কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

কালনার গণপিটুনির ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় দেখে
রানাঘাটের হবিবপুরে অবরোধ, বাসে
আগুন
,
আক্রান্ত পুলিশ, লাঠিচার্জ
অভিমন্যু মাহাত  হবিবপুর(নদীয়া)

বিএনএ: কালনার গণপিটুনির ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় দেখে শুক্রবার রাত থেকেই ফুঁসছিল রানাঘাটের হবিবপুর। শনিবার সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। জাতীয় সড়ক অবরোধ, বাসে আগুন, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হল দফায় দফায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এদিকে, গণপিটুনিতে মৃত ও জখমদের পরিবারের লোকজন ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া আর্জি জানিয়েছেন।

এদিকে, শনিবার বর্ধমান জেলা প্রশাসন মৃতের পরিবারের জন্য দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ নদীয়া জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে। নদীয়ার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা বলেন, রবিবার মৃতের পরিবারের হাতে দু’লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হবে।

অন্যান্য দিনের মতো আমের মুকুলে কীটনাশক দিতে ব্যাগে স্প্রে মেশিন, ওষুধ নিয়ে হবিবপুরের পাঁচজন শুক্রবার সাত সকালেই গিয়েছিলেন কালনায়। সোস্যাল মিডিয়ায় গুজবের জেরে সেখানে ‘জঙ্গি’ সন্দেহে তাঁরা গণপিটুনির শিকার হন। বর্ধমান হাসপাতালে গিয়ে মৃত্যু হয় অনিল বিশ্বাসের। জখম হন ব্যঞ্জন বিশ্বাস, নারায়ণ দাস, মানিক সরকার ও মধুমঙ্গল তালুকদার। প্রত্যেকের বাড়ি রানাঘাট থানার হবিবপুরে। ওই দিন রাতেই ফেসবুকে কালনার গণপিটুনির ভিডিও ক্লিপিং দেখেন হবিবপুরের যুব সম্প্রদায়। ওই ভিডিও ক্লিপিং ভাইরাল হয়ে পড়ে। হোয়াটসঅ্যাপে এক মোবাইল থেকে আরেক মোবাইলে দ্রুত ছড়ায়। ভিডিও ক্লিপিং দেখে হবিবপুরের বাসিন্দারা রাত থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন।

শনিবার সকাল ১০ টা নাগাদ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে হবিবপুর ইসকন মন্দিরের সামনে পথ অবরোধে নামেন মৃতের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী। এরই মাঝে কালনাঘাট থেকে রানাঘাটগামী একটি বেসরকারি বাসে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলার পুলিশ সুপার সহ উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তারা। দেড় ঘণ্টা পর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলার পুলিশ সুপার শিশরাম ঝাঝোরিয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে লাঠিচার্জ হয়নি।

হবিবপুরের রাঘবপুর এলাকায় বাড়ি মৃত অনিল বিশ্বাসের। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। তাঁর চার ছেলে। তিন ছেলে দিনমজুরি করেন। ছোট ছেলে সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া। মৃতের বৃদ্ধা মা অমরীদেবী এখনও জীবিত রয়েছেন। ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তিনি। মৃতের বড় ছেলে বাবুন বলেন, মরশুম অনুযায়ী বিভিন্ন ফুলে স্প্রে করে বাবা প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ টাকা রোজগার করত। আম মুকুলে স্প্রে করতে এর আগেও কালনা গিয়েছে। ২০ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিন অঘটন ঘটেনি। ভোটার, আধার কার্ডের জেরক্স সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নৃশংসভাবে ওরা আমার বাবাকে মারল। ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন মৃতের ছেলে ও হবিবপুরের বাসিন্দারা।

রাঘবপুর এলাকারই নারায়ণ দাস গুরুতর জখম হয়ে কলকাতায় পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এখনও জ্ঞান ফেরেনি। নারায়ণের মা অনিমা দাস বলেন, ছেলে মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়িতেও এই কাজ করেছে। কোথাও কেউ সন্দেহ করেনি। কালনায় গিয়ে এখন ছেলে মৃত্যুর মুখোমুখি। আমাদের দাবি, যারা আমার ছেলেকে মারল, তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারা কারা মারছে। পুলিশ ওই ভিডিও দেখে দোষীদের গ্রেপ্তার করুক। আরেক জখম মানিক সরকার বর্তমানে বর্ধমানের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি। তাঁর দাদা নন্দ সরকার বলেন, আমিও ২৫ ধরে ফুলে স্প্রে করার কাজ করছি। এই স্প্রে করেই আমাদের অভাব অনটনে সংসার চলে। ভাইকে চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের দাবি, সরকার কিছু ক্ষতিপূরণ দিক।

ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন জখম ব্যঞ্জন বিশ্বাস ও মধুমঙ্গল তালুকদারের পরিবারও। ব্যঞ্জনের বউদি গঙ্গা বিশ্বাস বলেন, আমরা মাওবাদী? আমরা জঙ্গি? এতদিন আমরা এই পেশায় খেটে খাচ্ছি। আজ আমরা জঙ্গি হয়ে গেলাম?দোষীরা গ্রেপ্তার না হলে, আমরা আবারও রাস্তায় নামব।

শ্রীনু হত্যাকাণ্ডে
গোপন জবানবন্দি দিতে না চাওয়ায় নন্দকে
মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ আইনজীবীর

বিএনএ, মেদিনীপুর: গোপন জবানবন্দি দিতে না চাওয়ায় তাঁর মক্কেলকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। শ্রীনু হত্যাকাণ্ডে ধৃত নন্দ দাসের আইনজীবী শনিবার এই অভিযোগ করেছেন। এদিন শ্রীনু নাইডু খুনের ঘটনায় ধৃত নন্দকে অন্য একটি মামলায় মেদিনীপুর আদালতে তোলার সময় সংবাদমাধ্যমের কাছে সেও একই অভিযোগ জানায়। এদিন ধৃতের অভিযোগ, সে ১০বছর হল দাঁতন দেখেনি। অথচ গোপন জবানবন্দি দিইনি বলে, দাঁতনের একটি মামলায় আমাকে জড়ানো হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে আমাকে। তার আরও অভিযোগ, তার উপরে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে বাইক নিয়ে এখন পর্যন্ত ঘুরছে অনেকে।

কারা চাপ দিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরে চুপ থেকেছে নন্দ।

দিলীপবাবু ঘটনায় জড়িত নয়, সংবাদমাধ্যমে এ কথা বলতেই কী তাকে অন্য মামলায় জোড়া হল? প্রশ্নের উত্তরে ধৃত নন্দের জবাব, হ্যা ঠিক।

গত মাসে দাঁতনের একটি ডাকাতির ঘটনায় যুক্ত করা হয়েছে শ্রীনু মামলায় ধৃত নন্দ দাসের নাম। গত বুধবার মেদিনীপুর আদালতে তাকে এই মামলায় যুক্ত করা হয় এবং আদালতে তোলার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সিজেএমের এজলাসে আবেদন জানানো হয়। তা মঞ্জুরও হয়।

উল্লেখ্য, সোমবারই নন্দর গোপন জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল আদালতে। পুলিশই এমন আবেদন জানিয়েছিল কোর্টে। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে অস্বীকার করে নন্দ। আবার কোর্টে ঢোকানোর আগে নন্দ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলে, ঘটনায় দিলীপ ঘোষ জড়িত নয়।

ধৃতের আইনজীবী চন্দনুকমার গুহের অভিযোগ, গোপন জবানবন্দি দিতে না চাওয়ায় শাস্তিস্বরূপ তাঁর মক্কেলকে মিথ্যা একটি মামলায় জড়ানো হচ্ছে। এদিন দাঁতনের ওই মামলায় নন্দর টিআই প্যারেডের আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর দাঁতনের বাইপাটনায় একটি সোনার দোকানে ডাকাতি হয়। দোকান মালিক শশাঙ্ক রাণার অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের পুলিশি হেপাজতেও নেওয়া হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই উঠে আসে নন্দর নাম। জেলা পুলিশের এক কর্তার দাবি, তার ভিত্তিতে নন্দকে ওই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে এবং আদালতে তোলার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এদিন চন্দনবাবু বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারি এই মামলায় নন্দর টিআইপ্যারেড হবে।

আরামবাগে মূক গৃহবধূকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতন ও
 ভিক্ষা করানোর অভিযোগ, অভিযুক্তকে গাছে বেঁধে মার

সংবাদদাতা, আরামবাগ: এক মূক গৃহবধূকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতন ও ভিক্ষাবৃত্তি করানোর অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তিকে গাছে বেঁধে মারধর করে গ্রামের লোকজন। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে আরামবাগের বুলণ্ডি গ্রামে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আরামবাগ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম শেখ সইদুল। বাড়ি ওই এলাকাতেই।

ওই গৃহবধূর মায়ের অভিযোগ, ২০১১সালের নভেম্বর মাসে তাঁর মেয়ে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায়। বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজন আরামবাগ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। দিন দশেক আগে ওই মহিলা এক আত্মীয়ের কাছ থেকে খবর পান তাঁর মেয়ে হাওড়ার একটি হোমে রয়েছে। এরপর তিনি ওই হোমে গিয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে ১৭জানুয়ারি মেয়েকে হোম থেকে ছাড়িয়ে আনেন। ১৯ জানুয়ারি তাঁকে আরামবাগের বুলণ্ডির বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০ জানুয়ারি দুপুরে ওই গৃহবধূ তাঁদের পাড়ারই বাসিন্দা সইদুলকে দেখে তার কাছে ছুটে যান। সেখানে ওই গৃহবধূ সইদুলকে ধরে টানাটানি করতে থাকেন। তখন বিষয়টি বুঝতে না পেরে ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকেরা তাঁকে সইদুলের কাছ থেকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন।

এরপর ২১জানুয়ারি অর্থাৎ শনিবার সকালে ওই গৃহবধূ সইদুলের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। সেখানে তিনি সইদুলকে ধরে মারতে থাকেন। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা জড়ো হয়। ওই গৃহবধূ মুখে কিছু বলতে না পারায় গ্রামবাসীদের ইশারার মাধ্যমে সইদুল যে তাঁকে অপহরণ করে ভিক্ষাবৃত্তি ও যৌন নির্যাতন করে তা বুঝিয়ে দেন।

এরপরই গ্রামবাসীরা সইদুলকে আটক করে গ্রামেই একটি গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটায়। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সইদুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সইদুলকে গ্রেপ্তার করে। রেহেনা বিবি বলেন, আমার মেয়েকে সইদুল অপহরণ করেছিল। তাকে ঘুমপাড়ানোর ওষুধ দিয়ে হাত পা বেঁধে আরামবাগ থেকে বহুদূরে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছিল। সইদুলের সঙ্গে আরও দু’জন ছিল। সেখানে আমার মেয়েকে দিয়ে দিনে ভিক্ষাবৃত্তি ও রাতে তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হত। আমার মেয়ে বাড়িতে ফিরে ইশারার মাধ্যমে আমাকে সব জানায়। আমি সইদুলের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

অভিযোগের তির ভগবানপুরের বিধায়কের দিকে
চাপের মুখে বাজকুল কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ, জেলা শিক্ষা মহলে শোরগোল
বিশ্বজিৎ মাইতি  তমলুক

বিএনএ: বাজকুল কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ ঘিরে জেলার শিক্ষা মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার বিকালে কলেজের অধ্যক্ষ প্রভাতকুমার রায় পদত্যাগপত্র জমা দেন। শনিবার সকালে তিনি কাঁথির পিকে কলেজে রসায়নের অধ্যাপক হিসাবে পুনরায় যোগ দেন। প্রভাতবাবুর অভিযোগ, কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা ভগবানপুরের বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি সহ অন্যরা তাঁকে ছ’ঘন্টা কলেজে আটকে রেখে জোর করে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য করেছেন। যদিও অর্ধেন্দুবাবু জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের ব্যবহার খারাপ। গর্ভনিং বডির সকল সদস্য তাঁকে পদত্যাগ করতে বলায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৪আগস্ট কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজ থেকে বাজকুল কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে আসেন প্রভাতকুমার রায়। এরপর কলেজ উন্নয়নের টাকা খরচ নিয়ে বারবার গর্ভনিং বডির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযানের কোটি কোটি টাকা খরচের বিষয় তথ্য জানার অধিকার আইনে জানতে চেয়েছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র গোষ্ঠবিহারী দাস। তার উত্তরে কলেজের অধ্যক্ষ বিস্ফোরক উত্তর দেন। প্রভাতবাবুর লিখিত বক্তব্যে দুর্নীতির ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়ে গোষ্ঠবিহারী দাস সহ কলেজ তৈরির জন্য জমিদাতা কয়েকজন হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও করেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি বাজকুল কলেজ বাঁচাও কমিটি তৈরি করেছেন স্থানীয় মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকাল ১১টায় কলেজে গর্ভনিং বডির বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে প্রভাতবাবুকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়। বিকাল পাঁচটায় পদত্যাগপত্রে সই করেন প্রভাতবাবু। শুধু পদত্যাগপত্রেই নয়, তথ্য জানার অধিকার আইনে তিনি যে উত্তর দেন তা যে ভুল করে তিনি দিয়েছেন এমন বয়ানেও জোর করে তাঁকে দিয়ে সই করানো হয় বলে অভিযোগ।

তথ্য জানার অধিকার আইনে কলেজের মাঠ সংস্কার বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে প্রভাতবাবু বলেছিলেন, মাঠ সংস্কারের জন্য ১৭ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪১৮ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ই-টেন্ডার ছাড়াই ওই কাজ বাজকুল কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিট সভাপতি রবিনচন্দ্র মণ্ডলের সংস্থাকে দিয়ে দেওয়া হয়। কাজ সম্পূর্ণ না হলেও রবিনচন্দ্র মণ্ডলের সংস্থাকে মাঠ সংস্কারের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়।

কলেজের ইন্ডোর স্টেডিয়াম সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিলেন, কিছু বহিরাগত জোর করে এর মধ্যে বাইক রাখে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। কলেজের পুকুরের বাৎসরিক লিজ বাবদ কত আয় প্রশ্নে অধ্যাপক জানিয়েছিলেন, বাৎসরিক ১ লক্ষ টাকায় পুকুরটি এক ব্যক্তিকে লিজে দেওয়া হয়েছিল। ২০১২-১৩ সালের টাকা ছাড়া আর কোনও টাকা কলেজ পায়নি। তা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি পুকুর নিজের দখলে রেখেছেন। উনি আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

২০১৬ সালের ছাত্র সংসদ তহবিলের টাকা খরচ বিষয়ক প্রশ্নে উনি বলেন, আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালে কোনও ছাত্র সংসদের অস্তিত্ব নেই। কিন্তু, ছাত্র সংসদের নামে দু’টি ঘর অন্যায়ভাবে দখল করা হচ্ছে। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে যে ছাত্রী কলেজ থেকে ১২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা তুলেছে সেই সময় সে কলেজের ছাত্রী ছিল না।

গোষ্ঠবিহারী দাস সহ অন্যান্যদের অভিযোগ, দুর্নীতি ঢাকতে জোর করে অধ্যক্ষকে সরিয়ে দিল শাসক দল।

প্রভাতবাবু বলেন, সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আমায় আটকে রেখে পদত্যাগপত্রে সই করতে বাধ্য করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোন করার চেষ্টা করলে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। লাগাতার চাপ ও অশ্রাব্য কথা শুনে বাধ্য হয়ে পদত্যাগপত্রে সই করেছি। এছাড়া ওদের বয়ান লেখা আর একটি কাগজে সই করিয়েছে।

অর্ধেন্দু মাইতি বলেন, অধ্যক্ষের দুর্ব্যবহারে কলেজের সকল অধ্যাপক, ছাত্রছাত্রী ও অশিক্ষক কর্মচারী অতিষ্ঠ। আগের বৈঠকে অধ্যক্ষকে সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ওঁর ব্যবহারের কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় সকল সদস্য ওঁকে পদত্যাগ করার কথা বলেন। উনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন।

গোঘাটে ধানবোঝাই লরি হাইজ্যাকের অভিযোগে বীরভূমের ২ যুবক গ্রেপ্তার

সংবাদদাতা, আরামবাগ: ধানবোঝাই একটি লরি হাইজ্যাক করার অভিযোগে শুক্রবার রাতে বীরভূমের সূচপুর থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোঘাট থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মানোয়ার হোসেন ও মনসুর আলি। তাদের বাড়ি সূচপুর এলাকাতেই।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি বিকালে মেদিনীপুর থেকে ভাড়া নেওয়া একটি লরিতে এক ধান ব্যবসায়ীর ২৮০ বস্তা ধান আরামবাগে আসছিল। রাত ১০টা নাগাদ কামারপুকুর চটিতে এসে ওই লরির চালক ও খালাসি খাবার খান। এরপর তাঁরা লরি নিয়ে আরামবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। গোঘাটের পঁচাখালি এলাকায় লরিটি পৌঁছাতেই একটি লাল রংয়ের টাটাসুমো এসে তাঁদের পথ আটকায়। দুষ্কৃতীরা লরিটিকে হাইজ্যাক করে নিয়ে পালায়। পাশাপাশি চালক ও খালাসির হাত, পা, চোখ বেঁধে বিষ্ণুপুরের কাছে একটি মাঠের মধ্যে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। ওই ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। চালক ও খালাসি নিজেদের চেষ্টায় সেখান থেকে মুক্ত হন। এরপর তাঁরা গোঘাট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে মানোয়ার ও মনসুরকে গ্রেপ্তার করে।

মেমারি-১ ব্লকের গোপগন্তার-২ পঞ্চায়েত
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে প্রধান-উপপ্রধানের বিরোধ, সংঘর্ষ

বিএনএ, বর্ধমান: মেমারি-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গোপগন্তার-২ পঞ্চায়েতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তা তালিকা নিয়ে প্রধান ও উপপ্রধানের সংঘাতের জেরে সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। শুক্রবার পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ওই সংঘর্ষ বাধে। তাতে দু’পক্ষের চার-পাঁচজন জখম হন। প্রধানের বিরুদ্ধে উপপ্রধান তালিকায় গরমিলের অভিযোগ পাওয়ার পর বিডিও অফিসে তা গ্রহণ করা হয়নি। গত ১৮ জানুয়ারি জয়েন্ট বিডিও প্রধান, উপপ্রধান এবং এক্সিকিউটিভ অ্যা঩সিস্ট্যান্টকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। ফের তালিকা তৈরি করে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। উপপ্রধানের এক ঘনিষ্ঠ নতুন তালিকা পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিতে গেলে গোলমাল হয়। দু’পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাতে কয়েকজন জখম হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি-১ ব্লক প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় গোপগন্তার-২ পঞ্চায়েত থেকে মোট ১১২৪জন উপভোক্তার তালিকা চেয়ে পাঠায়। এরমধ্যে তফসিলি জাতি ও উপজাতি, অন্যান্য এবং সংখ্যালঘু ক্যাটাগরি উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, পঞ্চায়েত প্রধান অসিত ঘোষ উপপ্রধান সহ অন্যান্য কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে কোনওরকম পরামর্শ না করেই ওই তালিকা তৈরি করেন। মেমারির বিধায়ক নার্গিস বেগম ঘনিষ্ঠ ওই প্রধানের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ উপপ্রধান জিতেন্দ্রনাথ বাগ বিডিও-র শরণাপন্ন হন।

উপপ্রধানের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধানের তালিকা বিডিও অফিসে জমা নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গত ১৮ জানুয়ারি মেমারি-১ ব্লকের বিডিও শৈলশিখর সরকার গোপগন্তার-২ পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে ডেকে পাঠান। মহকুমা শাসকের সঙ্গে বিডিও মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় জয়েন্ট বিডিও বৈঠক করেন। পাশাপাশি ফের উপভোক্তা তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন জয়েন্ট বিডিও। ওই তালিকায় প্রধান, উপপ্রধান এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের সই থাকবে বলে তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার উপপ্রধান নিজের গ্রাম সংসদ এলাকার তালিকা বানিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ উৎপল রায়ের মাধ্যমে পঞ্চায়েত অফিসে পাঠান। ওইদিন উপপ্রধান পঞ্চায়েত অফিসে গেলে তাঁর উপর হামলার পরিকল্পনা করে প্রধানের অনুগামীরা জড়ো হয়েছিলেন। উপপ্রধান গোড়াতেই বিষয়টি জানার পর নিজে না গিয়ে উৎপলবাবুকে দিয়ে তালিকা পাঠান। উৎপলবাবুর উপর প্রধানের ঘনিষ্ঠ লোকজন হামলা চালায়। তাঁকে মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। এরপর উপপ্রধানের অনুগামীরা পালটা ধোলাই দেয়।

প্রধান অসিত ঘোষ বলেন, উপপ্রধান তালিকা নিয়ে অভিযোগ জানানোর পর বিডিও অফিসে তা গ্রহণ করা হয়নি। ১৮ তারিখ জয়েন্ট বিডিও তিনজনকে নিয়ে মিটিং করেন। তিনি উপপ্রধানকে পাঁচটি গ্রাম সংসদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেন। অথচ শুক্রবার তিনি নিজে না এসে অন্য একজনের মাধ্যমে তালিকা পাঠান। পঞ্চায়েত অফিসের বাইরে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে, তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে উপপ্রধান বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে কোনওরকম পরামর্শ না করে প্রধান একতরফাভাবে তালিকা বানিয়েছেন। সেখানে প্রকল্পের নিয়মকানুন মানা হয়নি। এর প্রতিবাদে আমি বিডিও-র কাছে অভিযোগ জানাই। শুক্রবার আমি উৎপল রায়ের মাধ্যমে তালিকা পঞ্চায়েত অফিসে পাঠাই। পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে তাঁকে মারধর করা হয়।

আসানসোলে পুরানো শাড়ি নতুন বলে বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই, ঠকছেন ক্রেতারা

বিএনএ, আসানসোল: সেল। সেল। সেল। স্ত্রীর জন্য ২০০ টাকা জোড়া রঙিন শাড়ি নিয়ে যান। ৫০০ টাকায় পাবেন ৬ টি শাড়ি। বাসস্ট্যান্ড বা রেল স্টেশনের কাছে বসে থাকা ফেরিওয়ালার মন জয় করা অফার শুনে ঘাবড়ে যাচ্ছেন? ভাবছেন সারা বছর জুড়ে সেল চলছে কীভাবে? কখনও অতশত চিন্তা না করেই স্ত্রীর মন জয় করার জন্য ব্যাগে কাপড় ভরে সোজা বাড়ি গিয়ে কপাল চাপড়েছেন এমন লোকজনের সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু তাতেও কি আর শিক্ষা হয়? সস্তায় স্ত্রীর জন্য এমন উপহার পাওয়া গেলে কেউ কি আর হাতছাড়া করতে চায়? কিন্তু একটু খোঁজ নিলেই ভুল ভেঙে যাবে। তখন আর আক্ষেপ করা ছাড়া কোনও পথ খোলা থাকবে না।

আসানসোলের রেলপাড়ে একটি চক্র জনতার সঙ্গে এমনই প্রতারণা করে চলেছে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রটি মুম্বই, বেঙ্গালুরু বা অন্য রাজ্য থেকে পুরানো কাপড় কেজি দরে কিনে আনে। প্রতি মাসেই ভিন রাজ্য থেকে কাপড় বোঝাই ট্রাক এখানে আসে। এরপরেই সেই কাপড়গুলি ভালোভাবে কেমিকেল দিয়ে পরিষ্কার করার পরে ইস্ত্রি করে নতুন প্যাকেটবন্দি করে বাজারে ছাড়া হয়। কখনও কখনও আবার তা ঝাড়খণ্ড, বিহার বা উত্তরপ্রদেশেও চলে যায়। এদের মতো এত সস্তায় কাপড় অন্য কোনও দোকানদারই দিতে পারে না। পুরানো কাপড়ের আমদানি বেশি হয়ে গেলে ৫০ টাকাতেও এরা কাপড় বিক্রি করে। রেল পাড়ের কাউন্সিলার গোলাম সরওয়ার বলেন, এই পেশাতে বহু কম বয়সিরা জড়িয়ে পড়েছে। কাঁচা টাকা হাতে পেয়ে তারা নেশাতেও আসক্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে লোকজনদের ঠকানো ঠিক নয়।

এই পেশায় যুক্ত এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কাউকে কাপড় কেনার জন্য জোরজবরদস্তি করি না। সবাই জানে ১০০ টাকায় ভালো শাড়ি পাওয়া যায় না। পুরানো বা ছেঁড়া কাপড় জেনেই লোক আমাদের কাছ থেকে কেনে। এতে প্রতারণা করার কিছু নেই।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এত কম দামে কোনও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কাপড় দিতে পারে না। তাছাড়া ক্রেতারা সব কিছু দেখার পরেই কাপড় কেনে। তাই এতে অন্যায়ের কিছু নেই। বস্তিন বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, কম দাম মাত্রই যে সব সময় পুরানো হবে এমন কোনও মানে নেই। কিন্তু অত্যধিক কম দামে জিনিসপত্র বিক্রি হলে তা যাচাই করা দরকার। সবাই ভালোভাবেই জানে ৮০ বা ১০০ টাকায় কোনও মতেই নতুন শাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। শাড়ি তৈরির খরচই উঠবে না। তারপরেও জেনে শুনে লোকজন ঠকতে গেলে ব্যবসায়ীদের দোষ কোথায়?

দীর্ঘদিনের পুরানো ব্যবসায়ীরা বলেন, স্ত্রীকে খুশি করার জন্য উপহার কিনতে হলে একটু যাচাই করে তা হাতে তুলবেন। না হলে বাড়ি গিয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে।

কালনায় সোস্যাল মিডিয়ার গুজবের বিরুদ্ধে প্রচারে মন্ত্রী, সভাধিপতি এবং এসডিও

বিএনএ, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, কালনা: সোস্যাল মিডিয়ায় গুজবের জেরে কালনার বারুইপাড়ায় নিরীহকে পিটিয়ে খুনের ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু, মহকুমা শাসক নীতিন সিংহানিয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু প্রমুখ একযোগে প্রচার চালালেন। এদিন সকালে কালনা ট্রেজারি বিল্ডিংয়ে মহকুমার অন্তর্গত ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পুরসভার জনপ্রতিনিধি, সরকারি অফিসার ও কর্মীদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষ করে মন্ত্রী, সভাধিপতি এবং মহকুমা শাসক কালনা ফেরিঘাট, কালনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাইকিং করেন। গুজবের জেরে শুধুমাত্র সন্দেহ করে কাউকে আক্রমণ না করার আবেদন জানান মন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা হাতে না তোলার আহ্বান করেন। এদিকে এই ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে। আজ রবিবারই ওই টাকা দেওয়া হবে।

শুক্রবার কালনার বারুইপাড়ায় মাওবাদী সন্দেহে রানাঘাটের হবিবপুরের পাঁচজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় অনিল বিশ্বাস নামে একজন মারা যান। ওই ঘটনার পর পরই গ্রাম কালনায় একটি প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে দু’জন সেলসম্যানকে আটকে রাখা হয়। তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার মুখে পড়ে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুঁড়তে বাধ্য হয়। দুটি ঘটনায় আলাদা আলাদা ধৃত আটজনকে শনিবার কালনা এসিজেএম কোর্টে তোলা হলে দু’জনকে ছ’দিনের পুলিশ হেপাজত এবং ছ’জনকে ১৪দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ধৃতদের মধ্যে গ্রামকালনার এক শিক্ষকও রয়েছেন। তিনিই উস্কানি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।

সোস্যাল মিডিয়ার গুজবের মোকাবিলা প্রতিটি গ্রাম থেকে শুরু করতে হবে বলে এদিন নির্বাচিত সদস্য এবং সরকারি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও এলাকায় কেউ গুজব ছড়ালে তৎক্ষণাৎ থানায় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুজব ছড়ালে গ্রেপ্তার করা হবে বলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গুজব ছড়িয়ে কেউ রেহাই পাবে বলে এদিন সাফ জানানো হয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। নতুন করে যাতে কোনও নিরীহকে বেঘোরে প্রাণ দিতে না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে বলে এদিন প্রত্যেককে অবহিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি নদীয়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন, আমরা নদীয়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছি। বর্ধমান লাগোয়া নদীয়ার জেলার বিভিন্ন জায়গায় যাতে গুজবের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয় তারজন্য এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবার কালনার বারুইপাড়ায় গণপিটুনির ঘটনায় মৃত অনিল বিশ্বাসের পরিবারকে সরকারি সাহায্য বাবদ ২ লক্ষ টাকা আমরা শনিবার নদীয়া জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছি। ওই পরিবার যাতে দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ পায় তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে শনিবার কালনা শহর সহ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের হাজিরা ছিল বেশ কম। অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। গোটা শহর থমথমে ছিল। যাত্রীবাহী গাড়িগুলি অনেকটা ফাঁকা ছিল। অনেকেই আতঙ্কে আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি যাওয়া স্থগিদ রাখছেন। যেভাবে বহিরাগতদের শুধুমাত্র সন্দেহ করে মারধর করা হচ্ছে তাতে অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যদিও কালনার মহকুমা শাসক বলেন, শুক্রবারের পর নতুন করে আর কোনও ঘটনা ঘটেনি। আমরা প্রতিটি গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। এদিন কালনা ফেরিঘাট, বাসস্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা একযোগে মাইকিং করেছি।

মুরারইয়ে পুলিশের উপর ছিনতাইবাজদের হামলায়
কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, আতঙ্কে বাসিন্দারা

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পুলিশের উপর হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না মুরারই থানার পুলিশ। এদিকে নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারাই যদি এভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে পিছু হটে আসে তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীরা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে মুরারই থানার হাবিসপুর গ্রাম ঢোকার মুখে ছিনতাইবাজদের কবলে পড়েন এলাকার আমিন শেখ নামে এক পেট্রল পাম্প মালিক। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ২৫ হাজার টাকা, মোবাইল ও বাইক ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ছিনতাইবাজদের হাতে আক্রান্ত হন মুরারই থানার মেজবাবু গৌতম চট্টোপাধ্যায়। দুষ্কৃতীরা পুলিশের গাড়ি দেখা মাত্র ইট-পাথর ছুঁড়তে থাকে। সেই সময় গেট খুলে গাড়ি থেকে নামতে গেলে সজোরে গেটে লাথি মারে দুষ্কৃতীরা। তাতেই পায়ে গুরুতর আঘাত পান গৌতমবাবু। পরে গ্রামবাসীরা এলে ছিনতাইবাজরা পালিয়ে যায়। রাতেই আমিন সাহেব ও গৌতমবাবুকে মুরারই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্ত এবং তাদের হাতে পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা চাতরা-হাবিসপুর রাস্তায় পুলিশি টহলদারির দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আক্রান্তের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পুলিশের নিচুতলার কর্মীরাও। আক্ষেপের সুরে এক পুলিশ কনস্টেবল বলেন, বিশাল এলাকা নিয়ে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া থানা। অথচ পর্যাপ্ত পুলিশ নেই। তাছাড়া আমাদের হাতে বন্দুক থাকলেও তা চালানোর কোনও অনুমতি নেই। স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের মুরারই-১ ব্লকের যুব সভাপতি সূজয় দাস বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছি।

কেশিয়াড়ির হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষককে নিগ্রহের প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: প্রধান শিক্ষককে শারীরিক নিগ্রহের প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের ফলে কেশিয়াড়ির বাগাস্তি হাইস্কুল শনিবার ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। অনেক বুঝিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ বন্ধ করা গেলেও স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্কুল পরিচালন সমিতি। প্রধান শিক্ষক শ্যামসুন্দর বিশ্বাস শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে মেদিনীপুর শহরের বাড়িতে চলে আসেন। তাঁকে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের মতামত নিতে পরামর্শ দিয়েছেন কেশিয়াড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা। শ্যামসুন্দরবাবু বলেন, এই ঘটনার জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে এটা ঠিক নয়। বিক্ষোভ তুলে নিয়ে নিয়মিত ক্লাস করার জন্য আমি ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ করেছি।

প্রসঙ্গত, বিবাহিতা ছাত্রীকে কন্যাশ্রীর ফরম না দেওয়ায় শুক্রবার শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় প্রধান শিক্ষককে। তাঁকে শিক্ষকরা রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে ভরতি করেছিলেন। অভিযোগ, এক অভিভাবক তাঁর বিবাহিতা মেয়েকে কন্যাশ্রী প্রকল্পের ‘কে-২’ ফরম দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ দিয়েছিলেন। তিনি তা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। শুক্রবারই প্রধান শিক্ষক থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করে দেয়। তারা স্কুলের দরজা খুলতে দেয়নি। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। যতদিন না শাস্তি দেওয়া হচ্ছে ততদিন স্কুল খুলতে দেওয়া হবে না। খবর পেয়ে পরিচালন সমিতির প্রতিনিধিরা স্কুলে এসে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিচালন সমিতির সভাপতি শুভংকর জানা বলেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের বুঝিয়ে ধর্মঘট তুলি। আমরাও ঘটনার প্রতিবাদ করছি। দোষীরা যাতে শাস্তি পায় তার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। তিনি আরও বলেন, এদিন স্কুলে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta