কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার
আবশ্যিক হবে না: সুপ্রিম কোর্ট


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: সামাজিক সুরক্ষা তথা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। এই সংক্রান্ত এক শুনানিতে আজ একথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আধার সংক্রান্ত মামলায় চূড়ান্ত রায়দানের আগে সরকার যেন নাগরিকদের এব্যাপারে বাধ্য না করে, সুপ্রিম কোর্ট আজ স্পষ্ট ভাষায় এই অভিমতই জানিয়েছে।

দেশবাসীর মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত ব্যক্তিগত তথ্যাবলী তথা গোপনীয়তাকে বিপজ্জনকভাবে প্রকাশ করে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠছে আধার কার্ড। কারণ আধার কার্ড সরকারি প্রকল্প হলেও ব্যক্তিগত তথ্য গ্রহণ থেকে বায়োমেট্রিক পরিচিতি নিয়ে আধার কার্ড ইস্যু করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলিকেই। এভাবেই প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী বেসরকারি হাতে যাচ্ছে। এই কারণেই আধার কার্ড আদৌ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয় বলে আরজি জানানো এক আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আজ জানিয়েছে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পেতে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। আগেও এই মর্মে সুপ্রিম কোর্ট একই অবস্থান জানিয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে কবে শুনানির দিন ধার্য হবে তা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত কোনও আশ্বাস দেয়নি। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সাতজন বিচারপতিকে নিয়ে একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন। তবে এখনই সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারও যেন সব সামাজিক প্রকল্পে আধার কার্ড লাগবে এরকম কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে। যদিও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু করা, প্যান কার্ড ইস্যু করা, আয়কর রিটার্নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সরকার আধার ব্যবহারের নিয়ম চালু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতেই পারে বলে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে। কিন্তু নিছক আধার কার্ড নেই বলেই জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্পগুলি থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যাবে না। উল্লেখ্য, মমতা প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের আধার সক্রিয়তা নিয়ে সরব। তিনি একাধিকবার চ্যালেঞ্জ করেই বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের ব্যর্থতার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আধার কার্ড দিতেই পারেনি। তাই আধার কার্ড না থাকলে সরকারের ভরতুকি প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে ফরমানও মেনে নেওয়া যাবে না। মমতার সুরেই এরপর গত অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল আগে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি নাগরিকের হাতে আধার কার্ড আছে। তারপরই সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সঙ্গে আধার থাকার বাধ্যবাধকতাকে যুক্ত করা যাবে। তার আগে নয়। এরপরই নতুন করে যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে সেটি হল, অচেনা অজানা বেসরকারি সংস্থাগুলিকে আধার কার্ডের দায়িত্ব দেওয়া। ঩সেইসব সংস্থা নাগরিকদের থেকে তাবৎ নথিপত্র আদায় করছে, বায়োমেট্রিক পরিচিতিও নিয়ে নিচ্ছে। এমনকী টাকা দিয়ে আধার কার্ড করে দেওয়া শুরু হয়েছে। আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এভাবে নিজেদের গোপনীয়তাই অচেনা অজানা সংস্থার কাছে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। আজ রাজ্যসভা সীতারাম ইয়েচুরি, কপিল সিবালরা এই নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন। বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (রাইট টু প্রাইভেসি) খর্ব হচ্ছে। এটা আদতে একনায়কতন্ত্রেরই পদধ্বনি। যদিও শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের উপরই নির্ভর করবে আধার কার্ডের পরিধি কতটা প্রসারিত হবে।

 

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta