কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটগ্রহণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

গোটা দেশের ৯টির মধ্যে এরাজ্যেরই
৩ জেলা জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছে

শ্রীকান্ত পড়্যা  বর্ধমান

 

বিএনএ: ২০১৬ সালে ভোট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য দেশের ন’টি জেলাকে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এগুলির মধ্যে এরাজ্যেরই তিনটি জেলা রয়েছে। ভোট ব্যবস্থাপনা ক্যাটাগরিতে বর্ধমান, আইটি সেক্টরে উল্লেখযোগ্য দক্ষতার কারণে বীরভূম এবং ভোটারদের ভোটদানে সচেতনতা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুরুলিয়া জেলা জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজ্যের তিন জেলা প্রশাসনের কাছে ওই খবর আসে। পাশাপাশি এরাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারও জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবসে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এরাজ্যের তিন জেলার জেলাশাসকের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কার বাবদ ৫০ হাজার টাকা, ট্রফি এবং একটি মানপত্র তুলে দেওয়া হবে।

গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি সারা দেশের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক দিল্লির অশোকা হোটেলে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোট প্রক্রিয়ায় একাধিক ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। দু’দিনের ওই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় জেলাশাসকরা নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে প্রেজেন্টেশন দেন। তারপর শুক্রবার রাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সফল জেলাগুলির কাছে ইমেল পাঠানো হয়। সেখানে আগামী ২৫ তারিখ দিল্লিতে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

বর্ধমানের জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন, গোটা দেশের মোট ন’টি জেলা জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছে। তারমধ্যে ছ’টি জেলার জেলাশাসক এবং বাকি তিনটি জেলার পুলিশ সুপাররা ওই পুরস্কার পাচ্ছেন। পাশাপাশি এরাজ্যের চিফ ইলেকটোরাল অফিসার নিজেও জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন। জেলাশাসক বলেন, এটি আমাদের কেরিয়ারে পঞ্চম জাতীয় পুরস্কার। তিনি বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচন আমাদের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জ ছিল। বলাই বাহুল্য, আমরা প্রেসার কুকারের মতো চাপ নিয়ে গোটা পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। শেষপর্যন্ত ভোট ব্যবস্থপনায় আমরা সফল হওয়ায় গোটা টিম বর্ধমান খুশি।

২০১৬ সালে বর্ধমান জেলা প্রশাসন দুটি সিস্টেম চালু করেছিল। একটির নাম পোলিং এরিয়া সার্ভে অ্যাপস(পাসা)। এটি মূলত জিপিএস সিস্টেম। যার মাধ্যমে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা এক ক্লিকের মাধ্যমে একটি বুথের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য হাতের মুঠোয় পেয়ে যান। অপরটি হল কিউ সিস্টেম। ভোট চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস করে ভোটাররা নিজের নিজের বুথে সেইসময় কতজন ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সেই তথ্য পেয়ে যান। বাড়িতে বসে ভোটার লাইনে তথ্য হাতে পাওয়ার মতো অভিনব উপায় বের করার জন্য জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছে বর্ধমান।

পুরুলিয়ার অফিসার ইন-চার্জ ইলেকশন শিলাদিত্য চক্রবর্তী বলেন, সিস্টেমেটিক ভোটারস এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেশন(এসভিইইপি) ক্যাটাগরিতে আমরা জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছি। ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটের সময় জাতীয় নির্বাচন কমিশন ওই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিল। তারপর থেকে এসভিইইপি চালু রয়েছে। জেলাশাসক আগামী ২৫ তারিখ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন। বীরভূমের জেলাশাসক পি মোহন গান্ধী বলেন, আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছি। এটা গোটা টিম বীরভূমের সাফল্য। আমরা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছি।
 

মমতার সমালোচনায় মীনাক্ষি লেখি
সাংবিধানিকভাবেই কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া
হিংসাত্মক ঘটনার মোকাবিলা করবে:রিজিজু

দিব্যেন্দু বিশ্বাস  নয়াদিল্লি

২১ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার মোকাবিলা সাংবিধানিকভাবেই করবে কেন্দ্র। আজ এ কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে পশ্চিমবঙ্গে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা সরাসরি গণতন্ত্রের উপরেই আঘাত হানছে। এতে রাজনৈতিকভাবে অস্থিরতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবে যা করা প্রয়োজন, তার সবটাই আমরা করব। কিন্তু পরিস্থিতির মোকাবিলায় ঠিক কী করা হবে, তা এখনই ঘোষণা করা হবে না। বাংলার সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীরা যেখানে অরাজকতা শেষ করেছে, ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার ফের সেখান থেকেই তা শুরু করেছে। বাংলার গৌরব এখন জ্বলছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ এখানে একটি আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন।

আজ মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি অবিলম্বে বদলে ফেলা প্রয়োজন। আর এর জন্য গোটা দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে একজোট হতে হবে। কারণ পশ্চিমবঙ্গ মানে শুধুই বাংলা নয়, তা ভারতেরই অংশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কথা বলছেন, যা তাঁর কোনওমতেই বলা উচিত নয়। আদর্শগতভাবে এর লড়াই করা প্রয়োজন। এই আদর্শের প্রসঙ্গেই আজ মমতাকে কটাক্ষও করেছেন রিজিজু। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আজ টেনে এসেছেন এককালে মমতা-বিজেপি সুসম্পর্কের কথাও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথম সংসদ সদস্য হয়েছিলেন, তিনি কিছুই বলতে পারতেন না। বামপন্থীরা তুমুল হইচই করে তাঁকে বলতে দিতেন না। চরম হতাশা থেকে মমতা কেঁদে ফেলতেন। সেইসময় বিজেপি’র এমপি’রাই একমাত্র তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমরা আপনাকে ঘিরে রয়েছি। আপনি বলুন। কেউ আপনাকে ছুঁতেও পারবে না। কিন্তু এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মমতা যেভাবে বিজেপি’র সমালোচনা করছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক। এরপরেই মন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, পিছনে তাকানোর সময় আমাদের নেই। তবে এ ধরনের ভুল যাতে আমরা আর না করি, সেইদিকে আমাদের কড়া নজর রাখতে হবে।

রিজিজুর পাশাপাশি বাংলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ বিজেপি এমপি মীনাক্ষি লেখিও মমতার কড়া সমালোচনা করেন। এবং রাজ্য সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে ভাঙড়, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নোট বাতিলের বিরোধিতা-- সমস্ত প্রসঙ্গই টেনে আনেন তিনি। বলেন, বরাবর বাংলার মানুষের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তাঁদের ধোঁকা দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ৩৪ বছর ধরে বাংলায় বামেরা রাজব করে গিয়েছে। এখনও রাজ্যে সেই পরিবর্তিত বাম জমানাই চলছে। কারণ বামপন্থীরা সবাই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। ভাঙড়ের প্রসঙ্গ তুলে লেখি বলেন, সিঙ্গুর নিয়ে যিনি কার্যত আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন, রাজনীতিই বদলে দিয়েছিলেন, সেই মমতাই এখন ভাঙড়ের ঘটনার জন্য দায়ী। আসলে অসহিষ্ণুতাই পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে বড় সমস্যা।

ওই বিজেপি এমপি’র অভিযোগ, অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য সীমান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ রাজ্যের কাছে জমি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। অথচ ভাঙড়ে জোর করে জমি নেওয়া হয়েছে। কারণ ভাঙড়ে মুনাফা লোটার রাস্তা খোলা রয়েছে সরকারের কাছে।

পূর্ব মেদিনীপুরে কৃষকসভার সম্মেলন
সূর্যকান্তের দাবি, বাম জামানায় একজন কৃষকও আত্মহত্যা করেননি

সংবাদদাতা, কাঁথি: আমাদের ৩৪বছরের শাসনকালে একজনও কৃষক আত্মহত্যা করেননি। অথচ ওঁর(মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমলে কৃষক আত্মহত্যার রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, সর্বত্র সেচের সুবিধা পৌঁছায়নি। বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। টেটের নামে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র শনিবার কাঁথি-৩ ব্লকের দইসাইতে সারা ভারত কৃষক সভার ৩৭তম জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে একথা বলেন। তিনি বলেন, ভাঙড়ে জমি হাঙরদের দিয়ে জোর করে জমি নেওয়া যাবে না। জমির চরিত্র পরিবর্তন করা যাবে না। জনশুনানি করে মানুষের মতামত শুনতে হবে। ভাঙড়ের ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে, এদিন এই সমাবেশে আশানুরূপ লোক হয়নি। সমাবেশ শেষ হওয়ার আগেই অনেক দলীয় কর্মী-সমর্থক মাঠ ছাড়তে শুরু করেন।

এদিন সূর্যকান্তবাবু নাম না করে ভাঙড় ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সমালোচনায় মুখর হন। তিনি বলেন, উনি একবার ভাঙড়ে গিয়ে বলুন, জোর করে কৃষকদের কাছ থেকে এক ইঞ্চিও জমি নেওয়া হবে না। আসলে ওঁর সেই হিম্মত নেই। হিম্মত নেই বলেই তো উনি নিজে না গিয়ে অন্য মন্ত্রীদের সেখানে পাঠাচ্ছেন।

তিনি রেজ্জাক মোল্লার নাম না করে বলেন, কিছু লোক রয়েছেন, যাঁরা মন্ত্রিত্ব ছাড়া থাকতেই পারেন না। মন্ত্রী হওয়ার জন্য গত ২০১৬সালে বিধানসভা নির্বাচনে তিনি গোরু-ছাগলের মতো হাটে-বাজারে বিক্রি হয়ে গিয়েছেন।

তিনি বলেন, নোট বাতিল সারদা সহ অন্যান্য চিটফান্ড প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত আসল মাথা সহ প্রকৃত দোষীদের ধরতে হবে। আমানতকারীদের যত টাকা লুট হয়েছে, তার পাইপয়সা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু, দিদির আমলে কোথাও কিছু হচ্ছে না। আগামী দিনে এর বিচার চাইতে রাজ্যের ২০টি জেলা থেকে মানুষকে নিয়ে আমরা নবান্ন অভিযান করব। তিনি বলেন, উনি বড় বড় শিল্পপতিদের নিয়ে সম্মেলন করছেন। বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন করছেন। কিন্তু এপর্যন্ত একটিও শিল্প আনতে পারেনি। বড় বড় কোম্পানি আসে। কোনও কাজ হয় না। আর উনি যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন কোনও শিল্প হবে না। আসলে রাজ্যটাকে শ্মশান বানিয়ে দিয়েছেন। কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন করেও কলকারখানা হওয়ার সুযোগ নেই। যার ফলে রাজ্যে বেকারদের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে সূর্যকান্তবাবু বলেন, উনি নোট বাতিল করে বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধারের কথা বলেছিলেন। কালো টাকা তো উদ্ধার হয়নি। বরং উনি কালো টাকাকে সাদা করে ফেলেছেন। জনগণের হয়রানি বেড়েছে। এই ধরণের পরিস্থিতি বেশি দিন চলতে পারে না। মানুষ ঘুরে দাঁড়াবেই।

তিনি দলীয় কর্মী সমর্থক এবং কৃষক নেতৃত্বদের প্রতি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের শপথ নিতে হবে। একজোট এবং ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া যাবে না।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিএমের রাজ্য কৃষক সভার সম্পাদক তরুণ রায়, সংগঠনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অমিয় পাত্র, সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি প্রমুখ।

খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে বকলমে রেলের বাংলো পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে খড়্গপুরে বকলমে রেলের বাংলো দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাংলো সরাসরি দিলীপবাবুর নামে দেওয়া হচ্ছে না। রেলবোর্ডের এক সদস্যের নামে বাংলো দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বাড়ি বাঁকুড়া জেলায়। দিলীপবাবু অবশ্য বাংলো পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, খড়্গপুরে রেলের একটি বাংলো রেলবোর্ডের এক সদস্যের নামে দেওয়া হচ্ছে। সেটি উনি আমাকে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন।

খড়্গপুরের ডিআরএম রাজকুমার মঙ্গলা বলেন, ওই সদস্য রেলবোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই মতো একটি বাংলো দেওয়া হচ্ছে। সেখানে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য কমিটির অফিস হওয়ার কথা। সেখানে কে থাকবেন, তা আমার জানা নেই। সেটা আমাদের দেখার কথাও নয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এখন শহরের ঝাপেটাপুরে বিধায়কের একটি অফিস আছে। খড়্গপুরে এলে দিলীপবাবু সেখানেই ওঠেন। খড়্গপুরে থাকার মতো তাঁর কোনও স্থায়ী আস্তানা নেই। তিনি যাতে স্থায়ীভাবে তাঁর বিধানসভা এলাকায় থাকতে পারেন, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। আরপিএফ ট্রেনিং স্কুলের কাছে বাংলোটির রং করার কাজ শেষ। বাংলোর সামনে অনেকটা ফাঁকা জায়গা রয়েছে। সেখানে নতুন কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের কাজও শুরু হয়েছে। শ্রীনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর নামে অভিযোগ তোলায় সম্প্রতি তিনি জনসংযোগ বাড়াতে পদযাত্রা করতে খড়্গপুরে এসেছিলেন। সেদিন সকালে নিজে গিয়ে তিনি বাংলোটি দেখে আসেন। বাংলোটি যাতে তাড়াতাড়ি বসবাসযোগ্য করে তোলার জন্য দলেরই এক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিদিন রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ দেখভাল করছেন। জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই দিলীপবাবু এই বাংলোয় এসে উঠবেন।

বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তুষার চৌধুরি বলেন, দিলীপবাবুর খড়্গপুরে স্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা হচ্ছে। উনি এবার নিজের বিধানসভা এলাকাতে আরও বেশি করে সময় দেবেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের শহর সভাপতি তথা পুরসভার কাউন্সিলার দেবাশিস চৌধুরি বলেন, আমরা শুনেছি বিজেপি বিধায়ককে খড়্গপুরে রেলের একটি বাংলো দেওয়া হচ্ছে। আরপিএফ ট্রেনিং স্কুলের কাছে সেই বাংলো সাজানো হচ্ছে। জানতে পেরেছি, রেলবোর্ডের এক সদস্যের নামে বরাদ্দ করা ওই বাংলো দিলীপবাবু ব্যবহার করবেন। এভাবে বিজেপি নেতাকে বাংলো দেওয়া হলে আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব। দলের নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকার বলেন, আমরা অপেক্ষা করছি। আমরাও আমাদের পদক্ষেপ নেব।

রেশন কার্ড ডিজিটাল  হলেও কাগজ-কলমেই চলছে
রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা, এপ্রিলে কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা

সত্যেন পাল  কোচবিহার

 

বিএনএ: নামে ডিজিটাল কার্ড হলেও রাজ্য জুড়ে এখনও খাতায় কলমেই চলছে রেশন ব্যবস্থা। খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন দোকানে ডিজিটাল রেশন কার্ড ব্যবহারের উপযোগী ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল মেশিন না থাকার জন্যই এখনও এই কার্ডের বিশেষ কোনও উপযোগিতা নেই। তবে রেশন দোকানগুলিতে এই ধরনের মেশিন বসানোর ব্যাপারে ইতিমধ্যেই খাদ্য দপ্তর তৎপর হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে রাজ্যের রেশন দোকানগুলিতে ডিজিটাল রেশন কার্ডের ব্যবহার উপযোগী মেশিন চালু করার ব্যাপারে পরিকল্পনা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক নিখিলেশ ঘোষ বলেন, ডিজিটাল রেশন কার্ড অনেকের কাছে থাকলেও এখনও রেশন দোকানে খাতায় কলমেই যাবতীয় কাজ করা হয়। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই এই কার্ড ব্যবহার করার জন্য বিশেষ ধরনের মেশিন দোকানগুলিতে থাকবে। এব্যাপারে দপ্তরের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিংহভাগ জেলাতেই ডিজিটাল রেশন কার্ড বণ্টন হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর আগে রেশনের দোকানের লোকজনকে এব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে সেই কাজটাই হচ্ছে।

খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধাপে ধাপে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি ও বিলির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৮ সালে মধ্যে রাজ্য খাদ্য দপ্তর রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতি আনার চেষ্টা করছে। রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যেই প্রায় আট কোটি এক লক্ষ ডিজিটাল রেশন কার্ড বিলি হয়েছে। দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিং জেলায় এখনও কিছু কার্ড বণ্টন বাকি রয়েছে। নিয়ম ভেঙে কিছু কার্ড দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে রাজ্যের সিংহভাগ জেলাতেই ডিজিটাল রেশন কার্ড বিলির কাজ অনেকটা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে প্রতিটি রেশন দোকানে ইলেকট্রনিক পয়েন্ট অব সেল মেশিন বা বার কোড রিডারের মাধ্যমে এই ডিজিটাল রেশন কার্ড ব্যবহার করা হবে। কতটা রেশন দেওয়া হচ্ছে তা এই যন্ত্রের মাধ্যমেই বোঝা যাবে। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা রয়েছে খাদ্য দপ্তরই এগুলি সরবরাহ করবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে রেশন সামগ্রীর বণ্টন নিয়ে রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই যন্ত্রের ব্যবহার পুরোপুরি চালু হলে রেশন সামগ্রী বণ্টনে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অনেকটাই সুরাহা কবে। এমনকী খাদ্য দপ্তরও রেশন সামগ্রী কতটা বণ্টন করা হচ্ছে সেব্যাপারে নজরদারি করতে পারবে। তবে এখনও ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে দোকানে গেলেও খাতায় কলমেই যাবতীয় কাজ হচ্ছে।

 

রাজ্যে সহায়ক মূল্যে ধান কিনবে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীও
ডোমকলে মহকুমা খাদ্য ভবনের উদ্বোধনে এসে বললেন খাদ্যমন্ত্রী
সুব্রত ধর  ডোমকল

বিএনএ: এবার রাজ্যে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ে নামবে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। শনিবার ডোমকলে মহকুমা খাদ্য ভবনের উদ্বোধনের পর একথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ধান কেনায় মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নিযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলায় সমবায়ের মাধ্যমে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার অগ্রগতি হতাশাজনক। ধান ক্রয়ের মরশুম শুরুর এক মাস পরেও জেলায় সমবায়ের মাধ্যমে ধান কেনার মাত্র আটটি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এদিন সমবায় সমিতি ও রাইসমিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে এনিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি সমবায় ও মিলগুলিকে দ্রুত ধান কিনতে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

মহকুমা গঠনের ১৯বছর পর ডোমকলে মহকুমা খাদ্য ভবন তৈরি হল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে মহকুমা প্রশাসনিক ভবনের পাশে ওই ভবনটি নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়। প্রায় ৪৮লক্ষ ২৬হাজার ১১১টাকা খরচ করে দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এদিন নতুন এই ভবনের উদ্বোধন করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ৩৪১টি ব্লকেই ফুড ইনসপেক্টারের অফিস চালু করা হয়েছে। প্রতিটি অফিসেই রয়েছে কম্পিউটার। পাশাপাশি যেসব মহকুমায় অফিস নেই, সেসব জায়গায় নতুন করে মহকুমা খাদ্য ভবন গড়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অফিসগুলি থেকে রেশন কার্ডের আবেদনপত্র ও কার্ড পাবেন। রেশন ব্যবস্থা সম্পর্কে অভাব-অভিযোগও তাঁরা অফিসগুলিতে জানাতে পারবেন।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এজন্য প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় ধান ক্রয় কেন্দ্র বা সিপিসি খোলা হয়েছে। এরবাইরে সমবায় সমিতির মাধ্যমে ধান কেনা হয়। এজন্য সমবায় সমিতিগুলির টাকা খরচ হয় না। বরং তাদের কমিশন দেওয়া হচ্ছে। প্রতি কুইন্টাল ধান ক্রয়ের জন্য তাদের কমিশন ৩২টাকা২৫পয়সা। তাদের ক্রয় কেন্দ্রেও থাকছে ট্যাব। এবার একই কায়দায় ধান ক্রয় অভিযানে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নিযুক্ত করা হবে। এজন্য ১০০টি ব্লক বাছা হয়েছে। ধান কেনার জন্য গোষ্ঠীগুলিও প্রতি কুইন্টালে ৩২টাকা২৫পয়সা করে কমিশন পাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ধান ক্রয়ে যেমন গতি আসবে, তেমনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিরও আয় বাড়বে।

এই অনুষ্ঠানের পর জেলার ২৯টি সমবায় সমিতি ও ২৭টি রাইসমিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী। বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও খাদ্য দপ্তরের প্রধান সচিব অনিল ভার্মা, অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) শ্যামল মণ্ডল, জেলা খাদ্য নিয়ামক অরবিন্দ সরকার প্রমুখ ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান কেনা সেভাবে শুরু না হওয়ায় বৈঠকে রাইসমিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন সমবায় কর্তৃপক্ষ। পালটা সমবায়গুলিকে দায়ী করেছে মিলকর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, ধান কেনার ব্যাপারে সমবায়গুলি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেনি। পাশাপাশি ক্রয় কেন্দ্রে কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের খাদ্য ভাণ্ডার বর্ধমান জেলার কাছাকাছি ধান উৎপন্ন করছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এই জেলায় সমবায়ের মাধ্যমে ধান কেনার কেন্দ্র হাতে গোনা কয়েকটি হবে তা মানা যায় না। শীঘ্রই নথিভূক্ত সমস্ত রাইসমিল ও সমবায়কে ধান কেনায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এজন্য আগামী ২৪জানুয়ারি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হবে। খাদ্য দপ্তরের এক কর্তা বলেন, স্থানীয় মিল মালিকদের একাংশ ধান মজুত করে রেখেছেন। তাই তাঁরা ধান কিনতে নামছেন না বলে অভিযোগ পাচ্ছি। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠকে খাদ্য দপ্তরের প্রধান সচিব জানান, যাঁরা ধান কেনায় জড়িত থাকবে, তাঁদের বকেয়া আগে মেটানো হবে। এরপরেও ধান সংগ্রহ কম হলে বাইরে থেকে এই জেলায় চাল পাঠানো হবে। তা হলে মিলে মজুত ধানের দাম আরও পড়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছর এই জেলায় ৩লক্ষ ২৬হাজার মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ হয়েছিল, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। তাই এবার ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ৩লক্ষ ৯১হাজার ৪০০মেট্রিকটন। এরমধ্যে সমবায় সমিতির মাধ্যমে ধান কেনার লক্ষ্য ৩লক্ষ ৩হাজার ৯০০মেট্রিকটন এবং খাদ্য দপ্তরের মাধ্যমে ৮৭হাজার ৫০০মেট্রিকটন।

নির্দিষ্ট কয়েকজন আমলার হাতেই থাকবে টাকা খরচের অধিকার, পদক্ষেপ রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর্থিক বিধি মেনে সরকারি টাকা খরচের অধিকার নির্দিষ্ট কয়েকজন আমলার হাতে রাখতে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি আর্থিক ক্ষমতা পুনরায় হস্তান্তর করা নিয়ে রাজ্য সরকারি দপ্তরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যার প্রেক্ষিতে বিশেষ আদেশনামা জারি করল নবান্ন। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, অর্থ দপ্তর দ্বারা প্রদত্ত আর্থিক ক্ষমতা কোনওভাবেই অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না। প্রত্যেক দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরকারি টাকা খরচের জন্য নির্দিষ্ট আমলা দায়িত্ব দিতে হবে। তবে একান্ত জরুরি প্রয়োজনে অধীনস্থ কাউকে কিংবা নিচুতলার কোনও কর্মীকে সেই আর্থিক ক্ষমতা তুলে দিতে গেলে অর্থ দপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে সরকারি টাকা খরচের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেবে রাজ্য সরকার। ফলে সেই অঙ্কের বাইরে এক টাকাও খরচ করার অধিকার থাকবে না ওই অফিসারের।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি টাকা খরচ করার জন্য প্রতিটি দপ্তরে বাছাই করা অফিসারদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়। রীতিমতো সরকারি আদেশনামা জারি করে ওই বিশেষ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার রেওয়াজ রয়েছে অর্থ দপ্তরে। অভিযোগ, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে অর্থ দপ্তর যে আমলাদের এই ক্ষমতা দিয়েছে, তাঁরা একউ কেউ সেই দায়িত্ব আবার তাঁদের অধঃস্তন কোনও অফিসারকে পুনরায় হস্তান্তর করেছেন। নবান্নের আমলা মহলের একাংশের দাবি, এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অপেক্ষাকৃত নিচুতলার অফিসাররা বড় অঙ্কের টাকা খরচের অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছেন, তা আর্থিক বিধির পরিপন্থী। বিষয়টি অর্থ দপ্তরের শীর্ষ কর্তাদের নজরে আসায় কিছুদিন আগেই এনিয়ে নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন অর্থ সচিব। তারপরই এই সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট আদেশনামা জারি করে সংশ্লিষ্ট মহলকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

দিন কয়েক আগে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে সাফ বলা হয়েছে, আর্থিক ক্ষমতা বিধি (১৯৭৭) অনুযায়ী দপ্তর অনুযায়ী সরকারি টাকা খরচের জন্য সুনির্দিষ্ট আদেশনামা রয়েছে। সেই হিসাবে এ ক্ষেত্রে বিশেষ পদমর্যাদার প্রশাসনিক কর্তাদেরই সরকারি টাকা খরচের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধি রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকমাসে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন আমলা সেই ক্ষমতা আবার অধঃস্তন অফিসারদের হস্তান্তর করছেন। বিষয়টি যে আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী, তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট আমলাদের সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দপ্তরের যে কর্তার কাছে মূল ক্ষমতা রয়েছে, তা তিনি অধঃস্তন অফিসার বা বিভাগকে হস্তান্তর করায় সেই ব্যক্তি সরকারি টাকা খরচের সবুজ সংকেত পেয়ে যাচ্ছেন। সেই টাকা যেমন তেমনভাবে খরচ করা হচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে তথা পুরোপুরি বন্ধ করতে ১৯৭৭ সালের সংশ্লিষ্ট বিধির ১৮ নম্বর ধারায় কিছু পরিমার্জন করা হয়েছে।

তরুণ মজুমদারকে আহ্বায়ক করে তৈরি হচ্ছে ‘ভাঙড় সংহতি মঞ্চ’
মমতার দেখানো পথেই অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে আন্দোলনে নামছে বামেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম জমানায় কৃষিজমি দখল করার ইস্যুকে হাতিয়ার করে নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অরাজনৈতিক মঞ্চের কৌশল নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই কৌশল যে সফল ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে ২০১১ সালের নির্বাচনেই। তাঁর সেই আন্দোলনে রাজ্যের দক্ষিণ ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা তো বটেই, এমনকী বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশও সাড়া দিয়েছিল। ভাঙড়কাণ্ডের পর জমি-ইস্যুকে হাতিয়ার করে মমতার দেখানো সেই পথেই এখন আন্দোলনে নামতে চলেছে সিপিএম তথা তাদের নেতৃত্বাধীন বাম শিবির। আগামীদিনে ভাঙড় ইস্যুকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার সূত্রপাত করতে তারা এমনই একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘ভাঙড় সংহতি মঞ্চ’ নামে এই প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক হিসাবে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী তথা চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদারের নাম প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে। আগামী ২৫ তারিখ আলিপুরে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে দলীয় পতাকা ছাড়াই ভাঙড় কাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে এই মঞ্চ। সেখানেই বাম নেতৃত্ব এই মঞ্চের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটাবে বলে শোনা যাচ্ছে।

শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্ট এবং তার বাইরে থাকা কিছু বাম দলের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে এই মঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন। তবে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু গত দু’দিন ধরে একান্ত আলোচনায় চেষ্টা চালিয়ে এখনও এসইউসি এবং সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর মতো দুই বাম দলকে এই কৌশলের সঙ্গী করতে পারেননি। দু’দলের রাজ্য নেতৃত্ব গত বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার পর থেকে ফ্রন্টের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি এড়িয়ে চলছে। জমি ইস্যুতে সিপিএমের নীতি এবং তাদের সরকারের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধী ছিল এই দু’দল। সে সময় মমতার পাশে থেকে তারা তাঁর আন্দোলনকে সর্বতোভাবে সাহায্যও করেছিল। এখন মমতা বা তৃণমূল সরকারের জমি নীতিকে সমর্থন না করে শাসকদলের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে সরব হলেও ‘পুরানো ক্ষতে’র কথা মাথায় রেখে আপাতত এই মঞ্চের কর্মসূচিতে তারা যোগ দিতে চাইছে না। তবে এই দু’দলই মঞ্চের কর্মসূচির উপর নজর রাখবে বলে ঠিক করেছে। পরবর্তীকালে এনিয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

মিলনমেলার সামনে ঝান্ডা ছেড়ে ভাঙড় ইস্যুতে সিপিএম সমর্থকরা যেভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তার জন্য এদিনের বৈঠকে সুজন চক্রবর্তীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। আদালত থেকে নিঃশর্ত মুক্তি পেয়ে সন্ধ্যার এই বৈঠকে হাজির হন সুজনবাবু নিজেও। অরাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের পরিকল্পনাটি প্রাথমিকভাবে তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত বলেই দলীয় সূত্রের খবর। দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী এব্যাপারে আগেই সবুজ সংকেত দিয়েছে। তরুণ মজুমদারের পাশাপাশি শঙ্খ ঘোষ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়সহ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীদের এই প্রতিবাদ মঞ্চের কর্মসূচিতে আনার বিষয়ে আলোচনা হয় এদিন। ক্রীড়া জগতের লোকজনকেও হাজির করানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ২৫ তারিখের পর ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ায় কলকাতায় একটি বড় মিছিল এবং তারপর টানা অবস্থান করার কথাও ভেবেছে নেতৃত্ব। এর মাঝেই ভাঙড়ে গুলিতে নিহত দুই পরিবারের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা। তবে সব কর্মসূচিই যে নবগঠিত মঞ্চের ব্যানারে হবে, তা নয়। ফ্রন্ট বা বৃহত্তর বাম মোর্চার অস্তিত্বও পাশাপাশি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই মোর্চাই এবার ২৩, ২৬ এবং ৩০ জানুয়ারির কর্মসূচি পালন করবে।

মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফর নিয়ে কটাক্ষ সেলিমের

বিএনএ, শিলিগুড়ি: ভাঙড়ের অবস্থা দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা গরম হয়েছে। তাই মাথা ঠান্ডা করতে তিনি পাহাড়ে গিয়েছেন। শনিবার শিলিগুড়ির অদূরে মাটিগাড়ায় সারা ভারত কৃষক সভার দার্জিলিং জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সভায় যোগ দিয়ে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য তথা সংসদ সদস্য মহম্মদ সেলিম। প্রসঙ্গত, এদিন মুখ্যমন্ত্রী চার দিনের দার্জিলিং সফরে পাহাড়ে গিয়েছেন। বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সড়ক পথে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় কৃষকসভার প্রকাশ্য সভার সামনের রাস্তা দিয়ে পাহাড়ে যায়। সিপিএমের কৃষক সংঠনের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ওই পথ দিয়ে যাবেন বলে ওই সময় সভা করতে পুলিশ বাধা দেয়। সেসময় মাইক ব্যবহার করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সম্মেলন উপলক্ষে সংগঠনের যে ফ্ল্যাগ, ঝান্ডা লাগানো হয়েছিল সেগুলিও খুলে নেওয়া হয়। এরজন্য এক ঘণ্টা সভা পিছিয়ে দিতে হয়। যদিও পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচা বলেন, কেউ বাধা দেয়নি। বেলা ৩টা থেকে সভা করার অনুমতি ছিল। কৃষক সভার নেতা তথা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, পুলিশের বাধায় এক ঘণ্টা সভা পিছিয়ে দিতে হয়েছে। এদিন সারা ভারত কৃষক সভার ২৬তম জেলা সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ্য সভায় কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি নৃপেন চৌধুরি, সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার, শিলিগুড়ির মেয়র তথা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অশোক ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখেন।

ফের চাঙা উত্তুরে হাওয়া, নামল পারদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খুব জোরালো না হলেও উত্তুরে হাওয়া ফের চাঙা হয়েছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা আবার নিম্নগামী। শুক্রবারের তুলনায় শনিবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় এক ডিগ্রি কমে স্বাভাবিক মাত্রায় চলে এসেছে। এদিন আলিপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কয়েকদিন আগে দক্ষিণবঙ্গে যে কনকনে ঠান্ডা পড়েছিল, তা ফিরে আসার বিশেষ আশা নেই বলেই আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। কলকাতায় আপাতত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩-১৪ ডিগ্রির আশপাশে থাকার সম্ভাবনা। আগের দফায় যে জাঁকিয়ে শীত পড়েছিল, তাতে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রিতে নেমে এসেছিল। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আবার পারদ ১০ ডিগ্রির নীচেও নেমে গিয়েছিল।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তুরে হাওয়া এখন এলেও তা খুব একটা জোরালো নয়। এর কারণ, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব। পশ্চিম হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় কোনও ঝঞ্ঝা এলেই উত্তুরে হাওয়া দুর্বল হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের উপর দিয়ে একটি ঝঞ্ঝা প্রবাহিত হয়েছে। ওই ঝঞ্ঝার রেশ এখনও সংলগ্ন উত্তর ভারতের উপরে রয়ে গিয়েছে। ফলে উত্তুরে হাওয়া জোরালো হতে পারছে না। কয়েকদিনের মধ্যে ফের একটা নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কাশ্মীরের উপর চলে আসবে বলে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। তখন উত্তুরে হাওয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। এক আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, রাজ্যে শীতের তীব্রতা নির্ভর করে উত্তুরে হাওয়ার ওঠা-নামার উপর। শুষ্ক উত্তুরে হাওয়া এলে ভোরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যায়। রাজ্যের উপর বা সংলগ্ন এলাকার উপর কোনও ঘূর্ণাবর্ত থাকলে, তা উত্তুরে হাওয়াকে বাধা দেয়। সেরকম কিছু এখন আবহাওয়ামণ্ডলে নেই। তাহলে শীতের মাত্রা আরও কমে যেত।

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta