কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

বাঁকুড়া থেকে গোবিন্দভোগ চাল, মুড়ি ও
চিঁড়া জার্মানিতে রপ্তানির উদ্যোগ
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়  বাঁকুড়া

বিএনএ: বছরখানেক আগে বাঁকুড়ার কুমড়ো পাড়ি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। দুবাইবাসীর মন জয় করেছিল দ্বারকেশ্বর নদতীরের সুস্বাদু সবজি। এবার এই জেলায় জৈব সারে চাষ করা গোবিন্দভোগ চালের গন্ধে মাতোয়ারা হতে চলেছে জার্মানি। খুব শীঘ্রই ইউরোপের ওই দেশে বাঁকুড়া কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে জেলার গোবিন্দভোগ চাল, মুড়ি ও চিঁড়া রপ্তানি করা হবে। রাজ্যবাসীর পছন্দের খাদ্য মুড়ি ও চিঁড়ার স্বাদে জার্মানির বাসিন্দারা অভিভূত বলে বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা আশিসকুমার বেরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশের বাছাই করা কয়েকটি জেলায় ‘পরম্পরাগত কৃষি বিকাশ যোজনা’(পিকেভিওয়াই) প্রকল্প চালু করে। এরাজ্যের ছ’জেলার সঙ্গে বাঁকুড়াতেও ওই প্রকল্পের সূচনা হয়। জেলায় জৈব পদ্ধতিতে চাষবাস শুরু করাই ওই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পিকেভিওয়াইয়ের আওতায় বাঁকুড়া কৃষি দপ্তর চলতি আর্থিক বছরে ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা পেয়েছে। পরপর তিনবছর কেন্দ্র এই জেলাকে টাকা দেবে। ওই টাকায় কৃষি দপ্তর চাষিদের কেঁচো সার সহ অন্যান্য জৈব সার ও কীটনাশক তৈরির উপকরণ এবং জৈব পদ্ধতিতে চাষের জন্য নানা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। চাষিদের রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়।

বাঁকুড়া জেলার ছাতনা, ইন্দপুর, হীড়বাঁধ, রানিবাঁধ, সোনামুখী ও বিষ্ণুপুর ব্লকে ওই প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। ওই ছ’টি ব্লকে ২০টি ক্লাস্টারের আওতায় চাষিরা জৈব পদ্ধতি গত খরিফ মরশুম থেকে চাষ আবাদ শুরু করেন। প্রতিটি ক্লাস্টারে ৫০জন করে কৃষক এবং ৫০ একর করে জমি রয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে চাষিরা জৈব পদ্ধতিতে চাষ করছেন।

ছাতনার দলপুর, চামকরা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষিরা গত খরিফ মরশুমে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে গোবিন্দভোগ, বহুরূপী, কেরল সুন্দরী ও ঝিলিক সুন্দরী ধানের চাষ করেন। এরমধ্যে গোবিন্দভোগ চাল থেকে পায়েস, বহুরূপী থেকে চিঁড়া ও মুড়ি, কেরল সুন্দরী থেকে মুড়ি ও ভাত, এবং ঝিলিক সুন্দরী থেকে উৎকৃষ্টমানের মুড়ি ও খই তৈরি হয়। জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হওয়ায় স্বাদ ও সুগন্ধে প্রত্যেকটি খাদ্যদ্রব্য অতুলনীয়। রাসায়নিক না থাকায় শরীরের পক্ষেও তা ভালো এবং পুষ্টিকর।

ছাতনা ব্লক কৃষি আধিকারিক অনির্বাণ মণ্ডল বলেন, জেলার অন্যান্য অঞ্চলের মতো ছাতনা ব্লকেরও সিংহভাগ খেতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়েই কৃষকরা চাষ করেন। তারই মধ্যে জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়া খেতগুলিকে রাসায়নিকের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা নিম, সুবাবুল, গ্লাইরিসিডিয়া প্রভৃতি গাছ দিয়ে ঘিরে রেখেছি। চাষের আগে এলাকার মাটি ও জলপরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছি।

চামকরা গ্রামের বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বর চিনা বলেন, আমরা কেঁচো সার ও অ্যাজোলা তৈরি করে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়িয়েছি। কৃষি দপ্তরও কিছু জৈব সার আমাদের দিয়েছে। গোমূত্র, গোবর, ব্যাসন, গুড় ও নিমপাতার নির্যাস দিয়ে ‘অমৃতপানি’ নামে একটি মিশ্রণ বানিয়েছি। ওই মিশ্রণ একইসঙ্গে ধানের আহার এবং ওষুধের কাজ করেছে। এছাড়াও গোমূত্র ও রসুনের মিশ্রণ ধানের ঝলসা রোগ নির্মূল করতে প্রভূত সাহায্য করেছে। এছাড়াও আমরা জৈব উপায়ে তৈরি কিছু জীবাণুঘটিত কীটনাশকও ব্যবহার করেছি।

উপকৃষি অধিকর্তা আশিসবাবু বলেন, সিকিম সরকার সারারাজ্যে ইতিমধ্যে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করে দেশকে পথ দেখিয়েছে। রাসায়নিকের বিষ থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার পরম্পরাগত চাষের পদ্ধতির উপর জোর দিতেই ‘পিকেভিওয়াই’ প্রকল্প রূপায়ণ করেছে। আমাদের জেলায় গত খরিফ মরশুমে জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়া গোবিন্দভোগ সহ অন্যান্য চাল থেকে প্রস্তুত খাদ্যসামগ্রী বিভিন্ন জায়গায় সমাদৃত হয়েছে। এক ব্যক্তির মাধ্যমে রপ্তানিকারক একটি সংস্থার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। জার্মানিতে চাল, মুড়ি ও চিঁড়ার নমুনা আমরা পাঠিয়েছিলাম। তা খেয়ে সেখানকার বাসিন্দারা খুশি হয়েছেন। সেখানে চাহিদা বাড়ায় জার্মানিতে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ওই সংস্থা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জার্মানি থেকে চিঁড়া তৈরির জন্য উন্নত ধরনের মেশিন এনে জেলার চাষিদের দেওয়ার ব্যাপারেও কথাবার্তা হয়েছে।

 

 

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta