কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন


চৈত্র মাসেই শুকিয়ে যাচ্ছে দামোদর নদ। বর্ধমানে তোলা। নিজস্ব চিত্র

সাতগেছিয়া-২ পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে তৃণমূলের ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, জখম ৬

সংবাদদাতা, বর্ধমান: ঢালাই রাস্তার টেন্ডারের প্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে মেমারির সাতগেছিয়া-২ পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী। এই সংঘর্ষে ছ’জন জখম হয়েছেন। সোমবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি ওই পঞ্চায়েতের প্রধান ফিরদৌসি বেগম। পঞ্চায়েত প্রধানকে সরাতে ইতিপূর্বে দু’বার অনাস্থা আনা হয়েছিল। কিন্তু, দলের অনুমোদন না মেলায় অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এদিন সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে মেমারি থানা ও সাতগেছিয়া ফাঁড়ি থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

বর্ধমান সদর-২ মহকুমা শাসক(দক্ষিণ) অনির্বাণ কোলে বলেন, বিডিওর কাছ থেকে পঞ্চায়েত অফিসে গন্ডগোলের খবর পেয়েছি। টেন্ডার প্রসেসিং প্রক্রিয়া সঠিক কি না তা বিডিওকে তদন্ত করে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডিওর রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেমারি-২ ব্লকের বিডিও সন্দীপ রায় বলেন, এই ঘটনা পঞ্চায়েতে না ঘটাই কাম্য ছিল। টেন্ডার প্রসেসিং সংক্রান্ত সবিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাতগেছিয়া-২ পঞ্চায়েত প্রধান ফিরদৌসি বেগম বলেন, টেন্ডার পরিচালনায় কোনও অস্বচ্ছতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাতগেছিয়া-২ অঞ্চল সভাপতি তৃণমূল অসিত ঘোষের ও তাঁর লোকজন এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এবিষয়ে অসিতবাবু বলেন, পঞ্চায়েতের একাধিক প্রকল্পের কাজের টেন্ডার পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর লোকজন। তিনি বলেন, এদিন একটি ঢালাই রাস্তার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে পঞ্চায়েতে খোঁজখবর নিতে যান কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। ওই সময় প্রধান ও তাঁর দলবল কিছু সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করে।

সন্দেহ, গণধর্ষণের পর খুন
সামসেরগঞ্জে আমবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার

বিএনএ, বহরমপুর: সোমবার সকালে সামসেরগঞ্জ থানার বাসুদেবপুর এলাকায় আমবাগান থেকে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার হল। মৃতের নাম মঞ্জিলা খাতুন(১৭)। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সন্দেহ, গণধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। এদিন বিকাল পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যদিও, পুলিশের সন্দেহ, প্রেমের সম্পর্কে চিড় ধরায় ওই খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে মৃতের মোবাইল ফোন ও জামা-কাপড় ভরতি একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা সেই ফোনের মাধ্যমেই রহস্যভেদ করার চেষ্টা করছে।

এদিন সকালে আমবাগান দিয়ে বাসুদেবপুর হল্ট স্টেশনে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীর মৃতদেহ দেখতে পান কয়েকজন বাসিন্দা। এই ঘটনা চাউর হতেই ঘটনাস্থলে কৌতূহলী বাসিন্দাদের ভিড় উপচে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়েটির পরনে ছিল চুড়িদার। নারকেল দড়ি দিয়ে তার দু’পা ও ওড়না দিয়ে দু’হাত বাঁধা ছিল। আর গলায় প্যাঁচানো ছিল শাড়ি। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে ধানগাড়া গ্রামে ওই ছাত্রীর বাড়ি। সে স্থানীয় চাচণ্ডা হাই স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ত। মেয়েটির বাবা তফিকুল শেখ পেশায় দিনমজুর। আর মা তসলিমা বিবি বিড়ি শ্রমিক। তাঁদের দুই মেয়ের মধ্যে মঞ্জিলা বড়। কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটির মা বলেন, কয়েকদিন ধরেই মঞ্জিলা ফোনে খুব বেশি কথা বলছিল। রবিবার বিকালে ওর মোবাইলে একটি ফোন আসে। তখনই ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। এভাবে যে ও আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তা ভাবতেই পারছি না। মেয়েটির বাবা এলাকারই এক যুবকের নামে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেয়েকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই যুবকই খুন করেছে।

ধানগারা এলাকাটি নিমতিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন। মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েই পঞ্চায়েতের প্রধান তহমিনা বিবি ও বাসুদেবপুরের পঞ্চায়েত সদস্য সানাউল্লা ঘটনাস্থলে যান। মৃতদেহ দেখার পর তাঁরা বলেন, হাত-পা বেঁধে মেয়েটিকে খুন করা একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। মৃতদেহ দেখে মনে হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে একাধিক দুষ্কৃতী জড়িত। গ্রামবাসীদের পাশাপাশি তাঁদেরও সন্দেহ, গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে ওই ছাত্রীকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। সাতদিনের মধ্যে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা না হলে জোরদার আন্দোলন হবে।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের পাশ থেকে মেয়েটির মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। ব্যাগে মেয়েটির তিনটি পোশাক ও প্রসাধন সামগ্রী ছিল। এর থেকেই মনে হচ্ছে, কোনও ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল মেয়েটি। খুব সম্ভবত সেই ছেলের সঙ্গে মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। হয়তো প্রেমের এই সম্পর্কে বিরোধ বাধায় মেয়েটিকে খুন হতে হয়েছে। মেয়েটির পরিবার যে যুবকের নামে অভিযোগ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ওই যুবকের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, রবিবার রাতে হরিহরপাড়া থানার বিহারী এলাকায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধৃতের নাম সুদীপ মণ্ডল(১৯)। জগন্নাথপুর এলাকায় ধৃতের বাড়ি। বহরমপুর সিজেএম আদালতের নির্দেশে সোমবার ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতে বাউল গানের আসর থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওই নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ধৃত যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা গণধোলাই দিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

মেদিনীপুরে সুব্রত বললেন, বিচলিত হওয়ার কিছু নেই
ভুল-ভ্রান্তির জন্য মানুষ দূরে সরে যাবে, এ হতে দেবেন না

বিএনএ, মেদিনীপুর: বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আমার ভুল-ভ্রান্তি থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে। কিন্তু আমার ভুল-ভ্রান্তি থাকা কিংবা না থাকার জন্য মানুষ দূরে সরে যাবে, এ হতে দেবেন না। সোমবার মেদিনীপুর শহরে জেলা পরিষদ হলে সাংগঠনিক নির্বাচনী সভায় দলের বিধায়ক, নেতাদের উদ্দেশে তৃণমূলের সংসদ সদস্য তথা রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত বকসি একথা বলেন। এ কথার আগেই বিজেপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এক সময় সংসদে টিম টিম করে জ্বলত। এখন লোকসভা নির্বাচনে আসন পেয়ে সেই রাজনৈতিক দল মানুষের দোড়গোড়ায় না পৌঁছে সার্বিকভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করে শুধুমাত্র ঝগড়া, সাম্রদায়িক সম্প্রতি ক্ষুণ্ণ করে চলেছে। মানুষ যেদিন মুখ ফিরিয়ে নেবে, এদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আমার কী হল, আপনার কী হল বড় কথা নয়, সামনের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলার মাটি থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে উৎখাত করতে হবে মানুষের স্বার্থে। আপনার, আমার স্বার্থে নয়। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এদিন সুব্রতবাবু বলেন, কোথাও কোথাও যন্ত্রণা আছে, বিদ্বেষ আছে। থাকতে পারে। নিজের প্রয়োজনীয়তাকে পিছনে ফেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য, বাংলার মানুষের স্বার্থ দেখতে হবে।

সুব্রতবাবু বলেন, দলে বহু মানুষ আছেন যাঁরা পদ চান না, ক্ষমতা চান না, টিকিট চান না। এদের সসম্মানে দলে রেখে দিতে হবে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা সকলে এক হতে পারলে দু’চারটে অশুভ শক্তি আমাদের কিছুই করতে পারবে না।

পরে তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নীতি নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্তে সাংগাঠনিক নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। তার জন্য জেলায় জেলায় আমাকে পাঠানো হচ্ছে। এদিন এই সংক্রান্ত তালিকা অনুমোদনের জন্য আমি এখানে এসেছিলাম।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে ১৬জনকে পাঠানোর জন্য নাম প্রস্তাব হয়। সদস্য হিসাবে এই ১৬জনের নাম এদিনের অধিবেশনে পাশ হয়। এই অনুমোদিত নাম সুব্রতবাবুর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এদিন সভায় মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, মহিলা নেত্রী তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা, মানস ভুঁইঞা, দীনেন রায় সহ একাধিক বিধায়ক ও দলের নেতা-নেত্রী উপস্থিত ছিলেন।

হেলমেট না পরায় খোদ পুলিশ কর্মীদেরই ফাইন আদায় করলেন কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দারা

বিএনএ, কৃষ্ণনগর: হেলমেট না পরে বাইক চালানোয় খোদ পুলিশকেই জরিমানা করলেন গ্রামবাসীরা। এবং ‘ফাইন’ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আটক করলেন। অবশেষে ফাইন দেওয়ার পর দুই কনস্টেবল ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার ছাড়া পান। সোমবার বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে কৃষ্ণগঞ্জের চন্দননগর ব্রহ্মডাঙা গ্রামে। ওই গ্রামে বাইকে আসা কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়ার চারজনের মাথায় হেলমেট না থাকায় দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। কৃষ্ণগঞ্জ থানার এক অফিসার এসে হেলমেটবিহীন চালকদের ফাইন কাটলে, তবেই ছাড়া হয় তাদের।

হেলমেট না থাকলে বাইক চালকদের পুলিশি ধরপাকড় নিয়মিত চলে কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকায়। হাসপাতাল বা জরুরি কাজে গেলেও ছাড়া পান না গ্রামবাসীরা। পুলিশি এই ধরপাকড়ে নিত্য হয়রান হতে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। রবিবার চন্দননগর ব্রহ্মডাঙা গ্রামের কয়েকজন যুবক হেলমেটহীন অবস্থায় কৃষ্ণগঞ্জে গিয়েছিলেন। হেলমেট না থাকায় পুলিশের কাছে ফাইন দিতে হয় তাদের। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় ওই যুবকদের। তাঁরা প্রশ্ন করেছিলেন, ‘পুলিশ হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে?’ পুলিশকর্মীরা উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ফাইন করবে তোমরা।’

এদিন কৃষ্ণগঞ্জ থানারই দুই কনস্টেবল ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ার বাইকে চেপে চন্দননগর উচ্চ বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ডিউটিতে গিয়েছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার শুরু থেকেই পুলিশ কর্মীরা হেলমেট ছাড়াই বাইক চালিয়ে ডিউটিতে আসছিলেন। এদিন যাওয়ার পথে গ্রামবাসীরা দেখেন পুলিশ হেলমেট ছাড়া বাইক চালিয়ে যাচ্ছেন। বিকালে ফেরার পথে ওই চার পুলিশ কর্মীকে চন্দননগরের ব্রহ্মডাঙার বাসিন্দারা পথ আটকান। চারজনকেই আটকে রাখা হয়। গ্রামবাসীরা সাফ জানিয়ে দেন, মাথায় হেলমেট নেই। তাই ফাইন না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়া হবে না।

ঘটনার খবর পেয়ে গাড়ি নিয়ে চন্দননগর গ্রামে আসেন কৃষ্ণগঞ্জ থানার এক এএসআই। তিনি হেলমেট না পরে বাইক চালানোর জন্য এক কনস্টেবল ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে ১০০ টাকা করে ফাইন করেন। এরপরে গ্রামবাসীরা আটক চার পুলিশ কর্মীকে ছেড়ে দেন। চন্দননগরের ব্রহ্মডাঙার বাসিন্দা অমিত মণ্ডল বলেন, অসুস্থ কাউকে বাইকে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পুলিশ আমাদের ফাইন করে। অযথা হয়রানি করে। অনেক সময় টাকা দিলেও কোনও রসিদ দেয় না। আমাদের জন্য এক আইন আর পুলিশের জন্য ভিন্ন আইন, তা তো হতে পারে না। তাই এ঩দিন হেলমেটহীন দুই পুলিশ কর্মীকে আটকে ছিলাম। আমরা বলেছিলাম, ফাইন না দিলে যেতে দেওয়া হবে না। ওঁরা ফাইন দিয়েছেন, তারপর তাঁদের ছাড়া হয়েছে।

কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়াররা হেলমেট ছাড়া বাইক চালিয়ে গিয়েছিলেন। এক কনস্টেবল ও এক সিভিক ভলান্টিয়ারের ১০০ টাকা করে ফাইন করা হয়েছে।

নিম্নমানের মালপত্র দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদ করায়
ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ প্রধান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে

বিএনএ, তমলুক: নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরির প্রতিবাদ করায় ছাত্রকে মারধর ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে মহিষাদলের ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধান ওই স্কুল ছাত্র সহ এলাকার ৯জনের বিরুদ্ধে থানায় পালটা অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি তোলাবাজির টাকা না পেয়ে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে।

মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তিলক চক্রবর্তী বলেন, ঝামেলার খবর পেয়েছি। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনিয়া গ্রামে ১০০দিনের প্রকল্পে ঢালাই রাস্তার কাজ শুরু হয়। প্রথম দিন থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার কাজ করার অভিযোগ তুলে রবিবার সকালে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কাজ আটকে দেন। ওই দিন সকাল ১১টা নাগাদ উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র সঞ্জয় মাইতি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রতিবাদে শামিল হয়। সেই সময় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রামকৃষ্ণ দাস ও তাঁর দলবল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের গালিগালাজ করেন ও রামকৃষ্ণবাবু, সঞ্জয়কে চড় থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। ভবিষ্যতে প্রতিবাদ করলে খুন করে দেহ গায়েবের হুমকি দেওয়া হয়। সঞ্জয় পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও পুকুর থেকে তুলে এনে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

সঞ্জয় মাইতি জানায়, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঢালাই রাস্তার কাজ হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানায়। আমিও তাতে অংশ নিই। সেকারণে প্রধান দলবল নিয়ে এসে আমার উপর হামলা চালায় ও খুনের হুমকি দিয়েছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।

অন্যদিকে, পঞ্চায়েত প্রধান রামকৃষ্ণ দাস বলেন, ওই এলাকার ক্লাবের ছেলেরা ঠিকাদারের কাছে টাকা চেয়েছিল। কয়েকজন আবার ক্লাবের ছাদ ঢালাই করার দাবি জানিয়েছিল। ঠিকাদার সেই দাবি না মানায় তারা কাজ বন্ধ করে দেয়। আমি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ওরা আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।

বাঁকুড়ায় ফের হাতির হানায় প্রৌঢ়ের মৃত্যু, আতঙ্কে বাসিন্দারা

বিএনএ, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনা থামছে না। এক সপ্তাহের মধ্যে হাতির হানায় উত্তর বাঁকুড়ায় ফের এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ ধানখেত থেকে ফেরার পথে বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় ওই প্রৌঢ়কে দাঁতাল হাতি পিষে মারে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম কানাইচন্দ্র আকুলি(৫৪)। তাঁর বাড়ি বেলিয়াতোড় থানার চন্দনপুর গ্রামে। গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলের ধারে পুলিশ কানাইবাবুর দেহ উদ্ধার করে। ২২মার্চ বড়জোড়া রেঞ্জ এলাকায় এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছিল। পাঁচ দিনের ব্যবধানে পরপর দু’জনের মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর হাতির হানায় বাঁকুড়া জেলায় মোট ২৩জন মারা গিয়েছিলেন। এবারে সংখ্যাটা আরও বাড়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছান্দার অঞ্চলের চন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা কানাইবাবু পেশায় চাষি। রবিবার তিনি খেতের ফসল দেখতে দেখতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় বিকাল নাগাদ পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধ্যা নাগাদ গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলের ১০০ফুটের মধ্যে কানাইবাবুর দেহ দেখতে পাওয়া যায়। রাতে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। অন্যদিকে, ২২মার্চ জঙ্গলে পাতা সংগ্রহ করতে গিয়ে বড়জোড়ার খাঁড়ারি গ্রামের বাসিন্দা হাতির হানায় মায়া বাগদি নামে ৫৫বছরের এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়।

কৃষক সভার নেতা তথা বড়জোড়ার বাসিন্দা সুজয় চৌধুরি বলেন, বন দপ্তর শুধু বৈঠক করেই দায় সারছে। হাতির হামলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা নিচ্ছে না। বন দপ্তরের উদাসীনতার জেরে সাধারণ গ্রামবাসীরা বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন। অবিলম্বে এই মৃত্যুমিছিল বন্ধ না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।

স্থানীয় বাসিন্দা মানস মণ্ডল, জগদীশ দাস বলেন, আগে সাধারণত রাতে হাতির হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটত। কিন্তু পরপর এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা যথাক্রমে সকালে ও বিকালে হয়েছে। ফলে আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। রাতের পাশাপাশি দিনেও যেকোনও সময় হাতি জঙ্গল থেকে বের হয়ে আক্রমণ করতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।

বাঁকুড়া উত্তরের বিভাগীয় বনাধিকারিক পিনাকী মিত্র বলেন, এবার আমাদের এলাকায় দলমার বুনো হাতির দলকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে উত্তর বাঁকুড়ায় ১৯টি রেসিডেন্সিয়াল হাতি রয়েছে। সেগুলি বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড় রেঞ্জের বিভিন্ন জঙ্গলেই সাধারণত থাকে। দুটি ঘটনাই জঙ্গল এলাকায় ঘটেছে। ইতিমধ্যে আমরা হাতির অবস্থান জানাতে ‘এসএমএস অ্যালার্ট’ ব্যবস্থা চালু করেছি। হাতি রয়েছে এমন জঙ্গল লাগোয়া লোকালয়ে মাইকিং করে প্রচার চালানো হবে।

দুর্ঘটনায় ৮জনের মৃত্যুতে এখনও শোকস্তব্ধ সমুদ্রগড়

সংবাদদাতা, কালনা: কালনার সমুদ্রগড় ডাঙাপাড়া থেকে কেউ সন্তান কামনায়, কেউ আবার সংসারের মঙ্গল কামনায় দোয়া চাইতে পাড়ি দিয়েছিলেন বীরভুম জেলার পাথরচাপুড়ি দাতাবাবার দরগায়। বছর এগারোর রওশনা খাতুন বাবার কাছে চেয়েছিল মেলা থেকে আনা চুড়ি ও মালা। না, এদের কেউই আর দোয়া, চাদর বা মেয়ের বায়নার চুড়ি, মালা নিয়ে ফিরে আসেননি। বদলে গ্রামে এসেছে আট জনের নিথর দেহ। শনিবার কাঁকসায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বাবন শেখ(৩৮), মারফত শেখ(২৫), আলিমুদ্দিন শেখ(৩৮) সহ আটজনের। কেউ তাঁত শ্রমিক, কেউ দিনমজুর। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো রবিবার দিনের আলো ফোটার আগেই এই সংবাদ এসে পৌছায় গ্রামে। কান্নার রোল ছাড়া গ্রামে আর কোনও ফিসফাস আওয়াজটুকু পর্যন্ত নেই। তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ সমুদ্রগড়ের ডাঙাপাড়ায় স্তব্ধ হয়ে যায় মাকুর শব্দ। গ্রামে তখন কান্না ছাড়া আর কোনও আওয়াজ ভেসে আসছে না।

ব্যাণ্ডেল-কাটোয়া রেলপথে সমুদ্রগড় স্টেশন সংলগ্ন ডাঙাপাড়া গ্রাম। মুসলিম অধ্যুষিত এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তাঁত ও দিনমজুরি করে সংসার চালান। নিহত মারুতি গাড়ির চালক আবদুল হালিম শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন বিধবা মা আজিদা বিবি। স্ত্রী আনোয়ারা বিবি তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে শোকে পাথর।

আলিমুদ্দিন শেখ বেশ কয়েকবার পাথরচাপুড়ির পীরবাবার দরগায় গিয়েছেন। এবারও প্রতিবেশী প্রায় সমবয়সিদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ মারুতিতে চেপে রওনা দেন। বছর তিনেকের ছোট্ট সানিদুলের মঙ্গলকামনায় দরগায় চাদর চড়িয়ে শনিবার গভীর রাতে সতীর্থদের সঙ্গেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ভেবেছিলেন, সকালে বাড়ি পৌঁছে কাজে যোগ দেবেন। কিন্তু ফিরে আসেননি। রবিবার ভোর চারটে বাড়িতে আসে তাঁর মৃত্যুসংবাদ। শোকে পাথর হয়ে যায় গোটা পরিবার।

একই রকম দৃশ্য দেখা গেল মারফত শেখ, বাবন শেখ, সুকুর আলি শেখ, আবুল শেখ, সায়িদ শেখ ও সাইদুল শেখদের পরিবারে। এরই মধ্যে সাইদুল শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ছোট মেয়ে রওশনা তার মায়ের কাছে জানতে চাইছে বাবা কখন বাড়িতে আসবে। বাবা যে তারজন্য চুড়ি, মালা নিয়ে ফিরবে। সে জানে না মৃত্যু কী। সে বাবার কাছে বায়না ধরেছিল মেলা থেকে চুড়ি মালা আনার জন্য। তার আকুল প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই মা রহিমা বিবির মুখে। তাঁর দুই চোখ দিয়ে শুধু জল গড়িয়ে পড়ছে। রহিমা বিবির স্থির চোখ দুটি আকাশ পানে চেয়ে মেয়ের প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।

তবে এখনও গ্রামের অনেকে দাতাবাবার দরগায় রয়েছেন। বাড়ি ফেরেননি। তাঁদের পরিবারেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কেউ ফোন করে সাবধানে বাড়ি আসার জন্য জানাচ্ছেন। কেউ মসজিদে সকলের সুস্থভাবে ফেরার মানত করছেন।

গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন শেখ বলেন, প্রতিবছর গ্রাম থেকে হাজারের উপর মানুষ পাথরচাপুড়িতে দাতাবাবার দরগায় দোয়া চাইতে যায়। এবারও কয়েকশো মানুষ গ্রাম থেকে বাসে, মোটর ভ্যানে ও মারুতি, টাটাসুমো নিয়ে পাড়ি দিয়েছে দাতাবাবার দরগায়। তেমন বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ গ্রামের ছেলে আবদুলের নতুন কেনা মারুতি গাড়ি করে ৮জন (চালক আবদুলকে নিয়ে ৯জন) রওনা দেয় পাথরচাপুড়ি। প্রায় প্রত্যেকেই তাঁত শ্রমিক। রবিবার ভোর চারটে নাগাদ গ্রামে মর্মান্তিক খবর আসে। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু সময় বাড়তেই টিভির পর্দায় ভেসে ওঠে মর্মান্তিক খবর। গ্রামে তখন কান্নার রোল। মৃতদের সকলেই আর্থিকভাবে দুর্বল। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে আগামীতে পরিবারগুলি কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।

রবিবারই দুর্গাপুর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ নিয়ে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, সভাধিপুত দেবু টুডু গ্রামে আসেন। ওইদিনই মৃতদেহগুলি কবরস্থ করা হয়। রাজ্য সরকারের সমব্যথী প্রকল্পে নিহতদের পরিবারকে দু’হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এবং প্রত্যেকের পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানান সভাধিপতি।

সোমবার পূর্বস্থলী-১ বিডিও পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় ও পূর্বস্থলী-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক ও পঞ্চায়েতের সদস্যরা ওই গ্রামে গিয়ে নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভাব অভিযোগ শোনেন। এদিন তাঁরা প্রত্যেক পরিবারকে ৫০কেজি করে চাল দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া নিহতদের পরিবারের পড়ুয়াদের পড়াশুনার দিকটাও দেখা হবে বলে পরিবারের সকলকে আশ্বস্ত করেন। এছাড়াও অন্য কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যায় তা নিয়ে পঞ্চায়েতে আলোচনা হবে বলে দিলীপবাবু জানান। আহত কিতাব শেখকে রবিবার রাতে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে ফের তাঁকে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

কেশপুরে বাস উলটে জখম ১৩, হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে আত্মীয়দের বিক্ষোভ

বিএনএ, মেদিনীপুর: সোমবার কেশপুরের ধনডাঙরায় বাস উলটে ১৩জন যাত্রী জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের আঘাত গুরুতর। জখম যাত্রীদের কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন জখম যাত্রীদের আত্মীয় ও স্থানীয় মানুষজন। পরে কিছুক্ষণের জন্য মেদিনীপুর-কেশপুর রাস্তাও অবরোধ করা হয়। যদিও কেশপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেও অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। চিকিৎসক না থাকা, নোংরা, আবর্জনায় ভরতি হাসপাতালের চেহারা তুলে ধরে স্থানীয় মানুষজন দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভও দেখান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন কেশপুরের ধনডাঙরায় তীর্থযাত্রী বোঝাই বাসটি মোড় ঘুরতে গিয়ে উলটে যায়। দুর্ঘটনায় ১৩জন জখম হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতর জখম হন। জখমদের কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে আনা হয়। অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেই সময় একজনও চিকিৎসক সেখানে ছিলেন না। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন, মোজাফফর হোসেন বলেন, জখম অবস্থায় অনেককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু, হাসপাতালের ন্যূনতম পরিষেবাটুকুও পাওয়া যায়নি। কোনও চিকিৎসকই ছিলেন না। বিএমওএইচরেও দেখা মেলেনি। কোনও চিকিৎসা না পাওয়ায় জখম যাত্রীদের মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বিএমওএইচ তুহিন মাইতি বলেন, আমি সহ মোট পাঁচজন চিকিৎসক হাসপাতালে আছি। ওই সময় দু’জন চিকিৎসক ছিলেন। অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। ওই চিকিৎসকরা চিকিৎসার পরেই তিনজনকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।

ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত বিশ্বভারতীতে শান্তি মিছিল

বিএনএ, সিউড়ি: দফায় দফায় ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত বিশ্বভারতীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সোমবার বিশ্বভারতী চত্বরে শান্তি মিছিল করল প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, ও কর্মীরা। মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, বামপন্থার নামে বিশ্বভারতীর শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা চালাচ্ছে কিছু ছাত্র-ছাত্রী। এদিন বিকালে ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্বভারতীর কাচ মন্দিরের সামনে একত্রিত হয়ে আশ্রম চত্বরে মিছিল করে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। কোনও দলীয় ব্যনারে মিছিল না হলেও এদিন মূলত টিএমসিপির ছাত্র-ছাত্রীরাই মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলে পা মেলান বিশ্বভারতীর কর্মিসভার সভাপতি গগন সরকারও। তিনি বলেন, যাদবপুরের অশান্তি বিশ্বভারতীতে সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কিছু বহিরাগত। তাদের সঙ্গে এখানকার কিছু অতিবাম ছাত্রও রয়েছে। বিশ্বভারতীর শান্তির পরিবেশ তারা ধ্বংস করতে চেষ্টা করছে, তাই আমরা এদিন শান্তি মিছিলে পা মিলিয়েছি। টিএমসিপির বিশ্বভারতী ইউনিটের সভাপতি অচিন্ত্য বাগদি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে কোনওভাবেই অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় ছাত্র সংঘর্ষ হয় বিশ্বভারতীতে।

বর্ধমানে পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বয়কট অব্যাহত

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান আদালতের পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিনোদকুমার মাহাতকে বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় রইল বার অ্যাসোসিয়েশন। জেলা জজের উদ্যোগে বিচারক মন্দাক্রান্তা সাহাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত দিনকয়েক আগে তুলে নিয়েছে বার। এরপর পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সোমবার বারের সভা ডাকা হয়। সভায় কয়েকজন বয়কট তোলার পক্ষে মত দেন। তার বিরোধিতা করেন বেশ কয়েকজন। এনিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দেয় বারের সদস্যদের মধ্যে। আদালত কক্ষে আইনজীবীদের আচরণ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন। তা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বয়কট চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন বহু আইনজীবী। ফলে বয়কট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় বার। আইনজীবীদের সম্পর্কে তাঁর রায়ে বিচারক যে মন্তব্য করেছেন তা বাদ দেওয়ার জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বার সূত্রের খবর।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ ফেব্রয়ারি মেমারির সিমলা গ্রামে একটি বিয়ের আসর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আইনজীবী চন্দন আইচকে। তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী আইচ মহিলা থানায় তাঁর উপর নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত চন্দনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরের দিন আদালতে পেশ করা হলে বহু আইনজীবী তাঁর হয়ে জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। ধৃত আইনজীবীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন সিজেএমের দায়িত্বে থাকা বিনোদকুমার মাহাত। এরপরই আইনজীবীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বিক্ষোভ থামে। আইনজীবীদের বিক্ষোভের কথা তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক। এর দিনকয়েক পর তাঁকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় বার।

সাগরদিঘিতে ৬৬০ মেগাওয়াটের আরও ১টি ইউনিট
তৈরি হবে, বহরমপুরে জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিএনএ, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াটের আরও একটি ইউনিট তৈরি হবে। সোমবার বহরমপুরে একথা বলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ রপ্তানি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এদিনই শহরে পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা সম্মেলনে যোগ দিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মুখে মেহনতি মানুষের কথা বললেও বামফ্রন্ট গরিব মানুষদের জন্য কিছু করেনি। গরিব মানুষের জন্য যা করার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন। তাই বর্তমানে সব থেকে বড় বামপন্থী দলের নাম তৃণমূল। এখানে বামপন্থা একটা ভাবধারা।

২০০৮ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘি এলাকায় ১৬৫০ একর জমির উপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চারটি ইউনিট রয়েছে। যার মধ্যে দু’টিতে ৩০০মেগাওয়াট করে এবং বাকি দু’টিতে ৫০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এখানে আরও একটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রবিবার প্রস্তাবিত ইউনিটের জায়গা পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অফিসার ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বহরমপুরে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াটের আরএকটি ইউনিট নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রস্তাবিত ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হলে এখানে দিনে প্রায় ২২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

অন্যদিকে, বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে মুর্শিদাবাদ জেলা পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা সম্মেলনে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহজ, সরল জীবন-যাপন করেন। ওঁকে কেউ কোনওদিন কিনতে পারেনি, আর পরবেও না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাথা ও হৃদয় দিয়ে রাজনীতি করেন। তাঁর প্রকল্পকে নকল করছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন মন্ত্রী ছাড়াও সম্মেলনে পৌর কর্মচারী ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস দে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি মান্নান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিনই তারাপীঠে পুজো দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। পুজো দিয়ে বেরিয়ে আসার পথে তিনি বলেন, এবার ‘আলোশ্রী’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি সমস্ত ভবন এবং স্কুল-কলেজে ৫ থেকে ২০ কিলো ওয়াটের সোলার প্ল্যান্ট বসাচ্ছি। এছাড়া রাজ্যের সাতটি জায়াগায় সোলার প্ল্যান্টের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করব।

তারাপীঠ থেকে এদিন মন্ত্রী চলে আসেন রামপুরহাট কলেজে। সেখানে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ কিলো ওয়াট ‘রুপ টপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের’ উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রায় ১০০০ স্কুল-কলেজে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে আলো দেব। মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিন প্রজেক্ট আলোশ্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ১৫৮টি স্কুল-কলেজে এই প্ল্যান্ট বসানো হয়ে গিয়েছে।

কাঠগড়ায় কেশপুরের নার্সিংহোম
স্বাস্থ্য বিমার কার্ডকে হাতিয়ার করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা হাতানোর অভিযোগ

বিএনএ, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে স্বাস্থ্য বিমার কার্ড নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে সম্প্রতি কেশপুরের একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথি, রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড ব্যবহার করে হাজার হাজার টাকা তোলা হচ্ছে। বদলে উপভোক্তাকেও লভ্যাংশের কিছু টাকা দেওয়া হচ্ছে। ওই নার্সিংহোম রীতিমতো এজেন্ট নিয়োগ করে এই কাজ কয়েক মাস ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ সাজিয়ে ভরতি করা হচ্ছে কোনও উপভোক্তাকে। কী রোগের জন্য বিমার উপভোক্তা ভরতি হবেন, তার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যাচ্ছে আগেই। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ সামনে আসতেই নড়ে চড়ে বসেছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা।

কেশপুরের বিএমওএইচ তুহিন মাইতি বলেন, অভিযোগ একটা উঠেছে। তবে যা বলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলব। সংবাদ মাধ্যমে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, ওই নার্সিংহোমের নামে দু’টি অভিযোগ আমাদের কাছে জমা পড়েছে। বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। তদন্তও শুরু হয়ে গিয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োজিত চুক্তি ভিত্তিক কর্মীদের জন্যই এই স্বাস্থ্যসাথি বিমা গত বছর চালু হয়। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের এই বিমার আওতায় আনা হয়। দেওয়া হয় একটি স্মার্ট কার্ডও। কেশপুরে এমন কার্ড প্রাপকের সংখ্যা প্রায় ১০০০। এই বিমার মাধ্যমে পরিবারের প্রত্যেক সদস্য বছরে দেড় লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে তা হবে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, কেশপুর ব্লকে আরএসবিওয়াই কার্ড প্রাপকের সংখ্যা ৩০ হাজার।

জানা গিয়েছে, ওই নার্সিংহোম একেবারে পরিকল্পনা করে এই বিমার উপভোক্তাদের টোপ দিচ্ছে। বিনা পরিশ্রমে কয়েক হাজার টাকা পাওয়ার লোভে অনেকেই এই ফাঁদে পাও দিচ্ছেন। এরপর পরিকল্পনা মতো তাঁকে বিভিন্ন রোগের ‘নকল চিকিৎসা’র মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথির বা আরএসবিওয়াই কার্ডটি নেওয়া হচ্ছে। পরে সেখান থেকে ওই উপভোক্তাকে সামান্য ভাগ দিয়ে বাকি টাকা ঢুকছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অ্যাকাউন্টে। মোটা টাকা বিমা থেকে পাওয়ায় নার্সিংহোম কর্তাদের নজর এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথির কার্ডের দিকেই।

শুধু জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর নয়। সম্প্রতি সমস্ত নার্সিংহোমের বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য জোগাড়ে নেমেছে পুলিশও। কেশপুর থানার পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নার্সিংহোমের নামে এরকম অভিযোগের বিষয়টি তাদেরও কানে এসেছে।

নার্সিংহোমের মালিক শেখ ফায়েজ মহম্মদ অবশ্য বলেন, অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কেউ চক্রান্ত করে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে এই অভিযোগ করেছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, ওই এলাকার আরও একটি নার্সিংহোমের ক্ষেত্রে মৌখিক নানা অভিযোগ উঠছে। সেদিকেও স্বাস্থ্য দপ্তরের নজর আছে।

নবদ্বীপে সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েতে তালা তৃণমূলের

বিএনএ, কৃষ্ণনগর: বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম সহ টেন্ডারে অস্বচ্ছতার অভিযোগে তুলে সোমবার নবদ্বীপ ব্লকের সিপিএম পরিচালিত মায়াপুর বামুনপুকুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল। পরে অবশ্য জয়েন্ট বিডিওর আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে।

মায়াপুর বামুনপুকুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতটি সিপিএমের দখলে রয়েছে। এদিন জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তারান্নুম সুলতানা মিরের নেতৃত্বে তৃণমূল নেতা কর্মীরা একাধিক অভিযোগ তুলে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে চলে বিক্ষোভ। তবে এদিন পঞ্চায়েতমুখো হননি সিপিএমের প্রধান বা অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা। ঘটনার খবর পেয়ে পঞ্চায়েতে হাজির হন নবদ্বীপের জয়েন্ট বিডিও সমীরণকৃষ্ণ মণ্ডল। আন্দোলনকারীরা দাবি তোলেন, পঞ্চায়েত সিল করতে হবে। জয়েন্ট বিডিও আশ্বাস দেন অভিযোগগুলি নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। পরে এদিন বিকালে তিনিই তালা খোলেন।

জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বলেন, এই পঞ্চায়েতে দুর্নীতি চলছে। কোনও প্রকল্পেই ওপেন টেন্ডার হয় না। গোপনে গোপনে টেন্ডার হয়ে যায়। একই প্রকল্পে একাধিকবার টেন্ডার হয়। বিরোধী দল নেতাকে কোনও প্রকল্প সংক্রান্ত কিছু জানানো হয় না। এসবর প্রতিবাদে আমরা তালা ঝুলিয়েছিলাম।

যদিও প্রধান বান্টি বিবি বলেন, পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা সৃষ্টির জন্য এদিন তৃণমূল তালা দিয়েছে। কোনও প্রকল্পে দুর্নীতি হয়নি। মিথ্যা অভিযোগ তুলছে ওরা। সকলকে জানিয়ে টেন্ডার হয়। ওরা যখন এই পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় ছিল, তখন ওপেন টেন্ডার করত না। আসলে আমাদের ওদের দলে টানার চেষ্টা করেছিল, আমরা যাইনি বলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রাণোদিতভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।

কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসক ইউনিস রিসিন ইসমাইল বলেন, জয়েন্ট বিডিও গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিক্ষোভ উঠে গিয়েছে। মঙ্গলবার জয়েন্ট বিডিও অভিযোগগুলি নিয়ে প্রধানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

খড়্গপুর গ্রামীণে এজেন্টের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সিপিএমের পঞ্চায়েত সদস্য গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এজেন্টের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সোমবার খড়্গপুর-২ ব্লকের কালীয়াড়া-২ পঞ্চায়েতের সিপিএম সদস্য শংকর পাইনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই এজেন্ট টাকা নিয়ে যাচ্ছে বলে শংকর দুষ্কৃতীদের খবর দিয়েছিল। সোমবার ধৃত পঞ্চায়েত সদস্যকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

সিপিএমের জোনাল সম্পাদক কামের আলি বলেন, অনুমান করে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এর বাইরে কিছু জানা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকার মুকশেদপুরে পাঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাংকের এজেন্টের কপালে রিভলবার ঠেকিয়ে ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করেছিল দুষ্কৃতীরা। পালানোর সময় গ্রামবাসীদের হাতে তারা ধরাও পড়ে যায়। একজন ধরা পড়ে মুকশেদপুর বাজারে। দু’জনকে মেদিনীপুর সদর ব্লক এলাকায় ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। টাকাও উদ্ধার হয়। ধৃত তিনজনেরই বাড়ি খড়্গপুর শহরের পাঁচবেড়িয়া এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ এই পঞ্চায়েত সদস্যের নাম পায়।

স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে নারায়ণগড় থানায় ডেপুটেশন

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে হাঁদলা বলভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দারা সোমবার নারায়ণগড় থানায় ডেপুটেশন দেন। এদিন গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে এই দাবি জানান। তাঁরা বলেন, গত ৩মার্চ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ এখনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ত্রিদিব দে বলেন, পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছে। থানা সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। সপরিবারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ, এই গ্রামেরই এক যুবক ওই স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করে। নির্যাতিতা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে গেলে সে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এরপর ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। থানায় অভিযোগ হওয়ার পরই অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার বাড়ির অন্যান্যদেরও দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়িতে তালা ঝুলছে।

এদিকে, অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাকে নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন গরিব দিন মজুর বাবা মা। তারা এখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। এদিন গ্রামবাসীদের সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে বাবা, মা থানায় যান। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা।

বিষ্ণুপুরে বধূকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, বাড়ি ভাঙচুর

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোমবার বিষ্ণুপুরের নারায়ণপুরে এক গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম প্রিয়াংকা বাঙাল(২০)। তাঁর বাড়ি নারায়ণপুর গ্রামেই। পুলিশ জানিয়েছে, এদিন সকালে বাড়ির পাশেই গোয়ালঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা, গৃহবধূর স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক। ঘটনার জেরে এদিন দুপুরে মৃতার আত্মীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’বছর আগে বিষ্ণুপুরের পানরডাঙর গ্রামের প্রিয়াংকার সঙ্গে স্থানীয় নারায়ণপুরের বাসিন্দা নবকুমার বাঙালের বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের সময় সাধ্যমতো যৌতুক দেওয়া সত্ত্বেও বধূর উপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত। সম্প্রতি তা চরমে পৌঁছায়। রবিবার রাতে বধূকে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে গোয়াল ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে দেহ উদ্ধার হয়।

মৃতার মা ঝর্ণা দে বলেন, মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই। আমি দোষীদের চরম শাস্তি চাই।

ভাতারে লরি ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন শিশুকন্যার দেহ, অবরোধ

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বালিবোঝাই লরির ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল এক শিশুকন্যার দেহ। মৃত শিশুটির নাম রিয়া দাস(৬)। ভাতার থানার শুনুড় গ্রামে শিশুটির বাড়ি। গ্রাম্য পুজোয় মা ও দাদার সঙ্গে মামারবাড়ি ঢেড়িয়ায় গিয়েছিল সে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকালে সে গ্রামের একটি দোকান থেকে চকোলেট কেনে। তারপর মামারবাড়ির সামনে বলগনা-চন্দ্রপুর রোডে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সে। সেই সময় চন্দ্রপুরমুখী একটি বালিবোঝাই লরি প্রচণ্ড গতিতে এসে তাকে ধাক্কা মারে। শিশুটির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। রাস্তা অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মেলার পর অবরোধ ওঠে। পুলিশ দেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। লরিটিকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। যদিও চালক পলাতক।

কোরাম না হওয়ায় গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন পিছল

বিএনএ, আরামবাগ: গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে সোমবার শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন ধার্য করা হলেও পর্যাপ্ত সদস্য উপস্থিত না থাকায় তা স্থগিত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এসেছে। প্রসঙ্গত, ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ অনুপ ঘোষ মারা গিয়েছেন। সেই পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় এদিন স্থায়ী সমিতির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন ঠিক করে প্রশাসন।

শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনে স্থায়ী সমিতির সাত সদস্যের মধ্যে এদিন চারজনের উপস্থিত থাকার প্রয়োজন ছিল। পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, এক গোষ্ঠীর তিনজন স্থায়ী সমিতির সদস্য উপস্থিত থাকলেও অন্য গোষ্ঠীর কোনও সদস্য আসেননি।

এ ব্যাপারে গোঘাট-২এর বিডিও অরিজিৎ দাস বলেন, পঞ্চায়েত সমিতিতে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন ঠিক ছিল। কিন্তু এদিন তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা কেউ না আসায় কোরাম করা যায়নি। তাই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের তারিখ মহকুমা প্রশাসন ঠিক করবে।

গোঘাটের তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, পঞ্চায়েত সমিতিতে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের জন্য সদস্যরা কেন যাননি, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

বালি পাচারের প্রতিবাদে বড়জোড়ার মানাচরে অনশন অব্যাহত

বিএনএ, বাঁকুড়া: বেআইনি বালি পাচার বন্ধের দাবিতে সোমবারও বড়জোড়ার মানাচরের বাসিন্দারা অনশন আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রবিবার রাত ১০টা নাগাদ মঞ্চে কিছু বহিরাগত লোকজন এসে অনশন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের তরফে ননী রায় বলেন, বালি মাফিয়ারা আমাদের আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারাই রবিবার রাতে বাইক বাহিনী পাঠিয়েছিল। রাত ১০টা নাগাদ বহিরাগতরা এসে অনশন তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। যদিও আন্দোলনকারীরা একজোট হলে বহিরাগতরা পিছু হটে। বিষয়টি আমরা পুলিশ ও প্রশাসনকে জানিয়েছি।

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা জানিয়েছেন, এব্যপারে বড়জোড়া থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে, ইতিমধ্যেই বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ফের যাতে কেউ বালি পাচার করতে না পারে তার জন্য পুলিশ এলাকায় নজর রাখছে।

বাঁকুড়ার জেলাশাসক মৌমিতা গোদারাবসু বলেন, আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে অনশন প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা অনশনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

দীঘা থেকে ফেরার পথে সবংয়ের কিশোর কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা ভ্রমণ শেষে রামনগরে এসে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং এলাকার দুই কিশোর-কিশোরী। বর্তমানে তারা কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বছর ষোলোর দুই কিশোর-কিশোরীর বাড়ি সবংয়ের মোহাড় গ্রামে। দু’জ঩নেই এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তারা গোপনে বিয়ে করে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। দুই বাড়ির লোকজন তাদের প্রেম মেনে নেয়নি, আর এই বিয়েও মেনে নেবে না আশংকা করেই তারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ রামনগর স্টেশনের কাছে কয়েকজন দোকানদার বাড়ি ফেরার সময় ওই দুই কিশোর-কিশোরীকে অন্ধকারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা রামনগর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তাদের কাছ থেকে বিষের শিশি ও চিঠি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই চিঠিতে দুজনের নাম, ঠিকানা, মোবাইল ফোন ও কী কারণে মরতে চায় তা লেখা ছিল। পুলিশ ফোন নম্বর দেখে দু’জনেরই বাড়ির লোকজনদের কাছে খবর পাঠায়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দিন দু’য়েক আগে তারা দীঘা বেড়াতে আসে। দীঘায় দু’দিন কাটিয়ে বাসে চেপে সবং ফিরছিল। রামনগরে বাসস্টপেজে নেমে রেল স্টেশনের কাছে তারা বিষ খায়।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি

সংবাদদাতা, বর্ধমান: ফের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ধরা পড়ল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাণিজ্য শাখার পার্ট থ্রি-র পরীক্ষায় মূল নম্বরে ত্রুটি ধরা পড়েছে। সোমবার পরীক্ষার দু’টি পত্রের নম্বরে ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দপ্তরে এসএমএস ও ই-মেল করে পরীক্ষা কেন্দ্রে নতুন নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। বারবার প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ধরা পড়ায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। এর ফলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন পড়ুয়ারা। এনিয়ে ছাত্র আন্দোলনও হয়েছে। আন্দোলন থামাতে কর্তৃপক্ষের তরফে ছাত্রদের নানা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ফের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ধরা পড়ায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নম্বরে ভুল থাকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন উপাচার্য নিমাই সাহা। এব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গত মাসে আইন ও সংস্কৃতের প্রশ্নপত্রে ছাপার ভুল থাকায় পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়কে। গত সপ্তাহে পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি থাকার কারণে দু’ঘণ্টার পরিবর্তে পরীক্ষার্থীদের তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। আর এদিন বাণিজ্য বিভাগের পার্ট থ্রি-র পাস কোর্সের পরীক্ষা ছিল। নতুন সিলেবাসের পরীক্ষার্থীরা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ইন বিজনেস বিষয়ে পরীক্ষা দেন। আর পুরানো সিলেবাসের পরীক্ষার্থীদের বিষয় ছিল অ্যাডভান্স অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে দু’টি সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি নজরে আসে পরীক্ষার্থীদের। হলের মধ্যেই তাঁরা চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। এমনকী পরীক্ষা বাতিলের দাবিও জানান তাঁরা। পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষককে ডেকে প্রশ্নপত্রের ত্রুটি ধরে এব্যাপারে নির্দেশিকা পাঠানো হয় কলেজগুলিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, পরীক্ষা নিয়ামক দপ্তরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সে কারণে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নে বারবার ভুল ধরা পড়ছে। কিন্তু, কোনও একটি বিশেষ দপ্তরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায় অস্বীকার করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাণিজ্য বিভাগের পার্ট থ্রি গ্রুপ চারের ২ নম্বর পেপারের নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন থাকার কথা ৬০ নম্বরের। অথচ প্রশ্ন হয়েছে ৯০ নম্বরের। আবার পুরানো সিলেবাসের ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্রে ফুল মার্কস হল ৬০ নম্বর। বাণিজ্য বিভাগের পার্ট-৩এর ৪০০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ামক রাজীব মুখোপাধ্যায় বলেন, দপ্তর প্রশ্ন তৈরি করে না। প্রশ্ন আগেভাগে দেখার এক্তিয়ারও দপ্তরের নেই। যাঁরা প্রশ্ন করেছেন তাঁদেরই ভুল এটা। ফোন না ধরায় এবিষয়ে বাণিজ্য শাখার প্রধান শান্তনু ঘোষের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক দীপংকর দে বলেন, পরীক্ষা নিয়ামক দপ্তরের গাফিলতির কারণে পরীক্ষার্থীদের ভুগতে হচ্ছে। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পুরুলিয়ার বালিগাড়া গ্রামে বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া থানার বালিগাড়া গ্রামে বৃদ্ধ খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম জানকী মাহাত, অমূল্য মাহাত ও প্রহ্লাদ মাহাত। তাদের বাড়ি বালিগাড়া গ্রামে। সোমবার ধৃতদের ম঩ধ্যে অমূল্য এবং প্রহ্লাদ মাহাতকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। জানকী মাহাতকে আজ, মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে। অন্যদিকে, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে পুরুলিয়া মফসস্ল থানার বালিগাড়া গ্রামে রাস্তা নিয়ে বিবাদের জেরে হারাধন মাহাত নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ধনঞ্জয় মাহাত এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্তে নেমে মফসস্ল থানার পুলিশ রবিবার রাতেই ধনঞ্জয় মাহাতর বাবা প্রহ্লাদ মাহাত এবং দাদা অমূল্য মাহাতকে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার রাতে মূল অভিযুক্ত ধনঞ্জয়ের মা জানকী মাহাতকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত ধনঞ্জয় এবং তার স্ত্রী জবা মাহাতর কোনও সন্ধান পায়নি পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তারা গাঢাকা দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

খড়্গপুরের হস্টেলে ছাত্রদের দিয়ে রান্না: তদন্ত শুরু

বিএনএ, মেদিনীপুর: খড়্গপুর লোকাল থানার জকপুরের জফলা আদর্শ বিদ্যায়তনের ছাত্রাবাসে ছাত্রদের দিয়ে রান্না করানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু হল। সোমবার দু’জন এআই ওই স্কুলে যান।

উল্লেখ্য, রাঁধুনি না থাকায় রান্নার কাজ করতে বাধ্য করা হত আবাসিক ছাত্রদের। গত সপ্তাহে ওই স্কুলের ছাত্রাবাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। এদিন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অমরকুমার শীল বলেন, জেলাশাসকের নির্দেশে বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিন দু’জন এআইকে স্কুলে পাঠানো হয়। এরকম ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশান্তকুমার খান যদিও দাবি করেছেন, অভিযোগ ঠিক নয়। তবে রাঁধুনির বেশ কয়েকদিন ছুটিতে থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। অভিযোগের পরপরই একজন রাঁধুনিও নিয়োগ করা হয়।

ভগবানপুরে ভূমি আধিকারিকের বদলি আটকাতে অবস্থান বিক্ষোভ

সংবাদদাতা, কাঁথি: ভগবানপুর-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের বদলি আটকাতে আন্দোলনে নামলেন এলাকার বাসিন্দারা। সফিউদ্দিন গাজি নামে ওই আধিকারিকের বদলি আটকাতে হবে, এই দাবি নিয়ে সোমবার বিডিও অফিসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করেন এলাকার বেশকিছু বাসিন্দা। বিডিও বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে জানানোর পর বিক্ষোভ ওঠে।

জানা গিয়েছে, মাসছয়েক আগেই ভগবানপুর-১ ব্লক ভূমি ও ভূমি আধিকারিকের কাজে যোগ দেন সফিউদ্দিন সাহেব। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তিনি কাজের মানুষ। তিনি আসার পরই ওই দপ্তরের ছবিটা বদলে গিয়েছে। তাই তাঁকে বদলি করা যাবে না। ভগবানপুর-১এর বিডিও পরিতোষ মজুমদার বলেন, আমরা সমস্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসন এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে জানিয়েছি। তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ঩সফিউদ্দিন সাহেব বলেন, আমি সরকারি কর্মচারী। যেখানে বদলি করা হবে, সেখানেই যেতে হবে। তবে এলাকার মানুষের এই ভালোবাসা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।

নম্বর প্লেটহীন ‘পুলিশ’ লেখা গাড়ি আটক

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সোমবার বিকালে রামপুরহাটের মনসুবা মোড়ে চেকিং করার সময় নম্বর প্লেটহীন ‘পুলিশ’ লেখা একটি স্করপিও গাড়ি আটক করল রামপুরহাট থানার পুলিশ। আটক করা হয় এক মহিলা, পাঁচ নাবালক ও গাড়ির চালককে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটি মালদহ থেকে তারাপীঠ যাচ্ছিল। গাড়িতে বছর ত্রিশের এক মহিলা ও বছর পনেরোর পাঁচ নাবালক ছিল। গাড়িতে নম্বর প্লেট ছিল না। গাড়ির পিছনে ও সামনে পুলিশ লেখা ছিল। তবে পুলিশের কোনও কর্মী গাড়িতে ছিল না। রামপুরহাট থানার আইসি স্বপন ভৌমিক বলেন, গাড়িটিতে যা কাগজপত্র ছিল তা সিজ করে কেস করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta