কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

গাফিলতি অব্যাহত, লাখ লাখ
টাকা বিল মিটিয়েও রোগীমৃত্যু


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ। এবারও কাঠগড়ায় ইএম বাইপাস লাগোয়া সেই কর্পোরেট হাসপাতাল। এখানেই সঞ্জয় রায় নামে এক তরতাজা যুবকের ‘অপচিকিৎসা’ নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় গোটা রাজ্য। অভিযোগ, এবার ওই হাসপাতালের চিকিৎসা-বিভ্রাটের শিকার এক বৃদ্ধা। নাম রত্না ঘোষ (৬০)। তাঁর আত্মীয় কৌশিক ঘোষ জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি শ্বাসকষ্টের সমস্যার জন্য রত্নাদেবীকে ভরতি করা হয়েছিল ওই কর্পোরেট হাসপাতালে। প্রথমে ডাক্তাররা বলেন, হার্টের ভালভের সমস্যার জন্যই এই উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। ভালভ পালটাতে হবে। সেজন্য অপারেশন জরুরি। টাকা দিন। দাবিমতো প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু, তাতেও সমস্যা মেটেনি। এবার বলা হয়, পেসমেকার লাগালে সমস্যা ঩মিটবে। সেজন্য ‘পেসিং’-এর কাজ করতে হবে। টাকা জমা দিন। ফের মোটা অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া হয়। কৌশিকবাবু বলেন, শনিবার সকালে রত্নাদেবীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ ভোরে আমাদের কাছে ফোন আসে, ওঁর নাকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। আমরা তো শুনে থ। সুস্থসবল রোগী, ক’দিন আগেও কথাবার্তা, হাঁটাচলা সব ঠিক ছিল। হাসপাতালের কথামতো আমরা টাকাও দিয়েছি। আর এখন বলে কিনা, উনি মারা গিয়েছেন! এ ব্যাপারে জানতে হাসপাতাল-কর্তা জয় বসুকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

সন্ধ্যায় বৃদ্ধার বাড়ির লোকজন বলেন, আমরা ওই হাসপাতালের কাছ থেকে ওঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজ চেয়েছি। শাস্ত্রমতে আগে যথাবিহিত কাজগুলি করি। তারপর এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব। এফআইআর করব।

এদিকে, শনিবার বিকালে ডানকুনির যুবক সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসাকাণ্ডের প্রাথমিক রিপোর্ট নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে আসেন স্বাস্থ্যসচিব আর এস শুক্লা। প্রাথমিক তদন্তে ‘অভিযুক্ত’ হাসপাতালের দোষ প্রমাণিত হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, মমতা তাঁকে ‘অভিযুক্ত’ হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এদিন বর্ধমান এবং অন্যত্র চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলিতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সচিবকে বলেছেন মমতা।

অন্যদিকে, শনিবার দুপুরে সঞ্জয়ের মৃত্যুর ঘটনার জেরে অভিযুক্ত বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যভবনে ডেকে পাঠানো হয়। ‘অভিযুক্ত’ হাসপাতালের সিইও রাণা দাশগুপ্তসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলকে ডেকে অনেকটা মুখ্যমন্ত্রীর ঢঙেই সাংবাদিকদের সামনে সমালোচনা করেন স্বাস্থ্যকর্তারা। স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ বিশ্বরঞ্জন শতপথী বলেন, এই ঘটনায় অনেক কম খরচে চিকিৎসা করে রোগীকে বাঁচানো যেত। স্বাস্থ্যসচিব বলেন, সঞ্জয় রায়ের ঘটনায় হাসপাতালের তরফে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে। ওদের জবাবদিহিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। তদন্ত হবে। আরও কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ডানকুনির নিম্নবিত্ত পরিবারের তরতাজা যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত বহু রহস্য এদিন মিডিয়ার সামনে ফাঁস করে হাসপাতালটির হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেন স্বাস্থ্যকর্তারা। স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, বায়োকেমিস্ট্রি, ইউএসজি এবং বিভিন্ন রোগ ও রক্তপরীক্ষা বাবদ সঞ্জয়ের চিকিৎসায় বিল করা হয় ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। সাতদিনের জন্য ঘরভাড়া দেখানো হয়েছে হয় ৭৬ হাজার টাকার।

দুই স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, সঞ্জয়ের চিকিৎসায় বিল হয়েছিল ৭ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে আদায় করেছে তারও বেশি, ৭ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা! এছাড়াও ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ফিক্সড ডিপোজিটের সার্টিফিকেটও জমা রাখা হয়। বিলের টাকা না দেওয়ায় ‘অভিযুক্ত’ হাসপাতাল আশঙ্কাজনক সঞ্জয়কে পিজিতে পাঠাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা দেরি করে বলে অভিযোগ। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, ২২ তারিখ সঞ্জয়ের বাড়ির লোকজন জানান, তাঁরা রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান। ২৩ তারিখ সকালে পাঁচ হাজার, তারপর ৪১ হাজার টাকা, তারপর আরও ৫০ হাজার টাকা দেন। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দেওয়া হয় আরও ২ লক্ষ ১২ হাজার টাকা। তাতেও রোগীকে ছাড়া হয়নি। শেষে রাত ন’টার সময় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার চেক নিয়ে তবে যেতে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসচিব বলেন, এভাবে রোগীর বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে ফিক্সড ডিপোজিট বা আর্থিক বন্ড চাওয়া যায় না। আগে চিকিৎসা, পরে টাকা। আমরা আরও বিস্তারিত তদন্ত করছি।

এদিকে, শনিবারই হেলথ রেগুলেটরি কমিশন এবং ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইনের সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। ৩ মার্চ এই দুই বিল বিধানসভায় পেশ হওয়ার কথা। এতে হাসপাতালের গাফিলতিতে মোটা অঙ্কের জরিমানা এমনকী লাইসেন্স বাতিল করার সংস্থানও রাখা হয়েছে।

 

 

 





?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta