কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন


কসবায় আগুন : কসবা থানার ১১১এ, ডাঃ জি এস বোস রোডে শনিবার দুপুর পৌনে একটা নাগাদ একটি লেপ-তোশক তৈরির দোকানে হঠাৎ আগুন লাগে। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ আগুন আয়ত্তে আনে। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুনে ওই দোকানের বেশ কিছু তোশক পুড়ে গিয়েছে। কলকাতা পুলিশ ও দমকল সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। নিজস্ব চিত্র

এই শহরে ৮ বছর আগের ঘটনা
চিকিৎসায় অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় ২ পরিবারকে

সুকান্ত বসু, কলকাতা: বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের ‘অমানবিকতা’য় শুক্রবার মৃত্যু হয়েছিল ডানকুনির বাসিন্দা ৩০ বছরের সঞ্জয় রায়ের। এই অভিযোগ তুলে যখন বিভিন্ন মহল রাজ্যজুড়ে সরব, তখন আট বছর আগে এই শহরেই তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। মারা গিয়েছিলেন এক কলেজ ছাত্রী এবং ছ’ বছরের এক শিশুপুত্র। দু’টি পরিবারই আজও ন্যায়বিচার না পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসন এবং আদালতের দরজায়। কিন্তু কোনও মহল থেকেই সাড়া না পেয়ে দু’টি পরিবারই আজ হতাশ। মৃত প্রথম বর্ষের ছাত্রী অদিতি দাস এবং ছ’ বছরের শিশুপুত্র জয়দীপ্ত চক্রবর্তীর বাড়ির লোকজনের বক্তব্য, জানি না আর কতজন সঞ্জয়কে বেসরকারি হাসপাতালের খামখেয়ালিপনায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে।

কলকাতার জয়পুরিয়া কলেজের বাংলা অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল জয়িতা। ২০০৮ সালের ৪ মার্চ উত্তর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গাইনি’র সমস্যা নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন তিনি। ৫ মার্চ তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। ১০ মার্চ উত্তর কলকাতার রামকালি মুখার্জি লেনের ওই কলেজ ছাত্রী মারা যান। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা পেশায় শিক্ষক সুজিত দাস চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতে ওই দুই চিকিৎসক আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে যে রিপোর্ট পেশ করে, তা সন্তোষজনক নয় বলে ফের ওই শিক্ষক আদালতের দ্বারস্থ হন। সেখানে বিচারক নতুন করে ফের ওই তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ ছিল, পূর্বতন তদন্তকারী অফিসারকে সরিয়ে সেখানে নিয়োগ করতে হবে নতুন অফিসার। ওই ঘটনার পর গড়িয়ে গিয়েছে অনেক বছর। কিন্তু কাজ কিছুই এগয়নি। অগত্যা প্রবীণ ওই শিক্ষক ন্যায়বিচার পেতে দ্বারস্থ হন রাজ্য এবং জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের। ৭৮ বছরের ওই বৃদ্ধ শিক্ষকের বক্তব্য, জানি না, আর কোনও ফোরাম আছে কি না, যেখানে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার পেতে দরখাস্ত করব। ওই শিক্ষকের স্ত্রী শিখা দাস শনিবার আক্ষেপ করে বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে টিভিতে সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুর খবর প্রচার এবং তা নিয়ে চারপাশে আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ায় চোখের সামনে আমার মেয়ে অদিতির মুখখানা ভেসে উঠল। জলজ্যান্ত মেয়েটা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে প্রণাম করে গেল, অথচ কয়েকদিন পর ও নিথর হয়ে বাড়ি ফিরল। কোনও মায়ের পক্ষে এই দৃশ্য দেখা সম্ভব?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানার সাহেবপাড়ার বাসিন্দা জ্যোতিপ্রকাশ চক্রবর্তীর ছ’বছরের শিশুপুত্র ২০০৯ সালে জ্বর নিয়ে ভরতি হয়েছিল কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে ওই হাসপাতাল থেকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই মারা যায় সে। ওই ঘটনায় চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। আইনি গেরোয় আটকে রয়েছে সেই মামলা। মামলাকারী জ্যোতিপ্রকাশবাবুর আইনজীবী অশোককুমার সিং শনিবার বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে ফের মামলার তারিখ রয়েছে। ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের মামলাও দায়ের করা হয়েছে। কবে ন্যায়বিচার মিলবে জানি না। জয়দীপ্তের মা প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী এদিন একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, আমার ছোট্ট ছেলেকে আমি হারিয়েছি, আমি পাষাণ হয়ে গিয়েছি। সব সময় ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকি। কারওর যেন এভাবে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু না হয়। রাজ্যের প্রাক্তন দায়রা বিচারক তপনকুমার সেনের বক্তব্য, আর পাঁচটা আদালতের মতো যদি এ ক্ষেত্রে পৃথক আদালত তৈরি হয়, তাহলে এই সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটবে।

বাগুইআটি স্কুল কাণ্ড
গোয়েন্দা নজরে প্রোমোটারের সঙ্গে আরও কিছু পুলিশকর্মীর ‘লেনদেন’-এর সম্পর্ক

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: পুলিশের সঙ্গে প্রোমোটারদের গোপন আঁতাতের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। বাগুইআটির দশদ্রোণে স্কুলে প্রোমোটারের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও বাগুইআটি থানার কয়েকজন পুলিশ অফিসার ও কর্মীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। ওই প্রোমোটারের সঙ্গে বাগুইআটি থানার সাব ইনসপেক্টর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টরের লেনদেনের সম্পর্ক ছিল বলেও গোয়েন্দাদের কাছে খবর। ইতিমধ্যেই এক সাব ইনসপেক্টরকে কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরও কয়েকজন এসআই, এএসআই, এমনকী পদস্থ কর্তাদেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খবর গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। ওই পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের প্রত্যক্ষ মদতেই ওই প্রোমোটার ওই স্কুলে ভাঙচুর চালানোর সাহস পেয়েছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। ওই পুলিশ অফিসারদের কয়েকজন এখন বাগুইআটি থানায় না থাকলেও তাঁরা গোপনে ওই প্রোমোটারকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা দপ্তর এই ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে। ধৃত অভিযুক্ত প্রোমোটার ও তৃণমূল নেতা বুদ্ধদেব দাসকে পুলিশ বুধবারই পাঁচদিনের জন্য নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে। ওই দু’জনকে দফায় দফায় জেরা করে ওই পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের জেরার মুখে অভিযুক্ত প্রোমোটার জানিয়েছে, ওই পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের নানা রকম সুবিধা দিয়েই এতদিন ধরে বাগুইআটি এলাকায় সে ‘রাজত্ব’ চালাচ্ছিল।

পুলিশ সূত্রের খবর, এর আগেও ২০১৫ সালে দশদ্রোণ এলাকাতেই অন্য একটি প্রকল্পের জমিও অভিযুক্ত প্রোমোটার জোর করে দখল করেছিল। ওই প্রোমোটারের সঙ্গে তখন বাগুইআটি থানার কয়েকজন পুলিশ অফিসার ও কর্মীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁরাই ওই প্রোমোটারকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছিলেন। ওই পুলিশ অফিসার ও কর্মীরা বর্তমানে বাগুইআটি থানা থেকে চলে গেলেও তাঁরা তলায় তলায় অভিযুক্ত প্রোমোটারকে সাহায্য করেছিলেন। তাঁদের সাহায্যে ও স্থানীয় এক কাউন্সিলারের মদতে অভিযুক্ত প্রোমোটার ওই স্কুল ভাঙার মতো সাহস দেখিয়েছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তৃণমূল নেতা বুদ্ধদেব দাসকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্থানীয় এক কাউন্সিলারের হয়েই সে এলাকায় কাজ করত। সে ৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও পাশের একটি ওয়ার্ডের সব কাজই অলিখিতভাবে দেখভাল করত। ওই কাউন্সিলারের শাগরেদদের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ ছিল। তা নিয়ে কয়েক মাস আগে এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগও জমা হয়েছিল। যদিও পুলিশ তখনও নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল। কয়েকজন চুনোপুঁটি নেতাকে ধরে পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছিল।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, দশদ্রোণের লীলাদেবী মোমোরিয়াল ইন্সটিটিউট যে ভাঙা হবে, সে নিয়ে বাগুইআটি থানার পুলিশের কয়েকজনের কাছে নির্দিষ্ট খবর ছিল। এই নিয়ে কোনও ঝামেলা হলে তাঁরাই বিষয়টি ‘দেখে নেবেন’ বলে অভিযুক্ত প্রোমোটারকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু, এই নিয়ে জলঘোলা হতেই তাঁরা চুপ করে যান। অভিযুক্ত প্রোমোটারকে জেরা করেই ওই পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের নাম গোয়েন্দারা জানতে পারেন। তারপরই বাগুইআটি থানারই এক সাব ইনসপেক্টরকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। কমিশনারেটের কর্তাদের নজরে আরও কয়েকজন পুলিশ অফিসার ও কর্মী আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছেন কমিশনারেটের কর্তারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটি থানা এলাকায় অভিযুক্ত প্রোমোটারের এক সময় ঘনঘন যাতায়াত ছিল। তার সঙ্গে ওই এলাকায় আরও কয়েকজন প্রোমোটার নিয়মিত বাগুইআটি থানায় যাতায়াত করত। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ওই এলাকায় জোর করে জমি দখল থেকে শুরু করে বেআইনি প্রোমোটিং করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত প্রোমোটাররা শাসকদলেরই একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখায়নি। বরং পুলিশই তাঁদের নানারকম সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল। স্কুলে ভাঙচুরের ঘটনার তদন্তে নেমে এই বিষয়গুলিও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।

শবদাহের ধোঁয়ায় জেরবার কলেজ, ভাঙা বাঁধের
জন্য নতুন শ্মশান করা যাচ্ছে না ডায়মন্ডহারবারে

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, ডায়মন্ডহারবার: ভাঙা নদীবাঁধ মেরামতের কাজ না হওয়ায় ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন শ্মশান তৈরির জন্য বরাদ্দ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। স্থানীয় পুরবাসীদের কথায়, আড়াই বছর আগে এই শ্মশান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেইমতো জমি চিহ্নিত হয়েছে। টাকা আসার পর পুরসভা থেকে ডায়মন্ডহারবার সেচ বিভাগের এসডিওকে বিষয়টি জানানো হয়। তারপর এ নিয়ে টালবাহানাতে কাজ এগয়নি। বিধায়ক দীপক হালদার অবশ্য টালবাহানার কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, সেচ বিভাগের এসডিও আচমকা বদলি হয়ে যাওয়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নদী বাঁধ লাগোয়া পলিটেকনিক কলেজের পিছনে কাঠে মৃতদেহ পোড়ানোর শ্মশান রয়েছে। প্রায় একশো বছরের প্রাচীন। ১, ২, ১৪, ১৫, ১৬ ছাড়াও আবদালপুরের বহু মানুষ এই শ্মশানে দাহ কাজ করে থাকেন। এক সময় গঙ্গা নদীর ধারে শ্মশানের এই জায়গাটি একেবারে ফাঁকা ছিল। কোথাও বসত ছিল না। কয়েক বছর আগে শ্মশানের ধারে পলিটেকনিক কলেজ, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই পলিটেকনিক কলেজ কর্তৃপক্ষ শ্মশানটিকে সরিয়ে দেওয়ার আরজি জানিয়ে আসছে। কারণ, শ্মশানে দাহ কাজের সময় ধোঁয়া কলেজের ক্লাসঘরে ঢুকে যায়। ফলে পড়ুয়াদের খুবই অসুবিধা হয়। বাধ্য হয়ে জানলা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর পুরসভার এক প্রতিনিধিদল ওই জায়গা ঘুরে দেখে। স্থানীয় কাউন্সিলার রাজর্ষি দাস বলেন, সত্যিই নদীর দিক থেকে হাওয়া কলেজের দিকে বয়ে আসে। ফলে দাহ কাজের সময় ক্লাস ঘরে ওই হাওয়া ঢুকে গিয়ে অসহনীয় পরিবেশ তৈরি হয়। বসা যায় না। আমরা নিজেরাও তা প্রতক্ষ্য করেছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে পুরবোর্ডে চেয়ারপার্সনের সঙ্গে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ওই জায়গা থেকে সরিয়ে দেড় কিলোমিটার দূরে ফাঁকা যে অংশ রয়েছে সেখানে শ্মশান করা হবে। পুরসভার পানীয় জলের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে অনেকটা তফাতে শ্মশানের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়। পুরসভার নামে জায়গাটি হস্তান্তর করে দিয়েছে সেচ বিভাগ। পরবর্তী সময়ে বিধায়কসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সকলে এ নিয়ে তৎপর হন। প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ হয় নতুন শ্মশান তৈরির জন্য। সেই টাকাও পুরসভার তহবিলে চলে এসেছে। সমস্যা হচ্ছে, শ্মশান করার যে জায়গাটি চিহ্নিত হয়েছে, সেখান থেকে সামনের দিকে পাঁচশো মিটারের বেশি নদীবাঁধ ভাঙা। ফলে জোয়ার ও ষাঁড়াষাঁড়ি বানের সময় ওই ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে ডুবিয়ে দিচ্ছে গোটা তল্লাট। স্বাভাবিকভাবে নদীবাঁধ মেরামত না হলে শ্মশান করা যাচ্ছে না। সেচ বিভাগকে বলা হয়েছে। সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এ নিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিধায়ক দীপক হালদার বলেন, সেচ বিভাগের ডায়মন্ডহারবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত আগের এসডিওকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তিনিও কাজ শুরু করেছিলেন। সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টি জানেন। তবে ওই আধিকারিক আচমকা বদলি হয়ে যাওয়াতে কাজটি থমকে গিয়েছে। নতুন ওই জায়গাতে যিনি এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করতে পারিনি। সেচ দপ্তরের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এমন একটা বিষয় আমার নজরে কেউ আনেননি। কয়েকদিন আগে বিধায়ককের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে সময় তিনি একটি ব্রিজ, স্লু্ইজ গেট করার জন্য বললেন। তখন এ নিয়ে কোনও কথা বলেননি। তবে এ নিয়ে জানালে নিশ্চয়ই ভাঙাবাঁধ এতদিনে করে দেওয়া যেত।

বারুইপুর মহকুমা আদালত মেয়াদ উত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ভরসায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুর মহকুমা আদালতের বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এজলাসের বাইরে সব জায়গাতে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বসানো আছে। যাতে কখনও কোনও ঘটনা হলে ওই যন্ত্রের মাধ্যমে তৎক্ষনাৎ আগুন রোধ করা যায়। বাস্তবে আদালতের একতলা ও দোতলায় সিভিল ও ক্রিমিনাল সমস্ত এজলাসের বাইরে বসানো সেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ গত ২০১৬ সালের জুলাই মাসে শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর সেই যন্ত্রগুলি সরিয়ে সেখানে নতুন অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বসানো হয়নি। স্বাভাবিকভাবে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার সাড়ে ছ’ মাস পরও কেন এগুলির পরিবর্তন হল না, তা নিয়ে আইনজীবী মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই মনে করেন, এই অবস্থায় কোনও ঘটনা ঘটলে আদালতে বড় বিপর্যয় হতে পারে। বারুইপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান তাই মনে করেন। তিনি বলেন, আদালতের সম্মানীয় বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও পুলিশ এবং এখানে কর্মরত সকলের নিরাপত্তার দিকে চেয়ে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে সেখানে গলদ থাকলে তা সত্যিই চিন্তার।

বারুইপুর মহকুমা আদালতে প্রতিদিন সিভিল ও ক্রিমিনাল কোর্ট মিলিয়ে প্রায় সাতশো আইনজীবী থাকেন। এছাড়া হাজারের বেশি বিচারপ্রার্থী নানা মামলার সূত্রে যান। তার বাইরে পুলিশ, মহুরি, ল ক্লার্ক ছাড়াও আরও অনেকে যাতায়াত করেন। ফলে সব সময় আদালত প্রাঙ্গণে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এত মানুষের সমাগম বলেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে আদালতের প্রতিটি এজলাসের বাইরে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বসানো হয়েছে। যন্ত্রগুলির মেয়াদ এক বছর, তাই নিয়মমতো এক বছর অন্তর এগুলির পরিবর্তন করা হয়। গত বছর পাতিপুকুরের একটি কো-অপারেটিভ সোসাইটি থেকে ২০টির বেশি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নেওয়া হয়েছিল। পূর্ত দপ্তরের মাধ্যমে এটা হয়ে থাকে। গত ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এগুলি বসানো হয়। মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই। তারপর তা আর পরিবর্তন হয়নি। ওই যন্ত্রের গায়ে জ্বলজ্বল করছে ‘এক্সপায়ারি ডেট’। বারুইপুর মহকুমা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের কারও নজরে পড়েনি। সকলেই জানি এই যন্ত্র লাগানো আছে। কিছু হলে এর মাধ্যমে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। সত্যিই এরমধ্যে কোনও ঘটনা হলে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওইসব অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে কোনও কাজ হবে না। তখন বড় বিপর্যয় ঘটবে। যাই হোক বিষটি নজরে আসায়, নির্দিষ্ট জায়গাতে বলা হবে। কারণ, এর সঙ্গে আদালতের সকলের নিরাপত্তা জড়িয়ে রয়েছে। বারুইপুর মহকুমা আদালতের বড়বাবু সন্দীপ সরকার বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সেই কারণে আদালত থেকে এ নিয়ে পূর্ত দপ্তরের নির্দিষ্ট জায়গাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাতে তা পরিবর্তন করা হয়। এক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তবে তা ইচ্ছাকৃত নয় বলে জানান। তাঁর দাবি, আদালতে কাজের চাপ প্রচুর। তবে দ্রুত যাতে বিষয়টি হয়ে যায়, এজন্য সকলে তৎপর।

খাদিম মামলায় ধৃত নুরের প্যারোলের আবেদন খারিজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাদিম মামলায় ধৃত নুর মহম্মদের ১০ দিনের প্যারোলের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। আলিপুরের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অরুণকিরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওই আদেশ দিয়েছেন। তবে বিচারকের নির্দেশ, প্রয়োজনে জেল কোড অনুযায়ী কারা দপ্তরের আইজি’র কাছে ওই বন্দি এ বিষয়ে অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন। এই মামলার ‘বিশেষ’ সরকারি আইনজীবী নবকুমার ঘোষ শনিবার এই খবর জানিয়ে বলেন, ইতিমধ্যেই আদালতের ওই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আইজি (কারা)’র কাছে।

আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের ‘বিশেষ আদালতে’ ওই আবেদন করেছিলেন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা নুরের আইনজীবী আনিসুর রহমান। কিন্তু সরকারি আইনজীবী আদালতে ওই আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ওই বন্দিকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ঝুঁকি রয়েছে। আর তাছাড়া ওই বন্দি ১০ দিন প্যারোলে গেলে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ওই আবেদন খারিজ করা হোক। এরপরই বিচারক ওই আবেদন খারিজ করে দেন। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদিম মামলার অন্যতম এই অভিযুক্তকে এক সময় মুম্বই-এর একটি মামলায় সেখানে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কলকাতার আদালতে ওই অভিযুক্তকে হাজির না করানোর ফলে খাদিম মামলা বিঘ্নিত হয়। সরকারি আইনজীবী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, এই মামলার দ্রুত শেষ করতে। তাই এই অবস্থায় যদি ফের ধৃতকে জেল থেকে ১০ দিনের প্যারোল দেওয়া হয়, তাহলে ফের মামলা বিলম্বিত হবে। আর তাই সমস্ত দিক বিচার করেই ধৃতের ওই আবেদন নাকচ করার আবেদন জানানো হয়েছিল আদালতে।

মমতার দেখানো পথে মেদ ছাঁটল কেএমডিএ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে সংকোচন করে দিশা দেখিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই পথেই হাঁটল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা কেএমডিএ। সেখানে তিনটি দপ্তরকে গুটিয়ে দিয়ে, বাকি দপ্তরগুলিকেও সংযুক্ত করা হল। যে তিনটি দপ্তরকে তুলে দেওয়া হল তা হল, মেটেরিয়ালস প্রোকিওরমেন্ট সেক্টর, মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট সেক্টর এবং রিয়েল এস্টেট সেক্টর। এছাড়া বাকি দপ্তরগুলিকে মিশিয়ে দিয়ে দপ্তরের সংখ্যা কমিয়ে ছ’য়ে নিয়ে আসা হয়েছে। কেএমডিএ’র বোর্ড মিটিংয়ে এই সংকোচন পর্ব অনুমোদন করা হল। সেই সঙ্গে পরিষ্কারভাবে কেএমডিএ’র তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেক্টর সংকোচন করা হলেও কোনও কর্মী, অফিসার বা ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি যাবে না। কাজের সুবিধার জন্যই এই সংকোচন প্রক্রিয়া করা হয়েছে। প্রয়োজনে সেক্টরের অদলবদল হতে পারে।

কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন জল সরবরাহ ও নিকাশির জন্য আলাদা সেক্টর ছিল। দুটিকে এক করে নতুন সেক্টর হল, ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন সেক্টর। যারা জল সরবরাহ, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সিস্টেম দেখবে। রাস্তা ও উড়ালপুল তৈরির আলাদা আলাদা সেক্টর ছিল। যার নাম ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট সেক্টর। সেই সেক্টরের নাম বদলে হয়েছে রোডস অ্যান্ড ব্রিজ সেক্টর। কেএমডিএ’র অধীনে থাকা জমি, টাউনশিপ নিয়ে আলাদা আলাদা সেক্টর ছিল। তা একসঙ্গে যুক্ত করে করা হল এস্টেট অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সেক্টর। কল্যাণী, বারাকপুরসহ কয়েক জায়গায় আবাসন রয়েছে। মধ্যবিত্ত এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য আবাসন তৈরির জন্য আলাদা সেক্টর ছিল। এমনকী বিএসইউপি প্রকল্পের জন্য ছিল আলাদা সেক্টর। আবাসন তৈরির সঙ্গে যুক্ত সব রকমের দপ্তরকে এক করে করা হয়েছে হাউজিং সেক্টর। তারাই আবাসনগুলি উপর নজরদারি করবে এবং নতুন করে তৈরি করবে।

বিভিন্ন প্রকল্পের নজরদারি এবং সমন্বয়ের জন্য আলাদা দপ্তর ছিল। তা কমিয়ে একটি দপ্তর করা হল। যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট মনিটরিং অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন সেক্টর। সমস্ত রকম ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজকর্মকে এক জায়গায় নিয়ে এসে নতুন সেক্টর করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ইলেক্ট্রিক্যাল সেক্টর। মেটেরিয়ালস প্রোকিওরমেন্ট সেক্টর তুলে দিয়ে ঠিক হয়েছে, সেই সেক্টরের কাজ রোডস অ্যান্ড ব্রিজ সেক্টর করবে। বিভিন্ন পুরসভার কাজকর্ম দেখার জন্য এখন নতুন দপ্তর তৈরি হয়েছে, তাই মিউনিসিপাল ডেভেলপমেন্ট সেক্টর রেখে আর লাভ নেই বলে মনে করেন কেএমডিএ’র কর্তারা। তাই ওই সেক্টরকে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে তুলে দিয়ে হাউজিং সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কেএমডিএ’তে এই দপ্তরের সংকোচন হলেও, যাঁরা যে সেক্টরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন, তাঁদের নতুন সেক্টরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার বা ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ করা হবে। প্রয়োজনে নতুন পদ তৈরি করা হবে। নতুন সেক্টরের কাজকর্ম শুরু হবে ১ এপ্রিল। পুরোদমে কেএমডিএ’কে চাঙা করার জন্যই এটা করা হয়েছে বলে বোর্ড মিটিংয়ে জানান কেএমডিএ’র চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম। শুধু তাই নয়, কাজকর্মের ক্ষেত্রে সমবণ্টন করার জন্য কেএমডিএ’র কাজ কেএমডব্লুএসএ-কে দেওয়া হচ্ছে। তাদের ইতিমধ্যে হাওড়া, হুগলির জলসরবরাহ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই রকম ভাবে কেআইটি’কেও কাজ দিয়ে সচল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গোলমাল সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে
হাজিরা কম, ২১০০ টাকা জরিমানা দিয়ে ফরম পূরণ পরীক্ষার্থীদের!

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পর্যাপ্ত হাজিরা নেই। পরীক্ষায় বসতে গেলে দিতে হবে ২১০০ টাকা। তার প্রতিবাদ করতে গেলে গোলমাল বাধে সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে। যে সব পড়ুয়া এই টাকা দিতে অস্বীকার করেছেন, তাঁরাই অধ্যক্ষের ঘরের সামনে ধরনায় বসেছিলেন। অভিযোগ, তখনই ছাত্র সংসদের নেতারা এই ছাত্রছাত্রীদের উপর চড়াও হয়। ছাত্রীদের ধাক্কাধাক্কি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। অধ্যক্ষ দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, অভিভাবকদের বার্তা দিতেই ২১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পড়ুয়াদের অনেকবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা কর্ণপাত করেননি। অভিভাবকরাও কলেজে ছাত্রছাত্রীদের ভরতি করে দিয়ে দায় সেরেছেন। তারপর পড়ুয়ারা কলেজে আসছেন কি না, সেব্যাপারে তাঁরা কোনও খোঁজখবর নেন না। সেকারণেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।

কলেজ সূত্রে খবর, আগামী মাস থেকে শুরু হতে চলা বিভিন্ন সেমেস্টার মিলিয়ে প্রায় ৯০০ জন পরীক্ষায় বসবেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৮৩০ জন এমন ছাত্রছাত্রী আছেন, যাঁদের হাজিরা ৫৫ শতাংশের নীচে। এমন অনেক প্রার্থীই আছেন, যাঁদের আবার হাজিরা দুই থেকে শূন্য শতাংশ। নিয়ম বলে, পরীক্ষায় বসতে গেলে পড়ুয়াদের ৭৫ শতাংশ হাজিরা থাকতেই হবে।

তবে হাজিরা কম থাকলেও পরীক্ষায় বসার ঘটনা নতুন নয় এই কলেজে। গত কয়েক বছর এমন প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। জানা গিয়েছে, মোটা টাকা ফাইন দিয়ে অনেকেই পরীক্ষায় বসেছেন। এবারও সেরকমই হয়েছে। গতবার যেখানে ফাইন বাবদ ১০০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল, এবার তা এক ধাক্কায় চার হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু পরে, ছাত্র সংসদের সঙ্গে বৈঠক করে কলেজ কর্তৃপক্ষ তা ২১০০ টাকায় নামিয়ে আনে।

৬০০ জন ছাত্রছাত্রী এই টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু শনিবার প্রায় ৩০ জনের মতো পড়ুয়া অধ্যক্ষের ঘরের বাইরে ধরনায় বসেন। তাঁদের বক্তব্য, কেন এত টাকা নেওয়া হবে? কত টাকা নেওয়া হবে, তা অধ্যক্ষই বা কী করে একা ঠিক করলেন? ধরনা চলাকালীন ছাত্র সংসদের কিছু নেতা এই পড়ুয়াদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। যদিও তা অস্বীকার করেছে সংগঠন। কলেজের ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট তিতাস মান্না বলেন, কম হাজিরা থাকার কারণে, অনেকেই তো পরীক্ষায় বসতে পারছিলেন না। আমরা তো তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কিন্তু কেউ কেউ কলেজের বদনাম করার চেষ্টা করছে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, এত কম হাজিরা থাকার পরও কলেজ কর্তৃপক্ষ কী করে তাঁদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিচ্ছে। আর কেনই বা এত টাকা ফাইন নেওয়া হচ্ছে? দু’টি করা যায় না বলেই মত শিক্ষামহলের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এত টাকা কী করে তারা নিচ্ছে, আমরা তা জানি না। আর যাঁদের এত কম হাজিরা, তাঁদের পরীক্ষায় বসার কোনও অধিকার নেই।

ফরওয়ার্ড ব্লকের নতুন জেলা কমিটি উঃ ২৪ পরগনায়

বিএনএ, বারাসত: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই শনিবার দলের কাউন্সিল সভা থেকে উত্তর ২৪ পরগনায় ফরওয়ার্ড ব্লকের নতুন জেলা কমিটি গঠিত হল। জেলার যুব নেতা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের হাতে নতুন সম্পাদকের দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে। সকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলার জন্য ৮৮ জনের জেলা কমিটিকে এবার সংকুচিত করে ৫১ জনের নতুন জেলা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক কমলাক্ষী বিশ্বাসসহ নতুন জেলা কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন ৩৭ জন সদস্য। তার মধ্যে বেশিরভাগই বয়সজনিত কারণে অসুস্থ।

এদিন মধ্যমগ্রামের নজরুল মঞ্চে দলের কাউন্সিল সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বিশ্বাস এবং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য হাফিজ আলম সাইরানি ও নরেন চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ২১৬ জন প্রতিনিধি সভায় হাজির হয়েছিলেন। হরিপদ বিশ্বাস ছিলেন দলের দু’বারের জেলা সম্পাদক। তাঁকে জেলার সভাপতি করে সম্পাদকের পদে বসানো হয়েছে ৪৬ বছরের সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়কে। যিনি টানা ১২ বছর জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য রয়েছেন এবং তিনবারের বারাসত পুরসভার কাউন্সিলার। তার মধ্যে একবারের ভাইস চেয়ারম্যান। এবারের পুরসভা নির্বাচনেও তিনি তৃণমূলকে পরাস্ত করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাই তাঁকেই জেলা সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত করার জন্য দলের অন্দরেই দাবি উঠেছিল।

দলীয় সূত্রের খবর, সঞ্জীববাবু হরিপদবাবুর অনুগামী ছিলেন। দু’জনের সম্পর্কও ভালো। পদের প্রতি লোভ না দেখিয়ে হরিপদবাবু এক প্রকার স্বেচ্ছায় যুব নেতার হাতেই দায়িত্বভার ছেড়ে দিয়েছেন। এদিনের সভা থেকেও দেবব্রতবাবু ওই ব্যাপারে কুরনিশ করেছেন হরিপদ বিশ্বাসকে। এক নেতা বলেন, মঞ্চে দেবব্রত বিশ্বাস বলেই ফেলেছেন, চারিদিকে যখন ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সবাই ব্যস্ত, তখন হরিপদবাবু নিজের পদ অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন, এটা দৃষ্টান্ত। দলীয় সূত্রের খবর, ৫১ জনের যে নতুন জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে, তার মধ্যে ১৩ জন সদস্যকে নিয়ে নতুন জেলা সম্পাদকমণ্ডলী গঠন করা হয়েছে। আগে ১৮ জনের সম্পাদকমণ্ডলী ছিল। আবদুল বারি ছিলেন দলের জেলা সভাপতি। হরিপদ বিশ্বাসকে তাঁর পদে বসানোয় আবদুলসাহেবকে দলের জেলার কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

ডানকুনি পুরসভায় টাকা নয়ছয়, আজ কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক কল্যাণের

বিএনএ, চুঁচুড়া: ডানকুনি পুরসভায় নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের রেশ কাটার আগেই গরিব মানুষের জন্য বাড়ি তৈরির টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। সেই সূত্রে বিপাকে পড়েছেন শাসক দলের জেলা নেতৃত্ব ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জানা গিয়েছে, বারবার এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনুসন্ধানে রবিবার শ্রীরামপুরে নিজ অফিসে ওই পুরসভার সব কাউন্সিলারকে নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল সূত্রে খবর, কাউন্সিলাররা ছাড়াও ওই পুরসভার মনিটরিং কমিটির সদস্যদের সকাল ১১টায় ওই বৈঠকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এও শোনা গিয়েছে, দলের রাজ্য নেতারা বলার পরেও ক্যাশিয়ারকে কেন সরানো হল না, তা নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও একবার কাউন্সিলারদের একাংশ ওই বৈঠকে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই প্রসঙ্গে পুর-চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য বৈঠকে ডেকেছেন। তবে কী নিয়ে আলোচনা, তা বলতে পারব না। মাঝেমধ্যেই তিনি আলোচনায় ডাকেন। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিইউএসপি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনা করেই ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। এরপর কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনার জন্যই সংসদ সদস্য রবিবারের আলোচনায় ডেকেছেন।

গত বছরের জুলাই মাসে ওই পুর-চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন শাসক দলেরই কাউন্সিলারদের একাংশ। জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তাঁরা চেয়ারম্যানকে সরানোর দাবিও তুলেছিলেন। সেই সূত্রে ১৩ আগস্ট মুকুল রায়, হুগলির দলীয় পর্যবেক্ষক তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধায়ক স্বাতী খন্দকারকে চেয়ারম্যান করে মনিটরিং কমিটি গঠন করেন। কিন্তু তার কয়েক মাসের মধ্যেই বিএসইউপি প্রকল্পে ৮৫ লক্ষ টাকার গোলমাল নজরে আসে কাউন্সিলারদের। পুরসভার হিসাবরক্ষক সুনীল মণ্ডল প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে লিখিতভাবে বিষয়টি পুরপ্রধান, উপপুরপ্রধান, ফিনান্স অফিসার, এগজিকিউটিভ অফিসার এবং স্থানীয় বিধায়ককে জানান। ফলে পুরসভার পর্যবেক্ষক কমিটির প্রধান স্বাতী খন্দকার ৩ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে চেয়ারম্যান গরহাজির ছিলেন। সেই সূত্রে তাঁর মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে কাউন্সিলারদের একাংশ অভিযোগ তোলেন। শুধু তাই নয়, হিসাব চেয়ে চেয়ারম্যানকে চিঠিও দেন। যার প্রতিলিপি দলের জেলা ও রাজ্য নেতাদের কাছে পাঠানো হয়। এই অবস্থায় একপ্রকার বাধ্য হয়ে ক্যাশিয়ারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন পুরপ্রধান। কিন্তু, জবাব আশানুরূপ না হওয়ায় সংসদ সদস্যের নির্দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার তাঁকে শো-কজ করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন পুরপ্রধান। কিন্তু অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তিন দিন কেটে গেলেও ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন কাউন্সিলারদের একাংশ।

পাখির চোখ পঞ্চায়েত নির্বাচন, তৃণমূলের হুগলি জেলা সম্মেলন এবার চণ্ডীতলায়

বিএনএ, চুঁচুড়া: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গ্রামীণ এলাকাতেই এবার জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। ২ এপ্রিল চণ্ডীতলায় এই সম্মেলন হবে বলে শনিবার বর্ধিত জেলা কমিটির বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রতিটি বুথে আগামী এক মাস ধরে প্রচার, দেওয়াল লিখন ও পথসভা করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত। পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেই একটি করে সম্মেলনের গেট তৈরির নির্দেশ দেন। তবে সম্মেলনের নাম করে কোথাও কোনও বিল ছাপিয়ে চাঁদা তোলা যাবে না বলে জানিয়ে দেন তপনবাবু। তিনি বলেন, এই ধরনের কোনও অভিযোগ দলের কাছে এলে দল কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, জেলা কমিটির বর্ধিত সভায় জেলা কমিটির সদস্য, সমস্ত বিধায়ক, সংসদ সদস্য, শাখা সংগঠনের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তাই বৈঠক থেকে জেলা সম্মেলনের পাশাপাশি পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন জেলা নেতারা। তবে এদিনের বৈঠকেও দিন দিন বেড়ে চলা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলা নেতাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, যে সমস্ত এলাকায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট, বেছে বেছে সেই সব এলাকাগুলিতেই বিজেপি এবং আরএসএস তাদের প্রভাব বিস্তার করছে। তাই এখনই সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে দলকে সমস্যায় পড়তে হবে বলে দাবি করেন এক জেলা নেতা। পাশাপাশি বেনো জলের মতো সিপিএম থেকে আগতদের দলে নিয়ে বিভিন্ন চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্দিনের বহু কর্মী মর্যাদা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন এক জেলা নেতা। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমানে যে লোকবল রয়েছে, তাতে দল ভাঙিয়ে সিপিএম নেতাকর্মীদের না এনে নিজেরা ঠিকমতো কাজ করলেই বিরোধীরা খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন ওই নেতা। পাশাপাশি তাঁর এই প্রস্তাবটি ভেবে দেখার জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসাবে এখন থেকেই পঞ্চায়েত ও বুথভিত্তিক উন্নয়নের খতিয়ান তৈরি করে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে তা তুলে ধরার প্রস্তাব দেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ।

হিডকোর আবাসন চত্বরে পশুদের খোঁয়াড়, হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা

পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সরকারি আবাসন চত্বরে অসুস্থ, আহত পশুদের খোঁয়াড়। আয়তনে প্রায় ৪৪ কাঠা। রাত বাড়লে সেখানকার কুকুরদের চিৎকারে আবাসনের বাসিন্দাদের রাতের ঘুম মাথায় ওঠার জোগাড় হয়। এই আবাসনটি হিডকোর। ঠিকানা আধুনিক কলকাতার নিউটাউন। অথচ রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন ওই সংস্থা সেখানকার বাসিন্দাদের আবেদন-নিবেদন অগ্রাহ্য করে এসেছে। এমন অভিযোগে হওয়া জনস্বার্থ মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হল ওই সংস্থাকে। এজলাসে উপস্থিত এক সরকারি আইনজীবীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার উদ্যোগ নিতে বলল বেঞ্চ।

এই পরিস্থিতিতে নিউটাউন ১বি ব্লক ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন যে তথ্য বেঞ্চের সামনে পেশ করেছে, তা যেমন বিস্ময়কর, তেমনই বিচিত্র। মামলায় বিবাদী হিসাবে রয়েছে হিডকো এবং নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। মামলার বয়ান অনুযায়ী, হিডকোর এই আবাসনে ১৮৮ জন ফ্ল্যাট অথবা প্লটের মালিক হিসাবে রয়েছেন। আগ্রহীদের হাতে ফ্ল্যাটগুলি তুলে দেওয়ার আগে হিডকোর নথিতে বলা হয়েছিল, মোট জমির ছয় শতাংশ সামাজিক কাজকর্মের জন্য বরাদ্দ থাকবে। থাকবে সবুজ বনানী, মনোরঞ্জন পার্ক এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জায়গা। কিন্তু শুরুতে এসবের কিছুই হয়নি। পরে দেখা যায়, সোনাটা ফাউন্ডেশন নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সেখানে ঘাঁটি গেড়েছে। অসুস্থ, রুগ্ণ গোরু, ঘোড়া, কুকুর এ঩নে সেখানে রাখা হচ্ছে। আবাসন এলাকার মধ্যে এমন কাণ্ড মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বলেই হিডকোর কাছে বারংবার ওই অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ জানাতে থাকে। ফল না হওয়ায় সম্প্রতি তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।

মামলাকারীর তরফে আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় আদালতকে জানান, পরিকল্পিত নগর হিসাবে যে নিউটাউন গড়ে উঠছে, তারই মধ্যে রয়েছে এই আবাসন। এতদিন যে আবাসনের আশপাশে যত্রতত্র গোরু, শূকর ঘুরে বেড়াত। এদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। কিন্তু, কেউ এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করছে না। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে এই ভয়ংকর উৎপাত। অভিযোগ জানানোর পরেও হিডকো নির্লিপ্ত। খোঁয়াড়ে আটকানো অজস্র কুকুরের টানা চিৎকারে বাসিন্দাদের মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। অথচ শান্তিতে বসবাস করা প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি সূত্রে জানা যায়, মামলা-মোকদ্দমার জেরে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সেখান থেকে সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু, অজ্ঞাত কোনও আশীর্বাদে তারা সেখানে রয়ে গিয়েছে। বেঞ্চের ক্ষুব্ধ প্রশ্নের জবাবে হিডকোর তরফে বলা হয়, এই আদালত নির্দেশ দিলেই সংস্থাটিকে উৎখাত করা হবে। বেঞ্চ পালটা জানতে চায়, বেআইনিভাবে যারা আছে বলে নির্ধারিত হয়ে আছে, তাদের তোলার জন্য আদালতের নির্দেশ কেন লাগবে? এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সংস্থাটির আইনজীবী জানান, ওই খোঁয়াড়ে ২৮টি আহত গোরু, নির্বীজকরণ করা বেশ কয়েকটি কুকুর রয়েছে। যে প্রাণীগুলিকে আচমকা রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া যায় না। এতবড় না হলেও ৩০ কাঠার মতো জমি হলেই তাদের চলে যাবে।

এমন বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে বেঞ্চ বলেছে, প্রাণীগুলিকে সামনে রেখে এভাবে আশ্রয় চাওয়া যায় না। ক্ষুব্ধ বেঞ্চ হিডকোর উদ্দেশে বলেছে, কেন তারা উপযুক্ত পদক্ষেপ করছে না, তার কারণ জানা দরকার। বিশেষত নিম্ন আদালত থেকে ওই জমি ফাঁকা করার নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর। এই অবস্থায় এজলাসে হাজির সরকারি আইনজীবীকে বেঞ্চ বলেছে, ওই খোঁয়াড়ে থাকা প্রাণীগুলিকে অন্য কোথায় পাঠানো যায়, তার খোঁজ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির দিন জানাতে হবে। সম্ভব হলে প্রাণীগুলিকে অন্য কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হেপাজতে পাঠাতে হবে। দুই সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি।

রাজারহাট-গোপালপুর
প্ল্যান তৈরির এক বছর আগেই তাতে অনুমোদন!

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি হয়েছে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। কিন্তু, ওই বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ২০১৪ সালের ১৭ জুন। এমনই আজব ঘটনা ঘটেছে পূর্বতন রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভায়। রাজারহাট এলাকায় বেআইনি বিল্ডিং নিয়ে তদন্তে নেমে এমনই তথ্য হাতে পেয়েছেন বিধাননগর পুরসভার অফিসাররা। ইতিমধ্যেই ওই প্রোমোটারকে সমস্ত আসল অনুমোদনের তথ্য নিয়ে পুরসভায় কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, প্রশ্ন উঠেছে, যে বিল্ডিং প্ল্যান ২০১৫ সালে তৈরি করা হয়েছে, সেটির অনুমোদন ২০১৪ সালে কী করে দেওয়া হল? এই ঘটনার মধ্যে থেকেই জাল বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের অভিযোগ আরও ভালোভাবে প্রমাণ হচ্ছে বলেই পুরসভার অফিসাররা মনে করছেন। তাঁরা বলেছেন, রাজারহাট এলাকায় এই রকম বহু বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদনে গরমিল রয়েছে। তাই পুরানো রেজিস্টার দেখে সমস্ত প্ল্যান যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোনও প্ল্যানের ক্ষেত্রে অনিয়ম চোখে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

বিধাননগর পুরসভার ডেপুটি মেয়র তথা পূর্বতন রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরসভার কমিশনার বিল্ডিং প্ল্যানের তদন্ত করছেন। তিনি ইতিমধ্যেই কয়েকজন প্রোমোটারকে ডেকে কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয়।

রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ পুরসভায় জমা হয়েছে। পুরসভার মেয়রের কাছে এই এলাকার বহুতল নিয়েই সবচেয়ে বেশি অভিযোগ। অভিযোগ, ১০ ফুট রাস্তার উপরও পাঁচ তলা বিল্ডিং তৈরি হয়ে যাচ্ছে। যদিও সরকারি নিয়মানুযায়ী ১৫ ফুট রাস্তার উপর চারতলার বেশি বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া যায় না। কিন্তু, পুরসভার ১২, ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাঙের ছাতার মতো বহুতল গজিয়ে উঠছে। কীভাবে একের পর এক বহুতল নিয়ম না মেনে গড়ে উঠছে, তা নিয়ে পুরসভার অফিসাররাই তাজ্জব বনে গিয়েছেন। তাই সব অভিযোগেরই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সল্টলেকের ৩৫টি বাড়ি ও বহুতলের বিরুদ্ধে বিধাননগর (দক্ষিণ) থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পুরসভা। বেআইনিভাবে বহুতল তৈরি হয়েছে, এমন অভিযোগের পক্ষে তথ্য পাওয়া গেলে, ওইসব বহুতলের প্রোমোটারের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে পুরসভার কর্তারা জানিয়েছেন।

পুরসভার অফিসাররা ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পেরেছেন, রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার একটি বহুতলের তৎকালীন পুরসভার পক্ষ থেকে ২০১৪ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, ওই বিল্ডিংয়ের প্ল্যান তৈরি হয়েছে ২০১৫ সালে। বিল্ডিং প্ল্যান তৈরির সময়ে যে স্ট্যাম্প দেওয়া হয়, সেখানেই ওই তারিখ উল্লেখ আছে। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, যে বিল্ডিং প্ল্যান তৈরিই হয়নি, তার অনুমোদন কী করে হয়ে গেল? তাহলে কি প্ল্যান ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল? নাকি সই জাল করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে? পুরসভার অফিসাররা বলেছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৎকালীন পুরসভার রেজিস্টারও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কম্পিউটারে বিল্ডিং প্ল্যানের যে রেকর্ড আছে, তার সঙ্গে রেজিস্টারের রেকর্ড এক কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্ল্যানের আসল কপি দেখানোর জন্য অভিযুক্ত প্রোমোটারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুরসভার কর্তারা বলেন, কোনও বিল্ডিং তৈরি হয়ে গেলে বা সেখানে লোকজনের বসবাস শুরু হয়ে গেলে তা ভাঙা কার্যত অসম্ভব। কিন্তু, অভিযুক্ত প্রোমোটারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যায়। পুর আইনে তা রয়েছে। এক্ষেত্রেও যে বিল্ডিংগুলিতে লোকজন বসবাস করতে শুরু করে দিয়েছে, সেখানে অভিযুক্ত প্রোমোটারের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তও হয়েছে।

গড়ে উঠছে নয়া ভাগাড়, তৈরি হবে গ্যাস, সার
পানিহাটিতে জঞ্জাল ফেলার জন্য জমি চিহ্নিত করল কেএমডিএ

বিএনএ, পানিহাটি: পানিহাটি পুরসভা এলাকার জঞ্জাল ফেলার জন্য নতুন জায়গা চিহ্নিত করেছে কেএমডিএ। সেই জঞ্জাল থেকে গ্যাস, সার তৈরি করা হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। কেএমডিএ এই প্রকল্পের কাজ করবে। ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগের মতো রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে, ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলা হলেও সেখানে নিয়মিত ব্লিচিং না ছড়ানোর কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে, দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে। এমনই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। যদিও পুরসভার কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পানিহাটি পুরসভা এলাকায় জঞ্জাল মস্তবড় সমস্যা। রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলার জন্য মাত্র দু-একর জমি বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জঞ্জাল ফেলার কারণে আবর্জনা পাহাড় তৈরি হয়েছে। জঞ্জালের দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। এলাকার বাসিন্দারা জোটবদ্ধ হয়ে বেশ কয়েক বছর আগে ভাগাড় উচ্ছেদ কমিটি তৈরি করে। অন্যত্র জঞ্জাল ফেলার জন্য তাঁরা বহুবার পুরসভার কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। কিন্তু, তাতে কাজ না হওয়ায় উচ্ছেদ কমিটির লোকজন রাস্তায় নেমে এক সময় আন্দোলনও করে। আন্দোলনের জেরে এক বছরের বেশি সময় সেখানে পুরসভা জঞ্জাল ফেলতে পারেনি। বিটি রোডের ধারে তখন ডাঁই করে নোংরা, জঞ্জাল ফেলা হত। যদিও পরবর্তীকালে পুরসভা ও ভাগার উচ্ছেদ কমিটি বৈঠকে বসে সমাধান সূত্র বের করে। ঠিক হয়, পুরসভার পক্ষ থেকে বিকল্প জমি খোঁজা হবে। সেখানেই জঞ্জাল ফেলার ব্যবস্থা করা হবে। সেই মতো স্থানীয় বিধায়ক নির্মল ঘোষ উদ্যোগ নিয়ে কেএমডিএ’র সঙ্গে কথা বলেন। গত ডিসেম্বর মাসে কেএমডিএ’র আধিকারিকরা পানিহাটিতে জমি পরিদর্শনে আসেন এবং পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ একর জমি এই প্রকল্পের জন্য তাঁরা চিহ্নিত করেন। ঠিক হয়েছে, পুরসভার সমস্ত জঞ্জাল রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ের পরিবর্তে ওই জমিতেই ফেলা হবে। এছাড়া মহিষপোতায় আগে থেকেই পুরসভার নিজস্ব জমি রয়েছে। সেখানে জঞ্জাল থেকে গ্যাস তৈরির মেশিন বসানো হবে।

রামচন্দ্রপুর ভাগাড় উচ্ছেদ কমিটির আহ্বায়ক শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা পুরসভাকে একাজে সহযোগিতা করতে চাই। তারা বিকল্প জায়গা খুঁজে সেখানে জঞ্জাল ফেলবে বলে ঠিক করেছে। কেএমডিএ’র আধিকারিকরা এসে আমাদের নতুন প্রকল্পের কথাও জানিয়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাগাড়ে জঞ্জাল ফেলার সময়সীমা থাকলেও পুরসভা এই উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা সেখানে জঞ্জাল ফেলার জন্য আরও কিছুদিন সময় দেব। কিন্তু, জঞ্জাল ফেলার পর নিয়মিত ব্লিচিং ছড়ানোর কথা। কিন্তু, এখানে তা হচ্ছে না। ফলে আমাদের চরম সমস্যা হচ্ছে। পুরসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল (জঞ্জাল) হিমাংশু দেব বলেন, স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে। নতুন জায়গায় জঞ্জাল ফেলা, জঞ্জাল থেকে গ্যাস, সার তৈরির করার নতুন প্রকল্প বাবদ প্রায় ১২ কোটি খরচ হবে। অর্থ দপ্তর তা অনুমোদন করবে বলে জানা গিয়েছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে। রামচন্দ্রপুর ভাগাড়ে ব্লিচিং ছড়ানোর জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে সেখানে আলাদা করে কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। তাই ব্লিচিং না ছড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে ওয়াটগঞ্জে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল ওয়াটগঞ্জে। কবিতীর্থ সরণির বাসিন্দা শাহনওয়াজ খানের অভিযোগ, এক ব্যক্তি নিজেকে টাটা ক্যাপিটালের লোক পরিচয় দিয়ে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে দু’টি ব্ল্যাঙ্ক চেক সংগ্রহ করেন। এরপরে তিনি লক্ষ করেন, ২০-২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা রাতারাতি গায়েব। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ। কলকাতা পুলিশ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

সাগর দত্ত হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে বৈঠক

বিএনএ, বারাকপুর: শনিবার কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। বৈঠকে ওষুধের জোগান কম, সীমানা প্রাচীর এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক তাপস রায় বলেন, হাসপাতালে চাহিদা অনুযায়ী কিছু ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পেয়েছিলাম। এদিন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসলে হাসপাতালে আগের থেকে রোগী সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে ওষুধের চাহিদাও অনেক বেড়ে গিয়েছে। কখনও কখনও ওষুধ সরবরাহ করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে, এখন আর হাসপাতালে কোনও ওষুধের ঘাটতি নেই। হাসপাতাল জুড়ে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র বসানো হয়েছে। হাসপাতালের চারিদিকে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তা দেখার জন্য চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছি।

বারাসতে প্রকাশ্যে গায়ে আগুন, আত্মঘাতী বৃদ্ধ

বিএনএ, বারাসত: অসুস্থতার কারণে বারাসতের রাজা রামমোহনপল্লির সরোজ পার্ক এলাকায় প্রকাশ্যে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক বৃদ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শান্তিরঞ্জন বিশ্বাস (৭০)। ওই এলাকাতেই তাঁর বাড়ি। তিন বছর ধরে তিনি কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর ডায়ালিসিস চলছিল। সাতদিন আগে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিন সকাল ৬টা নাগাদ বাড়ি থেকে কেরোসিন নিয়ে বাইরে বের হন। তারপর একটি গলিতে দাঁড়িয়েই গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রথমে কেউ লক্ষ্য করেনি। পরে যখন স্থানীয়দের নজরে আসে, ততক্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছেন। তাতে তিনি অসুস্থতার কথা লিখেছেন।

হুমকি-এসএমএস, বালিতে গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাঁচ লক্ষ টাকা তোলা চেয়ে এবং মেয়েকে অপহরণ করার হুমকি দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এফসিআই-এর আধিকারিককে এসএমএস পাঠানোর ঘটনায় বালি থানার পুলিশ রাজু মোরে নামে এক গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করেছে। গত দেড় বছর ধরে রাজু ওই অবসরপ্রাপ্ত এফসিআই অফিসারের গাড়ি দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে চালাচ্ছিল। শুক্রবার রাতে বালির মনমোহন মুখোপাধ্যায় রোডের বাড়ি থেকে পুলিশ রাজুকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজু মোরে পুলিশের জেরায় জানিয়েছে, তার ৫০ হাজার টাকা খুব দরকার ছিল। সম্প্রতি সে একটি সিমকার্ড কুড়িয়ে পায়। সেই সিম কার্ড মোবাইলে লাগিয়ে সে এসএমএস করে।

শ্রীসত্য সাঁই অম্রুথামে বিনামূল্যে চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার সল্টলেকে শ্রীসত্য সাঁই অম্রুথামে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষ বহির্বিভাগ কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন টাটা মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর ডাঃ ভি আর রমন। এই কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষ রোগের চিকিৎসা হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বৈঠক থাকায় তিনি থাকতে পারেননি।

আমডাঙায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে গণস্বাক্ষর

বিএনএ, বারাসত: ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের ইস্যুতে আমডাঙার জমির মালিক ও দোকানদারদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেস (গ্রামীণ) নেতৃত্ব। শনিবার আমডাঙার আদহাটা মোড় এলাকায় দলের প্রতিনিধিরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে নামেন। সেখানে দলের জেলা সভাপতি অমিত মজুমদার, সম্পাদক সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ, প্রদেশ কমিটির সম্পাদক শেখ নিজামউদ্দিন, প্রদেশ ছাত্র পরিষদের সভাপতি আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক অসিত মিত্রসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র পরিষদও রাজ্যজুড়ে গণস্বাক্ষর অভিযানে নামবে।

 




 

?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta