কলকাতা, রবিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

বিদ্বেষের বিষ নাশ করতেই হবে

আশঙ্কাটা বাতাসে ভাসছিলই। এবার তা সত্যি হওয়া শুরু হল বোধহয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটপ্রচার পর্বের গোড়া থেকেই প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদ্বেষের বেসাতি শুরু করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত নানা কারণে, নানা কাজে, নানা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ অ-মার্কিন মানুষ ওদেশেরই অঙ্গ হয়ে দীর্ঘকাল বসবাস করছেন। মূলত শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে ভিন্‌঩ দেশ থেকে তাঁরা মার্কিন মুলুকে গেলেও সেদেশের প্রগতির কারিগরদের অংশীদারে পরিণত হয়েছেন। একদিকে চাহিদা, অন্যদিকে তা পূরণের উপযোগী দক্ষতার কারণেই ওই বিপুল সংখ্যক মানুষকে আমেরিকা ঠাঁই দিয়েছিল। যোগ্যতার সিঁড়ি বেয়েই তাঁরা নিজের নিজের অবস্থান অর্জন করেছেন। বিদেশিদের এই ভূমিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিপুত্রদের মধ্যে টুকটাক ক্ষোভ থাকলেও বিষয়টিকে তাঁরা একরকম স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছিলেন। এপর্যন্ত ঠিকই ছিল।
কিন্তু ক্ষমতায় বসার স্বপ্নে বেপরোয়া ধনকুবের ব্যবসায়ী ট্রাম্প ঠিকই বুঝেছিলেন গঠনমূলক পথ ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারির সঙ্গে এঁটে ওঠা তাঁর পক্ষে হয়তো অসম্ভব। তাই প্রেসিডেন্টের চেয়ারটি দখল করতে হলে অন্য কোনও পথেই হাঁটতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ হল মার্কিনিদের একাংশের ক্ষোভের ধিকি ধিকি আগুনে বিদ্বেষের তেলসংযোগ। ট্রাম্পের অঙ্ক ছিল, মার্কিনিদের মনে বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে এতকালের স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ঘোরালো করে তুলতে পারলেই তাঁর কেল্লা ফতে হতে পারবে। এক্ষেত্রে দেশের দীর্ঘকালের লালিত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, উদার নীতি, এমনকী মানবিকতার মতো বিষয়গুলিকেও ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে দ্বিধা রাখলে চলবে না। তাই একদিকে, ইসলামি জঙ্গিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপদের কারণ হয়ে ওঠার কথা বলে বিশ্বের সমস্ত মুসলিমের বিরুদ্ধেই যেন একধরনের যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, অন্যদিকে মার্কিন যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিনিয়ে নেওয়ার ধূয়ো তুলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত ভিন্‌দেশিদের হঠানোর ডাক দিলেন ট্রাম্প। এবং সাড়াও পেলেন। একের পর এক প্রচারসভায় ওই বক্তব্য সোচ্চারে প্রচার করে বিপুল সংখ্যক মার্কিনির মধ্যে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বাড়িয়ে তুলতে লাগলেন। জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিঙ্কনের দেশের বাতাস বিদ্বেষের বিষবাষ্পে ভরে উঠতে লাগল। এতসবের মধ্যেও কিন্তু আশা ছিল, খুব বেশি সংখ্যক মার্কিন ভোটদাতা ট্রাম্পের কুমন্ত্রে প্রভাবিত হবেন না। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গেল সেই আশা নিরাশায় পরিণত হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধান পরিচালকের আসনটি দখল করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘোষণা কার্যকরের পথে এগিয়েছেন। প্রথম ধাপে একগুচ্ছ মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জারি করেছেন। আদালতের হস্তক্ষেপে তাঁর ওই পদক্ষেপ আপাতত কার্যকর করতে না পারায় তিনি ফুঁসছেন। সুযোগ পেলেই বিষয়টি নিয়ে ফের এগবেন হয়তো। দ্বিতীয় ধাপে ট্রাম্পের সরকার এমন কিছু নীতি কার্যকর করার দিকে পা বাড়িয়েছে যাতে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়সহ কয়েক কোটি অ-মার্কিনিকে সম্ভবত খুব শীঘ্রই নিজের নিজের দেশে ফিরে আসতে হবে।
কিন্তু এরপরও বাকি ছিল। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিলে তার মোকাবিলায় প্রশাসনিক পথেই পালটা প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবা যায়। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিনিদের মনের গভীরে বিদ্বেষের যে বিষবৃক্ষ রোপণ করে দিলেন তা ইতিমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। ওই ফলের প্রথম বলি হতে হল এক ভারতীয়কে। শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস শহরে কর্মরত বত্রিশ বছরের তরতাজা এক ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে এক আমেরিকান যে ভাষায় হুমকি দিল এবং গুলি করে খুন করল তা গভীর ভাবনার বিষয়। ওই ঘটনায় আর এক ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারও গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনার ধরন দেখে আশঙ্কা হচ্ছে, ট্রাম্পের ছড়ানো বিষে আরও বহু মার্কিনি তরুণের মন প্রভাবিত হওয়া অসম্ভব নয়। তাতে ভবিষ্যতে আরও অনেক কানসাসকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা আছে। শুক্রবারের ওই ঘটনা নিন্দা করার ভাষা নেই। একইসঙ্গে বিষয়টি যারপরনাই উদ্বেগেরও। তাই মানবতার স্বার্থেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্বেষের বিষবাষ্প আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নাশ করা জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই অবিলম্বে সক্রিয় হতে হবে।




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta