রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

যোগী আদিত্যনাথ: নতুন নায়ক
সমৃদ্ধ দত্ত

১৯৯০ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে হিন্দু হৃদয় সম্রাটের নাম ছিল লালকৃষ্ণ আদবানি।
২০০২ সালে গুজরাতের ঘটনার পর থেকে ২০১৭ সাল, এই ১৫ বছর পর্যন্ত হিন্দু হৃদয় সম্রাটের নাম ছিল নরেন্দ্র মোদি।
২০১৭ সালের ১৯ মার্চ ভারত সাক্ষী রইল বিজেপির নতুন হিন্দু হৃদয় সম্রাটের জন্মক্ষণ হিসাবে। যোগী আদিত্যনাথ বিজেপির কট্টরবাদীদের কাছে নতুন নায়ক।
নব্বইয়ের দশকে অটলবিহারী বাজপেয়ি ছিলেন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উদার মুখ। কট্টর হিন্দুত্বের মুখ ছিলেন লৌহপুরুষ উপাধিতে ভূষিত লালকৃষ্ণ আদবানি। এরপর হঠাৎ নরেন্দ্র মোদিকে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি হয়ে যান কট্টর হিন্দুত্বের মুখ। আর আদবানি ক্রমেই পরিণত হলেন বিজেপির উদার মুখে। আবার বাঁক বদল। এবার যোগী আদিত্যনাথ হয়েছেন হিন্দুত্ববাদীদের কট্টর মুখ। এবং উন্নয়ন তথা উদার মুখে পরিণত হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। মোদির ভক্তরা নিছক কিন্তু তাঁকে এখন আর হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসাবে মোটেই বন্দনা করেন না। তাঁদের একটা বড় অংশই তাঁকে বিকাশপুরুষ আখ্যা দিতে ভালোবাসেন। একের পর এক নির্বাচনে সেটাই প্রমাণিত। কিন্তু কৌশলী সংঘ পরিবার হিন্দুত্বের ইস্যুকে ব্যাকসিটে যেতে দিতে মোটেই পছন্দ করেনি। তাই তাঁদের দরকার হয়েছে আবার এক নতুন হিন্দু নায়কের। অতএব এবার যোগী। আর এই সিদ্ধান্ত কত বড় মাস্টারস্ট্রোক সংঘের হিন্দুত্ব অ্যাজেন্ডায় তার প্রমাণ হল যোগীর নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবার প্রবল গেরুয়া উচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে। যা কিছুটা হলেও কিন্তু স্তিমিত ছিল মোদির ছাতার তলায়। কারণ নতুন আধুনিক প্রজন্ম মোদিকে নতুন ভারতের পোস্টার বয় হিসাবেই দেখতে চেয়েছেন। তাঁদের অনেকের কাছেই বিজেপি নয়, মোদিই প্রিয়।
যোগী আদিত্যনাথের উত্থানে সেই অংশটি কিন্তু মনে মনে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। কারণ যোগীর বাছাই, উত্থান আর অগ্রগতির সঙ্গে চূড়ান্ত সাদৃশ্য নরেন্দ্র মোদির। মোদিও ২০০০ সালে গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর এক শাসক হিসাবে পরিচিত ছিলেন মোদি। গুজরাতের অপরাধ প্রবণতা এক ধাক্কায় কমে যায় তাঁর আমলে। যোগীও উত্তরপ্রদেশের গদিতে বসেই ঠিক সেই পথে হাঁটছেন। শুরুতেই তাঁর প্রধান টার্গেট অপরাধ কমানো। কারণ এই মনোভাবেই সবথেকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। উন্নয়ন অনেক দীর্ঘকালীন ব্যাপার। বর্তমান ডাউনলোডিং সমাজ ইনস্ট্যান্টের পূজারি। যোগী মাত্র ৪৪ বছরের যুবক। তিনি এই সমাজকে গভীরভাবে দেখছেন। আর এর গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর নিজের সমাজ পর্যবেক্ষণ প্লাস সংঘ পরিবারের গাইডলাইনের মিশেলে দ্বিতীয় মোদি হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। তবে সেই মোদি হবেন সরাসরি গেরুয়া রঙের। অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর যে ফারাক আছে তার প্রমাণ সেদিন শপথগ্রহণের সময় লখনউতে, উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় বিজয়মিছিলে, পার্লামেন্ট ভবনে পরদিন শোনা গিয়েছে যোগী ...যোগী...যোগী স্লোগান। যা মোদি ছাড়া আর কারও নামে শোনা যেত না এতদিন। সুতরাং প্রমাণ হয়েই যাচ্ছে যোগীই বিজেপির পরবর্তী নায়ক হচ্ছেন।
অযোধ্যা আন্দোলনের প্রধান চরিত্র আদবানিই ছিলেন হিন্দুত্ববাদীদের কাছে সবথেকে বড় হিরো। তাঁর ক্যারিশমা আর বাজপেয়ির সর্বজনগ্রাহ্য জনপ্রিয়তার যোগফলে বিজেপি ২ এমপির পার্টি থেকে শুরু করে কেন্দ্রে সরকার গড়ে ফেলেছিল ১৮ বছরের মধ্যে। ২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার পর আদবানি হিন্দুত্ব সিংহাসন থেকে ধীরে ধীরে গদিচ্যুত হয়েছিলেন। কারণ হিন্দুত্বের নতুন ম্যাসকটের নাম তখন নরেন্দ্র মোদি। পার্টির মধ্যে সেই শুরু মোদির লার্জার দ্যান লাইফ হয়ে ওঠার প্রবণতা। কেউ চাইলেই তো হতে পারে না হিরো। সর্বাগ্রে দরকার পার্টি ও জনতার মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা আর সমীহ আদায়ের ব্যক্তিত্ব। মিডিয়াকে পাত্তা না দেওয়া, কোনও রাখঢাক না করেই হিন্দুত্বের জয়গান আর গুজরাত শাসনের সাফল্যের ব্লেন্ডিং এতই সুচারু হয়েছিল যে মোদিকে ছাপিয়ে বিজেপিতে আর কেউ নায়ক হওয়ার সুযোগই পেলেন না। নাথিং সাকসিডস লাইক সাকসেস। তাই ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে পরপর দুটি লোকসভায় বিজেপি পরাজিত হওয়ার পরই যেটা অমোঘ হয়ে উঠলো সেটি হল লালকৃষ্ণ আদবানির ক্যারিশমা আর নেই। চাই নতুন নায়ক। এবং সংঘ পরিবারের নিখুঁত প্লট অনুযায়ী সেই নায়ক তৈরিই ছিলেন। তিনি যতই একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন গোটা ভারতই তাঁর সম্পর্কে অবগত এবং তিনি নিন্দিত তথা নন্দিত দুইই। বহুলাংশের মানুষ তাঁকে বন্দনা করেন। বহুলাংশের মানুষ তাঁকে অপছন্দ করেন। অর্থাৎ সোজা কথায় তিনি গুরুত্বহীন কিংবা অপ্রাসঙ্গিক নয়।
তাই এলেন, দেখলেন এবং দলের গদি জয় করলেন নরেন্দ্র মোদি। যিনি ছিলেন হিন্দু হৃদয় সম্রাট, তিনিই নিজেকে সম্পূর্ণ অন্য ইমেজে মেকওভার করলেন। উন্নয়নের প্রতীক হিসাবে। কারণ তাঁর ধারণা হয়েছিল আধুনিক ভারতের যুব সমাজ তো বটেই, বর্তমানের সামগ্রিক প্রজন্মই হল উচ্চাকাঙ্ক্ষার পূজারি। নিম্নবিত্ত দ্রুত মধ্যবিত্ত হতে চায়। মধ্যবিত্ত দ্রুত গাড়ি আর ফ্ল্যাট কিনতে চায়। নরেন্দ্র মোদি নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করেছিলেন নতুন সমাজে প্রায় সকলেই একটির বেশি আয়ের সংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। আগে এতটা আগ্রাসী রোজগারের উদগ্র বাসনা ছিল না। এখন সকলেই অল্প সময়ে নিজের বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরণ চায় পরবর্তী স্টেজে। সেটা খারাপ নাকি? মোটেই নয়! সমস্যা হল এরকম সমাজকে সহজেই অফারে আকৃষ্ট করা যায়। কলসেন্টারের অফার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলির অফার। সকলেই লোভনীয় ভবিষ্যতের অফার দেয়। আর আমরা রঙিন স্বপ্নে আচ্ছন্ন হয়ে সেইসব অফার কায়মনোবাক্যে বিশ্বাস করি। আর আরও ভালো ভবিষ্যতের দিকে মনে মনে এগিয়ে যাই। বাস্তবে নয়। তাই আমরা বিশ্বাস করেছিলাম ১০০ দিনের মধ্যেই বিদেশ থেকে সব কালো টাকা ভারতে চলে আসবে। প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে ঢুকে যাবে। নোট বাতিল হলে সমস্ত কালো টাকার কারবারিদের সর্বনাশ হবে। আগামী ৮ বছরের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে। লক্ষ্য করে দেখবেন সবকিছুই ফিউচার টেন্স। অর্থাৎ হবে। কিন্তু মাস যাচ্ছে, বছর যাচ্ছে হচ্ছে না। তাই হবের তালিকায় নতুন নতুন স্লোগান যুক্ত হয়। যাতে আগের ‘হবে’গুলি মানুষ ভুলে যায়। নতুন ‘হবে’ নিয়েই মশগুল হয়ে পড়ে।
নরেন্দ্র মোদির সবথেকে বড় সাফল্য হল তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন যে পারলে তিনি পারবেন। তাই মোদি বা তাঁর সরকারের কোনও ব্যর্থতাই আজকাল কোনও ইস্যু নয়। তিনি কি বছরে ২ কোটি করে চাকরি দিতে পারছেন? না। কিন্তু তাঁর ভক্তদের বা সাধারণ মানুষের তা নিয়ে মোটেই ক্ষোভ নেই। যে কোনও কট্টরবাদীকে প্রশ্ন করুন আপনি কি পাকিস্তানকে শত্রু মনে করেন? তিনি বলবেন হ্যাঁ অবশ্যই। তারপর তাঁকে বলুন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযাচিতভাবে বিনা নিমন্ত্রণেই নওয়াজ শরিফের বাড়ি চলে গেলেন কেন? দেখবেন সেটা তিনি আবার দোষের মনে করেন না। নোট বাতিলকে সিংহভাগ মানুষই মনে করেছেন ভালো হয়েছে। কী ভালো হয়েছে? দেখা যায় কারও কিন্তু স্পষ্ট ধারণা নেই। ভাসা ভাসা ভাবে বলবে, ওই তো কালো টাকা নষ্ট হয়েছে...জাল টাকা ধ্বংস হয়েছে....। কিন্তু ৮ নভেমম্বর থেকে এই মার্চ পর্যন্ত কার জীবনের কী কী পরিবর্তন হয়েছে? কেউ স্পষ্ট বলতে পারবেন না। সুতরাং সোজা কথা নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এখনও বিরোধীদের কোনও অভিযোগই দানা বাঁধছে না। তিনি পারসেপশনের রাজনীতি করেন। অর্থাৎ ধারণা নির্মাণের রাজনীতি। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। কিন্তু ধারণা দেওয়া হচ্ছে দাম কমেছে। গৃহঋণে সুদ কমছে। সেটা খুব ভালো হিসাবে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু ফিক্সড ডিপোজিটেও যে সুদ কমছে সেটা ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এই পারসেপশন গঠনের প্রধান মাধ্যম হল প্রচার। বিরোধীদের সঙ্গে সংঘ পরিবারের সবথেকে বড় পার্থক্যই হল প্রোপাগান্ডায় পরাজিত হওয়া। দুর্দান্তভাবে সংঘ পরিবার যেকোনও ঘটনাকে নিজেদের সপক্ষে প্রচার করার ফরমুলা জানে। পাবলিক সেটাই বিশ্বাস করে। যেমন ধরুন মণিপুরে শূন্য থেকে ২১ টি আসন পাওয়া বিজেপির বিরাট সাফল্য। কংগ্রেসকে হারাতে না পারলেও অবশ্যই বিরাট সাফল্য। কিন্তু মজার বিষয় হল পাঞ্জাবে শূন্য থেকে ২৮ পেলে আম আদমি পার্টি ব্যর্থ । এই প্রচার করা। কারণ সরকার গড়তে পারেনি তারা। অর্থাৎ আম আদমি পার্টি পাঞ্জাবে যে শূন্য থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল বিজেপি কে তৃতীয় স্থানে পাঠিয়ে, সেটা নাকি সাফল্য নয়। কিন্তু মণিপুরে বিজেপি দ্বিতীয় হয়েও সফল! বিরোধীরা এই ধরনের প্রচারের মোকাবিলাই করতে পারছে না।
নরেন্দ্র মোদি বিজেপিকে উচ্চবর্ণের পার্টি থেকে সরিয়ে দলিত সমাজের কাছে নিয়ে আসতে সফল হয়েছেন। আগামীদিনে মোদির প্রধান লক্ষ্য আরও বেশি করে তফসিলি তথা অনগ্রসর উন্নয়ন। ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে শিক্ষায় যেসব তফসিলি জাতি উপজাতি ওবিসি শূন্যপদ রয়েছে সেগুলি যাতে দ্রুত নিয়োগ করা হয় সেরকমই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তফসিলিদের জন্য সংরক্ষণ যে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বরং আরও নানাবিধ প্রকল্প ও সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করা হবে অদূর ভবিষ্যতে তফসিলি কল্যাণে। উত্তরপ্রদেশের ফল থেকেই স্পষ্ট বিজেপি সব বর্গের ভোট পেয়েছে। তাই আগামীদিনে অন্য রাজ্যগুলিতেও যাতে দলিত, অনগ্রসর আর তফসিলি শ্রেণি বিজেপির পাশে দাঁড়ায় সেটাই টার্গেট করা হয়েছে। তাঁদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন একঝাঁক প্রকল্প। অর্থাৎ সকলকেই স্বপ্ন দেখানোর রাজনীতি থেকে কিন্তু মোদি সরছেন না। আর এই পর্বে এসে আচমকা প্রশ্ন তাহলে উন্নয়নের মডেল যখন কাজ দিচ্ছে তখন সংঘ পরিবার কেন যোগী আদিত্যনাথকে হাজির করলেন হিন্দুত্বের পোস্টার বয় হিসাবে? এর কারণ নিছক উন্নয়ন দিয়ে যে ভোটে জয়ী হওয়া যায় না তার প্রমাণ অসংখ্য। তার থেকে অনেক সহজ একটি পন্থা হল ধর্মীয় মেরুকরণ। আর সেই মেরুকরণের এফেক্ট থাকে দীর্ঘকালীন। বিরোধীদের ভ্রান্ত রাজনীতির কারণেই দেশজুড়ে একটা মনোভাব প্রবল আকার নিয়েছে। সেটি হল সকলেই সংখ্যালঘু তোষণ করে। মমতা থেকে মনমোহন। সিপিএম থেকে সমাজবাদী সকলেই। সত্যমিথ্যা মিলিয়ে এর সপক্ষে প্রবল আগ্রাসী প্রচারও চলছে। যার সবথেকে বড় মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। প্রোপাগান্ডা পলিটিক্সে বিজেপি অবশ্যই বিরোধীদের থেকে অনেক এগিয়ে। তাই ধর্মীয় মেরুকরণকেই ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট আর উন্নয়নকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট হিসাবে দেখছে সংঘ পরিবার। ফিক্সড ডিপোজিট অনেক আস্থাবর্ধক। নিজস্ব শক্তি। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
নরেন্দ্র মোদি উন্নয়ন আর বিকাশের রোলমডেল হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। গোরক্ষা নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা কট্টর হিন্দুত্ববাদী কোনও অ্যাজেন্ডার বিরুদ্ধে তিনি একাধিকবার মুখও খুলেছেন। কারণ, তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে জানেন ভারতকে সত্যিই নিউ ইন্ডিয়ায় পরিণত করতে হলে বহুত্ববাদী পরিচয়টিকে যত্ন করতে হবে। উত্তরপ্রদেশের সাফল্যের ঠিক পরই মোদি বলেছিলেন, আমাদের ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছরের পূর্তিতে এমন এক আধুনিক ভারত উপহার দিতে হবে যাতে মহাত্মা গান্ধী, বল্লভভাই প্যাটেল আর ভীমরাও আম্বেদকরদের স্বপ্ন সফল হয়। ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথকে বসানো এবং তারপর থেকে লাগাতার আধুনিক এই ভারতে গোরু পাচার, মাংসের দোকান বন্ধ, রামমন্দির, অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াডের মতো বিষয়গুলি প্রধান আলোচ্যে পরিণত হওয়া দেখে সন্দেহ হচ্ছে এসব দেখে কি খুশি হবেন মহাত্মা গান্ধী, আম্বেদকর, বল্লভভাই প্যাটেলরা? মোদির কথায় আর কাজে কি মিল নেই? নাকি আসলে গোটা ব্যাপারটা আর তাঁর একার হাতেই নেই?
নতুন ভারতের প্রবণতা হল সদা সর্বদাই নতুনের অনুগামী। আমরা দেখছি ঘনঘন মোবাইলের নিউ মডেল লঞ্চ করতে হয়। নাহলে সেই কোম্পানির ফোন আর বিক্রি হয় না। এক বছরের মধ্যেই থ্রি জিকে সরিয়ে জায়গা করে নেয় ফোর জি। মোদি শো আড়াই বছরে বেশি বেশি দেখা হয়ে গিয়েছে। যোগী শো নতুন। তাই হঠাৎ করে চ্যানেলে চ্যানেলে যোগী শো বেশি বেশি প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে যোগীর প্রতিটি মুভমেন্ট নিউজ হচ্ছে। মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তাঁকে নিয়ে। দলের মধ্যে জয়ধ্বনি হচ্ছে তাঁকে দেখলেই। অবিকল হিরো ওয়রশিপ! সংঘ পরিবার এই সমাজটিকে দুর্দান্ত চিনে নিয়েছে। যারা নতুনের থ্রিল চায়। ২০১৯ সালে মোদিই সম্রাট। সন্দেহ নেই। তারপর?

তবে কি তরুণ যোগী আদিত্যনাথ (ভায়া রামমন্দির), প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ২০২৪?




?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta