কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

অর্ডিন্যান্সে সই করলেন রাজ্যপাল, আজই
তামিলনাড়ু জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে জালিকাট্টু

নয়াদিল্লি ও চেন্নাই, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): দীর্ঘ ছ’বছরের টানাপোড়েনের অবসান। অবশেষে রবিবারই তামিলনাড়ু জুড়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ষাঁড়ের খেলা জালিকাট্টু। দক্ষিণের এই রাজ্য জুড়ে এখন শুধু উল্লাসের ছবি। শনিবারই চেন্নাই পৌঁছে জালিকাট্টু অর্ডিন্যান্সে সই করেছেন রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাও। এদিন সন্ধ্যায় রাজ্যবাসীকে এই সুখবর জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভম। রবিবার সকাল ১০টায় মাদুরাই জেলার আলানগানাল্লুরে সরকারিভাবে জালিকাট্টুর উদ্বোধন করবেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে তার প্রস্তুতি জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিকে, যে কোনও মূল্যে তামিলনাড়ুর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জালিকাট্টু ইস্যুতে শনিবার ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘তামিলনাড়ুর সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতির জন্য আমরা গর্বিত। এ রাজ্যের মানুষের সংস্কৃতি রক্ষা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’ জালিকাট্টু ইস্যুতে কেন্দ্রের সমর্থন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। একইভাবে আঞ্চলিক দাবি-দাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন লোকসভার ডেপুটি স্পিকার তথা এআইএডিএমকে নেতা এম থাম্বিদুরাই।

জালিকাট্টু ফের চালু করার জন্য তামিলনাড়ু সরকার যে অর্ডিন্যান্সে জারি করেছিল, শুক্রবার রাতেই তাতে ছাড়পত্র দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রক। শনিবার রাজ্যে ফিরেই সেই অর্ডিন্যান্সে সই করলেন রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাওয়ের। মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল বিদ্যাসাগর রাও তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এদিনই তিনি চেন্নাই পৌঁছান। বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে এই অর্ডিন্যান্স বিল আকারে পাশ করে আইন তৈরি করা হবে। এই অর্ডিন্যান্সের ভিত্তিতে যাতে সাফল্যের সঙ্গে রাজ্যজুড়ে ষাঁড়ের খেলা অনুষ্ঠিত হয়, এ বিষয়ে দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দিয়েছেন এআইএডিএমকে প্রধান শশীকলা।

ষাঁড়ের খেলা তামিলনাড়ুতে জালিকাট্টু নামে পরিচিত। পোঙ্গল উৎসবের অঙ্গ হিসাবে তামিলনাড়ুর বাসিন্দারা জালিকাট্টুতে মেতে ওঠেন। একটি ঘেরা জায়গায় ষাঁড়কে খেপিয়ে তোলা হয় এবং সেই ষাঁড় মানুষকে তাড়া করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রকের ২০১১ সালের একটি সিদ্ধান্তের জেরে এই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

যদিও ষাঁড়ের খেলা নিয়ে রাজনীতি অব্যাহত। জালিকাট্টু ফের চালু করার কৃতিত্ব পুরোটাই নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল এআইএডিএমকে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির ডিএমকে-ও আসরে নেমে জনসমর্থন নিজেদের দিকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। ডিএমকে-র কার্যনির্বাহী সভাপতি এম কে স্ট্যালিন জালিকাট্টুর উপর থেকে পাকাপাকিভাবে নিষেধাজ্ঞা তোলার দাবিতে অনশনে বসেছেন। দলের নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের খেলা ফের ছাড়পত্র পাওয়ায় খুশি তামিলনাড়ুর বুদ্ধিজীবীমহল। জালিকাট্টু চালু করার পক্ষে ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছিল, তাকে সাধুবাদ জানিয়ে ট্যুইট করেছেন অভিনেতা কমল হাসান। পাশাপাশি, পশুপ্রেমী সংগঠন ‘পেটা’র সিইও পূর্বা জোশিপুরা ও দুই আধিকারিককে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তামিল ছবির নায়ক সুরিয়া। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ‘পেটা’ অভিযোগ করেছিল, সূরিয়া নিজের ছবির প্রচারের স্বার্থেই ষাঁড়ের খেলাকে সমর্থন করেছেন। এই ঘটনায় তাঁর মক্কেল মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন। কারণ, সুরিয়া প্রথম থেকেই জালিকাট্টু ইস্যুকে সমর্থন করে আসছেন। তাই ছবি হিট করানোর ক্ষুদ্র উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ষাঁড়ের খেলার পক্ষে মুখ খুলেছেন বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন।

সংরক্ষণ বাতিলের হুমকি বন্ধ করা উচিত বিজেপি, আরএসএসের
সপার সঙ্গে জোট করে উত্তরপ্রদেশে কোনও লাভ হবে না কংগ্রেসের, বললেন মায়াবতী

লখনউ, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): ভোটের উত্তরপ্রদেশে ত্রিফলা আক্রমণ মায়াবতীর। একযোগে তাঁর নিশানায় সপা, কংগ্রেস ও বিজেপি। শুক্রবার দলিত নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের অখিলেশ যাদব সরকার অপরাধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে আড়াল করছে। আর কংগ্রেস যেভাবে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটের চেষ্টা করছে, তাতে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়া দশাই প্রমাণ হচ্ছে। এই জোট করলে কংগ্রেস আসলে নিজের পায়ে কুড়ুল মারবে। কারণ উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস এখন অক্সিজেন সাপোর্টে বেঁচে রয়েছে। কংগ্রেস-সপাকে একযোগে নিশানা করার সঙ্গেই বহেনজি এদিন হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি ও আরএসএসকে। বসপা সুপ্রিমো বলেন, সংরক্ষণ বাতিলের যে হুমকি গেরুয়া শিবির দিচ্ছে, তা বন্ধ করা উচিত তাদের। উল্লেখ্য, গতকাল জয়পুর সাহিত্য সম্মেলনে আরএসএস প্রচারক মনমোহন বৈদ্য সংরক্ষণ নীতি খতিয়ে দেখার পক্ষে সওয়াল করেন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই মায়াবতীর হুঁশিয়ারি, বিজেপি ও আরএসএস সংরক্ষণের অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারে না। মোদি সরকার যদি সংরক্ষণ বন্ধ করতে আইন আনে, তাহলে এই শ্রেণির মানুষ তাদের উচিত শিক্ষা দেবে। রাজনীতি করাটাই ভুলে যাবে তারা। বহেনজি আরও বলেন, উত্তরপ্রদেশের ভোটে যদি বিজেপি জিতে যায়, তাহলে কোটা তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদি সরকারের হাত শক্ত হবে। সেই সূত্রেই রাজ্যের দলিত, আদিবাসী ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রতি মায়াবতীর আবেদন, বিহারের মতোই উত্তরপ্রদেশেও বিজেপিকে শিক্ষা দিন। আর মুসলিমদের প্রতি তাঁর বার্তা, সপাকে ভোট দিলে তা জলে যাবে ও তার ফলে বিজেপিকে সরাসরি সুবিধা করে দেওয়া হবে।

মায়াবতীর উপস্থিতিতেই এদিন বসপায় যোগ দেন মুলায়ম সিং যাদব ঘনিষ্ঠ সপা নেতা অম্বিকা চৌধুরি। বসপায় যোগ দেওয়া চৌধুরিকে বালিয়ায় তাঁর পুরানো আসন থেকেই প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করেছেন মায়াবতী। সপা ছেড়ে মায়াবতীর দলে যোগ দিয়ে এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সমালোচনা করেন। চৌধুরি বলেন, বাবা মুলায়মের প্রতি অখিলেশ যে ব্যবহার করেছেন, তাতে তিনি মর্মাহত। অখিলেশ তথা সপা শিবিরের সমালোচনা করেন মায়াবতীও। তাঁর দাবি, মুলায়মের পরিবারের অন্তর্কলহ নিছক ‘নাটক’ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নাটক তৈরি করেছেন স্বয়ং মুলায়ম সিং যাদব। ভাই শিবপাল যাদবকে বলির পাঁঠা করে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ছেলে অখিলেশ যাদবের ‘ব্যর্থতা’ থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই নাটক তৈরি করা হয়েছে। আর ‘দাগি’ অখিলেশকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মেনে নিয়ে কংগ্রেস মনে হচ্ছে সপার কাছে মাথা নুইয়ে দিয়েছে। আমি কংগ্রেসকে বলতে চাই, তারা যদি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ মনে করে, তাহলে তাদের সপার সঙ্গে যাওয়া উচিত নয়। ভোটের সময় কংগ্রেসের প্রকৃত স্বার্থপর চেহারাটা প্রকাশ হয়ে পড়ল। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রমাণ করে দিলেন, এই দলটি উত্তরপ্রদেশে অক্সিজেনের সাপোর্টে বেঁচে রয়েছে। তাদের এতটাই খারাপ অবস্থা যে, শীর্ষ নেতারা ‘রথযাত্রা’ ও ‘খাটসভা’ করেও বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী জোড়ার করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। কংগ্রেসের কর্মীরা গত পাঁচ বছর সপার ‘জঙ্গলরাজে’র বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁরা সপা প্রার্থীদের ভোট দেবেন না।

কেন্দ্রীয় সহায়তায় এবার দিন আনি-দিন খাওয়া মানুষদেরও পিএফ

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি: কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তায় এবার থেকে দিন আনি-দিন খাওয়া মানুষদের পিএফ দেওয়া হবে। মূলত রিকশাচালক-ভ্যানচালক-বাড়ির পরিচারিকা-সহ মোট ১২টি স্বনিযুক্তি পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাই এই সুবিধা পাবেন। এই সুবিধার জন্য যে পেশাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলি হল ১) রিকশা ও ভ্যানচালক, ২) মুটে/কুলি, ৩) রেলওয়ে হকার, ৪) পথ ফেরিওয়ালা, ৫) মুচি, ৬) সোনা-রূপো শিল্পে যুক্ত শ্রমিক, ৭) আয়া/পরিচারিকা, ৮) ছুতোর, ৯) গৃহকাজে নিযুক্ত, ১০) নাপিত, ১১) মূর্তি/প্রতিমা শিল্পী এবং ১২) মৎস্যজীবী। কেন্দ্রীয় আর্থিক প্রকল্পে এই পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী স্বনিযুক্তি পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাই এই কেন্দ্রীয় আর্থিক সহযোগিতা নিতে পারবেন। আগামী আর্থিক বছর, অর্থাৎ ২০১৭-১৮ সাল থেকেই এই কর্মসূচি চালু করে দেওয়া হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের ‘নির্মাণকর্মী ও অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ’-এর বরাদ্দকৃত অর্থ থেকেই এই পিএফ প্রদান করবে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, নির্মাণকর্মী এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের উন্নয়নের স্বার্থে প্রতিবছর পর্ষদের জন্য বাজেট বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি আর্থিক বছরে যার পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা। সরকারি সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকদের চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা, শ্রমিক পরিবারের মেধাবী ছেলেমেয়েদের শিক্ষা সংক্রান্ত অনুদান, মাতৃত্বকালীন নানা আর্থিক সহায়তা, পেনশন প্রভৃতি বিভিন্ন খাতে ওই অনুমোদিত বরাদ্দ থেকে অর্থ খরচ করে সংশ্লিষ্ট পর্ষদ। জানা গিয়েছে, ওই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মধ্যেই এবার থেকে পিএফ প্রদানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যার জন্য বছরে বাড়তি প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন নির্মাণকর্মী ও অসংগঠিত শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের আধিকারিকেরা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পিএফ প্রকল্পে নথিভুক্ত শ্রমিকদের মাসিক ২৫ টাকা হারে প্রতি বছর সর্বাধিক ৩০০ টাকা পর্যন্ত জমা দিতে হবে। আর রাজ্য সরকার মাসিক ৩০ টাকা হারে টাকা জমা করবে। ৬০ বছরের পর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কিংবা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি নির্দিষ্ট বার্ষিক হারে সুদ-সহ সমস্ত টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন।

বাঁধ নিয়ে পাক আপত্তি মানবে না দিল্লি
দেরাদুনে মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির, দিলেন ভাষণও

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি: সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে নতুন করে পাকিস্তান ভারতকে গতকালই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আজ সামরিক বাহিনীর তিন প্রধানকে নিয়ে সংযুক্ত কমান্ডার কনফারেন্সে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে এই সম্মেলনে আজ সারাদিন প্রধানমন্ত্রী দফায় দফায় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ভাষণও দিয়েছেন। গতকালই পাকিস্তান ভারতকে নতুন করে হুমকি দিয়ে জম্মু কাশ্মীরের কিষাণগঙ্গা আর রাতলেম বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে বলেছে। চন্দ্রভাগা এবং ঝিলম নদীর উপর ওই দুই বাঁধ নিয়ে পাকিস্তান আপত্তি করেছে। শুধু আপত্তিই নয় বিশ্বব্যাংকের কাছে নালিশও জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি। কিন্তু সরকারি সূত্রের খবর, পাকিস্তানের কথায় এখনই বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ করা হবে না। আর সেটি আঁচ করেই আবার সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান নতুন করে ভারতকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে চাপে ফেলার প্ল্যান নিয়েছে। ঠিক সেরকম আবহেই আজ ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন সম্মেলনে ভারতের প্রস্তুতি, শক্তি, দুর্বলতা নিয়ে রিপোর্ট পেয়েছেন, একই সঙ্গে আগামীদিনে ভারতের নিরাপত্তা স্ট্র্যাটেজি কোন দিশায় যাবে তা নিয়েও আলোচনা করেছেন।

এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর এভাবে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে এসে প্রধানমন্ত্রী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেননি। এই সম্মেলন নিয়েও জলঘোলা হয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে উত্তরাখন্ড কংগ্রেস অভিযোগ জানায় ভোটের প্রাক্কালে এই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী এসে যদি কোনও ঘোষণা করেন সেটি আদর্শ আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে। মতামত চাওয়া হয় কমিশনের কাছে। নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে জানিয়ে দেয় প্রধানমন্ত্রী এই সফর করতেই পারেন। কমিশনের কোনও আপত্তি নেই। কারণ সামরিক বাহিনীর তিন প্রধান ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দপ্তরে একজন প্রধানমন্ত্রী যে কোনও সময়ই উপস্থিত হতেই পারেন। কংগ্রেসের আপত্তি খারিজ হয়ে যায়।

নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে পর্বতপ্রমাণ ভুল বললেন রমেশ

তিরুবনন্তপুরম, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের ফের কড়া সমালোচনা করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর দল কালো টাকার কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলে মন্তব্য করে রমেশ বলেন, নোট বাতিল মোটেও এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘পর্বতপ্রমাণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রমেশ বলেন, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ধ্বংস ডেকে আনবে।

কেরল প্রদেশ কংগ্রেস আয়োজিত জন বেদনা সম্মেলনের উদ্বোধনের পর ভাষণে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, মোদির নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে নেওয়া হয়েছে। এর পিছনে কোনও অর্থনৈতিক কারণ নেই। রমেশ এদিন দাবি করেন, মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন এর চেয়েও বেশি কালো টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি বলেন, কালো টাকা উদ্ধারের জন্য কড়া আইনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নয়। আমরাও এই অশুভ ও ভয়াবহ বিপদের বিরুদ্ধে লড়তে চাই। কংগ্রেস কালো টাকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষপাতী। কংগ্রেস চায় কালো টাকার কারবারীদের ধরা হোক। কালো টাকা বাজেয়াপ্ত করা হোক এবং এর মজুতদারদের জেলে পাঠানো হোক। কিন্তু কালো টাকা উদ্ধারে ডিমানিটাইজেশন কোনও পথ নয়। তাদের নীতির ফলে, সাধারণ মানুষের অর্থ তোলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

রমেশ দাবি করেন, ইউপিএ সরকারের শেষ দু’বছরে ১.৩০ লক্ষ কোটি কালো টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকারের প্রথম দু’বছরে নোট বাতিলের আগে ১.২০ লক্ষ কোটি কালো টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নরেন্দ্র মোদিকে মহম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গে তুলনা করে জয়রাম রমেশ বলেন, নির্বাচনের আগে কালো টাকা উদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি মোদি দিয়েছিলেন, তা পালনে ব্যর্থ হয়েই এখন ডিজিটাল অর্থনীতির কথা বলতে শুরু করেছেন। কালো টাকার কথা ভুলে গিয়েছেন। কারণ, যাঁরা কালো টাকা রাখেন, তাঁরা কেউই নগদ রাখেন না। তাঁরা শেয়ার কেনেন, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করেন। তাই কালো টাকা ফিরিয়ে আনার বিচারে এই সিদ্ধান্ত ধ্বংস ডেকে আনছে। কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে এই নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের মোকাবিলা করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta