রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

বিবাহবিধির একাল-সেকাল
‘ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো-তোমার মনের মন্দিরে।...’ বিবাহিত জীবনের আনাচে কানাচে দুটি মনের নিবিড় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা বাস করে। আত্মীয়তার বন্ধন ছাড়াই শুধুমাত্র সম্পর্কের টানে স্বামী-স্ত্রী হয়ে ওঠে পরম আত্মীয়।

বৈদিক যুগে বিবাহের নানা ধরন প্রচলিত ছিল। বৈদিক বিবাহের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ঋক বৈদিক যুগের শেষপর্বে ‘চতুরাশ্রম’ প্রথার উদ্ভব ঘটে। আর্যরা তাদের জীবনকে চারটি স্তরে বিভক্ত করেন— ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ, বাণপ্রস্থ এবং সন্ন্যাস। প্রথম স্তর ব্রহ্মচর্যাশ্রম। আর্যবালক গুরুগৃহে বাস করে ব্রহ্মচর্য পালন এবং বিদ্যাচর্চা করত। যৌবনে সংসারধর্ম পালনকে গার্হস্থাশ্রম বলা হত। পৌঢ় বয়সে সংসার ত্যাগ করে অরণ্যে গিয়ে ঈশ্বরচিন্তায় দিন অতিবাহিত করার নাম ছিল বাণপ্রস্থ। আর সবশেষে সমস্ত প্রকার সাংসারিক বন্ধন ছিন্ন করে সন্ন্যাস গ্রহণ করে পরমার্থের চিন্তায় নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়ার নাম ছিল সন্ন্যাস বা যতি। একটু ঠান্ডা মাথায় বিবেচনা করলে দেখা যায় ঋকবৈদিক যুগে আর্যরা চেয়েছিলেন এক নিয়মমাফিক জীবন। যেখানে শিক্ষাশাস্ত্র অধ্যয়ন থেকে বিবাহবিধি প্রবর্তন একান্ত প্রয়োজনীয় ছিল। আসলে আর্যদের পূর্বে নর-নারীর বিবাহ বিধি প্রচলন না থাকার ফলে তারা পশুর মতো মিথুন ধর্মে নরনারী উৎপাদন করতেন। যার ফলে সমাজে সৃষ্টি হয়েছিল বিশৃঙ্খলা। এক সময়ে বলপূর্বক নারীহরণের রেওয়াজ তৈরি হয়। আর সেখান থেকেই বিবাহ শব্দটিরও উৎপত্তি বলে অনেকের ধারণা। এই বিবাহকে কেন্দ্র করে অনেকের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি হত। নরহত্যা হত অবাধে। এইসব ভয়ংকর প্রথা বন্ধের উদ্যোগ নেন ঋক বৈদিক যুগের দূরদর্শী ঋষিরা। তাঁরা বিবাহকে আটভাগে বিভক্ত করেন। সেই অষ্টবিধি বিবাহ বিধিগুলি হল—
১। রাক্ষস বিবাহ: মারামরি কাটাকাটি করে তথা বলপূর্বক যে বিবাহ তাকে রাক্ষস বিবাহ বলে।
২। পৈশাচিক বিবাহ: জ্ঞানহীনা, মদোমত্তা, নিদ্রিতা নারীকে গ্রহণ করে বিবাহকে পৈশাচিক বিবাহ বলে।
৩। দৈব বিবাহ: যজ্ঞের সময় ‘গৃহস্থ’ ঋত্বিক বা পুরোহিতকে যে কন্যা দান করত তাকে দৈববিবাহ বলে।
৪। অাসুর বিবাহ: পিতা মাতাকে অর্থদান করে কন্যাসংগ্রহ করার রেওয়াজ আসুর বিবাহ নামে পরিচিত।
৫। আর্য বিবাহ: কন্যাকর্তাকে একজোড়া গোরু দিয়ে কন্যা সংগ্রহ করার মাধ্যমে যে বিবাহ হত তাই হল অর্যবিবাহ। আর্য ঋষিরা এই বিবাহের প্রবর্তক।
৬। ব্রাহ্ম বিবাহ: কন্যাকর্তা বরকর্তার সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর বরকে আহ্বান করে কন্যাদান করাকে ব্রাহ্ম বিবাহ বলে।
৭। গান্ধর্ব বিবাহ: বর ও কন্যা নিজ নিজ পিতা-মাতার মতের অপেক্ষা না করে নিজেদের মতে যখন বিবাহ করে একে গন্ধর্ব বিবাহ বলে। আর পিতামাতার আহ্বানে উপস্থিত কন্যা প্রার্থীদের কারও গলায় মালা দিয়ে স্বামীরূপে বরণ করলে তাকে স্বয়ম্বর বিবাহ বলে।
৮। প্রজাপতি বিবাহ: বর ও কন্যা পক্ষের জন্য বাক্য বিনিময়ের দ্বারা এবং পুত্র-কন্যার মতামত গ্রহণ করে কন্যা সম্প্রদানকে প্রজাপতি বিবাহ বলে।
যদিও উপরিউক্ত অষ্টবিধি বিবাহবিধির প্রবর্তক আর্যরা ছিলেন কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, আর্যরা ভারতেরই আদি বাসিন্দা। তারা বহিরাগত ছিল না অতএব ঋষিকর্তৃক বিবাহবিধি আগে থেকেই ছিল। রামায়ণে ‘সীতার স্বয়ম্বর’, মহাভারতে ‘দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরের’ কথা আমরা সকলেই জানি। গান্ধর্ব মতে বিবাহের কথা রয়েছে কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানম্‌ শকুন্তলম’ -এ। পরে ‘প্রজাপতি বিবাহ’ বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। অন্যান্য বিবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই অষ্টবিধ বিবাহবিধির কথা রয়েছে বিষ্ণুপুরাণের ২৪ অধ্যায়ে।
আসলে বিবাহবিধি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে। বর্তমান সমাজে একজন নারী একজন পুরুষকেই বিবাহ করতেই পারেন। তা আইনত সিদ্ধ। কিন্তু আইন না মেনে তাঁরা ‘পরকীয়া’ও করতে পারেন। অনেকে রামায়ণ ও মহাভারতকে ‘মিথ’—‘গল্প’ বলে মানেন কিন্তু পরকীয়া তত্ত্বে রাধা-কৃষ্ণের উপমা টানতে ছাড়েন না। সীতার অগ্নিপরীক্ষার কথা বলেন, রামের আদর্শের কথা বলেন না।
‘নারদ সংহিতায়’ বিবাহ বিধি প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে—
‘নষ্টে মৃতে প্রবজিতে ক্লীবে চ পতিতে পতৌ।
পঞ্চস্বানৎসু নারীনাং পতিরন্যো বিধীয়তে।।’
অর্থাৎ বিবাহিতা নারীর স্বামী সন্ন্যাস বা নিরুদ্দেশ-নিখোঁজ হয়ে গেলে পতিত কিংবা মৃত হলে সুনারীর পক্ষে অন্য স্বামী গ্রহণ করা বিধিসম্মত।
আবার মনুসংহিতার ৯/১৭৫ নং শ্লোক অনুসারে স্বামী পরিত্যক্তা নারী পুনর্বার বিবাহ করতে পারেন। সঙ্গে এও বলা আছে ব্রাহ্মণরা চারবর্ণের কন্যাকেই বিবাহ করতে পারবেন। ক্ষত্রিয়েরা ব্রাহ্মণ ব্যতীত তিনবর্ণের কন্যাকে বিবাহ করতে পারবেন। বৈশ্যরা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় ব্যতীত অন্য দুই বর্ণের কন্যাকে বিবাহ করতে পারবেন। আর শূদ্র কেবলমাত্র শূদ্রবর্ণের কন্যাকে বিবাহের অধিকারী। বর্ণাশ্রম প্রসঙ্গে সুষ্পট ইঙ্গিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় দিয়েছেন— ‘চাতুবর্ণং মায়াসৃষ্টং গুণ কর্ম বিভাগস্বঃ’ অর্থাৎ আমিই এই চতুর্বর্ণকে সৃষ্টি করেছি তারা গুণ ও কর্মদ্বারা বিভক্ত হয়ে চারবর্ণে পরিণত হয়েছে।
বশিষ্ঠের উদ্বাহ তত্ত্বে এই মর্মে বিধান দেওয়া রয়েছে—
‘অপগ্মারি বিধর্ম্মস্য রোগীনাং বেশধারিনাং।
দত্তামনি হরেৎ কন্যাং মগোত্রোঢ়াং তথৈবচ।।’
অর্থাৎ স্বামী অত্যাচারী, বিধর্মী, বলপূর্বক বিবাহকারী, সগোত্রের কিংবা চিররোগী হলে, স্ত্রী তাঁকে পরিত্যাগ করে অন্যস্বামী গ্রহণ করতে পারেন।
আবার একজন নারীর একসঙ্গে বহু পুরুষকে বিবাহ প্রসঙ্গে মহাভারতের কথা বলা যেতে পারেন দ্রৌপদীর স্বামী ছিলেন পঞ্চপাণ্ডব। আবার ঋষিকন্যা জটিলা, মুনিকন্যা মরিচারও একাধিক স্বামী ছিল। কুন্তীর বিবাহপূর্ব সম্পর্ক ছিল সূর্যদেবের সঙ্গে। বিবাহ প্রথার একটি আশ্চর্য ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ হিমালয় ভ্রমণের সময়। তিনি সেখানকার এক তিব্বতী পরিবারে রাত কাটানোর সময় লক্ষ করেছিলেন সেই গৃহের ছ’জন ভাইয়ের একজনই স্ত্রী। উত্তর অনুসন্ধানে তিনি জানতে পারেন এর নেপথ্যে রয়েছে মহাভারতীয় যুগের প্রথা ও এক আন্তরিক সাম্যবাদ। যে সাম্যবাদকে স্বামীজিও শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। কারণ, তাঁরা সবকিছুই সমানভাবে ভাগ করে নেন। এমনকী স্ত্রী বা সহধর্মিনীকেও। সময় বদলেছে। মানুষের ভাবনা চিন্তাও বদলেছে। অনেক আধুনিক মনস্ক, এলিটরা অবশ্য ‘বিবাহের’ সংজ্ঞা বদলে মজা করে বলেন— ‘বি’ বিবাদ, ‘বা’ বাড়ান, ‘হ’ হল। বিবাহ মানে দুটি পরিবারের মিলন। দুটি মানুষের মিলন।

অনিরুদ্ধ সরকার

বিয়ের বিভিন্নতা

সমাজজীবনের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল বিবাহ। একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনই বিয়ে। এই সম্পর্ককে সুন্দর সূূক্ষ্ম ও আনন্দময় করে তোলাই বিবাহের উদ্দেশ্য। দু’জনের সুদৃঢ় সম্পর্ক থেকেই পরবর্তীকালের সন্তানদের জন্মলাভের মধ্য দিয়ে একটি সংসার গড়ে ওঠে।
ভারতবর্ষ বৈচিত্রময় দেশ। এখানে নানা জাতি, বর্ণ, ধর্মের মানুষ বাস করে। তা সত্ত্বেও বৈচিত্রেভরা এই দেশে ‘মিলন মহান’। শুধু ভারতবর্ষই বা বলছি কেন? সমগ্র বিশ্বজুড়েই তো নানা ধর্মের বাস। যেমন, হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলমান, শিখ, আরও কত শত। একেক ধর্মের আচরণ অন্য ধর্মের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ‘বিবাহ’ও তাই একেক ধর্মের আচরণে একেক রকম। পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন ধর্মের ক্ষেত্রে বিবাহ কেমন, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।
প্রথমেই ধরা যাক, হিন্দুধর্মের কথা। হিন্দুধর্মে বিবাহকে অত্যন্ত পবিত্র, ধর্মীয় এবং সামাজিক বন্ধনের একমাত্র পথ বলে গণ্য করা হয়। বিবাহের মধ্য দিয়ে সামাজিক একটা দায়বদ্ধতা এসে যায় পরস্পরের প্রতি। হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন ধরনের বিবাহর উল্লেখ আছে। গান্ধর্ব মতে বিবাহে পাত্র-পাত্রীর গোপনে বিবাহ হয়ে থাকে।
সম্বন্ধের বিয়েতে অভিভাবকরা উদ্যোগী হয়ে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করেন। দু’জনের সম্বন্ধ করে বিবাহদানের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকা থাকে। দু’জনেই দু’জনের কাছে থাকে অচেনা।
যেক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর নিজস্ব পছন্দই মুখ্য হয়, তা হল ভালোবাসার বিয়ে। হিন্দুধর্মে পণপ্রথা অর্থাৎ পাত্রীর বাড়ি থেকে পাত্রের পণগ্রহণ। হিন্দুধর্মে আরেকটি বৈশিষ্ট্য বিধবা-বিবাহ। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু বিধবা-বিবাহ আইন অনুযায়ী হিন্দু বিধবারা পুনরায় বিয়ে করতে সক্ষম হন।
খ্রিস্টধর্মে দেখা যায়, বিবাহ পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে যীশুখ্রিস্টের শিক্ষার ওপর নির্ভর করে সংগঠিত। বহু খ্রিস্টান বিবাহকে পবিত্র একটি প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন। ১১৮৪ খ্রিষ্টাব্দের ভেরোনা কাউন্সিল সরকারিভাবে বিবাহকে পবিত্র এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করেন। তার আগে বিবাহ পর্ব সমাধানের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ প্রথা উল্লিখিত ছিল না। চার্চে গিয়ে ধর্মসাক্ষী করে যে কেউ যে কোনও সময় বিবাহের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারত। বিবাহ বিচ্ছেদ পুনর্বিবাহ খ্রিস্টধর্মে খুব একটা গ্রাহ্য নয়। অবশ্য প্রোটেস্টান্ট চার্চে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আবার বিবাহকে মেনে নেয়। খ্রিস্টানদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ আছে। ক্যাথলিকদের মধ্যে কিছু গোঁড়ামি আছে। তাঁরা বিবাহকে দু’জনের মধ্যে একটা অচ্ছেদ্য সম্পর্ক বলে মনে করেন। বৈবাহিক সম্পর্ককে পবিত্র বলে মনে করেন। বিবাহ বন্ধন এই ধর্মে দৃঢ় আত্মিক বন্ধন—বিবাহ বিচ্ছেদ সেক্ষেত্রে গ্রাহ্য নয়।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিবাহকে তখনই সমর্থন করে যখন এক ব্যক্তি বিবাহযোগ্য হয় এবং আর্থিকভাবে ও মানসিকভাবে নিজেকে বিবাহ করতে প্রস্তুত বলে মনে করে। মুসলিমদের মধ্যে ছেলেদের বহু বিবাহ সমর্থনযোগ্য, কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে একাধিক স্বামী সমর্থনযোগ্য নয়। তবে এক ব্যক্তির চারের বেশি স্ত্রী থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। মুসলিম বিবাহে কন্যা এবং কন্যার অভিভাবকদের সমর্থন থাকা দরকার। যদি অভিভাবক রাজি না থাকেন তাহলে সে বিবাহ আইনত গ্রাহ্য হবে না। এই ধর্মে কন্যার বাবা, মা, পিতামহের বিবাহের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক কন্যাকে বিবাহতে রাজি করার ক্ষমতা আছে সেক্ষেত্রেই, যদি কন্যার এটি প্রথমবার বিবাহ হয়। মুসলিম শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় পাত্রের ন্যূনতম দায়িত্ব থাকে নববধূর প্রতি তাঁর জীবনযাত্রার জন্য যা যা প্রয়োজন তা দেওয়ার। এই সঙ্গে বিবাহিত স্ত্রীর দায়িত্ব সন্তানদের প্রকৃত মুসলিম করে তোলা। সংসারের দায়িত্ব ও অধিকার মূলত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই স্থির হয়। বিয়ের আসরে বসার আগে বৈবাহিক চুক্তি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বিবাহ পরবর্তীকালে পাত্র দায়িত্ব গ্রহণের বিরুদ্ধে যেতে পারে না।
মুসলিমদের ‘সুন্নি’ সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহ সংগঠিত হয় অন্তত দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে। সেইসঙ্গে কন্যার অভিভাবক এবং পাত্রের সম্মতি কাম্য। এই ধর্মে সাধারণত দিনের বেলা বিবাহ সম্পন্ন হয়, মাসের শেষে। সেটা নির্ভর করে পাত্র-পাত্রীর অভিভাবকদের চাহিদামতো।
বিবাহ সম্পর্কে বৌদ্ধধর্মে বলা হয়েছে যে, বিয়ে একটা ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠান, কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। বৌদ্ধরা বিয়ের ক্ষেত্রে কতকগুলি সামাজিক আইন অনুসরণ করার ওপর জোর দেয়। শিখধর্মে দেখা যায়, দম্পতি বিয়ের সময়ে গুরু গ্রন্থ সাহেবের (শিখদের পবিত্র গ্রন্থ) চারপাশ চারবার প্রদক্ষিণ করে নেন। শুদ্ধাচারি এই গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন কীর্তনের সুরে। এদের বৈবাহিক অনুষ্ঠানকে বলা হয় ‘আনন্দ সরাজ’ এবং দুটি আত্মার বন্ধন হল পবিত্র বন্ধন।
হিব্রুদের ক্ষেত্রে হিব্রু বাইবেলে অসংখ্য ধরনের বিবাহ পদ্ধতির উল্লেখ আছে। তাদের মধ্যে আইজাক, জ্যাকব, সামস ইত্যাদি। পুরুষদের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ প্রচলিত, কিন্তু এক্ষেত্রে একটা চুক্তি থাকে। প্রাচীনপন্থী হিব্রুদের মধ্যে বিবাহ শুধুই একটা দাম্পত্য সম্পর্ক, কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। যাজকের উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়।
মূলত দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ধর্মে ‘বিবাহ’ ধর্মীয় শাস্ত্র নির্ভর। অনুষ্ঠান বা পদ্ধতিতে ভিন্নতা থাকলেও মূল উদ্দেশ্য একটি নারী ও একটি পুরুষের মধ্যে মিলন স্থাপন। বিবাহ বন্ধনের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক মিলন ঘটানো।
শুধু পদ্ধতিগত নয়, বেশভূষা অংলকরণেও বিভিন্নতা আছে। তবু সব শেষে বলতে হয় উদ্দেশ্য একটাই—দুটি জীবনকে এক করা।

‘বিবাহ’ তাই: ‘যদিদং হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম।

ইন্দিরা রায়

 




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta