কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন


শিবরাত্রি উপলক্ষে দুগ্ধস্নান ভূতনাথকে। শনিবার বর্ধমানে তোলা নিজস্ব চিত্র

জুহির পাশে দাঁড়ালেন দিলীপ, খুঁজে বের করতে সিআইডিকে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব যা-ই থাকুক না কেন, এতদিনে একেবারে দ্ব্যর্থহীনভাবে জুহি চৌধুরির পাশে দাঁড়ালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শিশুপাচার-কাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গের এই বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রীর পাশে দল থাকবে, নাকি আগে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে মুক্ত হবেন, তারপর ফের দল তাঁর পাশে দাঁড়াবে— এই প্রশ্নে বিস্তর বিতর্ক এখনও জারি রয়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। এই পরিস্থিতিতেই শনিবার দলের রাজ্য দপ্তরের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য সভাপতি সাফ জানিয়ে দিলেন, দল সবসময়ই জুহির পাশে থাকছে এবং থাকবে। তাঁকে মিথ্যা মামলাতে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশের চোখে ‘পলাতক’ জুহিকে প্রয়োজনে তাঁরাই আইনের সামনে আনবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন দিলীপবাবু। তবে তার আগে তদন্ত করে ন্যায়, অন্যায়, সত্যমিথ্যা প্রমাণ করতে হবে। এদিকে, এদিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জুহিকে খুঁজে বার করার জন্য সিআইডিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। একদিকে জুহির পাশে দ্বিধা কাটিয়ে দিলীপবাবু এবং দলের দাঁড়িয়ে পড়া, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ— এই প্রেক্ষাপটে আগামীদিনে রাজ্য-রাজনীতিতে বিজেপি-তৃণমূলের নতুন দ্বৈরথ আমদানি হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন দিলীপবাবু বলেন, কোনও একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের কোনও একজন নেতা বা কার্যকর্তাকে জেলে ঢুকিয়ে দেবেন, এসব আমরা আর মেনে নেব না। জুহি কোথাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তো তাঁর সঙ্গে কথা বলছেনই। আমরা এই পুলিশকে বিশ্বাস করি না। সত্যমিথ্যা প্রমাণ করুক। আমরাই তাঁকে আইনের সামনে এনে দেব। ও তো আর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। দিলীপবাবুর এই মন্তব্যের পর জল্পনা শুরু হয়ে যায়, তাহলে কি দিলীপবাবু তথা রাজ্য বিজেপির উদ্যোগে জুহিকে কোনও গোপন ডেরায় রাখা হয়েছে? দিলীপবাবু বলেন, আমি ওঁকে কোনও দিন দেখিনি। আজ পর্যন্ত কোনও কথাও হয়নি তাঁর সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে এ রাজ্যে দলের এমপি তথা কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় থেকে শুরু করে রাজ্যস্তরের একাধিক নেতা অবশ্য মনে করেন, পুলিশের নাগালের বাইরে থেকেই জুহি বিপদ ডেকে আনছেন। পুলিশের মুখোমুখি হয়ে নিজেকেই নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে তাঁকে। দলের মধ্যে এই মতবিরোধকেও স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে উড়িয়ে দিয়ে দিলীপবাবু এদিন বলেন, কারও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতেই পারে। আর এ রাজ্যে বিজেপিতে আমার চেয়ে বড় ‘অফিসিয়াল’ ব্যক্তি এখন কে আছেন? অর্থাৎ তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, জুহি সম্পর্কে তাঁর মতই এখন দলের মনোভাব।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একটা বিষয় নিশ্চিত যে দলীয় নেত্রীর শিশুপাচার-কাণ্ডে নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর বিজেপির অন্দরে ব্যাপক ডামাডোল চলছে। জুহিকে একেবারে ‘বাচ্চা মেয়ে’ বলে জানিয়ে এদিনও তাঁর পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিজেপির আরেক এমপি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি একশো শতাংশ নিশ্চিত যে জুহিকে ফাঁসানো হয়েছে। রূপাই প্রথম দলের অন্দরে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, কেন দল জুহির পাশে থাকবে না? দলের মহিলা কর্মীদের একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাজ্যে আমাদের হাজার হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কাগজে কোনও অভিযোগ প্রকাশিত হলেই যদি আমরা তাঁকে অচ্ছুৎ করে দিই, তাহলে আমরা এক পরিবার হলাম কী করে? ওই গ্রুপেই রূপা তাঁর সতীর্থদের জানিয়েছিলেন, দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপবাবু এবং শীর্ষনেতা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতি ও পরামর্শেই জুহিকে মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদিকা পদে বসানো হয়েছে। এই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিজেপির অন্দরে আরও জলঘোলা হয়। জুহির বিষয়ে ঠিক কী অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে নানা মতামত ভেসে উঠতে থাকে। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন দলের রাজ্য দপ্তরে ‘আম-দরবার’ করেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি দিলীপবাবুর থেকে ভিন্নমত পোষণ করেন। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি, আইনজ্ঞদের পরামর্শেই জুহি পুলিশ থেকে দূরে আছে। তাঁরা যেমন নির্দেশ করবেন, তেমনটাই হবে। এ নিয়ে কোনও বিতর্কে ঢুকতে চাননি তিনি। তবে দিলীপবাবুর স্পষ্ট মন্তব্যের পর দলের অন্দরে বিতর্ক ধামাচাপা পড়ার বদলে আরও উসকে ওঠে কি না, সেটাই এখন দেখার।

রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন
দুই প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, কুরনিশ রাজ্যপালের

বিএনএ, বারাসত: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বারাসতের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রথম সমাবর্তন’ অনুষ্ঠান শনিবার স্থানীয় রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠিত হল। বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ কলেজগুলি থেকে পাশ করা প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার স্নাতক এর ফলে উপকৃত হলেন। তাঁর ছবি দিয়ে ‘স্বাগতম’ লেখা ব্যানার, হোর্ডিংয়ে এলাকা ছয়লাপ করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সেই অনুষ্ঠানে গরহাজির থাকলেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি না এলেও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। স্নাতকোত্তর স্তরের দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর মানবিক মুখকেই সামনে আনলেন আচার্য। দু’জনকে কাছে ডেকে তিনি ১০ হাজার টাকা অর্থমূল্যের ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর থেকে সমাবর্তন অনুষ্ঠান না হওয়ায় পিএইচডি ও স্নাতকোত্তর ছাত্রছাত্রীদের যেমন ডিগ্রি প্রদান করা যায়নি, তেমনই তার অধীনস্থ ৪৯টি কলেজের প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী (২০১১ সাল থেকে যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন) সার্টিফিকেট পাননি। ফলে, ওই ছাত্রছাত্রীরা চাকরির আবেদন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন।

জানা গিয়েছে, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিশ্ববিদ্যাল঩য় চত্বরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসাবে কেশরীনাথ ত্রিপাঠি ছাড়াও উপাচার্য বাসব চৌধুরি এবং মুখ্য অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন নামী বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক এম এম শর্মা। দর্শকাসনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, জেলাশাসক অন্তরা আচার্যসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে হাজির থাকতে পেরে রাজ্যপাল গর্বিত। সে কথা জানিয়েই তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তরুণ তরতাজা মনের উচ্ছ্বাস, ক্ষমতাকে সমাজের ভালো কাজে লাগাতে হবে। নিজ লক্ষ্য স্থির রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ‘গ্রেটনেস’ ও ‘গুডনেস’ শব্দ দু’টির মধ্যে যদি যে কোনও একটিকে যদি নিজের জীবনে বেছে নিতে হয়, তাহলে ‘গুডনেস’ গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়। সবাইকে আরও বেশি মানবিক হতে হবে। শংসাপত্র কেবল সাজিয়ে রাখার জিনিস নয়, এটি শিক্ষার্থীর চরিত্রের প্রতিফলন বলে অভিমত দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার শেষ নেই। তা সাগ্রহে গ্রহণ করার মানসিকতা নিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ নিয়ে রাজ্যপালকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সংবাদপত্রে দেখেছি। বিষয়টি একান্তভাবেই রাজ্য সরকারের। তারা যা ভালো বুঝবে, করবে।

উল্লেখ্য, এদিনের অনুষ্ঠানে ৫০০ ছাত্রছাত্রীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তারমধ্যে ৪৮ জন পিএইচডি’র ছাত্রছাত্রী। বাকিরা স্নাতকোত্তর। যাঁদের মধ্যে ছিলেন বারাকপুরের দর্শনের ছাত্রী রিঙ্কি সেন ও হাবড়ার ভূগোলের ছাত্রী পিউ সাহা। দু’জনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। রিঙ্কি নিজের পায়ে দাঁড়াতে অক্ষম। প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে তিনি মঞ্চে ওঠেন। অন্যদিকে, ক্র্যাচ নিয়ে মঞ্চে ওঠেন পিউ। শংসাপত্র নিয়ে দর্শক আসনে ফিরে যাওয়ার পর উপাচার্য বাসব চৌধুরী ঘোষণা করেন, রাজ্যপাল তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চান। আবার তাঁদের নিয়ে আসা হয় মঞ্চে। রাজ্যপাল একান্তে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘোষণা করেন, এঁদের দু’জনকে ১০ হাজার টাকা অর্থমূল্যের ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে। যে পুরস্কার তাঁর অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। সভাস্থল করতালিতে মুখর হয়। দুই ছাত্রীর চোখে তখন বাঁধাভাঙা অশ্রু। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করায় রাজ্যপাল থেকে উপাচার্য সকলেই দুই ছাত্রীর মানসিকতাকে কুরনিশ জানিয়েছেন।

সদ্য মাতৃ বিয়োগের যন্ত্রণা বুকে চেপেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল শামিমা

বিএনএ, বহরমপুর: সদ্য মাতৃ বিয়োগের যন্ত্রণা বুকে চেপে রেখেই পরীক্ষা দিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শামিমা খাতুন। বুক মোচড় দিয়ে কান্না বেরিয়ে এলেও সে দমে যায়নি। শনিবার চোখে জল নিয়েই সে হলে বসে পরীক্ষা দিয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ থানার কামালপুরে শামিমাদের বাড়ি। পরীক্ষার পর কাঁদতে কাঁদতে শামিমা বলেছে, মা’র উৎসাহেই পড়াশুনা করছি। বিড়ি বেঁধে আমার পড়াশুনার খরচ জোগাতেন মা। এখন তিনি আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন। তবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মা’র স্বপ্ন পূরণ করবই।

সামসেরগঞ্জ থানার কামালপুরের গৃহবধূ মোমিনা বিবি(৪৫) এদিন ভোরে মারা যান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাঁকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। পরে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শনিবার ভোরে তিনি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সকাল সাড়ে ১০টার নাগাদ মোমিনা বিবির মৃতদেহ বাড়িতে চলে আসে। তখন ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন শামিমা। কয়েকজন প্রতিবেশীর পরামর্শে সে নিজেকে সামলে নেয়। বুক ভাঙা কান্না চেপে এবং মা’র মৃতদেহ বাড়িতে রেখে সে ইতিহাস পরীক্ষা দিতে যায়।

শামিমা নিমতিতা জিডি ইনস্টিটিউটের ছাত্রী। চাচণ্ডা-বাসুদেবপুর-জালাদিপুর হাই স্কুলে তার সিট পড়ে ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক হাত দিয়ে সে চোখের জল মুছেছে সে। আরএক হাত দিয়ে কলম চালিয়ে গিয়েছে। বিকাল ৩টা নাগাদ পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে শামিমা বাড়িতে ফেরার পর তার মা’র মৃতদেহ গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন সে মা’র মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। শামিমার বাবা দাউদ খান বিড়ি শ্রমিক। তিনি বলেন, স্ত্রীর পরামর্শেই ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছি। স্ত্রীর ইচ্ছা ছিল- পড়াশুনা করে ছেলেমেয়েরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াবে। তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করব। এলাকাটি নিমতিতা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান তহমিনা বিবি বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। শামিমাদের বাড়ি যাব। পড়াশুনা করতে ওকে আমরা সবরকম ভাবে সহযোগিতা করব।

অন্যদিকে, আজিমগঞ্জের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে এদিন পরীক্ষা দেয়। তার নাম জন্না মার্ডি। স্থানীয় ডনবস্ক হাই স্কুলের ছাত্রী সে। তার সিট পড়েছিল মুকন্দবাগ হাই স্কুলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন পরীক্ষা কেন্দ্রে এসে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরীক্ষা শুরুর আগেই চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। হাসপাতালের বেডে বসেই সে ইতিহাস পরীক্ষা দিয়েছে।

চেন্নাই হাইকোর্টে রুজু স্টালিনের মামলার নথি হাতে
দলবদল নিয়ে ফের আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি মান্নানের

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: বিধানসভার ধুন্ধুমার কাণ্ডের জেরে অসুস্থ হয়ে পেসমেকার বসানোর পর বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানকে সৌজন্যের খাতিরে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেবল তিনিই নন, বিধানসভা পরিচালনা করা নিয়ে যাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিলেন মান্নান, সেই অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও ৮ ফেব্রুয়ারির সেই বিতর্কিত ঘটনার পর মান্নানের কাছে গিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। কিন্তু সরাসরি তাঁদের কারও মুখের উপর কোনও কটু কথা না বললেও বিরোধী দলনেতা কিন্তু এই সৌজন্যকে বিপাকে পড়ে স্রেফ লোকদেখানো বলে মনে করেছেন। সংবাদমাধ্যম থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা যাঁরাই তাঁকে দেখতে গিয়েছেন, তাঁদের প্রায় সকলের কাছেই এব্যাপারে তাঁর মন্তব্য ছিল, পরিস্থিতির চাপে পড়ে ‘চাঁদ সদাগরের বাঁ হাতে মনসা পুজো’ দেওয়ার মতো করে শাসক শিবিরের রথী-মহারথীরা এই সৌজন্য দেখিয়ে গিয়েছেন। রাজনীতির লড়াইয়ে বিষয়টিকে তিনি কার্যত ‘জুতো মেরে গোরু দানে’র সঙ্গেই তুলনা করেছেন। আর তাঁর এই অবস্থানের জন্যই আগামী ১ মার্চ শুরু হতে চলা বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনও সরকারপক্ষকে বিব্রত করার জন্য আদাজল খেয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস ও বামেদের মিলিত বিরোধী শিবির।

তবে শাসকপক্ষের অস্বস্তি বাড়াতে কেবল বিধানসভাকেই নয়, আদালতের আঙিনাকেও গুছিয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন মান্নান। এক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম অস্ত্র হল দলবদলের ইস্যু। এই ইস্যুতে তিনি স্বয়ং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিও সেরে ফেলেছেন অনেকটা। এই মামলা করার জন্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার ফাঁকে তিনি নজর রেখেছিলেন চেন্নাইয়ের রাজনৈতিক ডামাডোলের দিকে। সেখানে সম্প্রতি নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামীর আস্থা ভোটকে কেন্দ্র করে বিধানসভার ভিতরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায় এবং তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা এমকে স্টালিনসহ ডিএমকে বিধায়কদের সাসপেন্ড করার ঘটনা গোটা দেশে সাড়া ফেলে দেয়। এর বিরুদ্ধে স্টালিন চেন্নাই হাইকোর্টে ওই আস্থা ভোট বাতিল করার আবেদন জানিয়ে অধ্যক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই বিধানসভায় সেদিনের ঘটনা নিয়ে ভিডিও ফুটেজ তলব করেছে। এই মামলার ২২ পাতা নথি ইতিমধ্যেই নিজের কাছে আনিয়েছেন মান্নান। চেন্নাই হাইকোর্ট শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, সেটা জেনে নিজের মামলার ঘুঁটি সাজানোর প্ল্যান করেছেন তিনি। সিপিএমের আইনজীবী-নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য সারদাকাণ্ডের জনস্বার্থ মামলা থেকেই মান্নানের ঘনিষ্ঠ দোসর হয়েছেন। দলবদলের মামলাতেও তিনিই বিরোধী দলনেতার আইনি-সেনাপতির কাজ করছেন। দ্বিতীয় দফায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ঠোকার বিষয়ে বিকাশবাবুর সঙ্গেও এক দফা আলোচনা করেছেন মান্নান।

উল্লেখ্য, কংগ্রেস ছেড়ে শাসক দলে নাম লেখানো তুষার ভট্টাচার্য’র বিধায়ক পদ সময়মতো খারিজের ইস্যুতে ইতিমধ্যেই একবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং অধ্যক্ষের বিবেচ্য বলে সরাসরি কোনও নির্দেশ না দিলেও হাইকোর্ট যথোপযুক্ত সময়ের মধ্যে মান্নানদের আরজি ফয়সালা করার পরামর্শ দেয়। যথোপযুক্ত সময়ের মধ্যে বিচার না পেলে মান্নানদের ফের আদালতের কাছে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয় আদালতের রায়ে। তার পরিপ্রেক্ষিতে মান্নান কেবল তুষারবাবুর নয়, হেভিওয়েট মানস ভুঁইঞাসহ বাকি চার ‘দলবদলু’ বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের আরজি জানিয়ে বেশ কিছু দিন আগেই অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু শাসক শিবিরে যাওয়া ‘অভিযুক্ত’ এই বিধায়করা অধ্যক্ষের দপ্তরের চিঠি পেয়ে প্রায় একই বয়ানে তাঁদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও তাঁরা কেউ সরাসরি দল বদল প্রসঙ্গে হ্যাঁ বা না কথাটি জানাননি। অধ্যক্ষের সচিবালয় থেকে অভিযুক্ত বিধায়কদের এই জবাবের কপি পাওয়ার পর ফের লিখিত নালিশ ঠুকেছেন বিরোধী দলনেতা। তার পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের নতুন করে সময় দেওয়া হয়েছে পরের জবাব দেওয়ার জন্য। মান্নান মনে করছেন, এভাবেই অযথা কালক্ষেপ করা হচ্ছে বারবার একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে জবাব তলব করে। তাই আর কয়েকদিন দেখার পর যাতে হাইকোর্টের দরজার কড়া নাড়তে পারেন, সেজন্য আগাম তৈরি থাকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের বিশ্রাম-পর্বে। শাসক শিবিরকে আইনি-প্যাঁচে ফেলার তাঁর এই পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেননি স্বয়ং মান্নানও। শনিবার ফোনে ধরা হলে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালাবই। বিছানায় শুয়েও আমি তাই হাল ছাড়তে রাজি নই। সেই কারণে বিধানসভার পাশাপাশি আদালত— দুটো লড়াই-ই চালাব ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য।

সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে
জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে পেরে খুশি গোঘাটের প্রতিবন্ধী শ্রীমন্ত

সংবাদদাতা, আরামবাগ: শারীরিকভাবে ৮০শতাংশ প্রতিবন্ধী। দুটি হাত মিলিয়ে মাত্র ৬টি আঙুল। তাতে ভালোভাবে কোনও কাজ করতে পারে না সে। কোনরকমে লেখালেখি করে। তবুও মনের জোরে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে গোঘাটের তারাহাট গ্রামের শ্রীমন্ত ভাঙ্গি। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে পেরে খুশি শ্রীমন্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বলেন, ছোটবেলা থেকে প্রতিবন্ধী হয়েও কেবল মাত্র মনের জোরে আজ শ্রীমন্ত জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসতে পেরেছে। এতে আমরা খুবই খুশি। আমরা ভগবানের কছে প্রার্থনা করছি যাতে শ্রীমন্ত এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করে পরিবারের সদস্য ছাড়াও গ্রামের মানুষের মুখ উজ্বল করে।

জানা গিয়েছে, শ্রীমন্তর বাবা স্বপনবাবু পেশায় ভাগচাষি। মা পূজাদেবী গৃহবধূ। শ্রীমন্তের এক বিবাহিত দিদি রয়েছেন। স্বপনবাবু পরের জমিতে চাষ করে যা রোজগার করেন তা দিয়ে ভালোভাবে সংসারই চলে না। তবুও ছোট থেকেই প্রতিবন্ধী ছেলের পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে তিনি থাকতে পারেননি। তিনি কঠিন পরিশ্রম করে ছেলের চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে পড়াশুনা করিয়েছেন। আথির্ক স্বচ্ছলতা না থাকায় বাড়িতে গৃহশিক্ষক দিতে পারেনি তার পরিবার। তা সত্ত্বেও বাড়িতে পড়েই ক্লাসে কখনও দ্বিতীয় কখনও আবার তৃতীয় স্থান দখল করত শ্রীমন্ত। তার পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ দেখে একজন শিক্ষক বিনা বেতনেই তাকে পড়াতে শুরু করেন। নবম শ্রেণিতে সে ভালো ফল করেছিল। তাকে সব রকম সাহায্য করেছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এই প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণকিশোর কুণ্ডু বলেন, শ্রীমন্ত বরাবরই পড়াশুনায় ভালো। হাতের লেখাও স্পষ্ট। শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে বোর্ডের তরফ থেকে তাকে অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রকম প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে যে শ্রীমন্ত এই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে তাতে আমরা সকলেই খুশি। জীবনের প্রথম পরীক্ষায় বসতে পেরে খুশি শ্রীমন্তও। তার কথায়, সুবিধা-অসুবিধা তো সবারই থাকে। সবাইকেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আমি পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। বাবা মা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর্শীবাদে পরীক্ষা ভালোই দিচ্ছি। আশা করি, মাধ্যমিকে ভালো ফল করে সকলের মুখ উজ্বল করব।

কেন্দ্রকে তোপ ফিরহাদ হাকিমেরও
বাংলার মানুষ একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি পর্যন্ত এগিয়ে দেবে: অরূপ বিশ্বাস
সুখেন্দু পাল  বার্নপুর

বিএনএ: উন্নয়নমূলক কাজ দেখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষ একদিন দিল্লি পর্যন্ত এগিয়ে দেবে। শনিবার বিকালে বার্নপুরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে এসে এমনটাই বলেন যুব কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিনের অনুষ্ঠানে নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও উপস্থিত ছিলেন। দুই মন্ত্রীই কেন্দ্রকে তোপ দাগেন। এদিন তাঁরা কালাঝরিয়াতে ২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধনের পাশাপাশি একটি সরকারি বাস চালু করেন। এই বাসটি শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখাবে। আসানসোলের উন্নয়নের জন্য দুই মন্ত্রীই মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, মেয়র শহরের উন্নয়নের গতি তরান্বিত করেছেন। এদিনের অনুষ্ঠানে জেলার দুই বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন এবং পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন অরূপবাবু বলেন, কিছু মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে পারবে না। সিপিএম বহুবার তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল, পারেনি। তাঁকে বাংলার মানুষ একদিন দিল্লি পর্যন্ত এগিয়ে দেবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উনি শুধুই বড় বড় কথা বলেন। কাজ কিছু করেন না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা কম বলেন। কাজ বেশি করেন। তিনি যেভাবে ঋণগ্রস্ত বাংলাকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন তাতে অর্থনীতিতে তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়া দরকার। পিছিয়ে পড়া বাংলাকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সিপিএম ভেবেছিল, ঋণগ্রস্ত বাংলা তাঁর হাতে তুলে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিপাকে ফেলবে। তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আসানসোলের সংসদ সদস্যকে তোপ দেগে মন্ত্রী বলেন, এখানকার সংসদ সদস্য অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, কোনও কাজ করেননি। তাঁকে এখন দূরবিন দিয়ে দেখতে হয়। তিনি দিল্লিতে থাকেন।

ফিরহাদ সাহেব কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগে বলেন, তারা স্মার্ট সিটির নামে কয়েকটি পুরসভাকে ললিপপ ধরাতে চেয়েছিল। আমরা গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্প করে রাজ্যের সমস্ত পুরসভাকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলব। শহরে সবুজায়ন হবে। প্রতিটি রাস্তা আলোকিত হবে। এই প্রকল্পে আসানসোল পুরসভার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই শহর উন্নয়নের দিক থেকে এখন কলকাতাকে টক্কর দিচ্ছে। আমাদের আমলে এই শহরে প্রকৃত উন্নয়ন শুরু হয়েছে। আসানসোল দ্রুত এগচ্ছে।

রঘুনাথপুরে জল প্রকল্পের উদ্বোধন
ছোট পুরসভাগুলির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার লবডঙ্কা দিচ্ছে: পুরমন্ত্রী

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ছোট পুরসভাগুলির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার লবডঙ্কা দিচ্ছে। সুতরাং এই ছোট পুরসভাগুলির জন্য যা করতে হবে সবই রাজ্যের টাকাতে করতে হচ্ছে। আর্থিকভাবে কষ্টে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট পুরসভাগুলির উন্নয়নে এবং ওই পুরসভার সমস্ত বাসিন্দাদের পুরপরিষেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। কিছুক্ষেত্রে হয়তো খানিকটা সময় লাগছে। তবে উন্নয়নের কাজ থমকে থাকবে না। শনিবার পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে জলপ্রকল্পের উদ্বোধনে এসে একথা বলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

এদিন রঘুনাথপুরে প্রায় সাড়ে ১৭কোটি টাকা ব্যয়ের জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। স্পেশাল বিআরজিএফ ফান্ডে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে রঘুনাথপুর শহরে জলের সমস্যা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখন রঘুনাথপুর শহরের অধিকাংশ জায়গায় জল সরবরাহের জন্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে পুরসভাকে।

শনিবার জয়চণ্ডী পাহাড়ের কাছে রঘুনাথপুরের জলপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত, রঘুনাথপুরের বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি, রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ভবেশ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এদিন পুরমন্ত্রী বলেন, রঘুনাথপুরে জলের কষ্ট মেটাতে এই প্রকল্প কার্যকরী ভূমিকা নেবে। এখন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কাছে জল নিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে পুরসভা যাতে নিজেরাই দামোদর থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল এনে সরবরাহ করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থের অভাবে এরজন্য খানিকটা সময় লাগলেও কাজ হবেই।

মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত বলেন, পুরুলিয়া জেলার পুরসভা এলাকাগুলিতে জলের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর পরই তিনি জলপ্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় ও রঘুনাথপুর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর শহরে জল সরবরাহের জন্য এতদিন ধরে ইন্দো-জার্মান প্রকল্পের উপরেই ভরসা করতে হত। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই রঘুনাথপুরে স্পেশাল বিআরজিএফ প্রকল্পে জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এদিন দ্বিতীয় দফার কাজের উদ্বোধন করলেন পুরমন্ত্রী।

রঘুনাথপুর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭কোটি ৪৪লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। পুরসভার ওয়ার্ডগুলিকে মোট দু’টি জোনে ভাগ করে জল সরবরাহ করা হবে। এমইডি প্রযুক্তিগত সাহায্য নিয়ে রঘুনাথপুর পুরসভা এই জলপ্রকল্প তৈরি করেছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও রয়েছে পুরসভা। এই প্রকল্প মোট সাতটি গভীর নলকূপ ও পাম্প হাউস এবং দু’টি রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে।

পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১ নম্বর জোনে মোট ৯০০ পরিবারকে বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে দু’হাজার পরিবার এবং পরবর্তীতে পাঁচ হাজার পরিবারকে এই সংযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবার পিছু জলের সংযোগের জন্য প্রতি মাসে ১০০টাকা দিতে হবে। মাসে মোট তিন হাজার লিটার জল পাবে ওই পরিবার। তার বেশি পরিমাণ জল নেওয়ার জন্য লিটার পিছু ১০ পয়সা করে এই পরিবারকে খরচ করতে হবে। বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য মাসে ২৫০ টাকা এবং অতিরিক্ত জলের জন্য লিটার পিছু ২৫ পয়সা দিতে হবে।

পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর পুরসভাতে ইন্দো-জার্মান প্রকল্পে মোট প্রায় ১৫০০ জলের সংযোগ রয়েছে। বর্তমানে রঘুনাথপুরে প্রতিদিন প্রায় ২১ লক্ষ লিটার জলের চাহিদা রয়েছে। তারমধ্যে অধিকাংশ জলই জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কাছ থেকে নিতে হবে পুরসভাকে। বাকি জল এই প্রকল্পের গভীর নলকূপ থেকে সরবরাহ করা হবে।

রাজ্যের কলেজগুলিতে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরে এসেছে, দাবি মানিক ভট্টাচার্যের

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বর্তমানে রাজ্যের কলেজগুলিতে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরে এসেছে। শনিবার আলিপুরদুয়ারের পর্যটন কেন্দ্র সিকিয়াঝোরার একটি বেসরকারি রিসর্টে নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের ২৮তম রাজ্য সম্মেলনে একথা বলেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্য।

এদিন প্রকাশ্য সম্মেলনে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মানিকবাবু রাজ্য জুড়ে কলেজে কলেজে ভাঙচুর ও অধ্যক্ষদের হেনস্তা প্রসঙ্গে বলেন, অধ্যক্ষরা বহুদিন ধরে এই ব্যবস্থার শিকার। কলেজে ভরতি ও নির্বাচন অধ্যক্ষদের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত। এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী কলেজে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছেন। ভরতি প্রক্রিয়ায় অনলাইন চালু হওয়ায় অধ্যক্ষরা এখন নিশ্চিত মনে কাজ করে যাচ্ছেন। কলেজে নির্বাচনগুলিতেও এখন ঝামেলা কমে গেছে। ইসলামপুর কলেজে সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে মানিকবাবু বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা চাই সম্মান, নিরাপত্তা ও কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ। বর্তমানে এই তিনটি জিনিসই ফিরে এসেছে কলেজগুলিতে। সেইজন্য আমরা রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সম্মেলনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, কলেজগুলির উন্নয়নে আমার দপ্তর টাকা দিচ্ছে। অধ্যক্ষরাই শিক্ষার মেরুদণ্ড। রাজ্যে শিক্ষার মান প্রসারে রবিবাবু অধ্যক্ষদের আরও দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দেন।

নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের এই রাজ্য সম্মেলনে গোটা রাজ্য থেকে ১২০টি কলেজের অধ্যক্ষ যোগ দিয়েছেন। শনিবার ছিল প্রকাশ্য সম্মেলন। আজ রবিবার পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। সম্মেলনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, এলাকার বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ির সংসদ সদস্য বিজয় চন্দ্র বর্মন, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা কলেজের উপাচার্য শ্যামল রায় বক্তব্য রাখেন।

মেদিনীপুরে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বললেন
গ্রামের মানুষ বঞ্চিত হলে একদিন তাঁরা বিদ্রোহ করবেন

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: গ্রামের মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে হবে। মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করতে হবে। তা একমাত্র গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরাই পারবেন। গ্রামের মানুষ বঞ্চিত হলে একদিন তাঁরা বিদ্রোহ করবেন। যেটা এখন অনেক দেশে হচ্ছে। এটা আটকাতে পারে একমাত্র ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। তাই পঞ্চায়েত সদস্যদের প্রশিক্ষিত হতে হবে। শনিবার মেদিনীপুরে জেলা পঞ্চায়েত প্রশিক্ষণ ও সম্পদ কেন্দ্রের উদ্বোধন করে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় একথা বলেন।

এই অনুষ্ঠানে তিন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, চূড়ামণি মাহাত, শ্যামল সাঁতরা, সভাধিপতি উত্তরা সিং, জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা, জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অজিত মাইতি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুব্রতবাবু বলেন, এই প্রশিক্ষণ এখন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু, একে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এজন্য আইন আনা হবে। এবার থেকে পঞ্চায়েত সদস্যদের দু’টি সার্টিফিকেট লাগবে। একটি জয়ী হওয়ার সার্টিফিকেট, অন্যটি প্রশিক্ষণের সার্টিফিকেট। শুধু জিতে গেলেই হবে না। তাঁকে কিছু শিখতে হবে। তিনি বলেন, অর্থ কমিশনের টাকা এবার সরাসরি পঞ্চায়েতে আসবে। তাই আপনাদের দায়িত্ব অনেক। প্রতিদিন রাজ্য ও কেন্দ্রে নিত্য নতুন আইন হচ্ছে। তাই আপনাদের শিখে নিতে হবে। এতে লজ্জার কিছু নেই। কারণ সহায়ক, সহায়িকা, কিছু কর্মী আপনাদের দুর্বলতার সুযোগ নেবে। এতে আমাদের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে। আমি তো পঞ্চায়েত আইন করেছিলাম। তবুও আমি এখনও অনেক কিছু জানার চেষ্টা করি। এতে আমার কোনও লজ্জা নেই। সব জানি বললে হবে না। নিয়মমাফিক কাজ জানতে হবে। কাজ না করতে পারলে অন্যেরা আপনার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে চলে যাবে। মনে করলে জেলাপরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো। এর পবিত্রতা, মর্যাদা আপনাদেরই রক্ষা করতে হবে। অনেক জেলায় সন্ধ্যাবেলা আসর বসছে। এটা হতে দেওয়া যাবে না। সরকারি দপ্তরের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করতে হবে। তার জন্য অনুমতি নিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের রা঩জ্যের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। এখানের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত হয়ে আছে। সেই কাজ শেষ করে নতুন কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গান্ধীজি বলেছিলেন, মানুষের কাছে তাদের অধিকার পৌঁছে দিতে হবে। তিনি গ্রামের মানুষকে নিয়ে দেশগড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই লক্ষ্যে পঞ্চায়েতরাজ সফল করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু দুর্নীতির খবর পাই। শুধু নির্বাচিত সদস্যরা নন, কর্মীরাও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছেন। তা বন্ধ করতে হবে। তিনি এদিন কেন্দ্রে বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণেরও অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, আগে প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনায় রাস্তা তৈরির টাকা দিত কেন্দ্র। এখন তারা বলছে, রাজ্যকে ৪০শতাংশ টাকা দিতে হবে। সেরকম দেখলে আমাদের ৫০শতাংশ টাকা দিতে হবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্য সরকার সেই টাকা দেবে। রাস্তা তৈরি বন্ধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, গ্রামে আর কোথাও মাটি বা মোরামের রাস্তা তৈরি করা যাবে না। পিচের রাস্তা করতে হবে। ঠিকাদার সংস্থাগুলিকে রাস্তা তৈরির পর পাঁচ বছরের রক্ষণাবেক্ষণের টাকা দেওয়া থাকে। কিন্তু, তারা তা করছে না। এদিকে নজর রাখতে হবে। সেরকম অভিযোগ পেলে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। টাকা প্রাপ্য থাকলে তা আর দেওয়া হবে না।

রাজ্যের বেসরকারি নার্সিংহোম ও হাসপাতালগুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী খুব বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভালো পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটা মানুষ ভালোভাবে নিয়েছেন।

বসন্তের সুখানুভূতি চলবে আরও তিনদিন, বলছে আবহাওয়া দপ্তর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের শীত শীত ভাব। সকালে শুকনো আবহাওয়া। বাড়ির বাইরে পা রাখলে শিরশিরে অনুভূতি। দিনের বেলাও খুব একটা সংকটে ফেলছে না রোদের তেজ। যদিও এই পরিস্থিতিকে শীত বলতে নারাজ আবহাওয়া দপ্তর, তবু তাদের আশা, সুখানুভূতি চলবে এখনও দিন তিনেক। তারপর আর রেহাই নেই। তাপমাত্রা বাড়বে ধীরে ধীরে। কপাল খারাপ থাকলে শুরু হয়ে যেতে পারে ভ্যাপসা গরম।

শনিবার কলকাতায় রাতের তাপমাত্রা নেমেছিল ১৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্বাভাবিকের তুলনায় তা এক ডিগ্রি কম। আবার দিনের তাপমাত্রাও এক ডিগ্রি কমে দাঁড়ায় ৩০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কেন নামল তাপমাত্রা? আলিপুরের আবহাওয়াবিদরা অবশ্য এদিন সন্ধ্যায় পারদ নামার তত্ত্বে সায় দেননি। ডিউটি অফিসার বললেন, এখন কেন নামল, এটার থেকে বড় প্রশ্ন, আগে কেন বেড়েছিল। এখন যে তাপমাত্রা থাকার কথা, তেমনই আছে। যে এক ডিগ্রির তফাত রয়েছে, তা স্বাভাবিক। বসন্তের শুরুতে এমন মনোরম আবহাওয়া থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। বরং গোটা বিষয়টি জট পাকিয়ে দিয়েছিল একটি বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত। বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া ওই ঘূর্ণাবর্ত সমুদ্রের উপর থেকে জলীয় বাতাস টেনে আনছিল রাজ্যে। তা সমুদ্রপৃষ্ঠ গরম করে তোলায়, সেই গরম হাওয়া এসে লাগছিল আমাদের গায়ে। থমকে গিয়েছিল উত্তর-পশ্চিমের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা হাওয়া। সেই কারণে যেমন ভোরের দিকে কুয়াশা বাড়ছিল, আবার ভ্যাপসা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল দিনভর। রাতের দিকেও তাপমাত্রা নামতে দেয়নি সেই কালপ্রিট। সেই কারণেই ফাল্গুনের শুরুতেই চৈত্রের আবহ তৈরি হয়েছিল কলকাতা ও শহরতলিতে। রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই স্বস্তি উধাও হয়েছিল সেই বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের কারণেই।

যেহেতু ঘূর্ণাবর্তটির প্রভাব কিছুটা কেটেছে, তাই সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প ঢোকাতেও লাগাম পড়েছে। আবার বাধা না পাওয়ায় সক্রিয় হয়েছে উত্তর-পশ্চিমী বায়ুও। এই অবস্থা এখনও দিন তিনেক জিইয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের ওই কর্তা। তিনি বলেন, পরিবেশের স্বাভাবিক নিয়মেই এবার তাপমাত্রা বাড়বে। যে ঘূর্ণাবর্তটি ছিল, সেটি আগে রাজ্যের কাছাকাছি এসেছিল, এখন তা কিছুটা দূরে সরে গিয়েছে। তার শক্তিও হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু এখনও মিলিয়ে যায়নি। প্রাকৃতিক কোনও রসায়নে তা আবার উপর দিকে উঠে আসলে, ফের জলীয় বাষ্প ঢুকবে রাজ্যে। সেক্ষেত্রে ফের ভ্যাপসা গরমের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে আগামীদিনে কী হবে, তা না ভেবে আপাতত মনোরম আবহাওয়া উপভোগ করাই শ্রেয়, বলছেন আবহাওয়াবিদরা।

উন্নয়নমূলক কাজে জমি কিনলে জেলা পরিষদ ও পুরসভাকে দিতে হবে প্রশাসনিক খরচের টাকা

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি কিনতে হলে জেলা পরিষদ ও পুরসভাগুলিকে প্রশাসনিক খরচ হিসাবে দামের এক থেকে দুই শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার থেকে ২০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। রাজ্য ভূমি রাজস্ব দপ্তর থেকে প্রতিটি দপ্তরকে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করবে না। সকলের সহমত নিয়েই জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেবে। সেক্ষেত্রে প্রশাসনিক খরচ দিতে হবে। তা রাস্তা তৈরি হোক বা উড়ালপুল তৈরির জন্য জমি লাগুক, প্রতি ক্ষেত্রেই ওই খরচ দিতে হবে। বিভিন্ন জেলাশাসকের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েই ওই প্রশাসনিক খরচ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূমি রাজস্ব দপ্তর। সেই সঙ্গে রাস্তা তৈরির জন্য চা বাগানের জমি নিতে গেলে একটি চা গাছের জন্য কত টাকা দিতে হবে, তাও চূড়ান্ত করেছে ভূমি রাজস্ব দপ্তর।

ওই দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, বর্তমান সরকার জমি অধিগ্রহণ না করে সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জমি কেনার জন্য জেলাশাসককে মাথায় রেখে একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকায় সেই কমিটিতে রয়েছেন জেলা ভূমি রাজস্ব আধিকারিক, স্পেশাল ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অফিসার, পঞ্চায়েত সমিতির দু’জন সদস্য, জেলা পরিষদের ফিনান্স অফিসার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি, জেলা রেজিস্ট্রার এবং জেলা পরিষদের সচিব। এই সচিবই হবেন ওই কমিটির সদস্য সচিব।

আর পুরসভা এলাকায় জেলাশাসককে মাথায় রেখে কমিটির সদস্যরা হলেন, মেয়র, কমিশনার বা চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার, ভূমি রাজস্ব আধিকারিক বা ফার্স্ট ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন কালেক্টর, জেলা রেজিস্ট্রার, স্পেশাল ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন অফিসার, পুরসভার চেয়ারম্যান মনোনীত দু’জন কাউন্সিলার, চিফ মিউনিসিপ্যাল অডিটর, যে দপ্তরের জমি প্রয়োজন সেই দপ্তরের প্রতিনিধি এবং পুরসভার সচিব। এই সচিবই হবেন জমি ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব। শহর ও গ্রামীণ এলাকার এই দু’টি কমিটি জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে জমি কিনবে। অবশ্য তা কেনা হবে জমির বাজারদর অনুযায়ী।

কিন্তু সেই জমি কেনার প্রক্রিয়ার জন্য অনেক সময় ব্যয় হয় জেলা পরিষদ ও পুরসভাগুলির। দফায় দফায় বৈঠক করতে হয়। জমির মালিকদের বাজারদর অনুযায়ী জমির দাম দেওয়া হবে বলে সরকারি স্তরে তা জানিয়ে দেওয়া হলেও অনেকে জমি দিতে রাজি থাকেন না। তাঁদের বোঝাতেও অনেক বৈঠক করতে হয়। তাতেও অনেক সময় চলে যায়। অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক তৈরি, মেট্রোরেলের কাজ, উড়ালপুল তৈরি, রেলের সম্প্রসারণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাজারদর অনুযায়ী জমি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার বাজারদরের বেশি দাম দিয়েও জমি কেনার উদাহরণ রয়েছে। শুধু বেসরকারি স্তরে নয়, সরকারি স্তরেও জমি কিনতে হলে প্রশাসনিক খরচ হিসাবে আলাদা দাম দিতে হবে।

কত টাকার জমির উপরে কত দাম দিতে হবে, তার তালিকাও করে দিয়েছে ভূমি রাজস্ব দপ্তর। ওই দপ্তরের পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় (নং-২৫১-এলপি/১এ-০৩/১৪) বলা হয়েছে, জমির দাম এক কোটি টাকা পর্যন্ত হলে প্রশাসনিক খরচ দিতে হবে দুই শতাংশ অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা। জমির দাম এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা হলে দিতে হবে দেড় শতাংশ। অর্থাৎ টাকায় তা দাঁড়াবে দুই লক্ষ টাকা। জমির দাম পাঁচ কোটি থেকে ১০ কোটি হলে প্রশাসনিক খরচ হিসাবে দিতে হবে ১.২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭.৫ লক্ষ টাকা। আর ১০ কোটি টাকার বেশি হলে দিতে হবে ১ শতাংশ অর্থাৎ ১২.৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা। এর ফলে জেলা পরিষদগুলির আয় বাড়ানোর রাস্তা তৈরি করল রাজ্য সরকার।

এছাড়াও রাজ্য সড়ক ও জাতীয় সড়ক তৈরির জন্য উত্তরবঙ্গে চা বাগানের জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভূমি রাজস্ব দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমতলের একটি চা গাছের জন্য দিতে হবে ১৩৫ টাকা। আর পাহাড় এলাকায় একটি চা গাছের জন্য দিতে হবে ১৫৫ টাকা। আর চা বাগানের মধ্যে ছায়া তৈরির জন্য যে গাছ থাকে, তা উচ্ছেদ করলে চার হাজার টাকা দিতে হবে।

জুডিশিয়াল আকাদেমির স্থায়ী ক্যাম্পাস চালু হল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া ৩-এ ওয়েস্ট বেঙ্গল জুডিশিয়াল আকাদেমির স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। উপস্থিত ছিলেন বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর, কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে প্রমুখ। মুহুরি, আইনজীবীদের প্রথাগত আইনি শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পাস চালু করা হল। এছাড়া বিভিন্ন আইনি সংশোধনী সম্পর্কেও এখানে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে শিক্ষা দেওয়া হবে।

এদিন রাজ্যপাল বলেন, আইন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের দেশে অভিযোগ কম। কিন্তু, এই ব্যবস্থায় বেশ কিছু ফাঁকফোকর আছে। যার মধ্যে দিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে আইনি ব্যবস্থায় বিচার পেতে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। তার ফলে বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সমঝোতা করার দিকে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। জমি সংক্রান্ত মামলায় এই ধরনের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এই সমস্যা দূর করতে হবে। রাজ্যপাল বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে আরও বেশি সংখ্যক আদালত ও বিচারপতি নিয়োগ করার জন্য আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করব। এই ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলেই বিচার প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত সম্পন্ন হবে।

আমেরিকায় ভারতীয় খুনের নিন্দায় মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমেরিকার কানসাসে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার শ্রীনিবাস কুচিভোটলার খুনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দু’টি ট্যুইট বার্তায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। এদিন বিকালে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের এবং মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে মাদার টেরিজার মূর্তির সামনে ওই ঘটনার প্রতিবাদে মোমবাতি জ্বালান কয়েকশো সাধারণ মানুষ। তাতে অংশ নেয় কলকাতার একটি বিখ্যাত ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়ারাও।

প্রথম ট্যুইট বার্তায় মমতা এদিন জানিয়েছেন, মর্মাহত এবং শোকাহত হয়েছি এই ঘটনায়। ভারতীয় এই ইঞ্জিনিয়ার দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন। ঘৃণার এহেন রাজনীতিকে আমরা সমর্থন করি না। দ্বিতীয় বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, গোটা বিশ্ব একটা বিরাট পরিবার। নানা দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। আমাদের সবারই সেটা বোঝা উচিত।

বেঙ্গল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি পুরস্কৃত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবম উদ্ভাবনী শিক্ষা পুরস্কার পেল বেঙ্গল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের একটি হোটেলে এই পুরস্কার নেন এসকেএস গোষ্ঠীর ডিরেক্টর এ সি গঙ্গোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী আকিলা বিরাজ কারিয়াওয়াসম। ওই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেঙ্গল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি চারবার সাফল্য পেয়েছিল। এই পুরস্কার পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি উজ্জীবিত করবে বলেই সংস্থার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

 




 

?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta