রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

ছিটমহলের পথেই বাংলাদেশে
যাবে তিস্তার জল

হারাধন চৌধুরী

১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধ ভারতবাসীর মনে নিজেদের সরকার ও জাতীয় শক্তি সম্পর্কে একধরনের হীনমন্যতার জন্ম দিয়েছিল। আর পুরানো মর্যাদা দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছিল ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের আত্মগর্বী সেনাবাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পর্যুদস্ত অপদস্থ করার মধ্য দিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন খোলাখুলিভাবে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়ার পরেও! আর এর মধ্য দিয়েই আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘বাংলাদেশ’ নামে স্বাধীন সার্বভৌম এক রাষ্ট্র। সামান্য ১৪ দিনের যুদ্ধে পালটে গিয়েছিল পৃথিবীর রাজনৈতিক মানচিত্র। যুদ্ধ ভারত কোনওদিন চায়নি, বরং তা এড়াবারই সমস্ত চেষ্টা করেছিল। তবু একদিন পাকিস্তানই একতরফাভাবে আক্রমণ করে বসে। আর ভারতও তার মোক্ষম জবাব দিতে দেরি করেনি; কিন্তু হিংস্র পাক-বাহিনীর হাত থেকে গোটা পূর্ববঙ্গকে উদ্ধার করামাত্রই একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করে দেয় ভারত। শুধু তাই নয় মাত্র তিনমাসের ভিতরেই বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারত প্রত্যাহার করে নিয়েছিল তার পুরো সেনাবাহিনী। এবং, তা করেছিল কোনওরকম ক্ষতিপূরণের শর্ত ছাড়াই। ভারত উত্তীর্ণ হয়েছিল পরধনলোভ জয় করার প্রায় অসম্ভব এক অগ্নিপরীক্ষায়; স্থাপন করেছিল মনুষ্যত্ব, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও প্রতিবেশীর প্রতি শ্রদ্ধা রক্ষার মহান নজির। সারা দুনিয়া জানে, ভারতের লৌহমানবী ইন্দিরা গান্ধীই একসঙ্গে এতকিছুর নায়িকা।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ২০১২-১৬ সালের মধ্যে বৈদেশিক অস্ত্রশস্ত্র আমদানিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেছে। মোট অস্ত্র আমদানিতে ভারতের ভাগ ১৩ শতাংশ! তার পূর্ববর্তী পাঁচবছরে যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। ২০১২-১৬ সালের মধ্যে আরব দুনিয়া তথা সারা এশিয়াতেই অস্ত্রসংগ্রহ নিয়ে হঠাৎ কিছুটা বেশি বেশি হাঁকডাক শোনা গিয়েছে। সারা পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ যখন খাদ্য এবং অন্যসকল ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন ও কেনাকাটাকেই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখার পক্ষে, অন্তত তখনও ভারতের এমন পদক্ষেপ দুর্ভাগ্যজনক।
অনুমান করা যায় যে, ভারত নিছক শখ করে অস্ত্র কিনছে বা বানাচ্ছে না। দেশের সুরক্ষার জন্যই এসব জরুরি। ভয় কাদের দিক থেকে? শত্রুদের। শত্রু বা সম্ভাব্য আক্রমণকারীর সংখ্যা কমানো গেলেই এমন বাজে খরচও কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। অন্তত চাল-গমের বরাদ্দে চাল-গম, দুধের বরাদ্দে দুধ, জামাকাপড়ের বরাদ্দে জামাকাপড়, ওষুধের বরাদ্দে ওষুধ, ... প্রভৃতি কেনাকাটা করা যায়। আর যদি কোনও কারণে শত্রুসংখ্যা, শত্রুর বহর বেড়ে যায় তবে যুদ্ধাস্ত্র কেনা তথা নিরাপত্তারক্ষার খরচও যায় বেড়ে। তাই আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকে অন্যদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব গাঢ় থেকে গাঢ়তর করা; উপযুক্ত ক্ষেত্রে সম্পর্কের শীতলতা কমিয়ে আনা, সুযোগমতো সকলের সঙ্গেই মিত্রতার সম্পর্কই স্থাপন করা। আর এমন বিদেশনীতিতে প্রতিবেশীদের জন্য থাকে বিশেষ স্থান।
এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী দেশটার নাম বাংলাদেশ। এনিয়ে কোনও সংশয় রাখা চলে না। গত আটবছর যাবৎ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে-গড়া আওয়ামি লিগের সরকার। এই পর্বে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এর জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাড়তি কৃতিত্ব দেওয়া যায়। তাঁর আমলে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেকে আজ ‘রোল মডেল’ বলে মনে করে। হাসিনা সরকারের লক্ষ্য হল—২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মাঝারি আয়ের দেশের স্তরে উন্নীত করা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পরিচিত হবে উন্নত-সমৃদ্ধ এক দেশ হিসাবে।
বাংলাদেশের এমন সাফল্য সবার আগে ভারতই কামনা করে। কারণটা খুব সহজবোধ্য। ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের রাহুমুক্তি (পাকিস্তানের নির্যাতন) সম্ভবত কোনওদিন সম্ভব হ’ত না। অতএব বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্যের পিছনে সবসময়ই রয়ে যায় তার সবচেয়ে বড় বন্ধু প্রতিবেশী ভারতের নীরব অবদানটি। বাংলাদেশের ভালো হলে তাতে ভারতেরই অলিখিত স্বীকৃতি প্রাপ্তি হয়। বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক দিক থেকে উন্নতি করলে, সেদেশে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক সুস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হলে অন্য একটা দিক থেকেও ভারতের লাভ। নিশ্চিতভাবেই কমে যাবে ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে হয় না। বাংলাদেশের পক্ষে সরকারিভাবে স্বীকার করা সম্ভব না হলেও, বাস্তব এই যে—প্রচুর গরিব মুসলিম নারী-পুরুষ পশ্চিমবঙ্গ ও আরও কয়েকটি সীমান্ত রাজ্য দিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে আসা-যাওয়া করে। তারা রুটিরুজির সন্ধানে পৌঁছে যায় দিল্লি, মুম্বইসহ নানা স্থানেও। তাদের একটা বড় অংশই আবার ভারতের নানা জায়গায় পাকাপাকিভাবে থেকে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে ফেলেছে। বাংলাদেশের একসময়ের তীব্র দারিদ্র এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা এজন্য অনেকখানি দায়ী। আরও একটা সত্যি হল—অনুপ্রবেশ কমে গেলে কিংবা বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে লাভবান হবে পশ্চিমবঙ্গ। মূলত ভাষা ও সংস্কৃতির নৈকট্যের কারণেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ঢল পশ্চিমবঙ্গেই বেশি নেমে এসেছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মোট সংখ্যাটা হয়তো কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে! অতএব বাংলাদেশের সুখসমৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি কাম্য পশ্চিমবঙ্গ ও সামগ্রিকভাবে ভারতেরই স্বার্থে। সবদিক থেকে সুস্থ সবল প্রতিবেশীর পাশে থাকার আনন্দটাই যে আলাদা।
স্বাধীনতার পাঁচ দশক পূর্তি আসন্নপ্রায়। তবু বাংলাদেশের উপর থেকে পাকিস্তানের কালোছায়া পুরোপুরি দূর হয়নি। এখনও বাংলাদেশের মাটিতে সক্রিয় রয়েছে সেদেশের স্বাধীনতার শত্রুদের রক্তবীজ। তাই আন্তর্জাতিক আদালতে পুরানো শত্রুদের বিচার চলাকালে, তাদের নামে দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা হলে, কিংবা সেই রায় কার্যকর করার আগে-পরে তাদের তৎপরতা লক্ষণীয়। তারা ইতিউতি মুক্তমনাদের উপর নৃশংস আক্রমণ শানায়। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আরও ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলতে কিছু বর্বরোচিত আচরণ করে। এমনকী ওই দুর্বত্তরা মাঝে মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যার মতো ঘৃণ্য কাজেও। তাদেরই প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশে ঘাঁটি গাড়ার জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর মতো কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন। সিলেটের শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহল-এর ঘটনা এই নষ্টামিরই অঙ্গ বলে মনে করছে বাংলাদেশ প্রশাসন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব যেন প্রতি মুহূর্তে চ্যা঩লেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ছে। তবে, পরোক্ষে কুচক্রীদের মূল টার্গেট ভারত—ভারতের শান্তি, সুস্থিতি তথা সমৃদ্ধির প্রকরণ বানচাল করে দেওয়া।
তাই যারা ঢাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর আজ্ঞাবহ সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে, তারা হাসিনার সরকারের নামে এই বদনাম দিচ্ছে যে, তাঁরা নাকি বাংলাদেশকে ‘হিন্দু ভারতের’ কাছে বিকিয়ে দিচ্ছেন! কিন্তু বাস্তব তো তা নয়। বাংলাদেশ যত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রই হোক না কেন, তার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি নীতিগতভাবেই ভারত সমান শ্রদ্ধাশীল। তবু, এই অপপ্রচারে কিছু মানুষকে বিভ্রান্ত করাতে পারছে কুচক্রীরা। এর দায় অংশত ভারতের উপরেই বর্তায়।
বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয় দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়ে যাওয়াই এর কারণ। তার মধ্যে এই মুহূর্তে যে নামটি করা যায়, তার নাম তিস্তার জলবণ্টন। [তিস্তা হল নদীমাতৃক বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহৎ নদী—ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা ও মেঘনার পরেই। সেদেশের কৃষিপ্রধান রংপুর অঞ্চলটা বেঁচে আছে মূলত তিস্তার উপর নির্ভর করে।] মোট ৫৪টি নদী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরেই ১৯৭২ সালে যৌথ নদী কমিশন গড়া হয়। আশা করা গিয়েছিল, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই অতি দ্রুত নদীগুলির জলসম্পদবণ্টনের সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু, এতদিন পরেও অনেক সমস্যা রয়ে গিয়েছে। তিস্তার বিষয়ে ১৯৮৩ সালে দু’দেশের মধ্যে একটা অ্যাডহক এগ্রিমেন্ট হয়েছিল। তাতে ভারত ৩৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩৬ শতাংশ পাবে বলা হয়েছিল। কিন্তু, বাংলাদেশ তিস্তার জলের সমান অংশ দাবি করে বসতেই নতুন করে আলোচনা, ভাবনাচিন্তার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ১৯৮৪ সালে ফের গঠিত হয় জয়েন্ট রিভার কমিশন। কিছু যুক্তি দেখিয়ে কমিশন বাংলাদেশকে কিছু জল বেশি দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করে।
তারপর আরও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ২০১১ সালে একটা সমাধানের পথে এগনোর চেষ্টা নেয় ভারতের মনমোহন সিং সরকার। সেবার চুক্তিসম্পাদনের লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকাতেও যান। কিন্তু, এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যেভাবে ও যতটা আগাম আলাপ-আলোচনা করা দরকার ছিল, তা হয়নি। কেন্দ্র ভুলেই গিয়েছিল যে, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট রাজ্যকে সামান্য উপেক্ষা করারও অবকাশ নেই। কারণ, রাজ্যে যে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে রাজ্যবাসীর স্বার্থরক্ষার দায় তারও। জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির তাগিদ ও জনসমর্থন হারানোর ভয় তারও আছে। অতএব যে বিষয়ের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্কটা প্রত্যক্ষ, সেখানে রাজ্য সরকারের মতামতের বিশেষ গুরুত্ব পাওয়াই উচিত। ইউপিএ আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রশ্ন তুলে তিস্তা জলচুক্তিতে মত দিতে অস্বীকার করেন। স্বভাবতই স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।
তিস্তা জলচুক্তি সম্পাদন করার জন্য নরেন্দ্র মোদির সরকারও উদ্যোগী হয়েছে। কিন্তু, ইউপিএ-এর ভুল থেকে তারাও যে কিছুমাত্র শিক্ষা নেয়নি, তা স্পষ্ট হল সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া থেকে। খুব শিগগির শেখ হাসিনা ভারত সফরে আসবেন। ঢাকা প্রত্যাশা করে, তিস্তার জল তাদের ন্যায্য প্রাপ্য মতো বাংলাদেশের মাটিতে নিয়ে যাওয়ার পাকাপাকি বন্দোবস্ত করেই দেশে ফিরবেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ হল—এই বিষয়ে দিল্লি সরকারিভাবে তাঁকে কিছু জানায়নি! নদী রাজ্যের বিষয়। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তিস্তার উপর নির্ভর করে টিকে আছে। আর সেখানে বাংলাকে এমন উপেক্ষা তিনি মানবেন কোন যুক্তিতে!
তিস্তার জল ভাগাভাগির মতো অতি স্পর্শকাতর সমস্যার সমাধান করতে কেন্দ্রের উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন আদায়ে যথাবিহিত উদ্যোগ নেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাঁরা চেনেন তাঁরা জানেন, তিনি আগে একজন মানুষ, তারপর রাজনীতিক ও প্রশাসক। কোনও মানবিক দাবি, মনুষ্যত্বের প্রশ্ন নিয়ে তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে পৌঁছাতে পারলে কাউকেই কখনও খালি হাতে ফিরতে হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিও রয়েছে তাঁর বিশেষ দুর্বলতা। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও সুবিদিত। অতএব রাজ্যের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর সহযোগিতার হাত যে সবসময়ই প্রসারিত রয়েছে—এ কোনও কষ্টকল্পনা নয়। এর জ্বলন্ত প্রমাণ হল সাত দশকের ছিটমহল সমস্যার অতি সাম্প্রতিক সমাধান। যে ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামটা স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। উল্লেখ করার মতো আরও একটা বিষয় হল—তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য আজ পশ্চিমবঙ্গ ছাপিয়েই। সেখানে ভারত রাষ্ট্রের আরও কিছু কূটনৈতিক সাফল্যের অংশীদার হওয়ার সুযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেলায় হারাতে চাইবেন, এমনটা বিশ্বাস করা শক্ত। কেন্দ্র এই কথা মাথায় রেখে বাংলার নেত্রীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা নিক এখনই। হলফ করে বলা যায়, সুফল মিলবেই। ছিটমহলের পথেই বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে তিস্তার জল।












©Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta