কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

মাহিকে দেখে তরুণীর চোখে জল
সুকান্ত বেরা

সকালটা যদি হয় মাহির, ইডেনের দুপুরটা অবশ্যই দাদার।
ভারতীয় দলের অনুশীলন দেখতে ভালোই ভিড় ছিল গ্যালারিতে। সুধীরের শঙ্খধ্বনির সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় উড়ছে জাতীয় পতাকা। যেন ক্রিকেট কার্নিভাল নন্দনকাননে।
কিন্তু অধিনায়ক বিরাট কোহলি, কটক ম্যাচের নায়ক যুবরাজ সিং, রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের দেখতে না পেয়ে শুরুতে কিছুটা মুখ গোমরা ছিল ‘টিম ইন্ডিয়া’র সমর্থকরদের। তবে কটকের মতোই কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের মাতিয়ে রাখলেন মাহি। গত ম্যাচের সেঞ্চুরি ধোনির রানের খিদে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিরে পাওয়া ফর্মটা কোনওভাবেই হারাতে রাজি নন তিনি। তাই নেটে টানা এক ঘণ্টা ঘাম ঝরান মাহি। ক্যাপ্টেন্সি ছেড়েছেন। অভ্যাসটা যায়নি। অনুশীলনের ফাঁকেই মাহি ছুটলেন পিচ দেখতে। হুমড়ি খেয়ে বসে বোঝার চেষ্টা করছিলেন, পুনে, কটকের মতোই কলকাতাতেও কি রানের ফুলঝুরি ছুটবে! ধোনি কী বুঝলেন বলা কঠিন। তবে ইডেনের পিচ দেখে মনে হয়েছে গত দু’টি ম্যাচের মতো হবে না।
মহেন্দ্র সিং ধোনি নাকি এখন ভারতীয় দলের রজনীকান্ত। ছেষট্টিতেও সুপারহিট ফিল্ম দিচ্ছেন রজনী। তাঁর জন্য আজও ব্যাকুল হয়ে ওঠে অষ্টাদশীর হৃদয়। শনিবার ইডেনের একটা দৃশ্যই মাহিকে ঘিরে মনে রাখার মতো। ধোনি নেট কাঁপাচ্ছিলেন টকাস টকাস শব্দে, ক্লাব হাউসের লোয়ার টিয়ারে তখন ঢেউ উঠছিল-- মাহি...মাহি..।’ বিরাট-যুবিকে না দেখার আপসোস অনেকটা মিটিয়ে দিয়েছেন এমএসডি। প্র্যাকটিস শেষে তিনি যখন ড্রেসিংরুমে ঢুকছিলেন, তখন অটোগ্রাফের জন্য দড়ি বেঁধে জনৈক তরুণ নামিয়ে দিচ্ছিলেন ডায়েরি-পেন। স্পর্শ তো দূরে থাক, মাহির হাত নাড়ানোতেই চোখে জল তরুণীর। সকালের ইডেন সত্যিই মজে ছিল মাহিতে!
ইডেনের দুপুরটা সত্যিই সৌরভ গাঙ্গুলির। সিএবি’র সভাপতি তিনি। স্বভাবতই তাঁর দায়িত্ব অনেক বেশি। তাঁর আমলে ভারত-পাকিস্তান কিংবা টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল সহ আরও ম্যাচ হয়েছে ইডেনে। সৌরভ অনুগামীদের মতে এই ম্যাচ অনেক বেশি কঠিন। কেন? তাঁদের মতে, অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিশ্বস্ত সঙ্গীদের ময়দানে নামিয়ে দিয়েছিলেন মহারাজ। দুপুরে ইডেনে ঢোকার পর থেকে তিনি দু’বার পিচ পরীক্ষা করেন। বৈঠক করেন আধিকারিকদের সঙ্গে। ম্যাচ রেফারির নির্দেশে সাইটস্ক্রিন বড় করতে বলেন। প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাননি সৌরভ। খুবই সতর্ক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি চাইছেন পুনে, কটকের মতোই হাইস্কোরিং ম্যাচ হোক কলকাতায়। দর্শকরা উপভোগ করুক।
সিরিজের ফয়সালা হয়ে গিয়েছে তো কী হয়েছে! ইডেনে ভারত-ইংল্যান্ড তৃতীয় ওয়ান ডে ঘিরে উত্তেজনার কোনও খামতি নেই। কর্তাদের ফোন বার বার বেজে উঠছিল। ফ্রি-টিকিটের জন্য। সাধারণত সিরিজ আগেই নির্ধারিত হয়ে গেলে পরের ম্যাচে উন্মাদনা থাকে না। রবিবাসরীয় ইডেন তার ব্যাতিক্রম হতে যাচ্ছে বলা যায়। তার একটা কারণ যদি হয়ে থাকে, ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট যুগের সূচনা। তাহলে দ্বিতীয় কারণটা অবশ্যই গত ম্যাচে যুবরাজ ও ধোনির যুগলবন্দি।
ইডেনে ইংল্যান্ডকে হোয়াটইটওয়াশ করার হাতছানি ভারতের সামনে। তবে বিরাটের চোখ ৭-০ করার দিকে। টেস্টে পর পর চারটি ম্যাচে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ান ডে ম্যাচও জেতার লক্ষ্যে নামবে বিরাট বাহিনী। ভারতীয় দলের পেসার ভুবনেশ্বর কুমার বললেন, ‘আমাদের উপর কোনও চাপ নেই। আমরা হালকা মেজাজে খেলব। কোনও দলই হারার জন্য মাঠে নামে না। জয়ের ধারবাহিকতা ধরে রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
সিরিজ জয়ের পরেও ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা ভারতীয় দলকে চাপে রেখেছে। দু’টি ম্যাচেই রান পাননি লোকশে রাহুল ও শিখর ধাওয়ান। গতকাল ধাওয়ান হাসপাতালে গিয়েছিলেন পুরানো চোট পরীক্ষা করাতে। তবে তিনি ফিট। অনুশীলনও করেছেন। কিন্তু রবিবারের ম্যাচে দলে জায়গা পাবেন কিনা নিশ্চিত নয়। ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। লোকেশ রাহুলের সঙ্গী হতে পারেন অজিঙ্কা রাহানে। তিনে বিরাট কোহলি, চাপে যুবরাজ সিং ও পাঁচ নম্বরে ধোনি এবং ছয়ে কেদার যাদবের জায়গা নিশ্চিত। কিন্তু মণীশ পাণ্ডেকে একটা সুযোগ দিতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কার জায়গায় খেলবেন? দুই পেসার সম্ভবত ভুবনেশ্বর-বুমরাহ। তৈরি আছেন উমেশও। পেস অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া ফর্মে আছেন। দুই স্পিনার অশ্বিন-জাদেজা হওয়ার কথা থাকলেও অমিত মিশ্রকে দেখে নেওয়া হতে পারে।

 

বাজে গোল খেয়েও তিনটি দুরন্ত সেভ দেবজিতের
সনি নর্ডি পেনাল্টি মিস করেও
মোহন বাগানকে জেতালেন

মোহন বাগান - ২ (জেজে, সনি)  চেন্নাই সিটি এফ সি -১ (মার্কোস)

বিশেষ প্রতিবেদন: জালিকাট্টু বা ‘এরু থাজুভুদাই’ কিংবা ‘মঞ্জু ভিরাত্তু’ পুনরায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিশাল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল চেন্নাই তথা গোটা তামিলনাড়ু রাজ্য। তাই শনিবার সন্ধ্যায় নেহরু স্টেডিয়ামে মোহন বাগান বনাম চেন্নাই সিটি এফ সি’র আই লিগের ম্যাচটি দেখার জন্য গ্যালারি ভরিয়ে তুলতে পারেননি তামিল ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু বেঙ্গালুরু, কোচি এবং চেন্নাইয়ের স্থানীয় সবুজ-মেরুন সমর্থকরা একটি ব্লক ভরিয়ে তুলে আগাগোড়া প্রিয় দলকে সমর্থন করে যান। ক্লাবের ব্যানার নিয়ে সবুজ-মেরুন জার্সি পরে এরা হাজির ছিলেন গ্যালারিতে। যদিও প্রথমার্ধে মোহন বাগান গোল না পাওয়ায় সমর্থকরা কিছুটা হলেও হতাশ হন।
আগের ম্যাচে মিনার্ভা পাঞ্জাব এফ সি’র বিরুদ্ধে কোচ সঞ্জয় সেন যে দলটি নামিয়েছিলেন সেই প্রথম একাদশের একটি পরিবর্তন হয়। প্র্যাকটিসে আহত আনাসের বদলে মাঠে স্টপারের ভূমিকায় নামানো হয় বিক্রমজিৎ সিং জুনিয়রকে। কিন্তু দলের অপর বিদেশি স্টপার এডুয়ার্ডোর সঙ্গে বিক্রমজিতের কোনও বোঝাপড়া না থাকায় মোহন বাগান রক্ষণে মাঝেমধ্যেই ফাঁকফোকর তৈরি হচ্ছিল। ম্যাচের শুরুতে তিন মিনিটে প্রথম কর্নার আদায় করে মোহন বাগান। কিন্তু তা থেকে কোনও ফায়দা তুলতে পারেননি জেজে-ডাফিরা। চেন্নাই এফ সি শুরু থেকেই দলের চার মিডফিল্ডারকে নীচে নামিয়ে বক্সে ভিড় বাড়ানোর কৌশল নেয়। তাই শুরুতে মোহন বাগান আক্রমণের চাপ থাকলেও গোলের মুখ সেইভাবে খোলা যায়নি। বরং বেশ কয়েকটি ক্ষুরধার প্রতিআক্রমণ তুলে এনে চেন্নাই এফ সি চমকে দেয় মোহন বাগান রক্ষণকে। এমনই একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ধনপাল গণেশের থ্রু অনাবৃত করে দেয় মোহন বাগান রক্ষণ। মার্কোস ভিনিসিয়াসের পা থেকে বক্সের মাথায় উঠে এসে ঝাঁপিয়ে বল তুলে নিয়ে মোহন-দুর্গের পতন রোধ করেন গোলরক্ষক দেবজিৎ মজুমদার। মূলত এডু ও বিক্রমজিতের ভুল বোঝাবুঝিতে এই সুযোগটি পেয়ে গিয়েছিল চেন্নাই।
উল্টোদিকে, ম্যাচের ১২ মিনিটে শৌভিক চক্রবর্তীর বাঁ-পায়ের শট দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন চেন্নাই গোলরক্ষক করণজিৎ সিং। তবে গত দু’বছর আই লিগে মোহন বাগানের প্রাণভোমরা সনি নর্ডিকে স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলতে নেমে আটকে দিয়েছিলেন এখন চেন্নাইয়ের রাইটব্যাক জোসেফ ক্লেমেন্তে। শনিবারও দেখা গেল সনিকে কাট করে বেরতে দিচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে সনি ইনসাইড কাট করে ভিতরে ঢুকে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁর এই একক প্রয়াসগুলি তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে ৭৭ মিনিটে একক দক্ষতায় গড়ে তোলা মুভ থেকে অনবদ্য ফিনিশ করে দ্বিতীয় গোলটি দিয়ে সনি নর্ডি তাঁর জাত চিনিয়ে দেন। এমন একটি গোল দেখার জন্য কোচি-বেঙ্গালুরু থেকে অনেক পথ অতিক্রম করে আসা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের পরিশ্রম অবশেষে সার্থক হল।
১৯ মিনিটে কাটসুমির সেন্টার ক্রসপিসে লেগে কর্নার হয়। কিন্তু এরিয়াল বলে ডাফিকে প্রবল বেগ দেন গত মরশুমে মোহন বাগান থেকে বাতিল চেন্নাইয়ের আফগান স্টপার হারুন আমিরি। চেন্নাই রক্ষনে রাভানন ও আমিরি বুক চিতিয়ে লড়ে যান প্রথমার্ধে। ২৬ মিনিটে অলৌকিকভাবে রক্ষা পায় মোহন বাগান দুর্গ। চেন্নাইয়ের ব্রাজিলিয়ার স্ট্রাইকার চার্লস মোহন বাগান দুর্গ ভেঙে বক্সে ঢুকে ওপেন করে নেন। সামনে ফাঁকা গোল ও অসহায় দেবজিৎ। কিন্তু তড়িঘড়ি শট নিতে গিয়ে ওপেন সিটার নষ্ট করেন চার্লস।
৩৩ মিনিটে মোহন বাগান পেনাল্টি নষ্ট করে। বক্সের মধ্যে সনি নর্ডির গোড়ালিতে ট্রিপ করে ফেলে দেন তাঁর মার্কার জোসেফ ক্লেমেন্তে। রেফারি তৎক্ষণাৎ পেনাল্টি দেন। সনি নর্ডি নিজেই বল তুলে পেনাল্টি স্পটে বসিয়ে নেন। আসলে রবীন্দ্র সরোবরে আগের ম্যাচে প্রথম নেমে জেজে-ডাফিরা গোল পেলেও তিনি পাননি। তাই নিজে গোল করতে উদগ্রীব ছিলেন সনি। তাঁর ডান পায়ের নিচু শটটি ছিল দুর্বল। তাই চেন্নাই গোলরক্ষক করণজিৎ সহজেই ঝাঁপিয়ে তা বাঁচিয়ে দেন। মোহন বাগানে ভালো পেনাল্টি নেন কাটসুমি এবং তারপর জেজে। এরা কেউ স্পটকিক নিলে প্রথমার্ধেই হয়তো এগিয়ে যেতে পারত মোহন বাগান। ৩৭ মিনিটে জেজের হেডে করা গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে মোহন বাগান প্রথম গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। নিজেদের রক্ষণে বল নিয়ে কায়দা মারতে গিয়ে এডুয়ার্ডো দলের পতন ডেকে আনেন। এডুর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সুদেহী ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ট্যাঙ্ক মার্কোস ভিনিসিয়াস কোনাকুনি গড়ানো শটে প্রথম পোস্টে অপেক্ষমান দেবজিৎকে পরাস্ত করে গোল করে যান (১-০)। দেবজিৎ ফার্স্ট পোস্ট টু ফার্স্ট পোস্ট কিভাবে গোল খেলেন, তা একমাত্র তিনিই জানেন! অবশ্য বাজে গোল খেলেও তিনটি অনবদ্য সেভ করেন দেবজিৎ। গোল হজম করার পাঁচ মিনিটের মধ্যে গোল শোধ দেয় মোহন বাগান। পেনাল্টি মিসের প্রায়শ্চিত্ত করতে হঠাৎ জ্বলে ওঠেন সনি নর্ডি। তিনি একক প্রয়াসে বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে গোলমুখে দারুণ ক্রস রাখেন। চার গজ দূর থেকে জেজে শিকারি বাজপাখির ক্ষিপ্রতায় সেই বল ফাঁকা গোলে ঠেলে দেন (১-১)। করণজিতের কিছুই করার ছিল না।
৬৬ মিনিটে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে বলবন্ত সিংকে মাঠে নামান কোচ সঞ্জয় সেন। তবে জয়সূচক গোলটির জন্য ৭৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় মোহন বাগানকে। এক্ষেত্রেও নির্ণায়ক ভূমিকা নেয় সনি নর্ডির দুরন্ত স্কিল। একটি অসাধারণ মুভ গড়ে তোলেন সনি। দুরন্ত গতিতে চেন্নাই রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে বিপক্ষ গোলরক্ষককে এগিয়ে আসতে দেখে ডান পায়ের মাপা পুশটি তিনি রাখেন দ্বিতীয় পোস্টে (২-১)। ৯০ মিনিটে আবার সনির বাড়ানো বলে আটগজ দূর থেকে ফাঁকা গোল পেয়েও বল উড়িয়ে দেন প্রবীর দাস।

মুখোমুখি ইস্ট বেঙ্গল-বেঙ্গালুরু এফসি
ইংলিশ ও স্প্যানিশ ঘরানার দ্বৈরথ আজ
অভিজিৎ সরকার

ইস্ট বেঙ্গল কোচ হিসেবে বেঙ্গালুরু এফ সি’র বিরুদ্ধে প্রথম খেলতে নামছেন ট্রেভর মরগ্যান। আবার অ্যাশলে ওয়েস্টউড দায়িত্ব ছাড়ার বেঙ্গালুরুর স্প্যানিশ কোচ অ্যালবার্ট রোকার কাছেও ইস্ট বেঙ্গল নতুন প্রতিপক্ষ। দুই কোচের কাছেই বড় অস্ত্র দুই দলের দুই পুরানো যোদ্ধা রবিন সিং ও হারমানজ্যোৎ সিং খাবরা। রবিবার বিকেলে বারাসত স্টেডিয়ামে ইংলিশ ও স্প্যানিশ ফুটবল ঘরানার যুদ্ধে এই দুই ফুটবলারের ভূমিকা বড় হয়ে যেতে পারে। অ্যাশলে ওয়েস্টউডের জমানায় লং বলে খেলা ভুলে রোকার কোচিংয়ে বেশি পাসিং ফুটবল খেলছেন বিনীথরা। আর মরগ্যানের কোচিংয়ে লং বলে বেশি খেলছেন মেহতাবরা। কারণ লাল-হলুদে দীর্ঘদেহী ফুটবলার বেশি।
শনিবার বিকেলে ক্লাবতাঁবুতে রবিনকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মরগ্যান। যদিও রবিন লাল-হলুদের প্রথম একাদশে নিশ্চিত নন। তিনি মরগ্যানের হাতে রিজার্ভে থাকা ট্রাম্পকার্ড। পুরানো দল বেঙ্গালুরু এফ সি নিয়ে মরগ্যানকে টোটকা দিয়েছেন রবিন। আবার ইস্ট বেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন খাবরা। দীর্ঘ আটবছর পাঞ্জাবের এই ইউটিলিটি ফুটবলার ইস্ট বেঙ্গলে খেলেছেন। একবছর অধিনায়কও ছিলেন। শনিবার সকালে বারাসতে স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামার আগে দুই পুরানো ফুটবলার খাবরা ও সুনীল ছেত্রীকে নিয়ে ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের দারুণ উচ্ছ্বাস ছিল। সেই আবেগে আপ্লুত খাবরা। বললেন, ‘এখন ইস্ট বেঙ্গল আমার প্রতিপক্ষ। নিজেকে প্রমাণ করার ম্যাচ।’ রোকাকে তিনি ইস্ট বেঙ্গল নিয়ে টিপস দিয়েছেন। যদিও দুই কোচ সরাসরি এটা অস্বীকার করেছেন।
রবিবার আই লিগের অন্যতম সেরা যুদ্ধে একে-অপরকে ভীষণভাবে সমীহ করছেন মরগ্যান ও রোকা। ইস্ট বেঙ্গল কোচ বললেন, ‘খাতায়-কলমে আমরা এই প্রথম শক্ত ম্যাচ খেলতে নামছি। ওরা প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে রয়েছে। এ এফ সি কাপের ফাইনাল খেলেছে। আত্মবিশ্বাস ভালো জায়গায় রয়েছে। তবে আমার লক্ষ্য তিন পয়েন্ট।’ রোকার গলায়, ‘ইস্ট বেঙ্গল আই লিগ জয়ের অন্যতম দাবিদার। ওদের দুই স্ট্রাইকার খুবই স্কিলফুল। মিডফিল্ডাররা ভালো খেলছে। তবে ম্যাচটা অ্যাওয়ে হলেও আমরা তিন পয়েন্টের জন্য আত্মবিশ্বাসী।’
মরগ্যানের গলায় আত্মবিশ্বাস শোনা গেলেও দলের ম্যানেজমেন্টের ছন্নছাড়া অবস্থা। মিডিয়ার সামনে সদা গোপনীয়তা বজায় রাখতে সকাল সাড়ে ন’টায় অফিসিয়াল প্র্যাকটিস ঘোষণা করেও এক ঘন্টা আগে প্র্যাকটিস শুরু করে দেন মরগ্যান। চিত্র সাংবাদিকদের অনুশীলন শুরুর পাঁচ মিনিটেই মাঠ থেকে প্রায় একপ্রকার তাড়িয়ে দেওয়া হয়। রফিকসহ গোটা তিনেক ফুটবলার বারাসতের বদলে সেন্ট্রাল পার্কের মাঠে হাজির হন! গোয়ার হোটেলে শৃঙ্খলাভঙ্গ করা অবিনাশ রুইদাসকে এদিন প্র্যাকটিসের স্কোয়াডেই রাখেননি মরগ্যান। যার ফলে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচে অনূর্ধ্ব ২২ ফুটবলার হিসেবে অভিষেক হচ্ছে ইস্ট বেঙ্গলের আকাদেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলার মেহতাব সিংয়ের। প্রথম একাদশে খেলবেন নিখিল পূজারি। প্রথম একাদশে দু’একটি পরিবর্তন হতে পারে। স্টপারে আনোয়ারের জায়গায় গুরবিন্দর সিং। আবার রবিন গুরুংকেও তৈরি রাখছেন মরগ্যান। আপফ্রন্টে উইলিস প্লাজার পাশে আসতে পারেন আমিরভ।
দুটি দলই সেটপিসে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইস্ট বেঙ্গলের আপফ্রন্টে বুকেনিয়ার গুঁতোগুঁতি সামলাতে তৈরি বেঙ্গালুরুর দীর্ঘকায় স্টপার জন জনসন ও গোলরক্ষক অমরিন্দর সিংরা। ৪-৩-৩ ফর্মেশনে আবার তাদের বিপজ্জনক গোল মেশিন সি কে বিনীথকে গুরবিন্দর বা মেহতাব হোসেনকে দিয়ে মার্কিং করাতে পারেন মরগ্যান। দুই কোচই একে-অপরের ম্যাচের ভিডিও দেখে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেছেন। বেঙ্গালুরুর বাঙালি গোলরক্ষক অরিন্দম ভট্টাচার্য বললেন, ‘আমি দলটাকে যত দেখছি, তত মুগ্ধ হচ্ছি। প্রতিটি পদক্ষেপে চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব। অন্য কোনও দলে সেটা দেখিনি। এইজন্যই দলটা গত তিনবারে দু’বার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন।’ সেই পেশাদারিত্বে ইস্ট বেঙ্গল কয়েক যোজন পিছিয়ে। একটা তথ্যই লাল-হলুদের ভরসা। বেঙ্গালুরু অভিষেক আই লিগে চারটি হোম ম্যাচ অপরাজিত থাকার প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের কাছে হেরে গিয়েছিল। এবারও তেমন ঘটনা ঘটার আশায় বুক বাঁধছে লাল-হলুদ শিবির। যদিও গত আই লিগে দু’বারের সাক্ষাৎকারে ইস্ট বেঙ্গলকে হারতে হয়েছিল বেঙ্গালুরুর কাছে।

সিরিজে ফিল্ডিংই ডুবিয়েছে: জেসন রয়
জয় চৌধুরি

শনিবার দুপুরে ইংল্যান্ডের অনুশীলন দেখতে হাজির কলকাতায় ঘুরতে আসা এক বৃদ্ধ ব্রিটিশ দম্পতি। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বাচ্চারা ইডেনে ইংল্যান্ডের অনুশীলন দেখতে এসেছিল। জেসন রয়,জো রুটরা ছবিও তোলেন তাঁদের সঙ্গে। প্রথম দুটি একদিনের ম্যাচে হারায় ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা বিমর্ষ। তবে দুটি ম্যাচে বড় রান তোলায় ব্রিটিশ মিডিয়া ইংল্যান্ড দলকে দুরমুশ করেনি। ব্রিটিশ ক্রিকেট কলমচিদের সহানুভূতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ইংল্যান্ড দলে।
দুটি একদিনের ম্যাচেই চমৎকার ব্যাট করেছেন ইংল্যান্ডের ওপেনার জেসন রয়। পুনে আর কটকে যথাক্রমে ৭৩ আর ৮২ রান করা জেসন শনিবার বললেন,‘দুটি ম্যাচে আমাদের ডুবিয়েছে বিশ্রী ফিল্ডিং। আমাদের ব্যাটসম্যানরা দুরন্ত ব্যাট করেছে। ৩৫০ আর ৩৭০ নিঃসন্দেহে ওয়ান ডে’তে বড় রান। অনেকে বলছেন আমাদের বোলাররা সেই ভাবে বল করতে পারেননি। কাউন্টি ক্রিকেটে এখন সিমারদের রমরমা। ভালো কোয়ালিটি স্পিনার নেই। যে পরিবেশে কাউন্টি ক্রিকেট হয় সেখানে স্পিনারদের সফল না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সিমারদেরই বেশি খেলানো হয়। তাই অনেকের বিশ্লেষণ কোয়ালিটি স্পিনারের অভাবে ভুগতে হয়েছে। এটা বোধহয় ঠিক নয়। মইন আলি দুটি ম্যাচেই বোলারদের বধ্যভূমিতে সেই ভাবে মার খায়নি। তবে সাতজন বোলার ব্যবহার করতে গিয়ে ওর কোটা শেষ করানো হয়নি। সেটা অঙ্কের ভুল। আমি বলব ফিল্ডিংয়ের জন্যই আমরা একদিনের সিরিজ হেরেছি। এই দিকে আমাদের নজর দিতে হবে ভবিয্যতে।’ এদিন ফিল্ডিংয়ে বাড়তি নজর ছিল ইংলিশ টিম ম্যানেজমেন্টের।
‘হোয়াইটওয়াশ’এড়াতে আপনারা কতটা আত্মবিশ্বাসী? সারে কাউন্টি আকাদেমি থেকে উঠে আসা জেসন রয় বলেন, ‘ ইডেনের উইকেট নিয়ে ড্রেসিংরুমে যা শুনলাম তাতে প্রথম ব্যাট করা দল হয়তো সুবিধা পাবে। আবার পরে যাঁরা ব্যাট করবে তাদের বোলিংয়ের সময়ে কিঞ্চিৎ ঝামেলায় পড়তে হবে। আমরা প্রথম দুটি ম্যাচ হেরেছি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কাছে। পুনেতে বিরাট কোহলি আর কেদার যাদব। আর কটকে যুবি- ধোনি। আমরা দল হিসাবে মোটেই খারাপ খেলিনি। তা‌ই ঩হোয়াইটওয়াশ রুখে আমরা দিতেই পারি। ‘লং অফ অ্যাভারেজ’ বলে একটি কথা আছে। সেটি অন্তত রবিবার আমাদের পক্ষে যাওয়া উচিত। জিতলে নিজেদের দেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে মনোবল বাড়বে।’
জেশন বলেন,‘সিরিজ হারলেও আমরা কিন্তু ইতিবাচক ব্যাপার নিয়েই দেশে ফিরব। এই সিরিজে আমাদের ব্যাটিং গভীরতা প্রমাণ করেছি। টিম হিসাবে আমরা খারাপ খেলিনি। রবিবার কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের আমরা দেখাতে চাই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আমাদের দলেও আছে।’
গত মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপে জেসন কিন্তু শূন্যভাবে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। ইংরেজ সাংবাদিকরা সেই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,‘ আমার মনে আছে সেই স্মৃতি। সেদিনও আমরা হেরেছিলাম ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কাছে। আসলে ইসিবি একটা সময় পর্যন্ত আইপিএলে খেলার জন্য জাতীয় ক্রিকেটারদের ছাড়ত না। এটা হয়তো আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে।’ ইডেনে ইংল্যান্ডের আহত ওপেনার অ্যালেক্সের পরিবর্তে খেলবেন সাম বিলিংস।
জেসন বিগব্যাশে সিডনি থান্ডার, সিডনি সিক্সার
আর চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে খেলেছেন। কিন্তু আইপিএলে খেলেননি। জেসন জানালেন,‘আইপিএলে তিনি খেলতে চান। সুপ্রিম কোর্টের রায় বের হলে আইপিএল নিলাম
নিয়ে জটিলতা খুলতে পারে। অধিনায়ক মরগ্যানের
মতো জেসনও তাকিয়ে সেইদিকে। এদিকে, আহত অ্যালেক্সের পরিবর্তে বেয়ারস্টোকে টি-২০ সিরিজে রেখে দিল ইংল্যান্ড।

কঠিন লড়াইয়ে উতরে গেলেন নাদাল

মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েও পাঁচ সেটের লড়াইয়ে উতরে গেলেন রাফায়েল নাদাল। জার্মান তরুণ আলেকজান্ডার জেরেভকে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৭ (৫-৭), ৬-৩, ৬-২ সেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ছেলেদের সিঙ্গলসের শেষ ষোলোয় পৌঁছেছেন নবম বাছাই স্প্যানিশ তারকা। তবে সে জন্য চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লড়াই করতে হয়েছে নাদালকে। মেলবোর্ন পার্কের রড লেভার এরিনায় ১৯ বছর বয়সী জেরেভের কাছে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিলেন ১৪টি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিক। কিন্তু বরাবরের মতো নাছোড়বান্দা মনোভাবে ভর করে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ান নাদাল। শেষ ষোলোতে নাদালের প্রতিপক্ষ গায়েল মনফিলস। অন্য ম্যাচে তৃতীয় বাছাই মিলোস রাওনিক ৬-২, ৭-৬ (৭-৫), ৩-৬, ৬-৩ সেটে জিতেছেন জাইলস সিমোনের বিরুদ্ধে। ছেলেদের সিঙ্গলসে এছাড়াও জয় পেয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ডে নোভাক ডকোভিচকে ছিটেক দেওয়া উজবেকিস্তানের ডেনিস ইস্তোমিন। স্পেনের কারেনো বুস্তাকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪, ৪-৬, ৬-২ সেটে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পা রেখেছেন তিনি। ২১-তম ডেভিড ফেরারকে ৭-৫, ৬-৭ (৬-৮), ৭-৬ (৭-৩), ৬-৪ সেটে হারিয়েছেন রবার্তো বাতিস্তা আগুত। মেয়েদের সিঙ্গলসে স্বদেশী নিকোলে গিবসকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছেছেন রেকর্ড গ্র্যান্ডস্ল্যামের লক্ষ্যে নামা সেরেনা উইলিয়ামস। ৩৫ বছর বয়সী সেরেনার কাছে পাত্তাই পাননি র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯২ নম্বরে থাকা গিবস। ৬-১, ৬-৩ স্ট্রেট সেটে জিতেছেন ২২টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী মার্কিনী তারকা। তবে মেয়েদের সিঙ্গলসে বড় অঘটন ঘটেছে ক্যারোলিন ওজনিয়াকির বিদায়ে। প্রাক্তন এক নম্বর তারকাকে ৬-৩, ৬-১ সেটে হারিয়ে দিয়েছেন ব্রিটেনের জোহান্না কোন্তা।

ফাইনালে সাইনা

সারাওয়াক, ২১ জানুয়ারি: ঝড় তুলে মালয়েশিয়া মাস্টার্সের ফাইনালে পৌঁছে গেলেন সাইনা নেহওয়াল। সেমি-ফাইনালে ভারতের তারকা শাটলারটি ২১-১৩, ২১-১০ স্ট্রেট গেমে উড়িয়ে দিলেন হংকংয়ের পঞ্চম বাছাই খেলোয়াড় ইপ পুই ইনকে। রবিবারের খেতাবি লড়াইয়ে সাইনা মুখোমুখি হবেন থাইল্যান্ডের পোর্নপাবি চোচুয়োঙের।
রিও ওলিম্পিকসের পর হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়ে দীর্ঘদিন কোর্টের বাইরে ছিলেন সাইনা। প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগে ফিরলেও খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি হায়দরাবাদের ২৬ বর্ষীয়া কন্যা। সেই ব্যর্থতা ভুলে মালয়েশিয়া মাস্টার্সের দারুণ ভাবে ছন্দে ফিরে এসেছেন সাইনা। আন্তর্জাতিক সার্কিটে ফিরেই প্রাক্তন এক নম্বর তারকা দেখাতে শুরু করেছেন নিজের পুরনো ঝলক। শনিবার মালয়েশিয়া মাস্টার্সের ফাইনালে ওঠার পথে প্রতিপক্ষকে কার্যত দাঁড়াতেই দেননি তিনি। ম্যাচের শুরু থেকে ইপ পুই ইনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যাডমিন্টন খেলতে থাকেন সাইনা। তাঁর স্ম্যাশ ও ভলির সামনে রীতিমতো অসহায় দেখাচ্ছিল হংকংয়ের খেলোয়াড়টিকে। রবিবারের ফাইনালে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে বিশ্বের ৬৭ নম্বর পোর্নপাবি চোচুয়োঙকে হারিয়ে বছরের প্রথম খেতাব জিততে খুব একটা সমস্যা হবে না সাইনার।

ইরানিতে চালকের আসনে গুজরাত

মুম্বই, ২১ জানুয়ারি: রনজি জয়ের ছন্দ বজায় রেখে ইরানি কাপেও দাপট দেখাচ্ছে গুজরাত। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনেই অবশিষ্ট ভারতীয় একাদশের বিরুদ্ধে ম্যাচের রাশ হাতে তুলে নিল পার্থিব প্যাটেলের নেতৃত্বাধীন গুজরাত। আগের দিনের ৩০০/৮ নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা গুজরাতের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৫৮ রানে। শনিবার সেঞ্চুরি পূর্ণ করে অপরাজিত থাকা চিরাগ গান্ধী শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রান করে আউট হন। মূলত তাঁর কাঁধে ভর করেই সাড়ে তিনশো রানের গণ্ডি অতিক্রম করে গুজরাত। অবশিষ্ট ভারতীয় দলের হয়ে সিদ্ধার্থ কাউল ৫টি ও পঙ্কজ সিং ৪টি উইকেট নেন।
জবাবে ইনিংসের শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা অবশিষ্ট ভারতীয় একাদশ ২০৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। চেতেশ্বর পূজারা (৮৬) ও অখিল হেরোয়াদকর (৪৮) বাদে আর কেউ বাইশ গজে দাঁড়াতেই পারেননি। তাদের তৃতীয় সর্বাধিক স্কোর করুণ নায়ারের ২৮। বাংলার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋদ্ধিমান সাহা রানের খাতাই খুলতে পারেননি। এখনও ১৫২ রানে পিছিয়ে রয়েছে অবশিষ্ট ভারতীয় দল। গুজরাতের বোলারদের মধ্যে চিন্তন গাজা ও হার্দিক প্যাটেল তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন।

লিভারপুল হারল

লন্ডন, ২১ জানুয়ারি: অ্যানফিল্ডে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হোম ম্যাচে লিভারপুল ২-৩ গোলে সোয়ানসি সিটির কাছে হেরে গিয়ে খেতাবি দৌড়ে আরও পিছিয়ে পড়ল। লিভারপুলের রবার্তো ফারমিনো জোড়া গোল করেও দলকে জেতাতে পারলেন না। সোয়ানসি সিটির হয়ে জোড়া গোল করেন ফার্নান্দো লরেন্ত। অন্য গোলটি আইসল্যান্ডের স্ট্রাইকার জিলফি সিগার্ডসনের। এই ম্যাচ হেরে কিছুটা হলেও ভেঙে পড়েছেন লিভারপুলের কোচ জুরগেন ক্লপ। সোয়ানসি সিটি ২-০ গোলে লিড নিয়েছিল। লিভারপুল গোল শোধ করেও শেষ রক্ষা করতে পারল না। সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ক্যারল ও লালানা।






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta