কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন


জলপাইগুড়ির একটি মন্দিরে শিবপুজোর ভিড়। শনিবার তোলা নিজস্ব ছবি।

মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষাতেও দেদার নকল
মালদহে, রায়গঞ্জে দুর্ঘটনায় জখম ১৫ পরীক্ষার্থী

বাংলা নিউজ এজেন্সি: মাধ্যমিক পরীক্ষায় মালদহে নকলে রাশ টানা যাচ্ছে না। শনিবার ইতিহাস পরীক্ষার দিনও জেলার বিভিন্ন স্কুলে দেদার নকলের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। এদিন চাঁচল মহকুমার সামসির বৈদ্যনাথপুর হাই স্কুলে তিনতলার ঘর পর্যন্ত দেওয়াল দিয়ে উঠে নকল সরবরাহের ছবি ধরা পড়েছে। নজরদারি ও পরীক্ষা পরিচালন ব্যবস্থার ত্রুটির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই স্কুলবাড়ির দেওয়াল দিয়ে উঠে প্রতিটি ঘরের জানালা দিয়ে নকল সরবরাহ করতে দেখা গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্কুলের নিচে আশেপাশে টুকলির কাগজ মিলেছে। মালদহের মানিকচক থেকে কালিয়াচক, ইংলিশবাজার থেকে গাজোল সমস্ত জায়গাতেই নকল সরবরাহের খবর পাওয়া গিয়েছে। গত তিনদিনে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র যেমন বারবার নকল সরবরাহের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনি নকল সরবরাহ রুখতে গিয়ে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ ও লাঠিচার্জও হয়েছে। জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার যুগ্ম কনভেনার সঞ্জয় বল অবশ্য এরপরেও দাবি করেছেন, কোথাও কোনও নকল হয়নি। তিনি বলেন, ভিত্তিহীন প্রচার করে পরীক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এদিনও শান্তিপূর্ণ ও নিয়ম মেনে পরীক্ষা হয়েছে।

এদিকে শনিবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার থানার চাভোটে পথ দুর্ঘটনায় ১৫ জন পরীক্ষার্থী জখম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে আট জন ছাত্র এবং সাত জন ছাত্রী রয়েছে। যে গাড়িতে পরীক্ষার্থীরা ছিল সেই গাড়ির চালকও আহত হয়েছে। এরা সকলেই ইটাহার বয়েজ ও ইটাহার গার্লস হাইস্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার সময়ে মালদহ থেকে ইটাহারগামী একটি দশ চাকার লরির সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের গাড়িটির মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। ইটাহার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের প্রথমে ইটাহার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরে সেখান থেকে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার পরীক্ষা শুরুর দিন ইটাহারে পথ দুর্ঘটনায় বেশ কয়েক জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছিল। তাদের মধ্যে মিঠুন আলি নামে এক ছাত্র রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে বসেই পরীক্ষা দেয়। জেলাশাসক আয়েষা রানি বলেন, আহত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে ধূপগুড়িতে তিন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়েছে। পরে অবশ্য তাদের হাসপাতালেই পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অসুস্থদের ধূপগুড়ির বিধায়ক মিতালি রায় ও জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি নূরজাহান বেগম দেখতে যান। অসুস্থ তিন ছাত্রীর নাম নিয়তি মণ্ডল, বর্ণালী রায় ও স্মৃতি রায়।

দার্জিলিংয়ে ১৮টি হোম বেআইনিভাবে চলছে
সুখিয়াপোখরির হোমের বাকি আবাসিকদের হদিশ পায়নি পুলিশ, হোমকর্ত্রীরও খোঁজ চলছে

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দার্জিলিংয়ের সুখিয়াপোখরির বেআইনি হোমের নিখোঁজ শিশু, কিশোর-কিশোরীর খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। শনিবার নতুন করে কেউ উদ্ধার না হলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত এলাকারই কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ওই হোমের কর্ণধারের গতিবিধি কেমন ছিল, হোমের শিশু, কিশোর-কিশোরীদের কোথা থেকে, কীভাবে তিনি নিয়ে আসাতেন সে সর্ম্পকেও স্থানীয়দের থেকে পুলিশ খোঁজ খবর নিয়েছে।

দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার অমিত পি জাভালগি বলেন, নতুন করে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। তাদের খোঁজ চলছে। আমাদের প্রাথমিক অনুমান, হোম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবারের লোকেরাই এসে আবাসিকদের নিয়ে গিয়েছে। তবে হোমের কর্ণধার ছাড়া যারা এর পিছনে রয়েছে তাদেরও খোঁজ চলছে। জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, নতুন করে আর কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয়দের বলা হয়েছে এলাকায় অচেনা কিশোর-কিশোরী ঘুরতে দেখলেই পুলিশকে জানাতে।

দার্জিলিং জেলায় ৩৫টি বেসরকারি হোম রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত হোম রয়েছে। ১২টি হোম অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। বাকি ১৮টি হোমই বেআইনিভাবে চলছে। এই হোমগুলি এতদিন ধরে কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছে, বর্তমানে সেখানে কয়জন আবাসিক রয়েছে, তারা কী অবস্থায় রয়েছে, সেগুলি খোঁজ নিয়ে ব্লক ওয়েলফেয়ার অফিসারকে রিপোর্ট জমা দিতে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে পুলিশ সুখিয়াপোখরির বেআইনি হোম ঩নিয়ে তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, নেপালের আর্থিক সহযোগিতায় ও দার্জিলিংয়ের দু’জন প্রভাবশালী ব্যক্তির মদতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে হোমটি চালাচ্ছিলেন ওই মহিলা। থাকাখাওয়া ও স্কুলে ভরতি করে পড়াশুনা করানোর কথা বলে গ্রামের গরিব পরিবারের শিশু, কিশোর-কিশোরীদের হোমে নিয়ে আসা হত। কিন্তু পুলিশ জানতে পেরেছে ওই হোম থেকে কোনও কিশোর-কিশোরী঩঩কেই পড়াশুনা করতে স্কুলে পাঠানো হয়নি। মাঝে মধ্যে হোম থেকে কয়েকজন শিশু কিশোর, কিশোরী঩঩কে নিয়ে হোমের বাইরে যাওয়া হত। স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে জানতে পেরেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত হোমটি খোলা ছিল। ওইদিন পর্যন্ত হোমে আবাসিকদের দেখা গিয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে হোমটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শিলিগুড়ি পুরসভা
উন্নয়ন কাজে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বোর্ড মিটিং থেকে
ওয়াক আউট তৃণমূল কাউন্সিলারদের

বিএনএ, শিলিগুড়ি: শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভার বোর্ড মিটিং থেকে ওয়াক আউট করলেন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলাররা। বাম পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে এদিনের মিটিংয়ে শুরু থেকেই বিরোধীরা আক্রমণাত্মক ছিলেন। বিরোধীরা দৈনিক হাজিরার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বোর্ডের কড়া সমালোচনা করে। বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বোর্ড মিটিংয়ের শুরুতেই অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল কাউন্সিলারদের ওয়ার্ডগুলিকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র বামেদের ওয়ার্ডগুলিতে উন্নয়ন কাজ হচ্ছে।

মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ঩শিলিগুড়ি পুরসভার বিরুদ্ধে কী ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ করা হয়েছে তা কারও অজানা নয়। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা দৈনিক হাজিরার কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি করেছি। এজন্য পুরসভাকে বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ গুণতে হবে। গরমের আগে ডেঙ্গি নিয়ে সতর্কতা, নিষিদ্ধ ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে পুরসভা অভিযানে নামবে। পুরসভার নিজস্ব আয়ে সীমিত সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে। খাদ্য সুরক্ষা মিশনে শিলিগুড়ির কয়েক হাজার মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। গরিব মানুষদের দু’টাকা কেজির চাল ১৩ টাকা দরে কিনতে হবে। আমরা এই সমস্যা নিয়ে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।

বোর্ড মিটিংয়ে পুরসভার বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার বলেন, এই পুরবোর্ড ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের অধিকাংশ ওয়ার্ডগুলিতে কোনও উন্নয়নের কাজ হয়নি। বারবার বোর্ড মিটিংয়ে এসে দলের কাউন্সিলাররা ওয়ার্ডের সমস্যা তুলে ধরেছেন। বারবার আশ্বস্ত করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে বোর্ড মিটিংয়ে উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করে কোনও লাভ নেই। চেয়ারম্যান দিলীপ সিং বিরোধী দলনেতা ও তাঁর দলের কাউন্সিলারদের এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বলেন। কিন্তু তৃণমূলের অন্যান্য কাউন্সিলাররা ওই কথপোকথনের সময় শ্লোগান দিতে থাকেন। বিরোধীদের ওয়ার্ডে কাজ হচ্ছে না কেন, বঞ্চনা কেন মেয়র জবার দাও বলে শ্লোগান দিতে দিতে তাঁরা বোর্ড মিটিং ওয়াক আউট করে সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। যদিও পূর্ত দপ্তরের মেয়র ইন কাউন্সিল নুরুল ইসলাম বলেন, রাজ্যের সীমাহীন বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা ৪৭টি ওয়ার্ডে উন্নয়নের কাজ করেছি। বঞ্চনা যদি বলতে হয় পুরসভাই বঞ্চনার শিকার। শিলিগুড়ির উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধীদের উচিত সরকারি বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হওয়া। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দৈনিক হাজিরার শ্রমিকদের এতদিন ২০০ টাকা দেওয়া হত। তৃণমূল কাউন্সিলাররা ওই শ্রমিকদের সিনিয়রিটি অনুযায়ী ৫০, ৭৫ এবং ১০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু পুরসভা এদিন তিনটি ক্ষেত্রে ২০, ২৫ এবং ৩০ টাকা করে মজুরি বাড়িয়েছে। ২০১৮ জানুয়ারি থেকে একইভাবে পুরসভা ৩০, ৩৫, এবং ৪০ টাকা করে মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মালদহ টাউন স্টেশন
আনন্দবিহার এক্সপ্রেস থেকে উদ্ধার ১৩০২টি বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ, ধৃত ৩

বিএনএ, মালদহ: পাচারের জন্য আনা এক হাজারের বেশি বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ মালদহ টাউন স্টেশন থেকে আরপিএফ শনিবার সকালে বাজেয়াপ্ত করে। এই প্রথমবার এত পরিমাণে কচ্ছপ একসঙ্গে বাজেয়াপ্ত হওয়ায় আরপিএফ তো বটেই বনদপ্তরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই ঘটনায় তিনজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরপিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা সক঩লেই উত্তরপ্রদশের সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা। ট্রাভেল ব্যাগের ভেতরে বস্তায় করে ওই কচ্ছপগুলি দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। একইসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, গঙ্গরামপুর, কুশমণ্ডি এবং উত্তর দিনাজপুরের একাংশকে কেন্দ্র করে কচ্ছপের বিরাট অবৈধ বাজার ও কচ্ছপের হাড় পাচারচক্র জাঁকিয়ে বসেছে বলে তদন্তকারীরা অনুমান করছে।

আরপিএফের অতিরিক্ত কমিশনার অচিন্ত্যকুমার কুণ্ডু বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা আনন্দবিহার এক্সপ্রেসে আমরা অভিযান চালাই। সেখান থেকে সন্দেহভাজন তিন যুবক মহেন্দ্র কুমার, সুরেশ কুমার ও অজয় কুমারকে ধরা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগগুলি বাজেয়াপ্ত করে তল্লাশি চালাতেই ৩৫টি বস্তা বোঝাই কচ্ছপ পাওয়া যায়। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এরা সকলেই ক্যারিয়ার। টাকার বিনিময়ে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপনগর থেকে ওই বস্তাগুলি নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের বাজারে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা বনদপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছি।

মালদহের ডিএফও কৌশিক সরকার বলেন, ১৩০২টি কচ্ছপ আমরা পেয়েছি। এই কচ্ছপগুলি বিপন্ন প্রজাতির গাঙ্গেয় সফট শিল্ড কচ্ছপ। উত্তরপ্রদেশের গঙ্গা ও তার শাখানদীতে এসব পাওয়া যায়। এত বিপুল পরিমাণ কচ্ছপ আগে উদ্ধার হয়নি। তবে আগেও একাধিক ক্ষেত্রে পাচারকারীদের কাছ থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের নাম উঠে এসেছে। আমরা সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছি। কচ্ছপগুলিকে গঙ্গায় ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমরা আদালতের কাছে আবেদন করব।

আরপিএফ ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আনন্দবিহার এক্সপ্রেসে করে কচ্ছপ পাচারের খবর আসতেই মালদহ আরপিএফের একটি দল ট্রেনে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। একটি কামরায় বড় বড় ট্রাভেল ব্যাগের সঙ্গে ভিনরাজ্যের যুবকদের দেখেই সন্দেহবশত তাদের জেরা করা শুরু করতেই তারা অসংলগ্ন কথা বলায় আরপিএফে’র সন্দেহ হয়। তারপরেই ব্যাগগুলি খুলে দেখা যায় ভেতরে বস্তা আছে। এমন ৩৫টি বস্তা আরপিএফ উদ্ধার করে। প্র঩ত্যেকটি বস্তায় ছোট আকারের কচ্ছপে বোঝাই ছিল। তবে এনিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের নাম উঠে আসায় তদন্তকারীদের অনুমান যে বড় একটি বাজার দক্ষিণ দিনাজপুর ও সংলগ্ন উত্তর দিনাজপুরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তা না হলে উত্তরপ্রদেশ থেকে কচ্ছপ দক্ষিণ দিনাজপুরে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল না। এছাড়াও এই কচ্ছপ দক্ষিণ দিনাজপুরে শুধুই মাংসের জন্যে পাঠানো হচ্ছে তা নয় কাছেই থাকা, বাংলাদেশে কচ্ছপের হাড়ের বড় বাজার তৈরি হয়েছে। সেখানেও এই কচ্ছপের হাড় পাচারের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সবমিলিয়ে একটি বড় চক্র এই পাচারের পেছনে আছে বলেও তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছে।

সরকার টাকা দেয় না, সমাজ কল্যাণ দপ্তর শো-কজ করার কে? হিতেন বর্মনের স্ত্রীর প্রশ্ন

বিএনএ, কোচবিহার ও সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙাতে হোম চালানো নিয়ে শো-কজের নোটিস পেতেই শনিবার তৃণমূল বিধায়ক হিতেন বর্মনের স্ত্রী কল্পনা বর্মন প্রশাসন ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরকেই পালটা হুঁশিয়ারি দিলেন। পাশাপাশি সব দায় তিনি সরকারি আধিকারিকদের ওপরই চাপালেন। তাঁর প্রশ্ন, সরকার হোম চালানোর জন্য টাকা দেয় না। সমাজ কল্যাণ দপ্তর শো-কজ করার কে? প্রসঙ্গত, হোম নিয়ে অভিযোগের জেরে শুক্রবার জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তর কল্পনাদেবীকে শো-কজ করে।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কী বিভিন্ন মহলে প্রভাব খাটিয়েই কল্পনা বর্মন হোম চালানোর প্রাথমিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছিলেন। অভিযোগ,হোম সংক্রান্ত একাধিক কমিটির সদস্যরা এবং সরকারি আধিকারিকরাও তাঁর দাপটে হোমে যেতে ভরসা পেতেন না। এতেই মূল বিরোধটা বেধেছে। এবার চাপে পড়ে কল্পনাদেবী কৌশলে প্রশাসনের ঘাড়েই যাবতীয় দায় চাপিয়ে নিজেকে স্বচ্ছ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।

শনিবার মাথাভাঙায় সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কল্পনাদেবী বলেন, শো-কজের জবাব দেব। তবে তিনবছরে কেন আমার হোমের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ হল না, তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য প্রশাসন এসব করছে। আমি যেমন কাজ করছি তেমনই করব। দিল্লি ও রাজ্যের আধিকারিকরা একাধিকবার হোমে এসেছেন। কোনও অনিয়ম ধরা পড়েনি। আমাকে সরকার টাকা দেয় না। আমি নিজের অর্থে ও অন্যের দানে হোম চালাচ্ছি। আমার মেয়েদের আমি রক্ষা করব। কোচবিহারের জেলাশাসক পি উলাগানাথন বলেন, নানা অনিয়মের ভিত্তিতে নিয়ম মেনেই তাঁকে শো-কজ করা হয়েছে। জেলা সমাজ কল্যাণ আধিকারিক দেবদাস বিশ্বাসও একই মন্তব্য করেন।

মাথাভাঙার পঞ্চানন মোড়ের কাছেই হোমটি রয়েছে। হোমের দেওয়ালে শো-কজের নোটিস এখনও সাঁটানো আছে। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার শুরুতেই কল্পনাদেবী কান্নাকাটি শুরু করেন। হোমে ১৩ জন আবাসিক রয়েছে। কল্পনাদেবী তাদের কাছে বড়মা নামেই পরিচিত। আবাসিকরা বলে, আর্থিক সমস্যার জন্য এখানে থাকছি। আমাদের অনেকেরই মা, বাবা নেই। এখানে আমরা ভালোই আছি। সরকারি হোমে যাব না। বড়মা আমাদের কিছু শিখিয়ে দেয়নি। নিজে থেকেই এসব কথা বলছি।

এদিন আগাম প্রস্তুতি নিয়েই কল্পনাদেবী সাংবাদিকদের হোমের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেন। তবে হোমের একতলায় থাকা একটি বিউটি পার্লারের পরিকাঠামো ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। কল্পনা বর্মনের দাবি, স্থানীয় মেয়েদের স্বনির্ভর করার জন্য বিউটি পার্লারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হোমের মেয়েরা কোথা থেকে আসছে, কতদিন থাকছে সেব্যাপারেও জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনকে অন্ধকারে রয়েছে। কাদের নিয়ে হোম পরিচালন কমিটি সেটাও তিনি খোলসা করে বলেননি। এমনকী বিভিন্ন কমিটি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা একাধিকবার হোমের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাঁদের সঙ্গেও তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। এতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

শিলিগুড়ির নার্সিংহোমগুলির বিল সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আসরে প্রশাসন

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির নার্সিংহোমগুলিতে বিল সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবার আসরে নামছে প্রশাসন। মহকুমা শাসক, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি সোমবার থেকেই নার্সিংহোমগুলিতে অভিযান শুরু করবে। শুক্রবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিল না মেটানোয় রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ সামনে আসে। শিলিগুড়িতেও কিছু নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অতীতে উঠেছে। এবার সেইসব নার্সিংহোমকেই নজরে রাখছে মহকুমা প্রশাসন। তারপর শহরের বাকি নার্সিংহোমগুলিতেও নজরদারি চালানো হবে।

শিলিগুড়ি মহকুমা শাসক পানিক্কর হরিশংকর বলেন, আমাদের কাছে নির্দেশ এসেছে শহরের নার্সিংহোমগুলি কী ধরনের বিল চার্ট রেখেছে তা খতিয়ে দেখার জন্য। এরজন্য আমরা সোমবার থেকে অভিযান শুরু করব। এই ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে আমার আলোচনাও হয়েছে। তিনি বলেন কিছু নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে আগেই অহেতুক বেশি বিল নেওয়া, অকারণে আইসিইউতে রোগীকে রাখা এসব অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে শহরের প্রতিটি নার্সিংহোমে অভিযান চালানো হবে। সমস্ত গাইড লাইন মেনে তারা চলছে কি না, কী ধরনের পরিষেবার ওপর কতটা চার্জ নিচ্ছে, শয্যার রেট কেমন রাখছে, কীসের ভিত্তিতে শয্যার বাড়তি রেট নেওয়া হয় এসমস্ত দিকই দেখা হবে। রোগীকে কী প্রয়োজনে, কখন তারা আইসিউতে রাখছে, রোগীর পরিবার রোগীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে চাইলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ কোনও চাপ সৃস্টি করেছে কি না, রোগী মারা গেলে রোগী আটকে রাখার অভিযোগ আছে কি না এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন আমরা নার্সিংহোম গুলিতে ভরতি রোগীদের থেকেও শুনব তারা পরিষেবায় খুশি কি না। প্রসঙ্গত, শিলিগুড়ির কয়েকটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই বেশি বিল, বিল মেটাতে না পেরে রোগী আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় রোগীর পরিবার। ওই নার্সিংহোমগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিতেই যে এই অভিযানের পদক্ষেপ সে ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মহকুমা শাসক।

জলপাইগুড়ির শিশুপাচারের ঘটনার পর শিলিগুড়ির ওপেন
শেল্টারগুলি নিয়েও সতর্ক হচ্ছে প্রশাসন

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: জলপাইগুড়ির পর দার্জিলিংয়েও একটি হোমে শিশু নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসতেই এবার শিলিগুড়ির ওপেন শেল্টারগুলি নিয়ে সতর্ক হতে চলেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়ে দিয়েছেন বেআইনিভাবে শিশু বিক্রি করে দেওয়া, শিশু পাচার রুখতে আমরা জেলার হোমগুলির ওপরে নজরদারি শুরু করেছি। এই তালকায় ওপেন শেল্টারগুলিকেও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মহলের আশঙ্কা, যখন হোমগুলি থেকে আড়ালে শিশু অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন অল্প কয়েকদিনের জন্য নাবালক নাবালিকাদের ঠাঁই দেওয়া ওপেন শেল্টারগুলি থেকেও পাচারের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও শিলিগুড়ির প্রতিটি ওপেন শেল্টার কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই তাদের সব প্রক্রিয়া চলে। চাইল্ড ওয়ালফেয়ার কমিটির কাছে তারা সবসময় রিপোর্ট পাঠায়।

শিলিগুড়ি মহকুমায় দুটি ওপেন শেল্টার রয়েছে। একটি হাকিমপাড়ায় অবস্থিত। সেখানে মেয়েদের রাখা হয়। আরেকটি রয়েছে ভারতনগরে সেখানে পৃথক দুটি বিল্ডিংয়ে ছেলে এবং মেয়েদের রাখা হয়। সধারণত ৬ বছর থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত নাবালক এবং নাবালিকাদের এখানে রাখা হয়। তবে ওপেন শেল্টারে রাখা হয় স্বল্প দিনের জন্য। পাচার হতে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বা কোনও কারণে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, ঠিকমতো বাড়ির ঠিকানা বলতে না পাওয়া, কিংবা নিজেরাই বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়া— এই ধরনের ছেলেমেয়েদেরকেই রাখা হয় ওপেন শেল্টারে। কিছুদিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষই এদের বাবা, মা বা পরিবারের খোঁজ পেয়ে এদেরকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়। আর যাদের পরিবারের একেবারেই খোঁজ পাওয়া যায়না তাদেরকে কোনও হোমে পাঠানো হয়।

দার্জিলিং জেলা শিশু সুরক্ষা অধিকারিক মৃণাল ঘোষ বলেন, ওপেন শেল্টারে যখন ছেলেমেয়ে আসে তখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু কল্যাণ সমিতির কাছে তাকে উপস্থাপন করা হয়। আবার ছেলেমেয়ে উদ্ধার হয়ে এখানে এলে পুলিশকেও তা জানানো হয়। আবার যখন ছেলেমেয়েদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় শেল্টার কর্তৃপক্ষ শিশু কল্যাণ সমিতির কাছে যাবতীয় নথি পেশ করে। তাছাড়া ওপেন শেল্টারগুলিকে লাইসেন্স দেওয়া আছে। সেখানে স্বচ্ছতা না থাকার কোনও ব্যাপার নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও জেলাশাসক নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিটি হোম এবং ওপেন শেল্টারগুলিতেও নজর বাড়াতে হবে। তাই আমরা এবার প্রতি মাসেই এই ওপেন শেল্টারগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট করব। অন্যদিকে শিলিগুড়ি মহকুমাশাসক পানিক্কর হরিশংকর বলেন, অবশ্যই শহরের হোম বা ওপেন শেল্টার থাকলে সেগুলির ওপর নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওপেন শেল্টারে ছেলেমেয়েদের আসা যাওয়া সংক্রান্ত সব নথি রাখে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি। যদি কোথাও কোনও অসংগতি দেখা যায় আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

মন্ত্রীর গড় ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে দল ছাড়ার হুমকি একাংশের

বিএনএ, শিলিগুড়ি: তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের খাসতালুক ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ভাঙছে তৃণমূল। ওই কেন্দ্রের এক নেতার বিরুদ্ধে তৃণমূল ব্যবস্থা না নেওয়ায় দলেরই একাংশ দল ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফুলবাড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীনগর কলোনিতে সরকারি জমি দখল করে অঞ্চল তিনি তা প্লট করে বিক্রি করেছেন। এর আগে দিনের পর দিন সরকারি জমি দখল করে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে দলের একাংশ কর্মী সমর্থক সরব হয়েছিলেন। কিন্তু কোনও কাজ না হওয়ায় এবার দিন কয়েক আগে এলাকার অম্বিকানগরের মাঠে মঞ্চ বেঁধে প্রতিবাদ সভা করে বিক্ষুব্ধরা। ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত তপন সিংহের নেতৃত্ব ওই সভা হয়। সভা মঞ্চ থেকে ওই নেতাকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে। কিন্তু প্রকাশ্যে দলের নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানোয় নেতৃত্ব বেজায় চটে যায়। দিন দু’য়েক আগে গৌতম দেব ক্ষুব্ধ দলীয়কর্মী নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেখানে ওই নেতার কাজকর্ম নিয়ে মন্ত্রীকে অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রমাণ দেওয়ার নির্দেশ দেন গৌতমবাবু। এতেই ক্ষেপে ওঠেন দলের ক্ষুব্ধ অংশ। তপনবাবুর অভিযোগ, বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের ওই নেতা সরকারি জমি দখল করে বিক্রি করছেন। প্রধান, উপ প্রধানদের কিছু না জানিয়ে এলাকার কাজ নিজেই ঠিক করে দিচ্ছেন। দলের কাউকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। জেলা সভাপতিকে সব জানালাম। কিন্তু তিনি তথ্য প্রমাণ চান। আমাদের শো-কজ করা হয়েছে। আমরা আর দলের হয়ে কাজ করব না। আমার সঙ্গে একাধিক স্থানীয় নেতৃত্ব রয়েছে। গৌতমবাবু বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা দলে জানাতে হবে। শীঘ্রই আমি ওদের নিয়ে আবার বৈঠকে বসব।

প্ল্যাস্টিক ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্লক প্রশাসনের
বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ সভাধিপতির

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির গ্রামীণ এলাকায় প্ল্যাস্টিক ক্যারিব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার। তিনি বলেন, গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে মহকুমা জুড়ে প্ল্যাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহারে নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু চারটি ব্লকে কমবেশি এখনও প্ল্যাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। গ্রাম পঞ্চায়েতে থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও ব্লক প্রশাসনের কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি দেখার জন্য দার্জিলিংয়ের জেলাশাসককে অনুরোধ জানিয়েছি। জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, আমরা মহকুমা এলাকায় প্ল্যাস্টিক ক্যারিব্যাগ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।

সিকিয়াঝোরায় রাস্তা তৈরি করবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারের উত্তর পানিয়ালগুড়িতে ৩১-সি জাতীয় সড়ক থেকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল লাগোয়া পর্যটন কেন্দ্র সিকিয়াঝোরা পর্যন্ত দেড় কিমি কাঁচা রাস্তা পাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। শনিবার সিকিয়াঝোরায় একটি বেসরকারি রিসর্টে নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের রাজ্য সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় দেড় কিমি ওই কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দনাথ ঘোষ। পরে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন কেন্দ্র সিকিয়াঝোরায় লেক ও পরিযায়ী পাখি দেখতে প্রতি বছর শীতের মরশুমে বহু পর্যটক আসেন। কিন্ত পর্যটন কেন্দ্র যাওয়ার রাস্তা যদি এরকম বেহাল থাকে তাহলে কোনও পর্যটকই ভবিষ্যতে সিকিয়াঝোরামুখী হবেন না। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম আমলে সিকিয়াঝোরাকে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তাই পর্যটকদের স্বার্থে জাতীয় সড়ক থেকে সিকিয়াঝোরা যাওয়ার দেড় কিমি কাঁচা রাস্তা আমার দপ্তর থেকে পাকা করা হবে। রাস্তাটি পাকা করার জন্য দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের এস্টিমেট তৈরি করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় উত্তর পানিয়ালগুড়ি ও সিকিয়াঝোরার বাসিন্দারা খুশি।

মধ্য মাদারিহাটে আগুন লেগে পুড়ে ছাই ঘর

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: শনিবার বিকালে মাদারিহাট ব্লকের মধ্য মাদারিহাটে আগুন লেগে এক বাসিন্দার একটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গিয়েছে। পেশায় গরিব পুরোহিত ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাসিন্দার নাম লোকনাথ অধিকারী। পেশা সূত্রে তিনি শিলিগুড়িতে থাকেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি তাদের একমাত্র ঘর ছিল। পরে ফালাকাটা থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। ততক্ষণে অবশ্য সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফালাকাটা দমকল কেন্দ্রের ওসি মৃত্যুঞ্জয় রায় জানান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুন লাগে।

জলপাইগুড়ির হাকিমপাড়ায় সদ্যজাতের মৃতদেহ ঘিরে চাঞ্চল্য

বিএনএ, শিলিগুড়ি: শনিবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরের হাকিমপাড়ায় সদ্যোজাতর মৃতদেহ স্থানীয়রা দেখতে পান। জেলা সদর হাসপাতাল এবং একটি নার্সিংহোম থেকে সামান্য দূরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিন সকালে হাকিমপাড়ার কৃষি দপ্তর সংলগ্ন রাস্তার পাশে স্থানীয় কয়েকজন দেখেন একটি সদ্যোজাতের মৃতদেহ কয়েকটি কুকুর খুবলে খাচ্ছে। তারাই পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর দেহের উপরের অর্ধেক অংশ পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালি থানার আইসি শুভাশিস চাকি বলেন, হাকিমপাড়ায় একটি সদ্যোজাতের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মালদহে মহানন্দায় তলিয়ে গেল কলেজ ছাত্র

বিএনএ, মালদহ: শিবের মাথায় জল ঢালতে গিয়ে এক ছাত্র মহানন্দা নদীতে তলিয়ে যায়। শনিবার সকালে ইটাহারের বাসিন্দা দ্বিতীয় বর্ষের ওই কলেজ ছাত্রের হদিশ রাত পর্যন্ত মেলেনি। ইটাহার ও চাঁচল থানার পুলিশ যৌথ উদ্যোগে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর খোঁজ পায়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রের নাম সুব্রত নন্দী। আশাপুরে তিনি এদিন সকালে জল ভরতে এসেছিলেন। কিন্তু সাঁতার না জানায় তলিয়ে যান। তারপর থেকে দফায় দফায় মহানন্দায় খোঁজ চালিয়েও তাঁর হদিশ মেলেনি।

 




 

?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta