প্রয়োজন হলে আবার করতে পারি একটা উইঙ্কল টুইঙ্কল

 নাট্যকর্মী হিসাবে আপনি তো তিরিশটা বছর পার করে দিলেন। কী মনে হচ্ছে?
 আমি কোনওদিন থিয়েটার করব ভাবিনি। আমার জীবনে আরও অনেক কিছু ছিল। তার মধ্যে থিয়েটার একটা। তখন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকাও ছিল। কলকাতায় মামার বাড়ি এলে নাটক দেখতাম। তখনই দেখেছিলাম অরুণ মুখোপাধ্যায়ের ‘মারীচ সংবাদ’, ‘জগন্নাথ’। তারপর থেকেই ভাবনাটা পালটাতে থাকে। কলেজে ঢোকার আগেই যোগ দিলাম ‘গোবরডাঙা ‘শিল্পায়ন’-এ। থিয়েটারের মধ্যে ঢুকে পড়ার পর দেখলাম এটা বেশ শক্তিশালী মাধ্যম। এখানে ছবি আঁকা, লেখালেখি, গান, পড়াশোনা বা অন্য মাধ্যমকে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারছি। অর্থাৎ নাটককে মনে হল একটা কম্পোজিট আর্ট ফর্ম। অনেক শিল্পমাধ্যমকে এখানে প্রকাশ করার সুযোগ পাব। তখন সুমন মুখোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসুর সঙ্গে আলাপ হল। সেটা ১৯৮৮-৮৯ সাল। হাবড়া কলেজে পড়তাম। গোবরডাঙায় থাকতাম আর কলকাতায় আড্ডা দিতে আসতাম। কিন্তু মনে হল, কলকাতায় না এলে আমি আমার ভাবনার নাটক করতে পারব না। ব্রাত্য একদিন বলল, তুই যেভাবে নাটক করতে চাইছিস, সেটা গোবরডাঙায় বসে হবে না। তখন শিক্ষকতা করি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হল না। নাটকের জন্য কলকাতায় চলে এলাম ’৯১ সালের শেষের দিকে। কিন্তু কী করব, কীভাবে করব, কিছুই আমার কাছে পরিষ্কার নয়। তখন ‘গণকৃষ্টি’তে কাজ করেছি। পরে ‘থিয়েট্রন’-এ। তারপরে বাগবাজারে একটা দল তৈরি করলাম। ’৯৩-তে আমি নিজের দল ‘সংসৃতি’ তৈরি করি। কলকাতায় আমাকে শূন্য হাতে শুরু করতে হয়েছিল। বাংলা নাট্যে আমি কোনও পারিবারিক উত্তরাধিকারও বহন করি না। সুতরাং আমি বুঝেছিলাম, যা করতে চাই তা লড়াই করেই করতে হবে। সেই শুরু হল লড়াই। একদিকে প্রচুর টিউশনি, অন্যদিকে নাটক। তখন কত পরিকল্পনা! নাটকের জন্য অনেক কিছু করতে হবে। নাটকের পত্রিকা বের করব। সংসৃতির সেই গোড়ার পর্বে প্রকাশিত হয়েছিল ‘কেয়া চক্রবর্তী বিশেষ সংখ্যা’। যা আমাকে পরবর্তীতে আমার প্রথম ছবি ‘নাটকের মতো’ নির্মাণ করতে বাধ্য করায়। ’৯৭ সালের শেষে একটা নাটক পেলাম। দেবাশিস মজুমদারের ‘প্রতিনিধি’। তখন বিশ্বজুড়ে কমিউনিজমের পতন আমাদের অনেক বিশ্বাসকে ভেঙে দিচ্ছে। কমিউনিজমের ফ্রাস্টেশনটা খুব নগ্নভাবে আমাদের কাছে ধরা পড়ে যাচ্ছে। ক্ষমতায়নের লোভ ধরা পড়ছে। সেই সময়কে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। এরপর ব্রাত্য একদিন একটা নাটকের কয়েকটা পাতা লিখে এনে দেখাল। বলল, রিপ ভ্যান উইংকলের আদলে লেখা। শুরু হল ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’। দেবশংকর হালদার তখন নান্দীকারের বাইরে অভিনয় করে না। আমরা সবাই এক হলাম। রজতাভ দত্ত, শ্যামল চক্রবর্তী সবাই। আমি জানতাম না কী হবে। কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের কলকাতার ফ্ল্যাটটাকে মর্টগেজ করে কিছু টাকা জোগাড় করলাম। সাফল্য এল। কিন্তু এই নাটক আমাকে খুব একটা অর্থ দেয়নি। তবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। কিন্তু একটা ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ যে ফ্লুক ছিল না সেটা আমার প্রমাণ করার দরকার ছিল। সেটা আমাকে প্রমাণ করতে হয়েছে ‘ফ্যাতাড়ু’র মধ্য দিয়ে। এর মধ্য দিয়ে আমি ধীরে ধীরে অনেক কিছু শিখলাম। দীর্ঘ চার মাসের ‘ফ্যাতাড়ু’র রিহার্সাল আমার কাছে ছিল একটা লার্নিং প্রসেস। আমি চেয়েছিলাম আমারও একটা নিজস্ব নাটকের ভাষা হোক।
 নাটকে আপনার নিজস্ব ভাষা কি তৈরি করতে পেরেছেন?
 কাজ করতে করতে বুঝতে পারছিলাম সময়ের রিদমটা বদলে যাচ্ছে। পুরানো নাট্যভাষার নাটক এই সময়ের দর্শকরা দেখতে চাইছেন না। নতুন প্রজন্ম দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সুতরাং আমাকেও জানতে হবে একটা নতুন গতি ও ছন্দ যা দর্শককে থিয়েটারে ধরে রাখবে। সেই ল্যাঙ্গুয়েজটাকে আমি এখনও আবিষ্কার করার চেষ্টা করে চলেছি। এটা প্রতিদিন বদলে যায় এবং আমাকেও প্রত্যেকদিন খুঁজে নিতে হয় সেই বদলে যাওয়া সময়ের মুখটাকে। সেটা না পারলে নিজেই একদিন হারিয়ে যাব। আর এই খোঁজাটা যদি দর্শকের চোখে ধরা পড়ে তাহলে একমাত্র তাঁরাই বলতে পারবেন কোনও নাট্যভাষা আমি তৈরি করতে পেরেছি কিনা!
আমি প্রতিদিন শিখছি। কিছুদিন পরে বিদেশে পড়তে যাব। আমি এখন ভরতের নাট্যশাস্ত্রের সঙ্গে বিদেশি নাট্যতত্ত্বের একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করছি। ব্রেখট, স্তানিস্লাভস্কির সঙ্গে ভরতের নাট্যশাস্ত্র। বুঝেছি, আমাদের ফিলোজফিটাকে যদি আত্মস্থ করতে না পারি, তবে বিদেশি নাট্যতত্ত্বকে গায়ের জোরে প্রয়োগ করে কিছু হবে না। শুধু দেখতে ভালো লাগছে বলে যদি জোর করে কিছু নির্মাণ করি, দর্শক তা গ্রহণ করবে না। আমাদের ভারতীয় দর্শনের সঙ্গে ভারতীয় আর্ট ফর্মের অদ্ভুত একটা যোগ রয়েছে। সেখানে একটা অর্গানিক প্রসেস আছে। অর্থাৎ যান্ত্রিকতা নয়, তা এক জৈবিক প্রসেস। সেই দর্শন ও আর্ট ফর্মকে আমি নাটকে প্রয়োগ করতে চাই। যাবতীয় অ্যালায়েড আর্ট ফর্মকে আরও নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করতে চাই।
 নাটক সময়ের কথাই বলে। আপনার নাটকে কীভাবে সময় উঠে আসে?
 নাটক কি সবসময় সময়ের কথা বলে? কখনও তো সময়কে গুলিয়েও দেয়। সবসময় ক্ষমতার একটা হেজিমনি থাকে। ক্ষমতার কাজই হল শিল্পকে দাসত্ব করতে বাধ্য করা। সবাই যে তা মানবে তা তো নয়। কিন্তু ক্ষমতার বশ্যতায় কেউ যদি সময়কে এড়িয়ে যান, তাহলে প্রকৃত সৃজনের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। আগের ক্ষমতার সময় মনে হয়েছিল কিছু কথা বলা উচিত। বলেছিলাম। আবার যদি কখনও মনে হয় বর্তমান ক্ষমতার বিরুদ্ধেও আরও কিছু বলার সময় এসেছে। সেদিনও বলব। প্রয়োজনে আরও একটা ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ করতে পিছিয়ে আসব না। একজন শিল্পীর খোলা চোখ এবং সাহস দুটোই জরুরি বলে আমার মনে হয়। কখনও কখনও বিভ্রান্তি এসে শিল্পজগৎকে গ্রাস করে। আজও আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না এই সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমাদের কী করা উচিত। আমরা কী অর্থের দিকে যাব? নাকি মোহের দিকে যাব? অথবা ক্ষমতার দিকে যাব? আবার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সৃজনক্ষমতার মেলবন্ধনে কী হতে পারে সেটা নাট্যস্বজন তৈরি করার বা সেটা ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় টের পেয়েছি। বুঝেছি ক্ষমতা কাকে বলে, ক্ষমতার সঙ্গে শিল্পের কী সম্পর্ক!
 তাহলে কি সেই ক্ষমতার অহংকারের সঙ্গে আপনার বিরোধ বাধছিল?
 আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। অযোগ্য কিছু মানুষ শুধুমাত্র সংগঠন করার সুবাদে রাজনৈতিক ক্ষমতার সিলমোহর লাগিয়ে আমাকে ক্রমাগত আক্রমণ করে যাচ্ছিল। ক্রমশ বুঝতে পারছিলাম ওই সিস্টেমের আমি উপযুক্ত নই। তাই নাট্যস্বজন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। নাট্য অ্যাকাডেমি এবং মিনার্ভা থেকেও আমি পদত্যাগ করি। তার ফলে অবশ্য আইনি নোটিস পাঠিয়ে আমার পাঁচটি নাটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা বাংলা থিয়েটার এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হয়তো এই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে না জানানোটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নাট্য নির্মাণের পর সেটা কতটা নাটককারের সম্পত্তি হয়, এই সম্পর্কে কোনও ডিসকোর্সও উঠে আসেনি। একজন শিল্পীর সঙ্গে ক্ষমতার সম্পৃক্তি হয়তো অন্যতর কোনও দায়বদ্ধতা তৈরি করে।
 আপনি কি সেই ক্ষমতার প্রতি দায়বদ্ধতাকে কোথাও আঘাত করেছেন?
 আমার একার আঘাতে কীই বা আসে যায়! তাছাড়া সেই দায়বদ্ধতাকে আমি বিশ্বাসই করি না। আমি শিল্পের গুণমানে বিশ্বাসী ও দায়বদ্ধ। তবে অধুনা নাট্যবিষয়ক যেসব সরকারি কমিটি আছে, সেখানে ওই ভিন্নমাত্রার দায়বদ্ধতায় বিশ্বাসী কিছু অযোগ্য মানুষ আছেন। তাঁরা আগেও ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। এটাই দুর্ভাগ্যজনক।
 ব্রাত্য বসুর সঙ্গে আপনার যে বন্ধুত্ব সেটার মাঝখানে কি তাহলে ক্ষমতা এসে পাঁচিল তুলল?
 জানি না। হয়তো আরও দশ বছর পরে আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব। তবে আমি চাইব আমাদের সেই পুরানো দিনের বন্ধুত্ব ফিরে আসুক। আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে বাংলার এক নম্বর নাটককারের নাম ব্রাত্য বসু। আমাদের জেনারেশনে এত ভালো নাটক ব্রাত্য ছাড়া আর কেউ লিখতে পারে না, এটা আমি বিশ্বাস করি। ভাষা, কল্পনা, বিষয় সব মিলিয়ে ব্রাত্য অনবদ্য। ওর যোগ্যতা নিয়ে তো আমার কিছু বলার নেই। একসঙ্গে আমরা যেন আবার কাজ করতে পারি, এটাও আমি চাই।
 হল কমিটি নিয়ে অনেকের অভিযোগ আছে। হলের ব্যাপারে অর্পিতা ঘোষের নামেও কিছু অভিযোগ শোনা যায়।
 অর্পিতা হল কমিটিতে নেই। তবে এ ব্যাপারে অর্পিতা অনেক ফেয়ার। ও অনেক বেশি ট্রান্সপারেন্ট।
 একেবারে সাম্প্রতিক সময়ের নাটক দেখে মনে হয়েছে, পপুলার নাটকের দিকে একটা ঝোঁক তৈরি হয়েছে।
 হ্যাঁ। আমার মনে হয়েছে এখন দ্রুত নাম, অর্থ ইত্যাদির মোহে এই ঝোঁকটা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভাবা দরকার যখন কেউ কিছু দ্রুত অর্জন করতে চায়, তখন তাকে অনেক কিছু বর্জনও করতে হয়। সেখানে ক্রিয়েটিভ প্রসেসের যে আদান প্রদান সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন লক্ষ্য হল, কোথায় সরকারি গ্রান্ট পাওয়া যাবে, কীভাবে তা পাওয়া যাবে ইত্যাদি। তাই নাটক ক্রমেই উদ্দেশ্যহীন হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছেই যদি ক্রাইসিসটা স্পষ্ট না হয়, তাহলে আমার কাছে কোন থিয়েটারটা করা দরকার, সেটাই স্পষ্ট হবে না। ফলে এখন প্রচুর এলোমেলো অবস্থা। দর্শক তৈরি, তারা থিয়েটার দেখতে আসছে। কিন্ত দেখা যাচ্ছে, আমাদের অনেকের কাছেই থিয়েটারটা পরিষ্কার নয়। আমার মনে হয়, এখন যেটা দরকার, চারিদিকে যা ঘটছে, তার দিকে চোখ খুলে রাখা দরকার। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের যে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস, তা নিয়ে নাটকে বলতেই হবে। সময় কিন্তু একটা ভয়ংকর দিকে যাচ্ছে। আমরা সবাই সেফ খেলতে চাইছি। এখন আর কিন্তু জানালা বন্ধ করে নিজেকে সেফ রাখা যাবে না।
 বামফ্রন্ট আমলে একটা সময়ে নাটকের এই অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছিল বলেই আমার মনে হয়।
 এটা অবরুদ্ধ অবস্থা কিনা বলতে পারব না। এখনও পর্যন্ত নাটকে নিজের কথা বলতে পারছি। আমি যদি চাই, আমার মগজে কারফিউ না হোক, তাহলে বাইরে থেকে কে-ই বা অবরুদ্ধ করতে পারে! আমি আমার মতো করে সময়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমার কথা বলার চেষ্টা করছি। কখনো যদি মনে হয় ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’এর মতো সরাসরি কথা বলার সময় এসেছে, তখন সেভাবেই বলব। ভয় পাব না। এখন যেমন উগ্র জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর, অসহিষ্ণুতা এসব নিয়ে কিছু করা যায় কিনা, সেটা নিয়ে ভাবছি। চাইছি সময়ের কথাকে আমি আমার নিজস্ব থিয়েটারের ভাষায় প্রকাশ করতে।
 একজন নাট্যকর্মী সরকারের অনুগ্রহ-প্রার্থী হলে কি তার কিছু দেওয়ার ক্ষমতা ফুরিয়ে যায়?
 ক্ষমতা হয়তো ফুরোয় না। সৃজন ক্ষমতা থেকেই যায়। কিন্তু তাঁকে অনেক কিছুর সঙ্গে আপোস করতে হয় বলে তিনি চাইলেও অনেক কিছু দিতে পারেন না। আনুগত্যের ঢেউ তখন তাঁর মনকে অবচেতনে কারুবাসনার তীর থেকে নিঃসাড়ে দূরে সরিয়ে দেয়।
 এই সিস্টেমের মধ্যে থেকে আপনাকে কী পাশাপাশি অন্য লড়াইও করতে হচ্ছে?
 লড়াই করতেই হবে। লড়াই নিরন্তর নিজের মধ্যে, নিজের সঙ্গে এবং একইসঙ্গে তা বাইরেও। আজীবন লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই একজন শিল্পী বাঁচেন এবং শিল্পও বাঁচে।

ছবি: ভাস্কর মুখোপাধ্যায় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সৌজন্যে 

থিয়েটারবিলাসীরা সাবধান, আসছে ‘ফোর্থ বেল’

ছুটির দিনে সন্ধেবেলা যে কোনও থিয়েটার হলে গেলে একধরনের দর্শকের দেখা মেলে। এঁরা দুপুরে চর্বচোষ্যলেহ্যপেয় আহার করে, ঘণ্টা দুয়েক ঘুমিয়ে, চোখমুখ ফুলিয়ে ঘাড়ে পাউডার দিয়ে, দামি পাঞ্জাবি-পাজামায় (মহিলা হলে তাঁতের শাড়িতে) সজ্জিত হয়ে থিয়েটার দেখতে আসেন। থিয়েটার দেখে, তার ভুল সমালোচনা করে এঁরা নিজেদের বুদ্ধিজীবী ভেবে প্রভূত আমোদ অনুভব করেন। এই ধরনের থিয়েটারবিলাসী দর্শকদের সাবধান করে দিচ্ছি, খবরদার ইফটা’র (ইনস্টিটিউট অব ফ্যাচুয়াল আর্টস) নতুন নাটক ‘ফোর্থ বেল’ দেখতে যাবেন না। কারণ, থিয়েটারটা আমোদ বিলোনোর জায়গা নয়। ফুর্তি করার জন্যে থিয়েটার করা হয় না। আর ফুর্তি বিলোয় না বলেই এই কনজিউমারিজমের বিশ্বভরা বাজারে বারেবারে থিয়েটারের মৃত্যুঘণ্টা শোনা গিয়েছে। কিন্তু থিয়েটার মরেনি। ফিনিক্স পাখির মতো চিতাভষ্ম থেকে পুনর্জন্ম হয়েছে তার। আজকের জগতে থিয়েটার হল সংখ্যালঘুদের শিল্প। যাঁরা থিয়েটার করেন তাঁরা সমাজে সংখ্যালঘু বইকি! থিয়েটার করে অর্থ পাওয়া যায় না, মেলে না কোনও পুরস্কার, থিয়েটার করার জন্য পাওয়া যায় না প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। থিয়েটারকর্মীদের আছে শুধু আবেগ, শরীর ভরা আবেগ। যা পাগলামোরই নামান্তর। থিয়েটারের জন্যে এই পাগলামো আর বিপরীতে সমাজের উপেক্ষা এই দুই টানাপোড়েনে হয়তো কোনও কোনও থিয়েটারকর্মীর মধ্যে জন্ম নেয় হতাশা। হতাশা থেকে ক্রোধ, ক্রোধ থেকে জন্ম নেয় প্রতিশোধের আকাঙ্খা।
তাই বলছি, থিয়েটারবিলাসীরা সাবধান! ইফটার নাটক দেখতে গিয়ে হয়তো দেখতে পেলেন বিরতির সময় পরিচালক বন্দুকের নলের সামনে বসিয়ে আপনাকে মদ খেতে বাধ্য করলেন। কিংবা ক্রমাগত আপনাদের নানাভাবে উত্যক্ত করা হতে লাগল। পরীক্ষা দিতে হল আপনাদের থিয়েটারপ্রেমের।
অপরেশ আর বিদিশা দুজনেই এইরকম ছদ্ম বুদ্ধিজীবী। আমোদের সন্ধানে থিয়েটার দেখতে যেতেন। তাঁদের কিন্তু এইকরমেরই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। অতএব সাবধান! আর আপনি যদি সত্যিই থিয়েটারপ্রেমী হন তাহলে বলব অবশ্যই যাবেন— আগামী ১৯ মার্চ, পাইকপাড়ার মোহিত মৈত্র মঞ্চে। ওইদিনই ইফটার নতুন নাটক ‘ফোর্থ বেল’-এর প্রথম শো। তারপর থেকে প্রতি মাসের তৃতীয় রবিবার মোহিত মৈত্র মঞ্চে নিয়মিত হবে ‘ফোর্থ বেল’-এর শো।

স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী 

সল্টলেক থিয়েটারের পঞ্চদশ নাট্যোৎসব

সালটা ২০০২, সল্টলেকের বিডি ব্লকের বেশকিছু সচেতন নাগরিক থিয়েটারের প্রতি অনুরক্ত হয়ে সংগঠিত হয়েছিলেন এবং তাঁরা অন্তরের তাগিদ থেকেই থিয়েটারকে নেশা হিসেবেই গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই থেকেই তাঁদের পথ চলা শুরু। এবছরও গত ১২ থেকে ১৮ ডিসেম্বর বিডি ব্লকের লবণহ্রদ মঞ্চে সফলভাবে পঞ্চদশ নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত করলেন উদ্যোক্তারা। প্রথম দিন অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর চেতনা নাট্যদলের ‘ঘাসিরাম কোতয়াল’ অভিনীত হয়েছে। তারপর যথাক্রমে নান্দীকারের ‘পাঞ্চজন্য’, সংসৃতির ‘সওদাগরের নৌকা’, কোরাস নাট্যদলের ‘বন্ধের দশদিন’, পূর্ব-পশ্চিমের ‘এক মঞ্চ এক জীবন’ এবং মুখোমুখির ‘বিদেহী’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এছাড়াও সল্টলেক থিয়েটার প্রযোজিত দুটি নাটক অভিনীত হয়—‘আবার চাপাপড়া মানুষ’ ও ‘মানসী’। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমগ্র অনুষ্ঠানটিই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। তবে উদ্বোধনের দিন দেখা গেল সম্মিলিত দর্শকমণ্ডলীর সোচ্চার দাবি মেনে এক অনন্য নজির গড়লেন উদ্যোক্তরা। কীভাবে সেটা জানা যাক। ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা লবণহ্রদ মঞ্চে থিক থিক করছে দর্শক। পর্দার পিছনে কুশীলবরাও সাজ-পোশাকে তৈরি। মঞ্চের সম্মুখভাবে প্রস্তুত আছে মস্ত প্রদীপ, সারি দিয়ে রাখা বেশ কয়েকটি চেয়ার। তাতে বসে আছেন আয়োজকমণ্ডলীর প্রধানেরা। শুধু মাঝের একটি চেয়ার ফাঁকা। সকলেই সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুত, তবে কীসের জন্য প্রতীক্ষা চলছে? সাড়ে ছ’টা নাগাদ জানা গেল যিনি উদ্বোধন তিনি এসে পৌঁছননি তাই প্রতীক্ষা চলছে! সকলের মধ্যেই যেন এই এল.... এই এল.... ভাব। কিন্তু তাঁর আর দেখা মেলে কই? আরও বেশ কিছু সময় অতিক্রম হতেই সমগ্র দর্শকমণ্ডলী সোচ্চারে মুখর হলেন। উদ্বোধক ছাড়াই অনুষ্ঠান শুরু করার দাবি জানালেন সম্মিলিত দর্শকমণ্ডলী। সেই সঙ্গে সময়ানুবর্তিতা ও থিয়েটারের শৃঙ্খলার কথা স্মরণ করাতে থাকেন। এদিকে উদ্বোধকবাবু আয়োজকদের ফোন করে জানালেন আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঢুকছি। কিন্তু ঘড়িতে তখন প্রায় ৬.৪৫, ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি যা দাঁড়াল তাতে আয়োজকরাই প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করে দেন। স্বভাবতই যাঁরা নাটক করবেন আর যাঁরা নাটক দেখবেন তাঁরা সকলেই যখন দারুণ স্বস্তি পেলেন। তখন উদ্বোধকবাবু এসে পৌঁছন আর না পৌঁছন, তাতে কার কীই- বা এসে যায়? ধন্য থিয়েটার, ধন্য থিয়েটারের দর্শক।

সঞ্জীব বসু 

একটি নমস্কারে— উপভোগ্য উপস্থাপনা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও রচনা অবলম্বনে রবীন্দ্রসদনে এক শ্রুতিসন্ধ্যার আয়োজন করে বাকচিত্র। ‘একটি নমস্কারে’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটির মুখ্য আকর্ষণ ছিল জগন্নাথ বসু ও ঊর্মিমালা বসুর শ্রুতিনাটক। সূচনা হয় বাকচিত্রের সদস্যদের রবীন্দ্রকবিতার কোলার্জ ‘একটি নমস্কারে’ ও ‘শুধু অকারণ পুলকে’ দিয়ে। বাকচিত্রের সদস্যরাই ‘তিমির অবগুণ্ঠনে’ শীর্ষক একটি শ্রুতিনাটক করে। পরিচালনায় জগন্নাথ বসু। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনে চার বছর প্ল্যানচেট চর্চা করেছিলেন। প্ল্যানচেট করে কবি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, কাদম্বরী দেবী, সুকুমার রায়, কবিপুত্র শমীর সঙ্গেও কথোপকথন চালান— এমনটাই উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই কথোপকথনের নির্বাচিত অংশ ‘তিমির অবগুণ্ঠনে’ শ্রুতিনাটকটি। দ্বিতীয় পর্যায়ে জগন্নাথ বসু ও ঊর্মিমালা বসু পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের রচনা অবলম্বনে দুটি শ্রুতিনাটক— ‘চিন্তাশীল’ ও ‘চার অধ্যায়’-এর নির্বাচিত অংশ। সেটি শিল্পীদ্বয়ের প্রথম উপস্থাপনা। অত্যন্ত মজাদার উপস্থাপনাটি বেশ উপভোগ্য ছিল। এরপর চার অধ্যায়ের নির্বাচিত অংশ পাঠ করেন। এই নির্বাচিত অংশের মধ্যেই সমগ্র উপন্যাসটি ধরার প্রয়াস অনবদ্য। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের তুলনায় সমাজে দল যখন সর্বশক্তিমান হয়ে ওঠে তখন ব্যক্তিস্বার্থ লঙ্ঘিত হয়। দলের পায়ে দলিত হল এলার প্রেম। সেই বিষয়টিকে নাটকে প্রাধান্য দিয়েছেন বর্ষীয়ান শিল্পীদ্বয়। অনবদ্য উপস্থাপনা। এছাড়া এদিন রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন মনোজ মুরলী নায়ার ও মনীষা মুরলী নায়ার।

মানসী নাথ

মিনার্ভা নাট্য-সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের ন্যাশনাল থিয়েটার সেমিনার

মিনার্ভা নাট্য-সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ২০০৯ সালে সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে তাদের পথ চলা শুরু করে। সেই সময়ের যাঁরা এই কেন্দ্রের পরিচালনমণ্ডলীতে ছিলেন, তাঁরা অনুভব করলেন এই নতুন নাট্যকর্মীদের শুধুমাত্র বাংলার নাট্যজগতের মধ্যে আটকে রাখলে তাদের সামগ্রিক বিকাশ সম্ভব নয়। তখনই তাঁরা ঠিক করে ফেলেন, হাতে কলমে নাটক করা ছাড়াও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্বদের নাট্যভাবনা, পদ্ধতি, তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নতুনদের কাছে পৌঁছে দেবেন। শুরু হল প্রস্তুতি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হল প্রথম ‘ন্যাশনাল থিয়েটার সেমিনার’ এবং ঠিক হল এক বছর অন্তর এই আয়োজন করা হবে। সেই অনুযায়ী ২০১৬ সালে আবার হওয়ার কথা থাকলেও, নানা কারণে ৬ জানুয়ারি ২০১৭-তে শুরু হল দ্বিতীয় ‘ন্যাশনাল থিয়েটার সেমিনার’। এখানে বলে রাখা ভালো গতবারের শিশির মঞ্চে বদলে এবারে এই আয়োজন করা হয়েছে মিনার্ভা থিয়েটারে এবং অবশ্যই নাট্যপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে ডেলিগেট ফি গতবারের ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে এবারে ৩০০ টাকা।
৬ জানুয়ারি দুপুর ৩টের সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আধঘণ্টা দেরিতে তা শুরু হয় এবং আমন্ত্রিত কয়েকজন অতিথি তথা রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিতি ছাড়াই। প্রথমেই মিনার্ভা নাট্য-সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি অর্পিতা ঘোষ উদ্বোধনী ভাষণে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর মঞ্চে উপস্থিত অতিথি তথা বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর সবাই মিলে প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু করিয়ে দিলেন দ্বিতীয় জাতীয় নাট্য আলোচনা ২০১৭। একে একে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন অরুণ মুখোপাধ্যায়, এম কে রায়না, সুমন মুখোপাধ্যায়, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, শান্তনু বসু এবং রাজ্য সরকারের তথ্য-সংস্কৃতি বিভাগের পক্ষ থেকে নমিতা রায়মল্লিক। শেষ হল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সংক্ষিপ্ত বিরতির পর শুরু হল দ্বিতীয় পর্যায় যেখানে প্রথমদিনের প্রথম বক্তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব এম কে রায়না। তিনি ওম পুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের বক্তব্য আরম্ভ করলেন যেহেতু প্রথম সেমিনার থেকেই বিষয় একেবারেই নির্দিষ্ট তাই এবারে আলোচনার বিষয়ও ‘নাটক থেকে নাট্য’।
তাই রায়নাও তাঁর বক্তব্যের নামকরণ করলেন ‘My Journey in theatre’ বাংলায় তর্জমা করলে ‘নাটকে তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা’। প্রায় এক-দেড় ঘণ্টার বক্তব্য এবং স্লাইড শোয়ের মাধ্যমে একে একে তুলে ধরলেন তাঁর দীর্ঘ ৪৫-৫০ বছরের নাটকের নানাদিক। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ বছর ধরে কাশ্মীরের বুকে অশান্ত রাজনৈতিক এবং বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশকে জয় করে নাটক করার অভিজ্ঞতা। তাঁর কাছেই শুনলাম কীভাবে তিনি ওখানকার প্রায় হারিয়ে যাওয়া লোকশিল্প ‘ভান্ড’-কে আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মনে করেন, ভাবনার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না, টাকার জন্য ভাবনা থেমে থাকতে পারে না। তাই মঞ্চ থেকেই আহ্বান জানালেন শুধুমাত্র নাটক কোম্পানি না খুলে নাট্যজাতি তৈরি করার।
প্রথম দিনের শেষ পর্যায়ে সুমন মুখোপাধ্যায় খুলে দিলেন তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। সেখানে তিনি শোনালেন ছোটবেলায় বাংলার বুকে নাট্য শিক্ষা থেকে বিদেশে নাট্য শিক্ষার পার্থক্যের কথা। ছোট ছোট সুন্দর গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরলেন অভিজ্ঞতার কথা। শেখালেন নাটক থেকে নাট্য করার পথে কীভাবে গল্পের প্রয়োজনে অভিনেতাদের আঙ্গিক ও বাচিক অভিনয় পালটে নিতে হয়। কীভাবে শরীরের অব্যবহৃত অঙ্গ প্রয়োজনে ব্যবহার করে নিতে হয়, কীভাবে মঞ্চে একই সঙ্গে অনেকগুলো দৃশ্যপট তৈরি করে নাটককে অন্য মাত্রা দেওয়া যায়, যা তিনি ‘তিস্তা পারের বৃত্তান্ত’-তে করে দেখিয়েছেন। নাট্য শিল্প মাধ্যমে প্রয়োজনে অন্য মাধ্যমের ব্যবহারেও রাজি আছেন। শেষে তিনি অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বেও গেলেন। দ্বিতীয় দিনের প্রথম বক্তা নীলম মান সিং, আয়োজকদের পক্ষ থেকে যাঁকে পাঞ্জাবি নাটকের আন্তর্জাতিক মুখ হিসাবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন নাটকের ক্লিপিং-এর মাধ্যমে তিনি দেখালেন কীভাবে প্রচলিত ধারাকে ভেঙে নতুন নতুন ভাবনাকে নাটকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর কাছে একেবারেই একটা সাধারণ বস্তুও হয়ে উঠতে পারে নাটকের প্রতীক। নতুন নাটকের ছোট্ট একটি অংশ তিনি উপস্থাপনাও করে দেখালেন। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে পেলাম উচ্চমার্গের নাট্য অভিজ্ঞতা।
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বক্তা দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, যিনি আবার তাঁর প্রত্যেক প্রযোজনাকে প্রথমেই একটা রঙে রাঙিয়ে নিয়ে নাট্য তৈরি করতে চেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনে নাট্যকারের সঙ্গে বারে বারে আলোচনায় যেতেও রাজি নিজের ভাবনাকে সঠিক রূপ দেওয়ার জন্য। তিনি তাঁর প্রত্যেকটি প্রযোজনা আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখালেন কীভাবে স্ক্রিপ্ট পড়া থেকে শেষ অবধি রূপ দিয়েছেন, কীভাবে আর্থিক সংকটকে মোকাবিলা করেছেন। তাঁর কাছেই শেখা গেল কীভাবে একটি সেটকে ঘুরিয়ে দিয়ে বা উলটে দিয়ে আর একটি বানিয়ে নেওয়া যায়, কীভাবে মঞ্চের উচ্চতাকে নাটকের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। এইভাবে নাটকের নানা দিক তুলে ধরে আলোচনাকে উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দিলেন।
সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নাট্যসমুদ্রের যে গভীরে ডুব দিয়েছিলেন, পরের তিনদিনে তা গভীরতর হয়েছিল।

পীযুষকুমার পাল












©Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta