রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

বউভাতের সাজে

কেমন হবে বরের সাজ জানাচ্ছেন ডিজাইনার অভিষেক দত্ত।

বিয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ হল বরের পোশাক। বিয়েতে ধুতি, পাঞ্জাবি পরা বাঙালির ঐতিহ্য। কোঁচানো ধুতি পরতে পুরুষরা আজও খুব পছন্দ করেন। লাইট সিল্কের ঘি বা অফ হোয়াইট কালারের কুর্তায় হালকা থ্রেড ওয়ার্কের কাজ থাকতে পারে। সঙ্গে কনের বেনারসি ম্যাচিং উইভিং বা হালকা এমব্রয়ডারির বর্ডার দেওয়া রেড, মেরুন, ব্রাউন কালারের ধুতি পরা যেতে পারে। আমি কুচিতে কোনও বর্ডার ব্যবহার করি না। কারণ প্লিট করলে কাজটা সব সময় বোঝা যায় না। এদিন বরের পায়ে কোলাপুরি চপ্পল বা মুজরি ভালো লাগে।
বউভাতের দিন কুর্তার সঙ্গে ধুতি বা চুড়িদার পরা যেতেই পারে। যেহেতু এখন ঠান্ডা তাই সঙ্গে ক্রাশড জর্জেটের বা সিল্কের উইভিং স্টোল অথবা পশমিনা শাল নেওয়া যেতে পারে। আঙরাখা অথবা নর্মাল কুর্তা পরা যেতে পারে। রেড, মেরুন কুর্তার সঙ্গে ব্ল্যাক ধুতি অথবা নেভি ব্লু কুর্তার সঙ্গে অফ হোয়াইট বা বেজ ধুতি পরা যেতে পারে। এছাড়াও রাস্ট, মেরুন, ব্ল্যাক কালারের ধুতির সঙ্গে কনট্রাস্ট কুর্তা পরা যেতে পারে। তবে হলুদ কুর্তার সঙ্গে চুড়িদারের কালার হবে বেজ বা অফ হোয়াইট অর্থাৎ নিউট্রাল কালারের। আর যদি রিসেপশন আলাদা হয় সেক্ষেত্রে ওয়েস্টার্ন পরতে ছেলেরা বেশি পছন্দ করেন। স্লিম ফিট প্যান্টের সঙ্গে সিঙ্গল বটমের থ্রি পিস স্যুট ওয়েস্ট কোট দিয়ে পরতে পারেন। স্যুটের ক্লাসিক কালার হল ব্ল্যাক, ব্লু, চারকোল গ্রে, ব্রাউন ইত্যাদি। সঙ্গে কনের শাড়ির কালারের ম্যাচিং করে পকেট স্কোয়ার নিতে পারেন এবং পায়ে নর্মাল পয়েন্টেড শ্যু পরতে পারেন। আবার স্যুট পরতে না চাইলে ব্ল্যাক, ইয়ালো, নেভি ব্লু, রাস্ট ইত্যাদি সিঙ্গল কালারের বন্ধগলা পরতে পারেন সঙ্গে স্লিমপ্যান্ট রইল। বন্ধগলার বুকের কাছে একটা ব্রোচ লাগানো যেতে পারে। কেউ যদি কাজ করা বন্ধগলা পরতে চান সেক্ষেত্রে টোন অন টোন হালকা সুতোর কাজ করা বন্ধগলা পরতে পারেন। পায়ে পয়েন্টেড ব্ল্যাক শ্যু পরলে সম্পূর্ণ সাজপোশাক ব্যালান্সে থাকবে। অনুলিখন: চৈতালি দত্ত

কেমন হবে কনের সাজ
জানাচ্ছেন মেকআপ শিল্পী অনিতা সাধুখাঁ।

 প্রথমেই মনে রাখতে হবে কালোকে সাদা করা যায় না।
 মেকআপ হবে স্কিন টোন অনুযায়ী।
 গায়ের রং চাপা হলেও ডার্ক শেডের পোশাক পরতে পারেন।
 শাড়ি অনুযায়ী গয়না বেছে নিন। বিয়েতে পাওয়া সব গয়না একসঙ্গে পরবেন না।
 স্কিন টোন অনুযায়ী বেসমেকআপ করে শাড়ি অনুযায়ী আই শ্যাডো লাগান।
 সবুজ, নীল বা সোনালি শাড়ি হলে লালের সঙ্গে গ্রে মিশিয়ে স্মাজ করুন। নীলের কম্বিনেশন হলে পিঙ্ক শ্যাডো লাগান। ফর্সা হলে লাগান রানি ঘেঁষা পিঙ্ক।
 চোখ বড় হলে সরু করে আর ছোট হলে মোটা করে কাজল পরুন। সঙ্গে ডবল কোটেড মাসকারা। বিয়ের দিন কালো আইলাইনারই পরুন। তবে মুখের সঙ্গে মানালে পরতে পারেন গ্লিটারি লাইনার।
 কালোরা উজ্জ্বল লাল বা পিঙ্কের কোনও শেডের লিপস্টিক অ্যাভয়েড করুন। বরং ম্যাট ফিনিশ রেড বা বাস্ট ভালো মানাবে। চকচকে গ্লস ব্যবহার করবেন না।
 মুখের আদল বুঝে চন্দন পরুন। ছোট কপলে হলে বিন্দির চারপাশে হালকা চন্দন পরুন। আবার কনের টিকলি বড় হলেও চন্দন হবে হালকা।
 মুখ অনুযায়ী চুলে মিডল পার্ট করে নিন। ক্রাউন বা টায়রা, টিকলি যে গয়না কনে পরবেন তার সঙ্গে মানিয়ে উঁচু করে নিতে হবে।
 শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে ফুল লাগান। না পাওয়া গেলে ব্যবহার করুন
সাদা ফুল।
 রিসেপশনে শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে নীল বা সবুজ লাইনার ব্যবহার করুন।
 বউ ভাত বা রিসেপশনে কনে চুলে লম্বা বিনুনি করে ফুল লাগাতে পারেন।
 ছোট চুল হলে কার্ল করে ছেড়ে রাখতে পারেন। ফ্রেঞ্চ রোল করে একদিকে ফুল লাগাতে পারেন। সাইড পার্টিং করে চুল ফুলিয়েও বাঁধা যায়।
 যেটুকু ক্যারি করতে পারবেন
সেটুকু সাজুন।
 কাউকে দেখে নকল করবেন না।
 বিয়ের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে জেনে নিন আপনাকে কোনটা মানাবে।
 চেহারা অনুযায়ী শাড়ি পরুন। খুব মোটারা বাঙালি কায়দায় শাড়ি পরলে কিন্তু আরও মোটা লাগে।

আজ বাদে কাল বিয়ে

তিরন্দাজ রাহুল বন্দ্যেপাধ্যায়ের বিয়ের খবরে চৈতালি দত্ত।

অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত ভারতীয় তিরন্দাজ রাহুল বন্দ্যেপাধ্যায়ের শুভ পরিণয় হবে আগামীকাল। নয় বছর কোর্টশিপ চলার পর ভালোবাসার পরিপূর্ণতা পাবে। পাত্রী মধুবন্তী ভট্টাচার্য। বিবাহ আসর বসবে বেঙ্গল অম্বুজার উল্লাসে। রাহুলের বিয়ে ও রিসেপশনের পোশাক তৈরি করেছেন ডিজাইনার অভিষেক রায়। মেরুন সুতোর কাজ করা তসর কালারের ধুতি, পাঞ্জাবির সঙ্গে প্লেন কোলাপুরি চপ্পল, গলায় সোনার হার, বাঁ হাতে টিস্ট ব্র্যান্ডের ঘড়ি বিয়েতে পরবেন রাহুল। বর কনের আশীর্বাদ হবে বিয়ের দিন। এমন কথা বললেন রাহুল। তবে বিয়ের দিন মধুবন্তীকে দেখা যাবে জরির বুটি দেওয়া লাল রঙের বেনারসিতে। সঙ্গে ডিজাইনার রাজ মুখোপাধ্যায়ের তৈরি গ্রিন ব্লাউজ ও দোপাট্টা। থাকবে সোনার ট্র্যাডিশনাল গয়না—গলায় চওড়া হার, হাতে শাঁখা, পলা, চূড়, বালা, আড়াই প্যাঁচ, আংটি, কানে ঝুমকো, কপালে টিকলি ইত্যাদি। সেই সঙ্গে মেকআপ ও কেশবিন্যাসে তিনি হয়ে উঠবেন বাঙালি বধূ। রিসেপশনের দিন অফ হোয়াইট আর হলুদ রঙের কম্বিনেশনে সুতোর কাজের বন্ধ গলা ও চোস্ত পরবেন রাহুল। পায়ে থাকবে নাগরা। বিয়ে ও রিসেপশনে দু’দিন চশমার পরিবর্তে রাহুলের চোখে থাকবে লেন্স। দিল্লি থেকে কেনা স্টোন ও জরির কাজ করা ভেলভেটের ওয়াইন কালারের লেহেঙ্গা পরবেন মধুবন্তী। এদিনের মেকআপের দায়িত্বে আছেন মেকআপ আর্টিস্ট অভিজিৎ চন্দ। সোনার গয়নার সঙ্গে থাকবে অল্পবিস্তর কুন্দনের গয়না। পায়ে হাই হিলস, হাতে ক্লাচ শোভা পাবে।

চরিত্র যেমন সাজ তেমন

পরিচালক রাজা চন্দের আমার আপনজন ছবির শ্যুটিং এখন জোরকদমে চলছে।
ছবির পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন প্যানজি সাহা। খবরে চৈতালি দত্ত।

‘আমার আপনজন’ ছবির শ্যুটিংয়ের ফাঁকে ছবি নিয়ে পরিচালক রাজা চন্দের কাছ থেকে জানা গেল যে, মানুষের জীবন একটা জার্নির মতো। ছবির নায়ক জয় তার ফেলে আসা জীবনে যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং যে সময় সে অতিবাহিত করেছে তারাই তার আপনজন। সেই স্মৃতিচারণা থেকেই এই ছবির কাহিনির বিস্তার। জয় আপনজনের খোঁজে বেরিয়েছে। জয়ের স্কুল, কলেজ ও কর্মজীবন এই তিনটে জীবনের তিনটি কাহিনি নিয়ে ছবির গল্প। যেখানে জয়ের জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা নারী, পুরুষ নির্বিশেষে এসেছে। জীবনে অনেক সম্পর্ক আসে যায়। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে গেলেই সব শেষ হয় না। সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব ভেঙে গেলে জীবন কখনও থেমে থাকে না। শেষ থেকেও আবার শুরু করা যায়। ব্যস এতটুকু গল্প বলে থামলেন পরিচালক। এই মূহুর্তে এর থেকে বেশি গল্প বলতে তিনি নারাজ।
জয়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন সোহম চক্রবর্তী। অন্য শিল্পীরা হলেন শুভশ্রী, ঐন্দ্রিতা, প্রিয়াংকা সরকার, পিয়ান সরকার, সানি, কল্যাণী মণ্ডল, খরাজ মুখোপাধ্যায়, সৌরভ প্রমুখ।
জয় একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ। যে বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে চাকরি করে। জয়ের পোশাকের ব্যাপারে কস্টিউম ডিজাইনার প্যানজির থেকে জানা গেল যে জয়রূপী সোহমকে কলার টিশার্টের সঙ্গে ডেনিম বা কটনের শর্ট কুর্তার ডেনিম, সেমি ফর্ম্যাল শার্টে দেখা যাবে। আবার কখনও ফুলস্লিভ রাউন্ড নেকের টি শার্টেও তিনি ধরা দেবেন। তাঁর পোশাকের কালার প্যালেট হোয়াইট, ইয়ালো, গ্রিন, ব্ল্যাক, ব্লুইশ টোন ইত্যাদি। সঙ্গে বাঁ হাতে মেটাল বেল্টের স্পোর্টস লুকের বিগ ডায়ালের ঘড়ি থাকবে। চোখে ব্ল্যাক কালারের স্কোয়ারিশ ফ্রেমের চশমা, পায়ে কখনও লোফারস, ক্যাজুয়াল শ্যু বা ক্যানভাসে তিনি ধরা দেবেন। অন্যদিকে, স্ত্রী অর্থাৎ শুভশ্রী একজন আধুনিকা। তিনি কনট্রাস্ট কালারের কুর্তির সঙ্গে লেগিংস কখনও পরবেন। আবার কখনও কলার দেওয়া বা হাইনেকের লুজ ডটেড লং লেংথের পাঞ্জাবি স্টাইলের কুর্তির সঙ্গে পালাজোতে তাঁকে দেখা যাবে। তাঁর সাজপোশাকে রুচিসম্মত ব্যাপার আছে। আবার তিনি জিনসের কুর্তিও পরেন। তবে তাঁর কপালে সবসময় একটা কালো বিন্দি থাকে। তিনি এনজিও সংস্থা চালান এবং চাকরিও করেন। ব্ল্যাক ফ্রেমের তিনি চশমা পরেন। কানে ছোট দুল বা কখনও গলায় হার অথবা হাতে একটা ব্যাঙ্গেল পরেন। ফ্ল্যাট চটি বা কোলাপুরি নাগরা তাঁর পায়ে দেখা যাবে। আবার পিয়া ওরফে প্রিয়াংকাকে খুব সিম্পল লুকে শাড়ি এবং সালোয়ার কামিজে দেখা যাবে।
তাঁর পোশাকের কালারে প্যাস্টেল শেড থাকলেও ডাল কালার ব্যবহার করা হয়েছে। ছোট ফ্লোরাল প্রিন্টেড ছাপা শাড়ি যেমন তিনি পরবেন, আবার নর্মাল সালোয়ারের সঙ্গে কনট্রাস্ট দোপাট্টা দিয়ে হাঁটু অবধি লম্বা কামিজও পরবেন। সায়নী অর্থাৎ ঐন্দ্রিতাকে শিফন, জর্জেটের সিঙ্গল কালারের সালোয়ারের সঙ্গে আমব্রেলা কাটের কামিজে দেখা যাবে। তবে কামিজে আবার চান্দেরি কাপড় দিয়ে ডিজাইন করা থাকবে। কখনও হ্যান্ডলুম কাপড়ের ডিজাইন। কখনও আবার হ্যান্ডলুম সিল্ক শাড়ি তিনি পরবেন।
পিয়ান ইন্ডিয়ান জুয়েলারির সঙ্গে শাড়ি পরবেন বলে জানা গেল প্যানজির কাছ থেকে।
কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ—পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। ক্যামেরা-শীর্ষ রায়, সম্পাদনা- বোধাদিত্য, সুরকার- ডাব্বু, দোলন, মৈনাক। গীতিকার- রাজা চন্দ, প্রসেস। গান গেয়েছেন—নচিকেতা চক্রবর্তী, শাম, অন্বেষা, অন্তরা মিত্র, আরমান মালিক।
প্রযোজনা- সানডে ফিল্মস, অ্যাক্টর স্টুডিও, অজস্র এনটারটেইনমেন্ট। প্রযোজক- রবি কেশওয়ানি, অভিষেক দে সরকার। নায়ক সোহম চক্রবর্তী। কোরিওগ্রাফার- রাজা চন্দ।




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta