কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

মোদির উপর ভরসা রেখেই
রামমন্দিরে বিভোর অযোধ্যা


মণিপুরের পশ্চিম ইম্ফলে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: পিটিআই


সমৃদ্ধ দত্ত, অযোধ্যা, ২৫ ফেব্রুয়ারি: এই দেখুন সীতা রসুই। এখানেই সীতামাইয়া রান্না করতেন। পিছনে মাঠটা কিসের? ওটা তো লবকুশের তীর ধনুক প্র্যাকটিসের জায়গা! ওই যে গলিটা দেখছেন ওখানে একটা কুয়ো পাবেন। ওই জল খেতেন রামজি। হনুমান গঢ়ী঩কে বাঁদিকে রেখে সোজা চলে যান। কিছুটা বালিয়াড়ি, তারপর টলটলে জল ওটাই সরযু নদী। ওই ঘাটেই রামনবমীতে আজও আবির্ভাব হয় তাঁর, জানেন নিশ্চয়ই। ওইখানেই লঙ্কা থেকে ফিরে স্নান করেছিলেন। সীতামা যখন দূরে, তখনও মন খারাপ হলে ওইখানেই বসতেন সেই মহামানব। নিছক ভক্তি উদ্রেক করে আরও বেশি দক্ষিণা আদায় করার ফন্দিতে পুরোহিতরা এসব বলেন তা নয়। সাধারণ দোকানি থেকে সরকারি কর্মী সকলেই এরকম কথা বলেন। অযোধ্যা এভাবেই বাস করে রামায়ণে, রামচরিতমানসে। রামজন্মভূমির প্রধান পুরোহিত মোহন্ত দেবেন্দ্রপ্রসাদ আচার্যের জন্য যেখানে বসে অপেক্ষা করছি সেটি দশরথ মহল। পদাধিকারবলে যিনি মোহন্ত হবেন তিনি এই দশরথ মহলে থাকবেন। বললেন মোহন্ত বাবাজির দক্ষিণহস্ত শিবপাল মহারাজ। চক্রবর্তী মহারাজ দশরথ অধিকূলপতি এখানেই থাকতেন কি না। আর ওই পাশের মহলটি কৌশল্যার। এত ছোট প্রাসাদ? শিবপাল ধমকে বললেন, আরে আপনি তো কিছুই জানেন না দেখি! এসব কি ত্রেতা যুগের সেই প্রাসাদ নাকি? সরযু তীরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে রাজা বিক্রমাদিত্য অযোধ্যানগরী পুনর্নির্মাণ করেন। কামধেনু গোমাতা নিজে রাজাকে যেখানে যেখানে পথ দেখিয়ে দিয়েছিল সেখানেই সেইসব ভবন নির্মাণ হয়েছিল। সুতরাং যেখানে বসে আছেন সেখানে একদিন রাজা দশরথ পায়চারি করতেন মনে রাখবেন! ওই যে সামনের রাস্তাটা,ওটা ধরেই প্রথম বনবাসের জন্য রথে চেপে গেলেন রামজি। কারণ পিতার অনুরোধে প্রথম তিনদিন তিনি পদব্রজের পরিবর্তে রথ নিতে রাজি হয়েছিলেন। আমি আপনি যেখানে বসে কথা বলছি সেখানে অযোধ্যাবাসী কী কান্নাকাটি করেছিল ভাবতে পারছেন? এসব খুঁটিনাটি রামমন্দিরের গায়ে গায়ে সুন্দর করে লেখা হবে। মন্দির হবে নাকি? প্রশ্নটা শেষ হওয়ার আগেই এবার বজ্রকণ্ঠ নিয়ে প্রবেশ করলেন দেবেন্দ্র প্রসাদ আচার্য। কে বললো হবে না? মন্দির হবেই। করসেবকপুরমে গিয়ে দেখে আসুন। মন্দিরের স্ট্রাকচার সব সমাপ্ত। শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্ল্যান, আর্কিটেকচার, গ্রাফিটি না কি যেন বলে সেসবও রেডি। আদালত নির্দেশ দিলে কয়েক মাসের মধ্যেই মন্দির হয়ে যাবে। অযোধ্যা নগরপালিকার খাজনার কাউন্টার বন্ধ করে বেরোচ্ছিলেন পুরকর্মী রামশরণ শর্মা। তিনিও বললেন, মন্দির হবেই।
কিন্তু ১৯৯২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ২৫ বছর হয়ে গেল। বিজেপি ভোট এলেই এই ইস্যুর কথা বলে। কিন্তু মন্দির আজও হয়নি। রামশরণ বিরক্ত। শ্রীরামের কাছে ২৫ বছর কোনও ব্যাপার? যিনি ১৬ হাজার বছর রাজত্ব করেছেন! আপনি কাকে ভোট দেবেন? রামশরণ বললেন, কাকে আবার? মোদিকে। প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে এটা তো বোঝাই যাচ্ছে। ২০১৪ সালে মোদির আগমন। এবার উত্তরপ্রদেশে মোদির দল এলেই সব বাধা দূর হবে। রামজন্মভূমি দর্শনের তিথিনক্ষত্র হয় না। রবিবার ভোট। কোথায় উত্তাপ। সারা বছরের মতোই জন্মভূমির দর্শনে মানুষ লাইন দিয়েছেন আজও। লাইনে ফতেপুর থেকে গত সাতদিন ধরে সাইকেল চালিয়ে আসা মুসুরিয়া গ্রামের ১২ দেহাতি পুরুষ, লাইনে বারাবাঁকি থেকে ভাইয়ের অস্থি সরযুতে ভাসাতে নিয়ে আসা সুরেন্দ্র মোহন, লাইনে দাঁড়িয়েছে জেহানাবাদ, লাইনে দাঁড়িয়েছে নেল্লোর, লাইনে দাঁড়িয়েছে ‘এই কেউ কারো হাত ছাড়বে না কিন্তু’ চিৎকার করা আরামবাগ থেকে আসা এক বাঙালি পরিবার। লাইনে দাঁড়ানো পাটনা থেকে আসা সুরেশ যাদব বললেন, মন্দির হয়ে গেলে অনেক গেট থাকবে। এত লাইন থাকবে না বলুন? বললাম, মন্দির হবেই কে বলল? সুরেশ হাসলেন। কে আবার বলবে? জানা কথা হবে। মোদি করবেন? বিজেপি? সুরেশ করুণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন ওঁরা কারা? যিনি থাকবেন তিনিই করবেন! সময় হলেই করবেন। তাঁর লীলা কেউ জানে না। গত বিধানসভা ভোটে সেই দুর্গ ভেদ করে বিজেপিকে চরম লজ্জায় ফেলে দিয়েছিলেন অখিলেশ। তাঁর বন্ধু পবন পাণ্ডে অযোধ্যা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। বিজেপিকে ব্যঙ্গ শুনতে হয়েছে নিজেদের একটা আসন রক্ষা করতে পারে না, তারা রামলালাকে রক্ষা করবে কীভাবে? এবার তাই বিজেপির প্রেস্টিজ ফাইট। বাল্মীকি রামায়ণ অনুযায়ী রামচন্দ্র বনবাসে গিয়েছিলেন চৈত্র মাসে। ১১ মার্চ উত্তরপ্রদেশ ভোটের ফল। চৈত্র মাস। এবার কাকে বনবাসে পাঠাবে অযোধ্যা?

 





?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta