কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

বোলারদের দাপটে সিরিজ জয়ের দোরগোড়ায় ভারত

ধরমশালা, ২৭ মার্চ: মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠলেন ভারতীয় বোলাররা। অস্ট্রেলিয়ানদের যাবতীয় হম্বিতম্বি ঠাণ্ডা করে দিয়ে টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচ এবং সিরিজ জয় কার্যত নিশ্চিত করে ফেললেন জাদেজা, অশ্বিন, উমেশ ত্রয়ী। ধরমশালা টেস্টে তাঁদের পেস ও স্পিনের জাঁতাকলে পড়ে ১৩৭ রানেই গুঁড়িয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। মাত্র ১০৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষবেলায় বিনা উইকেটে ১৯ রান তুলে ফেলেছে ভারত। প্যাট কামিন্সের এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মেরে লোকেশ রাহুল ব্যাট হাতে তাঁর দাপট দেখান। জয়ের জন্য দরকার আর ৮৭ রান। হাতে রয়েছে ১০ উইকেট ও পুরো দুটো দিন।
সকাল থেকেই দিনটা ছিল ভারতের। ৬ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে রবীন্দ্র জাদেজা ও ঋদ্ধিমান সাহা দলকে প্রথম ইনিংসে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রানের লিড। সপ্তম উইকেটে ৯৬ রান যোগ করেন তাঁরা। দায়িত্বশীল ইনিংস খেলার পথে জাদেজা সুযোগ পেলেই প্রহার করেছেন অজি বোলারদের। তাঁর ৯৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে রয়েছে ৪টি বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত বিগহিট নিতে গিয়ে কামিন্সের বলে জাদেজা বোল্ড হয়ে ফেরেন। দু’ওভারের মধ্যে কামিন্সের বলেই স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩১ রানে আউট হন ঋদ্ধিমান। তবে তার আগে ‘পাপালি’ পূর্ণ করে ফেলেন টেস্টে হাজার রান। ভারতের সপ্তম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। জাদেজা-ঋদ্ধির প্রস্থানের পর আর বেশি দূর এগোয়নি ভারতের ইনিংস। ৩৩২ রানেই শেষ হয়ে যায় দ্বিতীয় ইনিংস।
৩২ রানে পিছিয়ে থেকে লা়ঞ্চের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের দাপটে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে অজি বাহিনী। নতুন বলে উমেশ যাদব ও ভুবনেশ্বর কুমারের বিধ্বংসী পেসের সামনে ৩১ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বরের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ তুলেও করুণ নায়ারের বদান্যতায় জীবন পেয়ে যান ডেভিড ওয়ার্নার। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বাঁ-হাতি অভিজ্ঞ ওপেনারটি। পরের ওভারে উমেশ যাদবের বলে ঋদ্ধিমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ৬ রানে আউট হন ওয়ার্নার। এরপর দলের ৩১ রানের মাথায় ভূবনেশ্বর কুমারের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে বসেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ (১৭)। এর পরের ওভারেই ফের ধাক্কা। এবারও উমেশ যাদবের বলে ঋদ্ধিমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ম্যাট রেনশ (৮)। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের দ্রুত ফিরে যাওয়ার চাপ কাঁধে নিয়ে দলকে টেনে তোলার মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। চতুর্থ উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তাঁরা। কিন্তু রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ভারতের স্টপগ্যাপ অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে দলীয় ৮৭ রানের মাথায় হ্যান্ডসকম্ব (১৮) আউট হতেই ফের ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপে। পরের ৫০ রানের মধ্যে পড়ে যায় তাদের শেষ সাতটি উইকেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন ম্যাক্সওয়েল (৪৫)। শেষদিকে কিছুটা লড়াই চালান উইকেটরক্ষক ম্যাথ্যু ওয়েডও (২৫)। কিন্তু ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো পুঁজি সঞ্চয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। পেসাররা মাথা ছেঁটে দেওয়ার পর অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার জোড়া স্পিন-ফলার আঘাতে ১৩৭ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে তিনটি করে উইকেট দখল করেন উমেশ, অশ্বিন ও জাদেজা। এছাড়া একটি উইকেট নিয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার।
জয়ের জন্য ১০৬ রানের টার্গেট সামনে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৬ ওভারে কোনও উইকেট না খুইয়ে ১৯ রান তুলেছে ভারত। উইকেটে রয়েছেন দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল (১৩ ব্যাটিং) ও মুরলী বিজয় (৬ ব্যাটিং)। অর্থাৎ ম্যাচ জিততে ভারতের প্রয়োজন আর মাত্র ৮৭ রান। বিরাট কোহলি-হীন ধরমশালায় টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচ ও সিরিজ জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
স্কোরবোর্ড: অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস)- ৩০০। ভারত (প্রথম ইনিংস) আগের দিনের ৬ উইকেটে ২৪৮ রানের পর- ঋদ্ধিমান ক স্মিথ বো কামিন্স ৩১, জাদেজা বো কামিন্স ৬৩, ভুবনেশ্বর ক স্মিথ বো ও’কিফ ০, কুলদীপ ক হ্যাজেলউড বো লিয়ঁ ৭, উমেশ অপরাজিত ২, অতিরিক্ত ২০। মোট ১১৮.১ ওভারে ৩৩২। উইকেট পতন: ৭-৩১৭, ৮-৩১৮, ৯-৩১৮, ১০-৩৩২। বোলিং: হ্যাজেলউড ২৫-৮-৫১-১, কামিন্স ৩০-৮-৯৪-৩, লিয়ঁ ৩৪.১-৫-৯২-৫, ও’কিফ ২৭-৪-৭৫-১, ম্যাক্সওয়েল ২-০-৫-০।
অস্ট্রেলিয়া (দ্বিতীয় ইনিংস)- রেনশ ক ঋদ্ধিমান বো উমেশ ৮, ওয়ার্নার ক ঋদ্ধিমান বো উমেশ ৬, স্মিথ বো ভুবনেশ্বর ১৭, হ্যান্ডসকম্ব ক রাহানে বো অশ্বিন ১৮, ম্যাক্সওয়েল এলবিডব্লু বো অশ্বিন ৪৫, মার্শ ক পূজারা বো জাদেজা ১, ওয়াদে অপরাজিত ২৫, কামিন্স ক রাহানে বো জাদেজা ১২, ও’কিফ ক পূজারা বো জাদেজা ০, লিয়ঁ ক বিজয় বো উমেশ ০, হ্যাজেলউড এলবিডব্লু বো অশ্বিন ০, অতিরিক্ত ৫। মোট (৫৩.৫ ওভারে) ১৩৭। উইকেট পতন: ১-১০, ২-৩১, ৩-৩১, ৪-৮৭, ৫-৯২, ৬-১০৬, ৭-১২১, ৮-১২১, ৯-১২২, ১০-১৩৭। বোলিং: ভুবনেশ্বর ৭-১-২৭-১, উমেশ ১০-৩-২৯-৩, কুলদীপ ৫-০-২৩-০, জাদেজা ১৮-৭-২৪-৩, অশ্বিন ১৩.৫-৪-২৯-৩।
ভারত (দ্বিতীয় ইনিংস, টার্গেট ১০৬)- রাহুল ব্যাটিং ১৩, বিজয় ব্যাটিং ৬, অতিরিক্ত ০। মোট (বিনা উইকেটে ৬ ওভারে) ১৯। বোলিং: কামিন্স ৩-১-১৪-০, হ্যাজেলউড ২-০-৫-০, ও’কিফ ১-১-০-০।

দীর্ঘ মৌরসিপাট্টা অবসানের আশঙ্কায়
নতুন ড্রাফট নিয়ে দুই বড় ক্লাবের কর্তাদের তীব্র আপত্তি

রাতুল ঘোষ: কলকাতার দুই বড় ক্লাব মোহন বাগান ও ইস্ট বেঙ্গলে দীর্ঘদিন কায়েমি স্বার্থ বাসা বেঁধেছে। পরিবর্তনের হাওয়া উপেক্ষা করে দুই ক্লাবের কর্তারা এখনও মান্ধাতার বাবার আমলে পড়ে রয়েছেন। কিন্তু এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে মোহন বাগান ও ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে পাদটীকায় জায়গা যেতে পারে। আইএমজিআর দুই প্রধানকে নতুন আইএসএলে খেলার জন্য যে ড্রাফট পাঠিয়েছে তা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন দুই প্রধানের কর্মকর্তারা। কারণ, এই ড্রাফট মানলে তাঁদের দীর্ঘদিনের মৌরসিপাট্টার অবসান ঘটতে বাধ্য। তাই সভ্য-সমর্থকদের আবেগের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলে এঁরা এখন নতুন সংযুক্ত লিগে খেলার ব্যাপারে বেঁকে বসতে পারেন। অর্থাৎ মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গলে এই কর্তারা আগামী দিনে ক্ষমতাসীন থাকলে দুই প্রধানই হয়তো দ্বিতীয় ডিভিসনে খেলতে বাধ্য হবে। নতুন স্পনসর আগামী তিরিশ বছরের জন্য যাবতীয় আর্থিক দায়দায়িত্ব বহন করবে। কিন্তু তার বিনিময়ে তারা চায় দুই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সার্বিক মালিকানা ও গরিষ্ঠ অংশীদারিত্ব। যা দিতে রাজি নন মোহন-ইস্টের কর্তারা। এঁদের অনেকেই দুই ঐতিহ্যশালী ক্লাবকে পারিবারিক সম্পত্তি রূপে বিবেচনা করে থাকেন।
সংযুক্ত ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলার জন্য আবশ্যিক শর্তাবলী সহ আইএমজিআর-এর পাঠানো ড্রাফট নিয়ে মোহন বাগান সচিব অঞ্জন মিত্র আইনজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছেন। মঙ্গলবার আইএমজিআর-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোহন বাগানের শীর্ষকর্তাদের আলোচনায় বসার কথা। কোনও পূর্ব শর্তাবলী ছাড়াই এই আলোচনায় বসার আগে মোহন বাগান সচিব জানালেন, ‘নতুন স্পনসর মোহন বাগান ক্লাবের ৫০.৫ শতাংশ মালিকানা চাইছে। অর্থাৎ, তারাই হবে ক্লাবের গরিষ্ঠ শেয়ারের মালিক। আমি মোহন বাগানের সচিব হিসাবে আগে এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিং ডেকে এই ব্যাপারে আলোচনা করতে চাই। তারপর বার্ষিক সাধারণ সভা ডেকে মোহন বাগান ক্লাবের সদস্যদের মতামত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাই। আপনারা অর্থাৎ সদস্যরা ভালোমন্দ বিবেচনা করে ক্লাবের স্বার্থে খোলাখুলি মতামত জানান। আমরা কয়েকজন কর্মকর্তা এত বড় সিদ্ধান্ত মোহন বাগান ক্লাবের উপর চাপিয়ে দিতে পারি না। চাই না, চুপিসাড়ে কিছু হোক।’
মোহন বাগানের এক্সিকিউটিভ কমিটির অঞ্জন মিত্র অনুগামীরা এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ। যদিও ফুটবল বিভাগের চাবিকাঠি অনেকদিনই সচিবের হাতে নেই। অসুস্থতার দরুন ইদানীং তিনি কিঞ্চিৎ অশক্ত হয়ে পড়েছেন। তবে মোহন বাগানের পুরানো সদস্যদের মধ্যে এখনও অঞ্জন মিত্রের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর এটা জানেন বলেই তিনি সদস্যদের দরবারে যেতে চাইছেন।
মোহন বাগান সভাপতি অবশ্য সোমবার ক্লাবতাঁবুতে অনুশীলনের পর জানিয়ে দেন, ‘মোহন বাগান ক্লাবের গর্ব ও সম্মান নষ্ট করে আমরা সংযুক্ত আইএসএলে খেলার পক্ষপাতী নই।’ তবে ক্লাব সভাপতির পুত্র তথা সহ-সচিব এবং অর্থ-সচিব চান, তাঁদের পছন্দের স্পনসর এনে ক্লাবের আর্থিক দায় মুক্ত হতে। এই নিয়েই চলছে গত আট মাস ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। সচিবের জামাই ১৫ কোটি টাকার স্পনসর আনার প্রস্তাব দিলেও উক্ত দুই সবুজ-মেরুন কর্তাকে রাজি করাতে ব্যর্থ হন। কারণ, সহ-সচিব ও অর্থ-সচিব ভেবেছিলেন, এর ফলে মোহন বাগান ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাত থেকে চলে যাবে।
আসলে, সংযুক্ত লিগে খেলতে গেলে মোহন বাগান ও ইস্ট বেঙ্গল কর্তাদের যাবতীয় স্বত্বাধিকার নতুন প্রস্তাবিত স্পনসরের হাতে তুলে দিতে হবে। ক্লাবের নাম, লোগো, জার্সি, মার্চেন্ডাইস-- সবেতেই অগ্রাধিকার পাবে নতুন স্পনসর। আর এটি তিরিশ বছরের জন্য। প্রোমোটার বা নতুন স্পনসর যাবতীয় অর্থ লগ্নি করবে ফুটবল টিম গড়ার জন্য। যদি লাভ হয় তবে মোহন বাগান ক্লাব পাবে দশ শতাংশ লভ্যাংশ। অতীতে ইউ বি গ্রুপের সঙ্গে মোহন বাগান ও ইস্ট বেঙ্গলের যে চুক্তি হয়েছিল সেখানে উভয় পক্ষের ৫০ শতাংশ মালিকানা ছিল। কিন্তু আইএমজিআর-এর নতুন প্রস্তাবে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান ক্লাব কর্তাদের দল পরিচালনায় কোনও ভূমিকা থাকবে না।
এখন দুই বড় ক্লাবের কর্তারাই শুরু করেছেন পালটা চাপের রাজনীতি। ইস্ট বেঙ্গল কর্তারা সোমবার এই ইস্যুতে ক্লাবতাঁবুতে সন্ধ্যায় আলোচনায় বসেন। ক্লাবের মুখপাত্র দেবব্রত সরকার জানালেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর একটায় বেঙ্গল ক্লাবে আমরা আইএফএ প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত, সচিব উৎপল গাঙ্গুলির সঙ্গে আইএমজিআর-এর ড্রাফট নিয়ে আলোচনায় বসব। তারপর শুক্রবার আবার ইস্ট বেঙ্গলের এক্সিকিউটিভ কমিটির সভা হবে। তবে মোটামুটি বলতে পারি, সোমবারের মিটিংয়ে এই ড্রাফট দেখে অধিকাংশ কর্তারাই এই ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন।’

টেস্টেও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পেরে তৃপ্ত জাদেজা

ধরমশালা, ২৭ মার্চ: বল হাতে ভেলকি দেখাচ্ছেন। আবার ব্যাট হাতে লোয়ার অর্ডারে নেমে খেলছেন মূল্যবান ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজে ভারতের সবচেয়ে ইউটিলিটি ক্রিকেটারটির নাম রবীন্দ্র জাদেজা। এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাঁকে শুধু পরিতৃপ্ত করেনি, বাড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। ধরমশালা টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে নিজের মুখে সে কথাই জানিয়ে গেলেন ভারতের ‘জাড্ডু’। তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে দলকে প্রথম ইনিংসে মূল্যবান ৩২ রানের লিড এনে দিতে পেরে।
এই মুহূর্তে অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চার টেস্টের সিরিজে নিজের ঝুলিতে ভরেছেন ২৫টি উইকেট। এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে টপকে টেস্টে এক নম্বর বোলার হয়ে গিয়েছেন সৌরাষ্ট্রের এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডারটি। আবার ব্যাট হাতেও খেলেছেন দুটি অর্ধশতরানের ইনিংস। ধরমশালা টেস্টের তৃতীয় দিন জাদেজা করলেন ৬৩ রান, যা প্রথম ইনিংসে দলীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও বটে। ঋদ্ধিমান সাহার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৯৬ রান যোগ করে ভারতকে বসিয়ে দেন চালকের আসনে। নিজের পারফ্যান্সে দারুণ খুশি তিনি। বললেন, ‘এতদিন আমাকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটার হিসাবে চিহ্নিত করা হত। কিন্তু এখন টেস্ট ক্রিকেটেও নিজের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রমাণ রাখতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। সব ধরনের ক্রিকেটে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলতে পারাটা আমাকে শুধু পরিতৃপ্ত করেনি, সেই সঙ্গে বাড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। আর এটা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আমি পূর্ণ আশাবাদী।’ সেই সঙ্গে জাদেজা যোগ করেন, ‘এদিন সকালে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল আমাদের সামনে। সকালের তরতাজা উইকেটে অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা খুবই ভালো বোলিং করছিল। কিন্তু চাপের মুখেও ওদের ঘাড়ে চেপে বসতে দিইনি। ভালো বলে যেমন ডিফেন্স করেছি, তেমনি খারাপ বল পেলে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে পাঠিয়েছি নির্দ্বিধিায়। উলটোদিকে ঋদ্ধিমানও সংকল্পে অটল। চাপটা দু’জনে মিলে ভাগ করে নিতে পেরেছি বলেই সম্ভব হয়েছে প্রথম ইনিংসে দলকে মূল্যবান ৩২ রানের লিড এনে দেওয়া। বড় ব্যবধান হয়তো নয়। কিন্তু ওই বাড়তি ৩২ রান ওদের মানসিক চাপ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আর আমাদের বোলাররা খোলা মনে বোলিং করতে পেরেছে।’
ভারতীয় বোলারদের দুরন্তু বোলিংয়ে ১৩৭ রানেই গুঁড়িয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। সকালে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানোর পর বিকেলে বল হাতে জাদেজা নিলেন ৩টি উইকেট। মাত্র ১০৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষবেলায় বিনা উইকেটে ১৯ রান তুলে ফেলেছে ভারত। জয়ের জন্য দরকার আর ৮৭ রান। জাদেজা বলছেন, ‘জয় নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবু কাজ হাসিল না হওয়া পর্যন্ত কোনওরকম আত্মতুষ্টিকে প্রশয় দিচ্ছি না আমরা। তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।’
উল্লেখ্য, চলতি টেস্টে অলরাউন্ডার হিসেবে একটি অসাধারণ নজির গড়েন জাদেজা। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে এক মরশুমে ৫০ উইকেট এবং ৫০০ রান করেন তিনি। এর আগে ১৯৭৯-৮০ মরশুমে কপিল দেব এবং ২০০৮-০৯ মরশুমে মিচেল জনসন এই নজির গড়েছিলেন।

নজর উচ্চবিত্ত পরিবারের দিকে,
২০২৩ পর্যন্ত ভারতের জন্য কল্পতরু ফিফা

জয় চৌধুরি: ইদানীংকালে শুধু বাংলায় নয়, গোয়া থেকেও ফুটবলার উঠছে নিম্নরিত্ত পরিবার থেকে। এমনকী মিজোরাম, মণিপুর, মেঘালয়ের ফুটবলাররা গড়পড়তা বাঙালি ফুটবলারদের থেকে ইংরাজিতে একটু বেশি সড়গড়। সব দেশেই প্রতিভাবান ফুটবলাররা হয়তো নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। কিন্তু ভারতের ফুটবল বলতে যে একেবারে নিম্নবিত্তদের সেটা জুনিয়র বিশ্বকাপের জন্য গত আড়াই বছর ধরে এদেশে এসে বুঝেছেন ফিফার প্রতিনিধিরা। তাই সোমবার যুবভারতী স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময়ে ফাঁকায় পেয়ে ফিফা প্রতিনিধি দলের প্রধান জেরাম ইয়ারাজাকে একান্তভাবে প্রশ্ন করেছিলাম, অক্টোবরের পর কি ভারতে ফিফার ফুটবল বিপ্লবের প্রয়াস শেষ হয়ে যাবে? প্রশ্ন শুনে চমকে দেওয়ার মতোই উত্তর দিলেন জেরাম ইয়ারজা। তিনি বলেন,‘ফিফা এখানে এসেছে শুধু জুনিয়র বিশ্বকাপ করতে নয়। শুধু ২০১৭ নয়, আমরা ২০২৩ পর্যন্ত ফুটবল উন্নয়নের জন্য ভারতের পাশে আছি। এটা স্রেফ মুখের কথা নয়। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। একটি ভালো ও শক্তপোক্ত বাড়ি তৈরি করতে গেলে ভিত ভালোভাবে গড়তে হয়। ২০১৭ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমরা তাই মিশন ১১ মিলিয়নের প্রজেক্ট নিয়েছি। আমরা গত আড়াই বছর এই দেশে জুনিয়র বিশ্বকাপ সংগঠন করতে এসে দেখেছি স্কুলে ফুটবল খেলার রেওয়াজ নেই। বাবা- মা’রা চান না ছেলে ফুটবল খেলুক। শিক্ষকরাও উৎসাহ দেন না। মিশন ১১ মিলিয়ন প্রজেক্টের মূল কথা হল, আমরা দেশের সব রাজ্যের ১১ মিলিয়ন ছাত্র- ছাত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছি। টার্গেট ইংরাজি মিডিয়াম স্কুল। শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের বোঝাব ফুটবল খেলাটাও কার্যকরী পেশা হতে পারে। মিশন ১১ মিলিয়ন প্রজেক্টে আমরা রাজস্থান আর বিহারে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। ভাববেন না জুনিয়র বিশ্বকাপ শেষ হলেই ফিফা চলে যাবে। নর্থ- ইস্ট আমাদের মুগ্ধ করেছে। বর্তমান অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপেও ৬০ শতাংশ ফুটবলার উত্তর- পূর্বাঞ্চলের। সিকিম- শিলংয়ে মিশন ১১ মিলিয়ন প্রজেক্টে বিপুল সাড়া পেয়েছে। ১৩০ কোটির দেশে ১১ জন ফুটবলার কি বের হবে না? এই কারণেই জুনিয়র বিশ্বকাপের স্লোগান‘ ফুটবল টেকস ওভার।’ জানা গেল, প্রতাশামতোই ফিফা হেডকোয়ার্টার হচ্ছে কলকাতায়। ফিফা যুবভারতীর দায়িত্ব নিতে চায় সেপ্টেম্বরে। তাই আইএফএ লিগের ডার্বি যুবভারতীতে হতেই পারে।
জুনিয়র বিশ্বকাপ ভালো ভাবে সংগঠন করতে পারলে ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব- ২০ বিশ্বকাপও ভারতে হতে পারে। জুনিয়র বিশ্বকাপে থিম সঙ তৈরি হচ্ছে। সুরকার প্রীতম। এক ঝাঁক বলিউডের গায়ক- গায়িকা গলা মেলাবেন। যাদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ৬ অক্টোবর দিল্লিতে প্রথম ম্যাচ। তাঁর আগের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন। ১৫ মে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যদিও ক্রীড়াসূচি লটারির মাধ্যমে তৈরি হবে ৭ জুলাই। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রাজ্য পর্যটন দপ্তর বিশেষ প্যাকেজের কথা চিন্তা করছে। যাতে কলকাতায় খেলা দেখার পাশাপাশি সুন্দরবন,দার্জিলিং আর বিশ্বভারতী দেখার ব্যবস্থা থাকছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্ণীরতন শুক্লা জানান,‘গ্রুপ লিগের ম্যাচে দর্শকরা যাতে উপস্থিত থাকেন তার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবার কালীপুজা ১৯ অক্টোবর। কালীপুজা- দেওয়ালির সময়ে ছ’টি ভেন্যুতেই ম্যাচ হচ্ছে না। বিশ্বকাপের সময়ে তৈরি হচ্ছে ফ্যান জোন। যুবভারতীতে থাকছে ফুড কোর্ট।’ ফাইনাল পেলেও আনন্দে নেই স্টেডিয়াম তথা ক্রীড়া দপ্তরের ৮০ জন অস্থায়ী কর্মী। প্রায় ২৫ বছর ধরে এরা অস্থায়ী কর্মী হিসাবেই কাজ করে চলেছেন। ২০১১ সালে পালা বদলের পর বলা হয়েছিল সিনিয়র কর্মীরা অবসর নিলে এরা স্থায়ী হবেন। কিন্তু প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র ৩৫ জনকে নিয়োগ করায় পুরানোরা স্থায়ী হচ্ছেন না। এনিয়ে আনন্দর দিনেও ক্ষোভ অস্থায়ীদের।

অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসলেন শঙ্কররা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দরে সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলার ফুটবলাররা অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে গেলেন। বিমানবন্দরে বাংলার আনকোরা ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নাগেরবাজারে শঙ্কর রায়ের পাড়া থেকে বন্ধুরা বাইক মিছিল নিয়ে আসেন। সাদার্ন সমিতির সদস্যরা ক্লাবের পতাকা নিয়ে গিয়েছিলেন প্রভাত লাকড়া- মনবীর সিংদের বরণ করতে। ছিল তাসা পার্টি। বাংলার ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে এতটা জনপ্লাবন হবে তা নিরাপত্তারক্ষীরা ভাবতে পারেননি। প্রয়োজনীয় পুলিশ না থাকায় চার নম্বর গেটের সামনে সবকিছু লন্ডভণ্ড হয়ে যায়। সারি দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় কোনওক্রমে ফুটবলারদের হাতে ফুল তুলে দেন দুই আইএফএ শীর্ষ কর্তা উৎপল গাঙ্গুলি আর সুব্রত দত্ত। কোচের আবেদনে সাড়া দিয়ে উৎপল গাঙ্গুলি জানিয়ে দেন, ‘প্রাথমিক পর্বের খেলায় জিতেন মুর্মুও পাবেন পুরস্কার অর্থ। সব সংবর্ধনাতেই জিতেনও বিবেচিত হবেন ফুটবলার হিসাবে।’ ম্যাচের নায়ক মনবীর সিং পাঞ্জাবী। তাই ভাংড়া নাচতে দেখা যায় ফুটবলপ্রেমীদের। মৃদুল ব্যানার্জি বলেন,‘আমার ২৫ বছরের কেরিয়ারে এটাই সেরা প্রাপ্তি। জুনিয়রদের নিয়ে কাজ করতে আমার দারুণ লাগে। আমি পার্থ সেন, লাল্টু দাস মিলে একটি ইউনিট হিসাবে কাজ করেছি। ছেলেরা ছিল প্রচণ্ড শৃঙ্খলাপরায়ণ। এই তো শুনলাম ইস্ট বেঙ্গলের এক ফুটবলার তিনদিনের সফরে গোয়ায় গিয়ে ফূর্তি করতে গিয়ে ক্লাবকে লজ্জিত করেছেন। আমরা প্রায় দুই সপ্তাহ গোয়ায় ছিল। গোয়ায় প্রচুর মোহ। সেই দিকে নজর না দিয়ে ফুটবলে মনোসংযোগ করেই এই সাফল্য।’
বাংলার গোলরক্ষক শঙ্কর রায় বলেন,‘দিন সাতেক বিশ্রাম নেব। তারপর বিধাননগর আকাদেমি কিংবা অভ্র মণ্ডলের আকাদেমিতে অনুশীলন করব।’ রাণা ঘরামিকে ফিরিয়ে নিতে তৎপর মোহন বাগান। ফাইনালের নায়ক মনবীর ট্রফি তাঁর বাবা প্রাক্তন ফুটবলার কুলদীপকে উৎসর্গ করলেন।

চোট-আতঙ্ক তাড়া করছে সাইনাকে

নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: খেলোয়াড়ি জীবনের মধ্যগগনে থাকতে থাকতেই অবসরের কি চিন্তাভাবনা করছেন সাইনা নেহওয়াল? সোমবার ইন্ডিয়া ওপেন সুপার সিরিজ শুরু হচ্ছে। সাইনা ও সিন্ধুর লক্ষ্য ইন্ডিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তার আগে সাইনাকে চোট আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে সাইনা বলেন, ‘হাঁটুর চোট ভোগাচ্ছে আমাকে। অস্ত্রোপচার করে কোর্টে ফিরলেও আমাকে চোট-আতঙ্ক তাড়া করছে। সবসময় এক টেনশন কাজ করছে। আবার চোট পাব না তো!’
বিশ্বের আট নম্বর এই ভারতীয় খেলোয়াড় ইন্ডিয়ান ওপেনে ফেবারিট হিসেবেই খেলতে নামছেন। দু’বছর আগে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েই সাইনা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে একনম্বরে উঠে এসেছিলেন। সিরি ফোর্ট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে খেতাবি লড়াইয়ে সাইনার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যারোলিন মারিনের সঙ্গে পি ভি সিন্ধুও। রিও ওলিম্পিকসে রুপো জয়ী সিন্ধু বলেন, ‘আমি ইন্ডিয়ান ওপেন জেতার লক্ষ্যেই মাঠে নামব। প্রতিযোগিতায় আমার লড়াই বেশ কঠিন। কিন্তু আমি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।’
প্রথম দুই রাউন্ডে জিততে পারলে সাইনা ও সিন্ধুর সাক্ষাৎ হতে পারে শুক্রবার কোয়ার্টার ফাইনালে। সিন্ধুর প্রথম প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুরের লিয়াং টুর্নামেন্ট থেকে নাম তুলে নিয়েছেন। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে সিন্ধু খেলবেন জাপানের সানা কাওয়াকামির বিরুদ্ধে। সাইনা প্রথম রাউন্ডে খেলবেন চাইনিজ তাইপের চিয়া সিন লি’র বিরুদ্ধে।

সন্তোষ ট্রফি জয়ীদের প্রশংসায় সঞ্জয়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার আরবসাগরের তীরে গোয়াকে হারিয়ে সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলা। এই জয়ের গর্ব স্পর্শ করেছে মোহন বাগানের কোচ সঞ্জয় সেনকেও। সোমবার সকালে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের অনুশীলন করানোর পর তিনি বলেন, ‘বাংলার সন্তোষ ট্রফি জয় দুর্দান্ত ঘটনা। আমি গোটা ম্যাচ টিভিতে দেখেছি। একটা সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচ টাই-ব্রেকারে গড়াবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মনবীরের গোল গোয়ার যাবতীয় প্রতিরোধ গুঁ঩ড়িয়ে দেয়। রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মৃদুলদার সঙ্গে কথা বলেছি। জানিয়েছি অভিনন্দনও। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। তাই বাংলার এই কৃতিত্বে নিজেকেও অংশীদার মনে হচ্ছে। অনামী ফুটবলাররা প্রমাণ করল, বাংলার ফুটবল এখনও সসম্মানে জীবিত রয়েছে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অনেকেই বাংলার অখ্যাত ছেলেদের নম্বর দেননি। সেই ফুটবলাররাই কিন্তু গোটা প্রতিযোগিতায় দুরন্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরেছে। বসন্ত সিং বা মনবীর সিং ভিনরাজ্যের হলেও আমি ওদের বাংলারই বলব। এর আগেও মহম্মদ হাবিব, জেভিয়ার পায়াসদের মতো ফুটবলাররাও বাংলাকে ভারতসেরা করেছেন। মৃদুলদা’র দল বোঝাল, কলকাতা লিগ এখনও দেশের সেরা। গোয়ার মাঠে ফাইনালে গোয়াকে হারানো সহজ কথা নয়। শারীরিকভাবে তেমন না হলেও বাংলার ফুটবলাররা দেখিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে অনেক কঠিন বাধাও সহজে অতিক্রম করা সম্ভব।’
ক্লাব ফুটবলেও কি বাংলা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে? প্রশ্নের উত্তরে মোহন বাগান কোচ বলেন, ‘মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল প্রায় প্রত্যেক বছরেই আই লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকে। এটাই বড় ব্যাপার। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ভাগ্যেরও প্রয়োজন হয়। সবসময় যোগ্য দলই খেতাব জেতে না। শুধু এখানে নয়, বিদেশেও একই কথা প্রযোজ্য।’
আগামী শনিবার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে মোহন বাগান খেলবে বেঙ্গালুরু এফসি’র বিরুদ্ধে। তারই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। সোমবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কাটসুমি। আগেই এসেছেন ড্যারেল ডাফি। এদিন ফুটবলারদের ফিটনেসের দিকে জোর দেওয়া হয়। গার্সিয়ার মতো ফিজিক্যাল ট্রেনার থাকা সত্ত্বেও এবার মোহন বাগান চোট-আঘাত সমস্যায় জর্জরিত। তার প্রভাবও পড়েছে পারফরম্যান্সে। তাই কোচ সঞ্জয় সেনের পরামর্শে ফুটবলারদের পেশির জোর বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। আই লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকার জন্য প্রতিটি ম্যাচই জিততে হবে বলে ধারণা সঞ্জয় সেনের। ফুটবলারদেরও সেভাবে উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি।

আজ মায়ানমারের বিরুদ্ধে এক পয়েন্টই লক্ষ্য স্টিভনের

ইয়াঙ্গন, ২৭ মার্চ: প্রতিপক্ষকে এগিয়ে রাখলেও মঙ্গলবার এ এফ সি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচে মায়ানমারের বিরুদ্ধে ন্যূনতম এক পয়েন্টের লক্ষ্যে মাঠে নামছে ভারত। শনিবার ইয়াঙ্গনে সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোচ স্টিভন কনস্টানটাইন বলেন, ‘এই ম্যাচের জন্যই আমাদের প্লেয়াররা আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করেছে। মায়নামারকে মোকাবিলা করা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। দারুণ একটা শক্ত ম্যাচ হতে চলেছে। তবে টাইট গেম হবে। আমাদের ন্যূনতম লক্ষ্য এক পয়েন্ট।’
ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের (১৩২) থেকে ৪০ ধাপ নীচে রয়েছে মায়ানমার। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে মায়ানমারের বিরুদ্ধে ভারতের রেকর্ড ভালো নয়। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ এই ইয়াঙ্গনেই এ এফ সি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাই পর্বে মায়ানমারের কাছে একমাত্র গোলে হেরেছিল ভারত। সেই দলের পাঁচ ফুটবলার এবারের দলে রয়েছে। গোলরক্ষক সুব্রত পাল, অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড সুনীল ছেত্রী, স্ট্রাইকার জেজে লালপেখলুয়া, রবিন সিং ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার সি কে বিনীথ। পাঁচ ফুটবলার সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতাই সোমবার প্র্যাকটিসে সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। জেজে বলেন, ‘দলগত ঐক্যই আমাদের মূলধন। দলে অনেক নতুন প্লেয়ার এসেছে। গতবারও আমরা এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যাওয়ার জন্য মায়ানমারের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম। ওরা বেশ ভালো টিম। কম্বোডিয়ায় ৭০ হাজার দর্শকের প্রবল শব্দব্রহ্মের বিরুদ্ধে খেলে আমরা ৩-২ গোলে ম্যাচটা জিতেছিলাম।’ দলের অপর স্ট্রাইকার রবিন সিং জানান, ‘প্রতি ম্যাচেই আমাদের উন্নতি স্পষ্ট। তবে মঙ্গলবার শুরুতে গোল চাই। এটা অ্যাওয়ে ম্যাচ। তাই বেশি ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।’
রক্ষণ জমাট রেখেই আক্রমণ করার কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে ভারত। গত সপ্তাহে নম পেনে কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে এক প্রস্তুতি ম্যাচে ভারত ৩-২ গোলে জিতলেও নড়বড়ে রক্ষণ চিন্তা বাড়িয়েছে স্টিভনের। এদিন ইয়াঙ্গন ট্রেনিং সেন্টারের ম্যাচ ভেন্যুতে হওয়া অনুশীলনে মূলত রক্ষণ সংগঠনের উপর জোর দিয়েছেন ভারতের কোচ। কনস্টানটাইন প্রার্থনা করছেন, মঙ্গলবার ভারতীয় ফুটবলের একটা ভালো দিন আসুক। তাঁর কথায়, ‘নিজেদের দিনে ভারত যে কোনও দলকে হারাতে পারে। তা বলে এই নয় যে ভারতীয় ফুটবলের খারাপ দিন আসবে না। কখনও ভালো, কখনও খারাপ-এই নিয়েই বিশ্ব ফুটবলের সংসার চলছে। আমরা বিশ্বাস করি, এ এফ সি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করব। ফলে গ্রুপে শুধু মায়ানমার কেন, প্রতিটি দলই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ সবসময় কঠিন। সেটা হারলে চলবে না। মায়ানমার ম্যাচ হয়ে গেলে আমরা হোম ম্যাচের দিকে মনসংযোগ করব। গ্রুপে প্রতিটি টিমের লক্ষ্য থাকবে, নয় পয়েন্ট নিশ্চিত করে ২০১৯ এ এফ সি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করা। হোম টিমের উপর সবসময় চাপ থাকে। মায়ানমারের উপরও থাকবে। আমাদের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ফুটবলারদের নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে হবে। ফুটবলারদের আমি সেটাই বলেছি।’ বাছাই পর্বের ‘এ’ গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে কিরঘিজস্তান, মায়ানমার ও ম্যাকাও।
ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী ২০১৩ সালে এ এফ সি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাই পর্বে মায়ানমারের বিরুদ্ধে হারকে মনে রাখতে চাইছেন না। তিনি বলেন, ‘সেবার আমরা ম্যাচে ভালো খেলতে পারিনি। মঙ্গলবার অন্য ম্যাচ হবে। মায়ানমারের বিগত কিছু ম্যাচের ভিডিও ক্লিপিংস দেখেছি। তবে প্রতিপক্ষকে একেবারেই ছোট করে দেখছি না। আমরা মাঠে তিন পয়েন্টের জন্য নামব।’ কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু। মঙ্গলবার ভারতের নেতৃত্বে ফিরছেন সুনীল ছেত্রী।

মরশুমের শেষে আমার মূল্যায়ন করুন: মরগ্যান

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আই লিগসহ ফেডারেশন কাপ পর্যন্ত নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করার জন্য সময় চাইছেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ ট্রেভর জেমস মরগ্যান। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে সোমবার সকালে নিজেদের মাঠে দলবল নিয়ে অনুশীলনে নামলেন ব্রিটিশ কোচ। ইস্ট বেঙ্গল এবার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে চিরতরে ক্লাবের দরজা মরগ্যানের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে, কান পাতলে এমনই আলোচনা শোনা যাচ্ছে ইস্ট বেঙ্গল তাঁবুতে। কোচ নিয়ে ইস্ট বেঙ্গলের কর্তাদের মধ্যে মতান্তর প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সামনে নির্বাচন, সেই লক্ষ্যে শীর্ষ কর্তারা সবাইকে মিলেজুলে নিয়ে চলতে চাইছেন। কিন্তু শীর্ষ কর্তাদের অনুগামীরা পরিষ্কার দু’ভাগে বিভক্ত। তাঁদের জন্যই গোষ্ঠীকলহ বারবার প্রকট হচ্ছে। ক্লাব সচিব নিজেও এরজন্য প্রভূত দায়ী। কারণ আই লিগে শীর্ষে থাকা অবস্থায় লাল-হলুদ সচিব একাধিকবার উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে কোচ মরগ্যান ও গোটা দলের টিম স্পিরিট নষ্ট করে দিয়েছিলেন।
আই লিগের মাঝে দীর্ঘ প্রায় দু’সপ্তাহ ফুটবলারদের ছুটি দেওয়া নিয়েও মরগ্যান ক্লাব ও কলকাতা ফুটবল মহলে প্রবল সমালোচিত হয়েছেন। এসবই জানেন মরগ্যান। তিনি বলেন, ‘আমি পালিয়ে যাওয়ার লোক নেই। এখনও আই লিগের চারটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। তারপর ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে খেলব আমরা। দেখুন না কী হয়! ফেডারেশন কাপের পর মরশুমের শেষেই না হয় আপনারা আমার মূল্যায়ন করবেন।’
ফুটবলারদের ছুটি দেওয়া নিয়ে মরগ্যানের সাফ জবাব, ‘ক্লাবের প্র্যাকটিস বন্ধ থাকবে। আমি ছুটিতে দেশে যাব। এসব আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সবাই সবকিছু জানত। এব্যাপারে আর বেশি মন্তব্য করে আমি বিতর্ক বাড়াতে চাই না।’
আই লিগ জয়ের সম্ভাবনা কতটা রয়েছে ইস্ট বেঙ্গলের? মরগ্যান পরিষ্কার বলেন, ‘আমাদের হাতে চারটি ম্যাচ অর্থাৎ এখনও ১২ পয়েন্ট রয়েছে। তবে আই লিগ জেতা অসম্ভব নয়, কিন্তু বেশ কঠিন। আমরা নিজেরাই কঠিন করেছি। এখন আই লিগ জেতাটা পুরোপুরি আমাদের হাতে নেই। অন্য দলগুলোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। ৯ এপ্রিল ডার্বি জিতলে ছবিটা বদলে যাবে। ওটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।’
এদিন অনুশীলনে বল দখলের লড়াইয়ে স্টপার আনোয়ার ও ফরোয়ার্ড ক্রিস পেইনের মধ্যে সংঘর্ষে অনুশীলনের আবহাওয়া কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সহজ জয় জার্মানি ও ইংল্যান্ডের

বাকু, ২৭ মার্চ: বাছাই পর্বের অ্যাওয়ে ম্যাচে ৪-১ গোলে আজারবাইজানকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা প্রায় নিশ্চিত করল জার্মানি। গ্রুপ-সি’তে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলে ১৫ পয়েন্ট পেয়েছে জোয়াকিম লো’র ব্রিগেড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নদার্ন আয়ারল্যান্ড সমসংখ্যক ম্যাচে সংগ্রহ করেছে ১০ পয়েন্ট।
রবিবার অপেক্ষাকৃত দুর্বল আজারবাইজানের বিরুদ্ধে জিততে বিশেষ ঘাম ঝরাতে হয়নি জার্মানিকে। বিজয়ী দলের হয়ে জোড়া গোল করেন আন্দ্রে শার্লে। অপর গোলদাতারা হলেন যথাক্রমে টমাস মুলার ও মারিও গোমেজ। আজাবাইজানের হয়ে গোল পেয়েছেন নাজারভ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ৩-১ গোলে লিড ছিল জার্মানির। তাই বিরতির পর জার্মানি পজেশনাল ফুটবল মেলে ধরে। ৮১ মিনিটে বিপক্ষ কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন আন্দ্রে শার্লে। ম্যাচের পর জোয়াকিম লো বলেন, ‘তিন পয়েন্ট পেয়ে ভালো লাগছে। তবে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলিও দাপটে খেলে জিততে হবে আমাদের। আজারবাইজানের বিরুদ্ধে একটি গোল হজম করেছি আমরা। এর আগের চারটি ম্যাচে আমাদের দুর্গ অটুট ছিল। তবে ডিফেন্ডারদের খেলায় আমি সন্তুষ্ট। ভালো লাগছে মারিও গোমেজ ও আন্দ্রে শার্লে গোল পাওয়ায়।’
প্রায় তিন বছর বাদে দলে ফিরেই গোল ডিফোর: ঐতিহ্যমণ্ডিত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ড ২-০ গোলে হারিয়ে দিল লিথুয়ানিয়াকে। পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট পেয়ে এই মুহূর্তে সাউথগেটের দল গ্রুপ-এফ’এর শীর্ষস্থানে রয়েছে। ম্যাচের ২১ মিনিটে জেরেমাইন ডিফোর গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। ৬৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান জেমি ভার্ডি। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নভেম্বরের পর জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ পেয়েই লক্ষ্যভেদ করলেন ডিফো। এই জয়ের পর সাউথগেট বলেন, ‘লিথুয়ানিয়ার গোটা ম্যাচে রক্ষণাত্মক ছিল। তাই ওদের প্রতিরোধ ভেঙে দু’গোল করতে পারা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। তবে আরও ভালো খেলার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। জার্মানির বিরুদ্ধে গত প্রীতি ম্যাচের প্রথম একাদশে এদিন চারটি পরিবর্তন করেছিলাম। ডিফোকে রাখি স্টার্টিং লাইন-আপে। ভার্ডিকে পরে ব্যবহার করারই পরিকল্পনা ছিল। জানতাম, বিপক্ষের দমে ঘাটতি পড়লে ভার্ডির গতি কাজে লাগবেই। বাস্তবেও তাই-ই হয়েছে। তবে শীর্ষে রয়েছি বলে গ্রুপের বাকি ম্যাচগুলিকে হালকাভাবে দেখছি না। রাশিয়া বিশ্বকাপের পথ নিশ্চিত হলেও বাকি ম্যাচগুলির গুরুত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম।’
চাকরি গেল ড্যানি ব্লাইন্ডের: বালগেরিয়ার কাছে ০-২ গোলে হারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি গেল হল্যান্ডের কোচ ড্যানি ব্লাইন্ডের। জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা আলোচনায় বসে এই সিদ্ধান্ত নেন। অপসারিত হওয়ার পর ব্লাইন্ড বলেছেন, ‘এভাবে সরে যেতে হতে পারে তা মনে হয়েছিল। হল্যান্ডের হতশ্রী পারফরম্যান্সের দায় আমি এড়াতে পারি না।’ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে অরেঞ্জ-ব্রিগেডের কোচ হয়েছিলেন ড্যানি ব্লাইন্ড। শোনা যাচ্ছে, লুই ফন গলের পরামর্শ নিয়ে নতুন কোচ ঠিক করবেন কর্তারা। ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল রোনাল্ড কোম্যানকে। কিন্তু এভার্টনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকায় তা ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জাদেজার সঙ্গে কথা কাটাকাটি ওয়েডের

ধরমশালা, ২৭ মার্চ: সোমবার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আউট হওয়ার পর চতুর্থ টেস্টের তৃতীয় দিনে হঠাৎ রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন অজি উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। তখন অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩তম ওভার চলছে। অশ্বিনের বলে ম্যাক্সওয়েলকে এলবিডব্লু দেন দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার মরিস ইরাসমাস। এরপরেই ম্যাক্সওয়েল ডিআরএস চান। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় টাইট সিদ্ধান্ত। তবে ম্যাক্সওয়েল যখন প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করেছেন তখন উল্লাসরত ভারতীয় ক্রিকেটারদের জটলার দিকে কড়া চোখে অগ্নি বর্ষণ করেন ম্যাথু ওয়েড। তিনি জাদেজাকে কিছু বলতে থাকেন। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন অশ্বিন। তখনও ম্যাথু ওয়েড চিৎকার করে কিছু বলছিলেন জাদেজাকে। গজরাতে গজরাতে ক্রিজে ফিরে আসেন ওয়েড। তারপরেও তিনি মুরলী বিজয়কে কিছু বলতে থাকেন।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাজেলউডের ক্যাচ স্লিপে ধরেছিলেন মুরলী বিজয়। আম্পায়ারও আউট দিয়েছিলেন। কিন্তু হ্যাজেলউড ডিআরএসের আশ্রয় নেন। ততক্ষণে প্যাভিলিয়নের দিকে দৌড় দিয়েছেন বিজয়। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় ক্যাচ বিজয়ের তালুবন্দি হওয়ার আগে মাটি স্পর্শ করেছে। আম্পায়ারও তাই সিদ্ধান্ত বদল করেন। তবে এই সুযোগ নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। দু’টি বল পরেই হ্যাজেলউডকে আউট করেন অশ্বিন। সোমবার ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের প্রশংসা একাধিকবার শোনা যায় সুনীল গাভাসকর এবং রবি শাস্ত্রীর মুখে। বিরাট কোহলির চোটের কারণে এই টেস্টে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহানে। অনেকের ধারণা, দুই মুম্বইকরই তাই তাঁর প্রশংসায় মুখর। এদিন অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করার আগে সানি গাভাসকর বলেন, ‘সাম্প্রতিক অতীতে উপ-মহাদেশের উইকেটে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এদিনও তাই হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

ভুবনেশ্বরে হবে হকি বিশ্বকাপ, ওয়ার্ল্ড লিগ

ভুবনেশ্বর, ২৭ মার্চ: ২০১৭ ওয়ার্ল্ড লিগ ফাইনাল ও ২০১৮ সালে হকি বিশ্বকাপ ভুবনেশ্বরেই অনুষ্ঠিত হবে। এদিন আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশন এবং ওড়িশা সরকার যৌথভাবে এই কথা ঘোষণা করেছে। ওড়িশার কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে এই দুটি বড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৪ সালে ভুবনেশ্বরে পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভুবনেশ্বরে। এছাড়া হকি ইন্ডিয়া লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলিঙ্গ ল্যান্সার্স। ২০১৭ সালের ভুবনেশ্বরে হকি ওয়ার্ল্ড লিগ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর। হকি বিশ্বকাপ ২০১৮ সালের নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতে হবে। এতে মোট ১৫টি দেশ অংশ নেবে। এদিকে, ভারতের তরুণ ড্র্যাগফ্রিকার হারমানপ্রীত সিং কোচ ওল্টম্যান্সের প্রত্যাশা নিজের সেরাটা দিয়ে মেটাতে প্রস্তুত। হারমানপ্রীত ও আরেক মিডফিল্ডার হরজিৎ ভারতীয় হকি দলের মাঝমাঠে নির্ভরযোগ্য সদস্য। সিনিয়র টিমে দু’জনের থেকে বাড়তি দায়িত্ব আশা করছেন ওল্টম্যান্স। সাইয়ে চলছে সিনিয়র হকি দলের জাতীয় শিবির।

ব্র্যাভো আহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার কেকেআরের তরুণ বোলার অঙ্কিত রাজপুতের বলে ডারেন ব্র্যাভো চোট পান। নেটে বলটি হঠাৎ লাফিয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর ব্র্যাভো আর ব্যাট করেননি। তবে সূত্রের খবর, ডারেন ব্র্যাভোর চোট তেমন গুরুতর নয়।

ক্রাসাভা বলে খেলা
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলা হবে অ্যাডিডাসের ক্রাসাভা বলে। গত নভেম্বরে এই বলটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটে। ক্রাসাভা শব্দটির অর্থ সুন্দর। আগামী ১৭ জুন রাশিয়ায় আয়োজিত কনফেডারেশনস কাপেও ব্যবহৃত হবে ক্রাসাভা।

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta