কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

পাহাড়ের উন্নয়নে এবার কার্শিয়াংকে
পাখির চোখ করছেন মমতা

দেবাঞ্জন দাস  কার্শিয়াং

পাহাড়ে থমকে থাকা উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার কার্শিয়াংকে পাখির চোখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিটিএ’র শাসনের পাঁচ বছরে এখানে উন্নয়ন থমকে আছে বলে অভিযোগ। এবার তাই কার্শিয়াংকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা বা জেলা ঘোষণা করা, সবই মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে হতে পারে পারে আশাবাদী কার্শিয়াংবাসী।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য যে পর্ষদ গঠন করা হয়েছে, তাতে তৃণমূল সরকারের প্রতি আস্থা বেড়েছে মানুষের। তাই একই ঔষধ এবার কার্শিয়াংয়েও ব্যবহার করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার কার্শিয়াংয়ে রাত্রিবাস করছেন তিনি। তাঁর প্রতি যে পাহাড়ের মানুষের আস্থা বেড়েছে, তার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। এদিন কার্শিয়াংয়ে যাওয়ার পথে, ১২টি জায়গায় সংবর্ধনা দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। নানা রকমের বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, জয়ধ্বনি দিয়ে, পোস্টার লাগিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। রোহিনী হয়ে কার্শিয়াংয়ের রাস্তা জুড়ে সরকারের উন্নয়নমূলক ফিরিস্তি লেখা। তৃণমূল নেত্রীকে একবার দেখার জন্য মানুষ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি যে উদ্দীপনা বেড়েছে, তাও প্রকাশ্যে এল।

মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফরসঙ্গী অরূপ বিশ্বাস এবং ইন্দ্রণীল সেন। কার্শিয়াংয়ে পৌঁছানোর পরই তিনি মন্ত্রী এবং পাহাড়ের নেতা প্রদীপ প্রধান ও মোর্চা থেকে আগত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কার্শিয়াংয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিসে চলে যান অরূপবাবু। পাহাড়বাসী যে মেজাজে মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তার পিছনে টালিগঞ্জের এই বিধায়কের কম অবদান নেই।। এদিন তাঁকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গোর্খা যুব মোর্চা ছেড়ে প্রণয় গুরুং এবং রমেশ গুরুংয়ের নেতৃত্বে ১০০জন মোর্চা সমর্থক যোগ দেন তৃণমূলে। কার্শিয়াংয়ে থমকে থাকা উন্নয়ন এবং জিটিএ’র দুর্নীতি নিয়ে ক্ষিপ্ত মমতা। এখানে আরও উন্নয়ন হলে, আগামী পুরসভা নির্বাচনে কার্শিয়াং পুরসভা তৃণমূলকে উপহার হিসাবে দিতে চাইছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

পাহাড়ে উন্নয়ন পর্ষদ মডেলকে সামনে রেখে এবার আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠী আলাদা পর্ষদের দাবি করে। এদিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের মাধ্যমে পাহাড়ের ভোজপুরিভাষী মানুষজন ভোজপুরি বিকাশ কালচারাল বোর্ড চেয়েছে। এঁদের জনসংখ্যা প্রায় এক লক্ষ। তাদের পাঁচ জনের একটি দল অরূপবাবুর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ভোজপুরিদের উন্নয়নের আবেদন করে। পাশাপাশি, পাহাড়ি হরিজন বিকাশ বোর্ড গঠনের দাবিতে স্মারকলিপি দেন তপেশ্বর রাউত। এদিকে, কার্শিয়াংয়ের প্রবীণ নাগরিকদের একটি দল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি সনদ পেশ করেছেন। এদিকে, আজ, রবিবার উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা হবে। গোথেল স্কুলে এর উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়বাসীর আশা, সেখান থেকে কার্শিয়াংয়ের জন্য উপহার ঘোষণা করবেন তিনি। গিদ্দা পাহাড়ে যে মিউজিয়াম আছে, তার সংস্কারের আবেদনও করা হয়েছে।। এসবের উর্ধ্বে কার্শিয়াংবাসীর মূল দাবি, এই জায়গাটিকে জেলা হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। তাহলেই এর উন্নয়ন সম্ভব হবে। মিরিক, মংপুর, তিনধরিয়া, সোনাদাকে নিয়েই জেলা গঠনের দাবি তাঁদের। এই দাবি সম্পর্কে অরূপবাবু বলেন, এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

কয়েক বছর আগে, পাগলাঝোড়ার কাছে গোয়াবাড়ি বস্তিতে ধসে ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের বাসস্থানের জন্য জমি চিহ্নিতও হয়েছে। কিন্তু জিটিএ তাদের বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এরা সাত বছর ধরে রিলিফ ক্যাম্পে আছে। এই কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া, মোর্চা নেতা রোশন গিরির বোন পরিশমা গিরি এদিন অরূপবাবুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। অনেকেই মনে করছেন আসন্ন নির্বাচনে দাদা- বোনের লড়াই হবে। যদিও এই নেত্রীর দাবি, আদর্শ ও নীতিগতর লড়াই হবে। লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তার জন্যই মমতার হাত ধরেছি।

 

 

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta