কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

নাম জড়াল কোহলি, কৈলাস খেরের
ত্রাণের অর্থ নয়-ছয়ের অভিযোগ উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

দেরাদুন, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতের বিরুদ্ধে ত্রাণ তহবিলের অর্থ নয়-ছয়ের অভিযোগ আনল বিজেপি। এবং সেখানে নাম জড়াল গায়ক কৈলাস খের ও ভারতের ক্রিকেট অধিনায়ক বিরাট কোহলির। বিজেপি নেতা অজেন্দ্র অজয়ের অভিযোগ, কোহলিকে দিয়ে বানানো রাজ্য পর্যটনের একটি বিজ্ঞাপনের খরচ ত্রাণ তহবিলের ৪৭ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা দিয়ে মেটানো হয়েছে। সেই টাকা কৈলাস খেরের সংস্থার মাধ্যমে ক্রিকেটারকে দেওয়া হয়েছে।

অজেন্দ্র বলেছেন, আরটিআইয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ৬০ সেকেন্ডের একটি অডিও-ভিডিও’র জন্য ‘কৈলাস এন্টারটেনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মাধ্যমে কোহলিকে ৪৭ লক্ষ ১৯ হাজার ১২০ টাকা মেটানো হয়েছে। বিজেপি নেতা আরও বলেছেন, ২০১৩ সালের জুন মাসে ভয়াবহ পার্বত্য বিপর্যয়ের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার থেকে ২০১৫ সালের জুন মাসে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে। আর তাই মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াতের বিরুদ্ধে ত্রাণ তহবিলের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন তিনি। অজেন্দ্র বলেছেন, টাকার অভাব নিয়ে প্রায়ই কেন্দ্রকে দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী রাওয়াত। এখন থেকে তাঁর আর সেই অভিযোগ করার কোনও অধিকার নেই।

উত্তরাখণ্ড রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ সেই অর্থ মঞ্জুর করেছে বলেও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অজেন্দ্র। যদিও, বিষয়টিতে কোনও অনিয়ম হয়নি বলে জানিয়েছে রাওয়াত প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা সুরেন্দ্র কুমার বলেছেন, কোনও কিছুই বেআইনিভাবে করা হয়নি। এবং রাজ্যের পর্যটন প্রসারের বিজ্ঞাপনে যোগ্য ব্যক্তিত্ব বাছার ক্ষেত্রেও ভুল হয়নি।

আমেরিকান সেন্টার হামলাকাণ্ডে অভিযুক্ত সরোবর ধৃত গয়াতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গুজরাত পুলিশের অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড শুক্রবার রাতে বিহারের গয়ার নিমচাঁদ বাথানি থানা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম মহম্মদ সরোবর। বিহার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ধৃত সরোবর ২০০২ সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টার হামলাকাণ্ডের একজন অন্যতম পলাতক অভিযুক্ত। যদিও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মামলায় চার্জশিটে মহম্মদ সরোবরের নাম নেই।

ফলে শনিবার দুপুর থেকেই বিহার পুলিশের দাবি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এদিকে, তৎকালীন আমেরিকান সেন্টার হামলা মামলার তদন্তকারী অফিসার তথা কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিসি অনিল করকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, মহম্মহ সরোবরের সঙ্গে কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারের হামলার সরাসরি কোনও যোগ নেই। তবে হাজারিবাগে নাসির যে ঘর ভাড়া নিয়েছিল, তা এই মহম্মদ সরোবরের মাধ্যমেই ঠিক হয়েছিল। এই প্রাক্তন পুলিশকর্তার দাবি, এই মামলায় নাসির যে গোপন জবানবন্দি দেয়, তাতে এই সরোবরের নামের উল্লেখ রয়েছে।

কেন মহম্মদ সরোবরকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়নি? এর উত্তরে অনিলবাবু জানিয়েছেন, প্রথমত, কলকাতার হামলায় সরাসরি মহম্মদ সরোবরের যোগ ছিল না। একমাত্র হাজারিবাগে ঘরভাড়া ঠিক করে দেওয়ার অপরাধে মহম্মদ সরোবরের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষন্ত্রের (১২০বি) অভিযোগ আনা যেত। কিন্তু দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার স্বার্থে কলকাতা পুলিশ সরোবরকে কলকাতার মামলায় যুক্ত করেনি। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ২২ জানুয়ারি বাইকে চেপে একে-৪৭ নিয়ে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলা চালায় একদল জঙ্গি। এতে পুলিশকর্মীসহ ছ’জন মারা যায়। জখম হয় ১৪ জন।

প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল ওড়িশা বিধানসভা,
মোদি বিরোধিতায় এককাট্টা শাসক
-বিরোধী

ভুবনেশ্বর, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশের ভোট-উত্তাপ ছড়াল ওড়িশার বিধানসভার অন্দরেও! সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে মোদি মন্তব্য করেন, দেশ থেকে দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। এর পরই ওড়িশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজ্যটা একেবারে বেহাল। ভয়ংকরভাবে গরিবের সংখ্যা বাড়ছে। অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন মানুষ। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে ওড়িশা বিধানসভা। শাসকদল বিজেডি এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এককাট্টা হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। দু’দলের বিধায়করা ওয়েলে নেমে এসে হই-হট্টগোল শুরু করে দেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, বার বার চেষ্টা করেও অধ্যক্ষ নিরঞ্জন পুজারি বিধানসভার অধিবেশন চালাতে পারেননি। পর পর তিনবার অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে তিনি বাধ্য হন। দিনের শেষে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিধানসভার বাইরেও। গান্ধীমূর্তির সামনে বিজেডি’র বিধায়করা ধরনায় বসেন। সেখানেও প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলে দীর্ঘক্ষণ। বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা নরসিংহ মিশ্র প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ‘মর্যাদাহানিকর’। ওড়িশার মানুষকে তিনি অসম্মান করেছেন। তবে বিজেডি-কংগ্রেসের এই সমালোচনাকে অর্থহীন হলে দাবি করেছে বিজেপি। দলের বিধায়ক প্রদীপ পুরোহিত বলেছেন, ওড়িশার মানুষ সবই বুঝতে পারছেন। মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের জমানায় রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে। তিনি সবদিক থেকেই ব্যর্থ।

এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই মোদি-মন্তব্যের বিষয়টি প্রথম তোলেন বিজেডি’র বিধায়ক সমীররঞ্জন দাশ। তিনি বলেন, ওড়িশা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ‘দুর্ভাগ্যজনক’। তিনি রাজ্যের মানুষকে ‘অসম্মান’ করেছেন। সমীররঞ্জনকে সমর্থন করেন দলের অন্য বিধায়করা। প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের বিধায়করাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁরা ওয়েলে নেমে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। দলের চিফ হুইপ তারাপ্রসাদ বাহিনীপতি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ‘লজ্জাজনক’ বলে চিৎকার জুড়ে দেন। তাঁর সঙ্গে গলা মেলান দু’দলের বিধায়করা। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অধ্যক্ষ অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অধিবেশন চালানো সম্ভব হয়নি। ফের অধিবেশন বসলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। অধ্যক্ষ আবারও অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। পরে একবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অধ্যক্ষ। শেষে তিনি বিকাল তিনটে পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরই বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে এসে গান্ধী মূর্তির সামনে ধরনা-বিক্ষোভে শামিল হন বিজেডি’র বিধায়করা। পৃথকভাবে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেসও।

উত্তরপ্রদেশের প্রচারে বিদ্রুপ, কটাক্ষের পালা অব্যাহত
মোদি ও অমিত শাহ ‘গুরু
-চ্যালা’: মায়াবতী,
মায়া ও অখিলেশ ‘বুয়া
-
ভাতিজা’: অমিত শাহ

লখনউ, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্রুপ, কটাক্ষ। উত্তরপ্রদেশে ভোটের প্রচারে এটাই প্রায় রোজকার উপজীব্য। ব্যতিক্রম হল না শনিবারও। এদিন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের নয়া টিপ্পনি, ‘বুয়া-ভাতিজা’র টানাপোড়েনে আটকে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ। একযোগে তাঁর নিশানা মায়াবতী ও অখিলেশ যাদব। পাশাপাশি কংগ্রেস-সমাজবাদী পার্টির জোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারগুলি’র মেলবন্ধন বলে কটাক্ষ করলেন শাহ। এদিনই আবার বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কলরাজ মিশ্র সমাজবাদী পার্টিকে ‘সন্ত্রাসবাদীদের দল’ বলে আক্রমণ করলেন। মোদি ও অমিত শাহকে ‘গুরু-চ্যালা’ অ্যাখ্যায় কটাক্ষ করলেন মায়াবতী। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বিজেপি’র সঙ্গে গোপন সখ্যের অভিযোগ তুলে খোঁচা দিলেন মায়াবতীকে। অখিলেশের কটাক্ষ, মায়াবতী আগেও বিজেপি নেতাদের হাতে রাখি পরিয়েছেন, ফের রাখিবন্ধন উৎসব পালন করতে পারেন।

‘স্ক্যাম’, ‘কাসভ’ থেকে ‘গুজরাতের গাধা’, নতুন নতুন বিদ্রুপের প্রয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম উত্তরপ্রদেশ। গতকাল শেষ হয়েছে পঞ্চম দফার প্রচার। বাকি দু’দফার প্রচারেও যে অভিনব বিদ্রুপের ধারা অব্যাহত থাকবে, তার সব রসদ প্রস্তুত। এদিন আম্বেদকর নগরের একটি সভায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, গত ১৫ বছর ধরে উত্তরপ্রদেশ আটকে রয়েছে ‘বুয়া’ (মায়াবতী) ও ‘ভাতিজা’র (অখিলেশ) টানাপোড়েনে। এবারের ভোট নিছক একটি দলকে বেছে নেওয়াজ জন্য নয়। এই ভোট উত্তরপ্রদেশের ভাগ্য বদলের জন্য। পাশাপাশি রাহুল ও অখিলেশকে এদিন একযোগে আক্রমণ করেন বিজেপি সভাপতি। অমিত শাহ বলেন, দুই ‘যুবরাজে’র গল্প খুবই অনন্য। একজন কঠিন সময়ের মধ্যে ফেলেছেন তাঁর মাকে। অন্যজন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁর বাবার কাছে। তাঁদের আজগুবি গল্পে উদ্বিগ্ন গোটা রাজ্য। উলটো দিকে অখিলেশ যাদব নিশানা বানালেন মায়াবতী ও মোদিকে। এদিন সিদ্ধার্থ নগর ও সন্ত কবীর নগর জেলায় সভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। বিএসপি সম্পর্কেও সতর্ক থাকা দরকার। তিনি (মায়াবতী) যে কোনও সময় বিজেপি’র সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারেন। আসলে তিনি বিজেপিকে সাহায্য করছেন। উল্লেখ্য, একদিন আগেই গোন্ডার একটি সভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি অভিযোগ করেছিলেন, উত্তরপ্রদেশে টুকলির জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রকে নিলামে তোলা হচ্ছে। পালটা হিসাবে এদিন অখিলেশের তোপ, সমাজবাদী পার্টির নির্বাচনী ইস্তাহারকে নকল করেছে বিজেপি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নিজের নাম লেখা কয়েক লক্ষ টাকার স্যুট পড়েছিলেন, তা নিয়েও তাঁকে খোঁচা দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মায়াবতী আবার দেওরিয়ার একটি সভা থেকে মোদি ও অমিত শাহকে একযোগে আক্রমণ করেন। দলিত নেত্রীর কটাক্ষ, ‘গুরু’ ও ‘চ্যালা’ হাত মিলিয়ে দেশের ক্ষতি করেছে। ‘গুরু’ মানে মোদি ও ‘চ্যালা’ মানে অমিত শাহ। তারা এখন উত্তরপ্রদেশের ক্ষতি করার স্বপ্ন দেখছে।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে মণিপুরের আর্থিক অবরোধের
অবসান ঘটাবে, ভোটের প্রচারে প্রতিশ্রুতি মোদির

ইম্ফল, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): মণিপুরে ভোটের প্রচারে এসে রাজ্যের কংগ্রেস সরকারকে তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার ইম্ফলের একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে কংগ্রেস যা করে উঠতে পারেনি, ক্ষমতায় আসলে তা ১৫ মাসের মধ্যে করে দেখাবে বিজেপি। নাগা সংগঠনের আর্থিক অবরোধের অবসান ঘটাবে। উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাস থেকে মণিপুরে টানা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি)। জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের অভাবে নাকাল হতে হচ্ছে রাজ্যের মানুষকে। এই অবস্থায় মোদি এদিন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যাতে মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। কিন্তু এখানের মানুষ ওষুধ ও অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচ্ছেন না। টানা এতগুলো মাস ধরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যারা এই অবরোধ চালাচ্ছে, তলায় তলায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কংগ্রেসের। আমি রাজ্য সরকারকে বলেছিলাম, সব সাহায্যের জন্য কেন্দ্র তৈরি রয়েছে। মণিপুরে বিজেপি পরবর্তী সরকার গড়বে এবং কোনও রকম অবরোধ বরদাস্ত করা হবে না। কীভাবে সরকার চালাতে হয়, তা আমরা দেখিয়ে দেব।

এদিনের সভা থেকে মণিপুরের কংগ্রেস চালিত ও ইবোবি সিংয়ের সরকারকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন মোদি। তিনি বলেন, ইবোবি সিং ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার’ চালাচ্ছেন। আমি শুনেছি, গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইবোবি সিং ‘১০ শতাংশ’ মুখ্যমন্ত্রী নামে পরিচিত। তিনি নাকি ১০ শতাংশ করে কমিশন খান। রাজ্যের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা ১০০ শতাংশ সৎ মুখ্যমন্ত্রী চান, নাকি এমন একজনকে চান যিনি ১০ শতাংশ কমিশন নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, ১৫ বছরে কংগ্রেস যা করে উঠতে পারেনি, বিজেপি তা ১৫ মাসে করে দেখাবে। কংগ্রেস সরকারের অধীনে মণিপুরের উন্নয়ন থমকে পড়েছে। চাকরি, পরিকাঠামো ও উপযুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মোদি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, নাগা চুক্তি নিয়ে ইবোবি সিংয়ের সরকার অপপ্রচার চালাচ্ছে ও মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, ওই চুক্তিতে এমন কোনও কিছুর উল্লেখ নেই যা মণিপুরের মানুষকে বিভাজিত করবে বা তাঁদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। কংগ্রেস সরকারের প্রতি কটাক্ষ করে মোদি বলেন, দেড় বছর আগে নাগা চুক্তি হয়েছে। তখন কী করছিলেন? কোথায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন? হঠাৎ করে আপনারা ভোটের আগে জেগে উঠেছেন। মানুষকে ভুল বোঝাতে মিথ্যা দাবি করছেন!

ৃহন্মুম্বই বোর্ড গঠনে শিবসেনাকে সমর্থন: ধীরে চলো নীতি নিতে চায় কংগ্রেস

মুম্বই, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): বৃহন্মুম্বই পুরবোর্ড গঠন করা নিয়ে এখন জল মাপছে কংগ্রেস। বিজেপি’কে ঠেকাতে তলে তলে শিবসেনাকে পরোক্ষ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও এখন কংগ্রেস বিবেচনা করছে। যদিও দল সরকারিভাবে এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এটেছে। তবুও উদ্ধবের দলকে কংগ্রেসের সমর্থনের বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন চলছে। ওই রাজ্যগুলির ভোট গণনা ১১ মার্চ। ভোটের ফল দেখেই শিবসেনাকে সমর্থনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় কংগ্রেস। তার আগে আপাতত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নিয়ে চলতে চায় কংগ্রেস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রদেশ কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, দলীয় কর্মীরা মনে করে বিজেপি’র চেয়ে শিবসেনা কম ক্ষতিকারক। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা সুশীলকুমার সিন্ধে জানিয়েছেন, সেনাকে সমর্থনের ব্যাপারে দল এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অশোক চ্যবনও এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে আর এক বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা গুরুদাস কামাত জানিয়েছেন, তিনি এই প্রশ্নে সেনাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনের ঘোরতর বিরোধী। এই মত তিনি দলের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীকে জানিয়ে দেবেনও বলে মন্তব্য করেছেন কামাত। তাঁর অভিমত, কংগ্রেস দু’টি গৈরিক দলের বিরুদ্ধেই লড়াই করেছে। তাই এখন কোনও একটি দলকে সমর্থন করলে সাধারণ মানুষ কংগ্রেসকে ক্ষমা করবে না। কামাত বলেন, বোর্ড গঠনের বিষয়টি বিজেপি ও শিবসেনার অভ্যন্তরীণ সমস্যা। তাদের সমস্যা তারা নিজেরাই মেটাক। শিবসেনাকে সমর্থনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস হাইকমান্ড।

বৃহন্মুম্বই পুর নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ৮৪টি আসন দখল করেছিল শিবসেনা। পরে বিদ্রোহী হয়ে ভোটে জেতা তিন নির্দল সদস্য দলের মূল স্রোতে ফিরে আসায় সেনার শক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭। কিন্তু ১১৪ সংখ্যার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে এখনও বহু দূর যেতে হবে শিবসেনাকে। উদ্ধব নিজে ছোটখাটো দলগুলিকে বা নির্দলদের সমর্থন জোগারের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ৩১ আসন জেতা কংগ্রেসকেও বার্তা দিয়ে রেখেছেন উদ্ধব। স্বাভাবিক মিত্র হিসাবে বিজেপি’র সঙ্গেই ফের শিবসেনা গাঁটছড়া বাঁধতে পারে বলে যে জল্পনা চলছিল, তাকে অবশ্য খণ্ডন করেনি শিবসেনা। কিন্তু আকর্ষণীয় বিষয় হল ৮২ আসন পাওয়া বিজেপি’র চমকপ্রদ উত্থানে সেনাও যে শঙ্কিত, তা তাদের মুখপত্র সামনার এদিনের সম্পাদকীয়তেই প্রকাশ পেয়েছে। সামনায় লেখা হয়েছে, বিজেপি’র উত্থান নামক গ্যাস বেলুনে যতটা গ্যাস রয়েছে বলা হচ্ছে ততটা মোটেও নেই। সামনা মেনে নিয়েছে, বিজেপি এবার ভোটে ভালো করেছে। কিন্তু সেই ফলের পিছনে সাধারণ মানুষ নয়, প্রশাসনের মদত রয়েছে বলেই মনে করছে শিবসেনা। মুখপত্রে লেখা হয়েছে, মনে রাখতে হবে বিজেপি এখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে সরকার চালাচ্ছে। বস্তুত, বিজেপি’র এই চমকপ্রদ ফলের কারণেই সেনা শঙ্কিত। উদ্ধবের দল মেয়র পদের দাবিদার। বিজেপি সেই দাবি মানলেও, এককভাবে কতটা বোর্ড চালানো যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে শিবসেনার অন্দরমহলেও। সেনার আশঙ্কা, ধীরে ধীরে রাজ্যকে গিলে ফেলবে বড় শরিক। তাই বিজেপি’র সঙ্গে দূরত্ব রাখতেই এখন তৎপর শিবসৈনিকরা।

কিন্তু বিজেপি এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড গঠনের প্রশ্নে কংগ্রেসের কোনওরকম সমর্থন নেওয়া হবে না। গতকাল রাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বাড়িতে বৈঠকে বসেছিল বিজেপি কোর কমিটি। সেই বৈঠকে বোর্ড গঠন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে আবোলতাবোল বকছেন মোদি, তোপ কংগ্রেসের

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২৫ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রেল দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনায় আজ পালটা সমালোচনার সুর চড়িয়ে গলার শিরা ফোলাল রাহুল গান্ধীর দল। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় হার নিশ্চিত বুঝে প্রধানমন্ত্রী আবোলতাবোল বকছেন বলেই এদিন তোপ দেগেছেন দলের মুখপাত্র সিপি যোশি। যে রেল দুর্ঘটনার কথা প্রধানমন্ত্রী গতকাল গোন্ডার সভায় উল্লেখ করেছেন তার তদন্ত চলছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ওই দুর্ঘটনার পিছনে ‘সীমান্তপারের ষড়যন্ত্র’ বলে মোদি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

একইসঙ্গে গত বছর ২০ নভেম্বর কানপুর দেহাতে ইন্দোর-পাটনা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার পিছনে যদি পাকিস্তানের হাত থেকে থাকে, তাহলে তাও নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করল কংগ্রেস। কটাক্ষের সুরে যোশি এদিন বলেন, আচমকা পাকিস্তানে পৌঁছে শাল-শাড়ির রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাঠানকোর্ট হামলার তদন্তে পাকিস্তানের আইএসআই’কে আমন্ত্রণ জানালেন। কিন্তু তারপরেও যদি এভাবে হামলা হতেই থাকে, কেন তার ব্যর্থতার দায় নেবেন না মোদিজি? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আগামী সোমবার ২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের আমেথি, গোন্ডা, সুলতানপুরসহ ১১ টি জেলার ৫২ টি আসনে ভোট আছে। পঞ্চম দফার ওই নির্বাচনের প্রচারে গতকাল গোন্ডায় গিয়ে কানপুরের রেল দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টানেন নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে রেল দুঘর্টনার প্রসঙ্গ টেনে আনা নজিরবিহীন। নির্বাচনের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। আর সুযোগ পেয়ে মোদির দিকে আক্রমণ আর সমালোচনার তির তাক করতে নেমে পড়েছে কংগ্রেস।

আগামী সোমবার নির্বাচনের জন্য দলের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী একদিকে যেমন বাহরিচ, গোন্ডা এবং সুলতানপুরে এদিন তিনটি সভা করে নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে দিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে বসে আক্রমণ শানাল এআইসিসি। মুখপাত্র সিপি যোশি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ২৬/১১ মুম্বই হামলার সময় ব্যর্থতার দায় নিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাতিল ইস্তফা দিয়েছিলেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কি তাই করবেন? রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুই বা এরপর কোন মুখে পদে থাকেন? কাশ্মীর সীমান্তে সেনা জওয়ানদের প্রাণ যাচ্ছে। তার দায়ই বা কে নেবেন? প্রশ্ন ছুঁড়ে যোশি বলেন, আসলে উত্তরপ্রদেশের মানুষ রাহুল গান্ধী এবং অখিলেশ যাদবের জোটের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে দিয়েছে উপলদ্ধি করেই আবোলতাবোল বকছেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার সরকারি অফিসে জয়ার ছবি রাখার আপত্তি
আম্মাকে নিয়ে মন্তব্য, স্ট্যালিনকে ক্ষমা চাইতে বলল এআইএডিএমকে

চেন্নাই, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতাকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য বিরোধী দলনেতা এম কে স্ট্যালিনকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাল এআইএডিএমকে। পাশাপাশি, সরকারি অফিসে জয়ললিতার ছবি রাখা নিয়ে শনিবার নতুন করে ‘আম্মা’ ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দল ও সরকারের পক্ষ থেকে জয়ললিতার ৬৯তম জন্মদিন পালনের পর করদাতাদের টাকা অপব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন স্ট্যালিন। সেইসঙ্গে, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে জয়ললিতার নাম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন ডিএমকের এই কার্যনির্বাহী সবাপতি। ‘আম্মা’র নাম বাদ দিয়ে প্রকল্পগুলির নয়া নামকরণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ডিএমকে নেতা। আর তাই এই সমস্ত মন্তব্যের জন্য স্ট্যালিনকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন এআইএডিএমকের উপ সাধারণ সম্পাদক টি টি ভি দীনাকরণ। তিনি বলেছেন, জয়ললিতার মৃত্যুতে যখন লক্ষ লক্ষ সমর্থক তাঁর জন্য চোখের জল ফেলেছেন, তখন এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করে স্ট্যালিন তাঁর অপসংস্কৃতির পরিচয় দিয়েছেন। ‘আম্মা’র নামে প্রকল্পের পক্ষে দাঁড়িয়ে শশীকলার এই ভাইপো জানিয়েছেন, এই সমস্ত জনদরদী প্রকল্পের মাধ্যমেই উনি (জয়ললিতা) কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রয়েছেন। সেকারণেই প্রকল্প থেকে তাঁর নাম সরিয়ে আম্মার স্মৃতি মুছে দেওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। স্ট্যালিনের উচিত পুরুৎচি থালাইভি আম্মার বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য প্রত্যাহার করা। এবং জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

অন্যদিকে, বিভিন্ন সরকারি অফিস থেকে জয়ললিতার ছবি সরানো না হলে আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্ট্যালিন। তাঁর কথায়, যদি পরিস্থিতি এমনই থাকে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়া হবে। শুধু কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধিই নন, জনগণও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। একইসঙ্গে, জয়ললিতার জন্মদিন উপলক্ষে সরকারের বিজ্ঞাপন দেওয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন স্ট্যালিন। পাশাপাশি, বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামীসহ অন্যান্য মন্ত্রী-আমলাদের উপস্থিতিরও কড়া সমালোচনা করেছেন রাজ্যের এই বিরোধী দলনেতা।

আমেদাবাদ বিমানবন্দরে অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচল দু’টি বিমান

আমেদাবাদ, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): শুক্রবার বিকালে আমেদাবাদ বিমানবন্দরে অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচল দু’টি বিমান। সামনে কয়েকটি খরগোশ চলে আসায় ঠিক সময়ে ‘ট্যাক্সি বে’ তে পুরোপুরি ঢুকতে না পেরে রানওয়ের কিছুটা জায়গা আটকে দাঁড়িয়ে যায় বেঙ্গালুরু থেকে আসা ইন্ডিগোর বিমানটি (৬ই-১৬৬)। সেই সময়ে এটিসি-র নির্দেশ মতো টেক অফের জন্য তৈরি হচ্ছিল স্পাইসজেটের দিল্লিগামী বিমান (এসজি-৯১২)। কিন্তু, রানওয়ে খালি নয় দেখে মুহূর্তের মধ্যে এটিসি স্পাইস জেটের বিমানটিকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই মতো দিল্লিগামী বিমানটিকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই বিমানবন্দরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে ডিজিসিএকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এটিসের সময়মতো নির্দেশ এবং স্পাইসজেটের পাইলটের তৎপরতা এক্ষেত্রে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলেই বিমানবন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে।

বিজেপি’র এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে দিল্লি পুলিশ: কেজরিওয়াল

নয়াদিল্লি, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রামযশ কলেজের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিজেপি’র এজেন্ট হিসাবে কাজ করছে। কেজরিওয়াল বলেন, দিল্লির মানুষকে রক্ষা করাই পুলিশের দায়িত্ব। এবিভিপি বা বিজেপি’কে গুন্ডাগিরি করার অনুমতি দেওয়া পুলিশের কাজ নয়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করব প্রধানমন্ত্রী একজন বিজেপি কর্মী হিসাবে কাজ না করে পক্ষপাতহীন দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি শুধু বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী নন, আমাদের সকলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নিজ কর্তব্য পালন করা উচিত।

উত্তরপ্রদেশের শেষ দু’দফার নির্বাচনে প্রচারে মুম্বইয়ের বিজেপি নেতারা

মুম্বই, ২৫ ফেব্রুয়ারি: বৃহন্মুম্বইসহ মহারাষ্ট্রের পুরসভাগুলির নির্বাচনে সাফল্যের পর এবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার শেষ দু’দফার (৪ এবং ৮ মার্চ) নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেবেন বিজেপির নেতারা। তাই মুম্বই থেকে বিজেপি নেতাকর্মীদের ৩০ সদস্যের একটি দল উত্তরপ্রদেশে গিয়েছেন। মুম্বই বিজেপির সাধারণ সচিব অমরজিৎ মিশ্র জানিয়েছেন, মুম্বই ও মহারাষ্ট্রের পর এবার উত্তরপ্রদেশের মানুষকে আমরা বোঝাব যে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিজেপি ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের বারাণসী, মারিয়াহু, ভাদোহি, গাজিপুর, জুনপুর এবং চান্দৌলি জেলায় প্রচার চালাবেন তাঁরা। উত্তরপ্রদেশের বহু মানুষ উপার্জনের জন্য মুম্বইয়ে থাকেন। তাঁদের একটা বড় অংশ বৃহন্মুম্বইয়ের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ভোটের ফলাফলই বলে দিচ্ছে, তাঁদের সিংহভাগ ভোটই গিয়েছে বিজেপির পক্ষে। তাই বিজেপি আশাবাদী, উত্তরপ্রদেশের শেষপর্বের ভোটে মুম্বই ও মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের সাফল্যের কথা মেলে ধরে প্রচার চালালে তাতে দলের লাভই হবে।

কেরলের গ্রামে শেষকৃত্য সম্পন্ন জঙ্গি-হানায় নিহত জওয়ানের

পালাক্কড় (কেরল), ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত জওয়ান শ্রীজিৎ এম জে’কে চোখের জলে শেষ বিদায় জানাল কেরলের পারুথিপুল্লি। এই গ্রামেই বাড়ি শ্রীজিতের। ছোটবেলায় যে স্কুলে পড়েছিলেন, শনিবার সকালে সেই স্কুলের মাঠে তাঁর দেহ নিয়ে আসা হয়। সেখানেই ২৮ বছরের এই জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানান গ্রামবাসীরা। সেনাবাহিনীর তরফে শ্রীজিৎকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় ওই মাঠেই। হাজির ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী এ সি মোইদীনসহ জেলাশাসক। শ্রীজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন মন্ত্রী। শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর্ব মিটে যাওয়ার পরই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শ্রীজিতের শেষযাত্রাতেও ঢল নামে গ্রামবাসীদের। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় সেনাদের কনভয়ে জঙ্গি হামলায় শ্রীজিৎসহ মৃত্যু হয় দুই জওয়ানের। মারা গিয়েছিলেন এক মহিলাও। এদিন শ্রীজিতের পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে রাজস্থান থেকে বদলি করা হয়েছিল কাশ্মীরে। সামনের মার্চ মাসেই ছুটি কাটাতে বাড়িতে আসার কথা ছিল শ্রীজিতের।

হিমাচলে পৃথক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ মৃত ৫

সিমলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): হিমাচল প্রদেশে পৃথক দুর্ঘটনায় শনিবার নবদম্পতিসহ মৃত্যু হল ৫ জনের। গুরুতর জখম হয়েছেন কমপক্ষে ৯ জন। পুলিশ জানিয়েছেন, এদিন প্রথম ঘটনাটি ঘটে কিন্নৌর জেলার ভগবাননগরে। এখানে যাত্রীবাহী একটি ক্যাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সুরেন্দ্র সিং, মঙ্গত রাম এবং শাকরুয়া নামে তিন ব্যক্তির। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে মুজফফরনগরে। সিমলা-নাহান সড়কে একটি প্রাইভেট গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। ওই গাড়িতেই ছিলেন সদ্য বিবাহিত দম্পতি সেলিম (৩২) ও ফতিমা (২৪)। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে গিয়েছে একটি শিশু। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ত্রিপুরায় ভূমিকম্প

আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): কম তীব্রতার ভূমিকম্প অনুভূত হল উত্তর ত্রিপুরায়। জানা গিয়েছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ কম্পন অনুভূত হয় উত্তর ত্রিপুরা জেলায়। প্রায় ৬-৭ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল কম্পন। তবে তীব্রতা কম থাকায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

 




 

?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta