কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

ডাক্তারি পরীক্ষায় বসার
বয়সসীমা তুলে দিল কেন্দ্র

বিশ্বজিৎ দাস
 কলকাতা

প্র্যাকটিস করুক বা না করুক, মেডিকেল কলেজে চাকরি পেয়ে ছাত্র পড়াক বা না পড়াক, ছেলেমেয়ের একটা ডাক্তারি ডিগ্রি থাকবে—এই শখ এখনও রয়েছে বহু বাবা-মায়ের। আগে এটা স্রেফ শখ ছিল না, ছিল জেদ! নিজেরা দু’বেলা ফ্যানভাত খেলেও একমাত্র ছেলে বা মেয়েকে ডাক্তার করার স্বপ্ন দেখেন বহু গরিব অভিভাবকই। সন্তানরাও ভালো র্যাংক করতে মরিয়া লড়াই চালিয়ে যান। একবারে হল না তো দ্বিতীয়বার, নয় তো তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠবারও মেডিকেলে বসেন অনেকে।

রাজ্য কোটার ৮৫ শতাংশ মেডিকেল আসনে বারবার পরীক্ষায় বসা সম্ভব হলেও সর্বভারতীয় এআইপিএমটি’র আসনে ২৫ বছর বয়স পেরলে এতদিন পরীক্ষায় বসাই যেত না। এই ঊর্ধ্বসীমা এখন তুলে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। যত বছর বাঁচবেন, ডাক্তারি পরীক্ষায়ও বসা যাবে তত বছর! ১৭ বছর বয়স থেকে যতবার ইচ্ছা বসতে পারবেন এই পরীক্ষায়।

১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি অমিত বিশ্বাস এই মর্মে সরকার তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্মতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন সিবিএসই বোর্ডের যুগ্মসচিব ডাঃ সত্যম ভরদ্বাজকে। ফলে দেশের সমস্ত সর্বভারতীয় আসনে (১৫ শতাংশ) আমৃত্যু বসা যাবে ডাক্তারিতে ভরতির মেধা পরীক্ষায়।

শুধুমাত্র তাই নয়, এ বছর ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টে (নিট) অনাবাসী, প্রবাসী ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা বসতে পারবেন পরীক্ষায়। গত বছর পর্যন্ত যে সুযোগ ছিল না। প্রসঙ্গত, ২০১৩ ও ২০১৬’র মতো এ বছর ডাক্তারিতে অভিন্ন পরীক্ষা নিট হবে। আয়োজক সিবিএসই বোর্ড। পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের মতো কিছু রাজ্যে এর ফলে সমস্ত ডাক্তারি আসনেই (৮৫ শতাংশ রাজ্য ও ১৫ শতাংশ সর্বভারতীয় সংরক্ষণের আসন) পরীক্ষায় বসার বয়সসীমা উঠে গেল। যদিও উত্তরাখণ্ডের মতো কিছু রাজ্যে মেডিকেলে ৮৫ শতাংশ রাজ্য কোটার আসনে এখনও চালু রয়েছে ২৫ বছর বয়সের সিলিং। কী বলছেন সিনিয়র অধ্যাপক ও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ-অধ্যক্ষারা? ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষা ডাঃ মঞ্জুশ্রী রায় বলেন, বিদেশে মানুষ ইচ্ছামতো বয়সে পছন্দমতো পড়াশুনা করতে পারে। সেইমতো পেশাও বাছতে পারে। এখানে হবে না কেন? এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, বেশি বয়সে যাঁরা ডাক্তারিতে বসতে চান, তাঁদের অধিকাংশই স্বেচ্ছায় আসেন। তাও সরকারকে অনুরোধ করব, কেন এখন পড়তে চান এবং এতদিন পড়েননি কেন—পরীক্ষার্থীকে এই দু’টি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ভালো হয়।

বয়সের বাধায় ডাক্তার না হতে পারার নানা মজার উদাহরণও আছে। নদীয়ার দিগম্বরপুরের বাসিন্দা প্রদীপ হালদার ১০-১২ বছর ধরে ডাক্তারিতে বসেই যাচ্ছেন। তাঁর বয়স এখন ৪৮ হতে চলল। অত্যন্ত গরিব ঘরের প্রদীপবাবুর তিন ছেলেমেয়েও আছে। তাদের একজনেরই এখন প্রায় ডাক্তারি পরীক্ষা দেওয়ার বয়স। তারই মধ্যে ২০১৬ সালে নিট হওয়ার সুবাদে তিনি এ রাজ্য থেকেই সর্বভারতীয় কোটার মেডিকেল আসনে ৫১ র্যাংক করে বসলেন। কিন্তু বিধি বাম! বয়স যে ৪৭। সেবারের মতো ডাক্তারিতে ভরতি হওয়া হল না তাঁর। দেখা যাক, ২০১৭’তে অপূর্ণ সাধ কতটা পূর্ণ হয়।

 

 

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta