কলকাতা, মঙ্গলবার ২৮ মার্চ ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

বাবাকে মেরে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে
ধর্ষণ করে খুন উসকে দিল সুটিয়ার স্মৃতি

বিএনএ, গাইঘাটা: খাটের উপর পড়ে রয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর অর্ধনগ্ন মৃতদেহ। কোমর থেকে তাঁর পা দু’টি খাটের নীচে ঝুলছে। মুখে গ্যাঁজলার চিহ্ন। মেঝের উপর কাত হয়ে পড়ে রয়েছে বৃদ্ধ বাবার মৃতদেহ। তাঁর মুখ ও নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের ছবি। রক্ত পড়ে রয়েছে মেঝেতেও। ডান চোখে কালসিটে দাগ। গাইঘাটার সুটিয়া গ্রাম থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে গাজনা তেঘড়িয়া গ্রামে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করার পর, তাঁর বাবাকেও খুন করে দুষ্কৃতীরা। এই নৃশংস ঘটনার পর যেন নতুন করে উসকে দিল সুটিয়ার দগদগে স্মৃতি।

মৃতদের নাম বাবা পরিতোষ দে (৬৫) এবং মেয়ে টিংকু ওরফে টিয়া দে (২২)। গাজনা বাজারের মূল রাস্তা থেকে ১০০ মিটার দূরে তাঁদের বাড়ি। টালির ছাউনির নীচে একচিলতে মাথা গোঁজার জায়গা। পিছনের দিকে ফাঁকা মাঠ। কোনও জনবসতি নেই। বাড়িতে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। দোকানে জল দেওয়া, অনুষ্ঠানে বাসনপত্র ধোয়ার কাজ করে সামান্য ক’টা টাকা রোজগার করতেন পরিতোষবাবু। তা দিয়েই কোনওরকমে খেয়েপরে থাকতেন। বছর ছ’য়েক আগে পরিতোষবাবুর স্ত্রী মারা গিয়েছেন। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রুম্পার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট মেয়ে টিয়া তাঁর কাছে থাকতেন। পরিবারের দাবি, টিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মাস দু’য়েক ধরে তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাও শুরু হয়। নিজে হাঁটতেও পারতেন না। সারাদিন বাড়িতে একাই থাকতেন।

প্রতিবেশী বারিসন বিবি শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত পরিতোষবাবুকে শেষবার দেখেছেন। তখন তিনি বাড়িতে ফিরছিলেন। রবিবার সারাদিন তাঁদের কেউ দেখেননি। ওইদিন রাত ৯টা নাগাদ বারিসন বিবি এবং অন্য প্রতিবেশীরা কৌতূহলবশত তাঁদের ঘরে গিয়ে দেখেন, বাড়িতে বিদ্যুতের মেন সুইচ অফ। ঘরের দরজায় ভিতর থেকে খিল নেই। দরজা ভেজানো রয়েছে মাত্র। অর্ধনগ্ন অবস্থায় টিয়ার মৃতদেহ এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পরিতোষবাবুর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার পুলিশ এবং বনগাঁর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অনিল রায় ঘটনাস্থলে আসেন। গ্রামের লোকজন ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ তুলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। রাত ১টা নাগাদ মৃতদেহ উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার বিকালে পরিতোষবাবুর বড় মেয়ে রুম্পা সিকদার গাইঘাটায় খুন ও ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কিন্তু, কেন এই ঘটনা ঘটল? প্রতিবেশীদের দাবি, গরিব-নিরীহ পরিতোষবাবুর কোনও শত্রু ছিল না। প্রতিবেশীদের অনুমান, শনিবার রাতেই মেয়েকে ধর্ষণ করতে বাড়িতে ঢুকেছিল দুষ্কৃতী। পরিতোষবাবু জেগে যাওয়ায় তাঁকে প্রথমে খুন করে। ধর্ষণের পর তাঁর মেয়েকেও খুন করে পালিয়ে যায়। টিয়ার মামি শীলা ভৌমিক বলেন, বছরখানেক আগেও রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে এক ব্যক্তি টিয়াকে ধর্ষণ করেছিল। পরিতোষবাবুকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। ওইদিন রাত দেড়টা নাগাদ টিয়া আমাদের বাড়িতে (অল্প দূরেই) দৌড়ে এসেছিল। জামা-কাপড় ছেঁড়া এবং শরীর থেকে তখন রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আমরা যখন ঘটনাস্থলে যাই ততক্ষণে ওই ব্যক্তি চম্পট দেয়। পরেও আবার টিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। বাধা দেওয়ায় টিয়ার চোখে পেন দিয়ে খুঁচিয়ে দিয়েছিল। আমরা অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ওই ব্যক্তি কে? কিন্তু, ওদের প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়েছিল বলে কিছু বলেনি। থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেনি। তিনি বলেন, এবার ধর্ষণ করে একসঙ্গে দু’জনকেই খুন করে দিল।

পরিতোষবাবুর বড় মেয়ে রুম্পাদেবী বলেন, এই নৃশংস ঘটনা যে ঘটিয়েছে তার কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি চাই। যাতে এই ধরনের ঘটনা আর কোথাও না ঘটে।

এদিকে, কীভাবে খুন করা হয়েছে তা জানা যায়নি। শ্বাসরোধ নাকি বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর না মিললে মৃতদেহ দু’টি ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, পরিবারের লোকজন ধর্ষণ ও খুনের একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোনারপুরে গুলি করে ছিনতাই, জখম কারখানার ম্যানেজার

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তির মাথায় আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে আঘাত করল দুষ্কৃতীরা। এখানেই শেষ নয়, তাদের পিছনে যাতে কেউ ধাওয়া না করে তার জন্য চম্পট দেওয়ার সময় দু’রাউন্ড গুলিও চালায় তারা। একটি গুলি ওই ব্যক্তির পা ছুঁয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। সোমবার সাতসকালে ঘটনাটি ঘটে সোনারপুর থানার দিঙ্গেলপোঁতায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নামে গোপালচন্দ্র হালদার। তিনি ক্যানিংয়ের তালদির রাজাপুরের বাসিন্দা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর মাথায় ১৮টি এবং পায়ে তিনটি সেলাই পড়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপালবাবু বনহুগলি গ্রাম পঞ্চায়েতে দিঙ্গেলপোঁতার এলাকার একটি কাপড়ের কারখানার ম্যানেজার। প্রতিদিনই তিনি বাইকে তালদি থেকে কারখানায় আসেন। তাঁর সঙ্গে একটি ব্যাগও থাকে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই ব্যক্তি যে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যান, তা দুষ্কৃতীরা আগেই জানত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে গোপালবাবু নিত্যদিনের মতো বাইকে করে কারখানায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিনজন দৃষ্কৃতী তাঁর বাইক সামনে এসে দাঁড়ায় এবং তাদের মধ্যে দু’জন গোপালবাবুর পিঠে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যাগটি দিতে বলে। কিন্তু গোপালবাবু তা না দিলে তারা তাঁর ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। গোপালবাবু তাতে বাধা দিলে তাঁর মাথায় দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে সজোরে আঘাত করে। গোপালবাবু রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় গোপালবাবু তাও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুষ্কৃতীরা তাঁর উপরে চড়াও হয়ে মারধর করতে থাকে। এরপর ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে গোপালবাবুর বাইক নিয়েই চম্পট দেয়।

তবে পালানোর আগে তারা গোপালবাবুকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। যার মধ্যে একটি গোপালবাবুর পা ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। পুলিশের কাছে গোপালবাবু জানিয়েছেন, ওই ব্যাগে নগদ পাঁচ-ছ’হাজার টাকা ছিল। কারখানার শ্রমিকদের বেতনের টাকা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের মনে হয়েছিল, ওই ব্যাগে আরও বেশি টাকা থাকবে। তাই একেবারে প্রস্তুতি নিয়েই জনবহুল এলাকায় এই হামলা চালায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকায় খোঁজখবর শুরু করেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। বারুইপুরের পুলিশ সুপার সৈকত ঘোষ জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীরা দ্রুত ধরা পড়বে।

হাওড়ার বাজেট আলোচনায় ফের ধাক্কাধাক্কি, হইচই

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া পুরসভার বাজেট অধিবেশনে প্রতিবারই বিরোধীদের মারধর, ধাক্কাধাক্কি করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই অভিযোগ তুলে বিজেপি আগেই বাজেটের ওপর আলোচনা বয়কট করে সোমবার গরহাজির ছিল। বিরোধী বলতে সিপিএমের দুই কাউন্সিলার এদিন বাজেট বিতর্কে হাজির ছিলেন। তার মধ্যে সিপিএমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আসরাফ জাভেদ বলতে উঠতেই তাঁকে রে রে করে তেড়ে আসেন তৃণমূলের মেয়র পরিষদ সদস্য থেকে কাউন্সিলাররা। অভিযোগ, তৃণমূলের বালির কাউন্সিলার রেয়াজ আহমেদ কান মুলে দেন আসরাফ জাভেদের। বালির আর এক কাউন্সিলার তাঁকে চড়থাপ্পড়ও মারেন বলে অভিযোগ। অন্যরা তাঁর হাত থেকে কাগজপত্র কেড়ে নেন।

জাভেদ অধিবেশনকক্ষেই পড়ে গিয়ে প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তৃণমূলের অন্য কাউন্সিলাররা তাঁর চোখেমুখে জলের ঝাপটা দিয়ে তাঁকে তুলে চেয়ারে বসিয়ে দেন। তখনও সমানে তাকে লক্ষ্য করে তৃণমূলের মারমুখি ওই কাউন্সিলারদের হম্বিতম্বি চলে। শেষে প্রতিবাদস্বরূপ জাভেদ এবং অপর সিপিএম কাউন্সিলার আজহার আলি মিদ্দে বাজেট বিতর্ক বয়কট করে অধিবেশনকক্ষ ছেড়ে চলে যান। কাউন্সিলার জাভেদ তাঁকে মারধর এবং চূড়ান্তভাবে নিগৃহীত করার ব্যাপারে কাউন্সিলার প্রাণকৃষ্ণ মজুমদার, রেয়াজ আহমেদ সহ আরও কয়েকজনের নাম করেন।

যদিও মেয়র পরিষদ সদস্য দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়, বিভাস হাজরারা বলেন, কানমুলে দেওয়া বা চড়থাপ্পড় কিছুই হয়নি। উনি নিজেই অধিবেশনকক্ষে বসে পড়ে অজ্ঞান হওয়ার নাটক করেন। মেয়র রথীন চক্রবর্তী বলেন, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওরা হাওড়া পুরসভার এই উন্নয়ন স্বপ্নেও ভাবেনি। উত্তর হাওড়ার ভৈরব দত্ত লেনে টেকনো ইন্ডিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হবে। পৌনে ৬ একর জমি রয়েছে। ৪০ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিশাল ভবন (আলো) রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভরতি নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগচ্ছি। শরৎ সদনে ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল স্টাডিজ’ এবং ‘প্ল্যানেটরিয়াম’ তৈরি হবে। আমরা শুধু জল, নিকাশি, আলো, রাস্তার উন্নয়নে নিজেদের আটকে রাখতে চাই না। সে কারণেই একটার পর একটা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বেলগাছিয়া ভাগাড়কে ডোমজুড়ে নিয়ে সেখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প গড়ে তোলা, বেলুড় শিল্পতীর্থ, হাওড়া স্টেশন চত্বরকে নতুন করে উন্নয়নের মোড়কে বেঁধে দেওয়া সহ নানান পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্লোরে বসে পড়ে নাটক করে এসব আটকানো যাবে না বলে মেয়র বলেন।

সেলুনে আগে লাইন নিয়ে মারধর বিজেপি কর্মীকে, অভিযুক্ত তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সেলুনে কার চুল-দাড়ি আগে কাটা হবে, তাই নিয়ে বচসা থেকে মারপিট। শেষে বিজেপি কর্মী তথা পাইপলাইনের মিস্ত্রি সন্তু গুড়েকে এমনভাবে মারা হয় যে তাঁর একটি চোখ নষ্ট হতে বসেছে। বাঁ চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি চোখে প্রায় দেখতেই পাচ্ছেন না। শনিবার রাতে উলুবেড়িয়া থানার কানসোনা গ্রামের খড়িয়া ময়নাপোলের বাসিন্দা সন্তুকে বেধড়ক মারা হয়। তিনি এখনও উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার এ ব্যাপারে উলুবেড়িয়া থানায় স্থানীয় বাসিন্দা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী তথা সিভিক ভলান্টিয়ার দিব্যেন্দু বকসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সন্তুবাবুর স্ত্রী স্বপ্না গুড়ে বলেন, তাঁদের সদ্যোজাত সন্তানের ষষ্ঠী পুজো উপলক্ষে তাঁর স্বামী পাড়ার সেলুনে চুল-দাড়ি কাটাতে যান। সেলুনের চেয়ারে তিনি বসতেই ওই সিভিক ভলান্টিয়ার দিব্যেন্দু বকসি এসে দাবি করেন, তিনি অনেক আগে লাইন রেখে গিয়েছেন, তাই তিনি আগে চুল কাটাবেন। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা। তাঁর স্বামী চেয়ার ছেড়ে উঠতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে সেলুন থেকে টেনে বের করে এলোপাথাড়ি ঘুসি মারা হয়। তাতেই তাঁর স্বামীর বাঁ চোখটি প্রায় নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বাড়িতে বৃদ্ধ শ্বশুর হৃদরোগে ভুগছেন। ছেলের এই হাল শুনে তাঁর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। স্বামী হাসপাতালে, আমি এখন শিশু সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। দিব্যেন্দু বকসি একদিকে সিভিক ভলান্টিয়ার, তার উপর তৃণমূল কর্মী, ফলে পুলিশও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি পুলক রায় বলেন, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিয়য়। অহেতুক এর মধ্যে রাজনীতিকে টেনে আনা হচ্ছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের
অভিযোগ এনে ফেসবুকে আত্মহত্যার হুমকি

বিএনএ, বারাকপুর: বারাকপুর স্বামী বিবেকানন্দ স্টেট পুলিশ আকাদেমির ডিরেক্টর কে জয়রামনসহ দু’জন অফিসারের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে আত্মহত্যা করার হুমকি দিলেন এক গ্রুপ ডি কর্মী। ওই কর্মীর নাম শুভজিৎ চক্রবর্তী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ এনে গত পাঁচদিন আগে তিনি ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন। ফেসবুকে আড়াই মিনিটের বক্তব্যে তাঁর যাবতীয় সমস্যার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয় আইপিএস কে জয়রামন, ইনসপেক্টর সুজিত দাস যে তাঁকে মানসিক নির্যাতন চালাতেন, সেই কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এ কারণে আত্মহত্যা করা ছাড়া তাঁর অন্য কোনও উপায় নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে সাহায্য করার জন্য একটি ফোন নম্বরও তিনি দিয়েছেন। গত ১২ মার্চ আইপিএস মির্জা সাহেব সহ দু’জন অফিসারের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ এনে এক সাব ইনসপেক্টর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।

শুভজিতের বাড়ি বীরভূমের তারাপীঠের কাছে কড়কড়িয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি দেশের বাড়িতে সপরিবারে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে তিনি গ্রুপ ডি কর্মী হিসাবে কাজে যোগ দেন। বাবা পুলিশ বিভাগে এএসআই ছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর পর তিনি এই চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁর কাজ ছিল, ঘোড়ার দেখাশোনা করা। ২০১৫ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় একটি ঘোড়া কোনওভাবে তাঁর শরীরের উপর পড়ে যায়। তিনি কোমরে চোট পান। বিএন বসু হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়। তিন দিন পর ছেড়ে দিলেও কোমরে ব্যথা তাঁর আর কমেনি। অন্য চিকিৎসকদের দেখিয়ে জানতে পারেন, হাড়ে চিড় ধরেছে। তিনি বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। পুলিশ হাসপাতাল থেকে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। হালকা কাজ করার কথা বলা হয়। কিন্তু, কাজে যোগ দেওয়ার সময় ওই ইনসপেক্টর ভারী কাজ করার জন্য বলেন।

তাঁর অভিযোগ, ভারী কাজ করার ক্ষমতা আমার ছিল না। ফলে, কাজে যোগ দিতে পারিনি। গত দু’বছর ধরে বিনা বেতনেই আমি রয়েছি। আমার আট বছরের সন্তান রয়েছে। অর্থাভাবে আমার ছেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি বারাকপুর কোয়ার্টারে ছিলাম। সেখানে টাকার অভাবে আর থাকা হয়নি। এখন আমি দেশের বাড়িতে চলে এসেছি।

তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন জায়গায় সুবিচারের আশায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। আমাকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। তারা আমাকে হালকা কাজ করার পরামর্শ দেয়। সেই রিপোর্ট আমি সাহেবের কাছে জমা দিই। কিন্তু, তিনি আমাকে ঘোড়া দেখভালের মতো ভারী কাজ করার জন্যই বলেন। আমি আমার সমস্যার কথা জানালেও কোনও কাজ হয়নি। তাই সুবিচার পাওয়ার আশায় আমি ফেসবুকে পোস্ট করেছি। যাতে আধিকারিকরা দেখে আমার সঙ্গে চলা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। কেউ কিছু না করলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর উপায় নেই।

আবাসনের বিদ্যুৎ অন্য কাজে ব্যবহার করার প্রতিবাদী মহিলাকে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আবাসনের কমন মিটার থেকে অন্যায়ভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে তা অন্যত্র ব্যবহার করতে দেখে সেখানকারই বাসিন্দা মালিয়া দেববর্মন প্রতিবাদ করেছিলেন। আর সেকারণেই তাঁকে শ্লীলতাহানিসহ মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রোমোটার রাজীব দাস এবং কেয়ারটেকার কিংশুক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। শনিবার আক্রান্ত ওই মহিলা সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর গড়িয়ার ক্যানাল রোডস্থিত একটি আবাসনে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩৫ বছর ধরে ওই আবাসনে থাকেন মালিয়াদেবী। গত শনিবার দুপুর তিনটে নাগাদ মেয়েকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার সময় তিনি দেখেন, আবাসনের কমন মিটার থেকে বিদ্যুৎ টানা হচ্ছে। যার কারণ জিজ্ঞাসা করে প্রতিবাদ জানাতেই অভিযুক্ত দু’জন প্রথমে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। মালিয়াদেবীর কথায়, কমন মিটার থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে আবাসনের পাশের একটি ফাঁকা জমিতে পাথর কাটার কাজ করছিল। তারই প্রতিবাদ করেছিলাম আমি। পাশাপাশি, তিনি জানান, ফ্ল্যাটের উপরে জল নিয়ে যাওয়ার জন্য এই কমন মিটারের টাকা তিনমাস আমি একা দিয়েছি। তাহলে কেন এই মিটার থেকে আমাকে জিজ্ঞাসা না করে বিদ্যুৎ টানা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। সেকারণেই আমাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। ঘটনার পর তিনি সুভাষগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। সেখান থেকে ফিরে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও শনিবার অভিযোগ দায়ের হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবাসিকদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে আগেও ওই মহিলার নানা বিষয়ে ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে শহরে তিনটি মিছিল করবে তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারদকাণ্ড নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক মোকাবিলাও করবে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশ মেনে এবার ‘প্রতিহিংসার’ রাজনীতির প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে আগামী ৩০ মার্চ থেকে তিনদিন কলকাতার তিন প্রান্ত থেকে তিনটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

নোটবন্দির সিদ্ধান্তের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে প্রথম জেহাদ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। দেশজোড়া সেই প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন মমতা। ঘটনাচক্রে এই সময়েই চিটফান্ড কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্ত গতি পায়। যার জেরে তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাপস পালকে রোজভ্যালিকাণ্ডে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। মমতার দাবি, নোটবন্দি নিয়ে সরব হওয়ায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা সিবিআইকে সেই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূলের মতে, তার ফলেই সুদীপবাবুদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তখনই মমতার নির্দেশে পথে নেমে বিজেপির ‘প্রতিহিংসার রাজনীতির’ বিরুদ্ধে মিছিল থেকে সল্টলেকের সিবিআই দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল।

সম্প্রতি আদালতের রায়ে নারদকাণ্ড নিয়ে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, গত বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূলকে অপদস্থ করতে কেন্দ্রের শাসক দল যে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারই অঙ্গ এই নারদ স্টিং অপারেশন। এর বিরুদ্ধে আদালতের পথে যেমন লড়াই হবে, তেমনই রাজনৈতিকভাবেও তৃণমূল মোকাবিলায় নামবে বলে ঘোষণা করেছিলেন মমতা। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৩০ মার্চ দুপুর ২টোয় কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যে মিছিল হবে, তার নেতৃত্বে থাকবেন দলের মহিলা শাখার সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পরের দিন শুক্রবার তৃণমূলের কলকাতা জেলা সভাপতি মেয়র তথা মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল হবে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত। ৩ এপ্রিল তৃণমূল যুব কংগ্রেস মিছিল করবে যাদবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত। বিজেপির ‘প্রতিহিংসার রাজনীতিকে’ ধিক্কার জানানোই এই মিছিলের প্রধান উদ্দেশ্য বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ মার্চ নারদকাণ্ডে অভিযুক্ত সমস্ত বিধায়ক, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শহরে মহামিছিলের ডাক দিয়েছে রাজ্য বামফ্রন্ট। ওই দিন বিকালে ধর্মতলা থেকে শুরু হয়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত মিছিল করবে বামেরা। এর আগে একই ইস্যুতে প্রথমে বিজেপি এবং পরে প্রদেশ কংগ্রেসও মিছিল করেছিল।

তৃণমূল নেতার ‘হুকুমে’ ফেরাল পুলিশও
পছন্দের লোককে ফ্ল্যাট বিক্রির চাপ কাউন্সিলারের, মালিককে মারধর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাউন্সিলারের পছন্দের খরিদ্দারকে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হবে। তা না করায় এক ব্যক্তিকে মারধর করল কাউন্সিলারের লোকজন। এমনই ঘটনা ঘটেছে বাগুইআটির অর্জুনপুরে। অভিযুক্ত বিধাননগর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অনুপম মণ্ডল। আবার এই নিয়ে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে থানার ডিউটি অফিসার শুধুমাত্র জেনারেল ডায়েরি নিয়েই দায় সেরেছেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার অনুমতি না পাওয়া গেলে এফআইআর করা হবে না বলেও ওই ডিউটি অফিসার জানিয়ে দেন ওই ব্যক্তিকে। পুলিশ-প্রশাসনের সাহায্য না পেয়ে ওই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে দেখা করে অভিযোগ জানিয়েছেন। অবিলম্বে এই নিয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগুইআটিতে নতুন করে প্রোমোটারিরাজ ও সিন্ডিকেটরাজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বলেই স্থানীয় লোকজন মনে করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত মাস কয়েক আগে। অর্জুনপুরের বাসিন্দা সঞ্জীবকুমার দেব ও তাঁর স্ত্রী স্বাগতা দেবের শ্বশুরের জমিতে একটি ফ্ল্যাট তৈরি হয়। ওই ফ্ল্যাটের প্রোমোটার ছিলেন কাউন্সিলার অনুপম মণ্ডল। শর্ত অনুযায়ী জমির মালিক তিনটি ফ্ল্যাট পান। স্বাগতাদেবী বলেন, আমরা ঠিক করেছিলাম, দু’টি ফ্ল্যাট আমরা রেখে দেব ও একটি বিক্রি করে দেব। সেইমতো আমরা ক্রেতার খোঁজ শুরু করলাম। একজনের সঙ্গে কথা প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল। তিনি আমাদের ফ্ল্যাটের দাম বাবদ এক লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা অগ্রিমও দেন। কিন্তু, তাঁর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত কোনও কারণে তিনি ফ্ল্যাট নিতে পারছিলেন না। এই সময় অনুপম মণ্ডল আমাদের বলেন, তাঁর পছন্দের খরিদ্দারকেই ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হবে। স্বাগতাদেবী বলেন, আমি এর প্রতিবাদ করি। আমি বলি, আমরা আমাদের ইচ্ছামতো ফ্ল্যাট বিক্রি করব। এই নিয়ে আপনার বলার তো কিছু নেই! কিন্তু, অনুপমবাবু আমাদের বলেন, অন্য কাউকে ফ্ল্যাট বিক্রি করা যাবে না। আমরাও জানিয়ে দিই, আমাদের ইচ্ছমতো ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে।

স্বাগতাদেবীর অভিযোগ, এরপর আমি বাড়িতে ছিলাম না। সেই সময় কয়েকজন লোক এসে আমার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে। আমার স্বামী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে, সেখানকার ডিউটি অফিসার আমাদের জানান, জেনারেল ডায়েরি নিচ্ছি। এরপরই এক তৃণমূল নেতাকে তিনি ফোনে ধরেন। তাঁর সঙ্গে তিনি কথা বলে কেস করবেন কি না জিজ্ঞাসা করেন। ওই তৃণমূল নেতাকে আমাকে এরপর ফোনে বলেন, কেস করা হবে না। আপনি বাড়ি চলে যান। আর অনুপমবাবু যা বলেছেন, সেইমতো কাজ করুন। এরপর বাগুইআটি থানা আর এফআইআর করেনি।

এরপর স্বাগতাদেবী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার জ্ঞানবন্ত সিংকে চিঠি লিখে বিস্তারিত জানান। কিন্তু, কোনও কাজ না হওয়ায় সোমবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ে অভিযোগ জানাতে যান। সেখানে সব কাগজপত্র তিনি জমা দেন। স্বাগতাদেবী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বলছেন, প্রতিটি অভিযোগ থানাকে নিতে হবে। কাউন্সিলারদের সঙ্গে কোনও প্রোমোটার বা সিন্ডিকেটের যোগ রাখা যাবে না। সেখানে এখানে একজন কাউন্সিলারই প্রোমোটারি করছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর কথা না শোনায় লোক পাঠিয়ে তিনি মারধর করছেন, হুমকি দিচ্ছেন। তাই আমরা এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছি।

যদিও অভিযুক্ত কাউন্সিলার অনুপম মণ্ডল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ছোটখাট প্রোমোটারি করি। এটা তো কোনও অন্যায় নয়। আমি কাউকে হুমকি দিইনি। ওই মহিলা কেন অভিযোগ করছেন তা তিনিই জানেন। যদি কোনও ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? আমি কোনও পছন্দের খরিদ্দার পাঠাইনি। ওঁর ফ্ল্যাট যাকে খুশি বিক্রি করতে পারেন। তাছাড়া যাঁদের সঙ্গে গোলমাল হয়েছিল, তাঁরা আমার পরিচিত মাত্র। আমার ঘনিষ্ঠ বলে নয়। আমার নামে অহেতুক বদনাম করা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, বাগুইআটি থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ফের কাঠগড়ায় বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের কাঠগড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল। কবিতা ঘোষ নামে স্ট্রোক আক্রান্ত এক রোগিণীর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল ই এম বাইপাস লাগোয়া ওই বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। বেলঘরিয়ার বাসিন্দা কবিতাদেবীর আত্মীয়া মৌমিতা বারিক ও অন্যদের অভিযোগ, সোমবার বেলায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগিণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে সদ্য চালু হওয়া ‘স্বাস্থ্যসাথি’ প্রকল্পের কার্ড ছিল। সেখানে তালিকাভুক্ত হাসপাতালের মধ্যে ওই হাসপাতালের নাম থাকা সত্ত্বেও বিমা প্রকল্পের অধীনে রোগিণীকে ভরতি করা হয়নি। উলটে আর পাঁচজন সাধারণ রোগিণীর মতো ভরতি করে চিকিৎসা করাতে মোটা টাকা দাবি করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। আনন্দপুর থানা থেকে পুলিশবাহিনী আসে। কিছুক্ষণ পর রোগিণীকে কাছাকাছি আর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাপস মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘স্বাস্থ্যসাথি’ প্রকল্পে আমাদের হাসপাতালের নাম নথিভুক্ত করা হয়নি। রোগিণীকে সমস্ত ধরনের জরুরি পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। টাকা চাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল খরচ, গ্যারাজে বন্দি বাম
আমলে কেনা জঞ্জাল সাফাইয়ের বিদেশি মেশিন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে বিগত বাম আমলে কলকাতা পুরসভা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কিনেছিল জঞ্জাল সাফাইয়ের অত্যাধুনিক যন্ত্র। কিন্তু যে কারণে তা কেনা হয়েছিল, সেই কাজে কার্যত ব্যবহারই করা হয়নি। মেশিনগুলির কোনওটি পুরসভার গ্যারাজে বন্দি, আবার কোনওটি নাম কে ওয়াস্তে ব্যবহার করা হয়। পড়ে পড়েই নষ্ট হচ্ছে এই মহার্ঘ মেকানিক্যাল সুইপার। পুরকর্তাদের কথায়, মেশিনগুলির যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়। ফলে এগুলি খারাপ হলেও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনার পক্ষপাতী নয় পুর প্রশাসন। আর সেকারণেই কেনা মেশিনগুলির মধ্যে দু’-তিনটি বাদে বাকি সবক’টি গ্যারাজে অচল করে ফেলে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়টি সিএজি’র নজরেও আসে। যার জেরেই প্রশ্ন উঠেছে, বাম আমলে এই জঞ্জাল সাফাইয়ের যন্ত্র কেনার সময় কেন, এগুলির যন্ত্রাংশ সম্পর্কে বিবেচনা করা হল না?

শহরের রাস্তা সাফাইয়ের জন্য ২০০৫ সালে কেনা হয়েছিল অত্যাধুনিক মেকানিক্যাল সুইপার মেশিন। সেগুলি ভালোভাবে ব্যবহার না করেই পরবর্তীকালে ২০০৭ সালে আরও দু’টি বড় এবং ছ’টি মাঝারি আকারের মেকানিক্যাল সুইপার কেনা হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, তৎকালীন জঞ্জাল অপসারণ প্রক্রিয়া বিভাগের আধিকারিকরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই মেশিনগুলি ঠিকভাবে ব্যবহারে অনেক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে কেন বারবার এই বিদেশি মেশিন কেনা হচ্ছে? যদিও তাঁদের সেই বক্তব্যকে গুরুত্বই না দিয়েই ২০০৮ সালে আরও তিনটি বড় মেকানিক্যাল সুইপার কেনা হয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে পাওয়া কেইআইপি প্রকল্পের ঋণের টাকাতেই কেনা হয় সেগুলি। বিভাগের এক প্রাক্তন কর্তার কথায়, এই মেশিনগুলির জটিলতার কথা সেই সময়ই কর্তাদের নজরে আনা হয়েছিল। তখন তাঁদের ব্যাখ্যা ছিল, এই মেশিন আগামী ২৫ বছর টানা কাজ করতে সক্ষম। তাই এখনই এগুলির যন্ত্রাংশ নিয়ে না ভাবলেও চলবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এক-দেড় বছর চলতে না চলতেই একের পর এক মেশিন বিকল হতে শুরু করে। কিন্তু কোষাগারের বেহাল অবস্থার জেরে সেগুলি মেরামতে তৎকালীন পুরকর্তারা আর বিশেষ তৎপরতা দেখাননি।

পুরসভার জঞ্জাল সাফাই বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মেকানিক্যাল সুইপার মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালাতে গিয়ে ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রির অবস্থা হয়েছে। পুরকর্তাদের নজরে আসে, একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে এই মেশিনগুলির যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে লক্ষ লক্ষ টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে পুর কোষাগার থেকে। দেশে না মেলায় সুদূর জার্মানি থেকে দিনের পর দিন এই যন্ত্রাংশ আমদানি করছিল পুর প্রশাসন। অথচ, এগুলির কার্যকারিতাও খুব একটা আহামরি নয়। এরপরই বিভাগের তরফে এই মেশিনগুলি সম্পর্কে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হয়। যেখানে সরাসরি বলা হয়েছিল, অযৌক্তিক কারণে এই মেশিনগুলি কেনা হয়েছিল। মেশিনগুলি বিকল হলে সেগুলির যন্ত্রাংশ কোথা থেকে পাওয়া যাবে, তার কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঝক্কি আর বয়ে চলা সম্ভব নয়। এরপরই দু’-তিনটি যন্ত্র সক্রিয় রেখে বাকিগুলিকে বসিয়ে দেওয়া হয়।

বিভাগীয় এক কর্তার কথায়, দুটি বা তিনটি মেকানিক্যাল সুইপার ইএম বাইপাস, জওহরলাল নেহরু রোড, সিআর অ্যাভেনিউতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কলকাতার রাস্তার সঙ্গে এগুলি ততটা মানানসই নয়। আর সেকারণেই এই মেশিন দিয়ে রাস্তা সাফাই করার পরেও লোক নিয়োগ করে ঝাঁট দিতে হয়। একই কাজের জন্য দু’বার টাকা ব্যয় চান না পুরকর্তারা। তাই বাকি মেকানিক্যাল সুইপারগুলির স্থান হয়েছে আপাতত বন্ধ গ্যারাজে।

পুকুরে খুলি, হাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জলাশয় সংস্কার করতে নেমে উদ্ধার হল হাড়গোড় এবং খুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁশদ্রোণী থানার সাউথএন্ড রোডে। এখানেই শেষ নয়, জলাশয়ের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছে পুরুষের পোশাক এবং এক জোড়া চপ্পল। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় গিয়ে ওই হাড়গোড়, খুলি এবং পোশাক-চপ্পলটিকে ফরেনসিক করার জন্য নিয়ে যায়। ঘটনাপ্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, সাউথএন্ড এলাকার বাসিন্দা প্রসূন রায়ের বাড়ির সীমানার মধ্যেই এই জলাশয়। প্রসূনবাবুরা ছয় ভাই। যদিও তাঁরা সেই বাড়িতে কেউ থাকেন না। ভগ্নপ্রায় বাড়িটিতে একজন ভাড়াটিয়া থাকেন। দীর্ঘ সময় জলাশয় সংস্কার না হওয়ায় সেটি কচুরিপানায় ভরে যায়। এদিন সেটির সংস্কার করতে লোক নামানো হয়। তাঁরা কাজ করার সময় জলাশয়ের মধ্যে থেকে দু’টি হাড় খুঁজে পান। যা দেখে কর্মীরা ভয় পেয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে লোক নামিয়ে একটি খুলি, বেশ কয়েকটি হাড়, পোশাক এবং চপ্পল উদ্ধার করে।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রায় এক দশক আগে এই ব্রহ্মপুর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলি দুষ্কৃতীদের আখড়া ছিল। খুনের ঘটনা মাঝে মধ্যেই লেগে থাকত। ওই বাড়ির অদূরেই সোনারপুর থানা এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই রাতের অন্ধকারে কাউকে খুন করে এই জলাশয়ে ফেলে যাওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওই দেহ সম্পর্কে কেউ জানতে পারেনি। ওই বাড়ির মালিকদের সঙ্গেও কথাবার্তা বলছে পুলিশ। ফরেনসিক রিপোর্ট এলে ওই হাড়গোড় এবং খুলির পরিচয় সম্পর্কে বোঝা যাবে।

যুবকের দেহ উদ্ধার, অভিযোগ খুনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: নামখানা রেল স্টেশন সংলগ্ন জমি থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম অঞ্জন প্রধান (২৮)। তাঁর বাড়ি নামখানার নারায়ণপুরে। গত চারদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে স্টেশন সংলগ্ন জমিতে ওই যুবককে পড়ে থাকতে দেখে রেল পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে তারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সোমবার সকালে ওই যুবকের পরিবার দেহ শনাক্ত করে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অঞ্জনকে খুন করা হয়েছে। যদিও তাঁরা জানিয়েছেন, দু’টি জিআরপি এবং একটি উপকূল থানায় গেলেও, তাঁদের খুনের অভিযোগ নেওয়া হয়নি। অবশেষে রাতে লট-৮ উপকূল থানায় পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে।

গয়না প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গয়না পালিশ করার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে সিঁথি থানার হরিশচন্দ্র পাল লেনে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা পার্বতীচরণ প্রামাণিকের বাড়িতে দুপুরে চন্দ্রপ্রকাশ সোনি নাম দিয়ে এক ব্যক্তি আসে। সে তাঁকে বলে, তাঁর সোনার গয়নাগুলি সুলভ মূল্যে পালিশ করে দেবে। পোস্তায় তার সোনার দোকান রয়েছে। ওই মহিলা সেই কথায় বিশ্বাস করে তাঁর মোট ৯৬০ গ্রাম ওজনের বেশ কয়েকটি গয়না তাকে দিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল, সন্ধ্যাতেই গয়না দিয়ে যাবে। এরপর সন্ধ্যায় সে এসে একটি কাপড়ের পুঁটুলিতে গয়নাগুলি দিয়ে যায়। মহিলা পুঁটুলি খুলে দেখেন, গয়নাগুলি নকল। রাতেই তিনি সিঁথি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

সরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত বাংলাদেশি যুবক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার রাত পৌনে ১১টা নাগাদ হেয়ার স্ট্রিট থানার ফেয়ারলি প্লেস ও স্ট্র্যান্ড রোডের সংযোগস্থলে ই-ওয়ান রুটের একটি সরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক পথচারীর। নাম রিটনচন্দ্র মণ্ডল (৩০)। বাড়ি বাংলাদেশে। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে। চালক পলাতক। লালবাজার সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

খুনের চেষ্টায় ধৃত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক যুবককে খুনের চেষ্টা করায় একজনকে গ্রেপ্তার করল একবালপুর থানার পুলিশ। পুলিশ জনিয়েছে, ধৃতের নাম মহম্মদ আরশাদ হোসেন ওরফে প্রিন্স। ঘটনায় আরশাদ ও এহসান নামে আরও দু’জন পলাতক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাতে একবালপুরের বি কে রোডে একটি সেলুনের সামনে মহম্মদ রিজওয়ান খান নামে এক যুবককে রড দিয়ে মারধর করে খুনের চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। যদিও স্থানীয়রা চলে আসায় তারা পালিয়ে যায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। ঘটনার দিনই তিনি একবালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, ধৃত ১

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে লালবাজারের অ্যান্টি চিটিং শাখার গোয়েন্দারা সোমবার হো-চি মিন সরণি থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। ধৃতের নাম রাজীব সরকার। ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বর্ধমানের বাসিন্দা রঞ্জিত বিশ্বাসের ছেলেকে এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি দেওয়ার নামে অভিযুক্ত রাজীব সরকার ১.৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি ভুয়ো ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে জাল নিয়োগপত্র দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা প্রধান বিশাল গর্গ এই খবর জানিয়েছেন।

নিউটাউনে স্কুলে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার নিউটাউনের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। এদিন তাঁদের বিক্ষোভের জেরে স্কুলের সামনের রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরে নিউটাউন থানার পুলিশ গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভ তোলে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই স্কুলে অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নিয়ে এর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলা হয়েছিল। কিন্তু, কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের কথায় কর্ণপাত করেনি। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

বেড়াচাঁপায় সিনেমা হলে
পাকড়াও তিন জোড়া কলেজ পড়ুয়া

বিএনএ, বারাসত: দেগঙ্গার বেড়াচাঁপার একটি সিনেমা হলের ভিতর আপত্তিকর অবস্থায় তিন জোড়া প্রেমিক-প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত ছ’জনই কলেজের ছাত্রছাত্রী। সোমবার সিনেমা চলাকালীন পুলিশের একটি দল আচমকা অভিযান চালিয়ে তাদের পাকড়াও করে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান চলবে।

বিমানবন্দরে গাড়ি-আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার সকালে দমদম বিমানবন্দরের পার্কিং লটের কাছে একটি পরিত্যক্ত গাড়িকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাড়িটি বেশ কিছুক্ষণ পড়ে থাকতে দেখে নিরাপত্তারক্ষীদের সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরা ওই গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। আসে বম্ব স্কোয়াড। কিন্তু, ওই গাড়িটিতে কোনও আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি। পরে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ গিয়ে ওই গাড়িটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি কার তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাগদায় বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

বিএনএ, বারাসত: বাগদার উত্তর কুলবেড়িয়া এলাকায় সোমবার বাড়ির ভিতর থেকে এক বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত মৃতদেহ করল পুলিশ। অসুস্থতা এবং আর্থিক সমস্যার কারণেই তাঁরা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দম্পতির নাম রাম সিংহ (৭৫) এবং লক্ষ্মী সিংহ (৬৫)। এদিন সকালে প্রতিবেশীরা দেখেন, বাড়ির ছাউনির কাঠামোর সঙ্গে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় তাঁদের মৃতদেহ ঝুলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।

 



?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta