মিনিটে কুঁচকিতে চোট পেয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান ওয়েডসন। ৫৪ মিনিটে অধিনায়ক রবার্টের বাঁ-পায়ের ইনস্টেপে নেওয়া ইনসুইংয়ে নিখুঁত সেন্টার সেনা রালতের মাথার উপর দিয়ে অনেকটা লাফিয়ে হেডে ২-০ করেন অরক্ষিত রবিন সিং। ৫৯ মিনিটে ডানদিক থেকে রোলিন বর্জেসের সেন্টার চেস্টট্র্যাপ করে পেইন বল নামিয়ে দিলে চকিতে বাঁ-পায়ের শটে ফিনিশ করেন রবিন সিং (৩-০)।
বেঙ্গালুরু এফ সি কোচ অ্যালবার্ট রোকা গতবার বেঙ্গালুরুতে রাখেননি রবিন সিংকে। রবিন তাঁর যোগ্য জবাব দিলেন। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দু’দফার ম্যাচেই রবিনের নামের পাশে চার গোল। ৫৩ মিনিটে বেঙ্গালুরুর উদান্তা সিং ডানদিক সেন্টার সুনীল ছেত্রী হেড করে বক্সে নামিয়ে দিলে পরিবর্ত ড্যানিয়েল হেলায় শট করে বল বক্সের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। গোল না পেয়ে মাথা গরম করে দৃষ্টিকটুভাবে অফ দ্য বল রফিককে পেছন থেকে লাথি মেরে কার্ড দেখলেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক। ৮৫ মিনিটে উদান্তার মাইনাস থেকে অরক্ষিত বিনীথ বল গোলে ঠেলেন (৩-১)। ম্যাচের শেষলগ্নে ইস্ট বেঙ্গল রক্ষণে গেল গেল রব উঠেছিল। ছ’গজের মধ্যে দু’বার বল পেয়ে গিয়েছিল বেঙ্গালুরু। কিন্তু তারা কাজে লাগাতে পারেনি। শেষদিকে প্রায় বেদম হয়ে পড়েন লাল-হলুদের ডিফেন্ডাররা। যার ফলে বেঙ্গালুরু তুলে আনতে পেরেছে ঘন ঘন আক্রমণ। ম্যাচের শেষে মেহতাবের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বেঙ্গালুরুর কিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যের। এদিকে কুঁচকির চোটে পরের ম্যাচে অনিশ্চিত ওয়েডসন।
ইস্ট বেঙ্গল: রেহনেশ, রবিন গুরুং, গুরবিন্দর, বুকেনিয়া, রবার্ট, নিখিল, মেহতাব, রোলিন (ডেভিড), ওয়েডসন (রফিক), ক্রিস পেইন, রবিন সিং।

সনিকে সাবধানে ব্যবহার করতে চাইছেন সঞ্জয় সেন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় এক সপ্তাহ পর পুরো দল নিয়ে অনুশীলন করলেন মোহন বাগানের কোচ সঞ্জয় সেন। জাতীয় শিবির শুরু হওয়ার আগে আগামী ১৬ দিনে মোহন বাগানকে এএফসি কাপ এবং আই লিগের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে। ওই পর্বের চারটি ম্যাচের প্রথমটি রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার। দ্বিতীয়টি ৪ মার্চ, গোয়ায় ডেরেক পেরেরার প্রশিক্ষণাধীন চার্চিলের বিরুদ্ধে। এরপর ১১ মার্চ মোহন বাগানকে বেঙ্গালুরু এফ সি’র বিরুদ্ধে আই লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে হবে। মোহন বাগান মঙ্গলবার এএফসি মূল পর্বে গেলে ১৪ মার্চ বেঙ্গালুরুতে এএফসি কাপের গ্রুপ লিগে সুনীল ছেত্রীদের বিরুদ্ধে ফের খেলতে হবে। তাই গত কয়েকদিন বিশ্রাম দেওয়ার পর শনিবার রবীন্দ্র সরোবর মাঠে কোচ সঞ্জয় একটু চাপ দিলেন ফুটবলারদের। কিংশুক দেবনাথের কুঁচকির চোটের নিরাময়ের জন্য আরও কিছুদিন প্রয়োজন। রাজু গায়কোয়াড়ের চোটও এখনও সারেনি। তাই সঞ্জয় বালমুচুর দিকে শনিবার বাড়তি নজর ছিল সঞ্জয় সেনের। দলের আরেক তারকা সনি নর্ডি এদিন পুরোদমে অনুশীলন করেন। প্র্যাকটিসে তিনি পুরো ওয়ার্কলোডও নেন। সনিকে নিয়ে সঞ্জয় সেন বলেছেন, অনুশীলনে যথেষ্ট ওয়ার্কলোড নেওয়ার পর সনি নর্ডি সেই ভাবে ব্যাথা অনুভব করেনি। এটা নিশ্চয় উৎসাহব্যঞ্জক ব্যাপার। তবে আমি ওকে সব ম্যাচে খেলাব না। অতি সাবধানে ব্যবহার করব। সঞ্জয় সেনের অঙ্ক হল ১৪ মার্চের পর প্রায় দুই সপ্তাহ মোহন বাগানের কোনও ম্যাচ নেই। তাই ওই সময়ে পূর্ণ রি- হ্যাব করে এপ্রিলে আই লিগের ‘আসল লড়াইয়ের’ সময়ে সনিকে পুরোপুরো ফিট রাখা। আগামী দিনের কথা ভেবে সঞ্জয় সেনের এই গেম প্ল্যান সত্যিই সমর্থনযোগ্য। শনিবার ছিল প্রণয় হালদারের জন্মদিন। অনুশীলনের পর ড্রেসিংরুমে কেক কাটা হয়। শনিবার ভ্যালেন্সিয়া শহরে এসে হালকা অনুশীলন করে। পূর্ব নির্ধারিত কাউন্টারগুলি থেকে মঙ্গলবারের ম্যাচের টিকিট বিক্রিও শুরু হচ্ছে আজ। সন্ধ্যায় পেমেন্ট ঢুকেছে প্লেয়ার্স অ্যাকাউন্টে।
শনিবার ক্লাব সভাপতি প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যাক্তিগতভাবে কথা বলেন। সঞ্জয় সেনকে পাশে নিয়ে গোটা দলকে উজ্জীবিত করেন সভাপতি। মোহন বাগানে ভারতীয় ফুটবলারদের কম বেশি পেমেন্ট বাকি। বিদেশিদের বকেয়া কিছুটা কম। সভাপতি এদিন আশ্বাস দিয়ে গেলেন ‘আমি তোমাদের পাশে আছি।’ তিনি আলাদাভাবে প্রশংসা করেন ডাফি- দেবজিৎ আর বলবন্তের। উল্লেখ্য, লাল হলুদ এই মুহূর্তে ‘কল্যাণের বেঙ্গল’ আর ‘সন্তোষের বেঙ্গলে’ আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেলেও তাদের সাড়ে আট কোটির স্পনসর আছে। এমনকী ডার্বির আগে ইস্ট বেঙ্গল কো-স্পনসরও পেয়েছে। সবুজ মেরুন শীর্ষ কর্তারা কো-স্পনসরও আনতে পারেননি। মোহন বাগানে আর্থিক সঙ্কট অনেক বেশি। এটিকে’কে মোটা অর্থ দিয়ে রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে খেলছে মোহন বাগান। কর্তাদের অঙ্ক ছিল তারকা সমৃদ্ধ দলের খেলা দেখতে রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম ভরে যাবে। কিন্তু প্রথমে সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিটের দাম ছিল ২০০ টাকা। পরে কমিয়ে ১০০ টাকা করা হলেও মোহন বাগান সমর্থকরা আসছেন না। সমর্থকরা খেলা দেখতে আসছেন না বলে এদিন হতাশা প্রকাশ করেন ক্লাব সভাপতি। নতুন প্রজন্মের সমর্থকরা লিগের লড়াইয়ে থাকা দলের খেলা দেখতে আসছেন না দেখে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মুখে ছিল বারাসতে ইস্ট বেঙ্গল ম্যাচে ভিড়ের কথা। আসলে এখন মোহন বাগান, ইস্ট বেঙ্গলের খেলা দেখতে আসেন একেবারে প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের কাছে ১০০ টাকার টিকিটও বেশ দামী। গত তিন চার বছর আগে মাঠ ভরাতেন আশির দশক, বিশেষত সত্তর দশকে নিয়মিত আসা সমর্থকরা। এই এজগ্রুপের অধিকাংশ অবসর নিয়েছেন,অশক্ত হয়ে পড়েছেন। ইচ্ছা থাকলেও তাঁরা মাঠে আসতে পারছেন না শারিরীক কারণে। দুই প্রধানের কর্তারা সচ্ছল পরিবারের নতুন প্রজন্মকে মাঠে আনতে ব্যর্থ। এরপর ইস্ট বেঙ্গল সদস্যরা বিনা পয়সায় খেলা দেখার সুযোগ পেলেও মোহন বাগান সদস্যদের ৫০ টাকা দিচ্ছে হচ্ছে। এটা মেনে নিতে পারছেন না সদস্যরা। এটাকে অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসাবেই ধরছেন। বেশ কিছু সদস্য এর প্রতিবাদ করে ক্লাব অফিসে চিঠিও দিয়েছেন। অধিকারে হস্তক্ষেপের জন্য অনেক মোহন বাগান সদস্য প্রিয় দলের খেলা বয়কটই করেছেন।
আইজল দুই নম্বরে: ব্রেন্ডন ভ্যালরানডিকার গোলে চেন্নাই সিটি এফ সি’কে হারিয়ে আইজল এফ সি আই লিগের দুই নম্বরে উঠে এল। ১১ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট হল খালিদ জামিলের দলের। হোম ম্যাচে আইজল এফ সি অপ্রতিরোধ্য। ২৩ পয়েন্টের মধ্যে ১৮ পয়েন্ট এসেছে ঘরের মাঠে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে মোহন বাগানকে অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলতে হবে আইজলের বিরুদ্ধে। ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট পাওয়া মোহন বাগান শনিবার তিন নম্বরে নেমে গেলেও দুটি ম্যাচ কম খেলেছে।

গত দু’বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ব্যাটিং, মানছেন কোহলি

পুনে, ২৫ ফেব্রুয়ারি: ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ব্যাটিংয়ের তীব্র সমালোচনা করলেন কোহলি। তাঁর মতে, গত দু’বছরে এটাই ভারতের সবচেয়ে খারাপ ব্যাটিং পারফরম্যান্স। তবে এই সিরিজে ভারতীয় দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী বিরাট কোহলি। টানা ১৯ টেস্টে অপরাজিত থাকার তকমা গায়ে সেঁটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে খেলতে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু পুনেতে চরমতম ব্যাটিং বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে ভারতীয় দল। ৩৩৩ রানে হেরে সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়েছেন কোহলিরা। প্রথম ইনিংসে ১০৫ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৭ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছে দল। তবু কোনওরকম বাহানা না দেখিয়ে অধিনায়ক কোহলি স্বীকার করে নিয়েছেন, ব্যাটিং ব্যর্থতার জন্যই তাঁদের হারতে হয়েছে। ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘এই ম্যাচে ওদের কাছে আমরা সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত হয়েছি। মেনে নিতে হবে যে ওরা আমাদের দাঁড়াতেই দেয়নি। গত দু’বছরের মধ্যে এটাই আমাদের সবচেয়ে খারাপ ব্যাটিং পারফরম্যান্স। তিন দিনের একটা দিনও আমরা ভালো খেলতে পারিনি। নিজেদের যথাযথ প্রয়োগ করতে পারিনি। এখন খুঁজে দেখতে হবে, ঠিক কোথায় কী ভুল হয়েছে, যার জন্য এমন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হল।’ বিধ্বস্ত বিরাট সেই সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘এই হারের জন্য আমরা কোনও অজুহাত দিতে চাই না। সত্যি বলতে কী, অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচের পরিবেশ-পরিস্থিতিকে আমাদের থেকে ঢের ভালো কাজে লাগিয়েছে। আদ্যোপান্ত আমাদের চাপে রেখেছে। তাই যোগ্য দল হিসাবেই জিতেছে ওরা।’ টানা ১৯ টেস্টে অপরাজিত থাকার পর হারল ভারত। তবে এই ধাক্কা সামলে চলতি সিরিজে তাঁর দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কোহলি। তাঁর কথায়, ‘বিগত সিরিজগুলিতে বেশ ভালো খেলেছি আমরা। পুনেতেও দর্শকদের সমর্থন ছিল আমাদের সঙ্গে। তবুও ম্যাচটা হারতে হল। এটাই কঠিন বাস্তব। সব বিভাগেই আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বিশেষ করে দুটি সেশন অত্যন্ত বাজে খেলেছি আমরা। সেটাই বিপক্ষের হাতে ম্যাচ তুলে দেয়। তবে আমার বিশ্বাস, এই ম্যাচের ভুলত্রুটি শুধরে দ্রুত আমরা সেরা ছন্দে ফিরে আসব।’‌

ওদের পছন্দের পিচে
ছড়ি ঘুরিয়েছি: স্মিথ

পুনে, ২৫ ফেব্রুয়ারি: ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২টি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে স্মরণীয় জয় এনে দেওয়া বাঁহাতি স্পিনার স্টিভ ও’কিফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্টিভ স্মিথ। অজি অধিনায়ক বলেছেন, তাঁদের দলে যেমন ভালো মানের স্পিনার আছেন, তেমনই স্পিন বল ভাল খেলার মতো ব্যাটসম্যানও আছেন। সিরিজের বাকি তিনটি টেস্টেও ও’কিফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছেন স্মিথ। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট জিতল অস্ট্রেলিয়া। স্বাভাবিকভাবে আনন্দে আত্মহারা অজি শিবির। দুরন্ত একটা জয়ের জন্য গোটা দলকে কৃতিত্ব দিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়ে গেলেন, ‘৪৫০২ দিন পর ভারতে টেস্ট ম্যাচ জিতলাম আমরা। দারুণ ব্যাপার। ‌কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে হাতেনাতে। সতীর্থদের পারফরম্যান্সে আমি দারুণ খুশি। বিশেষ করে, স্টিভ ও’‌কিফে দুরন্ত বোলিং করে গেল গোটা ম্যাচে। ওর জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। আশা করব, সিরিজের বাকি তিনটি টেস্টেও ও’কিফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’ পুণের ঘূর্ণি পিচে টসে জেতার ফলে তাঁদের সুবিধা হয়েছে বলে মনে করেন অজি অধিনায়ক। স্মিথ বলেন, ‘টসে জেতাটা আমাদের কাছে বোনাস। সত্যি বলতে কী, নিজেদের মতো করে যে পিচ ওরা পুনেতে বানিয়েছিল, তার সুফল ভোগ করলাম আমরাই। পুরো ম্যাচে আমরা ওদের নাচিয়ে ছেড়েছি। অথচ আমার ধারণা ছিল এই পিচের পূর্ণ সদ্ব্যাবহার করে ওরা যথেষ্ট ভালো একটা লড়াই মেলে ধরবে। কিন্তু সব বিভাগেই দারুণ টেক্কা দিয়ে প্রতিপক্ষের গেমপ্ল্যান ভেস্তে দিয়েছি আমরা। মাত্র আড়াই দিনেই তুলে নিয়েছি জয়। আমাদের দলে বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান রয়েছে, যারা স্পিনটা ভালো খেলে। রয়েছে ভালো স্পিনারও, যারা ঠিক জায়গায় বলটা ফেলতে জানে। এখন দেখার, বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য কী ধরণের পিচ ওরা উইকেট ওরা প্রস্তুত করে।’ ম্যাচের সেরা স্টিভ ও’‌কিফেও আবেগে আত্মহারা। ম্যাচের শেষে বললেন, ‘‌পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে গিয়েছি আমি। লক্ষ্য ছিল সঠিক জায়গায় বলটা রাখা। আর তাতেই সাফল্য পেলাম। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও ভালো ব্যাট করেছে।’‌ অজি বাহিনীর আর এক স্পিনার নাথন লিয়ঁ জানালেন, ‘‌আমাদের পরিকল্পনাগুলো দারুণ কাজে লেগেছে। অশ্বিনের বোলিং আমরা লক্ষ্য করেছিলাম। এই পরিবেশে ও কীভাবে বল করে তা বোঝার চেষ্টা করেছি।’‌

ধোনিরা হারলেন ইডেনে, চেন্নাইয়ে জিতলেন মনোজরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুপুরের পর থেকে ক্রমশ ভিড় বাড়ছিল ইডেনে। অনেকে ছুটতে ছুটতে গ্যালারিতে ঢুকছিলেন। মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিং দেখার জন্য। শনিবার বিজয় হাজারে ট্রফির ম্যাচে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের মধ্যে ধোনি ৫০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৩ রানে আউট হতেই মাঠ ফাঁকা হতে শুরু করে। প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক ছিল ইডেনের গ্যালারিতে। ধোনি যখড়ই বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন তখনই প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে ঘিরে উন্মাদনার ঢেউ দেখা গিয়েছে। তবে চেনা ধোনি পাওয়া যায়নি। ব্যাটে-বলে ঠিকভাবে শুরুতে কানেক্ট হচ্ছিল না। ৮ রান করতেই তিনি ২২টা বল খেলে ফেলেছিলেন। পুল করতে গিয়ে যেভাবে বোল্ড হলেন তা মাহির নামের সঙ্গে বেমানান।
প্রথমে ব্যাট করে মণীশ পাণ্ডের ৭৭ ও রবিকুমার সামরাথের ৭১ রানের উপর ভর করে কর্ণাটক ৪৯.৪ ওভারে তোলে ২৬৬ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সৌরভ তিওয়ারির লড়াকু ৬৮ রানের উপর ভর করে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গেলেও শেষরক্ষা করতে পারেনি ঝাড়খণ্ড। তারা ৫ রানে হেরে যায়। ৪৯.৫ ওভারে ২৬১ রানেই শেষ হয়ে যায় ধোনি বাহিনী। আজ ঝাড়খণ্ড খেলবে ছত্তিশগড়ের বিরুদ্ধে।
এদিকে, চেন্নাইয়ে অন্ধ্রপ্রদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বিজয় হাজারেতে শুরুটা ভালোই করল বাংলা। অনুষ্টুপ মজুমদারের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বাংলাকে ম্যাচ জেতায়। বল হাতে তিনি ২টি উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের কড়ি জোগাড় করে দেন। প্রথমে ব্যাট করে অন্ধ্রপ্রদেশ তোলে ৮ উইকেটে ২২৫ রান। জবাবে ৪৮.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলা। মনোজদের পরের ম্যাচ গোয়ার বিরুদ্ধে।
ব্যাটসম্যানদের সমালোচনায় ইঞ্জিনিয়ার: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে ভারতের হারের জন্য ব্যাটসম্যানদের দায়ী করলেন প্রাক্তন উইকেটরক্ষক ফারুক ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বলেছেন, ‘আমি হতবাক। আমি প্রত্যেকটা বল খেলা দেখেছি। এরকম পিচ তৈরি করা ঠিক হয়নি। পাঁচদিনের খেলার মতো উইকেট দরকার ছিল। আমরা অনেকগুলি সহজ ক্যাচ ফেলেছি।’

সুপার সিক্সে সাদার্ন সমিতি

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগে ইম্ফলে নেরোকা এফ সি’র বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে ১-১ গোলে ড্র করেও শেষ রক্ষা হল না মহমেডান স্পোর্টিংয়ের। দিল্লিতে হিন্দুস্তান ক্লাবকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগের সুপার সিক্সে চলে গেল সাদার্ন সমিতি। দ্বিতীয় ডিভিশনের সূচিতে এটি ছিল ‘গ্রুপ অফ ডেথ।’ ছ’টি ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে গেল নেরোকা এফ সি। সমসংখ্যক ম্যাচে হেমন্ত ডোরার সাদার্ন পেল ১২ পয়েন্ট। মহমেডান ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় হয়ে বিদায় নিল। রঞ্জন চৌধুরির প্রশিক্ষণাধীন মহমেডান দু‌ই পর্বেই হেরে যায় সাদার্নের কাছে। সেটাই কাল হল কালো-সাদা শিবিরের কাছে। সন্দীপ নন্দী, দীপক মন্ডল, অসীম বিশ্বাস, কালু ওগবা, ড্যানিয়েল বিদেমির মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি জনি রাউথ, সুমন হাজরা, সায়ন দত্ত, তন্ময় ঘোষদের মতো উঠতিদের নিয়ে চমৎকার দল গড়ে সাদার্ন। দলে ভারসাম্য থাকার সুফল পেল সাদার্ন। দিল্লিতে নাটকীয় ভাবে ৩-২ গোলে জেতার পর রবীন্দ্র সরোবরের ক্লাবে ছিল উৎসবের আমেজ। বাংলার গোলরক্ষক কোচের দায়িত্ব ছেড়ে এককভাবে সাদার্নের দায়িত্ব নেন হেমন্ত ডোরা।

আজ লিগ কাপ চান মরিনহো

লন্ডন, ২৫ ফেব্রুয়ারি: রবিবার ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে লিগ কাপ ফাইনালে সাদাম্পটনের মুখোমুখি হচ্ছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। মরশুমের শুরুতে প্রথম ট্রফি কমিউনিটি শিল্ড ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড জিতেছিল লেস্টার সিটিকে হারিয়ে। রবিবার হোসে মরিনহোর দলের সামনে দ্বিতীয় ট্রফি জয়ের হাতছানি।
এরপর এফ এ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যান ইউ মুখোমুখি হবে চেলসির। এছাড়া রয়েছে তাদের সামনে ইউরোপা লিগ জয়ের হাতছানি।

 




 

?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta