কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন


বীরভূমের দুবরাজপুরে মামা-ভাগ্নে পাহাড়ে শিবপুজো করছেন ভক্তের দল। শনিবার তোলা নিজস্ব ছবি।

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেওয়ায়
জামালপুরের সবজি ব্যবসায়ী খুন, গ্রেপ্তার স্ত্রী

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে বাধা দেওয়ার কারণেই জামালপুর থানার মাঠশিয়ালি গ্রামে সবজি ব্যবসায়ী খোকন মালিককে খুন হতে হয়। স্ত্রীর উসকানিতেই তাঁকে দেবু মালিক খুন করে। ঘটনার দিনকয়েক আগেও খোকনকে একই কায়দায় খুন করার চেষ্টা হয়। কিন্তু, সেদিন রাস্তা দিয়ে লোক চলাচল করায় খোকনকে খুন করা যায়নি। খোকনকে খুনের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মৌসুমি মালিককে শুক্রবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। খুনে জড়িত থাকার কথা সে কবুল করেছে বলে পুলিশের দাবি। শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়নি পুলিশ। ধৃতকে ৯মার্চ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস।

পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে খোকনবাবুর সংসার ছিল। তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বোন ঝরনা রায় থাকেন। মৌসুমির সঙ্গে দেবুর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি খোকন। স্ত্রীর সঙ্গে এনিয়ে তাঁর হামেশাই অশান্তি হত। স্ত্রীকে মারধরও করতেন বলে অভিযোগ। মারধর সহ্য করতে না পেরে খোকনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে মৌসুমি ও দেবু। খোকনের ভাগনির কাছে প্রাইভেট পড়ত তাঁর ছেলে-মেয়ে। সেখান থেকে ছেলে-মেয়েকে আনতে যেতেন খোকন। যাতায়াতের পথে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। গত বছরের ২০ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বোনের বাড়ি থেকে ছেলেমেয়েকে আনতে যান খোকন। তাঁর সঙ্গে ছিল স্ত্রীও। রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিল দেবু। তার হাতে ছিল লোহার রড। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা ঝোপ থেকে বেরিয়ে খোকনের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে দেবু। এরপর কানের পাশে আরও কয়েক ঘা রড দিয়ে আঘাত করা হয় খোকনের। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খোকন। আর্তনাদ শুনে সেখান থেকে দৌড়ে পালান খোকনের স্ত্রী। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

২২ফেব্রুয়ারি পুলিশ দেবুকে গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নেয়। হেপাজতে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জেনে ফেলায় স্ত্রীকে মাঝেমধ্যেই মারধর করতেন খোকন। তাই স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করে মৌসুমি। ঘটনার তিন-চার দিন আগে একইভাবে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু, সেদিন রাস্তা দিয়ে লোক যাতায়াত করায় পরিকল্পনা সফল হয়নি। খুনের দিন পরিকল্পনা মাফিক খানিকটা জোর করেই ছেলেমেয়েকে আনার জন্য স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায় মৌসুমি। খোকনকে খুন করার আগে দেবু কিছুটা মদও খায়। স্বামীকে খুনে মূল চক্রী মৌসুমি বলে দেবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে পুলিশ।

শহরে আরও একটি চিকিৎসা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
প্রশাসনের চাপে রোগিণীর চিকিৎসার খরচ এক ধাক্কায়
প্রায় ৩০ হাজার টাকা কম নিল বর্ধমানের নার্সিংহোম

বিএনএ, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এক ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বর্ধমান জেলা প্রশাসনের চাপে তাঁর মেয়ের চিকিৎসা বাবদ খরচ এক ধাক্কায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা কমিয়ে দিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় নার্সিংহোমের চার কর্তাকে বর্ধমান থানায় এনে জেরা শুরু করেছে পুলিশ। শনিবার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণবকুমার রায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে শোকজ করেছেন। পাশাপাশি এদিনই গোটা ঘটনার রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অযথা রেফার করার অভিযোগে এদিন রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশিস চক্রবর্তীকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি যে অ্যাম্বুলেন্সে রোগিণীকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়েছিল সেটি ক্লোজড করা হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ময়ূরেশ্বরের বাসিন্দা চুমকি লেটের রামপুরহাটে একটি নার্সিংহোমে প্রসব করেন। চার দিনের মাথায় ছুটি পেয়ে তিনি ঝাড়খণ্ডে মুলুটিতে বাপের বাড়ি যান। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে তিনি খিঁচুনিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে ভরতি হন। সেখান থেকে রাত ১১ টা নাগাদ বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির তালিকাভুক্ত মাতৃযানে করে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও চালক হাসাপাতলের পরিবর্তে নার্সিংহোমে নিয়ে যান।

চুমকিদেবীর বাবা তপন লেট পেশায় একজন দিন মজুর। ১৮-২৪ ফেব্রুয়ারি ছ’দিনে নার্সিংহোমের বিল ৪৪ হাজার ৪২০ টাকা হয়। তপনবাবু কোনওরকমে প্রথম দফায় ১৩ হাজার ও পরে আরও দু’হাজার টাকা জোগাড় করেন। এরইমধ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি তপনবাবুর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। যদিও ঝাড়খণ্ডের শিকারিপাড়া থানার আইসি অজয় কেশরি শনিবার জানিয়েছেন, তপন লেট নামে কোনও ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর কেস হয়নি বা ময়নাতদন্তও হয়নি। পুলিশ সুপার কুণাল আগরওয়াল বলেন, ওই ব্যক্তির কোনও ময়না তদন্ত হয়নি। তাই আমরা সরকারিভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলতে পারব না।

বর্ধমানের ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগিণীর পরিবারের লোকজন গত ২৪ তারিখ নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই বলে মুচলেকা দিয়েছেন। তখনই ২৭ হাজার ৪২০ টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তাতে রোগিণীর পরিবারের লোকজন সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।

বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ওই নার্সিংহোমটি তিন মাস আগে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্ট রুলস না মানার অভিযোগে সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর খামতি বেশকিছু বিষয় সারিয়ে তোলার পর সেটি ফের খোলার অনুমতি পেয়েছিল। জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন, আমরা কোনওরকম বেআইনি কাজকর্ম বরদাস্ত করব না।

এদিকে বর্ধমানে জিটি রোডের ধারে আরেকটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের বাসিন্দা জানসাদ শেখ নামে এক যুবকের পরিবারের কাছ থেকে চিকিৎসা বাবদ তিন লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় পরিবারের লোকজনকে রোগীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ওই যুবকের মা সুকেরা বিবি বলেন, ছেলের পাকস্থলীতে সমস্যা আছে। আমরা মোট ৩০ হাজার টাকা দিয়েছি। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আমাদের ছাড় দেবেন বলেছেন। সিএমওএইচ বলেন, ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ এসেছিল। আমি রোগীর পরিবারের লোকজনের সামনে কর্তৃপক্ষকে ডেকে কথা বলেছি। কোনও টাকা নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছি। পাশাপাশি একটা তদন্ত করা হবে। তবে, কোনও শোকজ করা হয়নি।

উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব
বহরমপুরের ৪টি নার্সিংহোমকে শোকজ

বিএনএ, বহরমপুর: বহরমপুরে বহু নার্সিংহোমের উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। অভিযোগ, বেডের অনুপাতে চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই নার্সিংহোমগুলি চলছে। এই অভিযোগে কয়েকদিন আগে শহরের কয়েকটি নার্সিংহোমে হানা দিয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা রীতিমতো চমকে যান। তাঁরা ইতিমধ্যে চারটি নার্সিংহোম মালিককে শোকজ করেছেন। পাশাপাশি ওই নার্সিংহোমগুলির লাইসেন্সও আপাতত বাতিল করেছেন। সেই সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাজায় রাখতে নার্সিংহোমের মালিকদের ডেকে সতর্ক করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।

মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুর সহ প্রতিটি মহকুমাতেই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নার্সিংহোম। সেগুলির পরিকাঠামো নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বহুদিনের। তাঁদের অভিযোগ, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের উদাসীনতায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই নার্সিংহোমগুলি চলছে। অনেক নার্সিংহোমে র্যাম্প এবং লিফট নেই। আধুনিক বেডও নেই। কিন্তু, অধিকাংশ নার্সিংহোমই বিল প্রচুর। এমন অভিযোগ পেয়ে জানুয়ারি মাসে শহরের কয়েকটি নার্সিংহোমে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা অভিযান চালায়। দু’দিন আগে রাতে শহরের শিল্পতালুকে অবস্থিত একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে রোগীর পরিবারের অনুমতি না নিয়ে রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখার অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাতেই নার্সিংহোমটিতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা অভিযান চালান।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় নার্সিংহোমের সংখ্যা ১০৪টি। যারমধ্যে কয়েকটির কাগজপত্র ঠিক নেই। তাছাড়া নার্সিংহোমগুলিতে ১০টি বেড পিছু দু’জন নার্স ও একজন চিকিৎসক থাকার কথা। তাও অনেক জায়গায় নেই। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিরুপম বিশ্বাস বলেন, আমরা বসে নেই। নার্সিংহোমগুলির উপর নিয়মিত নজর রাখছি। কয়েকদিনে শহরের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমে পরিদর্শন করেছি। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম থাকায় চারটি নার্সিংহোমকে শোকজ করা হয়েছে।

জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, প্যাথলজি সেন্টারগুলির বিরুদ্ধেও অভিযানে নামব। ইতিমধ্যে কয়েকটি সেন্টারের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কাউকে ছাড়া হবে না। পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নার্সিংহোম মালিকদের সতর্ক করে দেব। নার্সিংহোমের সামনে প্রতিটি ইউনিটের বেড ফি, চিকিৎসক ফি, প্রতিটি ইউনিটের ফি টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হবে। এছাড়া, রোগীর পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোনও রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা যাবে না বলেও নার্সিংহোমগুলিকে জানানো হবে। নার্সিংহোমগুলির অতিরিক্ত বিল আদায়ের কৌশলে লাগাম টানতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য অনুষ্ঠানের মাইক বন্ধ করতে গিয়ে
ময়ূরেশ্বরে পুলিশ-জনতা ধস্তাধস্তি, ভাঙচুর, উত্তেজনা

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শুক্রবার রাতে ময়ূরেশ্বর থানার ডাবুক গ্রামে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই মাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যে শিবরাত্রি উপলক্ষে পঞ্চরসের আসর বসে। আর তা বন্ধ করতে গিয়ে শারীরিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে রামপুরহাট মহকুমার পুলিশকে। আটকে রাখা হয় পুলিশের গাড়ি। গভীর রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজনা থাকায় গ্রামে বসেছে পুলিশ পিকেট। এসডিপিও ধৃতিমান সরকার বলেন, এমন কিছু বড় ঘটনা নয়। বিষয়টি মিটে গিয়েছে।

পুলিশ ও গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবরাত্রি উপলক্ষে ডাবুক হাইস্কুলের সামনের মাঠে দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে পঞ্চরসের আসর বসে। সেইমতো শুক্রবার রাতে তারস্বরে মাইক বাজিয়ে চলছিল সেই আসর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রামপুরহাট এসডিপিও। তিনি পাঁচ মিনিটের মধ্যে মাইক খুলে নেওয়ার কথা বলে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে এসে দেখেন, মাইক খোলা হয়নি। এরপরই এসডিপিও মাইকম্যানকে মারধর করার পাশাপাশি স্টেজে উঠে মাইকের সমস্ত যন্ত্রাংশ ভেঙে দেন বলে অভিযোগ। এঘটনায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন গ্রামের মানুষ। এনিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। শারীরিক নিগ্রহ করা হয় এসডিপিও সহ অন্যান্য পুলিশকর্মীদের। মারধর করা হয় এসডিপিওর গাড়ির চালককে। পরে এসডিপিও চলে গেলে কয়েকজন পুলিশকর্মীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। রাত দেড়টা নাগাদ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জবি থমাস কের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মাইকম্যান পলাশ শেখ বলেন, মাইক খোলার জন্য তো কিছুটা সময় দিতে হবে। কিন্তু, সেই সময় না দিয়ে আমাকে এক চড় মারলে আমি পড়ে যাই। এরপর আমাকে ঘিরে বেধড়ক মারধর করা হয়।

এদিন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাইকের ভাঙা যন্ত্রাংশ পড়ে রয়েছে। পঞ্চরসের প্যান্ডেল ঘিরে রয়েছে পুলিশ। এছাড়া গ্রাম ঢোকার মুখেও পুলিশ বসে রয়েছে। র্যাফ নিয়ে গ্রামে টহল দিচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। যদিও পুলিশকে হেনস্তার কথা তিনি স্বীকার করতে চাননি।

পঞ্চরসের মালিক শেখ সাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এই আসর বসানো হয়েছে। পুলিশের কোনও অনুমতি নিইনি ঠিকই। কিন্তু, এভাবে পুলিশ মারধর করে দামি যন্ত্রাংশ ভেঙে দেবে ভাবিনি। ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছিল পুলিশের কাছে। মেনে না নেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এদিন উভয় পক্ষই ময়ূরেশ্বর থানায় আলোচনায় বসেন।

জমি নিয়ে বিবাদের জেরে
সামসেরগঞ্জে দাদা বউদি ও ৫ মাসের ভাইঝিকে
পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ যুবকের বিরুদ্ধে

বিএনএ, বহরমপুর: পাঁচ মাসের ভাইঝি সহ দাদা ও বউদিকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, জমির দখল নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁদের ঘরে তালা দিয়ে আটকে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় ওই যুবক। শুক্রবার গভীর রাতে সামসেরগঞ্জ থানার ধুলিয়ান এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। অগ্নিদগ্ধ ওই শিশু সহ দম্পতি জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি। অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিদগ্ধদের নাম তফিজুল শেখ, তাঁর স্ত্রী সাহানাজ বিবি ও তাঁদের মেয়ে তানজিরা পারভিন। জমির দখল নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।

ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে তফিজুল সাহেবদের বাড়ি। তিনি চটের বস্তার কারবার করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ খাওয়া-দাওয়া করে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তফিজুল সাহেব। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ইটের দেওয়াল ও টিনের চাল দেওয়া ওই ঘরে আগুন লাগে। তখন তফিজুল সাহেব ও তাঁর স্ত্রী চিৎকার করতে শুরু করেন।। তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে ঘরের দরজা ভেঙে ওই দম্পতি ও তাঁদের পাঁচ মাসের কন্যাকে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বলেন, জমির দখল নিয়ে বিবাদের জেরে তফিজুল সাহেবের সঙ্গে সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা করত তাঁর ভাই বাবর শেখ। ঘটনার দিন বিকালেও দুই ভাইয়ের মধ্যে গোলমাল হয়। দাদাকে প্রাণে মারার হুমকিও দিয়েছিল বাবর। এই ঘটনার পর থেকে বাবর বেপাত্তা। শুধু তাই নয়, তফিজুল সাহেবের শোওয়ার ঘরের দরজায় বাইরের দিক থেকে তালা লাগানো ছিল। ফলে আগুন লাগার পর তাঁরা ঘর থেকে বের হতে পারছিলেন না। এর থেকেই বাসিন্দাদের সন্দেহ, ঘরে তালাবন্দি করে ওই দাদা, বউদি ও ভাইঝিকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে বাবর। তফিজুল সাহেবের শরীরের সিংহভাগ পুড়ে গিয়েছে। তাঁর বাবা সাত্তার শেখও এটা বাবরের কাজ বলেই সন্দেহ করছেন। তিনি বিষয়টি পুলিশকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।

এই খবর চাউর হতেই শনিবার স্থানীয় বাসিন্দারা বাবরের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে বিশাল বাহিনী নিয়ে এলাকায় যান সামসেরগঞ্জ থানার ওসি অমিত ভকত। তিনি এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেন। পাশাপাশি তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের পাশ থেকে দু’টি বোতল উদ্ধার করেছে। সেগুলিতে তখনও কিছুটা পেট্রল ছিল। এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশ জানিয়েছে, জমির দখল নিয়ে পারিবারিক বিবাদের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে। এখন ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ হয়নি। তা সত্ত্বেও অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

পারিবারিক বিবাদের জেরে সুতাহাটায় মারপিট, গ্রেপ্তার ৩

সংবাদদাতা, হলদিয়া: জমি বিবাদের জেরে পারিবারিক গন্ডগোলের ঘটনায় সুতাহাটার থানার গোড়াদোরো গ্রামে বাড়ি ভাঙচুর মারধর, ও লুটপাট ও মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে গন্ডগোল চলে। এই ঘটনায় দুপক্ষের ১০-১২ জখম হয়েছেন এবং তিনটি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে রাতেই বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান সুতাহাটা থানার ওসি জলেশ্বর তেওয়ারি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুতাহাটার গুয়াবেড়িয়া অঞ্চলের গোড়াদোরো গ্রামে জমির দখলদারি নিয়ে স্থানীয় সুকুমার নায়েকের তিন ভাইয়ের সঙ্গে প্রদেশ নায়েকের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে। এই বিবাদকে কেন্দ্র করে গতকাল সন্ধ্যায় দুই পরিবারের মধ্যে গন্ডগোল বাধে। শনিবার সকালে দু’পক্ষ থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট, শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করে। এই ঘটনায় পুলিশ এদিন সকালে দু’পক্ষের মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

উত্তম নায়েকের অভিযোগ, শুক্রবার তাঁরা যখন কাজের জন্য বাইরে ছিলেন সেইসময় প্রদেশ নায়েক ও তাঁর ছেলেরা তাঁদের টালির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, ইট ছুঁড়েছে, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেছে। এই ঘটনায় তাঁদের পরিবারের মহিলা সহ কয়েকজন জখম হয়েছেন। ভয়ে সকলকে বাড়িছাড়া হতে হয়েছে। অন্যদিকে,প্রদেশ নায়েকের অভিযোগ, শিবরাত্রির পুজোর জন্য তাঁরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সেই সময় তাঁদের উপর চড়াও হয়ে আক্রমণ চালায় ও মারধর করে সুকুমার ও বৃহস্পতি নায়েকের পরিবারের লোকজন।

মন্তেশ্বরে শ্বশুরবাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

সংবাদদাতা, বর্ধমান: মন্তেশ্বর থানার ধেনুয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম সরমা ঘোষ(২৮)। ওই থানারই গোয়ালবাড়িতে তাঁর বাপেরবাড়ি। বছর পাঁচেক আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁর একটি ছেলেও আছে। গত শুক্রবার তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। পরিবারের লোকজন তাঁকে মন্তেশ্বর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভরতি করেন। সেখান থেকে তাঁকে রাতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে মৃতের বাপেরবাড়ির অভিযোগ।

মৃতার মা চন্দনা ঘোষ বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মেয়ের উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বোঝানোর পরও অত্যাচার কমেনি। ঘটনার দিন মারধর করে মেয়ের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এনিয়ে মন্তেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিকে থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের স্বামী হাজু ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্য একটি ঘটনায় বীরভূমের বোলপুরে প্লাইউড চাপা পড়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম জগাই হাজরা(৫০)। আউশগ্রাম থানার বটগ্রামে তাঁর বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বোলপুরের একটি প্লাইউডের দোকানের কর্মী ছিলেন। শুক্রবার বিকালে দোকানে তাঁর গায়ে প্লাইউড পড়ে যায়। তাতে তিনি গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে বোলপুরের সিয়ান হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেখান থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন সরাসরি তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শনিবার ভোরে তিনি মারা যান।

মেমারি পুরসভা
অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে কাউন্সিলারদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

বিএনএ, বর্ধমান: মেমারি পুরসভায় তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে শনিবার বর্ধমানে তৃণমূলের জেলা(গ্রামীণ) কার্যালয়ে দলীয় কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করল শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিন চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী সহ ১৩জন দলীয় কাউন্সিলার এবং বিধায়ক নার্গিস বেগমকে বেলা ১টায় দলীয় কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যদিও এদিন চেয়ারম্যান আসেননি। তৃণমূলের জেলা(গ্রামীণ) সভাপতি স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু, দলের জেলাসাধারণ সম্পাদক তথা মেমারি বিধানসভার পর্যবেক্ষক উত্তম সেনগুপ্ত, অপর এক সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল প্রামাণিক প্রমুখ কাউন্সিলারদের বৈঠকে ছিলেন।

মেমারি পুরসভার মোট ১৬জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৩জন তৃণমূলের। গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ন’জন কাউন্সিলারের সই করা একটি চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো হয়। ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিয় সামন্ত সহ ন’জন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৪দফা অভিযোগ এনে দলনেত্রীকে চিঠি দেন। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখার জন্য তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর অরূপবাবু তৃণমূলের জেলা(গ্রামীণ) সভাপতি স্বপন দেবনাথকে মেমারি পুরসভার চেয়ারম্যান সহ ১৩ কাউন্সিলারকে নিয়ে আলোচনায় বসে তড়িঘড়ি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিন চেয়ারম্যান বাদে অন্যান্য কাউন্সিলাররা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। মেমারির বিধায়ক নার্গিস বেগমও হাজির ছিলেন। এদিন একে একে দলের সব কাউন্সিলারকে বৈঠকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। ভাইস চেয়ারম্যান সহ কয়েকজন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের আচরণ এবং কাজকর্মে ক্ষোভ উগরে দেন। চেয়ারম্যান একতরফাভাবে বোর্ড চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। পারচেজ কমিটি, টেন্ডার কমিটিতে কাউন্সিলারদের স্থান দেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। উন্নয়নে প্রত্যেক কাউন্সিলারের মতামত নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তোলা হয়। চেয়ারম্যান মর্জিমতো বোর্ড পরিচালনা করছেন বলে বিরোধী শিবিরের কাউন্সিলারদের দাবি।

যদিও এদিন তিনজন কাউন্সিলার নিজেদের বক্তব্যে চেয়ারম্যানের কাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেন। চেয়ারম্যান দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করায় তাঁর বিরুদ্ধে অনেকেই উঠেপড়ে লেগেছেন বলেও তাঁরা দাবি করেন। আবার কয়েকজন কাউন্সিলারের দাবি, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলে তাঁদের আগাম জানানো হয়নি। সেটি জেলায় পাঠানো হবে এবং তাতে উন্নয়নের বিষয়বস্তু থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। খালি চিঠিতে সই ক঩রিয়ে নেওয়ার পর সেখানে অভিযোগ লেখা হয়। তারপর তাঁদের অন্ধকারে রেখে সেই চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তাঁরা বৈঠকে দাবি করেছেন। মেমারির বিধায়ক নার্গিস বেগম চেয়ারম্যান বিরোধী গোষ্ঠীকে লাগাতার অক্সিজেন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। তাঁর উস্কানিতেই কয়েকজন কাউন্সিলার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ীকে হটানোর জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছেন বলে অভিযোগ।

যদিও বিধায়ক নার্গিস বেগম বলেন, এধরনের অভিযোগ একেবারে মিথ্যা। আমার বদনাম করতে এমনটা প্রচার করা হচ্ছে।

তৃণমূলের জেলা(গ্রামীণ) সভাপতি স্বপন দেবনাথ বলেন, আমরা এদিন মেমারি পুরসভার উন্নয়ন নিয়ে কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠক করছিলাম। বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈঠকের রিপোর্ট দলের জেলা পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া হবে।

বহরমপুরে ভেজাল সস তৈরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

বিএনএ, বহরমপুর: শুক্রবার সন্ধ্যায় বহরমপুর শহরের বলরামকলোনির একটি বাড়ি থেকে প্রচুর ভেজাল সস সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিইবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম অরূপ নাগ। সে ওই বাড়ির দু’টি ঘরে রীতিমতো ভেজাল সস তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিল। ঘরগুলি সিল করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।

বহরমপুর থানার সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রেতা সেজে বলরাম কলোনির ওই বাড়িতে হানা দেয় ডিইবি অফিসাররা। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বহরমপুর থানার ডিইবি-র অফিসাররা ভেজাল সসের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগে তদন্ত শুরু করেন। খবর পেয়ে এদিন ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০০০বোতল সস বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। টম্যাটোর সস ছাড়াও জলজিরা ও কাসুন্দি ভরতি বোতলও পাওয়া গিয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, বহরমপুর শহরের ভেজাল সসের কারবার বহুদিনের। এবার এই কারবারের বিরুদ্ধে অপারেশন শুরু করা হল। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই কারবারের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত আছে বলে খবর মিলেছে। শীঘ্রই তাদের ধরা হবে।

গলসির-২ বিএলআরও দপ্তরের চালান ব্যবহার করে
বাঁকুড়ার পাত্রসায়র মৌজার খাদান থেকে বালি পাচারের অভিযোগ, লরিচালক গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা, বর্ধমান: নিলাম না হওয়া বাঁকুড়ার পাত্রসায়র মৌজার বিভিন্ন খাদান থেকে গলসি-২ বিএলআরও দপ্তরের চালান ব্যবহার করে বালি তোলা হচ্ছে। একটি অসাধু চক্র বালির এই অবৈধ কারবারে জড়িত বলে জেনেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, চালানে যে পরিমাণ বালির উল্লেখ থাকছে তার চেয়ে অনেক বেশি বালি লরিতে করে লোড করা হচ্ছে। এরফলে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে বালি বোঝাই একটি লরি বাজেয়াপ্ত করেছে গলসি থানার পুলিশ। বালি বোঝাই লরিটির চালক রবিউল মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গলসি থানার বামুনারা গ্রামে তার বাড়ি। তার কাছ থেকে গলসি-২ বিএলআরও দপ্তরের একটি চালান পেয়েছে পুলিশ। চালানে খাদান মালিকের নাম রয়েছে। তাতে গলসির গোহগ্রাম মৌজা থেকে বালি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে লিজ হোল্ডারকে। একটি চক্র এক জায়গার চালান ব্যবহার করে অন্য জায়গা থেকে বালি তুলে তা চড়া দামে বিক্রি করছে বলে ধৃত চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে।

শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বালির অবৈধ কারবারিদের হদিশ পেতে ধৃতকে সাতদিন নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। ধৃতের আইনজীবী বিধানচন্দ্র সামন্ত পুলিশি হেপাজতের বিরোধিতা করেন। সরকারি আইনজীবী অতীন হালদার পুলিশি হেপাজতের পক্ষে সওয়াল করেন। দুপক্ষের সওয়াল শুনে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস ধৃতকে দু’দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ।

পুলিশ জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বালির অবৈধ কারবার নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। শুক্রবার রাতে শিল্যা গ্রামের কাছ থেকে লরিটি ধরা হয়। চালকের কাছ থেকে গলসি-২ বিএলআরও দপ্তরের একটি চালান মেলে। তাতে গোহগ্রাম মৌজা থেকে ২২০ সিএফটি বালি তোলার অনুমতি দেওয়া রয়েছে। কিন্তু, লরিটিতে ৪০০ সিএফটি বালি রয়েছে। চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, পাত্রসায়র মৌজা থেকে বালি বোঝাই করা হয়। খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে, পাত্রসায়র মৌজার কয়েকটি ঘাট থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা হলেও সেগুলি এখনও নিলাম হয়নি। নিলাম না হওয়া ঘাট থেকে বালি তোলায় ব্যাপক রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে। বালি খাদানের লিজ হোল্ডার এর সঙ্গে যুক্ত। লরি চালকের বয়ানের ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং করিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, বালি বোঝাই তিনটি লরি বাজেয়াপ্ত করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ। লরিগুলির চালকদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে একলক্ষ্মীর দিক থেকে রাউতারা গ্রামের দিকে লরিগুলি আসছিল। রাউতারা গ্রামের মোড়ের কাছে পুলিশ লরিগুলিকে আটকায়। বালি সংক্রান্ত বৈধ কোনও কাগজপত্র চালকরা দেখাতে পারেনি বলে পুলিশের দাবি। এদিন আদালতে পেশ করা হলে ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।

ভীমপুরে যুবককে মারধরের অভিযোগে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ভাইপো গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা, তেহট্ট: শুক্রবার রাতে ভীমপুর থানার সুকান্তপল্লিতে এক যুবককে মারধর করার অভিযোগে পোড়াগাছা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানের ভাইপোকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মারধরে আহত ওই যুবক বর্তমানে শক্তিনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রথমদিকে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না চাইলেও স্থানীয় বাসিন্দারা কৃষ্ণনগর-মাজদিয়া রাস্তা অবরোধ করায় রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ প্রধানের ভাইপোকে গ্রেপ্তার করার কথা ঘোষণা করা হয়। তারপর রাস্তা অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর পুরসভা লাগোয়া একটি খাসজমি আছে। সেই জমিতে টাকার বিনিময়ে লোক বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ওই খাস জায়গায় শুক্রবার রাতে সহায়সম্বলহীন জীতেন্দ্রনাথ ঘোষ নামে একজন ঘর তৈরি করে থাকতে চান। এই খবর পেয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের ভাইপো বিট্টু রায় তাঁকে ওই জায়গায় ঘর তৈরি করতে নিষেধ করে। এই নিয়ে দু’পক্ষ বচসায় জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেই সময় বিট্টু জিতেন্দ্রবাবুকে প্রচণ্ড মারধর করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জিতেন্দ্রবাবুকে উদ্ধার করে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভরতি করেন। এরপরই স্থানীয় মানুষজন প্রধান উত্তম রায়ের ভাইপোকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়। পরে রাত দেড়টা নাগাদ পুলিশ বিট্টু রায়কে গ্রেপ্তার করার কথা ঘোষণা করলে গ্রামবাসীরা অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদতে ওই জমিটি কৃষ্ণনগর পুরসভার। টাকার বিনিময়ে ওই জমিতে অনেককে থাকতে দিয়েছেন প্রধান ও তার দলবল। সেই জমিতে একজন অসহায় মানুষকে থাকার জন্য ঘর করে দিলে বিট্টু ওই ব্যক্তিকে তুলে দেওয়ার জন্য হুমকি দেয় ও মারধর করে।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান উত্তম রায় জানান, জমিটি পুরসভার। সেখানে টাকার বিনিময়ে কাউকে থাকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই জমিতে এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করে। সেখানে শুক্রবার এক ব্যক্তি জোর করে ঘর তৈরি করতে গেলে বিট্টু তাঁকে নিষেধ করে। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়েছে। তবে মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে জমি সংক্রান্ত বিবাদে একজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল বিট্টু রায়ের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

ঘাটালে প্রতিবেশী যুবকের ছোঁড়া অ্যাসিডে দগ্ধ বিধবার মৃত্যু

সংবাদদাতা, ঘাটাল: প্রতিবেশী যুবকের ছোঁড়া অ্যাসিডে দগ্ধ এক বিধবা শনিবার মারা গেলেন। তাঁর নাম নাম বন্দনা দোলই(৩২) তাঁর বাড়ি ঘাটাল থানার নিমপাতাতে। গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাঁরই এক প্রতিবেশী যুবক অ্যাসিড ছোঁড়ে বলে অভিযোগ। ঘাটাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মন্টু দোলই নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত এখনও জেল হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এত দিন কলকাতার পিজি হাসপাতালে বন্দনাদেবীর চিকিৎসা চলছিল। এদিন সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আট বছর আগে বন্দনাদেবীর স্বামী মারা যান। একমাত্র ছেলে ও শাশুড়িকে নিয়ে মাটির ছোট দুটি ঘরে থাকতেন। ১০০ দিনের কাজ করে সংসার চলত। বন্দনাদেবীর শাশুড়ি বিমলা দোলই বলেন, ওই দিন আমার বউমা সন্ধ্যা দিতে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়ির পিছন দিক থেকে বউমার চিৎকার শুনতে পাই। কাছে গিয়ে দেখি বউমা চিৎকার করে আমাকে বলছে, মন্টু আমার গায়ে অ্যাসিড দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রথমে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

অভিযুক্ত মন্টু ওড়িশাতে সোনার কাজ করত। এই দিনই সে ওড়িশা থেকে এসেছিল। পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার পরই সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। গত ৫ জানুয়ারি কেশপুরের এক আত্মীয়ের বাড়ি পুলিশ মন্টুকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্টুর স্ত্রী, এক পুত্র এবং এক কন্যা রয়েছে। ওই ঘটনার আগেই মন্টু তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকেন।

তেহট্টে আগুনে ভস্মীভূত ৯টি বাড়ি

সংবাদদাতা, তেহট্ট: শনিবার তেহট্ট মহকুমার দু’টি জায়গায় আগুনে ভস্মীভূত হল ন’টি বাড়ি। এদিন প্রথম ঘটনাটি ঘটে তেহট্ট থানার ছোটো নলদা গ্রামে। রসুল মণ্ডলের বাড়িতে রান্না করছিলেন তাঁর স্ত্রী। সেই সময় হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। তিনি ভয়ে রান্না ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন। রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ায় আশেপাশের বাড়িতে আগুন লেগে যায়। এই আগুনে জয়নাল শেখ, তাহের শেখ সহ আরও একটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে করিমপুর থানার গোয়াস গ্রামে। এখানে তাউস মণ্ডলের বাড়ির রান্না ঘর থেকে আগুন ছড়িয়ে পরে আশেপাশের বাড়িতে। তাউস মণ্ডল, আমিনুল শেখ, সবিরুদ্দিন মণ্ডলের বাড়ি সহ বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়ে যায়। করিমপুর থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই খবর পাওয়ার পর এলাকায় আসেন ব্লক প্রশাসন ও এলাকার বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। তিনি তাঁদের থাকার জন্য ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করেন। ব্লক প্রশসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের চাল, ত্রিপল, জামা-কাপড় দেওয়া হয়।

বাঁকুড়ায় কুয়ার কপিকলে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য

বিএনএ, বাঁকুড়া: শনিবার সকালে বাঁকুড়া শহরের নতুনচটি এলাকায় কুয়ার কপিকলে এক কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম কুশ দাস(২০)। তাঁর বাড়ি রানিবাঁধের হেতিয়াপাথর গ্রামে। তিনি পুরুলিয়ার লৌলাড়া রামানন্দ সেন্টিনারি কলেজের তৃতীয় বর্ষে ভূগোল অনার্সের ছাত্র ছিলেন। নতুনচটির উত্তরায়ণ এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশুনা করতেন। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা বলেন, আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম বর্ষে তিনি ভালো রেজাল্ট করেছিলেন। দ্বিতীয় বর্ষে ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়। তাই এবার ভালো রেজাল্ট করার জন্য পড়াশুনাতে জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসায় কয়েকদিন ধরে ওই ছাত্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে সহপাঠীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এদিন কুয়ার কপিকলের দড়িতে কুশকে ঝুলতে দেখে মেসের আবাসিক ছাত্র ও স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তমলুকে পথ দুর্ঘটনায় ২বাইক আরোহীর মৃত্যু, ট্রাকে আগুন

বিএনএ, তমলুক: শনিবার দুপুরে তমলুক থানার নাইকুড়িতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম গোকুল সাঁতরা(৫৫) ও কর্ণ সাঁতরা(২৮)। তাঁদের বাড়ি নন্দকুমারের কামারদা এলাকায়। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দেন। দীর্ঘক্ষণ তাঁরা তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোটরবাইকটি তমলুক থেকে পাঁশকুড়ার দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি উলটো দিক থেকে আসছিল। মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাঁরা মারা যান। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরেও চালক ট্রাকটি না দাঁড় করিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু, ২০০মিটারের মধ্যেই এলাকাবাসী ট্রাকটি ধরে ফেলে। চালক ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যায়। এরপর ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তজিত জনতা। পরে তমলুক থানা থেকে বিশাল পলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এলে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে ট্রাকটির আগুন নেভায়। এলাকাবাসীদের বুঝিয়ে বিকালের দিকে অবরোধ তোলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মেহবুব আলি বলেন, এই জায়গায় এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবুও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

ব্যাবসা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে সুতাহাটায় যুবক গুলিবিদ্ধ

সংবাদদাতা, হলদিয়া: ইটভাটায় কয়লা সাপ্লাই নিয়ে বিবাদের জেরে শুক্রবার রাতে সুতাহাটা থানার কুকড়াহাটি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হলেন এক যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম মোশারফ মল্লিক(২৭)। তাঁর বাড়ি কুকড়াহাটির ঢেকুয়া সংলগ্ন হায়াতপুর গ্রামে। তাঁকে ফোন করে নটপটিয়ায় একটি নির্জন ইটভাটায় ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ যুবক আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হলদিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ব্যাবসা সংক্রান্ত কারণে কুকড়াহাটিতে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর পেটে গুলি লেগেছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গুলিবিদ্ধ যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, গুলি করার পর অভিযুক্ত ও তার এক অনুগামী নিজেদের বাইকে চাপিয়ে তাঁকে এক হাতুড়ের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। তারপর বাড়ি কাছে এনে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, কুকড়াহাটির বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লা দেওয়া নিয়ে মোশারফ ও রেহানের দু’জনের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। দিনকয়েক আগে স্থানীয় একটি ইটভাটায় কয়লা সাপ্লাই দেওয়ার কথা ছিল মোশারফের। দাম নিয়ে দু’জনের মধ্যে ঝামেলা বাধে। এরপর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।

মোশারফের স্ত্রী আসুরা বিবির অভিযোগ,ব্যাবসায় এঁটে উঠতে না পেরে আমার স্বামীকে ওরা গুলি করে খুন করার চেষ্টা করেছে। এর আগেও একবার পেটে ভাঙা মদের বোতল ঢুকিয়ে মারার চেষ্টা করেছিল।

শিবরাত্রি উপলক্ষে বক্রেশ্বরে পর্যটকের ঢল

বিএনএ, সিউড়ি: শিবরাত্রি উপলক্ষে বসা মেলা দেখতে ভক্ত ও পযর্টকদের ভিড় নামল বক্রেশ্বরে। শুক্রবার থেকেই ভক্ত সমাগম শুরু হয় শনিবারও স্থানীয় ও বাইরে থেকে আসা বহু মানুষ এখানে পুজো দিয়েছেন। তবে, পুজো দিতে এসে পানীয় জলের সমস্যা ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে সরব হন পর্যটকরা। এক বছর হয়ে গেল বক্রেশ্বর উন্নয়ন সংস্থা গঠন হয়েছে, কিন্তু দু’বছর আগেও যা সমস্যা ছিল এখনও তাই রয়ে গিয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট। সর্বত্রই প্লাস্টিক ও আবর্জনা পড়ে রয়েছে। এবিষয়ে বক্রেশ্বর উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান তথা এলাকার বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা বক্রেশ্বরকে প্লাস্টিক মুক্ত এলাকা হিসাবেই গড়ে তুলব, পরিকল্পনাও করা হয়েছে। জলের সমস্যা মেটানোর জন্য স্থানীয় বক্রেশ্বর নদ থেকে জল নিয়ে তা পরিশুদ্ধ করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।

অমৃতসর এক্সপ্রেসে মাদক মেশানো জল খাইয়ে যাত্রীর সর্বস্ব লুট

বিএনএ, আসানসোল: মাদক মেশানো জল খাওয়ানোর পর শনিবার ডাউন অমৃতসর এক্সপ্রেসের এক যাত্রীর সর্বস্ব লুট করল দুষ্কৃতীরা। রাজু রায় নামে ওই ট্রেন যাত্রী আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন। তিনি পাঞ্জাবের রাজপুর থেকে ট্রেনে চেপে পাটনায় ফিরছিলেন। রাজুবাবু বলেন, ট্রেন ছাড়ার পরেই এক যাত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি কথা বলতে বলতে আমার কাছে থেকে জলের বোতল চেয়ে নিয়েছিলেন। জল খাওয়ার পর তিনি তা আমাকে ফেরত দেন। কিছুক্ষণ পর ওই বোতলের জল খাওয়ার পরেই বেহুঁশ হয়ে পড়ি। দুষ্কৃতীরা আমার ব্যাগে থাকা ২৭ হাজার টাকা এবং মোবাইল নিয়ে চলে গিয়েছে। জিআরপি জানিয়েছে, তাঁকে ট্রেনের মধ্যে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আসানসোল স্টেশনে নামানো হয়।

 




 

?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta