কলকাতা, রবিবার ২২ জানুয়ারি ২০১৭, ৮ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

ধৃত সিপিএম নেতা-কর্মীদের ঘিরে
উত্তাল আলিপুর আদালত, যানজট

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিল্প সম্মেলন চলাকালে ভাঙড় ইস্যুতে শুক্রবার বিক্ষোভ দেখাতে এসে ধৃত সিপিএমের নেতা-কর্মীদের শনিবার আলিপুর আদালতে হাজির করার সময় কোর্ট চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে। সকাল ১১ টার পর থেকেই দলের বিভিন্ন গণ সংগঠনের কর্মীদের একের পর বিক্ষোভে আদালত ও তার বাইরের পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আদালতের প্রতিটি গেট এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের অফিস কার্যত পুলিশের দখলে চলে যায়। বেলা যত বাড়তে থাকে, আদালত চত্বরের বাইরে বেকার রোডে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। ফলে ওই চত্বরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। আর তারপরই পুলিশ আদালতের মূল গেট সংলগ্ন চত্বর লোহার গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেয়। সেখানে মোতায়ন করা হয় পুলিশের পদস্থ অফিসারদের, যাতে বহিরাগতরা আদালত চত্বরে কোনওভাবেই প্রবেশ করতে না পারে। এদিন দুপুরে সিপিএমের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি দলের আইনজীবী সংগঠনের নেতারাও আদালত চত্বরে ভাঙড়-কাণ্ডের নিন্দা করে ধিক্কার মিছিলে শামিল হন।

তবে এদিন আলিপুর আদালতে খোদ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজিএম) কোর্টের সামনে সিপিএম নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভে অনেকেই প্রবল ক্ষোভ জানান। উপস্থিত পুলিশ অফিসাররা অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে তাঁদের ওই চত্বর থেকে বের করেন। ডিএলএ’র প্রবীণ নেতা তথা জেলার প্রাক্তন মুখ্য সরকারি আইনজীবী সুশীল চক্রবর্তীকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই চত্বরে বিক্ষোভ না দেখানোর জন্য আমরা বার বার আবেদন করেছিলাম। শেষে ওঁরা সেখান থেকে সরেও যান। এদিকে, আদালত চত্বর ছেড়ে এক সময় ওই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বাইরে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। পরিস্থিতি ফের উত্তাল হয়ে ওঠে দুপুরে লালবাজার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ধৃতদের আলিপুর আদালতে আনা মাত্রই। একটি ভ্যানে আনা হয় প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তী, মানব মুখোপাধ্যায়দের। তবে যে প্রিজনভ্যানে করে ধৃত নেত্রীদের আনা হয়, সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে মহিলা পুলিশকর্মীর বদলে পুরুষ কনস্টেবল থাকায়, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানান ওই নেত্রীরা। তাঁরা চিৎকার বলতে থাকেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। তাহলে সেই পুলিশমন্ত্রী কি জানেন না, মহিলা ধৃতদের ক্ষেত্রে মহিলা পুলিশকেই নিয়োগ করতে হয়। আর আদালত চত্বরে প্রিজন ভ্যান থেকেই কান্তি গাঙ্গুলি, সুজন চক্রবর্তীরা বলেন, যে রাজ্যে মুড়ি-তেলেভাজা হল শিল্প, সেখানে বহু টাকা ব্যয় করে শিল্প সন্মেলনের কোনও যৌক্তিকতা আছে কি? এদিন আদালত ধৃতদের প্রত্যেক঩কেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। এদিকে, মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গাড়িতে সিপিএম কর্মীদের হামলার ঘটনায় এদিন দলের কর্মচারী সংগঠনের তরফে পুরভবন থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক প্রতিবাদ মিছিল হয়।

ভাঙড়ে অশান্তি: নাম না করে রেজ্জাকের
 দিকে আঙুল তুললেন আরাবুল

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘দলে এবং জনসমক্ষে তাঁকে ভিলেন বানাতেই ভাঙড়ে যাবতীয় অশান্তি পাকানো হয়েছে। এর পিছনে অদৃশ্যভাবে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন দলের মুখোশধারী এক তৃণমূল নেতা।’ এ কথা বলছেন বিতর্কিত তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। ভাঙড়ে যাবতীয় অশান্তির জন্য যাঁর দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। নাম না করলেও ‘মুখোশধারী তৃণমূল নেতা’ বলতে যে ‘চিরশত্রু’ রেজ্জাককেই তিনি ইঙ্গিত করেছেন, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে পরিষ্কার। ভাঙড়ে বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির জন্য দলের ভিতরে ও বাইরে আরাবুল ইসলামকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। নিজের খাসতালুকে একসময়ের নায়ক এখন কার্যত খলনায়ক বনে গিয়েছেন।

সেই আরাবুল বেশ ক্ষোভের সুরেই বলছেন, পুলিশ, প্রশাসন ও দলের সকলে জানে, আমাকে রাজনৈতিকভাবে খতম করার জন্যই ভাঙড়জুড়ে অশান্তির আগুন জ্বালানো হয়েছে। জমি মাফিয়াদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তৃণমূলের এক মুখোশধারী নেতা পিছন থেকে যাবতীয় কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন। একসময় আমাকে সামনে রেখে এলাকায় জমির কারবার, জলা ভরাট থেকে যাঁরা মোটা টাকা রোজগার করেছেন, তাঁদের সেই কাজে বাধা দেওয়াতেই ওই মুখোশধারী নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার বদনাম করা হচ্ছে।

মুখোশধারী বলতে কি রেজ্জাক সাহেবকে বোঝাচ্ছেন? এই প্রশ্নে আরাবুলের উত্তর, সেটা আপনাদের বুঝে নিতে হবে। প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, ২০০৬ সালে দিদির নির্দেশে সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিধায়ক হই। গত লোকসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য সুগত বসুকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটে জিতিয়ে আনা হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১০টি অঞ্চল তৃণমূল পেয়েছে। ওই সময়ে ভাঙড়ে কোথাও গোলমাল হয়নি। ২০১৬ সালের পর থেকেই ভাঙড়ে গোলমাল শুরু হয়ে গেল। এর পিছনে কে, তা সকলে জানেন। সাংবাদিকরা খুঁজলে বের করতে পারবেন। এভাবে তো রেজ্জাক সাহেবের দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে? আরাবুলের উত্তর, কারও নাম বলছি না। এরমধ্যেই সব উত্তর পেয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, ভাঙড়ে সেভাবে শান্তির বাতাবরণ কখনওই ছিল না। একসময় আরাবুলের একচ্ছত্র দাপটে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। দলের মধ্যে যখনই কোথাও এ নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে, তখনই মারামারি থেকে খুনোখুনি হয়েছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে রেজ্জাক মোল্লাকে তৃণমূলের প্রার্থী করার পর থেকে গোষ্ঠী বিবাদ মারাত্মক আকার নেয়। ভাঙড় থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রধান দাবিদার ছিলেন চারজন। তাঁদের ম঩ধ্যে ছিলেন আরাবুল ইসলামও। যদিও তার কয়েক মাস আগে বেওতা এলাকায় জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে আরাবুলের অনুগতদের হাতে দলের এক সমর্থক খুন হন। পালটা আরাবুলের শিবিরের একজন খুন হন। সেই খুনসহ যাবতীয় অশান্তির জন্য আরাবুলের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল। তারপরই দল থেকে ছ’মাসের জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু ছ’মাস কাটার আগেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই সময় তৃণমূলে যোগ দেওয়া আরাবুলের ‘চিরশত্রু’ রেজ্জাক মোল্লাকে ভাঙড়ের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে উভয় গোষ্ঠীর বিবাদ অব্যাহত।

অভিযোগ উঠেছে, টোনা মৌজায় জোর করে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে জমি নিয়েছেন আরাবুল ও তাঁর অনুগতরা। পরে তা মোটা টাকায় বেচেছেন তিনি। পদ্মপুকুর, টোনা প্রভৃতি এলাকায় দলের সমর্থক চাষি ও সাধারণ মানুষ অনেকেই জমি দিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। তাঁদের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে সাদা কাগজে জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অনেককে টাকা দেওয়াও হয়নি বলে গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি ভরাট, মাটি ফেলা থেকে শুরু করে নির্মাণকাজের বরাত পাওয়ার ক্ষেত্রে দলের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরাবুল তাঁর ছেলে, ভাই ও জামাইকে ঢুকিয়ে লাখ লাখ টাকা মুনাফা করেছেন। অবশ্য আরাবুল ইসলামের কথায়, এসব ডাহা মিথ্যা। ওখানে বন্দুক দেখিয়ে জোর করে জমি নেওয়া হয়নি। আমাকে হেয় করার জন্য এসব প্রচার করা হচ্ছে। বাস্তবে ওখানে জমির দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা প্রতি কাঠা। সেখানে পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে কথা বলে চাষিদের কাঠা প্রতি আড়াই লাখ টাকা করে পাইয়ে দিয়েছি। কোথাও কোনও মুনাফা করিনি। তিনি বলেন, পাওয়ার গ্রিড হলে এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন হত। কিন্তু বেশকিছু জমি মাফিয়া নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে তা করতে দিল না। মাফিয়ারা পয়সা দিয়ে এত বড় একটা ভালো কাজকে বানচাল করে দিল। আরাবুলের দাবি, তিনি কখনও দুর্নীতির সঙ্গে ছিলেন না। সব সময় মানুষের হয়ে কাজ করেছেন। আগামী দিনেও দলের নির্দেশ মেনে কাজ করে যাবেন। বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লা অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

ভাঙড়কাণ্ডে সরানো হল ওসিকে, আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড নিয়ে আন্দোলনের জেরে গোলমাল এবং গুলিতে দু’জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরিয়ে দেওয়া হল কাশীপুর থানার ওসি সুভাষ বসুকে। সেই জায়গায় নিয়ে আসা হল রায়দিঘি থানার ওসি বিশ্বজিৎ ঘোষকে। শনিবার বিশ্বজিৎবাবুকে থানার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন সুভাষবাবু। যদিও সরকারিভাবে কী কারণে তাঁকে সরানো হল, তার কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। জেলা পুলিশের এক পদাধিকারী বলেন, গোলমালের দিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরিজিৎ সেন, কাশীপুর থানার ওসিসহ ৩০ জন পুলিশকর্মী মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ওসি সুভাষ বসু বুকে ও পায়ে মারাত্মক আঘাত পান। ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডিউটি করে যাচ্ছিলেন। সেই কারণে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। ওসিকে সরানোর ঘটনা নিয়ে পুলিশের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ শুরু হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার দিন কাশীপুর থানার মধ্যে রাজ্য ও জেলা পুলিশের কর্তারা হাজির ছিলেন। পাওয়ার গ্রিডের সামনে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার পর সেখান থেকে বের হয়ে আসার পুরো বিষয়টি কর্তাদের অবগত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ওই ঘটনার জন্য সিআইডির এক আধিকারিক দোষ করলেও একমাত্র ওসিকে বলি করা হল কেন? এ নিয়ে পুলিশের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। এদিনও এলাকায় কোনও পুলিশ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, এদিন বিকালে তৃণমূল ভবনে ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মুকুল রায়ের ম্যারাথন বৈঠক হয়। সেখানে আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের পক্ষে হাজির ছিলেন সামসুল হক ওরফে কালু শেখ, মিজানুর রহমান, শেখ মোস্তাক কামালসহ ৪০ জন। একসময় তাঁরা আরাবুল ঘনিষ্ঠ থাকলেও এখন বিরোধী। তবে নকশাল নেতা অলীক চক্রবর্তীকে সেখানে দেখা যায়নি। তাঁরা আরাবুলের বহিষ্কার এবং পাওয়ার গ্রিডের কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান। মুকুল রায় তাঁদের বলেন, ভাঙড়কাণ্ডের পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আছে। তিনি আগেই এ নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া দলে আরাবুলের আগের সেই ক্ষমতা নেই। ব্লক সভাপতি ও অন্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আছেন। স্বাভাবিকভাবে আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি। তারপর আন্দোলনকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেইমতো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ভাঙড়ের ব্লক যুব সভাপতি কাশেফুল, শাহানাজ খানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল এদিন রাতে ভাঙড়ের খামারাআইট ও সংলগ্ন এলাকায় যায়। সেখানে গিয়ে রাস্তা থেকে ইট ও গাছের গুঁড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। মুকুল রায় বলেন, রবিবার থেকে ভাঙড়ের পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ সেই আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকার সমস্ত মানুষকে বলা হয়েছে, নিশ্চিন্তে দোকান, বাজার খুলুন। কোনও ভয় নেই। সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। শনিবার অবশ্য এলাকার পরিস্থিতি আগের মতো ছিল। বিক্ষিপ্তভাবে দোকান খুললেও অধিকাংশ বন্ধ ছিল। স্কুল খোলেনি। পোলেরহাট পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ ছিল। বন্ধ ছিল হাড়োয়া রোডের গাড়ি চলাচলও।

এদিকে, ভাঙড়ে শান্তি ফেরাতে এদিন বেলা ১০টায় বকডোবা থেকে শ্যামনগর পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে মিছিল করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরি, বিধায়ক আবদুল মান্নান, সংসদ সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, প্রদেশ সম্পাদক শেখ নিজামউদ্দিনসহ কয়েকশো সমর্থক। গ্রামের মানুষও সেই মিছিলে পা মেলান। পরে শ্যামনগরে পথসভা করে মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের সমালোচনা করেন প্রদেশ সভাপতি। তিনি বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিজনেস সামিট করছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ ভাঙড়ে কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা। এলাকায় সরকারি কোনও পরিষেবা নেই। এ঩দিন নিহতদের বাড়ি যান ‘আমরা আক্রান্ত’-র প্রতিনিধিরা। অম্বিকেশ মহাপাত্রের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানায়। একইভাবে মহিলা সমিতি ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়ি গিয়ে শোকপ্রকাশ করা হয়। তাঁদের পাশে থাকারও আশ্বাস দেওয়া হয়।

নতুন ধারায় মামলার আবেদন
জয়প্রকাশকে আরও ১৩ দিন পুলিশ হেপাজতে দিল কোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতারণা মামলায় ধৃত বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারকে ১৩ দিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল বিধাননগর আদালত। উল্লেখ্য, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের হয়ে মামলা লড়ে দেওয়ার জন্য ৭.২০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি বিধাননগর উত্তর থানা তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে দু’দফায় ছ’দিন তাঁকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করা হয়েছে। এদিন সরকারি পক্ষের বিশেষ আইনজীবী সন্দীপ ভট্টাচার্য আদালতে জানান, অভিযুক্তকে আর হেপাজতে নেওয়ার দরকার নেই। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জয়প্রকাশবাবুর আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণ হয়ে থাকলে এবার তাঁর মক্কেলকে জামিন দেওয়া হোক। যদিও সরকারি আইনজীবী জয়প্রকাশবাবুর জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। উনি জামিন পেলে তদন্তের নথি নষ্ট হতে পারে। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জয়প্রকাশবাবুর জামিন খারিজ করে ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ফের আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেয়।

জয়প্রকাশবাবুর আইনজীবী আরও বলেন, দেড় বছর আগের ঘটনার এতদিন পর কেন অভিযোগ হল, তা স্পষ্ট নয়। তদন্তকারী অফিসার যে তদন্ত করছেন বা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, তার মধ্যেও পারস্পরিক সামঞ্জস্য নেই। তাই তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হোক। তবে সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, জয়প্রকাশবাবুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এসএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত কিছু কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে। এমনকী এসএসসি’র একটি স্ট্যাম্পও উদ্ধার হয়েছে। তাই তাঁকে জামিন দেওয়া হলে তদন্তের এই তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে, হুমকি মামলায় আগের দিনই পুলিশ আদালতের কাছে ১৯৫এ ধারাটি (সাক্ষীকে ভয় দেখানো) যুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিল। আদালত তা মঞ্জুর করে এবিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশকে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, জয়প্রকাশবাবু পুলিশকে গোপন জবানবন্দি (১৬১ ধারায়) দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর অনুগামীরা ওই পরীক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে থাকতে পারে। এমনকী জয়প্রকাশবাবুর কল লিস্ট ঘেঁটে এরকম দু’জনের নাম পাওয়া গিয়েছে, যারা হুমকি দিয়েছিল বলে মামলার সাক্ষীরা আগেই পুলিশকে জানিয়েছেন। এই অবস্থায় জয়প্রকাশবাবুর জামিন এই তদন্তকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এদিকে, জয়প্রকাশবাবুর বিরুদ্ধে ৪০৯ এবং ১২০বি ধারায় মামলা শুরু করতে চেয়ে এদিন আদালতে আবেদন করে সরকার পক্ষ। আদালত এবিষয়ে অবশ্য কোনও নির্দেশ দেয়নি। কিন্তু সূত্রের দাবি, ৪০৯ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হতে পারে। তাই এই ধারা সংযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা জেলা আদালতের নীচের কোনও আদালতের নেই।

চুঁচুড়ায় ডাচ আমলের নিদর্শনগুলি সংস্কারে উদ্যোগী নেদারল্যান্ড সরকার

বিএনএ, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ডাচদের নিদর্শনগুলি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগী হল নেদারল্যান্ডের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। সেই লক্ষ্যেই চুঁচুড়ায় ডাচদের আমলে তৈরি স্থাপত্যগুলির বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখলেন ভারতে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর অ্যালফোনাস স্ট্যালেঙ্গা। এই পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন হুগলির জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, সদর মহকুমা শাসক, চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রমুখ। স্ট্যালেঙ্গা বলেন, বেশ কিছু নিদর্শন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখনও যা রয়েছে, সেগুলি পর্যটক ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে সংস্কারের পরিকল্পনা চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পরিদর্শনের পর ধাপে ধাপে নিদর্শনগুলি সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা করা হবে।

হুগলির জেলাশাসক সঞ্জয় বনশল বলেন, ডাচ আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের প্রস্তাব নিয়ে ভারতে নিযুক্ত তাঁদের প্রতিনিধিকে এদিন চুঁচুড়ায় পাঠিয়েছে নেদারল্যান্ড সরকার। এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই নিদর্শনগুলি সংস্কারের পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া কোর্ট বিল্ডিং, ঘড়ির মোড়ের সেই ঐতিহাসিক ঘড়িসহ কমবেশি প্রায় ৫০টি নিদর্শন রয়েছে, যেগুলি ডাচদের আমলে তৈরি। যার মধ্যে কয়েকটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আবার এমন কিছু স্থাপত্য রয়েছে, একটু যত্ন নিলে যেগুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।

তৃণমূলের গোষ্ঠীবাজি, রিষড়া বিধানচন্দ্র
কলেজের ভোটে আদালতের স্থগিতাদেশ

বিএনএ, চুঁচুড়া: গন্ডগোলের আশঙ্কায় দুই গোষ্ঠীকে নিয়ে আগেই আলোচনায় বসেছিল দল। কিন্তু তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল আটকানো গেল না রিষড়ায়। নেতাদের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন রিষড়া কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সম্পাদক মোহিত যাদব। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রিষড়া বিধানচন্দ্র কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করল শ্রীরামপুর আদালত। শনিবারই আদালতের নির্দেশ কলেজ কতৃর্পক্ষের কাছে পৌঁছেছে। পুরো ঘটনায় বেকায়দায় শাসকদল।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে শ্রীরামপুরের বিধায়ক তথা রিষড়া বিধান কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি সুদীপ্ত রায় বলেন, আদালতের নির্দেশ অধ্যক্ষের কাছে গিয়েছে বলে শুনেছি। এতে দলের নির্দেশ অমান্য তো হয়েছেই। তবে নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কেন মোহিত আদালতে গেল, বুঝতে পারছি না। আমার মনে হচ্ছে, এর পিছনে বিজেপির ইন্ধন রয়েছে।

বিধায়কের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিজেপির হুগলি জেলা সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস যে কোনও নিয়মনীতির ধার ধরে না, রিষড়ার ঘটনা তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল। তাঁর দাবি, শাসকদল নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দল মেটাতে না পেরে আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ আনছে।

প্রসঙ্গত, রিষড়া বিধান কলেজের ছাত্র সংসদ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে থাকলেও সেখানে ব্যাপক গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। গন্ডগোলের আশঙ্কায় নির্বাচনের আগেই তাই দলের তরফে জেলা সভাপতি, স্থানীয় বিধায়ক ও উত্তরপাড়ার বিধায়ক কলেজের দুই গোষ্ঠীকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। বৈঠক করে কলেজের ৪৫টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেই ক্ষমতা কাদের দখলে থাকবে, তা নিয়ে বর্তমান সম্পাদক ও প্রাক্তন সম্পাদক গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ চরম আকার নেয়। দলের সিদ্ধান্ত মনোনীত না হওয়ায় মোহিতের বিরোধী গোষ্ঠীই সবকটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। তারপরেই কলেজের সম্পাদক মোহিত যাদব স্থগিতাদেশের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। মোহিত যাদবের দাবি, দল বসে কোন গোষ্ঠী কতগুলি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, তা ঠিক করে দিয়েছিল। আমরাও তা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার বিরুদ্ধ গোষ্ঠী আমাদের একটাও মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই ওদের গা জোয়ারি আটকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। মোহিতের অভিযোগ, রিষড়া শহর সভাপতি অঙ্কন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাঠিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও মোহিতের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অঙ্কনবাবু। তিনি বলেন, দলের নির্দেশ ও অনুশাসন সবাইকে মেনে চলতে হয়। কিন্তু কেউ স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারবেন না বুঝতে পেরে দলের নির্দেশ অমান্য করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আমরা আইনগতভাবে সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করব।

এখনও নিখোঁজ ১০
সাগর ফেরত আরও ৩ দেহ উদ্ধার, মৃত বেড়ে হল ১১

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাগরের কচুবেড়িয়াতে স্নান ফেরত পদপিষ্টের ঘটনায় আরও তিনটে দেহ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট ১১ জনের দেহ পাওয়া গেল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলাতে স্নান সেরে ফেরার সময় কচুবেড়িয়াতে পাঁচ নম্বর জেটিঘাটে ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। অনেকে তার জেরে জলে তলিয়ে যান। ঘটনার দিন ছ’ জনের দেহ পাওয়া যায়। এরপর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ১, ৩, ৫ জেটিঘাট এবং ঘোড়ামাড়ার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচ জনের দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আরও দশজনের এখনও কোনও হদিশ নেই। এদিকে, বিজেপি ওই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে।

বারুইপুর হাসপাতালে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মহিলার শ্লীলতাহানি: বারুইপুরের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে এক মহিলা রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল। এনিয়ে থানায় অভিযোগ করার পরও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না করায় হইচই পড়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে এক ব্যক্তি চিকিৎসক পরিচয় দেয়। এরপর এক মহিলা রোগীকে দেখার নাম করে শ্লীলতাহানি করে। মহিলার সন্দেহ হয়। তিনি গত ১৭ জানুয়ারি হাসপাতালের গেটের সিসি টিভি দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। তখনই জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চিকিৎসক নন। ওইদিন মহিলা বারুইপুর সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতে গত ১৮ জানুয়ারি থানায় অভিযোগ করেন সুপার। যদিও শনিবার পর্যন্ত ওই ঘটনা নিয়ে পুলিশ কোনও রকম পদক্ষেপ করেনি। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, তদন্ত হচ্ছে।

রাজপুরে চুরির চেষ্টা, গ্রেপ্তার এক: শনিবার ভোরে সোনারপুর থানার রাজপুরের হরহরিতলাতে একটি স্টুডিওর শাটার ভাঙার চেষ্টা করে চার দুষ্কৃতী। সেই সময় স্থানীয় এক যুবক দেখতে পেয়ে হইচই করেন। লোকজন বেরিয়ে চোরদের ধাওয়া করে একজনকে ধরে ফেলে। বাকিরা পালায়। ধৃতকে বেঁধে রাখা হয়। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের হাতে ধৃতকে তুলে দেওয়া হয়।

টেট-এ পাশের আশ্বাস দিয়ে টাকার টোপ, হাতেনাতে ধৃত ২

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টেট পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লক্ষ টাকা চেয়েছিল। সেই টাকা নিতে এসে বিকাশ ভবনের সামনে হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই অভিযুক্ত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ হাসান আলি নামে এক অভিযোগকারী জানিয়েছেন, দু’জন ব্যক্তি তাঁকে টেট পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। বিনিময়ে তারা এক লক্ষ টাকা চেয়েছিল। তারাই মৌখিক পরীক্ষার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় বিকাশ ভবনের সামনে দেখা করতে বলে। তিনি প্রথমে রাজি হলেও, পরে তাঁর সন্দেহ হয়। তাই তিনি বিধাননগর উত্তর থানাকে খবর দেন। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর শুক্রবার বিকাল থেকেই অভিযুক্তদের পাকড়াও করতে বিকাশ ভবনের বাইরে সাদা পোশাকে ঘোরাঘুরি করছিল। সন্ধ্যা নামার পর অভিযোগকারীর সঙ্গে দেখা করতে আসে ওই দুই যুবক। সঙ্গে সঙ্গেই কৃষ্ণেন্দু দাস এবং বিশ্বজিৎ মণ্ডল নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন তাদের আদালতে পেশ করে তিনদিনের পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এর পিছনে কোনও চক্র থাকতে পারে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সন্ধান করতে চায় তারা।

বলাগড়ে ছেলেধরা সন্দেহে ৩ জনকে গণপিটুনি

বিএনএ, চুঁচুড়া: ছেলেধরা সন্দেহে দুই মহিলাসহ তিনজনকে গণপিটুনি দিল গ্রামবাসীরা। দুই মহিলা কল্যাণীর বাসিন্দা। শনিবার রাতে বলাগড়ের জিরাটের আসানপুরের কালীতলায় ঘটেছে এই ঘটনা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে, তাদের লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল, এমনকী তির ছোঁড়া হয়। একজন সিভিক ভলান্টিয়ার তিরবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বুকের বাঁদিকে তির লেগেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন রাতে গ্রামের রাস্তা দিয়ে একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন ওই তিনজন। কল্যাণীর বাসিন্দা দুই মহিলার পরিচারিকার বাড়ি আসানপুরে। কালীতলার কাছে কয়েকজন বাচ্চা দাঁড়িয়েছিল। তাদেরকে ঠিকানা জিজ্ঞাসা করছিলেন এই দুই মহিলা। তখনই এলাকার কয়েকজন যুবক ছেলেধরা এসেছে বলে গুজব রটায়। তারপরই এলাকার ক্ষিপ্ত মানুষজন ওই দুই মহিলা এবং চালককে বেধড়ক মারধর করে। পরে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে র্যাফ এবং কমব্যাট ফোর্স গ্রামে টহল দিচ্ছে। আহতদের প্রথমে বলাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে চুঁচুড়া হাসপাতালে ভরতি করা হয়। তবে এই রকম গুজব অনেকদিন ধরে ওই গ্রামে রটেছে। ক’দিন আগে জিরাটের শেরপুরে ক্যাটারিংয়ের চারজন ছেলেকে একই কারণে মারধর করা হয়। যদিও পঞ্চায়েতের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন। এদিনও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।

কলেজ স্ট্রিটে আগুন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার বিকাল সাড়ে চারটে নাগাদ হঠাৎ আগুন লাগে কলেজ স্ট্রিটের একটি খেলার সারঞ্জাম ও ট্রফির দোকানে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের খবর নেই। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta