কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

৩ লস্কর জঙ্গির ফাঁসির
সাজা বনগাঁ আদালতে
ম্মু-কাশ্মীরের সেনা ছাউনিতে হামলার ছকের শাস্তি ১০ বছর পর

 

বিএনএ, বারাসত: জম্মু-কাশ্মীরের সেনা ছাউনির উপর হামলার ছক এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে জেহাদি যুদ্ধের চেষ্টা করায় ‘লস্কর-ই-তোইবা’র কাছ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই পাকিস্তানিসহ তিন জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দিল বনগাঁ মহকুমা আদালত। শনিবার এই আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-১ কোর্টের বিচারক বিনয়কুমার পাঠক এই সাজা ঘোষণা করেন। ১০ বছর পর এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাজা ঘোষণা হল। পুলিশ জানিয়েছে, সাজাপ্রাপ্তদের নাম আবদুল্লা, মহম্মদ ইউনুস এবং মুজফ্ফর আহমেদ রাঠের। আবদুল্লা ও মহম্মদ ইউনুসের বাড়ি যথাক্রমে পাকিস্তানের করাচি ও হরিপুরে। মুজফ্ফরের বাড়ি জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে।
এই মামলার সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, ২০০৭ সালের ৪ এপ্রিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা পেট্রাপোল থেকে আবদুল্লা, মহম্মদ ইউনুস এবং মুজফ্ফর আহমেদ রাঠের এবং শেখ আবদুল নইম ওরফে সমীরকে বিএসএফ জওয়ানরা পাকড়াও করে বনগাঁ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। সিআইডি এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। এই চারজনই জম্মু-কাশ্মীরের সেনা ছাউনিতে হামলার জন্য এবং ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদি যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা’র কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। এ কে-৪৭-এর মতো স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র চালানো, হ্যান্ড গ্রেনেড ছোঁড়া এবং শক্তিশালী বোমা তৈরির কৌশল তাদের শেখানো হয়েছিল। সমীরের ডেরা থেকে বোমা তৈরির তরল রাসায়নিক ‘নাইট্রোগ্লিসারিন’ উদ্ধার হয়েছিল। ধৃতরা জেরায় তা কবুলও করে। তাছাড়া, পলিগ্রাফ টেস্ট এবং নারকো অ্যানালিসিস করেও তাদের ব্রেন ম্যাপিং করা হয়েছিল।
সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, সমীর ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ। তার আদি বাড়ি মহারাষ্ট্রে। আইনেও দক্ষ ছিল সে। মুম্বই বোমা বিস্ফোরণে সে জড়িত ছিল। তদন্তের স্বার্থে ২০১৪ সালে তাকে যখন মুম্বই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ছত্তিশগড় এলাকায় সে ট্রেন থেকে পালিয়ে যায়। এখনও সে পলাতক। সে-ই হামলার মাস্টারমাইন্ড। আবদুল্লা পাকিস্তানের একজন শিক্ষক। সে ইংরেজি এবং কম্পিউটারে দক্ষ। ভারতীয় আইন সম্পর্কেও তার সম্যক জ্ঞান রয়েছে। আবদুল্লা ও ইউনুস পাকিস্তানের করাচি থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা ও পাসপোর্ট নিয়ে‌ ঢাকার একটি হোটেলে উঠেছিল। ভারতে ঢোকার জন্য তারা জাল নথি পেশ করে। এমনকী তারা নিজেদের নামে ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এমনকী ব্যাংকের পাশবইও তৈরি করেছিল। সে কাজে তাদের সমীর সাহায্য করে। তাদের মতলব ছিল কলকাতা হয়ে জম্মু ও কাশ্মীর চলে যাওয়া এবং তারপর সুযোগ বুঝে পাকিস্তান পালিয়ে যাওয়া। নিজেদের প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে কলকাতায় দীর্ঘদিন থাকার প্রয়োজন হতে পারে—এই ধারণা থেকেই ভোটার কার্ড ও অন্যান্য নথিতে কলকাতার ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে এগুলি উদ্ধার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মার্কিন ডলারও পাওয়া গিয়েছিল।
গত সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক-১ কোর্টের বিচারক বিনয়কুমার পাঠক অভিযুক্ত আবদুল্লা, মহম্মদ ইউনুস এবং মুজফ্ফর আহমেদ রাঠেরকে ১২১, ১২১-এ, ১২২ এবং ১২০-বি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। গত বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণার দিন ছিল। ওইদিন সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বিচারককে বলেন, ১২১ ধারায় সর্বনিম্ন সাজা যাবজ্জীবন এবং সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি। আপনি ওই ধারায় এদের তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাই আমি তিনজনেরই ফাঁসি চাইছি। বিচারক ওইদিন ইউনুস এবং আবদুল্লার বয়ান শোনার পর বলেন, আগামী শনিবার সাজা ঘোষণা হবে। সেই মতো এদিন দুপুর ২টো নাগাদ বনগাঁ মহকুমা আদালতের এজলাসে হাজির করা হয় দোষী সাব্যস্ত হওয়া তিনজনকে। বিচারক বিনয়কুমার পাঠক ১২১ ধারায় তিনজনেরই সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।
সরকারপক্ষের আইনজীবী সমীর দাস বলেন, জঙ্গিরা সারা পৃথিবীর শত্রু। মৃত্যুদণ্ডই এদের একমাত্র শাস্তি। সেটা মঞ্জুর হওয়ায় আমি খুশি। এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী সুব্রত বসু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি, যে কারণে ১২১ ধারা দেওয়া যায়। মামলার তদন্তকারী অফিসার নিজেও তা স্বীকার করেছেন। তাই এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন জানানো হবে।

 

 

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta