কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে
জনপ্লাবনে ভাসলেন মমতা


দেবাঞ্জন দাস, জলপাইগুড়ি: নারদ বিতর্কসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিরোধীরা আদাজল খেয়ে যতই ময়দানে নামুক না কেন, জনপ্রিয়তায় আজও যে তাঁর ধারেকাছে কেউ নেই, সোমবার তার নতুন করে নমুনা দেখাল জলপাইগুড়ি। পাঁচ দিনের সরকারি সফরে এদিনই উত্তরবঙ্গে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর বিমান যখন বাগডোগরার মাটি ছুঁল, বাইরে তখন কয়েকহাজার উদ্বেল জনতা। আদিবাসী, লেপচা, ভুটিয়া, বাঙালি, অবাঙালি—কে নেই সেই ভিড়ে!

তিনটেয় কনভয় যাত্রা শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে। গন্তব্য ৫৩ কিলোমিটার দূরে করলা নদীর তীরে পূর্ত দপ্তরের বাংলো। কিছুটা এশিয়ান হাইওয়ে-২ আর কিছুটা ধূপগুড়ি সড়ক ধরে পৌঁছতে হবে গন্তব্যে। এই দুই সড়ক ধরে জলপাইগুড়ি পৌঁছাতে সময় লাগার কথা সওয়া এক ঘণ্টা। কিন্তু কোথায় কী! ধামসা-মাদলে মমতাকে স্বাগত জানাতে পথে নামা আবালবৃদ্ধ বনিতার উচ্ছ্বাস আর জয়ধ্বনির সিংহগর্জন। ‘ভক্ত’দের আবদার মেটাতে অকাতরে অটোগ্রাফ বিলোতে হয়েছে মমতাকে। নেত্রীকে ঘিরে গোটা রাস্তার এহেন আবেগ আর উচ্ছ্বাস অনেকটাই লম্বা করে দিয়েছে সফর। দু’পাশের জমাট কালো মাথার ভিড় আর মোড়ে মোড়ে নেত্রীকে ঘিরে পুস্পবৃষ্টি—জনস্রোতে ভাসতে ভাসতে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নিল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়।

লম্বা গাড়ি যাত্রা শেষে শুধু একবার চায়ের কাপে চুমুক। জলপাইগুড়ির বাংলোয় ঢুকেই মুখ্যমন্ত্রী ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্র্যাইবাল কাউন্সিলের’ সদস্যদের সঙ্গে বসে পড়লেন জরুরি বৈঠকে। পূর্ত ও যুবকল্যাণমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব সঞ্জয় থাড়ের সঙ্গে সেই বৈঠকে যোগ দেন কাউন্সিলের গোটা রাজ্যের সদস্যরা। বৈঠক শেষে করলা নদীর ধারে সাংবাদিক সম্মেলন। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, তফসিলি জাতির মানুষের সার্বিক বিকাশের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘সিডিউল কাস্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, রাজ্যে তফসিলি জাতির মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ১২ লক্ষ। যে সংখ্যা পাঁচ বছর পর প্রায় আড়াই কোটিতে পৌঁছেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যে ৬৬টি বিধানসভা কেন্দ্রও রয়েছে তফসিলি জাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। সাংবাদিক সম্মেলনে একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, নবগঠিত তরাই-ডুয়ার্স আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদ এবং একই এলাকার গোর্খা উন্নয়ন পর্ষদের পথচলা শুরু এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। জানালেন, ২৫ হাজার শব্দ নিয়ে সাঁওতালি-বাংলা ভাষার অভিধানও প্রকাশিত হচ্ছে একমাসের মধ্যে। গত বিধানসভা ও তার আগে লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি জেলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের একটা বড় অংশ ঝুঁকেছিলেন পদ্মফুল শিবিরের দিকে। একমাত্র উন্নয়নকে পাখির চোখ করলেই যে ভূমিপুত্রদের ভিড় জোড়াফুল শিবিরের দিকে বাড়বে, এই উপলব্ধি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর। তাই ট্র্যাইবাল কাউন্সিলের বৈঠকে কেউ কেউ বিজেপি নিয়ে শঙ্কার কথা জানালেও, অভয় দিয়েছেন মমতা নিজেই। বলেছেন, মরশুমি হিড়িকে নয়, উন্নয়ন, একমাত্র উন্নয়ন দিয়েই জয় করা যায় মানুষের মন।

এদিন বাগডোগরা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর জলপাইগুড়ি যাত্রা, হাসি ফুটিয়েছে উত্তরবঙ্গের তৃণমূল নেতাদের মুখেও। তৃপ্ত নেত্রীর প্রত্যয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে গোটা দলের। স্বয়ং দল সুপ্রিমোও তা স্বীকার করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, গোটা বছরই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। তবে এদিন যে ভালোবাসা পেলাম, তাতে আরও বেশি করে কাজ করতে উৎসাহ পাব। মমতার কথায়, তবে বাড়ির সব কাজ ফেলে যেভাবে মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন, ভাইরা উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন, তাতে বোঝা যায় জনসমর্থন কোন দিকে রয়েছে!

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta