কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

ভাইয়ের ঠিক করা দরে শিশু বেচত চন্দনা


অনুপ দত্ত, শিলিগুড়ি, বিএনএ: ভাইয়ের ঠিক করা দরে শিশু বেচত দিদি। কোন নিঃসন্তান দম্পতির কাছ থেকে শিশু বিক্রি বাবদ কত টাকা নেওয়া যেতে পারে তা ভাই ‘স্টাডি’ করে ঠিক করতেন। তারপর দিদি সেই টাকা দাবি করতেন। জলপাইগুড়িতে শিশু পাচারকাণ্ডে অভিযুক্ত হোমকর্ত্রী চন্দনা চক্রবর্তীর ভাই মানস ভৌমিককে জেরা করে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি। পাচারকাণ্ডের আগাগোড়া খুঁটিনাটি বিষয় প্রথম থেকে মানস জানতেন বলে সিআইডি তদন্তে জানতে পেরেছে। মানসের হেপাজত থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে ফাইলপত্র সিআইডি বাজেয়াপ্ত করেছে তার মধ্যে একাধিক শিশু কেনাবেচার তথ্য ওই সংস্থার হাতে এসেছে।
সিআইডি সূত্রে খবর, ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মী মানস নিজেকে সমাজকর্মী পরিচয় দিয়ে শিশু দত্তক নিতে ইচ্ছুক নিঃসন্তান দম্পতিদের বাড়িতে যোগাযোগ করতেন। সেখানে কথাবার্তা বলে সেই পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা, আগ্রহ দেখে তিনি দরদাম ঠিক করতেন। তারপর সেই মতো শিশুর দাম দেড় লক্ষ টাকা থেকে শুরু হতো। এর জন্য‌ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তৈরি করতেন মানস। সেই কাগজপত্র দিয়ে চন্দনা শিশু বিক্রি করতেন বলে সিআইডি সূত্র বলছে।
গত বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির ৪ নম্বর ঘুমটির চন্দনাদেবীর বাড়ি থেকে মানসকে গ্রেপ্তারের পর ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি। শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির পিনটেল ভিলেজে চন্দনাদেবীর ভাইকে নিয়ে এসে একদফা জেরা করেছে সিআইডি। তাতে শিশু পাচারকাণ্ডের অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মিলেছে। শনিবার পিনটেল ভিলেজে অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তী ও অ্যাডাপশন অফিসার সোনালি মণ্ডলকে দীর্ঘ জেরা করা হয়। সেখানে ডেকে পাঠানো হয় চন্দনাদেবীর হোমের অ্যাকাউন্টটেন্টকে। তিনি হোমের সমস্ত হিসাবপত্র দেখাশোনা করতেন। দীর্ঘক্ষণ তাঁকেও জেরা করার পাশাপাশি কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়। সিআইডি সূত্র বলছে, হিসাবে প্রচুর গরমিল পাওয়া গিয়েছে। এদিন চন্দনাদেবীর আশ্রয় হোমের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে সমাজ কল্যাণ দপ্তর।
শিশু পাচারকাণ্ডে বিজেপি’র নারী মোর্চার রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক জুহি চৌধুরির নাম জড়িয়েছে। সিআইডি’র তরফে তাঁর বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা করা হয়েছে। তারপর থেকেই জুহির কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সিআইডি মনে করছে, জুহির হদিশ পেলেই এই ঘটনার বিষয়ে আরও পরিষ্কার হবে। ইতিমধ্যে সিআইডি জুহির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। তাঁর মোবাইল ফোনের সুইচ অফ রয়েছে। তাঁর বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতেও খোঁজ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও খোঁজ মিলছে না।
সিআইডি সূত্র বলছে, কলকাতা কিংবা দিল্লিতে জুহি কোথাও আত্মগোপন করে থাকতে পারে। শিশু পাচারের জালে এবার আরও তিনজনকে জেরা করতে চলেছে সিআইডি। চন্দনাদেবীর আরও দুই আত্মীয়কেও ডাকতে চলেছে ওই সংস্থা। তালিকায় এক চিকিৎসক ও এক সরকারি আমলাও আছে। সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (নর্থ) অজয় প্রসাদ বলেন, তিনজনকে জেরায় বেশকিছু তথ্য হাতে এসেছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পাচারকাণ্ডে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। শীঘ্রই তাদের ডাকা হবে।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দনার হোম থেকে শিশু পাচার শুরু হয়েছিল ২০০৭ সাল থেকে। বিভিন্ন নথি ঘেঁটে তেমনটাই পাচ্ছে তদন্তকারীরা। ধরা পরার আগে কয়েকদিন আগেও দু’টি শিশুকে বিদেশে বিক্রির ব্যাপারে ঠিক হয়েছিল। এত বছরে ঠিক কয়জন শিশুকে বিক্রি করা হয়েছে তার হিসাব এখনও মেলাতে পারেনি সিআইডি।  ফাইল চিত্র

 





?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta