কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

জোর ধাক্কা ইসলামাবাদ ও বেইজিংকে
গিলগিট-বালতিস্তান নিয়ে পাকিস্তানের ঘোষণা
অবৈধ, প্রস্তাব পাশ করল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: গত বছর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতে এসে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে আশ্বাস দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সঙ্গে একজোট হয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে পথ হাঁটবে ব্রিটেন। ব্রিটেনের সংসদে টেরেসা মের নিজের দলের এক এমপির আনা একটি প্রস্তাব আজ পেশ ও অনুমোদিত হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পাকিস্তান ও চীনের কাছে যথেষ্ট বড় ধাক্কা। কনজারভেটিভ পার্টির এমপি বব ব্ল্যাকম্যানের প্রস্তাবে হাউস অব কমনন্স আজ স্বীকৃতি দিয়েছে। যে প্রস্তাবের প্রতিপাদ্য হল গিলগিট বালতিস্তানকে পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি নিজেদের পঞ্চম সীমান্ত অঞ্চল বলে যে তালিকাভূক্তিকরণের ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। আন্তর্জাতিক দুনিয়া ওই ঘোষণাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। ব্রিটিশ সংসদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অন্য অঞ্চলগুলির মতোই এই গিলগিট বালতিস্তানও আইনগত এবং সাংবিধানিকগতভাবে ভারতের জম্মু কাশ্মীর রাজ্যেরই অঙ্গ। যেটা পাকিস্তান ১৯৪৭ সাল থেকে অবৈধভাবে জোর করে দখল করে রেখেছে।

এখানেই শেষ নয়। আরও বলা হয়েছে ওই গিলগিট বালতিস্তানে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী জনসংখ্যাগত ভারসাম্য অবিরত আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। সামরিক শক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের প্রকৃত চাহিদা ও মৌলিক ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। বস্তুত যে কঠোর ভাষায় এই প্রস্তাব আনা হয়েছে তা ভারতের ঘোষিত অবস্থানের একপ্রকার হুবহু প্রতিফলন। সুতরাং ব্রিটেনের সংসদের এই প্রস্তাবে ভারতই অনেকটা শক্তিশালী হল বলে মনে করা হচ্ছে।

একদিকে এই প্রস্তাব যেমন ইসলামাবাদের নিন্দা করেছে এবং সরাসরি পাকিস্তানকে ভারতের ভাষাতেই দখলদার আখ্যা দিয়েছে, আবার অন্যদিকে চীনকেও চরম অস্বস্তিতে ফেলে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকেও অবৈধ তকমা দিয়েছে। উল্লেখ্য চীনের জিংজ্যাং থেকে পাকিস্তানের বালুচিস্তান পর্যন্ত দীর্ঘ করিডর নির্মাণ চীন ও পাকিস্তানের সবথেকে বৃহৎ মিত্রতা প্রকল্প। প্রায় ৫২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প সমাপ্ত করতে চীন মরিয়া। এই করিডরের বিরুদ্ধে ভারত আগেই আপত্তি করেছে। এবং বালুচিস্তানের প্রায় সব সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলি আন্দোলনে নেমেছে। বহুবার সামরিক বাহিনী নামিয়ে সেই বিক্ষোভ আন্দোলনকে দমন করা হয়েছে। এই অর্থনৈতিক করিডর চীনের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অন্যতম একটি বড় হাতিয়ার। ভারত সেই করিডরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। কারণ এর মধ্যেই ইরান থেকে আফগানিস্তান বন্দর নির্মাণ ও বাণিজ্য করিডর গঠনের সমঝোতা করে ফেলেছে মোদি সরকার। যা পাকিস্তান ও চীনকে ধাক্কা দিয়েছে। আজ ব্রিটেন সংসদে গিলগিট বালতিস্তানের প্রস্তাবও তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সেভাবে পাকিস্তান সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নেননি। কিন্তু তাঁর দলেরই কট্টরপন্থী নেত্রী টেরেসা মে দায়িত্ব নিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টি কোনও মধ্যপন্থা নিয়ে চলবে না। তাই এভাবে কনজারভেটিভ নেতাকে নিয়ে কমন্সে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করিয়েছেন তিনি।

 

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta